ক্ষমা করবেন অনুপ চেটিয়া, আমরা অসভ্য

অনুপ চেটিয়া নামটা আমরা বাংলাদেশের বাঙালীরা অনেকদিন থেকেই শুনছি। প্রায়ই আমাদের জাতীয় পত্রিকাগুলো তার নিরীহ স্কুল মাস্টার গোছের একটা ছবি ছেপে মারাত্মক সব খবর ছাপে। এই রকম গোবেচারা চেহারার লোকটার জন্য নাকি ভারত সরকারের ঘুম হারাম। সেদেশের মন্ত্রী আমলারা বাংলাদেশের খবর নেয়ার সময় অনুপ চেটিয়ার খবর নিতে ভোলে না। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি কেউ এদেশে এলে, কিংবা আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেদেশে গেলেও আলোচনার বিষয়ে থাকে এই লোকটা। আমরা শুধু অবাক হই। দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশ-ভারত দর কষাকষির মধ্যে অনুপ চেটিয়া এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আছেন যে, তিনি একরকম আমাদের জাতীয় সম্পদে পরিণত হয়েছেন।

আসামের জনগণ ভারত রাষ্ট্র থেকে স্বাধীনতা লাভের জন্য অনেককাল ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে। এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা)। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্য-নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এই দলটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অনুপ চেটিয়া। অনুপ চেটিয়া স্থানীয়ভাবে অনুপ চেতিয়া নামে পরিচিত। যদ্দূর জানা যায়, তার আসল নাম গোলাপ বড়ুয়া। ১৯৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। ওই সময় তার কাছ থেকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট, স্যাটেলাইট টেলিফোন ও কিছু বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছিল।

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় ফরেন কারেন্সি অ্যাক্টে একটি মামলা দায়ের করে। পরে পাসপোর্ট অ্যাক্ট ও স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে আরো তিনটি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এসব মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। অনুপ চেটিয়ার প্রথম পর্যায়ের কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হয় ২০০৩ সালের ২৫ আগস্ট। চারটি মামলায় ১১ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ না করায় আরো দেড় বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন তিনি। সে হিসাবে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ ছিল ২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সাজার মেয়াদ শেষ হলেও অনুপ চেটিয়াকে মুক্তি না দেয়ায় তার পক্ষে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। অনুপ চেটিয়া নিজে বাংলাদেশের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চান। তা না হলে অন্তত বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে নিরাপদ গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ চান। কিন্তু উচ্চ আদালত তাকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেয়া যাবে না মর্মে নির্দেশ দেন। অনুপ চেটিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয় প্রসঙ্গে তখন আদালতের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপের বিষয়টি খুব আলোচিত হয়েছিল।

এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার যে, দীর্ঘকাল বাংলাদেশে জেল খাটলেন একটা জাতির মুক্তি আন্দোলনের নেতা। যেখানে ভারত সরকার নানা ইস্যুতে প্রায় ৬৫ হাজারেরও বেশি সেনা ও বিএসএফ সদস্যদের মোতায়েন করে রেখেছে। আসামের মানুষদের প্রতি আমাদের কোনো সরকার আজ পর্যন্ত দরদ দেখানোর যৌক্তিকতা উপলব্ধি করেনি। উলটো তাদেরই একজন রাজনৈতিক নেতাকে জেলে আটকে রেখেছে। ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের নেতা ইয়াসির আরাফাত এদেশে লুকিয়ে থাকলে তিনিও হয়তো একই আচরণ পেতেন। একই আচরণ পেতেন যদি নেলসন ম্যান্ডেলা পালিয়ে বাংলাদেশে আসতেন। কেমন হতো যদি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের কোনো নেতা ভিন দেশে গিয়ে এভাবে জেল খাটতেন? ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র এটা বলে সরকার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে চায়। কিন্তু বন্ধু বলে কি ভারত রাষ্ট্রের কোনো অন্যায়ের আমরা প্রতিবাদ করব না? কেন ৬৫ হাজার সশস্ত্র জওয়ান আসামের জনগণের ওপর চেপে বসে আছে? আমরা কি এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করব না?

সরকার এসব নৈতিকতার ধার ধারার প্রয়োজন বোধ করেনি। বরং অনুপ চেটিয়াকে দাঁড় করিয়েছে সন্ত্রাসীর কাতারে। বাংলাদেশের সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ভারতের কারাগারে আটক আছে। সরকার তাকে পাবার বিনিময়ে ফেরত দিতে চেয়েছে অনুপ চেটিয়াকে। এতকালের দর কষাকষির ফল এই সুব্রত বাইন? শুনে আমরা অবাক হই না। কারণ আওয়ামী লীগের ভারত বশ্যতা তো আর নতুন কিছু না। সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অনেক কিছুই ভারতকে দিয়ে চলেছে। অনুপ চেটিয়াকেও দিয়ে দিতে পারতেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। কেন তার নামের পাশে সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নাম জড়ালেন? প্রশ্নটা নীরবেই রেখে যাচ্ছি আমরা। আগামীতে হয়তো আরো বড় করে আসবে। যেদিন ভারতের বড় পুঁজিপতিদের হাতে নিগৃহীত জাতিগুলো রুখে দাঁড়াতে সমর্থ হবে সেদিন তারা এই প্রশ্নটা আরো বড় করে তুলবে নিশ্চয়ই।

অনুপ চেটিয়াই প্রথম এবং একমাত্র নয়। এই সরকার ক্ষমতায় এসেই ভারতের সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে নানাধরণের পদক্ষেপ নেয়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের (স্বাধীনতা) সংগ্রামে নিয়োজিত বেশকিছু সংগঠনের আরো অনেক নেতাকে বাংলাদেশে আটকের পর গোপনে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। যদিও সরকার মহাশয় এ বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে এখনো।

তবে ভারতীয় মিডিয়া খবর দেয় যে, ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা) চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া, উলফা নেতা চিত্রাবন হাজারিকা, শশধর চৌধুরী, রাজু বোরা, ক্যাপ্টেন অন্তু চাউদাং, সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট প্রদীপ চেটিয়া, মণিপুরের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের (ইউএনএলএফ) প্রধান রাজকুমার মেঘেন, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অব বোড়োল্যান্ডের চেয়ারম্যান রঞ্জন দোইমারি, ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (এনএলএফটি) প্রেসিডেন্ট বিশ্বমোহন দেব বর্মাসহ গোপনে এরকম আরও অনেক নেতাকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এসব নেতাকে সেদেশের আদালতে হাজির করার পর তারা বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। যা ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দি টেলিগ্রাফ, আনন্দবাজার, আসাম ট্রিবিউন, যুগসঙ্ঘ এবং আইএএনএস এর মতো সংবাদ সংস্থাগুলো প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ (১)-এর গ অনুচ্ছেদে বলা আছে-

‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন।’

‘নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থনে’র এই সাংবিধানিক নির্দেশনা লঙ্ঘন করেই ভারতের স্বাধীনতাকামীদের সে দেশের শাসকদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। আগামীতে এসব সংগঠনের কোনোটি যদি বিজয়ী হয়, ভারত রাষ্ট্র যদি তাদের স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয় তখন নতুন রাষ্ট্রগুলোর বড় শত্রু হব আমরা। এই ঝুঁকি কোনো দেশই নেয় না। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিচ্ছে। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ঝুঁকি বিবেচনার চেয়ে ভারতের শাসকদের প্রয়োজনটাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে তারা। আমরা এদেশের জনগণ এসব খবর রাখি না। অনুপ চেটিয়া যেই বিমানে যাবেন, সেই বিমানে ফিরে আসবে সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন। এই খবর পত্রিকায় পড়ে আমরা হয়তো একটু বিচলিত হব। বাংলাদেশের এত দিনের সুখ দুঃখের সাথী গোবেচারা টাইপের গুরুত্বপূর্ণ মানুষটা চলে গেছেন ভেবে হয়তো আমরা একটু বিষাদ অনুভব করব। এই পর্যন্তই।

কিন্তু বুঝতেও পারব না, আমরা কত বড় অন্যায়কে মেনে নিচ্ছি। একটা জাতির মুক্তি আন্দোলনের নেতাকে সন্ত্রাসীর সঙ্গে তুলনা করে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছি। স্নোডেন ইস্যুতে সারা দুনিয়ার মানুষ একমত যে, তাকে আমেরিকার কাছে পাঠানো চলবে না। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের বাঙালীরা অনুপ চেটিয়াকে নিয়ে একটা আওয়াজ তুলতে পারলাম না। অনেক দুঃখে বলতে বাধ্য হচ্ছি, কেন যে লোকটা এই অসভ্যদের তল্লাটে এসে পড়েছিল! বড় দুর্ভাগা। আর কোথাও গেলে হয়তো তাকে এই পরিণতি ভোগ করতে হতো না। যা ঘটার ঘটে গেছে। জাতি হিসেবে নতুন একটা কলঙ্কের ছাপ আমরা মাথায় এঁকে নিলাম। দুঃখিত অনুপ চেটিয়া, আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ক্ষমা করবেন আমাদের।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৬ thoughts on “ক্ষমা করবেন অনুপ চেটিয়া, আমরা অসভ্য

  1. অনুপ চেটিয়ার মত স্বজাতীর
    অনুপ চেটিয়ার মত স্বজাতীর স্বাধীনতাকামী বিপ্লবী ভুল জায়গায়, ভুল ভুখন্ডে আশ্রয় নিয়েছিল।

  2. “তুমি ভাই বুঝবে কী
    “তুমি ভাই বুঝবে কী হায়
    ফুরফুরে দিন চলে যায়
    বোঝাচ্ছো স্বাধীনতার মানে,
    যে অধীন দিনে রাতে
    বুলেটে যে বুক পাতে
    সে বুঝেছে স্বাধীনতার মানে”

    আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি…আর আসাম-সিকিমের অবহেলিত স্বাধীনতাকামী মানুষদের নিয়ে খেলা করছি… আমরা বিস্মৃতিপরায়ন জাতি…

  3. খুব ভালো লেখা।রাজনীতি তে
    খুব ভালো লেখা।রাজনীতি তে দীর্ঘ পরিবার তন্ত্র, সর্বব্যাপী অনৈতিকতার চর্চা, রাজনীতির মাঠ থেকে রাজনিতিবিদ দের কে বিদায় করে দিয়েছে । মেরুদণ্ডহীন – ধূর্ত ব্যবসায়ী রা এখন রাজনিতিবিদ । সুতরাং তিন দিক থেকে ঘিরে রাখা ভারত মোড়লের সাথে শিরদাঁড়া খাড়া করে কথা বলবে এমন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও শক্তি তো বাংলাদেশর হয় নাই । সুতরাং কি ই আর করা !

    1. অনেক কিছু নিয়েই তবু দর কষাকষি
      অনেক কিছু নিয়েই তবু দর কষাকষি হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ ভারত প্রশ্নে যা করছে তা কোনো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে পড়ে না।

  4. কেউ ক্ষমা করেনি আমাদের। কেউ
    কেউ ক্ষমা করেনি আমাদের। কেউ করবেনা। সিরাজ করেনি, তাহের করেনি, করবেওনা। আমরা স্বাধীনতা কি লড়াই করে পেয়েছিলাম? নাকি ভারতের দয়ায়? আওয়ামী লীগ আর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবগতিক দেখলে মনে হয়, আমরা যুদ্ধ করে নিজের স্বাধীনতা পাইনি, ভারত এসে আমাদের প্লেটে করে স্বাধীনতা মুখে তুলে খাইয়েছে।
    যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া একটা দেশের অন্য আরেকটি স্বাধীনতাকামী জনগোষ্ঠীর নেতার সাথে এরকম আচরণ মানা যায়না।
    আর সংবিধান? সেটাকি এই দেশে কোন রাজনৈতিক দল বা সরকার মানে?

  5. সহমত
    জাতি হিসেবে নতুন একটা

    সহমত
    জাতি হিসেবে নতুন একটা কলঙ্কের ছাপ আমরা মাথায় এঁকে নিলাম। দুঃখিত অনুপ চেটিয়া, আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ক্ষমা করবেন আমাদের।

  6. প্রবন্ধটি নিঃসন্দেহে চমৎকার।
    প্রবন্ধটি নিঃসন্দেহে চমৎকার। সারাবিশ্বে মুক্তিকামী মানুষ, জাতি বা গোষ্ঠীর সংখ্যা অনেক। তাদের কারনগুলোও ভিন্নতর। সুবিচার থেকে তাঁরা বরাবরই বঞ্চিত। ইতিহাস অন্তত তা ই সাক্ষ্য দেয়। শ্রীলঙ্কার তামিলদের আন্দোলন কত বছরের ছিল? লেটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এটা প্রায় নৈমত্তিক যুদ্ধ। তবে আপনার লেখায় যে মানবিক দিকটা ফুটে উঠেছে, সেটা সুন্দর। আঞ্চলিক রাজনীতির ধারাবাহিকতার এটা একটা অংশবিশেষ মাত্র। কালের প্রয়োজনে শত্রুকেও মিত্রের হাত ধরে হাটতে দেখা গিয়েছে অনেকবার। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পালাতে বাধ্য হলে সাধারনত মিত্র দেশেই আশ্র্য় নেয়। এক্ষেত্রে কি তাই হয়েছিল? স্নোডেনের ব্যাপারে কি দেখছি? ভুক্তভোগী দেশগুলো, বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো কি তাঁকে আশ্রয় দিচ্ছে? সবটাই হচ্ছে চলমান রাজনীতির খন্ডাংশ। এর ধারাবাহিকতা ধরে না রাখলে “বর্তমান” হারিয়ে যাবে। ভবিষ্যতের কথা ভাববার অবকাশ কোথায়?

    বন্দীবিনিময় চুক্তি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিপাক্ষিক আইন। অমানবিক হলেও বেআইনী নয়।

    1. আঞ্চলিক রাজনীতির হিসেব নিকেশ
      আঞ্চলিক রাজনীতির হিসেব নিকেশ থাকে, এটা ঠিক আছে। শেষ দিকে বন্দি বিনিময় চুক্তির স্বপক্ষেও দাঁড়ালেন। কিন্তু এটা বললেন না, উলফা সহ বিভিন্ন দলের নেতাদের গোপনে যেভাবে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হলো, এটা কি? বর্তমান রক্ষার লড়াই?

      আওয়ামী লীগ ভারতকে অনেক দিয়েছে। দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কে ভারতের আস্থা থাকলে আমরাও কিছু পাওয়ার কথা। কিন্তু কি পেয়েছি? অনুপ চেটিয়ার মতো নেতাকে এতদিন জেল খাটালাম। তারপর তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে ভারতের হাতে তুলে দিলাম আরেক সন্ত্রাসীর বিনিময়ে। নীতিবোধ বলে কি এদের কিছু থাকতে নেই?

      স্নোডেনের বিষয়ে শাসকগষ্ঠীর আচরণ বিশ্বজুড়ে এমনটা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সাধারণ মানুষের অবস্থানটা পরিষ্কার। কেউই চায় না তাকে আমেরিকার হাতে তুলে দেয়া হোক। আমাদের সরকার যা করেছে ভারতের জাতিগুলোর আন্দোলন নিয়ে, এটা সংবিধানের লঙ্ঘন। এটা বর্তমান রক্ষার জন্য করা যায় কি?

  7. কি মুশকিল… সবাই
    কি মুশকিল… সবাই যুদ্ধাংদেহী। আমার লেখায় আমি স্বাভাবিকতার দিকগুলো তুলে ধরেছি মাত্র। আমার মত একজনের পক্ষাবলম্বনে কার কি আসে যায়, রায়হান? বন্দীবিনিময় চুক্তির আইনগত কথা বলেছি, পক্ষ অবলম্বন করার কথা কোথাও বলিনি। তাছাড়া, আপনি ভারতের সাথে লেনদেনের বৈষম্যের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ, সেটা স্পষ্ট আপনার উপরের মন্তব্যে (আওয়ামী লীগ ভারতকে অনেক দিয়েছে। দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কে ভারতের আস্থা থাকলে আমরাও কিছু পাওয়ার কথা। কিন্তু কি পেয়েছি?), অনুপ চেটিয়াকে শুধুমাত্র একটা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে আপনার লেখায়, সেটাই বুঝিয়ে দিলেন। আলোচনার ভারসাম্য কি সেখানেই বিনষ্ট হলো না?

    স্নোডেনের ব্যাপারে আপনি স্বাভাবিকতার কথা স্বীকার করলেন (স্নোডেনের বিষয়ে শাসকগষ্ঠীর আচরণ বিশ্বজুড়ে এমনটা হবে এটাই স্বাভাবিক।), অথচ বাংলাদেশের বন্দীবিনিময় চুক্তিটি নয়। এটা ঠিক না। ভৌগলিক অবস্থানকে আমলে নিয়ে একবার ভাবুন, বাংলাদেশের অবস্থাও স্নোডেনের ব্যাপারে ইউরোপের বা সারাবিশ্বের অন্যান্য দেশের মত না? ক্ষমতার স্বার্থের ব্যাপারে নীতিবোধ মসজিদ, মন্দির বা গীর্জায়ও জায়গা পায় না। এটাই শতসিদ্ধ।

    আপনি লিখেছেন, “আমাদের সরকার যা করেছে ভারতের জাতিগুলোর আন্দোলন নিয়ে, এটা সংবিধানের লঙ্ঘন।”… বিনীত অনুরোধ, এই ব্যাপারটি আরো খোলসা হওয়া উচিত এবং আলোচনার দাবি রাখে। করবেন কি? এখানে আইন বা সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা মারাত্নক।

    1. বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫
      বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ (১)-এর গ অনুচ্ছেদে বলা আছে-

      ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন।’

      ‘নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থনে’র এই সাংবিধানিক নির্দেশনা লঙ্ঘন করেই ভারতের স্বাধীনতাকামীদের সে দেশের শাসকদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে।

  8. //আগামীতে এসব সংগঠনের কোনোটি
    //আগামীতে এসব সংগঠনের কোনোটি যদি বিজয়ী হয়, ভারত রাষ্ট্র যদি তাদের স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয় তখন নতুন রাষ্ট্রগুলোর বড় শত্রু হব আমরা। //

    এটা আসলেই খুব বড় ঝুকি আমাদের জন্য! খুব ভাল লিখেছেন, দু:খ প্রকাশ করা ছাড়া তেমন কিছু তো করার নেই আমাদের!

  9. বড়ই বিনুদন! আপনার এই লেখায়
    বড়ই বিনুদন! আপনার এই লেখায় আওয়ামী অনলাইন পালে মাতম উঠেছে। নেতা আর গেলমানদের একে অপরের পিঠ চুলকা-চুলকি চলছে বেশুমার! ভারতে পাছা দিতে দিতে এখন ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কিছু বললেই এরা পাগলা কুকুর হয়ে যায়। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কাছে তথা সারা বিশ্বের বাঙালীর কাছে মুক্তি সংগ্রাম হলেও পাকি কুত্তাগুলোর কাছে ছিল বিচ্ছিন্ন আন্দোলন। আর সেই আন্দোলনে মদদ যুগিয়েছে ভারত।

    এই সহজ হিসাব ভারতের পা চাটা কুত্তাগুলো বুঝবে না।

  10. @আনিস রায়হানঃ
    @আনিস রায়হানঃ

    বন্দীবিনিময়ের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ব্যাপারে কি লেখা আছে? দ্বিপাক্ষিক চুক্তির সাথে সংবিধানের ২৫ (১)-এর গ অনুচ্ছেদ কিভাবে সাংঘর্ষিক? বন্দীবিনিময় চুক্তিটি কবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল? তখন কে কে বা কোন কোন দল এই চুক্তির বিরোধীতা করেছিল এবং এই সাংর্ঘষিক বিষয়টি সামনে এনে করেছিল কিনা? আইন পেশার কেউ কেউ কি এই সাংবিধানিক সাংঘর্ষিকতার উল্লেখ করেছিল? আপনি করেছিলেন? হাইকোর্টে কোন রিট হয়েছিল তখন? রিটের পর্যবেক্ষনে কি বলেছিল আদালত? কোন ক্যাম্পেইন হয়েছিল ব্লগে বা ফেসবুকে?

    আর একটি কথা, দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান, ২১ আগষ্ট্রের বোমা হামলার সাথে উলফার সংশ্লিষ্টতা যার সুতিকাগার “হাওয়া ভবন”, এবং জেলে যাওয়ার আগে বাংলাদেশে একটা আবাসিক এলাকায় স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সম্পূর্ন বিনা অনুমতিতে বসবাস করা, স্যাটেলাইট টেলিফোনের মাধ্যমে সম্পূর্ন বেআইনীভাবে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে ভারতের আভ্যন্তরিন রাজনীতি পরিচালনা করা…ইত্যাদিগুলো কি আপনার উল্লেখিত বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদগুলো সমর্থন করে? এইব্যাপারেও আপনার সহৃদ-ব্যাখ্যার অনুরোধ করছি। ভুলে গেলে চলবে না, আমি এবং আপনি দুজনেই বাংলাদেশের নাগরিক এবং সংবিধানের প্রতি অনুগত।

    উপরের গুলো যদি না হয়ে থাকে, তাহলে আপনার এই লেখাকে কিভাবে মূল্যায়ন করা উচিত? উদ্দেশ্যমূলক কেন বলা হবে না? 🙂

    নোট. ব্যাপারগুলো আমার জানা নাই বলেই জিজ্ঞেস করা। পক্ষাবলম্বন করা নয় স্যার।

    1. আপনি তাহলে লেখাটা ভালো করে
      আপনি তাহলে লেখাটা ভালো করে পড়েন নাই। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক তো এখানেই- রাষ্ট্র কিভাবে তাদের গ্রেপ্তার করে গোপনে ভারত সরকারের হাতে তুলে দেয়? এটা কি আইন মেনে হয়েছে? বাইরের অভ্যাগত আইন ভেঙেছে সেজন্য তাকে জেল খাটিয়েছে সরকার, এটার পক্ষে দাঁড়ান। তাহলে এবার দাবি করেন, কোন আইনে শেখ হাসিনার সরকার এদেশ থেকে ভিনদেশিদের গ্রেপ্তার করে বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়? বেআইনিভাবে এই কাজ করার জন্য শেখ হাসিনা সরকারের সবার জেল খাটার দাবি জানান। আইনে কি আছে কি নেই এই আলাপের কোনো অর্থ নেই। যেখানে আইন ছাড়াই বন্দিদের তুলে দেয়া যায়। এর মূলে থাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জের ধরে আমাদের সরকারে থাকা লোকজনের লুটপাট। লুটপাট ঠিকঠাক করার জন্যই এরা অধিকাংশ দ্বিপাক্ষিক ব্যাপারাদি প্রকাশ করে না। এরা এগুলো গোপন রাখে। আপনি টিকফা হলে খুঁজে পাবেন না, প্রধানমন্ত্রী ভারত গিয়ে কি কি চুক্তি করেছেন এটা জানতে পারবেন না।

      আমরা সংবিধান অনুযায়ী চলি? হাসালেন। এদেশে সংবিধান একটা কাগুজে বাঘ। ক্ষমতায় থাকা শিয়ালগুলো দিনরাত তার মুখের ওপরে প্রস্রাব করে।

  11. পড়লাম তবে বিষয়টা এত সহজ নয়।
    পড়লাম তবে বিষয়টা এত সহজ নয়। অনুপের মুক্তি সংগ্রাম নাকি বন্ধু রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব? বিষয়টাকে সেভাবে দেখা বাঞ্ছনিয় বলে মনে করি। শুভ কামনা।

  12. “যুক্তরাষ্ট্র” ব্যবস্থার
    “যুক্তরাষ্ট্র” ব্যবস্থার প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। এই জন্য সোভিয়েত ই্উনিয়ন ভেঙ্গে গেলে দুঃখ পাই। বহু জাতি, বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি একটি ছাতার নিচে, মিলেমিশে বসবাস করছে- এটিই পৃথিবীর অন্তিম চাওয়া। পৃথিবী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি রাষ্ট্র পৃথিবীকে দুর্বল করে দিবে। আসামের জনগণের কি চায় সেটা আমার জানা নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 5 =