প্রধানমন্ত্রীর মদিনা সনদ অনুসারে দেশ চালনার আশ্বাস এবং….

প্রধানমন্ত্রী আজ বলেছেন, দেশ চলবে মদীনা সনদ অনুযায়ী॥আগে মদিনা সনদটা দেখে নিই॥
মদীনা সনদের মূল বিষয়বস্তু
ছিল:
/১) >সনদপত্রে স্বাক্ষরকারী
সম্প্রদায়সমূহ
ইসলামী রাষ্ট্রের
অধীনে একটি সাধারণ
জাতি গঠন করবে।/ এটার কোন প্রয়োজন বা কার্যকারীতা বাংলাদেশে নেই॥ বরং একটি ক্ষতিকর দিক রয়েছে। “ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে” যদি জাতি গঠিত হয় তাহলে “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” এর মতই অন্যান্য ধর্মের জন্য অপমানজনক একটি দিক থেকে যাচ্ছে।এটা বাংলা রাষ্ট্রের জন্য আজীবন “বিসমিল্লায় গলদ” হয়ে থাকবে।

/২)> হযরত মুহাম্মদ (স)
ইসলামী রাষ্ট্রের
রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন।/ এ অনুসারে রাষ্ট্রের প্রধান হবে একজন ধর্মীয় নেতা যার মাধ্যমে আবারো অন্য ধর্মাবলম্বীদের অপমান করা হয়।তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজেকেই রাজনীতি ছেড়ে বোরখা ঘরের কোনায় বসে তসবি জপতে হবে।

/৩)> কোন সম্প্রদায়
গোপনে কুরাইশদের
সাথে কোন প্রকার
সন্ধি করতে পারবে না কিংবা
মদীনা বা মদীনাবাসীদের
বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে কুরাইশদের
কোনরুপ সাহায্য-
সহযোগীতা করতে পারবে না।/

/৪)> মুসলিম, খ্রীস্টান, ইহুদী,
পৌত্তলিক ও অন্যান্য
সম্প্রদায় ধর্মীয়
ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ
করবে। কেউ কারো ধর্মীয়
কাজে কোন রকম হস্তক্ষেপ
করতে পারবে না।/ সব ধর্মের সমান অধিকারের এই বিষয়টি “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম” এর সাথে সাংঘর্ষিক হওয়া স্বত্তেও বাংলাদেশের সংবিধানে উপস্থিত রাখা হয়েছে।যদিও এর প্রয়োগ কোনকালেই দেখা যায়নি।

/৫)> মদিনার উপর যে কোন
বহিরাক্রমণ কে রাষ্ট্রের
জন্য বিপদ বলে গণ্য
করতে হবে। এবং সেই
আক্রমণ কে প্রতিরোধ করার
জন্য সকল সম্প্রদায়কে এক
জোট হয়ে অগ্রসর হতে হবে।/

/৬)> রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের
অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার
ব্যবস্থা থাকবে।/

/৭) অসহায় ও
দূর্বলকে সর্বাবস্থায় সাহায্য
ও রক্ষা করতে হবে।/

/৮) সকল প্রকার রক্তক্ষয়,
হত্যা ও বলাৎকার নিষিদ্ধ
করতে হবে এবং মদীনাকে
পবিত্র
নগরী বলে ঘোষণা করা হবে।/ এ অনুসারে ঢাকাকে পবিত্র নগরী হিসেবে ঘোষনা দিতে হবে এবং ঢাকার বুকে পার্ক, বার, সহ মন্চ ফন্চ নাটক থিয়েটার সিনেমা হল, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি হাবিজাবি বন্ধ করে দিতে হবে।

/৯) কোন লোক ব্যক্তিগত
অপরাধ করলে তা ব্যক্তিগত
অপরাধ হিসেবেই বিচার
করা হবে। তজ্জন্য অপরাধীর
সম্প্রদায়
কে দায়ী করা যাবে না।/ এটা আমাদের সংবিধানে আছে যদিও মৌখিকভাবে আমরা এমন ঘটনায় সম্প্রদায়কেই দায়ী করতে অভ্যস্ত।

/১০) মুসলমান, ইহুদী ও
অন্যান্য সম্প্রদায়ের
লোকেরা পরষ্পর বন্ধুসুলভ
আচরণ করবে।/ এটিও আমাদের সংবিধানে আছে যদিও আমাদের মাঝে এর প্রয়োগ নেই।

/১১) রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ
বিরোধ নিষ্পত্তির অধিকার
থাকবে রাষ্ট্রপ্রধানের
এবং তিনি হবেন সর্বোচ্চ
বিচারালয়ের সর্বোচ্চ
বিচারক।/ এটাও আছে সংবিধানে।প্রয়োগটাও আছে বেশ।

/১২) মুহাম্মদ (সাঃ) এর
অনুমতি ব্যতীত মদীনাবাসীগণ
কারও বিরুদ্ধে যুদ্ধ
ঘোষণা করতে পারবে না।/

/১৩) মুসলমানদের কেউ
যদি অন্যায়
কিংবা বিশ্বাসঘাতকতা করে
তবে সবাই মিলে তার
বিরুদ্ধে যথোচিত
ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নিজ
সন্তান বা আত্নীয় হলেও এ
ব্যাপারে তাকে ক্ষমা করা যাবে
না।/এখানে শুধু মুসলমান উল্লেখ থাকায় অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিষয়ে রাষ্ট্রের দ্বায়িত্ব বা কর্তব্য নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

** উল্লেখ্য এখানে ১(“ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে” অংশটুকু ব্যাতিত),৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯,১০,১২ অনুচ্ছেদগুলো একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক সংবিধান হিসবে বাধ্যতামূলক।আমাদের রাষ্ট্রের সংবিধানেও আছে এসব।তাই নতুন করে দেশকে এই নিয়মের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী আসলে কি বুঝাতে চেয়েছেন ? তাছাড়া ১১ নং অনুচ্ছেদটিও আমাদের সংবিধানে আছে। বাকী থাকল কেবল ২ নং অনুচ্ছেদ যা সংবিধানে নেই আর এটি সম্ভবও না।***
তাহলে এই /দেশ চলবে “মদীনা সনদ” অনুসারে/ কথাটি কতটুকু গুরুত্ব বা তাত্‍পর্য প্রকাশ করছে ? প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে আজ ১৩-০৪-২০১৩ পাবনা জেলার তৃণমূল নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে আজ এ কথা বলেন। যদি ধরে নিই প্রধানমন্ত্র দুর্বল ধর্মানুভূতির মানুষগুলোকে স্বান্তনা দেবার জন্য এ কথা বলেছেন তাহলে বলব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
মানুষকে বসতে দিলে শুতে চায়, খেতে চায়। শুতে দিলে, খেতে দিলে ঘুমুতে চায়, কাপড় চায়। আজ সারা দেশে ধর্মের নামে যে বিশৃঙ্খলা-নৈরজ্য এবং সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস চলছে এর জন্য দায়ী কেবল “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”।
অথবা যদি এটি হেফাজতী জঙ্গিদের দেয়া “সরকার নাস্তিক” উপাধি ঠেকানোর জন্য বা সরকারকে আস্তিক প্রমাণের একটি চেষ্টা হয় তাহলে বলব শুধু শাহবাগ এবং রাজীব ইস্যুটিকে উদাহরণ হিসেবে টানব। শাহবাগ আন্দোলনে বিভাজন শুরু হয় প্রকৌশলী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার কে হত্যা করার পর থেকে।তখন শাহবাগের নিয়ন্ত্রণ প্যানেল থেকে শুরু করে শাহবাগের পক্ষের সবাই প্রচারণা শুরু করে দিল যে রাজীব নাস্তিক নয় আস্তিক ছিল। যদিও এর উদ্দেশ্য(শাহবাগ আন্দোলনে যেন বিভাজন না হয়) সত্‍ ছিল তবু কাজটি সম্পূর্ণ অনৈতিক হয়েছে।একটা মানুষ তার সারা জীবন যে আদর্শ নিয়ে বেঁচেছে সে নিশ্চয় তার মৃত্যু বা দাফন প্রক্রিয়া নিয়ে ভেবেছে।সে যেহেতু আত্মস্বীকৃত নাস্তিক ছিল তাই নিশ্চয় এটা ভাবেনি যে তার জানাজা হবে।তাকে আস্তিক বানাবার জন্য তার জানাজা পড়ানো হল।এটা অনুচিত হয়েছে।রাজীবের সম্মানে তার লাশ সামনে রেখে ৫/১০ মিনিট(জানাজার নামাজে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে না) সময় নিরবতা পালন করা যেত।এছাড়া বাকী সব ঠিক ছিল, বিশেষ করে রাজীবের লাশ ছুয়ে শপথ এবং জাতীয় পতাকাবৃত কফিন রাজীবের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ছিল।তাই প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের সরকার কে আস্তিক বানাবার চেষ্টায় আরো একটা সাম্প্রদায়িক ইস্যু সৃষ্টি হওয়া ছাড়া আর কোন লাভ হবেনা॥
তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি /”মদীনা সনদ” অনুসারে দেশ চলবে/এটা বলতে পারেন না।কারণ মদীনা সনদের সাথে বাংলাদেশের কোন সম্পর্ক নেই।তাছাড়া এ কথার মাধ্যমে এদেশে অন্য ধর্মাবলম্বীদের অবদানকেও অস্বীকার/অপমান করা হয়েছে।আপনি প্রধানমন্ত্রী, আপনার কথার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে॥

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “প্রধানমন্ত্রীর মদিনা সনদ অনুসারে দেশ চালনার আশ্বাস এবং….

  1. সরকারের কয়েকটি স্ক্রু লুজ হয়ে
    সরকারের কয়েকটি স্ক্রু লুজ হয়ে গেছে মনে হয়… এসব বাচাল (স্ক্রু লুজ) লোককে দিয়ে রাষ্ট্র চলতে পারে না… মাননীয়কে সম্মান রেখে বলছি, হয় মুখ বন্ধ রাখেন, না হয় রাজনীতি থেকে অবসর নিন.. তাতে জাতি মুক্তি পাবে…

  2. ভাবতেছি আর ভাবতেছি
    ভাবতে

    :কনফিউজড: :কনফিউজড: ভাবতেছি আর ভাবতেছি :ভাবতেছি: :ভাবতেছি:

    ভাবতে ভাবতে, আমি — :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  3. রাষ্ট্রের প্রধান মুখ বন্ধ
    রাষ্ট্রের প্রধান মুখ বন্ধ করলে চলবে না॥বরং এতে সংকট আরো বাড়বে॥প্রধানমন্ত্রীকে কথা বলার সময় আরো সুবিবেচক হতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে>> মুকুল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

95 − = 88