চট্টগ্রাম মেডিকেলে লাশের মিছিল

চট্টগ্রাম মেডিকেলে আসছে ছাত্রলীগ কর্মীদের লাশের মিছিল। প্রত্যক্ষদর্শী একজনের ভাষ্যে দেখুন-

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতের মিছিল চলছেই। ইতিমধ্যে হাসপাতালে তিন জন ছাত্রলীগ কর্মি নিহত। এখন পর্যন্ত ২৩জন আহত ভর্তি হয়েছে। আর হাসপাতালের পথে আছে আরো অনেকে। প্রত্যক্ষদর্শীদ­ের ধারনা অনুযায়ি আরো কমপক্ষে ৫০ জন ছাত্রলীগ কর্মির লাশ পড়ে আছে ফটিকছড়ির ভুজপুর গ্রামের আনাচে কানাচে যাদের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি মোল্লারুপি নেড়িকুত্তা
দের বাধার কারনে।
হতবাক…একটা ঘোরের মধ্যে যেন পুরো ঘটনাটি দেখছি। দেখছিই শুধু ,আর কিছু করার নাই!
আজকে দুপুরে আওয়ামীলীগ – ছাত্রলীগের হরতাল বিরোধী মিছিল ফটিকছড়ির ভুজপুর গ্রামে প্রবেশ করলে স্থানিয় মাদ্রাসার হুজুরেরা মসজিদের মাইক থেকে মিথ্যা ঘোষণা প্রচার করতে থাকে যে নাস্তিকেরা মসজিদ ভেঙ্গে ইমামকে হত্যা করেছে। ব্যাস আর যায় কই? লিঙ্গের আগায় ঈমান নিয়ে বসে থাকা গ্রামবাসী নাস্তিক নিধনের মত অশেষ পূন্য হাসিলের জন্য দা বটি নিয়ে ঈমানী জোশে ঝাপিয়ে পড়ে। নিরস্ত্র মিছিলকারী মানুষগুলোকে সারা গ্রাম ঘেরাও করে বের হয়ে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে মনের সুখে কচুকাটা করতে থাকে।

এইমাত্র ফেসবুকে উপরের স্ট্যাটাসটি দেখে আমি আমার পরিচিত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এক ডাক্তারের সাথে ফোনে কথা বলে নিশ্চিত হলাম, ৩ জনের লাশ এসে পৌঁছেছে। আনুমানিক প্রায় ৩৫ জনের মতন গুরুতত আহত অবস্থায় ভর্তি হয়েছে, যাদের অনেকের জীবন আশঙ্কাজনক। এরপর পাই ভহাবহ তথ্যটি। ফটিকছড়ির স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশ-বিজিবির সহায়তায় ফটিকছড়ির বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদেরকে হত্যা করে গুম করে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে আরও কিছু লাশ তারা ইতিমধ্যে গুম করে ফেলেছে। এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। পুলিশ-বিজিবি বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছে গুম করে ফেলা লাশ এবং আহতদের উদ্ধারের জন্য। ইতিমধ্যে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ফটিকছড়ি থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে হেফাজতিরা রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় বেরিকেড তৈরী করেছে, যাতে করে আহত-নিহতদের নিয়ে পুলিশ-বিজিবি চট্টগ্রামে আসতে না পারে।
এভাবেই মসজিদকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে নাস্তিকতার ধুঁয়া তুলে কচুকাটা করে হত্যা করা হয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীদের। আর ঐদিকে দলের নেত্রী হেফাজতের এইসব ভণ্ড ধার্মিক হুজুরদের তোষণে ব্যস্ত। এরপরেও কেন জামাত শিবির হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করে, দেখামাত্র নির্বিচারে ফায়ার করার আদেশ দেওয়া হবে না তথাকথিত সঘোষিত ধর্ম রক্ষক আস্তিকদের কাছে জবাব চাই!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩১ thoughts on “চট্টগ্রাম মেডিকেলে লাশের মিছিল

  1. যুদ্ধ ঘোষণা করা হোক। যুদ্ধ
    যুদ্ধ ঘোষণা করা হোক। যুদ্ধ চাই। শটগান মাসুম এর মত অস্ত্র চাই। নিজেকে বাচিয়ে রাখতে চাই, বেঁচে থাকতে চাই। আর কত অহিংস থাকবো????

  2. কি ভয়াবহ ব্যাপার!!! এ আমরা
    কি ভয়াবহ ব্যাপার!!! এ আমরা কোন দেশে বাস করছি। সত্যিই চিনতে পারছি না নিজের দেশকে। শুধুমাত্র শোনা কথার উপর ভিত্তি করে এভাবে কচুকাটা করে যারা মানুষ হত্যার উৎসবে মাতে তারা কি ধরনের ধার্মিক? আজকে সন্ধ্যায়ই ফেসবুকে লিখেছিলাম-

    যে কোন অপরাধ সমাজ থেকে নির্মূল করার রাষ্ট্রীয় বিধান হচ্ছে, সেই অপরাধের সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করা। যেন সেটা অন্যদের সামনে একটা উদাহরণ তৈরি করে সেই অপরাধ সংগঠন করা থেকে বিরত রাখে।

    আমরা ২৮ ফেব্রুয়ারির সাঈদীর চন্দ্র অভিজানের ঘটনা থেকে দেখেছি, অপরাধ সংগঠনে দেশের বিভিন্ন মসজিদকে ব্যাবহার করা হয়েছিলো। আজকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতেও সেই একই স্টাইলে অপরাধ করতে দেখা গেলো। আমরা ফেসবুক ব্লগে এটা নিয়ে অনেক হাউকাউ করলাম। সরকারও এর নিন্দা জানিয়ে বিরোধী দলের গুষ্টি উদ্ধার করল। কিন্তু অপরাধ কি বন্ধ হলো? না…

    এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর ভূমিকা কোথায়? তারা কেন নীরব দর্শক? দেশের মসজিদগুলো কি সরকারের নিয়ন্ত্রণের আওতার বাইরে? মোটেও না। প্রথমেই সাঈদীর চন্দ্র অভিযানের পর পরই যদি, দেশের যেই অঞ্চলের মসজিদগুলো থেকে মাইকিং করে এই অপরাধ ঘটানো হয়েছিলো, সেইসব মসজিদের মসজিদ কমিটি গুলোকে ধরে ধরে বিচারের সম্মুখীন করা হতো তাহলে সারা দেশের মসজিদ কমিটিগুলোর কাছে একটা বার্তা পৌঁছে যেতো, এভাবে মসজিদকে ব্যাবহার করে অপরাধ সংগঠিত হলে তার দায়ভার তাদেরকে নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট মসজিদগুলো চিহ্নিত করা তেমন কঠিন কোন কাজ নয়। স্বদিচ্ছা থাকলে খুবই সম্ভব।
    আইনত দায়ভার কিন্তু মসজিদ কমিটির ঘাড়েই যায়। কারন মসজিদ সংশ্লিষ্ট যে কোন ব্যাপারে দেখভাল করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির। এটা জেনেই উনারা দায়িত্ব কাঁধে নেন।

    কিন্তু এই কাজটা করার ব্যাপারে সরকারের কোন উদ্যোগ বা আগ্রহ চোখে পড়ল না। যেন অপরাধ ঘটুক এটাই সবাই চায়, যাতে করে এটা নিয়ে ভোটের রাজনীতি করা যায়। কিন্তু এর বলি হতে হচ্ছে দেশের জনগণকে। আমি সরকারের গুষ্টি উদ্ধারের জন্য এই লেখা লিখছি না। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, এভাবে আমাদের পবিত্র ঘর মসজিদ গুলোকে নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্ত করুন। কারন আপনারাই গলা ফাটিয়ে বলে বেড়াচ্ছেন, আপনারাই সাচ্চা মুসলমান। সেটা প্রমাণ করুন।

  3. দেশটা আফগানিস্তান-পাকিস্তান
    দেশটা আফগানিস্তান-পাকিস্তান হয়ে গেছে বলে সবাই ধরে নিতে পারেন। এখন এই দেশটাকে কি বাসযোগ্য রাখবেন নাকি অকার্যকর দেশ হিসাবে থাকবে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।

    1. অদ্ভূৎ!! এইখানে ইমরান বা
      অদ্ভূৎ!! এইখানে ইমরান বা গণজাগরণ মঞ্চ আসবে ক্যান???

      দোষ তো হাসিনার।
      সেই তো লাই দিয়া মাথায় তুলসে ধর্মান্ধ ফ্যানাটিকগুলারে…

      1. এরশাদ আমলের মত হয়ে গেছি আমরা।
        এরশাদ আমলের মত হয়ে গেছি আমরা। মেজাজ গরম হলেই উত্তেজিত হয়ে তখন বলত- ভাঙ গাড়ি। এর জন্য দায়ী কে? স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার।

  4. ধর্মের আসল রুপ কোনটা? শান্তি
    ধর্মের আসল রুপ কোনটা? শান্তি না মানব হত্যা?
    এইসবের জন্য ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে কথা বললেই আখ্যায়িত করা হয় নাস্তিক বলে, আর সাজা মিলবে দশ বছর জেলসহ এক কোটী টাকার জরিমানা অথচ যারা হত্যা করছে ধর্মের নামে তাদেরকে উপাধিতে ভূষিত করে সম্মান দেয়া হচ্ছে।

    আফসোস ভীষণ আমার মায়ের দেহে আজ শকুনের কালো থাবা আবারো পড়েছে, খুটে খুটে খাচ্ছে আমাদের মা’কে। একসাথে জাগছি না বলে আজো আমার মা কাঁদছে। ওহে তুমি না বলে বাঙালি! তুমি কি সেই বাঙালি যার নামের আগে “বীর” উপাধি আছে? নাকি তুমি “ভিতু”, বল তুমি কোনটা?

  5. যদি সম্ভব হয় তাহলে ফটিকছড়ির
    যদি সম্ভব হয় তাহলে ফটিকছড়ির এই ঘটনা সম্পর্কে কেউ যদি কোন আপডেট জানেন, দয়া করে এই পোস্টে জানাবেন। আমরা উৎকণ্ঠার সাথে অপেক্ষা করছি ফটিক ছড়ির ঘটনা শোনার জন্য। টিভিগুলা টকশো নামের প্যানপ্যানানী চালাইতেছে। কোন খবর পাইতেছিনা।

  6. মিছিল লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি
    মিছিল লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি চালায় হেফাজতি জামায়াতের বেজন্মারা। এরপর ধারালো কিরিচ নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে শয়েক লোকজনকে

    1. আরেক জায়গায় দেখলাম- নরপিশচরা
      আরেক জায়গায় দেখলাম- নরপিশচরা প্রথমে চোখে বালি ছুঁড়ে মারছে। তারপর কোপানো শুরু করছে। মানুষ এরা????

  7. ফটিকছড়ি’র ঘটনা সহ সাম্প্রতিক
    ফটিকছড়ি’র ঘটনা সহ সাম্প্রতিক ঘটনা কি লালখান বাজারের শট গান-এর প্রয়োজনীয়তা প্রমান করে না ??

    সুশিল ভাই’রা কি বলেন ???

  8. হেফাজতে জামাত যে এত ভয়ংকর তা
    হেফাজতে জামাত যে এত ভয়ংকর তা এ ঘটনার আগে ধারনাও করতে পারি নাই। অবশ্যই এর বিচার চাই এবং প্রতিরোধ চাই।

    জয় বাংলা !

  9. চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী’র
    চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী’র রিপোর্ট-

    ফটিকছড়ির ভুজপুরে মাদ্রাসা ছাত্র, গ্রামবাসী এবং হরতাল বিরোধী মিছিলকারীদের মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ, বিজিবি এবং দমকল বাহিনীর সদস্যসহ আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। দশ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হয়েছে মোটর সাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও জিপসহ দুই শতাধিক গাড়ি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভুজপুরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। মাদ্রাসায় নাস্তিকদের হামলা, বড় হুজুরসহ মাদ্রাসা ছাত্রদের মারধর, ডাকাতি এবং মসজিদ পোড়ানোর গুজব রটিয়ে হরতাল বিরোধী একটি মিছিলে হামলা চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ ঘটে। আচমকা হামলায় দিশেহারা আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঘেরাও করে দা চুরি এবং কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেও অল্পক্ষণের মধ্যে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ এই হামলার জন্য জামায়াত শিবির, হেফাজতে ইসলাম এবং বিএনপির ক্যাডারদের দায়ী করেছে। পুলিশ দুইশ’ রাউন্ডেরও বেশি গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি এবং র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় পুলিশী অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ গতরাতে অভিযান চালিয়ে থানা জামাতের আমীর এবং ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম নুরীকে গ্রেপ্তার করেছে। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো অভিযানটি মনিটরিং করছেন বলে রাতে শেষ খবরে জানা গেছে।
    পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গতকাল হরতাল চলাকালে ফটিকছড়ির দক্ষিণাঞ্চল থেকে ফটিকছড়ির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় এক হাজার মোটর সাইকেলসহ অন্যান্য গাড়ির একটি বহর নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনসমূহের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা ‘হরতাল, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য প্রতিরোধে ও যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল চেষ্টার প্রতিবাদে’ এক বিশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি জাফতনগর, আজাদী বাজার, নানুপুর, মাইজভান্ডার শরীফ, নাজিরহাট, বিবিরহাট সদর অতিক্রম করে কাজীর হাট বাজারে পৌঁছে ভূজপুর থানার সামনে থেকে ঘুরে পুনরায় ফটিকছড়ি সদরের দিকে ফিরে আসতে থাকে। আসার সময় কাজীর হাট বাজারে অবস্থানরত জামায়াত-শিবির কর্মীরা মিছিলটি লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়ে। এই সময় মিছিলে ইট পাটকেল মারার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কাজীর হাট এমদাদুল উলুম বড় মাদ্রাসার ছাত্ররা হামলা শুরু করে। মসজিদ এবং মাদ্রাসার মাইক থেকে ঘোষণা করা হয় যে, নাস্তিকেরা আমাদের মাদ্রাসায় হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ ফটিকছড়ির ছাত্রলীগ ক্যাডাররা বড় মাদ্রাসায় হামলা করে বুড়া হুজুরকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ছাত্রদের মারধর করছে। নাস্তিকেরা মসজিদ পুড়িয়ে দিয়েছে। এলাকাবাসীকে যার হাতে যা আছে তা নিয়ে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং জামাতের থানা আমীর শফিউল আলম নুরী মাইকে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
    কাজীর হাট এলাকাটি জামাত শিবির এবং হেফাজতে ইসলামের দুর্গ হিসেবে চিহ্নিত। প্রায় প্রতিটি ঘরেই এই দুইটি সংগঠনের নেতাকর্মী রয়েছে। মাদ্রাসা এবং মসজিদের মাইক থেকে নাস্তিক এবং ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলার খবর রটানো হলে গ্রামের শত শত নারী পুরুষ দা কিরিচ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পিঁপড়ার মতো ছুটে আসে গ্রামের নারী পুরুষ। সকলের হাতে ছিল দা কিরিচ ও ছুরি। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি কোপে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের মিছিল। গ্রামবাসী এবং মাদ্রাসা ছাত্রদের সম্মিলিত হামলার মুখে যে দিকে পারে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু অত্যন্ত সরু রাস্তায় এত লোকের এক সাথে পালানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। তাছাড়া সামনের মোটর সাইকেল পড়ে গিয়ে পেছনের মোটর সাইকেলের পথ রোধ হয়ে যাচ্ছিল। গতিরোধ করা হয়েছিল মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার এবং জিপ গাড়ির। হামলাকারীরা সামনে যাকে পেয়েছে তাকে কুপিয়েছে। একের পর এক গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হয়েছে অসংখ্য মোটরসাইকেলসহ দুই শতাধিক গাড়ি। দুপুর ২ টা থেকে বেলা পাঁচটা পর্যন্ত এক কিলোমিটারের মতো এলাকায় তাণ্ডব চলে। হামলাকারী নারী পুরুষেরা খুঁজে খুঁজে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কুপিয়েছে। একদল মানুষকে যে এভাবে কোপানো যায় তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্টকর বলেও পুলিশের পদস্থ একজন কর্মকর্তা গতকাল দৈনিক আজাদীকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতো মানুষের জন্য, কিন্তু গতকাল মানুষ রাজনীতির জন্য হয়ে গিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্বাসে অন্ধ একদল মানুষ নিরস্ত্র মানুষদের উপর হামলা চালিয়ে ভয়াবহ রকমের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। মাত্র এক কিলোমিটার জায়গার মধ্যে প্রায় দুইশ’ মোটর সাইকেল পুড়ে পড়ে রয়েছে। পুরোপুরি ছাই হয়ে গেছে অনেক গাড়ি। মাইক্রোবাস, পাজেরো জিপ, প্রিমিও প্রাইভেট কার এবং জিপ গাড়িসহ দুই শতাধিক গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই সময় দমকল বাহিনীর একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িতে দেয়া আগুন নিভানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের উপরও চড়াও হয়। দমকল বাহিনীর গাড়িটি তারা পুড়িয়ে দেয়। দমকলবাহিনীর কর্মীদের স্থানীয় স্কুলের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।
    পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ভুজপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হামলাকারীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়ে ভুজপুর থানা থেকে জেলা পুলিশের সহায়তা কামনা করা হয়। ফটিকছড়ি থানা থেকে পুলিশ পাঠানো হয়। জেলা থেকে পাঠানো হয় পুলিশ। বিজিবি এবং র‌্যাবও মোতায়েন করা হয়। বিজিবিকে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি করে হামলাকারীরা। নোয়াখালী থেকেও পুলিশ পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। কয়েকশ’ পুলিশ, র‌্যাব এবং বিজিবি মিলে তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই সময় পুলিশ দুইশ’ রাউন্ডের মতো গুলিবর্ষণ করে বলে স্বীকার করেছে।
    পুলিশ বলেছে, আওয়ামী লীগ নেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলামসহ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে হামলাকারীরা। বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ পুলিশ, বিজিবি এবং র‌্যাব গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা সদরে নিয়ে আসে।
    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত ডিআইজি মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, চট্টগ্রামের এসপি একেএম হাফিজ আখতারসহ পদস্থ কর্মকর্তারা গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা গতরাতে দৈনিক আজাদীকে জানিয়েছেন, ‘এই বর্বরতা ৭১ সালকেও হার মানিয়েছে। মানুষ যে কিভাবে এত নির্মম হতে পারে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। পুরো এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ। পোড়া গাড়ি। বারুদের গন্ধ। এক কথায় ভয়াবহ। বীভৎস।’ আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা খালি হাতে ছিল। তাদের হাতে লাঠি জাতীয়ও কিছু ছিল না। এক মোটর সাইকেলে তিনজন করে নেতা-কর্মী ছিলেন। আচমকা হামলার শিকার হয়ে মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন নি অনেকেই। মোটর সাইকেল নিয়ে পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে গাড়িতে আগুন এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। দা চুরি এবং কিরিচ দিয়ে তাদের কোপানো হয়েছে। মাঠে ঘাটে হাটে যেখানে আশ্রয় নিয়েছে সেখানেই হামলা চালানো হয়েছে।’ পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইটি লাশ উদ্ধার করে। এরমধ্যে একটি লাশ উদ্ধার করা হয় স্থানীয় একটি কবরস্থান থেকে। পুলিশ আরো লাশ উদ্ধারের আশংকা প্রকাশ করেছে।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা ও গুরুতর আহত ধর্মপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুল হক জানান, জামাত শিবির, বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের ক্যাডারদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমাদের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। হামলাকারীরা জ্বালিয়ে দেয় মিছিলে অংশগ্রহণকারী দুই শতাধিক মোটর সাইকেল, দুইটি নোহা মাইক্রোবাস, ৪টি প্রিমিও কার, ৫টি জিপ, ৪টি পিকআপ। এর মধ্যে একটি নোহা গাড়ি আওয়ামী লীগ নেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলামের। পরে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি আগুন নেভাতে গেলে জামায়াত শিবির ও হেফাজত ইসলামের কর্মীরা গাড়িটি পুড়িয়ে দেয় এবং দমকল বাহিনীর লোকজনকে স্থানীয় একটি স্কুলে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।
    ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ৭০ জনের মতো আহত নেতাকর্মীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহত ১৭ জনকে নাজিরহাটস্থ ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিবির হাট ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ১০ জনকে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ৩২ জনকে। আরো কয়েকজনকে নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে পুলিশের হাটহাজারীর এএসপি আ ফ ম নিজাম উদ্দিন, ফটিকছড়ি থানার এ এস আই ইকবাল, বিজিবি’র নায়েক সুবেদার অসিউর, ধর্মপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুল হক, বখতপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুকুল আজম, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন, কাদের, আওয়ামী লীগ নেতা জানে আলম, যুবলীগ নেতা লোকমান এবং বাবুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
    প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুজপুর থানার পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় নানুপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন (৩০), সুন্দরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ লোকমান (৩২) নামে দুই ছাত্রলীগ কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে জামালউদ্দিনের লাশ পাওয়া গেছে ভুজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি কবরস্থানে। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে মারা গেছে লোকমান পার্শ্ববর্তী একটি হিন্দু বাড়িতে। বখতপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোহাম্মদ ফারুক ইকবাল বিপুল (৩৫) টিপাইনগর ছাত্রলীগ নেতা পেয়ারু (৩০) এবং জাফতনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা ফোরকান (১৮) মারা যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে। পুলিশ আরো লাশ উদ্ধারের আশংকা প্রকাশ করেছে। পুলিশ বলেছে, অনেককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহত অবস্থায়ও কাউকে কাউকে আটকে রাখা হয়েছে। একটি লাশ কবরস্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা লাশ গুমেরও চেষ্টা করেছে।
    ফটিকছড়ি আওয়ামীলীগ হাসান সরোয়ার জানান, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অনেকেই এলাকায় আটকা পড়েছে। কাজীর হাট এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিবির ও হেফাজত কর্মীরা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের উপর আক্রমণ করেছে।
    এদিকে ঘটনার পর ভুজপুর থানা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিস বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুদ্দীন ভূঁইয়া জানান, বিকেল পৌনে পাঁচটা থেকে ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে।
    আওয়ামী লীগ নেতা হাসান সরওয়ার আজম জানান, ভুজপুর এলাকাটি জামায়াত-শিবির ও হেফাজত অধ্যুষিত। এই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম নূরীও জামায়াত শিবিরের শীর্ষ নেতা। কাজীর হাট এমদাদুল উলুম বড় মাদ্রাসাটি উত্তর ফটিকছড়ির জামায়াত শিবির ও হেফাজতে ইসলামের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সে কারণে মাইকে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সঙ্গে স্থানীয় এলাকাবাসীও যোগ দিয়ে নজিরবিহীন তান্ডব শুরু করে।
    ঘটনার ব্যাপারে গতরাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আখতার রাতে ভুজপুরে অবস্থান করছিলেন। পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী থেকে আসা পুলিশের দল পৃথক পৃথকভাবে অভিযান চালাচ্ছে। এলাকায় টহল দিচ্ছে বিজিবি এবং র‌্যাব। ১৪৪ ধারা জারি থাকায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গতকালের হামলার ঘটনার ব্যাপারে থানায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলেও রাতে শেষ খবরে জানা গেছে।

    খবর সুত্র -চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক আজাদী

  10. কি বিভৎস্য দৃশ্য ! আমরা কি
    কি বিভৎস্য দৃশ্য ! আমরা কি স্বাধীন বাংলাদেশে আছি, না পাকিস্তান-আফগানিস্তানে আছি ?
    কোথায় আমাদের দেশের এসি রুমের মানবাধিকার সংগঠন! আজ তাদের আর দেখা যায় না কেন? কুত্তার বাচ্চাদের দালালী শুরু হয় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করলে! দালাল মানবাধিকার কর্মী কুত্তার বাচ্চাদের দেখা মাত্র জুতা ছুঁড়ে মারা উচিত !

    কোথায় সেসব চুতিয়া সাংবাদিক যারা দলের লেজুর বৃত্তি করে ছাত্রলীগের-ছাত্রদলের অস্ত্রের মহড়ার ছবি ছেপে দেয় ! তাদের তো কোনদিন দেখলাম না শিবিরের অস্ত্রের মহড়া দেখাতে ? তারা কি শিবিরের অস্ত্রের মহড়ার ছবি দেখতে পায় না ? নাকি তারাও শিবিরের রগ কাটার ভয়ে ছবি ছাপেন না ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 34 = 37