রুশ-মার্কিন দ্বৈরথ : কোন পথে পৃথিবী?

বছর না ঘুরতেই আবারও বিশ্বরাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে রুশ-মার্কিন দ্বৈরথ। শুধু ফ্রন্টের অবস্থান বদলেছে। বছরখানেক আগে রুশ-মার্কিন দ্বৈরথ প্রদর্শনের ফ্রন্ট এলাকা ছিল মধ্য এশিয়া তথা ইউক্রেন। আর সব দীর্ঘমেয়াদি, সুবিস্তৃত যুদ্ধের মতো এ দ্বৈরথেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফ্রন্ট সরছে। মধ্যপ্রাচ্য অর্থাৎ কৃষ্ণসাগর পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরই এখনকার মূল ফ্রন্ট।

তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে গেলে একইসঙ্গে রুশ-মার্কিনের বাইরে থাকা অপরাপর বিশ্ব মোড়ল তথা সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর তৎপরতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, জাপানসহ অপরাপর শক্তিগুলোকে আপাতত এই ফ্রন্টে দেখা না গেলেও তারা অন্য ফ্রন্টগুলোতে ঠিকই নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুচ্ছে। তবে কিছুদিন পরপরই দুই নেতৃত্বকারী পরাশক্তি একটি আরেকটির মুখোমুখি হয়ে পড়ছে, যা নির্দেশ করে যে, আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব এখন চরমে!

এই দ্বন্দ্বের কার্যকর তিনটি ফ্রন্ট রয়েছে। এর যে কোনোটি থেকেই বিশ্ব ব্যবস্থার বর্তমান ভারসাম্য ভেঙে পড়তে পারে। গড়ে উঠতে পারে নয়া মেরুকরণ তথা নতুন এক বিশ্বব্যবস্থা। দুটি ফ্রন্টের কথা আগেই উল্লেখ করেছি। তৃতীয় ফ্রন্টটি হচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা দক্ষিণ চীন সাগর! তিন ফ্রন্ট মিলিয়ে একপাশে মার্কিন ও তার মিত্ররা, অন্যদিকে স্বতন্ত্রভাবে রাশিয়া ও চীন। যদিও রাশিয়াই এক্ষেত্রে এগিয়ে। তবে মার্কিন ও তার মিত্রদের মধ্যে যে ঐক্য নিবিড়, এমনটা বলা যায় না। তেমনি শক্তিধরের তালিকা থেকে ভারত, সৌদি, দুই কোরিয়া ও ইসরায়েলকেও বাদ রাখা যায় না। সব মিলিয়ে দুটো প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী অক্ষ বা এক্সিস গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া এখনও ততটা সবল নয়, যতটা হলে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে এবং যেকোনো একপক্ষকে বশ্যতা স্বীকার করতেই হয়। বরং এদের মধ্যে একের সঙ্গে অপরের নানামুখী স্বার্থ ও বিরোধ বর্তমান। যা পরিস্থিতিকে কিছুটা ঘোলাটে করে রেখেছে।

তবে এর মধ্যেই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই নিবন্ধে সেই পরিবর্তন চিহ্নগুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছি। ফলে গতিপথ বিশ্লেষণ সাপেক্ষে আগামী বিশ্বের মেরুকরণ সম্পর্কিত ধারণাগুলোকে যাচাই করে নেয়া যাবে।

প্রথম ফ্রণ্টের হিসাব-নিকাশ
২০১০ সালে ইউক্রেনে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটে বিজয়ী হন ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ। রুশ মদদপুষ্ট প্রসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ ২০১৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উৎখাত হয়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান। ইউক্রেনের ক্ষমতায় বসে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রতিবেশী ইউক্রেনে মার্কিন মদদপুষ্ট নতুন এই সরকার রাশিয়ার শাসকশ্রেণির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাড়তে থাকে উত্তেজনা, সংঘটিত হয় এক ছায়াযুদ্ধ। রুশ-মার্কিন মদদে ইউক্রেনের শাসকশ্রেণি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক গ্রুপ দুই অক্ষে বিভক্ত হয়ে একে অপরকে বিনাশের জন্য লড়াই চালাতে থাকে। জাতিসংঘের হিসাবে ১২ আগস্ট, ২০১৪ পর্যন্ত এই যুদ্ধে কেবল পূর্ব ইউক্রেনেই নিহত হন ২০৮৬ জন, আহত হন আরও ৪৯৫৩ জন। যদিও প্রকৃত হতাহতের তালিকা আরও দীর্ঘ। এরই মধ্যে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয় রাশিয়া। পশ্চিমা ন্যাটো জোটের অব্যাহত হামলার হুমকি, ইউক্রেনে মার্কিনপন্থিদের ক্ষমতায়ন ও সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা দ্বারা চালিত হয়েই রাশিয়া এই যুদ্ধকে এগিয়ে নেয় এবং ক্রিমিয়া দখল করে।

মধ্য এশিয়ার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রুশ-মার্কিন দ্বন্দ্ব তখন চরমে পৌঁছায়। রাশিয়াকে একঘরে করে ফেলা বা ঘেরাও করে রাখা, তার সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকে দমিত রাখা, ইউরোপের বড় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কোনো ঐক্য না হতে দেয়া এবং সর্বোপরি মধ্য এশিয়ায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তেলসমৃদ্ধ কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান হয়ে আফগানিস্তান পর্যন্ত আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করাটাই ছিল মার্কিন পরিকল্পনা। যার মাধ্যমে এমনকি ইরানকেও ঘিরে ফেলা যায়। কৃষ্ণসাগরে অবস্থানরত রুশ নৌবহরকে হটিয়ে মার্কিন নৌবহর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এ যুদ্ধে মার্কিনের জয় নিশ্চিত হতে পারে। কিন্তু ঘটনাক্রমকে সেদিকে এগিয়ে যেতে দেননি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রিমিয়া দখল করে এবং ইউরোপের দিকে তাক করা পুরনো পারমাণবিক ও অন্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরিয়ে নতুন অস্ত্রশস্ত্র স্থাপনের মাধ্যমে রাশিয়া সামনে এগুনোর বার্তা দেয়। ইউক্রেন ইস্যুতেই রুশ-মার্কিন বিবাদ যুদ্ধে রূপ নিতে পারত। কিন্তু ইউরোপের বড় রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকায় সেই বিবাদ অমীমাংসিতই থেকে যায়।

নয়া ফ্রণ্ট সিরিয়া
অমীমাংসিত সেই দ্বন্দ্ব আবার ফিরে এসছে। তবে ফ্রন্ট সরে এসেছে সিরিয়ায়। রাশিয়ার সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রীয় ভিত্তি যে কৃষ্ণসাগর, তার অদূরেই সিরিয়ার অবস্থান ভূমধ্যসাগরের তীরে। আধিপত্যের সীমা বিস্তার করতে হলে রাশিয়াকে অবশ্যই ভূমধ্যসাগরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার শাসকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে রাশিয়া। সিরিয়ায় তাদের সেই দীর্ঘকালীন বিনিয়োগ বৃথা যায়নি। সিরিয়ার কল্যাণেই আজ রাশিয়া তার সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখতে পারছে। ইয়ানুকোভিচ পালিয়ে গেলেও বাশার আল আসাদ ঠিকই ডেকে পাঠিয়েছেন পুতিনকে। ফলত ভূমধ্যসাগরের একেবারে তীরে অবস্থিত সিরিয়ার লাতাকিয়া শহরে পুতিন এখন একটি সামরিক ঘাঁটির মালিক। চলমান সিরিয়া সংকট যেভাবেই সমাধান হোক, রাশিয়ার এ ঘাঁটিটি যে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

মার্কিনের উদ্বেগ বাড়াটাই স্বাভাবিক। ইউক্রেন ইস্যুতে যে রাশিয়াকে এতদিন চাপে রাখা গিয়েছিল, জঙ্গিগোষ্ঠী আইসিস ও বাশার আল আসাদের কল্যাণে সেই রাশিয়া এখন আবার তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনে ২০১৪ সালের ২২ জুলাই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মালয়েশিয়া বিমান বিধ্বস্ত হওয়া ও প্রায় ৩০০ যাত্রীর সকলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা প্রচারযন্ত্রগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডায় নামে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তখন রাশিয়াবিরোধী মনোভাবও চাঙা হয়। কিন্তু এবার রাশিয়া অভিযোগ করছে, মার্কিন আসলে আইসিসকে দমন করছে না, রাশিয়াই আইসিসকে দমন করবে। স্বল্প সময়ের নোটিশে তারা আইসিসের ওপর হামলাও শুরু করেছে। তাদের কমান্ড পোস্ট, অস্ত্র কারখানা ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে স্থাপনা ধ্বংস ও জঙ্গিদের হত্যার মাধ্যমে সাফল্যও পেয়েছে রাশিয়া। এর ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্বজুড়ে রাশিয়াবিরোধী মনোভাব চাপা পড়ে যাচ্ছে। এমনকি রাশিয়া আইসিসকে আঘাত করছে না বলে দেয়া বারাক ওবামার ভাষ্য ব্যাপক প্রচার হলেও হালে পানি পাচ্ছে না। এদিকে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করে চলেছেন পুতিন। সুতরাং রুশকে থামানোর কথা মার্কিনকে ভাবতেই হচ্ছে!

রাশিয়া কেন মধ্যপ্রাচ্যে
মধ্যপ্রাচ্য এখন কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশের উৎস। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের উত্থানের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জনগণের জীবনমান ও নিরাপত্তার ভয়াবহ অবনতি ঘটলেও বড় শক্তিধর তথা সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো এ থেকে লাভবানই হচ্ছে। ২০১৪ সালের শুরুতে যখন ইরাক-সিরিয়ায় আইসিসের উত্থান, ঠিক তখন থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে। মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত সংকটের কারণে সেখানকার রাষ্ট্রগুলোর আন্তঃবিপণন ও বাণিজ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে অধিকাংশ দেশই তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন পক্ষের অধিকৃত এলাকা থেকে নির্বিঘ্নে তেল পাচারের অভিযোগও আছে। এসবই তেলের দাম কমাতে ভূমিকা রেখেছে। এর দ্বারা রাশিয়া বাদে বাকি সব বৃহৎ শক্তিই লাভবান হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক অস্থিতিশীলতা বিশ্বের সব রাষ্ট্রেরই স্নায়ুচাপ বাড়িয়েছে। ফলে নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে অধিকাংশ রাষ্ট্রই। অস্ত্র বিক্রি করে এর মাধ্যমেও মুনাফা করছে বড় রাষ্ট্রগুলো। সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা বৃদ্ধি প্রযুক্তি ক্রয় ও গবেষণা খাতেও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। এখানেও লাভবান হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। মোটকথা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেখানকার লাখ লাখ মানুষকে উদ্বাস্তু করেছে। ২০১৪ থেকে এ পর্যন্ত সেখানে প্রায় দুই লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। আর ২০০৪ থেকে এ পর্যন্ত হিসাব করলে মৃতের সংখ্যা ১৩ লাখ ছাড়িয়ে যায় বলে তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। কিন্তু এর মধ্যেই সিরিয়া, ইরাক ও মিসরের অসংখ্য জাদুঘর লুটপাটের শিকার হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর পুনর্গঠন এবং উপরোল্লিখিত নানা তৎপরতার মাধ্যমে বড় সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো এ থেকে মুনাফা লুটেছে। যারা কিছুই পায়নি, তারাও পেয়েছে কম দামের তেল!

যেহেতু বৃহৎ শক্তিগুলোর স্বার্থ অভিন্ন নয়, তাই এহেন লুটপাটকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তার ওপরে একটি বৃহৎ শক্তি যখন তেলের দাম কমায় ক্ষতির শিকার, তখন পরিস্থিতি খারাপই হওয়ার কথা। রাশিয়া পৃথিবীর তৃতীয় প্রধান তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্র। তেলের অব্যাহত দরপতন তাদের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চাপ। মধ্যপ্রাচ্যে তার নিবিড় মিত্র ইরান কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। কার্যত সিরীয় রাষ্ট্র, সরকার ও সেনাবাহিনী, সবই বিপর্যস্ত। ফলে সবেধন নীলমণি আসাদও পতনের অপেক্ষায়। এ অবস্থায় কৃষ্ণসাগরের দখল টিকিয়ে রাখা, তা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে চাইলে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে রাশিয়ার হাত গুটিয়ে বসে থাকা চলে না।

এদিকে রাশিয়া এখন পৃথিবীর অষ্টম অর্থনীতি। পুতিনের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশটি একটু একটু করে নানা খাতে অগ্রসর হয়েছে। রাশিয়ার মতো বিরাট কাঠামোর একটা দেশ অর্থনীতিতে অগ্রসর হওয়ার ভিন্ন অর্থ আছে। এই অগ্রসরতার অর্থই হচ্ছে বিরাট উৎপাদন। যা বিক্রির জন্য অবশ্যই তাকে নতুন বাজার খুঁজতে হবে। অথচ এটা কার না জানা যে, মুক্তবাজারের নামে বর্তমান বিশ্ববাজার ব্যবস্থার প্রায় পুরোটাই মার্কিনের নেতৃত্বে বিলি-বণ্টিত। এরকম একটা পরিস্থিতিতে তেল থেকে আয় কমে যাওয়া যেমন রাশিয়ার কাম্য নয়, তেমনি পণ্য বিক্রির জন্যেও তাকে নতুন বাজার জয় করতে হবে! সুতরাং পরিস্থিতি নিজের পক্ষে আনতে গেলে পুতিনকে রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞে নামতেই হতো!

এক পা এগিয়ে রাশিয়া
ইউক্রেন ইস্যুতে পিছিয়ে পড়লেও সিরিয়া ইস্যুতে রাশিয়া দৃশ্যতই মার্কিনের চেয়ে এক পা এগিয়ে রয়েছে। ইরান, ইরাক, ব্রিটিশ, জার্মান, ফরাসি, ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে আইএসের বিরুদ্ধে হামলা বিষয়ে পরামর্শ করেছে রাশিয়া। কিছু কিছু বৈঠকে অংশ নিয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট পুতিন। এরই মধ্যে ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে নিজ পক্ষে টেনে নিয়েছে তারা। ইরান ইতোমধ্যে সিরিয়ায় রুশ বাহিনীর অনুকূলে যুদ্ধে অংশ নিতে হাজারখানেক সেনা সদস্য পাঠিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ‘আইএস জঙ্গিদের পরাজিত করতে হলে দামেস্কের (আসাদ) সরকারকে দুর্বল করা যাবে না।’ আবার রাশিয়া যখন লাতাকিয়ায় ঘাঁটি স্থাপন করছে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম জাফারি তখন অভিযোগ করেছেন, ‘আমেরিকা ও তার মিত্ররা আইসিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোটেও আন্তরিক নয়। পাশাপাশি রাশিয়া আইসিসবিরোধী অভিযান চালালে তাকে স্বাগত জানানোর ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।’

এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে বিলীন হতে বসা রেসিসট্যান্স এক্সিস বা প্রতিরোধ অক্ষ আবার সচল হতে চলেছে। আগে এর সদস্য ছিল ইরান, সিরিয়া, হিজবুল্লাহ ও হামাস। কিন্তু হামাস বাদ পড়লেও এখন রাশিয়ার নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের রেসিসট্যান্স এক্সিস নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে মার্কিনের বিরুদ্ধে চুক্তি নিয়ে দ্বিমুখিতা প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারজিয়াহ আফখাম বলেছেন, ‘ওবামা প্রশাসন এই চুক্তির প্রতি নিজ দেশের নেতাদের সমর্থন আদায় করতে অসমর্থ হলে তার প্রভাব চুক্তি বাস্তবায়নকে দীর্ঘায়িত করবে। মার্কিন নেতাদের পরস্পরবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাশুল আমরা দেবো না। এর দায় তাদেরই নিতে হবে।’

কেবল বহির্বিশ্বেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রেও পুতিন এগিয়ে আছেন। মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির জন্য দায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওবামা প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীন পররাষ্ট্রনীতির কারণে আমেরিকার শত্রুরা শক্তিশালী হয়েছে এবং বিশ্বে আমেরিকার ভূমিকা হ্রাস পেয়েছে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো সিরিয়ার সরকারের প্রতি রাশিয়ার সহযোগিতা।’

?oh=75063567157cca400d3295afa763d56f&oe=569538A7″ width=”500″ />

তবে রাশিয়া মূলত এগিয়ে গেছে লাতাকিয়ার ঘাঁটির মাধ্যমে। কাস্পিয়ান সাগর ও কৃষ্ণ সাগরে তার সামরিক ঘাঁটি আগে থেকেই ছিল। এখন সে নয়া ঘাঁটির মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে কর্তৃত্বের সুযোগ তৈরী করেছে। মোটকথা মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় অর্ধেকটাই এখন রাশিয়া ঘেরাও করে ফেলেছে।

ফুঁসছে মার্কিন
রাশিয়ার এহেন অগ্রগতির কালে যুক্তরাষ্ট্রও বসে নেই। মধ্যপ্রাচ্যে সে তার মিত্রদের একজোট করছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে হুঙ্কার ছেড়েছে সৌদি সরকার। আসাদবিরোধী পক্ষগুলোকে দীর্ঘদিন ধরেই অর্থ ও অস্ত্র সহযোগিতা দিচ্ছে তারা। রাশিয়ার লক্ষ্যে আইসিস ও আসাদবিরোধীরা থাকায় তারা ক্ষিপ্ত। ইতোমধ্যে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে ‘ভয়ঙ্কর উস্কানি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের। তিনি বলেছেন, ‘আসাদকে উৎখাতে প্রয়োজনে সামরিক পন্থা অবলম্বনে বাধ্য হবে তার দেশ।’ গত সপ্তাহে জাতিসংঘে ওবামার সঙ্গে বৈঠকের পর পুতিন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘রাশিয়া আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কুর্দি বাহিনী এবং সিরিয়া সরকারকে যত বেশি সমর্থন দেয়া সম্ভব ততটাই দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে।’ এদিকে কুর্দিদের বিরুদ্ধে টানা অভিযান চালাচ্ছে তুরস্ক ও সৌদি আরব। রাশিয়া যদি কুর্দিদের পক্ষে দাঁড়ায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের পশ্চিমাপন্থি দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কও সহযোগিতা বাড়াবে রাশিয়াকে কাবু করার জন্য। তৎপরতা দেখে বোঝা যাচ্ছে, সৌদি, ইয়েমেন, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও তুরস্কের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আপাতত পরিস্থিতি সামলানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে রাশিয়ার জোটে সব শিয়াপন্থিরা থাকায় এবং বিপরীতে একদিকে আইসিস ও অন্যদিকে সৌদি আরব থাকায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতার ভিত্তিতে সুন্নিপন্থি মুসলিমদের রুশবিরোধী জোট গড়ে উঠতে পারে। প্রকাশ্যে সৌদির নেতৃত্বে আরবজোট, গোপনে আইসিসের নেতৃত্বে জঙ্গিজোট, রুশবিরোধী এই সমীকরণ গড়ে উঠলে মার্কিনের মুখে হাসি ফুটবে। ইতোমধ্যে ওবামা সেই ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘রাশিয়াকে সিরিয়ায় আফগানিস্তানের পরিণতি বরণ করতে হবে।’ প্রায় এক যুগেরও বেশি আগে, আফগানিস্তানে মার্কিনের মদদে সংগঠিত তালিবানদের কাছে পরাস্ত হয় রাশিয়া। জঙ্গি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে শত্রুর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রসিদ্ধ সামরিক কৌশল।

শুধু জঙ্গি কৌশল নিয়েই বসে নেই সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রটি। ইতোমধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিকল্পনা হালনাগাদ করতে বসে গেছে দেশটির সেনাদপ্তর। নব্বইয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া নিজ দেশের সীমা ছেড়ে আর কোথাও সামরিক হস্তক্ষেপ করেনি। রুশ-মার্কিন দ্বৈরথও এর আগে এ পর্যায়ে পৌঁছেনি। ক্রিমিয়া দখলের পর থেকেই রুশবিরোধী যুদ্ধ পরিকল্পনাকে হিসাবে রাখে পেন্টাগন। এবার তো সিরিয়ায় ঘাঁটি স্থাপনের প্রতিক্রিয়ায় ঘোষণা দিয়েই তারা পরিকল্পনা হালনাগাদ করতে বসেছে।

হোয়াইট হাউসে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ‘রাশিয়ার সবাই সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সেই সঙ্গে সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মিত্র বলে পরিচিত রাশিয়া ও ইরানের জন্য বিপদ অপেক্ষা করছে বলেও হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও বলেছেন, সিরিয়ায় রুশ হস্তক্ষেপ আসলে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদবিরোধী মধ্যপন্থি পক্ষকে আত্মগোপনে পাঠানোর একটা প্রক্রিয়া। এতে আইসিস আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

মিত্রদের মাধ্যমে রাশিয়াকে চাপ দেয়াও অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ মাসেই যেকোনো রুশ বিমান সংস্থার বিমান দেশে ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল ইউক্রেন সরকার। এ মাসের ২৫ তারিখ থেকে ইউক্রেনে রুশ বিমান ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে রুশবিরোধী সম্ভাব্য যুদ্ধকে আমলে নিতে বলেছেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীসহ ইউরোপীয় নেতারা আইসিস বাদে অন্য কারো ওপর হামলা না চালাতে রাশিয়াকে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে। তবে মার্কিন ও তার মিত্রদের সুরের মধ্যে পার্থক্য আছে। মার্কিন আইসিসের ওপর হামলার বিরোধিতা করলেও তার মিত্ররা এইটুকুকে সমর্থন করছে। ফরাসী প্রেসিডেন্ট ওলাদ তো বলেই দিয়েছেন, মার্কিনঘোষিত মধ্যপন্থী আল নুসরাহ (আল কায়েদার অংশ) সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তাদের ওপর হামলা হলে তার দেশের আপত্তি নেই।

দ্বন্দ্ব কতটা ঘনীভূত
মার্কিন হুমকি ধামকির জবাবে রাশিয়া বরাবরই কড়া বক্তব্য দিচ্ছে। দ্বন্দ্ব পরিস্থিতি কতদূর এগিয়েছে তার প্রমাণ পুতিনের একটি মন্তব্য। রুশ প্রেসিডেন্ট এক সংবাদ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ক্রিমিয়া দখলের সময়েই পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল তার সরকার। শুধু তাই নয়, জঙ্গি কৌশল প্রয়োগে রাশিয়াও এগিয়ে আসতে পারে। আফগানিস্তানে গত সপ্তাহে বিলুপ্তপ্রায় তালিবানরা যেভাবে মার্কিন মডেলে গড়া আফগান বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে কুন্দুজ দখল করেছে, তাতে তালিবানদের বড় কোনো পক্ষ অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করার আশঙ্কা নাকচ করে দেয়া যায় না। রাশিয়ার দিকে অভিযোগের আঙুল থাকলেও এখনও কেউ এ বিষয়ে কিছু দাবি করেনি।

একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার যুদ্ধও চালাচ্ছে। মার্কিন বলছে রাশিয়ার হামলা আইসিসকে শক্তিশালী করবে। রাশিয়া বলছে, পশ্চিমাদের হঠকারী নীতির ফলেই আইসিসের জন্ম ও মধ্যপ্রাচ্যের এ অবস্থা। সিরিয়ায় রুশ বিমান হামলার বিষয়ে পেন্টাগনের বক্তব্য না নিতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। রুশ হামলার ভিডিওসহ নানা তথ্য প্রকাশ্যে ছাড়া হচ্ছে, বাদবাকি দুনিয়াকে রুশ সামর্থ্য দেখানোর জন্য।

এভাবেই ক্রমশ রুশ-মার্কিন দ্বৈরথ আরও চাঙা হচ্ছে। অবশ্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থা হচ্ছে, রুশ ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এখন মুখোমুখি। রুশ যুদ্ধবিমানগুলো যেসব এলাকা দিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো মার্কিন ঘাঁটির ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায়। একইভাবে রুশ যুদ্ধবিমানের নাগালের মধ্যে মার্কিন ও তার মিত্ররা। মার্কিন উপকূলে রাশিয়ান জাহাজ দেখা গেছে। সঙ্গে এও জানা গেছে যে, রাশিয়ান জলসীমাতেও মার্কিন গোয়েন্দা রণতরী বহাল রয়েছে। রাশিয়ার উপকূলের কাছে সামুদ্রিক গবেষণায় নিয়োজিত মার্কিন জাহাজগুলো প্রকৃতপক্ষে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন অঞ্চলে তার কৌশলগত মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ভারতীয় জলসীমায় এ মাসের ১৪ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ত্রিপাক্ষিক সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এতে মার্কিনের সঙ্গে থাকবে ভারত ও জাপান। এদিকে গেল সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগ থেকে রাশিয়া চলতি বছরের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া শুরু করেছে। সেন্টার-২০১৫ নামের এ মহড়ায় রুশ পদাতিক, নৌ, বিমানবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার ৯৫ হাজার সেনা অংশগ্রহণ করছে। রাশিয়ার আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোও এ মহড়ায় যোগ দিয়েছে। মহড়ায় কাজাখস্তান, বেলারুশ, আর্মেনিয়া, তাজিকিস্তান এবং কিরগিজস্তান অংশ নিয়েছে। এদিকে জাতিসংঘও জরুরী যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলার বিশাল সেনা মহড়া শুরু করেছে। গত ১৩ বছরের মধ্যে এতবড় মহড়ায় অংশ নিতে দেখা যায়নি জাতিসংঘকে। ‘ট্রাইডেন্ট জাংচার ২০১৫’ নামের এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে জাতিসংঘের মোট ৩০টি সদস্য দেশের সেনা। মার্কিনপন্থী দেশগুলোর সমন্বয়েই এই মহড়া হয়েছে।

দুই পক্ষের এতসব তৎপরতার ফলে যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। দ্বন্দ্ব যেভাবে ঘনীভূত হচ্ছে, তাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনই বিরাজ করছে। অবশ্য যুদ্ধ আদৌ হবে কিনা, হলেও কীভাবে বা কতটা হবে, তার অনেক কিছুই নির্ভর করছে বিশ্ব ক্ষমতার অন্য কেন্দ্রগুলোর ওপর।

নীরব নয় তৃতীয় ফ্রণ্টও
সিরীয় প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট রুশ-মার্কিন দ্বৈরথের ফলে কিছুটা আড়ালে পড়ে গেছে চীন-মার্কিন দ্বন্দ্ব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অন্যতম প্রধান রুট দক্ষিণ চীন সাগর। এর ওপর আধিপত্য নিয়ে মাস চারেক আগে জমাট বাঁধা সে দ্বন্দ্ব এখনও উবে যায়নি। দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ ও বিদ্যমান দ্বীপপুঞ্জে সামরিক বেসামরিক অবকাঠামো তৈরির চীনা উদ্যোগের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রবল বাধা আরোপ করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই ওই এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনী মহড়া দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এটা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ। অন্যদিকে চীনের দাবি, এটা তাদের নিজস্ব সমুদ্র উপকূল। তা সত্ত্বেও বেইজিংয়ের সমুদ্রসীমা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল দূরেই নৌবহর মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। তবে চীনও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বশক্তি নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।

তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বসে নেই। চীনকে সামলাতে জাপানের ইউকোসুকার কাছে মার্কিন ঘাঁটিতে ১ অক্টোবর নোঙ্গর করেছে ইউএসএস রোনাল্ড রিগ্যান। এ বিমানবাহী রণতরীতে পাঁচ হাজার সেনা এবং প্রায় ৮০টি বিমান রয়েছে। এছাড়া, রয়েছে আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা কাজে ব্যবহারযোগ্য অত্যাধুনিক রাডার। এতে মার্কিন সপ্তম নৌবহরের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। তবে চীনা কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিকল্পনা আঁটছে। যা কিনা রাশিয়ারও অভিযোগ।

?oh=475eeccddfa96b9999b28d6f0481eb8f&oe=56950949″ width=”400″ />
সব দিকে পিছিয়ে থাকা পুতিন এখন বেশ খানিকটা এগিয়ে!

যুদ্ধের অনেক বাধা
অবস্থাদৃষ্টে দেখা যাচ্ছে, মার্কিনের পক্ষে এখন চীন ও রাশিয়ার মতো দুটি শক্তিশালী পক্ষের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানো কঠিন। কারণ যুদ্ধ কোনো একটি ক্ষেত্রে সরাসরি লেগে গেলে রুশ-চীন ঐক্য হতে পারে। যদিও চীনে পশ্চিমা পুঁজির আধিপত্যের ফলে তাদের জন্য যুদ্ধে জড়ানোর অনেক বাধা রয়েছে। তবে ইউরোপ থেকে কোনো বড় মিত্র পেলে, আর সেটা জার্মানি হতে পারে, তাহলে চীনের পক্ষে এগিয়ে আসাটা অসম্ভব নয়। মোটকথা মার্কিনকে বধের নিশ্চয়তা না মেলা পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবে। এই অক্ষে উত্তর কোরিয়া আছে তাদের মজুদ বন্ধু। আর এদের ঐক্য হয়ে গেলে তা মোকাবিলা করাটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হবে। কারণ কয়েকটা যুদ্ধ ও মন্দা সামলে দীর্ঘ যুদ্ধ এগিয়ে নেয়ার সামর্থ্য ততটা অবশিষ্ট নেই।

আবার পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কাও রয়ে গেছে। ইউক্রেন ইস্যুতে রুশ-মার্কিন দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় নেতারাই ভূমিকা রেখেছিল। বাহ্যিকভাবে ন্যাটো সূত্রে যাদের মার্কিন জোটভুক্তই বলা হয়। কিন্তু ন্যাটোর মধ্যকার ঐক্য নিয়েও প্রশ্ন আছে। উইকিলিকস কাণ্ডে প্রকাশ পাওয়া দলিলাদি পশ্চিমা শাসকদের মধ্যে অনাস্থা-অবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে। আবার রাশিয়া এখন ইউরোপের মূল অর্থনৈতিক শক্তি জার্মানির প্রধান বিনিয়োগ ক্ষেত্র। ইউক্রেন ইস্যুতে তারাই মার্কিনের গতিরোধ করেছে। পুরো ইউরোপই ভূমিকা রেখেছে। কারণ রাশিয়া হচ্ছে ইউরোপের গ্যাস সরবরাহের উৎস। তাছাড়া আরও একটা পর্যালোচনাও যোগ হচ্ছে এতে। জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, ইটালি, হল্যান্ডের মতো বড় ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো কেউই চায় না যে, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো তৃতীয় কোনো বিশ্বযুদ্ধ আবারও ইউরোপের ভূখণ্ডেই সংঘটিত হোক। যুদ্ধের ফ্রন্ট ইউরোপ থেকে দূরে রাখতে তারা সচেষ্ট।

এ অবস্থার মধ্যেই মার্কিন তার জোট সম্প্রসারণ করছে। পুরনো মিত্র ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইসরায়েল, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ভারত ও জাপানকে যোগ করেছে তারা। চীনকে বিরোধিতার ভিত্তিতে জাপান ও ভারত মার্কিন অক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। অপরদিকে রাশিয়া চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে একটা পার্থক্য গড়ে দিতে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারলেই ক্রমশ যুক্তরাষ্ট্র তলিয়ে যেতে থাকবে বলে মনে করে তারা। এক্ষেত্রে তাদের প্রধান লক্ষ্য মার্কিনের পুরনো শত্রু জার্মানি। কিন্তু ন্যাটো সূত্রে জার্মানি এখনও মার্কিন বলয়েই আছে। যদিও ক্রমবর্ধমান জার্মান অর্থনীতি কতদিন তার অধীন থাকতে চাইবে, সেটা বিরাট প্রশ্ন। এর আগে দুটো বিশ্বযুদ্ধ তারা একই অর্থনৈতিক কারণেই করেছিল। উৎপাদিত পণ্যের জন্য বাজার খুঁজে না পেয়ে রাশিয়া এখন যেমন ছুটছে, একদা জার্মানি সে কারণেই বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল। সেই দিন থেকে জার্মানি আজ খুব বেশি দূরে নেই।

জার্মানি সম্প্রতি সিরীয় শরণার্থীদের দিকে যেভাবে হাত বাড়িয়েছে এটাও বিবেচনাযোগ্য। অনেকে ধারণা করেছেন, সাম্প্রতিক শিল্প বিকাশের নিমিত্তে এমনিতেই জার্মানির শ্রমিক দরকার হচ্ছিল। নানা কায়দায় তারা বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ লোকবলও নিচ্ছিল। এ দফায় একেবারে সস্তা শ্রমের জন্য তারা প্রায় লাখখানেক লোক নিয়ে নিল। তবে এর সঙ্গে আরও যুক্ত আছে তার সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের সূত্রে মার্কিন ও ইউরোপের অন্য শক্তিগুলোর সঙ্গে জার্মানি এখনও নানা চুক্তি ও সমঝোতায় আবদ্ধ। যেসবের ফলে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে তার কিছু সমস্যা হয়। কিন্তু সিরীয় শরণার্থীদের জায়গা দেয়ার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতা বণ্টন প্রক্রিয়ায় তার অংশীদারিত্ব তৈরি হলো। এদের জায়গা দেয়ার সুবাদে এখন তারা চড়া গলায় বলতে পারবে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে কথা বলা বা পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার কারও চেয়ে জার্মানির কম নয়। জার্মানির এই অগ্রগতি নয়া পরিস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে।

এসব প্রবণতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ইউরোপীয় শক্তিগুলোর ওপরই প্রধানত যুদ্ধের সম্ভাবনা নির্ভর করছে। তবে কোনো কোনো পক্ষ এমন অভিযোগও তুলছে যে, রুশ-মার্কিন দ্বন্দ্ব বা মার্কিন-চীন দ্বন্দ্ব যতটা না পরিস্থিতি, তার চেয়ে বেশি আরোপিত। এই পরিস্থিতিটা তারা তৈরি করছে হাতে ধরে। এই ধারার বিশ্লেষকরা বর্তমান পরিস্থিতির নাম দিয়েছেন কনফ্লিক্ট বিজনেস বা বিরোধ বাণিজ্য। এরকম বিরোধ বিরোধ রব তুলে চীন, মার্কিন ও রাশিয়া, নিজেদের অর্থনীতি গুছিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি অস্ত্র বিক্রি ও বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের অস্ত্রের বিজ্ঞাপনও করিয়ে নিচ্ছে তারা।

তবে ঘটনা যাই হোক, ইতোমধ্যে নয়া মেরুকরণের আভাস দেখা যাচ্ছে। একটা যুদ্ধ না হওয়া অবধি রাশিয়া নিজেকে নয়ামেরু হিসেবে দাবি করতেই পারে। দেড় হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ক্রুজ হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটির মাধ্যমে ততখানি অগ্রসরতা তারা দেখিয়ে ফেলেছে। একমেরু প্রতিষ্ঠা করতে হলে মার্কিন ও রুশ উভয়ের মধ্যে কাউকে না কাউকে হার মানতে হবে।

?oh=f87678351f2ab73cb5c968bd462a4bea&oe=5696941C” width=”400″ />
ইউক্রেনে একটি নয়া প্রযুক্তির রুশ ট্যাঙ্ক : দ্বন্দ্ব কি কেবলই অস্ত্রের বিজ্ঞাপন নাকি যুদ্ধের আগমনী!

আমরা কোথায়
পরিস্থিতির দ্রুত বিকাশ সব দেশের মানুষেরই মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এক বছরের মাথায় দুই-তিনবার বিশ্ব পরাশক্তিগুলো একে অপরের মুখোমুখি হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক নয়। এছাড়া তাদের তৎপরতার ফলে যেভাবে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, অস্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহার, বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটছে, তাতে কোনো দেশই এ অবস্থায় চুপচাপ বসে থাকতে পারে না, সক্ষম নয়। কারণ পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোও নড়াচড়া করছে। পরাশক্তির অস্থিরতা তার আঞ্চলিক মিত্রদেরও প্রভাবিত করছে।

বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার গত কয়েক বছর ধরে জঙ্গি সমস্যার মধ্যে আছে। এসব দেশে মার্কিন, রুশ ও চীনের বহুমুখী কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ আছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে দুজন বিদেশি নাগরিক খুন হয়েছেন, যারা মার্কিনের মিত্রদেশের নাগরিক। দেশের আলোচিত একটি দৈনিক এ নিয়ে মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখেছে, সরকারের পূর্বমুখী কূটনীতির বিপরীতে এই তৎপরতার মাধ্যমে কোনো পক্ষ অশুভ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, সরকারের রুশ মৈত্রী নিয়ে তার ভেতরকার কোনো কোনো মহল অসন্তুষ্ট।

রুশ-মার্কিন দ্বন্দ্ব আরও বাড়লে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও ঘোলা হবে। মার্কিন বর্তমানে ভারতের মিত্র হলেও রুশ-ভারত মৈত্রীও অনেক দিনের। পাশাপাশি মিয়ানমার হচ্ছে চীনের মিত্র। এদিকে জাপান মার্কিনের মিত্র। এ অঞ্চলে সামরিক-রাজনৈতিক দিক বিবেচনা করলে বাংলাদেশের অবস্থান খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ এখানে ব্যবস্থাগতভাবে মার্কিনের নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও বর্তমান সরকারের আমলে মার্কিনের সঙ্গে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে রুশ ও চীনের সঙ্গে মৈত্রীটা অতটা শক্তিশালী নয়। সাম্রাজ্যাবাদী শিবিরে দ্বন্দ্ব আরও চরমে উঠলে আমাদের মতো দেশগুলোতে ক্ষমতা পরিবর্তনের হিড়িক লাগবে। বিশ্ব মঞ্চে যাদের কর্তৃত্ব তৈরি হবে তারা একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্ত করতে চাইবে। সেক্ষেত্রে আমাদের মতো দেশগুলোতে পছন্দের সরকার স্থাপনে সরাসরি না হলেও আঞ্চলিক হস্তক্ষেপ হবে। অবশ্য তার আগেই যদি বাংলাদেশ কোনো পক্ষে ভিড়ে যায়, তাহলে ভাগ্যটাও তার সঙ্গেই নির্ধারিত হয়ে যাবে।

শেষ কথা
রুশ-মার্কিন দ্বৈরথ আদতে চরমে ওঠা আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ। শক্তিধর দেশগুলো নিজেদের ক্ষমতা, আধিপত্য ও মুনাফার জন্য এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। তবে এখানে সারাবিশ্বের খেটে খাওয়া ও মধ্যবিত্তসহ এমন সমস্ত মানুষেরই স্বার্থ রয়েছে, যারা বড় বহুজাতিকগুলোর সঙ্গে কোনো সূত্রে যুক্ত নন। ১৯৯০ সালের পর থেকে মার্কিনের নেতৃত্বাধীন একমেরুর বিশ্বে যেসব অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, অবিচার ও অবৈধ নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন জাতির জনগোষ্ঠীকে মেনে নিতে হয়েছে, তারা যেকোনো মূল্যে এই একমেরু ব্যবস্থা তথা মার্কিন কর্তৃত্বের অবসান চান। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই রাশিয়া ও চীনের প্রতি সমর্থন তৈরি হচ্ছে। যদিও নয়া ক্ষমতা হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর চীন-রাশিয়া মার্কিন ক্ষমতাচর্চার বাইরে যাবে এমন কোনো ইঙ্গিত এখনও দেখা যায়নি। বরং শিবির আলাদা হলেও লুটপাটের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের একই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে আজ এই বাস্তবতা আমলে নিতে হবে। সত্য সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে উঠলে কার্যকর ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টি করাটা যে মোটেই মুশকিল নয়, ইতিহাসে তার প্রমাণ রয়েছে।

তথ্যসূত্র : তালিকা দিয়ে লেখাটা আরও দীর্ঘ করলাম না। তবে সব তথ্যেরই সূত্র সংরক্ষিত আছে। চাইলেই পাবেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৮ thoughts on “রুশ-মার্কিন দ্বৈরথ : কোন পথে পৃথিবী?

  1. প্রথম প্যারায় লিখেছেন “মধ্য
    প্রথম প্যারায় লিখেছেন “মধ্য এশিয়া তথা ইউক্রেন”।
    ইউক্রেন মধ্য এশিয়ায়? ঝানতাম না, ভাই! ভূগোলে নতুন জ্ঞান লাভ হল।

    বিরাট এই লেখায় আরো কত নতুন জ্ঞান আছে, সেই ভয়ে পড়ার সাহস হল না।

    1. central asia বা মধ্য এশিয়া
      central asia বা মধ্য এশিয়া বলতে কাস্পিয়ান থেকে ক্রিমিয়া- রুশকে ঘিরে থাকা এই অঞ্চলটাকে বোঝানো হয়। কৃষ্ণসাগর থেকে শুরু করে কাস্পিয়ানের তীর পর্যন্ত অঞ্চল ঘিরেই দ্বন্দ্ব। যার ফ্রন্টটা ইউক্রেনে। মধ্য এশিয়া দখলের দ্বন্দ্বটা রণে গড়িয়েছে ইউক্রেন সীমানায়! তিনটা সাগর খেয়াল করুন। ভয় পেতেই পারেন, তা নিয়ে সমস্যা নাই।

      1. central asia map লিখে সার্চ
        central asia map লিখে সার্চ দিয়ে যতোগুলো ম্যাপ পেলাম, তার সবগুলোতেই সেন্ট্রাল এশিয়া থেকে ইউক্রেন অনেক দূরে।

        সার্চ করে পাওয়া প্রথম কয়েকটা রেজাল্ট এরকম:

        https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/6/68/Map_of_Central_Asia.png

        http://www.orexca.com/img/map_central_asia.jpg

        http://www.lib.utexas.edu/maps/commonwealth/central_asian_common_2002.jpg

        https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/7/73/Caucasus_central_asia_political_map_2000.jpg

        উইকিতে সেন্ট্রাল এশিয়ার বর্ণনাতেও কোথাও ভৌগলিকভাবে ইউক্রেনের নামগন্ধও পাওয়া গেল না।

        1. আমার মতে, দৃষ্টিভঙ্গীটাই
          আমার মতে, দৃষ্টিভঙ্গীটাই এখানে গুরুত্ব বেশি ধরেছে। আপনার কাছে আর কি কি ভুল ধরা পড়েছে, পুরো লেখাটা পড়ে জানান। তাহলে আমরা এবং লেখক, সকলেই উপকৃত হই।

          1. মধ্য এশয়িা না হলে পূর্ব এশিয়া
            মধ্য এশয়িা না হলে পূর্ব এশিয়া হবে আর কি। বক্তব্য ঠিক থাকলেই হল। এখানে বক্তব্যকে মুল আলোচ্য বিষয় হিসাবে ধরা উচিত। মূল বক্তব্যের সাথে দ্বি-মত থাকলে আলোচনা করা যেতে পারে।

        2. খুবই ভালো লেগেছে লেখাটি।
          খুবই ভালো লেগেছে লেখাটি। আলাপটা সামগ্রিক হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, অনেক খাটতে হয়েছে। ধন্যবাদ লেখাটার জন্য।

        3. আমার মনে হয় কাস্পিয়ান এবং
          আমার মনে হয় কাস্পিয়ান এবং কৃষ্ন সাগরের মাঝের অংশটাকে ককেশাস বা পশ্চিম এশিয়া বল্লেই সঠিক হবে।

  2. প্রাসঙ্গিক হওয়াতে রয়টার্স এর
    প্রাসঙ্গিক হওয়াতে রয়টার্স এর একটি রিপোর্ট নীচে কোড করলাম। যেটি আপনার এই লেখা থেকে বাদ পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। রিপোর্টটি হচ্ছে-
    …….

    গত জুলাইয়ে মস্কোয় ইরানের এক শীর্ষ জেনারেলের সফরই ছিল সিরিয়ায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করার প্রথম পদক্ষেপ।সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে নতুন করে সমর্থন করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি রাজনৈতিক চুক্তির মধ্য দিয়ে ইরান-রাশিয়ার নতুন জোটটাও হয় তখনই।

    ইরানের ওই জেনারেলের নাম কাসেম সোলেইমানি। ইরানের রেভল্যুশনারী গার্ড এর বিশেষ শাখা কুদস ফোর্সের কমান্ডার তিনি।এ বাহিনীরনিয়ন্ত্রণ সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হাতে।

    রাশিয়া সিরিয়ায় হামলা করলে কিভাবে গৃহযুদ্ধে নাজুক অবস্থায় থাকা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ জয়লাভ করবেন এবং মধ্যপ্রাচ্য রাশিয়ার নাগালেরমধ্যে থাকবে সে পরিকল্পনাটি দেন সোলেইমানি।

    যদিও রাশিয়া দাবি করে আসছে, আসাদের অনুরোধেই তারা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে জড়িয়েছে।

    সোলেইমানি রাশিয়াকে বুঝিয়েছিলেন, আসাদ কয়েকটি অঞ্চলে যুদ্ধে হারলেও, তাকে এ যুদ্ধে জেতানো সম্ভব, যদি মস্কো হামলায় অংশ নেয়। তার এযুক্তি অবশেষে মেনে নেয় রাশিয়া।

    কয়েকমাসের পরিকল্পনার পর চরমপন্থিদের দমনের নামে শুরু হয় আসাদ বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা। গত সপ্তাহ থেকে রাশিয়া সিরিয়ায় বিমানহামলা শুরু করেছে।

    বিদ্রোহীদের ওপর এ বিমান হামলা চলার পাশাপাশি সেখানে স্থল অভিযানের জন্য ইরানের বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের প্রবেশ থেকেই এটি ষ্পষ্ট যে, কয়েকমাস ধরেই এ পরিকল্পনা চলেছে।

    ঊর্ধ্বতন এক আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সোলাইমানি এরই মধ্যে সিরিয়ায় স্থল অভিযানের দেখভাল শুরু করেছেন। রাশিয়া ও ইরানের যৌথসামরিক অভিযানও তদারকি করছেন তিনি।

    ওই সূত্র আরো জানান, ইরানের হয়ে অভিযান পরিচালনার জন্য খামেনিই সোলেইমানিকে নিয়োগ করেন। এরপর সোলেইমানি মস্কো যান এবং বিষয়টিনিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মস্কোর বৈঠকের পর তিনি বেশ কয়েকবার সিরিয়াও গেছেন।

    যুদ্ধক্ষেত্রের কমান্ডার হিসেবে নিজের ভূমিকা বাড়াতে সোলেইমানি বরাবরই আগ্রহী। ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেওইরানি সেনাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

    মস্কো বৈঠকের সময় সোলেইমানি সিরিয়ার মানচিত্র নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দেখান, আসাদ বিরোধিরা সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসরহচ্ছে। ওই এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসাদকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে তারা। ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার একমাত্র নৌ-ঘাঁটিটি সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দরনগরী তারতাউসে অবস্থিত।

    সোলেইমানি এভাবে সিরিয়ার যুদ্ধাবস্থার চিত্র তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের পতনের বিষয়টি বুঝতে পেরে সতর্ক হয়ে যায় রাশিয়া। তারা বুঝতে পারেসিরিয়ার শাসন ব্যবস্থা সত্যিই হুমকির মুখে।

    সোলেইমানি তখন তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, সবকিছু নতুন করে শুরু করার সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। হাতের সবগুলো তাস এখনও শেষ হয়নি।

    গৃহযুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপের আগে ইরান আসাদ বাহিনীর পাশপাশি যুদ্ধ করার জন্য শিয়া মিলিশিয়াদের সংগঠিত করতে সাহায্য করেছে। এছাড়া, পরামর্শেরজন্য ইরানের রেভলুশনারি গার্ড বাহিনীর সামরিক বিশেষজ্ঞদের সিরিয়ায় পাঠিয়েছে। তাদের কয়েকজন সেখানে প্রাণও হারিয়েছে।

    অন্যদিকে, রাশিয়া আসাদ বাহিনীকে অস্ত্র দেয়ার পাশপাশি কূটনৈতিক ভাবে পশ্চিমা কোপের হাত থেকে দামেস্ককে রক্ষা করেছে। রাশিয়ার কারণেই জাতিসংঘ,পশ্চিমা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্র আসাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

    তবে এরপরও বিদ্রোহীদের সঙ্গে পেরে উঠছেন না আসাদ। সিরিয়ার আসাদবিরোধী প্রতিবেশী দেশেগুলো বিদ্রোহীদের সাহায্য করছে।

  3. এতবড় লেখা দেখে প্রথমে এড়িয়ে
    এতবড় লেখা দেখে প্রথমে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কি মনে করে পড়া শুরু করলাম, আর শেষ না করে উঠতে পারলাম না। দারুন লিখেছেন।

  4. আপনার লেখা পড়ে সমালোচনার
    আপনার লেখা পড়ে সমালোচনার সুযোগ তেমন একটা পাই না। বর্তমান সঙ্কট নিয়ে চমৎকার রাজনৈতিক বিশ্লেষন।

  5. মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক
    মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা স্বত্বেও সেখানকার আরেক মোড়ল ইজরাইলের ভুমিকা বেশ রহস্যজনক। যদিও রাশিয়ার এই সামরিক অভিযানের ফলে ইরান, সিরিয়া, হিজবুল্লাহ ও হামাস শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি আমেরিকার নেতৃত্বে সৌদি আরব সহ অন্যান্য সুন্নীপন্থী দেশ গুলো নিয়ে একটা বিপরীত জোট গড়ে ঊঠতে পারে। এই দুই জোটের দ্বন্দের ফসল ঘরে তুলতে পারে ইজরায়েল।

  6. অতি আবেগী বাঙালীর অনেকেই
    অতি আবেগী বাঙালীর অনেকেই এটাকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করছে!! বিশেষ করে সিপিবি ঘড়ানার মানুষজন 🙂 আবারও লাল পতাকার বিজয়, সোভিয়েত রক্ত, আম্রিকার বুকে আবারও লাল পতাকার দপদপানি কত কথাইযে তারা বলছে তা শেষকরা মুশকিল:)
    তবে বিশ্লষণটা খুবই ভালো লেগেছে :থাম্বসআপ: :তালিয়া:

  7. ২০১০ সালে বুয়েটের শহীদ স্মৃতি
    ২০১০ সালে বুয়েটের শহীদ স্মৃতি হলে দেখছিলাম, সাপ্তাহিক গাস্তের দিন তাবলীগের লোকজন একটা রুম বাদে সব রুমেই দাওয়াত দিতে যেত. কারণ ওই রুমের ছাত্ররা ছিল হিজবুত তাহরীর, প্রতি সপ্তাহে একদিন বহিরাগতদের ওখানে আসতে দেখা যেত. সারাদিন দরজা বন্ধ করে মিটিং করতো, হলের মসজিদে নামাজ পড়তে যেত না, রুমেই জামাত করতো.

    হিজবুত তাহরীর কিংবা আইএস এরা প্রায় একই ধরনের আইডিওলজি প্রচার করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে এরা এখন সঙ্গবদ্ধ শক্তি. নাস্তিক ইসু , পীর/ মাজার ইসু, খ্রীষ্টান মিশনারী ইসু কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যে বহু সমর্থক তৈরী করেছে; আগামীতে বেপর্দা নারী ইসু, ভারতে শিব সেনার কার্যক্রম, রাজনৈতিক নেতাদের দুঃশাসন এমনকি মহিলা নেতৃত্ব ইসু কাজে লাগাবে.

    হিজবুত তাহরীর কিংবা আইএস এখন সুন্দর সুন্দর মিষ্টি মিষ্টি কথা বললেও যখন তাদের দল ভারী হবে তখনি শুরু হবে ধ্বংস লীলা. কে গণতন্ত্রের ছাতার নিচে থাকা জামাত শিবির কিংবা আওয়ামিলিগ/ বিএনপি, আর কে দাওয়াতে তাবলিগ ওরা এসব কিছুই দেখবে না, যেই ওদের আনুগত্য করবে না তারেই শেষ করবে.

    ভোটের হিসাব কষে ব্লেম গেম নিয়ে বিভোর রাজনীতিবিদ, গাছ লতা পাতা প্রকৃতি- প্রেম ভালবাসা – ১৮+ নিয়ে বিভোর ফেস বুক সেলেব্রিটি কেউই বাদ যাবে না, সবাইকেই দুর্ভোগ পোহাতে হবে ঠিক যেমনটি ভুগছে সিরিয়া ইরাক ইয়েমেনের দল নিরপেক্ষ দর্শকের সারিতে থাকা লোকজনও.

  8. মধ্যপ্রাচ্যের শঙ্কট কোনদিন
    মধ্যপ্রাচ্যের শঙ্কট কোনদিন কাটবে না। মধ্রপ্রাচ্যের সমস্যা বিশ্বাসে। সমাজতন্ত্র কি তাদের পক্ষে কখনো গ্রহণ করা সম্ভব? ইতিহাসে এরকম কোন উদাহরণ আছে? তারা আসাদ, আল সৌদ বংশ, সাদ্দাম হোসেন, বাশার নয়ত আইএস, তালেবান- এরকম মধ্যস্থ বা কট্টর চয়েজে নিজেদের রাখতে পারে। @আনিস রায়হান।

    1. শাসকশ্রেণীর তৎপরতাকে জনগণের
      শাসকশ্রেণীর তৎপরতাকে জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দেয়াটা বিরাট ভুল। যেমন হাসিনার তৎপরতার দায় আপনার কাঁধে চাপানো ভুল হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 43 = 51