মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মৌলবাদ

‘৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরনীয় বিজয়ের এক বছরেরও কম সময়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতিরা সদ্যজাত রাষ্ট্রের জন্য যে সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন তা ছিল অনন্যসাধারণ এক রাষ্ট্রীয় দলিল। এই সংবিধানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের চার মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছিল-

  • গণতন্ত্র
  • সমাজতন্ত্র
  • জাতীয়তাবাদ ও
  • ধর্মনিরপেক্ষতা

শতকরা ৮৫ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এবং অর্থনৈতিক ভাবে পেছনের সারির একটি দেশ চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির ভেতর ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’কে অন্যতম নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। যদিও বাঙালি জাতিয়তাবাদ চরিত্রগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ,তারপরও রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে ধর্ম থেকে পৃথক রাখার জন্য আমাদের সংবিধানপ্রণেতারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ধর্ম নিরপেক্ষতার রক্ষাকবচ হিসেবে সাংবিধানিকভাবে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ‘৭২-এর সংবিধানে।

এ বিষয়ে আমি এর আগেও লিখেছি, ‘বাংলাদেশে সেক্যুলারিজমের ধারণা পশ্চিমের চেয়ে বহুলাংশে স্বতন্ত্র। বাংলাদেশে এবং ভারতেও সেক্যুলারিজম বলতে বোঝায় রাষ্ট্র ও ধর্মের বিচ্ছিন্নতা (Separation of state from religion), ধর্মের সঙ্গে ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতা নয়। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্টের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন– “ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। তাতে বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্ম-কর্ম করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা আইন করে ধর্মকে নিষিদ্ধ করতে চাই না এবং করব না। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে। তাদের বাধা দেওয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রের নাই। হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কারো বাধা দেওয়ার মত ক্ষমতা নাই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, খৃষ্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে। তাদের বাধা দিতে পারবে না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। ২৫ বছর আমরা দেখেছি ধর্মের নামে জোচ্চরি, ধর্মের নামে বেঈমানী, ধর্মের নামে অত্যাচার, খুন, ব্যাভিচার বাংলাদেশের মাটিতে চলেছে। ধর্ম অতি পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে যে ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে- আমি বলব, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি। সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থা করেছি।” (গণপরিষদের ভাষণ, ১২ অক্টোবর ১৯৭২)

‘ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করবার জন্য ‘৭২-এর সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল যা সমাজতান্ত্রিক শিবিরের বাইরে কোন সেক্যুলার গণতান্ত্রিক দেশে সম্ভব হয়নি। এই সংবিধান কার্যকর থাকলে বাংলাদেশে বর্তমান ধর্মের নামে রাজনৈতিক ভ্রষ্টাচার ও জঙ্গী মৌলবাদের জেহাদী উন্মাদনা দেখতে হতো না।

“৭২-এর সংবিধানে সেক্যুলারিজমকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গ্রহণের পর এটি দুই ধরনের সমালোচনার শিকার হয়। এক পক্ষ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠী, যারা ইসলামকে মনে করে পরিপূর্ণ জীবনবিধান, যা রাষ্ট্র-রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ-সংস্কৃতি সব কিছু তাদের ব্যাখ্যা ও বিধান অনুযায়ী নিয়ন্ত্রন করবে। অপরপক্ষ হচ্ছে সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্টরা, যারা পশ্চিমের প্রভাবে ধর্মকে ব্যক্তি ও সমাজজীবন থেকে নির্বাসনের পক্ষে। মৌলবাদীরা বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাকে আক্রমণ করেছে এই বলে যে- ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হচ্ছে নাস্তিকতা, রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ হলে মানুষের ধর্মপালন ও প্রচারের স্বাধীনতা থাকবে না। মৌলবাদী নয়, এমন দক্ষিণপন্থী বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা ছিল- ‘৭২-এর সংবিধানপ্রণেতারা ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানে ঢুকিয়ে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ধর্মের প্রতি অনুরাগের বিষয়টি উপেক্ষা করেছেন। শতকরা ৮৫% মুসলমানের দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা গ্রহণযোগ্যতা হতে পারে না।

‘বঙ্গবন্ধু ও তার সহযোগী যারা ‘৭২-এর সংবিধান প্রণয়ন করেছেন তাঁরা ধর্মকে রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে পৃথক করার কথা বললেও ব্যক্তিজীবনে ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন। ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বার বার তাদের বলতে হয়েছে- ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা নয়। (যুদ্ধাপরাধের বিচার: নুরেমবার্গ থেকে ঢাকা, চারুলিপি, ফেব্রুয়ারী ২০১৩)

‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় প্রধান সহযোগী জামায়াতে ইসলামী যে কারণে ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছিল একই কারণে ‘৭২- এর সংবিধানও তাদের কাছে ছিল ইসলামের প্রতিপক্ষ। সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে’ জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে ’৭১-এ সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়েছে। সাঈদীর বিভিন্ন ওয়াজে কীভাবে রাষ্ট্রের চার মূলনীতিকে ইসলামের প্রতিপক্ষ বানিয়ে এর প্রতি বিষোদগার করা হয়েছে, কীভাবে অন্যান্য ধর্ম এবং অমুসলিম নাগরিকদের বিরুদ্ধে কদর্য সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে- কিছু নমুনা দেয়া হয়েছে আমার প্রামাণ্যচিত্র ‘জিহাদের প্রতিকৃতি’তে।

’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মকে অবৈধতা প্রদানের পাশাপাশি এর দর্শনকে বাংলাদেশের মাটিতে যেভাব সমাধিস্থ করেছে, পাকিস্তানি শাসকরা এবং তাদের এদেশীয় তল্পীবাহকরা কখনো তা মেনে নেয়নি। এ কারণেই তারা ১৯৭৫- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বপ্রদানকারী চার শীর্ষ নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ’৭২-এর সংবিধানপ্রনেতাদের হত্যা না করলে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা মুছে ফেলা সম্ভব হত না। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান ৫ম সংশোধনীর দ্বারা সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ ও সমাজতন্ত্র মুছে ফেলে শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং মুখবন্ধে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ-র উপর পূর্ণ বিশ্বাস….’ ইত্যাদি সংযোজন করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় জেনারেল এরশাদ সংবিধানের ৮ম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষনা করলেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মূল সংবিধানের চার মূলনীতি পুনঃসংযোজন করলেও জেনারেল জিয়ার ‘বিসমিল্লাহ…’ এবং জেনারল এরশাদের ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ রেখে দিয়ে এটিকে স্ববিরোধী এক সংবিধানে পরিণত করেছ। ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ সম্পূর্ণভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী। জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মতলবে ইসলামের নামে বাংলাদেশের সংবিধানে সাম্প্রদায়িকতা প্রবর্তন করেছেন। এ বিষয়ে তখন আমি লিখেছিলাম- ‘ইসলামের ইতিহাস ও মহানবী (সঃ) র শিক্ষার আলোকে যদি দেখি- সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ রাখা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থকেও অপ্রয়োজনীয়। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের স্বগোত্রীয় মৌলবাদী দলগুলো দাবি করে কোরআণ নাকি তাদের সংবিধান। তারা মানবরচিত সংবিধান, আইন-আদালত মানে না। তাদের এই বক্তব্য থেকেই এটা স্পষ্ট হয়ে যায় ইসলামের তকমাধারী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ধর্ম নিয়ে বৈশ্যবৃত্তির স্বরুপ। যে কোন ধার্মিক মুসলমান বিশ্বাস করেন কোরআণ আল্লাহর কালাম, কোরআণের একটিও হরফও বদলানো যায় না। সংবিধান হচ্ছে মানুষের শাসিত রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন ও নিয়ম কানুন। সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের কান্ডারিদের সঙ্গে জনগণের চুক্তিবিশেষ যা প্রয়োজন ও নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন ও পরিবর্তন করা যায়।

‘বিশ্বে প্রথম মুসলিম রাষ্ট্র মদিনার সংবিধান রচনা করেছিলেন স্বয়ং মহানবী (সঃ)। তিনি চাইলে কোরাণকে মদিনার সংবিধান হিসেবে চালু করতে পারতেন, ইসলামকে মদিনার রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা দিতে পারতেন। মহানবী (সঃ) তেমন কিছু করেননি বরং তাঁর সংবিধানে মদিনার মুসলিম ও অমুসলিম নাগরিকদের সমান অধিকার দেয়া হয়েছে, রাষ্ট্রকে কারও ধর্মের বিষয়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ দেয়া হয়নি এবং অমুসলিমদের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। যে কারণে ৬২২ সাল মহানবী (সঃ) কর্তৃক প্রণীত মদিনার সংবিধানকে গণ্য করা হয় বিশ্বের প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান হিসাবে।

‘ধার্মিক মুসলমানরা বিভিন্ন ইমামের বিধান মেনে চলেন। মুসলমানরা যে চার ইমামকে অনুসরণ করেন তাঁরা হচ্ছেন-

  • ১) ইমাম মালিক,
  • ২) ইমাম আল শাফি,
  • ৩) ইমাম আবু হানিফা ও
  • ৪) ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বল

অধিকাংশ সুন্নি মুসলমান ইমাম আবু হানিফার অনুসারী, যাদের বলা হয় হানাফি। মওদুদিবাদী জামায়াতিরা তথা ওহাবিরা নিজেদের হানাফি বলে দাবি করলেও অনুসরন করে ইমাম হাম্বলের বিধান। চার ইমামের ভেতরে সবচেয়ে রক্ষণশীল হচ্ছেন ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, যিনি জেহাদক প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য ফরজ করেছেন। কোরাণের উৎসের ব্যাখ্যা নিয়ে বাগদাদের খলিফা মামুনের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য চরম আকার ধারণ করলে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বলছিলেন, খলিফা যেন রাজ্য শাসন ও রাজনীতির মধ্যে নিজের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেন, ধর্মের বিষয়ে যেন নাক না গলান; কারণ ধর্মের ব্যাখ্যা দেয়ার এখতিয়ার ইমামের, খলিফার নয়। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের এই বক্তব্যের সারকথা হচ্ছে রাজনীতি থাকবে রাজনীতির জায়গায়, ধর্ম থাকবে ধর্মের জায়গায়। জামায়াতি ও ওহাবিদের মোনাফেকি হচ্ছে- দরকারমতো তারা হানাফি হবে, আবার তাদের দরকার হল হাম্বলি হবে, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মতলবে ধর্মের সঙ্গে রাজনীতির খিচুড়ি পাকিয়ে শান্তির ধর্ম ইসলামকে কলুষিত করবে এবং ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ ধর্মভীরু মানুষদের তা গেলাবে।

‘মওদুদিবাদী, ওহাবিবাদীরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য, নিজস্ব রাজনৈতিক মতবাদ প্রচারের জন্য দেশে দেশে ধর্মকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছে। দূর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে- তাদের কৌশল যখন ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল অনুসরন করে। ইসলামের ব্যাখ্যা নিয়ে আমিনীদের সঙ্গে নিজামীদের গুরুতর মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু যখনই ক্ষমতার মুলো নাকের ডগায় ঝোলে তখনই তারা আদর্শগত যাবতীয় বিরোধ ভুলে গিয়ে মূলোয় দাঁত বসাবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে।’ (পঞ্চদশ সংশোধনীর আলোকে বাংলাদেশের সংবিধান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, নভেম্বর ২০১১)

বাংলাদেশের আমজনতাকে শাসকরা সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী মনে করলেও ইতিহাসে বার বার দেখেছি এদেশের মাটিতে মৌলবাদ কখনো শেকড় গাঁড়তে পারেনি। ধর্মের নামে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞের মতো মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক তান্ডব আমরা ’৭১-এ দেখেছি, আবার দেখেছি ২০০১ থেকে ২০০৬-এ বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে। সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের জন্য জামায়াত-বিএনপি একই কৌশল অবলম্বন করেছে। এবার আমাদের ভরসা হচ্ছে শাহবাগের তরুণ প্রজন্মের মহাজাগরণ, যারা নিজেদের দাবি করেছে- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আন্দোলনের সন্তান। একুশ বছর আগে জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং তাদের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবীতে যে নাগরিক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দীপ্ত শাহবাগের মহাজাগরনের নায়করা তার নেতৃত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ছাত্র-জনতার এই মহাজাগরণ ঢাকার শাহবাগের চত্বর থেকে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল। মৌলবাদীদের সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে জামায়াত-বিএনপি যত বেশী প্রজন্ম চত্বরের তরুণদের ‘শাহবাগী নাস্তিক’, ‘মুরতাদ’, ‘কাফের’, ফতোয়া দিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছ,ততই তারা সাধারণ মানুষের ঘৃণা কুড়োচ্ছে।

শাহবাগের গণজাগরণের নেতারা বার বার বলেছেন তাদের আন্দোলন ইসলাম বা কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। তাঁরা শ্লোগান দিচ্ছেন- ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। তারপরও তাদের বিরুদ্ধে চরম উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান ও ফতোয়া অব্যাহত রয়েছে। সকল উস্কানি সত্ত্বেও তারা যুদ্ধাপরাধী ও মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে অহিংস, অসহযোগ আন্দোলনের কথা বলছেন। তাদের চারপাশে মৌলবাদী হিংস্র শ্বাপদরা যেভাবে উন্মত্ত সন্ত্রাসী তান্ডব চালাচ্ছে, যেভাবে তারা রাষ্ট্রের ভিত্তিমুলে আঘাত করছে- সরকারের গান্ধীবাদী হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু শিখিয়েছেন অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলনকে কীভাবে রুপান্তরিত করতে হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে।

এবারের যুদ্ধ বাংলাদেশকে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার করাল থাবা থেকে মুক্ত করবার জন্য। অতীতে আমরা জয়ী হয়েছি, আগামীতে আমরাই জয়ী হব। এই জয় ইতিহাস নির্ধারিত। মৌলবাদ জয়ী হলে সভ্যতার অগ্রযাত্রা রুদ্ধ হবে। মৌলবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার যত কালক্ষেপন করবে হত্যা ও ধ্বংসের পরিমাণ তত বৃদ্ধি পাবে। জামায়াতে ইসলামীসহ সকল মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ না করলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কখনও বাংলাদেশ গড়া যাবে না। শাহবাগের তরুণরা রাষ্ট্রকেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের ঋণের দায়। গণহত্যাকারীদের রাজনীতি বহাল রেখে শুধু ব্যক্তির বিচার করলেই এ দায় থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না।

ঢাকা
২৩ মার্চ ২০১৩

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মৌলবাদ

  1. মৌলবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধের
    মৌলবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধের ব্যাপারে এত কালক্ষেপন কেন?এটা কি এই জন্য যে জনগণের উপর আওয়ামীলীগ সরকারের আস্থা নেই।

  2. ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাঙালি

    ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্টের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন– “ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। তাতে বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্ম-কর্ম করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা আইন করে ধর্মকে নিষিদ্ধ করতে চাই না এবং করব না। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে। তাদের বাধা দেওয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রের নাই। হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কারো বাধা দেওয়ার মত ক্ষমতা নাই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, খৃষ্টানরাতাদের ধর্ম পালন করবে। তাদের বাধা দিতে পারবে না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। ২৫ বছর আমরা দেখেছি ধর্মের নামে জোচ্চরি, ধর্মের নামে বেঈমানী, ধর্মের নামে অত্যাচার, খুন, ব্যাভিচার বাংলাদেশের মাটিতে চলেছে। ধর্ম অতি পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে যে ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে- আমি বলব, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি। সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থা করেছি।” (গণপরিষদের ভাষণ, ১২ অক্টোবর ১৯৭২)

    মাঝে মাঝে বর্তমান আওয়ামীলীগের উপর রাগ উঠে এইসব মূল জিনিসগুলো প্রচার না করার কারণে, এই প্রজন্মকে যতই ইতিহাস শেখানো/জানানো হচ্ছে না ততই নিজেদের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা গুটিকয়েক হয়তো নিজ তাগিদে এইসব ইতিহাস শিখছি জানছি কেননা কয়েকজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক আজো বেঁচে আছেন বলে। আগামীতে যদি সরকারী উদ্যোগ নেয়া না হয় এইরকম মুক্তভাবে এই সমস্ত ইতিহাস জানানোর তাহলে সত্যিই ভীষণ বাজে দশা আছে। আগে ইতিহাসগুলো ছড়িয়ে দিন প্রত্যন্ত অঞ্চলে তারপর দেখুন জনগনই জেগে উঠবে নিজ তাগিদে।

    আজ এই পোস্টটি না পড়লে হয়তো জানতামই না মহানবী (সঃ)এর আরো একটি চমৎকার গুন। যদি শাহরিয়ার স্যারের এই লেখা সম্পূর্ণ সত্যি হয় তাহলে বেশ কয়েকধাপ পিছিয়ে পড়ে গেলো ধর্মের নামে ব্যবসায়ীরা। তারা আবারো অবমাননা করলো মহানবী (সঃ) এর আদর্শকে এবং তারা অনুকরন করলো মওদুদীকে।

    ইস্টিশন কর্তৃপক্ষকে বিনীত অনুরোধ জানাবো এই পোস্ট যেন বেশ কয়েকদিন টানা স্টিকি করে রাখেন।
    সেই সাথে ইস্টিশনের সকল যাত্রীর প্রতিই অনুরোধ থাকবে পোস্টটি ছড়িয়ে দিতে পুরো অনলাইন জগতে, ফেসবুক,টুইটার থেকে শুরু করে সর্বত্র।

  3. চমৎকার ভাবে ধর্ম ব্যবসায়ীদের
    চমৎকার ভাবে ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন শাহরিয়ার কবির স্যার। আমাদের দেশের মানুষের অশিক্ষা আর কুশিক্ষার সুযোগ নিয়ে বারবার জামাতের মতন ভণ্ড দল ধর্মের লেবাস গায়ে চড়িয়ে দেশে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে আজ আমরা প্রকৃত ইতিহাস এবং জামাতের প্রকৃত রূপ অনেকেই জানতে পারছি। কিন্তু যাদের পুঁজি করে (গ্রাম/মফস্বলের) জামাত ধর্ম ব্যবসা করে যাচ্ছে তারা কিন্তু সেই অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছেন। এই ব্যাপারে কি করা যায় সেটা নিয়ে একটা দিক-নির্দেশনা মূলক লেখা স্যারের কাছে আশা করছি।

    সবার কাছে অনুরোধ লেখাটি যত বেশী সম্ভব শেয়ার করুন।

  4. আমার মতে বাংলাদেশের সংবিধানের
    আমার মতে বাংলাদেশের সংবিধানের “ধর্মনিরপেক্ষতা” নিতিতে একটা বড় গলদ রয়ে গেছে। আর সেই সুত্রেই এর সমর্থনে আপনার উপস্থাপিত যুক্তিতেও গলদ পাচ্ছি।

    আপনি বলেছেন

    যদিও বাঙালি জাতিয়তাবাদ চরিত্রগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ,তারপরও রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে ধর্ম থেকে পৃথক রাখার জন্য আমাদের সংবিধানপ্রণেতারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ধর্ম নিরপেক্ষতার রক্ষাকবচ হিসেবে সাংবিধানিকভাবে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ‘৭২-এর সংবিধানে।

    আমি সংবিধানে ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকিকরনে কোনো বাস্তব সমস্যা দেখছি না। একটা রাষ্ট্র তার সংবিধান অনুসারে রচিত আইনের মাধ্যমেই তার অস্তিত প্রকাশ করে বা রাষ্ট্রের বাস্তবতা দেয়। সেই আইন প্রয়োগের জন্য আছে শিক্ষিত প্রশিক্ষিত ন্যায়নিষ্ঠ (ধরে নিচ্ছি)আমলা, বিচারক, পুলিশ আর সব রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান। তাই ধর্মনিরপেক্ষ আইনের প্রয়োগে কোনো সমস্যাই নেই। আর আমি আপনার মতই বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশের মানুষ চরিত্রগতভাবে দৈনন্দিন জিবনে ধর্মনিরপেক্ষ। তাই তাদের ধর্মনিরপেক্ষ আইন মেনে নিতে বা গ্রহন করতেও কোনো সমস্যা হয় নাই, তারা গত বিয়াল্লিশ বছর ধরেই ধর্মনিরপেক্ষ আইনের অধিনেই চলছে।

    আমার প্রশ্ন ধর্মকে রাজনিতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা কি আদৌ সম্ভব? আদৌ বাস্তবসম্মত? এর ফলাফল কি হিতে বিপরিত (counter productive) হয়ে আজকে আমাদের করছে না?

    আমার এরকম মনে হওয়ার কারন রাজনিতির নিরন্তর পরিবর্তনশিল, আবেগ ও সংস্কৃতি নির্ভর, অবয়বহিন, কাঠামোহিন চরিত্র। রাজনিতি রাষ্ট্রের মত সংবিধান আর তার আইনের দ্বারা নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত কোনো entity নয়,যার থেকে আইন করে তাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো কিছু নিষিদ্ধ করা সম্ভব। আমার মনে হয় আপনি স্বিকার করবেন যে বাংলাদেশের মানুষ,হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ নির্বিশেষে তাদের দৈনন্দিন জিবনের আচার আচরনে পরধর্ম সহিস্নু আর ধর্মনিরপেক্ষ হলেও, তারে ভিষন ধর্মভিরু – ধর্মিয় শিক্ষা,সংস্কৃতিও আবেগ তাদের জিবনে একটা বিরাট প্রভাব এবং একটা বিরাট অংশ – এবং সে কারনেই দেশের ও আন্তর্জাতিক অবস্থাসাপেক্ষ রাজনিতিতে এর প্রভাব কম বা বেশি থাকবেই। আপনি কি অস্বিকার করতে পারবেন যে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালগিষ্ঠরা যে আওয়ামি লিগকে বেশি ভোট দেন তার পেছনে তাদের ধর্মের একটা বিশাল ভুমিকা রয়েছে?

    এই ধর্মিয় প্রভাব পাশ্চ্যাত্তের উন্নত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের রাজনিতিতেও আছে,প্রচ্ছন্ন ভাবে – যেমন ব্রিটেনের রানী সে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সেই সাথে চার্চ অফ ইংল্যান্ডেরও প্রধান। যদিও ওইসব দেশের বেশিরভাগ মানুষই শুধু নামেই খৃষ্টান, আপনি কি মনে করেন খৃষ্টান ধর্মের সেন্সিটিভিটিতে আঘাত করে বা ইসলামের পতাকা উড়িয়ে কোনো রাজনিতিক ঐ সব দেশের খৃষ্টান অধ্যুষিত কোনো এলাকা থেকে নির্বাচিত হতে পারবেন?

    রাজনিতি ও ধর্মের এই নিবিড় সংযোগ আর বাস্তবতাটা বুঝেই,চতুর জিয়া আর এরশাদ “বিসমিল্লাহ” আর “রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম” যোগ করেছিলেন সংবিধানে। আপনার কি মনে হয়, বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ ফ্রান্সের জনসাধারনের মত শিক্ষিত ও সফিস্টিকেটেড না হওয়া পর্যন্ত কি কারো পক্ষে সম্ভব হবে এগুলোকে সরানো?

    আইন করেই যদি রাজনিতি নিয়ন্ত্রন করা যেত, তা হলে তো আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ করেই বাংলাদেশের স্বাধিনতা রুখে দিতে পারতো পাকিস্থান।

    আপনি হাম্বালির উদ্ধৃতি রাজনিতি আর ধর্মের পৃথিকিকরনের সাপক্ষে যুক্তি হিসাবে এনেছেন। কিন্তু হাম্বালির ঐ উক্তিতো ক্ষমতা আর প্রভাবের দন্ধে হাম্বালির নিজের স্বার্থ রক্ষার যুক্তি মাত্র। আসলে বাস্তবে যুগে যুগে সম্রাজ্যে সম্রাজ্যে কি হয়েছে? – যতক্ষন একটি রাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মভিরু ততক্ষন কি কোনো রাষ্ট্রে ধর্ম আর রাজনিতি পৃথক করা গেছে?

    এখন এই অবাস্তব দাবি তুলে সাধারনের মনে ধর্ম নিয়ে শঙ্কা জাগিয়ে দিয়ে আর জামাত আর ইসলামকে ঘুলিয়ে দিয়ে আপনারা কি নির্বোধের মতই জামায়েতের মত ক্রিমিনালদেরই সহায়তা করছেন না?

    আপনার এই লেখাটা পড়ে মনে হচ্ছে, আপনারা দেরিতে হলেও বুঝেছেন যে বাংলাদেশের সাধারন ধর্ভিমরু জনসাধারনের সাথে কানেক্ট না করে, তাদের সমর্থন পাওয়া যাবে না? যেখানে জামাত আপনাদের থেকে অনেক এগিয়ে।

    পৃথিবির মানচিত্রটা খুলে দেখুন, ইতিহাস ঘেটে দেখুন – যেখানেই দির্ঘস্থায়ি কুসাশন আর জনসংখ্যার বিস্ফোরন, সেখানেই উদ্ভব হয়েছে উগ্র ধর্মান্ধতা আর সব ধরনের ফ্যাসিবাদের। সেখানেই মানুষ হয় দৈব শক্তির উপর নির্ভরশিল হয়েছে তার সমস্যামুক্তির জন্য নয়তো সঙ্কির্ন উগ্র দেশপ্রেম,জাতিয়তাবাদ, আর বর্ন/জাতি বিদ্বেষের মত ফ্যাসিবাদের আশ্রয় নিয়েছে নিজেদের ব্যার্থ্যতার/দুর্ভ্যাগের দায় অন্য দুর্বল কারো উপর চাপাতে।

    উগ্র ধর্মান্ধতা,দেশপ্রেম, জাতিয়তাবাদ আর বর্ন/জাতি বিদ্বেষের মত সব ফ্যাসিবাদই রোগের সিম্পটম বা উপসর্গ মাত্র, আসল রোগ দির্ঘস্থায়ি কুসাশন, অশিক্ষা আর জনসংখ্যার বিস্ফোরন।

    আপনি ভাল করেই জানেন সিম্পটম বা উপসর্গের চিকিৎসা করে রোগ সারানো যায় না, আসল রোগের চিকিৎসা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই – বিয়াল্লিশ বছরের ব্যার্থতার কোনো শর্টকাট সমাধান নাই। এই শর্টকাট খুজতে যেয়েই আমরা বার বার ব্যার্থ হচ্ছি।

  5. যে দেশে মুসলমান, হিন্দু,
    যে দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টিয়ান এবং উপজাতিরা বসবাস করে, সে দেশে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম কতটুকু যৌক্তিক, আমার মাথায় আসে না! কারণ বর্তমান সরকার যদি ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যায়, তাহলে সেখানে সংবিধানের শুরুতে বিছমিল্লাহ এবং রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম ছিল না। এই দুটি বাক্য সংবিধানে থাকা অবস্থায় কিভাবে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গেল? উপরের লেখা থেকে জানলাম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) মদিনার সংবিধান তৈরীর সময় ‍যদি অমুসলিমদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়ে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশের সংবিধানে এ দুটি বাক্য কি সাংঘর্ষিক হয়ে গেল না? খোদ মদিনায় যদি ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধান চলতে পারে তাহলে আমাদের দেশে ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধান চলতে সমস্যা কোথায়? আসলে আমার কাছে মনে হয়, বর্তমান সরকার জনতাকে ভয় পায় এবং জনতার পাল্স বুঝতে পারে না। দেশের অধিকাংশ মানুষ এদেশে জামাত-শিবির তথা সকল ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ চায়। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা একজন সাধারণ মানুষও চায় না। আর যতদিন এদেশে ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল থাকবে ততদিন ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি চলতেই থাকবে আর মাঝে মাঝেই সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। আমার তো আশংকা পার্শবর্তী দেশের মত আমাদের দেশেও জামাত-শিবির তথা ধর্ম ভিত্তিক দলগুলো বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে দাঙ্গাও বেঁধে দিবে ! সুতরাং বর্তমান সরকার ‍যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয় তাহলে এই মুহুর্তে সকল ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবেন। আমাদের অঞ্চলে একটি প্রবাদ আছে ভয় করলেই ভয়, হাত দিলে কিছুই নয়…. পরিশেষে বর্তমান সরকারকে বলবো, সাহস করে অগ্রসর হন, জয় আমাদেরই হবে…. জয় বাংলা….

  6. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের মৌলবাদ নিয়ে চমৎকার বিশ্লেষন। এই লেখাটি সকল অনলাইন এক্টিভিস্টদের পড়া উচিত। আর ছাগুদের পড়া ফরজে আইন।

  7. ” বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর
    ” বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান ৫ম সংশোধনীর দ্বারা সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ ও সমাজতন্ত্র মুছে ফেলে শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং মুখবন্ধে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ-র উপর পূর্ণ বিশ্বাস….’ ইত্যাদি সংযোজন করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ”

    জিয়া জানলনা তার অবৈধ শাসনকে জনপ্রিয় করার জন্য সংবিধানের বিস্মিল্লাহ সংযোজনের কারনে আজ মাশুল দিচ্ছে নতুন প্রজন্ম মাশুল দিচ্ছে বাংলাদেশ।

    একটা সময় সুলতানা কামাল রামেন্দু মজুমদার দেখেছি, আজ কি ভাবা যায় সুরবালা আর নজরুল ইসলাম?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 3 =