‘একটা দানব যন্ত্রের পুনর্জন্ম হচ্ছে’ – অরুন্ধতী রায়

গত ৯ নভেম্বর ভারতের আউটলুক পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এ সাক্ষাৎকারটি। সেখান থেকে ভাষান্তর করেছেন মনোজ দে। এটি আংশিকভাবে বাংলায় ছাপা হলেও এটাই প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ। সাক্ষাৎকারটির বিষয়বস্তু ইতোমধ্যে সবার জানা। লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট অরুন্ধতী রায় সম্প্রতি ভারতের জাতীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে লেখক-শিল্পী-এ্যাকাডেমিশিয়ানদের পুরস্কার বর্জনের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ১৯৮৯ সালে সেরা পাণ্ডুলিপি লিখে পাওয়া সাহিত্য এ্যাকাডেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দেন অরুন্ধতী। সম্প্রতি বিবিসি হিন্দি রেডিওর সম্পাদক রাজেশ জোশি তার এ সাক্ষাৎকারটি নেন। সাক্ষাৎকারে র‌্যাডিকেল অরুন্ধতী ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির ঐতিহাসিক কার্যকারণ যেমন ব্যাখ্যা করেছেন, ঠিক তেমনি এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব খোলাসা করেছেন।

 

১৯৮৯ সালে তুমি সেরা পাণ্ডুলিপি লিখে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলে; এতদিন বাদে সেটি বর্জন করার সিদ্ধান্ত কেন?
অরুন্ধতী :
আমি বিষয়টা অনুভব করলাম তখনই, যখন দেখলাম ওই লেখকদেরকে মানুষেরা আঘাত করছে; কোনো কোনো সময় তারা আমাকে ব্যবহার করে লেখকদের আঘাত করছে। বলছে- দেখ সে (অরুন্ধতী) সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার প্রত্যাখান করেছে, তোমাদেরও তা করা উচিৎ। লোকজন আমাকে তাদের (লেখকদের) বিরুদ্ধে ব্যবহার করছিল। আমি চিন্তা করেছিলাম, এই আন্দোলনকে সংহতি জানিয়ে আমি অবশ্যই কিছু করব। কারণ যে সব লেখকেরা দীর্ঘদিন ধরে লিখছে, তাদের কাছে পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়া বড় কিছু নয়। তেমন কিছু নয়, আসলে এ আন্দোলনকে আমি সুন্দর ঐতিহাসিক আন্দোলন বলে ভেবেছি, এর প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে চেয়েছি। এটা আমার জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নয়, অথবা আদৌ এমন কিছু নয়।

যে বিষয়ের দিকে তাক করে এ আন্দোলন হচ্ছে সেটা তো প্রথম ঘটনা না; এ ধরণের হত্যাকাণ্ড ও হামলা অতীতেও বহু হয়েছে। তাই লেখক ও শিল্পীরা এ বারে যে পুরস্কার ফিরিয়ে দিচ্ছে তার ভেতরের তাগিদ কি?
অরুন্ধতী :
একটি সমস্যা হচ্ছে- এই যে খুন, পিটিয়ে হত্যা- এগুলো এখনই শুধু হচ্ছে না। তবে আমরা এখানে দেখছি একটা মতাদর্শ রয়েছে- যেটি চাকা ঘুরতে বাতাস দিচ্ছে। এ মতাদর্শ প্রতিষ্ঠানকে বদলে দিচ্ছে, পাঠ্যসূচি বদলে দিচ্ছে এবং এটা অন্ধগর্ভ সবকিছু তৈরি করছে- যা করালদর্শন মূর্তি নিয়ে শূন্য জায়গা দখল করছে। এ সব খুন-খারাবি, পিটিয়ে হত্যার ন্যায্যতা দেওয়া হচ্ছে এবং খুব ভীতিকরভাবে এর সমর্থন তৈরি করা হচ্ছে। অবশ্যই, এ ধরণের ঘটনা এটাই প্রথম নয়, কিন্তু আমরা একটা নির্দিষ্ট ইতিহাসের পথচক্রের সমাপ্তি সময়কে দেখছি, যখন এ লোকগুলো কোনো বিরোধিতা ছাড়াই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছে। তারা তাদের লোকদের দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো ভরে ফেলছে, তারা ইতিহাসের বই নতুন করে লিখছে। একটা দানব যন্ত্রের পুনর্জন্ম হচ্ছে এবং এ সব হত্যাকাণ্ড খুব গুরুতর কিছুর সূত্রপাত করছে।

এই ‘লোকগুলো’ কারা?
অরুন্ধতী :
আমি বিজেপি-আরএসএসকে সম্মিলিতভাবে বুঝাচ্ছি- সারগতভাবে যারা হিন্দুত্ববাদ ধারণ করে। আর ১৯২৫ সাল থেকে ভারতকে যারা একটা হিন্দু রাষ্ট্র বানাতে চেয়ে আসছে।

১৯২৫ সাল থেকে আরএসএস আছে, কিন্তু নরেন্দ্র মোদি গত বছর প্রধানমন্ত্রী হলেন। যা ঘটছে এর জন্য কি প্রধানমন্ত্রীকে দায়ি করবেন?
অরুন্ধতী :
এটা প্রধানমন্ত্রীর বিষয় নয়; আমি একটা ব্যবস্থার কথা বলছি। অটল বিহারী বাজপেয়িও ছিলেন আরএসএস এর সদস্য। কিন্তু এখানে আপনারা দেখছেন যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে- এ ক্ষমতা কারো কাছ থেকেই বিরোধিতার মুখে পড়ছে না। অন্য যে বিষয়টা, এখন যা ঘটছে, আমার ভাবনায় সেটা খুব কৌতুহলজনক। আমার চিঠিতে যেমটা লিখেছি, পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টা অন্য অর্থে রাজনীতি, কারণ কেন্দ্রে কোনো আস্থাশীল বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি নেই। এটা আবার সেই নৈরাশ্যের বহিঃপ্রকাশও; এখন এমন কেউ নেই যে সামনে গিয়ে বলবে- আসো, আমরা তোমাদের সাথে লড়াই করব। সুতরাং, শিল্পী-চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মাধ্যমে এখন যা ঘটছে সেটি খুবই কৌতুহলজনক। আমি মনে করি না, এ আন্দোলনে ইতিহাসের পূর্বের যোগসূত্র আছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে আবেদন করা হয়েছে আগামী ১০ বছরের জন্য সাম্প্রদায়িক ইস্যু স্থগিত রাখতে; চারপাশে যা কিছু ঘটছে এর জন্য এখনও কি তাকে দায়ি করা যায়?
অরুন্ধতী :
তুমি যখন প্রধানমন্ত্রী তখন তোমার উপর আরও কিছু শক্তি কাজ করে। আন্তর্জাতিক বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে; তোমার বৃহৎ ব্যবসা রয়েছে- তাদের স্বার্থের কিছু ছাপ থাকবে, তারা এ সব বিষয় বলিয়ে নেবার চাপ দেবেই। আবার তোমার নির্বাচকমণ্ডলী রয়েছে এবং শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী রয়েছে; যারা তোমাকে ক্ষমতায় নিয়ে বসিয়েছ, তারা কিন্তু সম্পূর্ণ বিজাতীয় ভাষায় কথা বলছে। আমরা লক্ষ্য করছি যে, সম্পূর্ণ শত্রুশিবিরের বিষয়-আশয় নিয়েও তারা বলছে, দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখুন, আরআসএস তাদের বীর হিসেবে ড. আম্বেদকারকে নিয়ে আসছে। এটা কীভাবে সম্ভব? তিনি হিন্দুত্ববাদ বর্জন করেছিলেন। তার র‌্যাডিকেল ভাবনার শেষ বহিঃপ্রকাশ- হিন্দুত্ববাদ বর্জন করে বুদ্ধবাদ গ্রহণ। তুমি যেকোনো বিষয় যেকোনো ভাবে বলতেই পার- যদিও সেগুলো ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্ন কিছু।

বর্তমান পরিস্থিতির সাথে অটল বিহারী বাজপেয়ির শাসনকালের তুলনা কীভাবে করবে? বাজপেয়ির সময়ে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক ও চার্চের ওপর হামলা হয়েছে; গ্রাহাম স্টেইন ও তার দুই ছেলেকে জীবন্ত ঝলসানো হয়েছে।
অরুন্ধতী :
২০০২ সালে গুজরাটে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কর্মসূচি সংঘটিত হয়েছে। সবাইকে পরিষ্কার করার জন্য অবশ্যই বলতে হবে- এখানে একটা সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাগত ত্রুটি আছে; যখন এই এক দলের পর আরেক দল নির্ভর ব্যবস্থা গণতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন এই ব্যবস্থার নিজেরই প্রয়োজন পড়ে মানুষকে বিভক্ত করে ভোটব্যাংক সৃষ্টি করা। কংগ্রেস বীজ পুঁতেছে আর বিজেপি ফসল তুলছে। এ বীজের শেকড় খুঁজতে হবে আরও পেছনে গিয়ে, এমনকি আরএসএসের জন্মের আগে। তিলকের ভাবনা এবং গান্ধীর ভাবনার মাঝে অমিলটা কি? সবাই যেমনটা জানে, আমি কিন্তু গান্ধীর মহৎ ভক্ত নই। এটা (বর্তমান পরিস্থিতি) ইতিহাসের একটা প্রক্রিয়া যেটা শূন্যস্থান দখল করেছে। লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও এ্যাকাডেমিশিয়ানদের বর্তমান আন্দোলন এ কারণেও গুরুত্বপূর্ণ যে সবখানে বিশেষত টেলিভিশন স্টুডিও ও গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত সংকীর্ণভাবে বিষয়গুলোকে কংগ্রেস বনাম বিজেপি সমীকরণে আটকে রাখা হয়।

তুমি কি বলতে চাও কংগ্রেস ও বিজেপি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ?
অরুন্ধতী :
আমার মনে হয় কংগ্রেস যে কাজ রাতের আঁধারে করে, বিজেপি সেটি দিনের আলোয় করে। আমি বলব, এদের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে বিজেপির একটা উদোম মতাদর্শ রয়েছে। নগ্নভাবে প্রকাশিত এ মতাদর্শ সংখ্যালঘুদের ওপর আচরণের ন্যায্যতা দিচ্ছে। অন্যদিকে কংগ্রেস এ কাজটাই সেয়ানা ও কুটিল কৌশলে করে। এবং যখন ঠেলাধাক্কা আসে, তখন তুমি কুটিলতার প্রতি কৃতজ্ঞ থাক। সোজা করে বলতে গেলে বিজেপির অনেক মুখপত্রের মতোই তারা কথা বলে। এটা খুবই ভয়ংকর ব্যাপার। তুমি জান না, এখান থেকে কোথায় যেতে হবে।

লেখক ও শিল্পীদের এ প্রতিবাদ কি কোনো আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে?
অরুন্ধতী :
এ আন্দোলন থেকে আমরা বড় কিছু করে ফেলব এমনটা ভাবি না। আমি যেমনটা বলেছি, পুরস্কার আমাদের কাজের মাপকাঠি নয়, এটা হচ্ছে কিছু করা। এটা অনেকটা, অন্য কেউ কিছু করার চেষ্টা করছে, সেখানে সংহতি জানানোর মতো ব্যাপার। পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা না দেওয়ার মাঝে আমাদের চেতনা স্পষ্ট হতে পারে বলে আমি মনে করি না। আমি ভাবতে গেলে অবাক হব, খুব কম সংখ্যক লেখক-শিল্পী অতীতে পরিষ্কার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। আমি তাদের কেউ নই; আমার কাছে এমনটাই মনে হয়। কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় ছিল, যারা ছত্রিশগড়ের জঙ্গলে আধাসামরিক বাহিনী নিয়োজিত করেছিল, তারা আদিবাসী নজরদারি আন্দোলনের একেকজন অংশ। সালওয়া যুদাম নামে পরিচিত ওই আন্দোলনে জ্বালাও-পোড়াও করা হয়েছিল, মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। তাই এখানে (লেখক-শিল্পীদের আন্দোলন) যে খুব নৈতিক শক্তি আছে আমি বলব না। তবে যা ঘটছে তা হচ্ছে- এ আন্দোলন মানুষকে ভাবতে বাধ্য করছে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, অথবা একজন লেখক, কবি বলেই তুমি পার পেয়ে যাচ্ছ না। তুমি বলছ, এই রাজনীতি দিয়ে আমার কিছুই করার নেই, কারণ এটা তোমার সামনে নাটাই ঘুরাচ্ছে এবং এখানে কোথাও লুকোনোর কোনো জায়গা নেই। আমার কাছে মনে হয় এটা খুব কৌতুহলজনক। যখন এই সরকার গঠিত হয় তখন আমাদের অনেকের কাছে মনে হয়েছিল তারা দশ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছে। খুব শিগগিরই এ মোহ ভঙ্গ হতে শুরু করল, দিল্লির নির্বাচন সেটি উদঘাটন করল। আমি জানি না বিহারে কি ঘটেছে (সাক্ষাৎকারটি গ্রহণকালে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হয়নি)। আমি মনে করি, এটা কৌতুহলজনক যে এটা একটা জটিল দেশ এবং তুমি জোর করে সবাইকে এক দিকে যেতে বাধ্য করাতে পারবে না, এমনি তাদেরকে ভয় দেখিয়েও।

কিন্তু অধিকাংশ লেখক-শিল্পী ইতোমধ্যেই মোদি বিরোধী বলে মনে হচ্ছে। তাই পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়া ‍কি বড় কোনো ব্যাপার হচ্ছে?
অরুন্ধতী :
তুমি যদি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের বিরোধী হও, তবে তাই হও। তোমার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করার জন্য তুমি কিছু করতেই পার। নিরেপক্ষ হওয়া আমাদের কাজ নয়।

বিজেপি-আরএসএস সমর্থকদের কাছে থেকে পাল্টা প্রশ্ন আসছে ১৯৮৪ সালের দাঙ্গা ও অন্য ঘটনাগুলো ঘটেছিল তখন তোমরা কোথায় ছিলে?
অরুন্ধতী :
প্রচুর মানুষ আছেন যারা কিছুই বলেন না। প্রচুর মানুষ আছেন যারা রাজনৈতিক মানুষ নন। লেখকদের এ নিয়ে কাজ করতে হবে, তারা তা করছেও। আমি বলছি না যে, যখন কংগ্রেস জঙ্গলে আধা সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছিল তখন তোমরা কোথায় ছিলে? অথবা, বলছি না নর্মদায় মানুষজন যখন জলে নিমজ্জিত হল তখন তোমরা কোথায় ছিলে? এমনকি আমি রাজনৈতিক হয়ে জন্ম নেইনি- আমি যেখানে এসেছি একটা সফরের মধ্য দিয়েই সেখানে পৌঁছেছি। সময়েই সবকিছু ঘটে; আমি কিছু বলতে চাই না; আমি ঠিক জানি না, আমি যদি চারপাশের বাস্তবতায় পরিচিত কেউ না হতাম তাহলে কি ঘটত। মানুষের চারপাশে অনেক কারণ থাকে এবং তারা সে কারণের উত্তর খোঁজে। ব্যক্তিগতভাবে, আমি এভাবেই ভাবি- আমাদের এ চিন্তা বাদ দিতে হবে কে শিখদের গণহত্যা করেছে, আর কে মুসলিমদের গণহত্যা করছে। তারা ভিন্ন কেউ নয়। তারা একই, তাদের চালিকাশক্তি এক। তুমি যখন কংগ্রেস-বিজেপির ভাবনা থেকে আসবে তখনই এ ধরণের যুক্তি দেখাবে।

তুমি কি মনে কর এদেশে দলিতদের ওপর নৃশংতায় একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না, যেমনটা দেখা গেল দারদিতে একজন মুসলমানকে পিটিয়ে হত্যা করার পর? তুমিসহ লেখক ও শিল্পীরা দলিতদের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করনি। তুমি কি একমত হবে, দলিতদের ওপর নৃশংশতা মুসলমানদের ওপর নৃশংসতার তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে?
অরুন্ধতী :
তুমি শতভাগ ঠিক বলেছ। আমি তোমার সাথে একমত। যখন একজন উচ্চবর্ণের হিন্দুকে হত্যা করা হয়, অথবা একজন মুসলমান অথবা একজন দলিতকে হত্যা করা হয়- সবক্ষেত্রে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দলিতদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা এখনও ঘটেই চলেছে কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া তীব্রতা পাচ্ছে না।

তাহলে, কেন তুমি এর প্রতিবাদে পুরস্কার বর্জন করনি?
অরুন্ধতী :
না, না,… কীভাবে পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়া এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে? সম্ভবত এ বিষয়ে আমার লেখা তুমি পড়নি? আমি আমার লেখায় লিখেছি আম্বেদকার বলেছেন, ‘অস্পৃশ্য হিন্দুত্ববাদ বাস্তবিকই ভয়ের কুঠুরি’। তিনি বলেননি, ‘হিন্দুত্ববাদ বাস্তবিকই ভয়ের কুঠুরি’। তাই দলিতদের বিরুদ্ধে যা ঘটছে তা খুবই গুরুতর। আমি গান্ধীকে নিয়ে লিখেছি- তার নাম উল্লেখ করলে সমগ্র বাম সংঘ তোমাকে আক্রমণ করবে। আমার মনে হয়, আমিই শেষ ব্যক্তি যাকে তুমি এ নিয়ে দোষারোপ করতে পারছ (দলিতদের পক্ষে কোনো কথা না বলার জন্য)।

মূল ইংরেজীতে সাক্ষাৎকারটি পড়তে এই লিঙ্কে যান : http://www.outlookindia.com/article/there-isnt-anywhere-to-hide/295818

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “‘একটা দানব যন্ত্রের পুনর্জন্ম হচ্ছে’ – অরুন্ধতী রায়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

63 + = 73