৮ম শ্রেণী পড়ুয়া ধর্ষিতা মেয়েটির পাশে কেউ নেই!

এই আকালের দিনে কে রাখে কার খবর! তাছাড়া ধর্ষণ এখন সহজ স্বাভাবিক এক ঘটনা হয়ে দাঁড়াচ্ছে দিন দিন। যেন এরকম খবর প্রতিদিনই শুনব আর আমরা একটু উহ-আহ করব। ঠিক যেন সড়ক ‘দূর্ঘটনা’র মতো। তার পরেও বড় শহরে এরকম কিছু ঘটলে মানবতা জেগে অঠে আস্তে ধীরে। তেজগাঁওয়ে আদিবাসী মেয়েকে ধর্ষণ, বা উত্তরার ভিকারুন্নিসার ক্ষেত্রে আমরা এর নমুনা দেখেছি। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ধর্ষণ হলে পত্রিকার পাতাগুলোও তাকে গুরুত্ব দেয় না। এমনকি অনেক খবর কাগজেই আসে না। এই মেয়েটার তবু ভাগ্য ভাল, দু’ একটা কাগজ তার দুরবস্থার সস্তা বর্ণনা তবু দিয়েছে।

মেয়েটির নাম বলতে চাচ্ছি না। ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের খালিপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। ৮ম শ্রেণীতে পড়ে সে। পড়ত বলাই ভালো, কারণ এরপর থেকে তার স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যাবে। এমনকি সে গ্রামেও থাকতে পারবে না, কারণ এমন ‘নষ্টা নারী’ সমাজে ঘুরে বেড়ালে বাচ্চারা কি শিখবে! মোটকথা, একটা ঘটনা তার সুন্দর কৈশোরকে বিভৎস করে দিল। আর কোনোদিন সে মাবুষ হয়ে এই সমাজে দাঁড়াতে পারবে না, এটাই সাধারণ গতি। যদি পারে, সেটা হবে আশ্চর্য কিছু। কিন্তু মেয়েটি যে এত শাস্তি ভোগ করছে ও করবে, তার জন্য সে মোটেই দায়ী নয়। যাদের অপরাধ তাদের মৌজ-মাস্তি হয়েছে, কামক্ষুধা মিটেছে, এখন তারা এত বড় ঘটনা ঘটিয়েও টিকে থাকতে পারার ফলে গ্রামে বিরাট বীরপুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হবে।

ধর্ষকের নাম সুজন। সে ওই গ্রামের ধাইফাই (বিরাট) বংশের ছেলে। তার বাপ-চাচাদের সবার মিলে ১০০ বিঘার মতো জমি আছে। তার চাচা আবুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। গ্রামে যত ধরণের অপরাধ সংঘটিত হয় তাতে নেপথ্যে তার হাত থাকে। আরেক চাচা মঈনুল গ্রামে শালিস-বিচারে নেতৃত্ব দেয়। স্থানীয় দুটি মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি সে। চাড়োল দাখিল মাদ্রাসায় কিছুদিন আগে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে সিন্ডিকেট করে তার নেতৃত্বে আরও কয়েকজন মিলে প্রায় ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। নিয়োগপ্রাপ্ত জাকির নামের ভুক্তভোগী এ নিয়ে মুখও খুলেছিলেন। কিন্তু অপরাধি মঈনুল বহাল তবিয়তেই আছেন। ছিনতাই, চাদাবাজি, গরীব মানুষের পকেট থেকে জোর করে টাকা নেয়ার সঙ্গে এই পরিবারের সদস্যদের যোগসূত্র আছে।

ধর্ষক সুজনের চাচাৎ ভাই ইয়াসিন ওই গ্রামের ইউপি মেম্বার। গ্রামে তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অসংখ্য অভিযোগ আছে। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় এবং থানা পুলিশ ও শালিস ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউই কিছু বলতে পারেন না। ধর্ষক সুজন নিজে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আরেক চাচাৎ ভাই বিপ্লব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিও বটে।

?oh=9e296cb2bd7c86f7db3444e5da892b3f&oe=56A569F3″ width=”400″ />
এই স্কুলে যাওয়ার পথেই মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায় ওরা!

মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সুজন ও তার ইয়াররা মিলে উত্ত্যক্ত করত। বাবার কাছে নালিশ করেছিল সে বাড়ি গিয়ে। অসহায় কৃষক পিতা অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। আর এই থানায় যাওয়াটাই কাল হয়েছে। গত শনিবার মেয়েটি স্কুলে যাচ্ছিল। এ সময় তাঁর পথরোধ করে জোর করে তাকে মোটর সাইকেলে করে তুলে লাহিড়ী হাট কালী মন্দিরের পিছনে একটি বাসায় নিয়ে যায় সুজন ও তার সঙ্গীরা। সেই বাসায় আটকে রেখে দিনভর তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে বাচ্চা মেয়েটিকে। মেয়েটি বাধা দিবে জেনে তারা প্রস্তুত ছিল, ধর্ষণের আগে নিস্তেজ করার ইঞ্জেকশন পুশ করা হয় মেয়েটির শরীরে। সারাদিন ধর্ষনের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চাড়োল ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের একটি রাস্তার ধারে মেয়েটিকে ফেলে রেখে যায় তারা।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মেয়েটির পরিবার তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে মেয়েটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযুক্ত সুজনকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কোনো অভিযান চালিয়েছে এমনটাও জানা যায়নি। মেয়েটির পরিবার প্রথমে মামলা করতে চেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ক্ষমতাবানদের চাপে তারা বাধ্য হন সরে আসতে। এখন তার মুখ বন্ধ। আর পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা সময় কাটানোর কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে। সেক্ষেত্রে তারা বেশ কিছুটা সফলও হয়েছে।

ধর্ষণের পর প্রায় তিনদিন পেরিয়ে গেছে। এত দেরিতে ধর্ষণের মামলা হলে পুলিশ নাকি তা প্রমাণ করতে পারে না। নানা জালে আটকে ইতোমধ্যে তারা মামলাপ্রক্রিয়াকে চাপা দিতে সক্ষম হয়েছে। এখন মামলা হলেও এই মামলা খারিজ করাতে পুলিশের বেশি বেগ পেতে হবে না। অসহায় কৃষকের মেয়েটি হয়তো আরও একদিন খবরের কাগজগুলোর দরদ পাবে!

ধর্ষিতার আত্মহত্যার খবর শুনে আমরাও হয়তো কিছুটা বিচলিত হব! দেশটা কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে কিছুক্ষণ দুশ্চিন্তা করব। কিন্তু আমি মনে করি, এখনো সময় আছে। আমরা একটু জোর গলায় কথা বললে, এই ধর্ষক সুজনের বিচারের জন্য সবাই মিলে একসাথে দাবি তুললে নিশ্চয়ই একটা চাপ তৈরি করতে পারব। আর এইটুকুর ফলে হয়তো মেয়েটা বেঁচে যাবে, বাঁচার যুক্তিও খুঁজে পাবে সে! অনলাইনের শক্তি কম না। সবার কাছে আকুল আবেদন, অসহায় এই কিশোরী মেয়েটির পাশে দাঁড়ান! ঠাকুরগাঁওয়ে থাকলে বা সেখানে পরিচিত কেউ থাকলে তাদের জানান, চাপ দেয়ার চেষতা করুন। খবরটা ছড়িয়ে দিন, ইভেন্ট খুলুন, নারী নেত্রীদের বাধ্য করুন ঘটনাস্থলে যেতে। আরও অনেক কিছুই আছে আপনাদের মাথায়। আসুন সেই সৃজনশীলতা এবার ৮ম শ্রেণী পড়ুয়া এই অসহায় কিশোরীটির জন্য কিছুটা কাজে লাগাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৫ thoughts on “৮ম শ্রেণী পড়ুয়া ধর্ষিতা মেয়েটির পাশে কেউ নেই!

  1. গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনাটাকে
    গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনাটাকে যথার্থরূপেই তুলে এনেছেন। অনুরোধে সাড়া দেয়ায় অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। সময়াভাবের কারণে পেরে উঠিনি। তা না হলে বিষয়টা নিয়ে আমার লেখার ইচ্ছে ছিল। তবে এত সুন্দর হতো বলে মনে হয় না। আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর সমস্ত পাঠকের কাছে আহবান, এই বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করুন।

  2. @সুবিনয় মুস্তফী ভাইয়া শীঘ্রই
    @সুবিনয় মুস্তফী ভাইয়া শীঘ্রই 10921 এ কল দিন। সব জানান। এটা নারী ও শিশু মন্ত্রালয়ের হেল্প সার্ভিস। ওরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নিবে ।

    1. 10921 এ কল দিলে কী হবে? এটা
      10921 এ কল দিলে কী হবে? এটা সরকারি কিছু? ওরা কি করতে পারে? ক্ষমতাসীনদের অংশ না হলে তো আর ওখানে কারো চাকরি হয়নি। আমার মনে হয় না, কোনো কাজ হবে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ওরা যদি পারতই, তাহলে তো আমরা দেখতাম, দেশে ধর্ষণ কমছে। আর ন্যুনতম তাদের নিজেদেরই একটা ডেস্ক থাকত ধর্ষিতার খুঁজে বের করার জন্য! ফোন দিয়ে জানানো লাগত না।

    2. ১০৯২১ এ ফোন দিলাম। তারা
      ১০৯২১ এ ফোন দিলাম। তারা ভিক্টিমকে যোগাযোগ করতে বলল। ঠিকানা দিয়ে বললাম, আপনারাই যোগাযোগ করুন। তারা জানাল, এরকম কোনো বিধি নেই! এই আমলাতন্ত্র দিয়ে কিভাবে দরিদ্র্য নারীদের এরা সেবা দিবে তা বুঝে এলো না।

      1. হাহাহা… আপনি কি আশা
        হাহাহা… আপনি কি আশা করেছিলেন তারা যোগাযোগ করবে? ঐ রকম নাগরিক সেবা বাংলাদেশ থেকে পাওয়া কল্পনার অতীত। যারা ঐ নম্বরে বসে আছে তারা অনেক সময় উল্টা ধান্ধা করে ভিক্টিম থেকে। এটা বাংলাদেশ।

    1. অনেক কিছুই আশা করা যায়, কারণ
      অনেক কিছুই আশা করা যায়, কারণ শুধু এসবই ঘতে না দেশে, আরও অনেক কিছুই ঘটে। আর কিছু আশা না করা গেলেও কিন্তু আপনি বা আমি এই শহরে সবাইকে ল্যাওড়া দেখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি না। বরং বেশ নিয়ম কানুন মেনেই চলছি। সুতরাং যেটাকে আপনার আমার চোখে অনিয়ম মনে হয় তাকে বিরোধিতা করা দরকার।

  3. একালের সমাজে মানবিকতাও
    একালের সমাজে মানবিকতাও শ্রেনীবিভক্ত হয়ে গেছে। ভিকারুন্নেসায় কিংবা টি এস সিতে নির্যাতনের স্বীকার নারী আপার ক্লাসের প্রতিনিধিত্ব করায় আমাদের শহুরে নব্য মধ্যবিত্তশ্রেনীর মানবিক মূল্যবোধ জেগে উঠতে একদম সময় লাগে না। মিডিয়াগুলোও মার্কেটের চাহিদাকে মাথায় রেখে নিউজের পর নিউজ করে যায়। কিন্ত সমাজের প্রান্তিক নারীদের নির্যাতনের অধিকাংশ খবরই মূলধারার মিডিয়ায় আসে না ফলে আমাদের শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির হুজুগে মানবিকতারও দেখা মিলে না। তবে সংখ্যালঘু কিংবা উপজাতির প্রতি একটু জেনারেল সিমপ্যাথি কাজ করায় এ বিষয়ে কিছু নিউজ মিডিয়ায় আসে।

    1. খুবই ন্যায্য কথা বলেছেন।
      খুবই ন্যায্য কথা বলেছেন। শ্রেণী বিষয়টা ভয়ঙ্কর অ্যালার্মিং। তাই দাদা চাইলেও অনেক কিছু থেকে নিজেই বেরুতে পারছি না!

  4. আগে আইনের পথে যাওয়া তো হোক !
    আগে আইনের পথে যাওয়া তো হোক ! এত হতাশ হলে কিছুই হবে না । খালি এইখানে বসে ধর্ষককে শাস্তি দিতে হবে বললেও লাভ নাই। সো, হাতের কাছে যে ব্যবস্থা আছে সেটা নেই। ঠাকুরগাঁও তে আছে এমন ব্যাক্তি ব্লগে তো নেই , তা না ! আসছে কি !

    ১০৯২১ আমাকে সাইবার ক্রাইমে হেল্প করেছে। আমি আস্থা রাখি তাদের কাজের উপর। দেখাই যাক ।

    1. আপনার আস্থা আছে জেনে ভাল
      আপনার আস্থা আছে জেনে ভাল লাগল। যদিও আমার কাছে এদের কথাবার্তা খুব একটা ভালো ঠেকেনি। তবে রাষ্ট্র যেখানে পুলিশ দ্বারা চালিত হয়, সেখানে এমন হেল্পলাইন আর কিইবা করতে পারে। রাষ্ট্রের কাছে তো পুলিশ গুরুত্বপুর্ণ। এমনকি আদালত না হলেও তার চলে, তবে পুলিশ না হলে চলেই না!

      আর হ্যাঁ, ঠাকুরগাঁওয়ের লোকেরা এগিয়ে এসেছে বলেই তো আমরা এতকিছু জানলাম। নইলে হয়তো শেখ হাসিনার ফালুসিঙ্গারা নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম।

  5. আওয়ামীলীগের রাজনীতি করলে
    আওয়ামীলীগের রাজনীতি করলে এদেশে ধর্ষন ফ্রি এরকম কোনো নীতি কি সংবিধানে সংযুক্ত হয়েছে?
    ঘটনার পর পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। ধর্ষনের আলামত এমনিতেই ২৪ ঘন্টার ভেতর নষ্ট হয়ে যায়। মেয়েটির পরিবার এখন ভয়ে মুখ খুলতে চাচ্ছে না। কয়েকবার যোগাযোগ করার পরও প্রানের ভয়ে স্বীকারোক্তি দিতে চাচ্ছে। এটা কোন দেশ!
    ধর্ষক সুজনের এক চাচাও সপ্তাহ দুই আগে এইরকম ঘটনা ঘটিয়েছে। আইন রাষ্ট্র যেখানে ধর্ষককে প্রশ্রয় দেয় সেখানে সাধারন মানুষকেই নরপশুদের উচিত শিক্ষা দিতে এগিয়ে আসতে হবে

    1. এটা বাংলাদেশই, আর অবশ্যই এখন
      এটা বাংলাদেশই, আর অবশ্যই এখন এটা আওয়ামী লীগের। এভাবে বিভিন্ন আমলে এটা বিভিন্ন রাজপূত ও তাদের উজির নাজিরদেরই দেশ। দেশের আইনগুলোও এই রাজপূত ও উজির নাজিরদের সপক্ষে। এজন্যই তো হেল্পলাইনে ভরসা পেলুম না দিদি!

    1. আমি অবশ্য ভিক্টিম ফ্যামিলির
      আমি অবশ্য ভিক্টিম ফ্যামিলির ঠিকানা দিয়েছি হেল্পলাইনে। এবং তাদেরকেই যোগাযোগ করতে বলেছি ভিক্টিম ফ্যামিলির সঙ্গে!

  6. ধর্ষণ সিন্দাবাদের ভুতের মত
    ধর্ষণ সিন্দাবাদের ভুতের মত আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। উপযুক্ত শাস্তি ও দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা ছাড়া এটা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব না।।

  7. সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ সাড়া
    সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ সাড়া দেয়ার জন্য। জানতে পারলাম, অবশেষে গতকাল পুলিশ মামলা নিয়েছে। আমাদের এই সীমিত সংগ্রাম সফল হয়েছে। অবশ্য বিচার নিশ্চিত করার জন্য দরকার মাঠের রাজনীতিক, নারী অধিকার আন্দোলক ও অ্যাক্টিভিস্টদের চাপ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

47 + = 52