একটি প্রবাহ ও একটি উত্সব

একটা বাসে করে বাসায় আসছি ভার্সিটি থেকে। একটা সাদা চামড়ার বিদেশী বাসে উঠল। সিট না পেয়ে তিনি রইলেন দাঁড়িয়ে। খুব মনোযোগ দিয়ে একটা বই পড়ছিলেন। এর পাঁচ মিনিট পরের ঘটনা : একটা লোক সিট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বিদেশিকে বসতে জায়গা দিল।

প্রতিক্রিয়া এক : ডান পাশের মানুষগুলো বলছিল, ‘আমরা গর্বিত এই জন্য যে আমরা অতিথিপরায়ণ। আমরা সম্মান করতে জানি।

প্রতিক্রিয়া দুই : বাসের বাম পাশের মানুষ বলতে লাগল, সাদা চামড়া দেখলে হুশ থাকে না। তাদের আমরা তেল মারি এটা আমাদের ব্যাক্তিত্বহীনতা এবং অসম্মান।

এরকম প্রত্যেকটা জিনিসেরই স্ববিরোধী দুটি সিদ্ধান্ত থাকে। প্রত্যেকটা সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে নিজস্ব যুক্তি এবং গড়ে উঠে মানুষিকতা ও ব্যাবহার। বিভিন্ন কাজ কর্মে আমরা সিদ্ধান্ত টানি নিজের মানসপটকে ব্যাবহার করে। দুটি সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনটি বেশি সত্য তা নির্ভর করবে প্রত্যেকটির পেছনের যুক্তি দিয়ে। আর ভুলে গেলে চলবে না, যুক্তি থেমে থাকে না। কিন্তু সে যুক্তিই টিকবে যা অধিকতর সুন্দরভাবে চিন্তা করাবে এবং যেটির দ্বারা প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত বেচে থাকাকে বেশি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বিকাশমান করবে।

বিভিন্ন উত্সবের ক্ষেত্রে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, প্রত্যেকটা উত্সবকে সে উত্সবের উদ্যেশ্য কে সার্থকতা দিব। ঈদে আনন্দ করব, ভাষা দিবসে ফুল দিব, নববর্ষে বাঙ্গালি হব (একদিনের বাঙ্গালি অনেকের কাছে প্রশ্নসাপেক্ষ)। এর মানে এই না অন্যদিন এগুলো করব না! এরকম ভাবলে কুরবানির উদ্দ্যশ্য ও তো ব্যাহত হয়ে যায়। তখন বলা যেতে পারে, সারাবছর গরীব দের সাহায্য নাই, একদিনের মুহসিন হইতে আইছে!
এভাবে ভাবলে কিন্তু অন্যায়! আমাদের একদিনের চলাফেরা ই কিন্তু জীবনে সে জিনিষটির প্রবাহ আনতে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে।

প্রত্যেকটা দিবসেই অনেক কথা শুনা যায়। একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুলের টাকায় গরিবকে খাওয়ানোর চিন্তা করে অনেকে। অবাক ব্যাপার! ফুলের টাকা দিয়েই কেন তারা গরীব খাওয়ানোর কথা চিন্তা করে! আবার নববর্ষেও নানা রকম অভিযোগ, অনুযোগ। সকালবেলা ভন্ডামির (!) পান্তা সমাজের অগ্রগতিতে কিভাবে বাধা দেয় আমি জানি না। কিংবা বাসাটাকে উত্সব মুখর করে পান্তা ইলিশ খাওয়া-র চিন্তা ও সমাজকে কিভাবে অবদমিত রাখে ভেবে পাই না। যারা একদিনের বাঙ্গালিপনা বলে অপমান করে তাদের তো দেখিনা সারা বছর বাঙ্গালিপনা করতে। তারা হয়তো পিজা খেতে খেতেই পোস্ট দেয়, পান্তা খেতে খেতে না।

নববর্ষে আমরা কিন্তু বাইরের দামী ফুড খাই না কিংবা খাই না চাইনিজ। এগুলো কিন্তু খেতে পারতাম, কেন খাই নি? কেন ইচ্ছে হয় নববর্ষে পান্তা ইলিশ খেতে?

সবচেয়ে বড় কথা, আমার সিদ্ধান্ত একটা বিশেষ দিন কে সেই দিনের মত পালন করা। সে দিনের দর্শন যদি ভাল লাগে তাহলে অন্যান্যদিনে ও সেদিনের মত চলতে বাধা কোথায় ? আমার আছে নিজস্ব মানসপট ও নিজস্ব যুক্তি। যুক্তি থেমে থাকে না, যুক্তি চলমান। কিন্তু অবশ্যই কোন একটা যুক্তি নির্দিষ্ট সময়ে অধিকতর সুবিধা দিবে।

বি:দ্র: গরীব কে প্রতিদিন খাওয়াতে পারি না। তাই বলে যেদিন খাওয়াতে মনে চায় সেদিন খাওয়াবো না এটা কেমন যৌক্তিক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “একটি প্রবাহ ও একটি উত্সব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

87 − 81 =