কষ্টের রঙ গাঢ় কালো

প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই আমি একবারের জন্যে হলেও ফেইসবুকে উকি দেই। আগে এমন হতো না। ইদানিং হচ্ছে। খুব বেশি হচ্ছে। নিউজ ফিডে চোখ যাবার আগেই চ্যাট লিস্ট চেক করি। বিশেষ একজনকে খুঁজি। যাকে চ্যাট লিস্টে দেখলে আনন্দ পাই। না দেখলে কষ্ট পাই। কেন পাই জানতাম না। কিছুদিন ধরে জানি। প্রতিদিন আমি তাকে প্রচন্ড মিস করি, ঘন্টার পর ঘন্টা তার জন্য অনলাইনে অপেক্ষা করি, ওয়ালে কিংবা ব্লগে কিছু লিখলে পড়ার জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়ি। কিছু না লিখলেও বারবার ওর প্রফাইলে উকি দেই। পুরনো ছবি কিংবা লেখা থেকে তার অস্তিত্ব খুঁজি।

(ধরি মেয়েটি নাম রুপা।)

প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই আমি একবারের জন্যে হলেও ফেইসবুকে উকি দেই। আগে এমন হতো না। ইদানিং হচ্ছে। খুব বেশি হচ্ছে। নিউজ ফিডে চোখ যাবার আগেই চ্যাট লিস্ট চেক করি। বিশেষ একজনকে খুঁজি। যাকে চ্যাট লিস্টে দেখলে আনন্দ পাই। না দেখলে কষ্ট পাই। কেন পাই জানতাম না। কিছুদিন ধরে জানি। প্রতিদিন আমি তাকে প্রচন্ড মিস করি, ঘন্টার পর ঘন্টা তার জন্য অনলাইনে অপেক্ষা করি, ওয়ালে কিংবা ব্লগে কিছু লিখলে পড়ার জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়ি। কিছু না লিখলেও বারবার ওর প্রফাইলে উকি দেই। পুরনো ছবি কিংবা লেখা থেকে তার অস্তিত্ব খুঁজি।

(ধরি মেয়েটি নাম রুপা।)
রুপাকে আমি অনলাইনের বাইরে চিনিনা। কিভাবে কিভাবে জানি আমার ফ্রেন্ডলিস্টে চলে এসেছে। আমি এড দিয়েছিলাম না সে দিয়েছিলো মনে নেই। তবে তাকে আমার অনেক ভালো লাগতো। তার সাথে চ্যাট করতে ভালো লাগতো, তার পোষ্ট আমার মন ছুঁয়ে যেতো। সে প্রতিদিন সকালে আমাকে শুভ সকাল জানিয়ে দিন শুরু করতো। রাতে ঘুমুতে যাবার সময় আমি অপেক্ষায় থাকি শুভ রাত্রী শুনার জন্যে। তার মাঝে আমি আমার সত্তা খুঁজে পেয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস-অবিশ্বাস, ভালোলাগা-মন্দলাগা তাঁর মাঝে খুঁজে পেয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অহংকার কিংবা সাম্প্রদায়িকতার প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা আমার মতো তাকেও অনেক বেশি আন্দোলিত করতো, কষ্ট দিতো। তাঁর সাথে আমার এসব মিল খুঁজতে খুঁজতে কখন যে তার প্রতি অন্যরকম ভালোলাগা জন্ম নিয়েছিলো বুঝতেই পারিনি।

রুপা অনেক চমৎকার একটা মেয়ে। শান্তশিষ্ট, চুপচাপ ভদ্র স্বভাবের। আমার কাছে মনে হতো সে অনেক একাকিত্ববোধ করে। আমার মতো একাকিত্ব। সেইজন্যে তার সব কিছুই আমার ভালো লাগতো। তাকে সঙ্গ দিতে ভালো লাগতো, তার সঙ্গ পেতে ভালো লাগতো। তাঁর সাথে কথা বলতে ভালো লাগতো।
.
আমি ব্লগে লিখি অল্পকিছু দিন ধরে। আগে কখনো লিখিনি। রুপা আমাকে একদিন ব্লগের ব্যাপারে উৎসাহিত করে। সে লিখে, আমিও লিখবো কি না জানতে চায়। সেই থেকে আমি ব্লগে লিখি। ব্লগ পড়ি।
একদিন রুপার সাথে ফাজলামো করতে করতে আকারে ইঙ্গিতে আমার ভালোলাগার কথা তাকে বলি। তার প্রতি আমার দুর্বলতার কথা বলি। সে আমাকে জানিয়ে দেয় তার পক্ষে সম্ভব নয়।
আমি আর কিছু বলিনা। চাপা কষ্ট অনুভব করি। একটি স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ার ব্যর্থতায় নিজেকে দন্ডিত করি। আবার নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করি। অবিরাম চেষ্টা করি। আমি নিজেকে ফিরে পাই। ব্যর্থতা ভুলে তাঁর সাথে মিশি। স্বাভাবিক হই। মজা করি, ফাজলামো করি। নিজেদের ছোট ছোট আনন্দগুলো, কষ্টগুলো ভাগাভাগি করি। একে অন্যের পড়াশোনা খুঁজ খবর নেই। আস্তে আস্তে আবার পাগলামি করি। বন্ধুর চেয়ে একটু বেশি ভাবতে থাকি। সে যা চায় না আমি তাই বলি। বলতে চেষ্টা করি। বারবার রাগাতে থাকি। একসময় জানতে চাই কি নাম্বার ব্যাবহার করে। কোন উত্তর পাইনা। হতাশ হয়ে অফলাইনে যাই।
ঘন্টাখানকে পড়ে অনলাইনে আসি। চ্যাটলিস্টে তাকে খুঁজি। পাই না। ইনবক্সে তার মেসেজ দেখি। সে লিখেছে-
—ইডিয়ট! আজকের পর থেকে আর কখনো আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেননা। আমি অন্য মেয়েদের মতো না। ইডিয়ট!
সে আমাকে ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে বাদ দিয়েছে। আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। নিজেকে আমার নিকৃষ্ট প্রাণী মনে হচ্ছিলো। লজ্জায় ঘৃণায় নিজেকে নিজের কাছ থেকে লুকাতে চেয়েছিলাম। ‘ইডিয়ট’ শব্দটাকে আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ গালি মনে হচ্ছিলো। আমি তাকে কিচ্ছু বলতে পারিনি। চাপা কষ্ট নিয়ে সন্ধ্যায় তাকে রিপ্লাই দেই-
—আমিতো আপনার কাছে ফোন নাম্বার চাইনি। শুধু জানতে চেয়েছিলাম কি নাম্বার ব্যাবহার করেন। এমন কোন বাজে ব্যাবহারও করিনি। আপনাকে জ্বালাইও নি। আপনি কথা বলতেন বলেই আমি কথা বলেছি। মাঝে মাঝে অনেক মজা করেছি। আপনি কথা না বলতে চাইলে আমিতো বলতাম না! আপনার মেন্টালিটি আর আমার মেন্টালিটি প্রায় কাছাকাছি। আপনিও জয় বাংলার, আমিও। সেই জন্যেই আপনার সাথে কথা বলতে ভালো লাগতো। খুব ভালো করেছেন, আমিতো ইডিয়ট-ই! ইডিয়ট চিনতে পেরেছেন! সরি আপনাকে জ্বালানোর জন্য। পারলে ক্ষমা করে দিবেন।
মেসেজ দেয়ার পর আমি একটুও শান্তি পাইনি। একাকিত্ব আবার আমাকে ভর করেছে। নিজের কাছে মনে হচ্ছিলো ক্ষনিকের পাগলামির জন্য জীবন থেকে একটা কিছু হারিয়ে ফেলেছি। অনেক মুল্যবান কিছু।

রাতে ঘুম হয়নি। নিজেকে অভিশাপ দিতে ইচ্ছে করছিলো। অনেক বেশি অভিশাপ। ফেইসবুকের নীল আলোয় নিজের কষ্টগুলো দেখতে পাচ্ছিলাম। তবুও নীল আলোয় নিজেকে রঙ্গিন করতে ফেইসবুকে যাই। তাঁর প্রফাইল, ওয়াল কিংবা পুরনো মেসেজগুলোর মাঝে তাঁর ছোঁয়া খুঁজি। সুখ খুঁজি। সারারাত খুঁজি।

সকালে আবার ফেইসবুকে যাই। হোম পেইজে চোখ পড়তেই অবিশ্বাস্য আনন্দে উদ্ভাসিত হই। রুপা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছে। সাথে মেসেজ-
—‘প্লীজ এ্যাড করুন। সরি কালকের ব্যাবহারের জন্য’।
সাময়িক লোক দেখানো অভিমান শেষে আমি তাকে আবার এ্যাড করে নেই। আমার কাছে মনে হচ্ছিলো তাকে ফ্রেন্ডলিস্টে না, আমি আমার জীবনের সাথে এ্যাড করে নিয়েছি। তখন নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হচ্ছিলো। রুপাকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে আগের সবকিছু ভুলে গিয়েছিলাম।
এই ব্যাবহারের জন্যে সে প্রায়ই অনুতপ্ত হতে থাকে। বারবার সরি বলতে থাকে। আমার অনেক টেইক-কেয়ার করতে থাকে। আমার কাছে মনে হচ্ছিলো সে আমাকে ফিল করতে শুরু করেছে। ভালবাসতে শুরু করেছে। আমি লিখলাম-
—বারবার সরি বলছেন কেন? আমি সেগুলো আর মনে করতে চাইনা। আসলে কি জানেন, কাউকেতো আপন করে কখনো সেই ভাবে পাইনি। কিছুদিন ধরে আপনার সাথে অনেক কথা বলছি। আপনিও আমার অনেক টেইক কেয়ার করছিলেন। ভেবেছিলাম আপনি আমার কষ্ট বুঝতে পারছেন। কাউকে না পাওয়ার কষ্ট। তখন থেকে আপনাকে অনেক ভালো লাগা শুরু হয়েছিলো। আমার মনে হচ্ছিলো আপনি যেহেতু কোন রিলেশন এ জড়াননি সেহেতু আপনাকে আমার মনের কথা বলা যায়। আপনিই বুঝতে পারবেন আমার কথা। আপনার মনের সাথে আমার অনেক মিল আছে। আমি জানি ভার্চুয়াল জগতের অধিকাংশ ছেলেমেয়েই খারাপ থাকে। কিন্তু আমার কেন জানি আপনাকে প্রচন্ড বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছিলো। খুব কাছের মানুষের মতো। আমি কেমন সেটা আপনি জানেন না। হয়তো আপনি ভেবেছেন আমিও সেই বাজে ছেলেদের মতো। কিন্তু আমার ভাগ্য খারাপ। আপনাকে আমি বিলিভ করাতে পারিনি। আমি অন্যদের মতো না। এই বিশ্বাস আপনার মাঝে স্থাপন করাতে পারিনি। কাউকে ভালবাসতে আমারো প্রচন্ড ইচ্ছে করে। কি করব বলুন আমার ভাগ্যটাই খারাপ। বিধাতা চায়না আমি কারো হই। কাউকে অনেক অনেক ভালবাসি!
হতাশা কাটিয়ে আমি স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করি। আগের মতো কথা বলতে থাকি। একসময় বলি-
—আমি কি পারিনা আমার কষ্টগুলো, ভালোলাগা গুলো একান্তভাবে আপনার সাথে শেয়ার করতে? বন্ধুর চেয়ে একটু বেশি কিছু হয়ে? আমি কি পারিনা আপনার মাঝে আমার অস্তিত্ব অনুভব করতে? আমি জানি আমার কষ্টগুলো আপনি অনুভব করতে পারবেন।
সে বলল-
—হুম। আমি ভালো একজন বন্ধু হবো। আপনার সবকিছু শুনবো।
আমি বললাম-
—হ্যাঁ। ভালো বন্ধু হবো। কিন্তু আমরা যদি একসময় অনুভব করি আমরা বন্ধুর চেয়ে একটু বেশি কাছে থাকতে চাই। হয়তো একমাস পর, বছর কিংবা পাঁচ বছর পর যদি আমরা দুজন দুজনার হতে চাই? তখন কি পারিনা আমরা এক হতে?
— হুম। পারি। ভবিষ্যতে দেখা যাবে। এখন বলতে পারবনা।
নিজেকে তখন আমার অনেক সুখী মনে হচ্ছিলো। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। মনে হচ্ছিলো কাউকে জয় করার চেয়ে সুখ পৃথিবীর অন্য কিছুতে নেই। যদিও আমি জয় করিনি। আশান্বিত হয়েছি। আশা মানুষের জীবনের একটা অংশ আমি বুঝতে শিখেছি।
আমি তার প্রফাইলে ঢুকি। নজর কারা মায়াবী চোখের দিকে তাকাই। আমি হারিয়ে যাই। বারবার ওর চোখের গহীনে হারিয়ে যাই। কাছে পাওয়ার আনন্দ নিয়ে। আশার বেলা বাসিয়ে আমি তাঁর সাথে চ্যাট করি। আপনি থেকে তুমিতে আসি। আমি বলি,
—তুমি আমাকে ইডিয়ট বলে ডাকো। ইডিয়ট শুনতেই আমার অনেক ভালো লাগবে।
আমি নীল আলোয় কল্পনা করছি তাঁর লজ্জা রাঙা মুখ। সে বলে, —তুমি সত্যিই একটা ইডিয়ট।
তখন ‘ইডিয়ট’ শব্দটিকে আমার কাছে মধুর শব্দ মনে হচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো সবচেয়ে ভালবাসাময় শব্দ। ভালবাসার প্রতি শব্দ।

প্রতিদিন তাঁর সাথে কথা হয়। মজা হয়। ফাজলামো কিংবা সিরিয়াস কোন বিষয় নিয়ে আলাপ হয়। মাঝে মাঝে আমি আমার বোকামির কথা বলি। রুপা হাসে। বলে, —তুমি একটা বুদ্ধু।
রুপা আমাকে বুদ্ধু বলে ডাকতে শুরু করে। আমি মজা পাই। আনন্দ পাই। সে আমাকে যা বলে তাতেই আমি স্বর্গীয় সুখ পাই। আমি বুঝতে পারি সে আমার অনেক বেশি যত্ন নিচ্ছে। টেইক-কেয়ার করছে। আমি তাকে টুনটুনি বলে ডাকতে শুরু করি। অনলাইনে না থাকলে আমি পাগলের মতো তার অপেক্ষা করি। আসার পর অভিমান করি। বলি, —কোথায় ছিলে এতোক্ষন? কথা বলতে ইচ্ছে করেনা?
সেও পাল্টা অভিযোগ করে, —তুমিইতো কথা বলতে চাওনা।
ক্ষনস্থায়ী অভিমান চলে। আবার আগের মতো হই। চলতে থাকে কথামালা। অবিরাম।
রুপাকে নিয়ে আমার পাগলামির মাত্রা বেড়ে যাচ্ছিলো। কোথায় কি বলতে হবে আমি বুঝতে পারিনা। সময় এবং স্থান না বুঝেই কোন একটা মন্তব্য করে ফেলি। রিয়েল লাইফের সবচেয়ে ভালো বন্ধুটির সাথে যেভাবে কথা বলি অনেকটা সেইরকম। তাকে আমার ভার্চুয়ালের কোন মানুষ মনে হচ্ছিলো না। মনে হচ্ছিলো পাশাপাশি আছি।
সেদিন আমার এক ফ্রেন্ডের পোস্টে কমেন্টস করেছি
—আমাকে আমার নামে ডেকোনা। বুদ্ধু নামে ডেকো। কারন আমি যাকে দিল দিয়েছি সে আমাকে বুদ্ধু বলে ডাকে।
আমি বুঝতে পারিনি এটা তাকে আঘাত করবে। কষ্ট দিবে। সে চায়নি আমাদের কথাগুলো অন্য কেউ জানুক। রুপা রাগান্নিত হয়ে আমাকে রিপ্লাই দিয়েছে-
—তোমার দিলের অপেক্ষায় কি আমি বসে আছি? আমি ছাড়া আর কেউ যদি তোমাকে বুদ্ধু বলে তাহলে তার নাম উল্লেখ করবা। ভবিষ্যতে আমাকে বন্ধুর চেয়ে বেশিকিছু ভাববে না। তোমার যদি ভালো না লাগে আমাকে আনফ্রেন্ড করতে পারো!
তখন নিজেকে আমার অপরাধী মনে হচ্ছিলো। নিজেকে নিকৃষ্ট প্রাণী মনে হচ্ছিলো। আবার তাকে হারানোর ভয় আমাকে পেয়ে বসেছিলো। কি করবো আমি বুঝতে পারছিলাম না। নিজেকে অনেক বেশী একা মনে হচ্ছিলো। বিষন্নতায় ফেইসবুকের নীল দেয়াল থেকে লুকাতে চেয়েছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিলো, —কত সহজে রুপা বলতে পারল “ভালো না লাগলে আনফ্রেন্ড করে দাও”! ভেবেছিলাম আর ফেইসবুকিং করবো না। রাগে, কষ্টে আমার অজস্র স্মৃতিয় মোড়ানো আইডিটি ডিএক্টিভেট করে দিয়েছিলাম। তবু একটি বারের জন্যও মনে হয়নি রুপাকে আনফ্রেন্ড করি। একাকি থেকে একাকিত্বের গহ্বরের হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। তখন তাকে আরো বেশি মনে পড়ছিলো। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে শুভ সকাল শুনতে না পেরে ভালো লাগছিলো না। মধ্যরাতে শুভ রাত্রী শুনার জন্য ছট্ফট্ করছিলাম।পুরোনো স্মৃতিগুলো অনেক বেশি জ্বালাতন শুরু করছিলো। আমি পারিনি তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকতে। তিনদিন পর নীল আলোয় নিজেকে আলোকিত করতে এসেছি এই কথা ভেবে যে, হয়তো আগের মতো তাকে পাবো না। তবুওতো কাছাকাছি তাঁর থাকা হবে। তাঁর প্রফাইল, ওয়াল, ছবি থেকে তার ছোঁয়া অনুভব করা যাবে। আমি তাকে খুঁজছি। চ্যাটলিস্টে, ফ্রেন্ডলিস্টে। কোথাও নেই! আমি খুঁজি, পাগলের মতো খুঁজি। নিউজ ফিডে খুজিঁ, ইনবক্সে তাকে খুজিঁ। অবশেষে তাকে আমি খুঁজে পাই। তবে চিরায়ত সবুজ রঙ এ নয়। গাঢ় কালো রঙ এ তার মিষ্টি নামটি খুজেঁ পাই।

তখন থেকে প্রতিদিন রুপাকে খুঁজি। আনব্লক হয়েছি কিনা দেখি। নীল রঙ এ তার নামটি মোবাইলের স্কিনে ভেসে উঠে কিনা দেখি। আমি দেখতে পাইনা। আমি কেবলি অনুভব করছি কষ্টের রঙ গাঢ় কালো!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “কষ্টের রঙ গাঢ় কালো

  1. তখন থেকে প্রতিদিন রুপাকে

    তখন থেকে প্রতিদিন রুপাকে খুঁজি। আনব্লক হয়েছি কিনা দেখি। নীল রঙ এ তার নামটি মোবাইলের স্কিনে ভেসে উঠে কিনা দেখি। আমি দেখতে পাইনা। আমি কেবলি অনুভব করছি কষ্টের রঙ গাঢ় কালো!

    জিবনের অন্যান্য দু:খ বেদনার মতো এটা ফেসবুক দু:খ, নিবারণ করতে পারে কেবল, রূপা। আমরা সোনা বা হিরা হলেও পারব না।

  2. আবারো অনেক গুলো বানান ভুল করে
    আবারো অনেক গুলো বানান ভুল করে বসে আছেন। এর আগের পোস্টেও বলেছিলাম, বেশি করে বাংলা লেখা পড়তে। তাহলে হয়তো আপনি আপনার এই বানান ভুলের সমস্যা কাটিয়ে তুলতে পারবেন।দুঃখিত, অহেতুক জ্ঞান দিয়ে ফেললাম। আসলে লেখার মধ্যে বানান ভুল থাকলে বিষয়টি খুব দৃষ্টিকটু দেখায় তাই বললাম।
    এবার লেখার প্রসঙ্গে আসি, ঘটনাটা যদি সত্যি হয় তাহলে বলবো- উমম, ভার্চুয়াল একটা দুঃখের গন্ধ পাচ্ছি।

    জীবনের অন্যান্য দু:খ বেদনার মতো এটা ফেসবুক দু:খ, নিবারণ করতে পারে কেবল, রূপা। আমরা সোনা বা হিরা হলেও পারব না।

    যে একবার চলে যায়, তাকে বারবার ডাকার কোন মানেই নেই। কারন সে যদি আপনাকে বোঝার হতো তাহলে আগেই বুঝত। আর এমনি ভাবে কারো জন্য কষ্ট পাওয়া নিতান্তই বোকামি।
    আর এটা যদি আপনার কোন কাল্পনিক গল্প হয় তাহলে বলবো- চালিয়ে যান…

  3. যন্ত্রণার অনুভূতিগুলো অবশ্য
    :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :মনখারাপ: যন্ত্রণার অনুভূতিগুলো অবশ্য আমার কাছে একই রকম লাগে… নিকষ কালো… :মাথাঠুকি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 + = 83