ধনীর দুলালী হেমা হেলাল পালিয়েছেন, রুবেল কি আছেন?

 

?oh=a9a094d3406853014f97a9cc1979cf3b&oe=561D27AC&__gda__=1446156820_23baa626dded59c65f1fbad8f2a7dfe2″ width=”300″ />

হেমা হেলালের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এর আগে আমি বিস্তারিত পোস্ট দিয়েছিলাম। রানা প্লাজা নিয়ে এক ধনীর দুলালীর বাণিজ্য! শিরোনামের সেই পোস্ট আপনারা অনেকেই পড়েছেন, শেয়ার দিয়েছেন। পোস্টে মতামতও দিয়েছেন অনেকে। নিন্দা করেছেন এহেন ব্যবসা বাণিজ্যের। সেই পোস্ট গোচরীভূত হওয়ার পর হেমা হেলাল নিযুক্ত ‘একপোস্টের ব্লগার’ রুবেল সাহেব আকথা-কুকথার ঝাঁপি খুলে অযৌক্তিক সব প্যাঁচাল পেড়ে বিরাট এক পোস্ট লিখেছিলেন। আবার সেই পোস্ট স্টিকির জন্য সুপারিশও করেছিলেন।

তার পোস্টের জবাব দিয়েছিলাম। কিন্তু রুবেল সাহেব আমার কথা মানতে পারেননি। পারবেন কেন? তিনি তো ভুট্টো সাহেবের কথা শুনে এসেছেন। ভুট্টো সাহেবদের কথা যারা শোনে, তাদের কানে মোহর এঁটে যায়। রুবেল সাহেবেরও তাই হয়েছিল, যারা পাবলিকের টাকা মেরে দিয়েছে, তাদের কাছে নয়, তিনি আমার কাছে জবাব চাইতে এসেছিলেন। যাই হোক, আমি জানি না সেই একপোস্টের ব্লগার এখনও বেঁচে আছেন কিনা! থাকলে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। যদিও আমার ধারণা অ্যাসানমেন্ট ছাড়া এসব সাহেবরা আবার নড়েন চড়েন না। যাই হোক পাঠককে বিরক্ত না করে মূল প্রসঙ্গে আসি।

উপরে দেয়া পোস্টটি পড়লে হেমা হেলাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তবু সংক্ষেপে বলে রাখি, এই ধনীর দুলালী নিজের বাপের টাকা লুকিয়ে রেখে বিদেশে থাকার সুবাদে প্রবাসী বাঙালীদের কাছ থেকে টাকা তুলে দেশে এসেছিলেন রানা প্লাজার শ্রমিকদের সাহায্য করার জন্য। এরপর তার প্রকল্প ক্রমশ বড় হয়। রানা প্লাজার আহত-নিহত-নিখোঁজ শ্রমিকের সন্তানদের নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠার এক গল্প ফাঁদেন তিনি। স্কুল চালু হয় না, কিন্তু গাড়ি, ফ্রিজ আর মাস্টারদের মোটা অঙ্কের বেতন এসবই চালু হয়ে যায়। ওদিকে দানের টাকায় তিনি এক কারখানা গড়ার চেষ্টা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল রানা প্লাজার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান। কিন্তু দেখা যায় সব কিছুর মালিকানা থাকে তার হাতেই। নিজের পরিবার-পরিজনের হাতে ক্ষমতা কুক্ষীগত করে, তথ্য আড়ালে রেখে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে তিনি কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। এক কথায় যাকে আমরা বাংলায় নয় ছয় বলি!

আমার পোস্টের পর হেমা হেলালের নিয়োগকৃত একপোস্টের ব্লগার রুবেল সাব অনেক কথাই বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ঘটনা ঘটে গেছে। রানা প্লাজার কাছে আমার মাসে একবার অন্তত যাওয়া লাগে। কিন্তু গত কয়েক মাস একটু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলাম নানা কারণেই। এবার ঈদের শেষে ওই এলাক্য গিয়ে হেমা হেলালের বন্ধ কারখানার কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে সাক্ষাত হয়। তারা জানান, আমাদের লেখালেখির প্রেক্ষিতে মাসদেড়েক আগে হেমা হেলালের স্নেহা ফাউন্ডেশনের কিছু দাতারা এসেছিল কারখানা ও স্কুল সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে। তারা এসে শ্রমিকদের নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। শ্রমিকরা মন খুলে কথা বলতে গেলেই বাধা দেন, হেমার নিয়োগকৃত কর্মচারীরূপী মাস্তান রাজু। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের তিনি গালাগালি শুরু করলে জমে যাওয়া শ্রমিকরা তাকে মারধোর করে। এক পর্যায়ে রাজুকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় শ্রমিকরা।

এর পর থেকে হেমা হেলাল, তার কারখানা, স্কুল আর বাদবাকি বড় লোকের অর্গানিক ফুডের প্রজেক্ট সবই পগার পার। তাদের কোথাও কোনো খোঁজ মিলছে না। এমনকি স্নেহা ফাউন্ডেশনের রঙচঙে ওয়েবসাইটের আর কোনো খোঁজ নাই। এমনকি hemahelal.comও এতিম হয়ে গেছে। আবার তাদের ফেসবুক পেইজও গায়েব পাইতাছি। এদিকে আমার শ্রমিক ভাইরা বলতেছেন, ওদের পেলে নাকি আবার ধরে পুলিশের কাছে নিয়ে যাবেন। কারণ তাদের নামে টাকা উঠিয়ে সেই টাকা নিয়ে ওরা ভেগে গেল কেন? একপোস্টের ব্লগার রুবেল সাবের কাছে হেমা হেলালের খবর চাই। রুবেল আছেন নাকি?

শুনলাম, তৃপ্তি নামক এক সংগঠনের প্রায় ২০ লাখ টাকা এবং গ্রামীন ফাউন্ডেশনের ৮২ লাখ টাকা মেরে দিয়েছেন হেমা হেলাল। এছাড়া দাতা পর্যায়ে সাধারণ যেসব মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন, তাদের টাকারও কোনো খোঁজ খবর নেই। এভাবেই ধনীর দুলালী তার জনসেবার গল্পের ইতি টানলেন কি? আরও জানতে চাই। খবর খুঁজছি। জানলে সবাইকেই জানাব। তবে আপাতত হেমা হেলালের কাছের লোক হিসেবে রুবেল সাবরেই চিনি, তাই তার কাছেই জানতে চাইলাম।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “ধনীর দুলালী হেমা হেলাল পালিয়েছেন, রুবেল কি আছেন?

  1. আপনি তো দেখি এখনও লড়াই চালিয়ে
    আপনি তো দেখি এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। 🙂

    অবশেষে রানা প্লাজা নিয়ে বাণিজ্যের একটা অধ্যায় ক্লোজ হলো! এখন প্রশ্ন তোলাই যায়, স্নেহা ফাউন্ডেশন রানা প্লাজার শ্রমিকদের নামে যে টাকা তুলেছিল তার কোনো হিসাব না দিয়ে তারা কিভাবে সব সাইট বন্ধ করল?

    1. শ্রমিকদের স্বার্থে লড়াইটা
      শ্রমিকদের স্বার্থে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছি। হেমার মত ধান্ধাবাজদের শায়েস্তা করতে পারলে ভবিষ্যতে শ্রমিকদের মাথা বিক্রি করে উদূরপুর্তির পথ কিছুটা হলেও বন্ধ হবে। স্নেহার সাইট বন্ধ হ।ওয়া দেখে আঁচ করা যায় তাদের বর্তমান অবস্থা। তারা পালিয়েছে বলেই সবাই ধারনা করছে।

  2. ধন্যবাদ আমাকে স্মরণ করায়।
    ধন্যবাদ আমাকে স্মরণ করায়। বিস্তারিত জেনে জানাচ্ছি। আপাতত এটুকুই বার্তা। কারণ সে সময়ের পর তাদের সাথে আর যোগাযোগ হয় নি। যতটুকু যা জানতে পারবো নিশ্চয়ই জানাবো। ধন্যবাদ

    1. জ্বি ভাই, আপনার বক্তব্যের
      জ্বি ভাই, আপনার বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা জানতে চাই তাদের বক্তব্য। স্নেহা ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র হিসাবে বিগত পোস্টে আপনি ভালই ভুমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিযোড়গুলোকে খন্ডাতে পারেন নি।

  3. এই তো গেল বছর ছিলাম সাভার,
    এই তো গেল বছর ছিলাম সাভার, কোচিং এর সুবাদে
    ছায়াবীথি থেকে হেটে হেটে রানা প্লাজার সামনে থেকেই বাসে উঠি,
    প্রতিদিন দেখি রানা প্লাজার সামনে চল্লিশ উর্ধ্ব মহিলা পুরুষ দাঁড়িয়ে কি যেন খোঁজে
    নড়াচড়া করে না, শুধু মুর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকে,
    শুধুই চোখ নড়ে ছলছল করে।
    জাহিন আর আমি রানা প্লাজার সামনে দাঁড়াই,
    একি পা ব্যবহার করতে পারছি না
    হঠাৎ প্যারালাইসেজ হল না কি?
    হায় হায় একি আমার সকল ক্রীড়া বন্ধ
    যেন প্যানিক ডিজঅর্ডারে পেয়েছে আমায়।
    শ্রমিকের রক্তে ধোয়া লাল খণ্ড খণ্ড ইট গুলো মানুষেরা পায়ে পিষতে পিষতে ধূসর রঙে পরিণত করে দিয়েছে
    আমি দেখতে পাই
    এই ধূসর রঙের ভিতর থেকে মাঝে মাঝে বিদ্রোহের আগুনে জেগে উঠে গার্মেন্টস শ্রমিকের জমাটবদ্ধ রক্ত।
    আমি যে কবে? কখন? মুর্তি হয়ে গেছি বুঝতে পারছি না?
    জাহিন কাঁধে হাত দিতেই বিদ্যুৎ চমকে গেল শরীরের মধ্যে
    বলল একি তোর চোখ ছলছল কেন? তোর তো কেউ মরেণি
    জাহিন আমার মুর্তিরূপ ভেঙে দিল, কিছুই বলিনি তাকে।
    বাটার শ্রমিকেরা ধূসর মাটি রক্তে ধুয়ে লাল করে ইট তৈরি করে
    ইট তো নয় যেন থকথকে জমাটবদ্ধ বদ্ধ রক্ত।
    রানা প্লাজার মালিকেরা সেই রক্তের জমাটবদ্ধ ইট সাদা করে ব্যবহার করে
    বাটার শ্রমিকের অবমূল্যায়ন রক্তে জমাটবদ্ধ লাল ইট মেনে নেয় নি।
    মুক্তা যেমন ঝিনুকে ভাল থাকে, শামুকে থাকে না
    তেমনি রক্তের জমাটবদ্ধ ইট সাদাতে ভাল থাকেনি
    সকল সাদা পেরিয়ে মুক্ত আকাশে বেরিয়ে
    গার্মেন্টস শ্রমিকের রক্তে ধুয়ে নিয়েছে গা
    মুক্ত ইট যেন আবার জমাটবদ্ধ রক্ত হয়েছে,
    টিনের বেড়িগেটের পাশ থেকে একটি ইট আমাকে ফিসফিস করে বলল আমি বাটার শ্রমিকের রক্তে জমাটবদ্ধ ইট
    আমাকে অপব্যবহার তো আমার স্রষ্টার অপমান
    তাই বেরিয়ে এলুম রানার গলা চেপে ধরতে।
    আরও বলল শ্রমিকের সফলতা মানুষ সহ্য করতে পারে না
    তাই পায়ে পিষতে পিষতে আবার ধূসর করে দিয়েছে আমাদেরকে।
    ইটের কথায় আমি আবার মুর্তি হয়ে গেলাম।
    খানিক চুপ থাকার পর পাশ থেকে সিমেন্টের সাথে লেপ্টে থাকা বালুকণা বলল
    পৃথিবীর বুকে মানুষের মত একজন আছে কিন্তু তিনি মানুষ নন
    বিস্ময়ে জানতে চাই তবে কি তিনি ঈশপের গল্পের সেই —
    বালুকণা থামিয়ে বলল না তিনি “হেমা হেলাল” তিনি শ্রমিকের কল্যাণ চান।
    তারপর থেকে আমি হেমা হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম।
    কিন্তু আজ সেই বালুকণা খবর পাঠাল হেমা হেলাল মানুষ।
    আমি এবার সত্যি সত্যি মুর্তি হয়ে গেলাম।

  4. রুবেল সাহেব যতোই ত্যানা
    রুবেল সাহেব যতোই ত্যানা প্যাচাক, যেহেতু বোঝা যাচ্ছিলো ওরা নয় ছয় সেহেতু ওদের বাক্স গুছিয়ে পালানোর আগেই পুলিশে সোপাদ‍র্ করা উচিত ছিলো।
    শ্রমিক সংগঠন গুলো এখন কী বলছে? মুলত এই সময় করণীয় কী? আমাদের শ্রমিকদের কষ্টের টাকা আলালের ঘরের দুলালী মেরে দেবে এটাতো মেনে নেওয়া যায় না ।

  5. শ্রমিকের টাকা মেরে দিয়ে এভাবে
    শ্রমিকের টাকা মেরে দিয়ে এভাবে পগার পার হয়ে গেলেও এদের ধরার কেউ নেই। এদের বিচার করার মত প্রসাশনে কোন উদ্যোগ নেই। যা হোক, রুবেল ভাইয়ের বক্তব্য আশা করছি।

    1. রুবেল ভাইকে পাওয়া যাবে বলে
      রুবেল ভাইকে পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না। টাকা মেরে দেওয়ার স্বপক্ষে কতটা ফাইট করা যায়? তবে এই রুবেলদের ধরলে হেমাদের মেরে দেওয়া টাকার উৎসের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 4