চুক্তির আগ্রহ জানিয়ে জাকারবার্গকে চিঠি লিখলেন তারানা!

ফেসবুকের কাছে পত্র প্রেরণ করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গের উদ্দেশ্যে এ পত্রটি পাঠানো হয়েছে ডাক ও টেলি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রি তারানা হালিমের পক্ষ থেকে। দেশের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়ে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে। এতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকের নেতিবাচক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার চাইছে ফেসবুকের সঙ্গে একটি সমঝোতা ও চুক্তি সাক্ষর করতে।

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ৫ কোটি ৪১ লাখ সক্রিয় ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে শুধু ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ। ফেসবুকের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন ধরনের চুক্তি না থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নারীর প্রতি হয়রানি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। এই হয়রানি বন্ধে ফেসবুকের সঙ্গে সাইবার সিকিউরিটি চুক্তি চায় সরকার। এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, আমাদের দেশে ফেসবুকের নানা অপব্যবহার হচ্ছে। এসব নিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে একের পর এক অভিযোগ জানানো হলেও তারা আমলে নেন না। প্রত্যন্ত গ্রামের কোন মেয়ে ফেসবুকের কারণে হয়তো আত্মহত্যা করলো। কিন্তু বিষয়টি ফেসবুককে জানানো হলে তারা জবাব দিতে হয়তো সময় লেগে যায় তিন মাস। এতে কোন ফল পাওয়া যায় না। প্রতিমন্ত্রী জানান, তাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থা আমাদের মতো নয়। সার্বিক পরিস্থিতি তাদেরকে জানানো হবে। পাশাপাশি কিভাবে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া যায় সে পথ বের করা হবে।

এর আগে ফেসবুকের সঙ্গে সাইবার সিকিউরিটি চুক্তির উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। এরপর বিষয়টি নিয়ে খুব বেশিদূর এগোতে পারেনি বিটিআরসি। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৭ই নভেম্বর প্রথমবারের মতো বিটিআরসি কার্যালয় পরিদর্শন করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী ওই নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, মানহানিকর কনটেন্ট, নারীর প্রতি অবমাননা, রাজনৈতিক অপপ্রচার ও জঙ্গি কার্যক্রমে উৎসাহ দিয়ে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি- এগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকার সচেষ্ট। এ বিষয়ে ফেসবুকের সঙ্গে চুক্তির জন্য আমরা একমত। এটা অত্যন্ত জরুরি কাজ।

তিনি বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সেটি প্রয়োজন মনে করেনি। তাদের আমলে সুযোগ থাকলেও তারা তা কাজে লাগাননি। ওই সময় জোট সরকারের অনীহার কারণে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মতো বড় সুযোগও হাতছাড়া হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তারানা হালিম বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা করা হয়। নারীর প্রতি সহিংসতা চালানো হয়। যা বন্ধের চেষ্টা চলছে।

তারানা আরও বলেন, একটি নারীর জীবনও যেন বিপন্ন না হয়, সেটিকে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই। এদিকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দেশে এখন বন্ধ রাখা হয়েছে ফেসবুক। যদিও বিকল্প উপায়ে অনেকে জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহার করছেন। সরকার বলছে, এ ধরনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক কম। তবে তাদেরকে নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে। ১৮ই নভেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায়’ সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিটিআরসি প্রথম দফায় ফেসবুক, ভাইবার, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধের নির্দেশনা দেয়। পরবর্তীতে লাইন, ট্যাঙ্গো ও হ্যাংআউট বন্ধেরও নির্দেশনা আসে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বাংলাদেশে ফেসবুকে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৭ শতাংশ এবং ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সীদের হার ৪২ শতাংশ। দেশে গত বছর একই সময়ে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি। এর মধ্যে ৮২ লাখ পুরুষ এবং ২২ লাখ নারী ছিল। শুধু ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীর সংখ্যা ছিল ৭৪ লাখ। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটিতে পৌঁছাবে। এদিকে ফেসবুক খুলে দেয়ার কোন নির্দেশনা এখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আসেনি বলে গতকাল জানান প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন বলবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেছে, তখন এসব যোগাযোগ মাধ্যম খুলে দেয়া হবে।

সূত্র : মানবজমিন

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “চুক্তির আগ্রহ জানিয়ে জাকারবার্গকে চিঠি লিখলেন তারানা!

  1. সরকার কিভাবে নিরাপত্তা
    সরকার কিভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন সেটা বিস্তারিত খুলে না বলে মাননীয় মন্ত্রী তারানা হালিম একের পর এক যুক্তি দেখিয়ে যাচ্ছেন। তারা ফেসবুকের খারাপ দিকগুলো দেখছেন অথচ ভালো দিক দেখার দরকার মনে করছেন না। তারা একবারও তো বলছেন না যে এই ফেসবুক দিয়েই একটা মুক্তচিন্তা ও বিকাশের আন্দোলনকে আরও গতিশীল করা সম্ভব !!

  2. তেনারা আরও ভাবতে পারছেন না যে
    তেনারা আরও ভাবতে পারছেন না যে কত ব্যাগ রক্ত মুমূর্ষু রোগির জীবন বাঁচে ফেসবুকের কল্যানে।তাছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান ফেসবুক মার্কেটিং করে পন্য বিক্রি করে,তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন।

  3. টেক্সাসে এসেছি মেয়ের-বিয়ে
    টেক্সাসে এসেছি মেয়ের-বিয়ে দিতে প্রায় মাসের কাছাকাছি , দেশে ফিরবো ৫ তারিখ , দেশ ছাড়ার সময় ফেইসবুক, ভাইবার নিয়ে দেশ এগিয়ে যাচিছলো ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে, এখন শুনি ওইসব বন্ধ, একটাই নেশা করতাম ঢাকায়, এখন আমার কি হবে…। কয়েক দিন থেকে লিখছি সাবধানে ,৫৭ দিকে খেয়াল রেখে ..

    মাননীয়া মন্ত্রী তারানা হালিম,
    প্রথমেই উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানাই।বেশ কয়েকদিন ধরেই কিছু কথা ঘুরছে মাথায়, তাই আজ লিখতে বসলাম। প্রথমে আপনাকে আমাদের ছোটবেলার কথা বলি। ছোটবেলায় আমাদের উদ্যম আর উৎসাহের অভাব ছিল না। দুষ্টুমি আর দুরন্ত চঞ্চলতায় সারাদিনে ২৪ টা ঘণ্টাকেও খুব কম হত। বিশ্রাম শব্দটা আমাদের অভিধানেই ছিল না। এদিকে মা-বাবারাও সাধারণত স্রেফ পড়াশোনা,খেলাধুলা আর ঘুমের বাইরে সৃজনশীল চমকপ্রদ কিছুর সন্ধান দিতে পারতেন না আমাদের। ফলাফলে আমাদের অনেকেই অনৈতিক বদভ্যাসে জড়িয়ে পড়ল, বেশিরভাগই বিপদজনক না হলেও অনেকেই ধূমপান, গাঁজা ইত্যাদি নেশা করতে শুরু করলো। এছাড়াও বিকেল হলে খেজুরের রস পচিয়ে পচা ভাত মিশিয়ে বাংলা মদ বানিয়ে খাওয়া,প্রতিবেশীর গাছের পাকা ফল সদলবলে ডাকাতি, ফুল চুরি, ভাঙচুর চালানো, তছনছ করা, রংবাজি, হুট করে দুই গ্রুপে প্রচন্ড মারামারি লেগে গিয়ে এলাকায় আতংক ছড়ানো এসব ছিল আমাদের নিত্যদিনের সৃজনশীলতা। বাবার মানিব্যাগ থেকে কিংবা মায়ের দুধের কৌটো থেকে টাকা চুরি ছিল মোটামুটি জন্মগত অধিকার। মোট কথা,বেশিরভাগ কিশোর থেকে তরুন তখন ছিল সমাজের আপদ বিশেষ। এর কারন হচ্ছে আমাদের অসম্ভব প্রাণশক্তি ছিল কিন্তু আমরা জানতাম না সেটা দিয়ে কি করবো। এরপরেই এল একাত্তর, আমাদের আপদ হবার “নেশা”টা পুরোপুরি পাল্টে গিয়ে পাইক্কা আর রাজাকার মারার নেশায় পরিনত হল। এই নেশাটা আমাদের অসম্ভব ভালো লাগতো…
    এবং মাননীয়া মন্ত্রী, বিশ্বাস করুন, এই নেশাটা আসলেই ভালো ছিল। সবিনয়ে মনে করিয়ে দিতে চাই,হাজার হাজার কিশোর-তরুন-যুবক সেদিন এই নেশার ঘোরে মাতাল হয়েছিল বলেই আজ আপনি স্বাধীন বাংলাদেশের ক্যাবিনেট মিনিস্টার…
    আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে , যখনও জুকারবার্গ ফেসবুক নামে এই নতুন নেশাটি আবিস্কার করেননি, রাস্তাঘাটের দেয়ালে লেখালেখি ছিল এক বিচিত্র নেশা। আমি মনে করতে পারি ধানমন্ডিতে থাকাকালীন কিছু তরুন অ্যারোসল পেইন্ট দিয়ে দেয়ালে গ্রাফিটি আঁকা শুরু করল, Ak-47 এর মত স্টুপিড অর্থহীন লেখা লিখতো তারা খুব উৎসাহ নিয়ে, এবং খুব দ্রুতই এটা ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ল সারা শহরে। অনেকে গোলাপি ট্যাবলেট নিতে শুরু করল নিউ এক্সপিরিয়েন্স হিসেবে, ভয়ংকর ড্রাগসগুলো আকর্ষণীয় ফ্যাশন হিসেবে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো সর্বত্র। তারপরই এল ফেসবুক নামে এই নতুন নেশাটা…
    মাননীয়া মন্ত্রী, আপনি খেয়াল করেছেন কি, শুরুর দিকে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর এটা তেমন কার্যকরী না হলেও মেহেদী হাসান নামের এক অসম্ভব প্রতিভাধর তরুন “অভ্র” নামের এক সহজবোধ্য জাদুকরী সফটওয়্যার তৈরির পর থেকে গত চার-পাঁচ বছর ধরে আর বাকি সব নেশা ছাপিয়ে ফেসবুক পরিনত হয়েছে সবচেয়ে জরুরি নেশায়।বেশিরভাগ তরুন ছেলেমেয়েরা এখন আর ড্রাগস কিংবা অন্য কোন নেশায় ডুবে থাকে না, তার বদলে তারা ফেসবুকিং করে, তাদের প্রত্যেকের একটা করে আলাদা ওয়াল আছে, যেখানে তারা তাদের ভাবনাগুলো গুছিয়ে লেখার চেষ্টা করে, দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করে নেয় অসংখ্য বন্ধুর সাথে, যেকোনো গর্বে বুক ফুলিয়ে চিৎকার করে ওঠে, যেকোনো অপমানে ক্ষুব্ধ যন্ত্রণায় প্রতিবাদ জানায় নির্দ্বিধায়… এই ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে তারা ইতিহাস পাল্টে দিয়েছে, জানেন? রাজাকারের ফাঁসীর দাবিতে এই ফেসবুক ইভেন্টে সাড়া দিয়ে জড়ো হয়েছিল লাখো তরুন-যুবা-বৃদ্ধ-শিশু, তারা যদি গনজাগরন না ঘটাতো, কাদের মোল্লা নামের এক পিশাচের কখনো ফাঁসী হত না, আজো জেলের ভেতর সে আমৃত্যু আরামদন্ড নিয়ে বহাল তবিয়তে টিকে থাকতো…
    মাননীয়া মন্ত্রী, ফেসবুকের কল্যাণে আজ আমরা অসংখ্য লেখকের খোঁজ পাচ্ছি, যাদের আমরা চিনতাম না।তাদের লেখনীশক্তি অসামান্য। আমি আপনাকে তাদের ফেসবুক পেইজ ঘুরে দেখবার আমন্ত্রন জানাচ্ছি ম্যাম,আমি নিশ্চিত আপনি এই ব্লগারদের(দুঃখিত, আমাদের সরকার এই শব্দটা পছন্দ করেন না)অনলাইন লেখকদের ক্ষুরধার লেখনীশক্তিতে অবাক এবং অসম্ভব আনন্দিত হবেন।আমি নিশ্চিত ফেসবুক না থাকলে আমরা এদের চিনতাম না। আমি আপনাকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে নিরন্তর লেখালেখি করে যাওয়া অমি রহমান পিয়াল, Rahman Raad, Md Najmul Hasan, Mashroof Hossain, Tarique Linclon, আরিফ রহমান, tanjir rahman britto,ফাতেমা জোহরা,অর্ফিয়াস রিবর্ন, fahmida farzana Oishee (Little Dynamite) প্রমুখের লেখালেখি পড়তে অনুরোধ জানাচ্ছি।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এদের লেখা পড়ে ফেসবুকে আসক্ত লাখ লাখ ছেলেমেয়ে দেশটাকে ভালবাসতে শিখছে, মুক্তিযুদ্ধের বিস্মৃত ইতিহাসটা নতুন করে জানতে শিখছে। এরকম হীরের টুকরো ছেলেমেয়ে ফেসবুকে আজ অসংখ্য…
    প্রত্যেকটা জিনিসেরই ভালো এবং মন্দ দুটো দিক থাকে। ফেসবুকেরও আছে। এই ফেসবুকেই নানারকম পেইজ, গ্রুপ এবং পার্সোনাল আইডি দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী ধর্মান্ধরা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, চাঁদে সাইদিকে দেখতে পাবার গুজব ছড়িয়ে, সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা কায়েমের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এদের প্রতিহত করতে হলে আপনাকে ফেসবুকে সচেতনতা এবং আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর জোরদার নজরদারি বাড়াতে হবে,৫৭ ধারার মত ভয়ংকর ধারা বানিয়ে কেবল ধর্ম বিদ্বেষীতার অভিযোগে প্রয়োগ না ঘটিয়ে ধর্মকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ব্যবহারের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে অপমান আর অবমাননার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে হবে। অনলাইনে ধর্ম অবমাননার দায়ে যে কাউকে যে কোন মুহূর্তে গ্রেফতার করার বিধান আছে,তার জন্য একটা আইন আছে, অথচ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করবার দায়ে কাউকে অভিযুক্ত করবারও কোন ব্যবস্থা নেই। ভাবতেই অবাক লাগে মাননীয়া মন্ত্রী।মাথা ব্যাথা হলে মাথা কেটে ফেলার চেষ্টা করা অনুচিত। ফেসবুক থেকে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেটা সমাধান করতে হবে ফেসবুকে থেকেই, ফেসবুক বন্ধ করে দিয়ে নয়…
    মাননীয়া মন্ত্রী, আপনি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় যে নিরাপত্তার অজুহাত দেখাচ্ছেন বারবার, আমাদের এমন কোনো তথ্য- অধিকার আইন কী আছে যার মাধ্যমে আমরা আপনাদের কাছে জানতে চাইতে পারি ঠিক ফেসবুক বন্ধ রেখে ঠিক কোন প্রকৃয়ায় আপনারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন? শিয়া মসজিদে তো গতকালও গুলি করে হত্যা করা হলো মুয়াজ্জিনকে – বিদেশীদের গুলি করার মতো ঠিক একি কায়দায় তিন যুবক- মোটর সাইকেলে। ঐদিকে আবার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, সাহসী মানুষ অলক সেনকে মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুর শহরের রামকৃষ্ণ মিশন সংলগ্ন রামকৃষ্ণ পল্লীর নিজের বাসার সামনে নৃশংস ভাবে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বাঁশের কেল্লা, রেডিও মুন্না তো ঠিকি চালু আছে। নাকি আমাদেরকে চোখ বন্ধ রেখে আপনি আমাদেরকে নিরাপদ নিরাপদ ভাব নিয়ে থাকার কথা বলছেন?

    আপনি যদি সত্যিই টেলিযোগাযোগকে নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবহার করতে চান, আপনি জানেন কি বাংলাদেশের ছেলেরা এখন গুগল-নাসা-মাইক্রোসফট এর নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে? রাজনৈতিক বলয় থেকে বেরিয়ে এসে তাদের ২/১ জনকে সাময়িকভাবে কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিন না, আমি নিশ্চিত দেশের ডাকে তারা যাবেই। তারা অবশ্যই পারবে আপনার চাহিদামাফিক নিরাপদ ইন্টারনেট গড়ে দিতে।
    মাননীয়া মন্ত্রী, শুনলে অবাক হবেন, দায়িত্ব পাবার পর থেকেই টেলিযোগাযোগ খাতকে নিরাপদ করতে আপনার অন্তহীন প্রচেষ্টাগুলো আপনার লেখা থেকে জানতে পেরেছি, সেটা কিন্তু এই ফেসবুকের কল্যাণেই, এক ফেসবুক ফ্রেন্ডের শেয়ার করা পোস্ট থেকে। ১০১টা অনলাইন পত্রিকা প্রতিদিন হাজার হাজার চিঠি-খবর-বিশ্লেষণ প্রকাশ করে কয়টার খবর পড়বো? ফেসবুক এক্ষেত্রে দারুণ এক ফিল্টারের কাজ করে আমাদের জন্য- এখানে গুজব ছড়ানোর জন্য বাঁশের কেল্লা, রেডিওমুন্না যেমন আছে তেমনি তাদের অপপ্রচার ঠেকানোর জন্য আছে লক্ষকোটি নিবেদিতপ্রাণ ঘরের খেয়ে বোনের মোষ তাড়ানো শব্দসৈনিকেরা।আপনার চিঠির প্রত্যেকটি শব্দে আপনার বিনয়ী উপস্থাপনা এবং আন্তরিকতা অনলাইনের আরও অসংখ্য মানুষের মত আমারও হৃদয় ছুয়ে গেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কেবল অভিনেত্রী হিসেবেই নন, একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হিসেবে দেশের জন্য কিছু করবার ইচ্ছে, চেষ্টা, এবং ক্ষমতা-তিনটাই আপনার আছে। একটু বুঝতে চেষ্টা করুন, যে ফেসবুক দিয়ে একটা দেশের রক্তাক্ত জন্মইতিহাসের বকেয়া দায় শোধে রাস্তায় নেমে আসে লাখো কোটি জনতা, সেই ফেসবুক কি আরও কত কিছু করা সম্ভব…
    আরেকবার ভেবে দেখবেন, কেমন?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 22 = 23