বিএনপি জামায়াতের অগ্রবর্তী একটি প্রক্সি দলঃ এবারের যুদ্ধে এক পক্ষকে মরতেই হবে

যে কোন যুদ্ধে অগ্রবর্তি একটা দল থাকে। তারা যুদ্ধে পেছনের মূল দলের অগ্রযাত্রা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পথের মাইন পরিস্কার করা থেকে শুরু করে নদীপথে পারাপারে ব্যবস্থা করা,সম্ভাব্য ছোট খাট প্রতিরোধ নির্মুল করা ছাড়াও মূল দলের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার কাজগুলো করে থাকে। নামের ভিন্নতা থাকলেও তারাও মূল দলের কৌশলগত যোদ্ধা এবং একই আদর্শীক দলের অন্তর্ভূক্ত সদস্য। কমান্ডের অধীনস্ততায়ও তারা অখন্ড। এমনটি অন্যান্য ক্ষেত্রেও দেখা যায়। যেমন কিছুদিন আগে ভারতের রাষ্ট্রপতি এসে ঘুরে গেলেন বাংলাদেশে। তাঁর আগমনের আগেই সে দেশ থেকে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রবর্তী একটা দল প্রায় এক সপ্তাহ আগেই ভারত থেকে বাংলাদেশে এসে অবস্থান নিয়েছিল। সর্বক্ষেত্রেই এটা লক্ষ্যনীয় যে, অগ্রবর্তী দলটিই মূলত তার পেছনের এলিট বা মূল দলটির অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করে থাকে। নামে ভিন্নতা বা অবস্থানে সময়ের ভিন্নতা থাকলেও, মূলত দুটোই এক দল এবং আদর্শে বিশ্বাসী। এই ভিন্নতা শুধুই কৌশলগত কারনে। অন্যথায় নয়।

ভুমিকায় এই কথাগুলো বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত ইসলামীর অবস্থান এবং ভুমিকার ব্যাপারে আমার তত্ত্বীয় ভাবনাগুলো উপস্থাপন করা। অনেকে হয়ত ভাববেন যে, এই ধরনের লেখা এবং ভাবাবেগ ১৬ কোটি মানুষের দেশে ইতিপূর্বে অনেকেই লিখেছেন এবং এখনো লিখছেন। আমার দাবি, না- এ লেখার প্রাসঙ্গীকতা এক হলেও, ভাবধারায় তা একেবারেই ভিন্ন এবং উত্থাপিত দাবির স্বপক্ষে সম্ভবত এটাই প্রথম লেখা। আলোচনা, পর্যালোচনা এবং যুক্তির সরল রেখার পথ ধরে এগিয়ে গেলে, নিঃসন্দেহে লেখাটিকে একটা বইয়ের আকার ধারন করানো যায়। তবে সে দায়ভার অন্য কেউ নেবেন এটাই আশাবাদ।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরবর্তিতে পাক বাহিনীর দোসর বা সহায়ক বাহিনী জামায়াত ইসলাম দ্বারা গঠিত বিভিন্ন মিলিশ-বাহিনী, যেমন আল-বদর, আল-শামস, রাজাকার, শান্তিবাহিনী ইত্যাদির কথা বর্তমান প্রজন্ম জেনেছে বিভিন্ন ভাবে এবং উপস্থাপনায়। স্বাধীনতার পরে এই দলটির সর্বোচ্চ নেতারা সহ অন্যান্যরা হয় দেশ ত্যাগ করেছিল, অথবা আন্তগোপনে গিয়েছিল। বেশ কিছু জামায়াতী অবশ্য মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহতও হয়েছিল।

১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রণীত সংবিধানে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধকরন সহ তাবৎ ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অর্থাৎ বাংলাদেশের মাটি থেকে হানাদার বাহিনীর দোসর জামায়াত ইসলামকে সম্পূর্ন নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিল। বাংলাদেশে জামায়াতের কোন অস্তিত্বই ছিল না তখন। ১৯৭৩ সালে যুদ্ধকালীন সময়ে অপরাধের জন্য গ্রেফতারকৃত হাজার হাজার মিলিশ সদস্যকে বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছিল বিশেষ আদালতে।

জামায়াতও বসে থাকেনি। হৃত রাজ্য ফিরে পেতে,তার প্রভু পাকিস্থানের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় খুব সুক্ষভাবে বাংলাদেশে বিছিয়ে দেয় ভয়ংকর সব চক্রান্তের রাজনীতি। ছদ্মবেশে অগ্রবর্তি একটা দলের সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে অবিশ্বাস্য গোপনীয়তায় সে চক্রান্তের জালে বিচরন শুরু করেন মেজর জিয়াউর রহমান নামে একজন অতি সুক্ষ্ম মস্তিস্কের সৈনিক। মেজর জিয়া নামের এই বিষবৃক্ষের চারা রোপন হয়েছিল মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই। যুদ্ধের ডামাডোলে কেউই তাকে সন্দেহ করতে পারেনি। সে সময় সবার দৃষ্টিকে ফাকি দিতে পারলেও যুদ্ধপরবর্তি অনেক গবেষনায়ই বিতর্কের ঝড় তুলেছেন এই পাকসৈনিক। অনেকে সন্দেহের যৌক্তিক তীর ছুড়েছেন এই বিভিন্ন কর্মকান্ডের দিকে। অগ্রবর্তী দলের এই সেনানায়ক তার সুচতুর কৌশলে সদ্যজন্মা এই দেশটির সেনাবাহিনী প্রধানের পদটি দখলে নিয়ে নেন প্রায় বিনাবাধায়। তাকে এই কাজে সহায়তা করে মুসতাক শ্রেনীর বেশ কিছু পাকিসৈনিক, যারা এই অগ্রবর্তি দলেরই সদস্য।

১৯৭৫ সালের আগষ্টে এই অগ্রবর্তী দল অত্যন্ত সুকৌশলে হত্যা করতে সক্ষম হয় জাতির পিতাকে। অগ্রবর্তী দলের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রা সেই থেকে চলতে থাকে এবং প্রায় বাধাহীন ভাবেই। তারপর শুরু হয় প্রতিশোধের রাজনীতি আর মুক্তিযোদ্ধা নিধন। তা শুরু হয় প্রথমে মূল সেনাবাহিনীতে,তারপর বেসামরিকদের উপরে। সুক্ষভাবে চিন্তা করলে খুব স্পষ্টতই ফুটে ওঠে এই অগ্রবর্তী বাহিনীর শৈল্পিকসম কাজকর্মগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। জিয়া কতৃক রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়েই জারি করা হলো ইনডেমনিটি আইন। জাতীর পিতার হত্যাকারীদের বিশেষ বিমানযোগে পাঠিয়ে দেয়া হল লোকচক্ষুর অন্তরালে। পুরস্কৃত করা হল হত্যাকারীদের বিভিন্নভাবে। পর্যায়ক্রমে তারপরের ইতিহাসতো সবার জানা। সেনা ছাউনি থেকে গঠন করা হল বিএনপি নামের এক অগ্রবর্তী রাজনৈতিক দল। সেনা হিসেবে ক্ষমতায় থাকলে রাজনৈতিকভাবে পেছনের মূল দল বা শক্তিকে প্রতিষ্ঠা দেয়া অনেক কঠিক কাজ। তাই সরাসরি রাজনৈতিক ময়দান তৈরির কর্মযজ্ঞ। শুরু থেকে ছদ্মবেশে গোপনে থাকলেও মেজর জিয়ার নেতৃত্বে অগ্রবর্তী দলটি বিএনপির মাধ্যমে তার স্বরূপে আত্নপ্রকাশ করলো। পাশাপাশি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিল সৌদি আরব, চীনের মত পাকি সমর্থক দেশগুলো। বাকশালের অতিউৎসাহী সদস্য হয়েও মেজর জিয়া বাকশালের সম্পূর্ন বিপরিতে গিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধূয়া তুলে বাংলার মাটিতে সাদর সম্ভাষন জানালো বিতারিত হওয়া জামায়াত ইসলামীকে। পূনঃপ্রতিষ্ঠা হল জামায়াত ইসলামের বাংলার মাটিতে। সেই সাথে সমাপ্ত হলো চক্রান্তের প্রথম ধাপটির। আওয়ামী লীগ তখন নিপাতিত একটা দল,যার নেতৃত্ব নাই,কর্মীরা আত্নগোপনে অথবা শুধুমাত্র বেচে থাকার জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা একটি দল। তারপর থেকে শুরু হলো মূল দল জামায়াতকে শাসক দল হিসেবে পূনঃপ্রতিষ্ঠা করার যতসব যজ্ঞ আয়োজন।

পাঠক, একের পর এক ঘটনাগুলোকে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে দেখুন কিভাবে জামায়তকে পূনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ছদ্মবেশী বিএনপিকে অগ্রবর্তি দল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আসলেই কি তাই? তাহলে এটাই হোক বিচার্য যে, এই বিএনপি এবং জামায়াতের সাথে পার্থক্য কোথায়? বিএনপি স্বাধীন বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত যা কিছু করেছে, তা সম্পূর্ন জামায়াতকে পূনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যই করেছে,যা সাধারনত একটা অগ্রবর্তী দলই করে থাকে। এই অগ্রবর্তী দল হুট করে হাওয়া থেকে উড়ে এসে জোটেনি। এতে ছিল সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা, কৌশল, সুদক্ষ অভিনয় এবং সর্বপরি আন্তর্জাতিক স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের অকৃপন সহযোগীতা। এছাড়াও যেটা ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর এবং উল্লেখযোগ্য, তাহলো বাংলার এই বিশাল জনগষ্ঠীকে প্রায় ৪২ বছর ধরে বোকা বানানো। যাক, যা বলছিলাম যে, অগ্রবর্তী দলটি হুট করে হাওয়া থেকে যে উড়ে আসেনি তার এক উদাহারন সৈনিক জিয়ার রাজনীতিতে প্রবেশের পরই রেখে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মানি ইজ নো প্রব্লেম। আই উইল মেক পলিটিক্স ইমপসিবল ফর দ্য পলিটিসিয়ানস। তাহলে এতো টাকার উৎস কি? যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন দেশটিতে যেখানে দূর্ভিক্ষের পর দূর্ভিক্ষ চলছিল, আর সেই দেশটিতেই মুজিব হত্যার পরে জিয়ার হাত ধরে কাড়ি কাড়ি টাকায় ভর্তি হয়ে গেল। উত্তর খুব সোজা। আমেরিকা, সৌদি আরব, পাকিস্তান, লিবিয়া আর চীনের মত দেশগুলোই সেই টাকার উৎস। যুদ্ধকালীন সময়ে এই দেশগুলোই পাকিস্তানকে অর্থ এবং যুদ্ধের রসদ দিয়ে সাহায্য করেছিল এবং মুজিব হত্যার পরে এই দেশগুলোই জিয়ার এই অগ্রবর্তী প্রক্সি দল বিএনপিকে সহযোগীতা করেছিল মূলত বিএনপিকে শক্তিশালি করতে নয়; বরং জামায়াত ইসলামীকে বাংলাদেশে পাকীবাজ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, মুজিব হত্যার পরে তাহলে সরাসরি জামায়াতকে কেন ক্ষমতায় বসানো হল না। তার উত্তর হচ্ছে, প্রথমতঃ মুজিব হত্যাকে একটা সাধারন সামরিক ক্যুর পরিনতি হিসেবে দেখানো এবং দ্বিতীয়ত এই হত্যাকান্ডের সাথে আন্তর্জাতিক কোন চক্রের সম্পর্ক নাই,তার প্রমানের জন্য। এরপরেও আর একটা উদ্দেশ্যও খুব স্পষ্ট যে, যুদ্ধ পরবর্তি এত অল্প সময়ের মধ্যে জামায়াত ইসলামকে ক্ষমতার মসনদে দেখলে বাংলার মানুষ মেনে নিত না এবং তখনই হয়ত দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়ে বসত। তাছাড়া এতো তাড়াহুড়ারও তো দরকার ছিলনা। জামায়াতের অগ্রবর্তী প্রক্সি-দলটি ক্ষমতায় থাকা মানেই যে জামায়াতের ক্ষমতায় থাকা এটা সবচেয়ে বোকা শত্রুটিও বুঝতে পেরেছিল। দেশ পরিচালনায় জামায়াতের অদৃশ্য একটা হাত সব সময়ই যে ছিল, তা আজ আর কারো না বোঝার কোন কারন দেখি না।

এবার দেখা যাক, ক্ষমতায় না থেকেও কিভাবে জামায়াত দেশ শাসন করেছে। কিছু উদাহার দিলে বুঝতে হয়ত সুবিধা হবে। পচাত্তর পরবর্তি বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য কি কি পরিবর্তন হয়েছে? সেগুলো কার পারপাজ সার্ভ করেছে? এই দুটি প্রশ্নের যৌক্তিক পর্যালোচনা করলেই আমার দাবির যথার্থ উপস্থাপনা হবে বলে আমি মনে করি এবং আত্নবিশ্বাসেও বেশ নিশ্চিত। যেমন, ইনডেমনিটি আইন জারি করা, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রথমে বিসমিল্লাহ এবং পরবর্তিতে ইসলাম সংযুক্তিকরন, ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম এবং স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাসকে খুব সুক্ষভাবে মুছে ফেলা, স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রধান মিত্র দেশ ভারত এবং রাশিয়ার সাথে বৈরি সম্পর্ক সৃষ্টি করা, খুব আস্তে আস্তে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানে প্রাধান্য না দিয়ে ধর্মীয় চেতনায় উদ্ভুদ্ধ করা, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটানের জন্যে স্কুলের চেয়ে অধিক হারে মাদ্রাসা এবং মসজিদ স্থাপনা করা, ব্যাঙ্ক-হাসপাতাল-শিশুশিক্ষা-বীমা ইত্যাদি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা গ্রহন করা, সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে জামায়াতের লোকদের বিপুল হারে নিয়োগ দেয়া, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খুব গোপনে ছাত্র শিবিরের প্রসার বৃদ্ধি করা, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিদেশে বিভিন্ন মিশনে চাকুরী দেয়া, সেই হত্যাকারীদের বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল গঠনের অনুমতি দেয়া, সেই দল থেকে সংসদ এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে দেয়া, জামায়াতকে বিএনপির সরকারের অধীনে দুইজন মন্ত্রীর পদ দেয়া,বিভিন্ন রূপে ও নামে বাংলা ভাইদের জন্ম দেয়া, ২১ আগষ্টের নারকীয় ঘটনা ঘটানো, মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে রাজাকারদের দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করা…ইত্যাদি ইত্যাদি। এধরনের আরো শত শত উদাহারন দেয়া যায়। তারপরেও ৭৫ পরবর্তিতে বাংলাদেশে একটা নব্য ধনীক শ্রেনী তৈরি করা হয়েছে। তাদের অর্থের উৎস এবং ক্ষমতার বলয় সম্পর্কে পরিস্কার কোন উত্তর খুজে পাওয়া যায় না। দীর্ঘ ৪০ বছরের শেষের দিকে এক কথায় তারাই মূলত বিভিন্ন ভাবে দেশকে শাসন করেছে, দিক নির্দেশনা দিয়েছে। চাকুরীতে, ব্যবসায়, রাজনীতিতে, সাহিত্যে, মিডিয়াতে প্রায় সবখানেই এই সব নব্য দাড়ি গজানো ধনীক শ্রেনীর উপস্থিতি লক্ষ্যনীয় নয় কি? তাছাড়াও খুব সুক্ষভাবে এই নব্যদেরকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোতে সমবন্টন আকারে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সে দৃশ্যও কিন্তু যথেষ্ঠ দৃশ্যমান। নয় কি? এর সবকিছুর গোড়ার কারনই মূলত এক ও অভিন্ন, জামায়াতের মঊদুদীবাদের বৈপ্লবিক প্রসার ঘটানো এবং ইরানীয় আদলে জামায়াত ইসলামীকে ক্ষমতার শীর্ষে বসানো।

আসুন একটু কল্পনা করা যাক। ধরুন ৭৫ পরবর্তিতে বিএনপি না হয়ে যদি জামায়াত ইসলামী সরাসরি ক্ষমতা দখল করতো এবং বিএনপি বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশে যে পরিবর্তনগুলো এনেছে এবং যেভাবে শাসন করেছে, জামাত কি তার থেকে আলাদা কিছু করত? আমার পর্যবেক্ষনে উত্তর হচ্ছে ‘না’, অর্থাৎ বিএনপি যা কিছু করেছে তা একটা অগ্রবর্তি দল হিসেবে তার মূল দলকে নির্বিঘ্নে পূনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সার্ভ করার জন্যই করেছে।

যদি তাই হয়, তাহলে দাড়ালো কি? বিএনপি কি আসলেই স্বপ্রতিষ্ঠিত, স্বতন্ত্র কোন দল? না-কি জামায়াতেরই একটা অংশ মাত্র? আমার পর্যবেক্ষনে এবং বিবেচনায় বিএনপি শুধুই জামায়াতের একটা অগ্রবর্তি জামাতীয় প্রক্সি দল; অর্থাৎ বিএনপির ভুমিকায় অভিনয় করা জামায়াত ইসলামীই তার মূল এবং একমাত্র পরিচয়।

আমার ধারনায়, গত জোট সরকারের আমলটা ছিল বিএনপি নামধারী দলটির শেষ আমল এবং অগ্রবর্তী দল হিসেবে বিএনপির যতটুকু করার কথা বা পরিকল্পনায় ছিল, তার সবটুকুই এই জামায়াতের প্রক্সি দল বিএনপি বেশ সাফল্যের সাথেই শেষ করেছে। একটু খেয়াল করে দেখুন, গত জোট সরকারের আমলে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। অথচ মাত্র দুইটি মন্ত্রীত্ব পেয়েও দেশটি সম্পূর্ন পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম। সেসময়ে দেশের যে কোন সিদ্ধান্তই হয়েছে জামায়াতের ইচ্ছায় অথবা ইশারায়। তারেক জিয়া জামায়াতের সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্পষ্টভাবে ঘোষনা দিয়েছিলেন, জামায়াত-বিএনপি একই মায়ের দুই সন্তান। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্রলীগতো দাড়াতেও পারেনি। কিন্তু ছাত্রদল উঠতে বসতে শিবিরের হাতে মার খেয়েছে, অপমানিত হয়েছে, শিবিরের বি-টিম হিসেবে কাজ করেছে অবনত মস্তকে। তা হয়েছে খালেদা-তারেকেরই আদেশে এবং হুমকীতে। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশের আশ্রয় দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করানো তো আজ সবার জানা। দশ ট্রাক অস্ত্র। জামায়াত একটা সম্পূর্ন মুসলিম দেশের শাসন ভার নিতে যাচ্ছে অচিরেই, অথচ সেই দেশে হিন্দুরা থাকবে কেন? জোট সরকারের আমলে হিন্দুদের উপরে এতো বিভৎস অত্যাচার এর আগে কি কখনো হয়েছে? যদিও খুব সুক্ষ্মভাবে দেশ থেকে হিন্দু বিতাড়ন শুরু হয়েছে মূলত ৭৫ এর পর থেকেই। অদ্যাবধী প্রায় তিন কোটির অধিক হিন্দু দেশ ত্যাগ করেছে। এধরনের উদাহারন আরো হাজারটা দেয়া যেতে পারে।

আমার ধারনা আরো স্পষ্ট হয় যখন ভাবি, ইয়াজউদ্দিন আর আজিজকে দিয়ে যে করেই হোক নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়ার মাটি কামড়ানো চেষ্টার কথা। আমি আজ নিশ্চিত, সেই বার যদি জোট আবার ক্ষমতায় আসতো,বিএনপি যদিও তখন জামায়াত গহ্বরে হারিয়া যাওয়া একটা দল প্রায়, তারপরেও সম্পূর্ন ঘোষনা দিয়ে বিএনপি বিলুপ্ত করে দিয়ে বিএনপির সবাই জামায়াতে যোগদান করে শুধু বাংলাদেশ জামায়াত হিসেবেই এক দলের শাসন চলতো। ইরানের খোমেনীর যে বিপ্লব হয়েছিল শাহকে ক্ষমতাচূত্য করে, ঠিক সেভাবেই সম্পূর্ন নতুন ধরনের বিপ্লবের মাধ্যমে জামায়াত বাংলাদেশে ক্ষমতার অধিকারী হতে চেয়েছিল। আর একটু ভিন্নভাবে দেখলে বলা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তিতে মুজিব হত্যার আগ-মূহুর্ত পর্যন্ত দেশ যে আদর্শ বা নীতিমালায় চালিত হয়েছে, চল্লিশ বছর পরের হিসেবে দেখা যায় দেশ চালিত হয়েছে সেই আদর্শ বা নীতিমালার সম্পূর্ন বিপরীতমূখী হয়ে। এতেও আমার দাবির স্বপক্ষে যুক্তির প্রতিষ্ঠা পায়। তাছাড়াও বঙ্গবন্ধুর সমাজতন্ত্র দীক্ষার আলোয় একদলীয় বাকশালের যে শাসনের শুরু তিনি করেছিলেন, চল্লিশ বছর পরে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় যেতে পারলে মূলত জামায়াত বিএনপি সহ অন্যান্য সব রাজনৈতিক দলগুলোকে বিলুপ্ত করে ইরান স্টাইলে ইসলামের শাসন জারি করলে আমি অবাক হতাম না। অবাক হতাম না ৭২ স্টাইলে জামায়াতকে যেমন নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছিল, তেমনি ৪০ বছর পরে জামায়াতও চাইলে ক্ষমতার দম্ভে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করতো এবং এর নেতৃত্বকে দেশ ছাড়া করতো। তার কিছু আলামত কি আমরা ১/১১ এর সময় দেখিনি। মাইনাস ওয়ানের কথা আপনারা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। তার কারন, জামায়াতের ইসলামীক ধারায় এক শাসনতন্ত্র মূলত সমাজতন্ত্রের একদলীয় বাকশাল রীতির সম্পূর্ন বিপরিত ধর্মের একটা রীতি এবং জামায়াত ক্ষমতায় আসলে সেটাই স্বাভাবিক ছিল। নয় কি? এক্ষেত্রেও আমার দাবিই প্রতিষ্ঠা পায়।

জামায়াত না হয়ে সম্পূর্ন ভিন্ন নামে অর্থাৎ বিএনপি নাম ধারন করে জামায়াত ইসলাম এরই মধ্যে অনেক বছর শাসন করেছে বাংলাদেশ। এর আর একটি প্রমান পাওয়া যায় বর্তমান সরকারের আমলে সরকারী, আধা-সরকারী এবং বেসরকারী যেকোন জায়গাতেই একাধিক স্তরে বসে আছে জামায়াতের নিজস্ব লোকজন। কিন্তু এটা কি করে হয়? আমার ধারনা, তারা এই সব প্রশাসনে যখন নিয়োগ পেয়েছিল, তাঁদের লেবাস ছিল বিএনপির, মূলত তো তারা শুধুই জামাতের। তাহলে আমার সেই দাবিই পূনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, বিএনপি হচ্ছে জামায়াতের অগ্রবর্তি একটি প্রক্সি দল বাংলাদেশে। মূলত তারা এক এবং অভিন্ন জামায়াত ইসলামী।
বাংলাদেশে বিএনপি না থাকলে জামায়াত থাকবে, জামায়াত না থাকলে বিএনপি থাকবে, অর্থাৎ জামায়াত থাকবেই। কারন যে নামেই ডাকুন না কেন,ভালবাসার মানুষটি তো সেই একই জন। পোষাকের ভিতরের দেহটির অভিন্নতাই এর মূল কারন। আর তাহলো জামায়াত ইসলামী। আর এ কারনেই সম্পূর্ন অস্তিত্ব রক্ষার জন্য খালেদার বিএনপি একেবারে নির্লজ্জের মত উঠে পড়ে লেগেছে জামায়াত এবং যুদ্ধাপরাধীদের বাচাতে। ব্যাপারটা উল্টোটাও হতে পারত। জামায়াত জাহান্নামে যাক। বিএনপি এই সব গায়ে না মাখিয়ে নিজের মত চললে, তাহলে আর আমার দাবি প্রতিষ্ঠা পেত না। কিন্তু এর উল্টোটা কিন্তু আমরা ঘটতে দেখেছি ১/১১ এর সময়, যখন খালেদাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং বিএনপির সব নেতাকে জেলে পোরা হয়েছিল। জামায়াত কিন্তু তখন ভদ্রতাসূচক একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা প্রতিবাদ জানায়নি। কেন জানাবে? এটাই তো নিয়ম। অগ্রবর্তী দল জীবনের ঝুকি নিয়ে মূল দলের পদচারনা নির্বিঘ্ন করবে। সে কাজ করতে গিয়ে যদি তাদের জীবন যায়, তাতে জামায়াত ইসলামীর কিছুই যায় আসে না বা তারা সম্পূর্ন নির্বিকার থাকবে স্বভাবতই। কিন্তু খালেদা এবং বিএনপি সেটা করতে পারছেন না শুধুই মাত্র তাদের অগ্রবর্তী প্রক্সি দলের পরিকল্পনা মাফিক দায়িত্ব পালনের কারনে। তাই নয় কি? তারপরেও বলব, ব্যাপারটা এতোটাই সুস্পষ্ট যে, এতোগুলো কথা না বললেও হয়ত চলতো। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটাই প্রতিয়মান যে, বিএনপি-জামায়াত দল দুটোর যে কোন একটিও যদি শেষ হয়ে যায়, তাহলে অপরটিও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে অটোমেটিক্যালি বা থেকেও কোন লাভ হবে না। সেকারনে বলা যেতে পারে, বাংলাদেশে আজ এই মৌলবাদী দল দুটোর (মূলতঃ একটি) বাচার লড়াই।

আর এর বিপরিতে যে যুদ্ধ, সে যুদ্ধে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির হার হলে পরিনতি সেই জামায়াত-বিএনপির মতই। এ লড়াই দুই পক্ষের বেচে থাকার লড়াই; টিকে থাকার লড়াই। এযুদ্ধে এক পক্ষকে মরতেই হবে। এযুদ্ধে এপর্যায়ে এটাই নিয়ম। আর এই সত্যটিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সরকারকে উপলব্ধিতে আনতে হবে এবং সেভাবে কর্মপন্থা সাজাতে হবে। এবার আর দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়া না-ও যেতে পারে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৯ thoughts on “বিএনপি জামায়াতের অগ্রবর্তী একটি প্রক্সি দলঃ এবারের যুদ্ধে এক পক্ষকে মরতেই হবে

  1. খাপে খাপে মিলে যায় … অনেক
    খাপে খাপে মিলে যায় … অনেক প্রশ্নের উত্তর ক্লিয়ার হয়…নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে হলেও বিএনপি কেন জামাতকে রক্ষায় এতো মরিয়া সেটার উত্তর পরিষ্কার হয়ে উঠেছে… গতকার রাতেই ফেসবুকে একজনের সাথে ঠিক এই কথাগুলোই আলাপ হচ্ছিলো। এই লড়াই তাই এখন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অস্তিত্বের লড়াই…

    1. এ লড়াই যদি অস্তিত্তের লড়াই
      এ লড়াই যদি অস্তিত্তের লড়াই হইয়া থাকে তাহলে আমি বলব সামনে আমাদের জন্য আরও খারাপ অবস্থা অপেক্ষা করছে।

      আসুন সবাই মিলে আওয়ামী-বিএনপি-জামাত বাদ দিয়ে নতুন একটি সরকারের জন্য আন্দোলন করি।

  2. প্লিজ আপু, আমাদের এই মুহুর্তে
    প্লিজ আপু, আমাদের এই মুহুর্তে এমন কোন কমেন্ট করা উচিত হবেনা, যা সবার মনে প্রভাব ফেলে…আমাদের জয় হবেই…ইতিহাস সাক্ষী…বেটার লেট দেন নেভার…আমাদের অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে…কারণ সালটা ১৯৭১ নয়! বাংলা অতি প্রচলিত বচন “ঘরের শত্রু বিভীষণ”! এই সময়ে জাতির জীবনে এভাবে সত্য হয়ে দাড়াবে কোনদিন ভাবিনি! মাস্টারদা সুর্যসেনের আন্দোলনের সঙ্গী শতবর্ষী বিনোদ বিহারী চৌধুরী ১০৪ বছর বয়সে মৃত্যুর আগেও বিজয় চিহ্ন দেখিয়ে গেছেন! আর আমরা এত সহজেই হার মেনে যাচ্ছি…!

  3. ভাইরে এসব কথা কি খালি খালি
    ভাইরে এসব কথা কি খালি খালি কই? মাঝে মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসে। কেন এমন হবে? দেশে প্রগতীশীল সরকার। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে। তারপরও শুধু লেখালেখির অপরাধে চারজনকে যেতে হয়েছে জেলে। আরো অনেকে ফেরারি হয়ে ঘুরছে।
    তারপরও স্বপ্ন তো দেখেই যাই……

  4. চমৎকার একটি পোস্ট। এখন আর
    চমৎকার একটি পোস্ট। এখন আর আমাদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছেনা বিএনপি হচ্ছে জামায়াতের একটি অগ্রবর্তী দল। এক সময় বিএনপি তাদের মাদার সংগঠন জামাতের সাথে বিলীন হয়ে যাবে। এই পোস্টটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছি। পোস্টটি সবাইকে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি এবং পোস্টটি স্টিকি করার জন্য ইস্টিশন মাস্টারের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

  5. চমৎকার পোস্ট। শিক্ষা জীবণ
    চমৎকার পোস্ট। শিক্ষা জীবণ থেকে এসব কথাই আমার পরিচিত সকল মহলে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জানিনা আর কত সময় লাগবে… লেগে আছি, আজীবণ থাকবো..

  6. গুরুত্ব বিবেচনায় চমৎকার এই
    গুরুত্ব বিবেচনায় চমৎকার এই পোস্টটি স্টিকি করার জন্য অনুরোধ করছি। সবার জানা উচিৎ ইতিহাসের এই চরম সত্যগুলো।

  7. ৮২’র পরে অনেকেই বিএনপিকে
    ৮২’র পরে অনেকেই বিএনপিকে বোঝানের গুরু দ্বায়িত্ব মাথায় নিয়েছেন স্বপ্রণদিত হয়ে। অনেকে আবার বিএনপিকে নসিহত করেছেন বিভিন্ন ভাবে এই বলে যে, বিএনপি দিন দিন জামাতের গহ্বরে যেভাবে ঢুকে যাচ্ছে, তাতে আগামী একদশক পরে হয়ত দলটিকে আর খুঁজেও পাওয়া যাবে না। অনেকে বিচলিত হয়েছেন। আমার ধারনায়, এই ধরণের কথাগুলো মূলত বিএনপিকে আর দ্বিগুণ বেগে উৎসাহিত করেছে বিলীন হওয়ার কাজে। কারন তাঁরা বুদ্ধিজীবীদের ব্যারোমিটারে মাপা নিজেদের সফলতায় নিঃসন্দেহে সন্তুষ্ট ছিল।

    তবে কেউ কি একবারও ভেবে দেখেছেন যে, যে কারনে এই সব বুদ্ধিজীবীরা উৎকন্ঠিত, মূলত সেকারনেই বিএনপির জন্ম? করলে হয়ত তাঁরা এই উৎকন্ঠায় না থেকে বরং বিএনপিকে মোকাবেলায় আত্ননিয়োগ করতেন। তাই আমার অনুরোধ, আর দেরি কেন? জামায়াত-বিএনপির এই যৌথ ম্যাচের কথা বাংলার জনগনের জানা উচিত এবং এর দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।
    জয় বাংলা।

  8. ইশরান, উপরে আমার পরবন্ধে এক
    ইশরান, উপরে আমার পরবন্ধে এক জায়গায় উল্লেখ করয়েছি যে,

    “তারপরেও ৭৫ পরবর্তিতে বাংলাদেশে একটা নব্য ধনীক শ্রেনী তৈরি করা হয়েছে। তাদের অর্থের উৎস এবং ক্ষমতার বলয় সম্পর্কে পরিস্কার কোন উত্তর খুজে পাওয়া যায় না। দীর্ঘ ৪০ বছরের শেষের দিকে এক কথায় তারাই মূলত বিভিন্ন ভাবে দেশকে শাসন করেছে, দিক নির্দেশনা দিয়েছে। চাকুরীতে, ব্যবসায়, রাজনীতিতে, সাহিত্যে, মিডিয়াতে প্রায় সবখানেই এই সব নব্য দাড়ি গজানো ধনীক শ্রেনীর উপস্থিতি লক্ষ্যনীয় নয় কি? তাছাড়াও খুব সুক্ষভাবে এই নব্যদেরকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোতে সমবন্টন আকারে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সে দৃশ্যও কিন্তু যথেষ্ঠ দৃশ্যমান। নয় কি?”

    সুতরাং আপনার দেয়া লিঙ্ক এবং মন্তব্য আমার দাবিরই একনিষ্ঠ সমর্থন মাত্র। অনেক ধন্যবাদ।

  9. পোস্টটি বিশ্লেষণ করলে দেখা
    পোস্টটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে আসলে জামাতিরা কিভাবে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য কি কি করতে পারে! আর আমাদের দেশের কোন পর্যায়ের মানুষ কি কি করতে পারে বা তাদের দ্বারা কি ধরণের কাজ করানো সম্ভব! মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বর্তমান সরকারি দলের নীতি নির্ধারক এবং আমাদের দেশের রাজনীতি বিশ্লেষকগণ কি বিষয়ে বিশ্লেষণ করেন তা আমার মাথায় আসে না! তারা কিসের বিশ্লেষক তাও আমার মাথায় আসে না! তাদের ভাষায় এই ক্ষুদ্র ব্লগাররা এত জ্ঞানগর্ভ রাজনীতি বিশ্লেষণ করতে পারে, আর তারা শুধু টিভি চ্যানেলে, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য দিয়েই মহাজ্ঞানী হয়ে বাংলার সুধি সমাজ ট্যাগ লাগিয়ে বসে থাকে! তারা কখনও সরকারি দল কখনও বিরোধী দলের পক্ষে সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন…. আর কত কাল তারা এভাবে চলবেন ?

  10. বিএনপি যে জামায়াতের
    বিএনপি যে জামায়াতের অগ্রবর্তী একটি প্রক্সি দল তাতে কোন সন্দেহ নাই ।
    জামায়াত-বিএনপি সম্পর্কে কনফিউশন দূর করার জন্য চমৎকার একটি পোস্ট ।
    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

  11. আমরা গলা ফাটাই ব্লগে,
    আমরা গলা ফাটাই ব্লগে, পথে-প্রান্তরে, আড্ডায়-গল্পে, কাজ হয় না কোন কিছুতেই ! কবে দেখবো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সোনার বাংলাদেশ ?

  12. চমৎকার একটা লেখা। এই সময়ের
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    চমৎকার একটা লেখা। এই সময়ের জন্য এই লেখাটির গুরুত্ব অপরিসীম। লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ বিএনপির সাথে জামায়াতের আত্মীয়তা বিষয়ক বিশ্লেষনের জন্য।

  13. বিএনপি জামায়াতের মধ্যে যে
    বিএনপি জামায়াতের মধ্যে যে সম্পর্ক থাকুক না কেন, জামায়াতের মত উগ্র মৌলবাদী দল যে কোনো শোসক, দালাল রাজনীতিক দলের জন্য টিকে থাকা প্রয়োজন। আর তাই প্রতিটি বুর্জোয়া রাজনীতিক দল চায় জামায়াত বিদ্যমান থাক। আমার সংগ্রাম ঐ রক্ষকদের বিরুদ্ধে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 74 = 76