স্বাধীন কাশ্মীর যেভাবে ভারতের পদানত হলো!

গুরুত্বপূর্ণ এ লেখাটি ভাষণ আকারেই উপস্থাপন করেছিলেন জ্যোতিভূষণ দাসগুপ্ত। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং ‘Jammu and Kashmir’ ও ‘Indo-Pak Ralations’ বই দুটির লেখক। আসুন পরিচিত হওয়া যাক কাশ্মীরের ইতিহাসের সঙ্গে। ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মুক্ত হওয়ায় লেখাটি অনন্য। এটি পশ্চিমবঙ্গের কাগজ ‘মন্থন সাময়িকি’র ২০০০ সালের জানু-ফেব্রু সংখ্যা থেকে নেয়া হয়েছে।

কাশ্মীর সমস্যার যেদিকটা খবরের কাগজে থাকে না, সেদিকটা নিয়ে আমি আপনাদের কিছু কথা বলবো। কাশ্মীরটা কী? দেশভাগের আগে ১৯৪১-এর সেন্সসাস অনুযায়ী কাশ্মীরের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ লক্ষ্য। আজকে ঠিক কত হবে আমি জানিনা। কাশ্মীরে যারা বাস করেন তাদের মধ্যে আছে ডোগরা। ডোগরা নামটা অনেকে শুনেছেন। ওদের মধ্যে হিন্দু আছেন, মুসলমান আছেন। বর্ণ হিসাবে (Caste) ডোগরাদের মধ্যে ব্রাহ্মণ আছেন, রাজপুত আছেন, ক্ষত্রিয়, মহাজন আছেন, সবার নীচে আছেন হরিজন। এই ডোগরারাই জনসংখ্যার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল — যখন মহারাজ হরি সিং কাশ্মীর ছেড়ে চলে গেলেন। ডোগরারা থাকেন মূলত জম্মুতে।

আরেকটা অংশ হল পাহাড়ী। পাহাড়ীরা থাকেন কাশ্মীর উপত্যকা আর জম্মুর মাঝখানে যে পাহাড়গুলি আছে তার মাঝখানের অঞ্চলে। এদের কথা বলার ভাষা মিশ্র — হিন্দী, পাঞ্জাবী, ডোগরা আর সংস্কৃতি শব্দ নিয়ে তৈরী এই ভাষা।

এরপর আছে গুজর। এরা হল জিপসী, বাদুইন জাতি। এরা কোথায় থাকেন? এদের কোনো স্থায়ী আস্তানা নেই। পুঞ্চ, রিয়াসী, মুজফফরাবাদ জেলায় এদের ভারী সংখ্যায় পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালে তারা পালিত ভেড়া, ছাগলের পাল নিয়ে বিভিন্ন দিকে বেরিয়ে পড়েন।

এরপর হল কাশ্মিরী। এদেরই কথা আপনারা শোনান, যাকে বলা হয় কাশ্মিরীয়ত্‌। এরা ইন্দো-এশিয়ান সভ্যতার অংশ। বর্তমানে এদের বেশীরভাগ মুসলমান হলেও, এই সমস্ত সভ্যতা ১৪শ শতকের আগে মোটামুটি হিন্দু সভ্যতা ছিল। এ ছিল প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার অংশ। এরা ছাড়াও কাশ্মীরে নিষাদ, খাসাস, দারাদ, ভাউট্রা, ভিক্‌সাস, দামারাস, তান্ত্রিন ইত্যাদি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। কিন্তু বাইরে থেকে অন্যান্য ভূখন্ড ও জনসমষ্টির সাংস্কৃতিক সম্মিলন কাশ্মীরে খুব হয়নি। হয়নি তার কারণ পাহাড়।

পাহাড়ের কারণেই তখনকার দিনে লোকেরা কাশ্মিরে ঢুকে খুব বেশী কিছু করতে পারেনি। কাশ্মীর ছিল ভৌগোলিক কারণে বিচ্ছিন্ন। আবার এখানে যারা এসেছেন, তাদের কিন্তু কাশ্মিরীরা নিজেদের মধ্যে মিলিয়ে নিয়েছেন। ফলে যেটা হয়েছে তা হল, সেই প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত এখানে একধরনের অ-সাম্প্রদায়িক জীবনযাপনের ভঙ্গী রয়েছে। উত্তর ভারতে যেমন আমরা দেখি — আমি হিন্দু, আমি মুসলমান। কাশ্মিরে গড়ে উঠেছে কাশ্মিরীয়ত্‌। এর নিজস্ব স্বকীয়তা আছে।

প্রথমে ছিল নাগা কালট্‌ (Cult) তারপর এল ব্রাম্ভণ-বাদ (Brahminism) খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে বৌদ্ধধর্ম এল কাশ্মীরে। বৌদ্ধরা বিহার এবং মন্দির বানিয়েছেন। এমনকি হিন্দু দেব-দেবতাদের উৎসর্গ করে সেগুলি তৈরী করেছেন। একধরনের বিশ্বাস থেকে অন্য ধর্মবিশ্বাসে উৎক্রমণ ছিল বরাবর শান্তিপূর্ণ। বাংলাদেশে যেমন হিন্দু থেকে মুসলমান হয়েছে। জোর করে ধর্মান্তরীকরণ হয়নি। ১৪শ শতকে যখন প্রথম ইসলাম আসে কাশ্মীরে, এটা প্রথমে ছিল শান্তিপূর্ণ। এর মধ্যে ব্যতিক্রমও ছিল। যেমন ৫৫১-৫৫০ খ্রীষ্টাব্দে মিহিরগুলের রাজত্বকালে বৌদ্ধ-বিরোধী ধর্মযুদ্ধ হয়েছে।

১৫শ শতকে মুসলমান শাসক বুটসী খানের আমলে প্রবল অত্যাচার হয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে এত রাজত্ব পরিবর্তন হয়েছে,ধর্মের পরিবর্তন হয়েছে হাঙ্গামা হয়নি। এমনকি স্যার ওয়াল্টার রোপার লরেন্স (যিনি কাশ্মীরের সেটালমেন্ট অফিসার ছিলেন) ‘দ্য ইন্ডিয়া উই সার্ভড্‌’ বইতে লিখেছেন, ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত একটাও সাম্প্রদায়িক ঘটনা তিনি কাশ্মীরে দেখেননি।

কাশ্মীরে লিখিত ইতিহাস যা পাই, খ্রীষ্টপূর্ব ২৭৩ থেকে ২৩২-এ মৌর্য রাজা অশোকের সময় থেকে। এর আগের কথা লিখেছে কলহান, তার ‘রাজতরঙ্গিনী’ বইতে। এতে আগের দিনের ইতিহাস খুব প্রামাণ্য বলে মনে করেন না ঐতিহাসিকরা। কিন্তু তাঁর নিজের সময়টা অর্থাৎ ১১৪৮- ৫০ মোটামুটি ঐতিহাসিক।
মৌর্য রাজবংশের পর এল কুশানরা। তারপর এল গোনান্দরা- ১৭৮ খ্রীষ্টাব্দে। এরপর ৫১৫-৫৫০ খ্রীষ্টাব্দে কাশ্মীরে চলেছিল অত্যাচার হুন রাজবংশের মিহিরগুলের রাজত্বকাল। এইভাবে একটার পর একটা অত্যাচার কাশ্মিরে হয়েছে। দুঃখের কথা হল আজ পর্যন্ত তারা কোনো ভাল গভর্নমেন্ট পায়নি। ফলে কাশ্মীরের লোকেরা কাপুরুষ হয়ে গিয়েছিলেন।

এখনও কাশ্মীরের মানুষ মিহিরগুলের অত্যাচার মনে রেখেছেন। ৩ কোটি লোককে নাকি উনি মেরেছিলেন। মিহিরগুলের মৃত্যুর পর আসে গোনান্দা রাজবংশ। তারপর বিক্রমাদিত্য রাজবংশ। ১৯২ বছর ধরে এই হিন্দু রাজত্ব চলে। চীনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ কাশ্মীরে এসেছিলেন ৬৩১-৩৩ খ্রীষ্টাব্দে। দারুণ বর্ণনা করেছেন তিনি কাশ্মীরের। উনি লিখেছেন, কাশ্মিরীরা দারুণ কাব্যিক, দারুণ সংস্কৃতিবান। দারুণ একটা জিনিস এরা তৈরী করে- শাল।

মুসলমান শাসনের শুরুটা চমৎকার। ১৩০১-১৩২০ খ্রীষ্টাব্দে হিন্দুরাজা সহদেব দুজনকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তাদের একজন এসেছিলেন লাদাখ থেকে- বৌদ্ধ রাজকুমার রিনচেন এবং আরেকজন এসেছিলেন দার্দিস্তানের সোয়াট্‌ উপত্যকা থেকে। তিনি ছিলেন মুসলমান, নাম শাহ্‌মীর। ১৩১৯ সালে তাতাররা কাশ্মীর আক্রমণ করে। সহদেব পালিয়ে যান। সহদেবের প্রধানমন্ত্রী রামচন্দ্রের মেয়ে কোটা রাণীকে বিয়ে করে রিনচেন রাজা হলেন। উনি প্রাণপণ হিন্দু হওয়ার চেষ্টা করেন। হিন্দুরা ওকে হিন্দু হতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে উনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৩২৩-এ তাঁর মৃত্যুর পর কোটা রাণী সহদেবের ভাই উদয়নদেবকে বিয়ে করে তাঁকে সিংহাসনে বসালেন। ১৩৩৮-এ উদয়নদেব মারা গেলে শাহ্‌মীর রাজা হলেন। তখন থেকেই শুরু হল মুসলমান রাজত্বকাল।

এরপর মুসলমান রাজত্ব চলল তিনপর্বে — স্বাধীন সুলতানি আমল, মোগল বাদশাহী আমল এবং আফগান আমল। তারপর এসেছে শিখরা। সমস্ত সময় জুড়ে প্রচন্ড অত্যাচার হয়েছে কাশ্মীরে। কেবল মোগলরা সেরকম অত্যাচার করেনি, কারণ তারা দেশ শাসন করতে জানত। সবচেয়ে বেশী করেছে আফগান ও শিখরা। হিন্দু রাজার সময়ও অত্যাচার হয়েছে। স্বাধীন সুলতানী আমলে হিন্দুদের উপর বেছে বেছে অত্যাচার হয়েছে। এর ব্যতিক্রম ছিলেন জয়নুল আবেদিন। সুশাসনের জন্য দুজনকে কাশ্মীরের মানুষ মনে রেখেছে – জয়নুল আবেদিন এবং ললিতাদিত্য।

শিখ রাজা রঞ্জিৎ সিং এর আমলে ডোগরা রাজপুত বংশের সন্তান গোলাব সিং তাঁর কমান্ডার নিযুক্ত হন। বৃটিশ শাসকদের সঙ্গে ‘অমৃতসর চুক্তি’-র মাধ্যমে ১৮৪৬ সালে জম্মু ওকাশ্মীর ৭৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গোলাব সিং-এর শাসনে আসে। ১৯২৫ সাল থেকে হরি সিং রাজা হন। হরি সিং-এর রাজত্বকালে অত্যাচারের নমুনা এরকমঃ ‘রিজিওনাল রেকর্ডস সার্ভে কমিশন অব দ্য কাশ্মীর গভর্নমেন্ট’ থেকে জানা যায় যে, মোট রাজত্ব আদায়ের মধ্যে শাসক নিজে নিত ১২.৫ শতাংশ,৪০ শতাংশ যেত বিদেশে, মাত্র ৩০ শতাংশ পেত জম্মু এবং নামমাত্র ১৭.২৫ শতাংশ বরাদ্ধ ছিল কাশ্মীরের জন্য। কাশ্মীর ছিল এই রাজত্বের মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল অংশ। তাহলে বুঝুন কিরকম রাজত্ব চলত কাশ্মীরে।

এই রাজত্বেই ১৯০৫ সালে জন্ম হল শেখ আবদুল্লার। উনি ১৯৩০ সালে এম. এস. সি. পাস করেন। ‘অল ইন্ডিয়া কাশ্মীর মুসলিম কনফারেন্স’ বলে একটা সংগঠন ছিল পাঞ্জাবে। কাশ্মিরীদের মধ্যে যারা শিখদের অত্যাচারে পাঞ্জাবে পালিয়ে গিয়েছিল, তারা এবং কিছু পাঞ্জাবীরা লাহোর থেকে এই সংগঠন চালাতো। এরা গরীব মুসলমান ছাত্রদের উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ দিত। শেখ আবদুল্লা এরকম একটা স্কলারশিপ নিয়ে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে পড়তে আসেন।

১৯৩০ সালে তিনি এম. এস. সি. পাস করে শ্রীনগর থেকে একটা সরকারী হাইস্কুল জুনিয়ার টিচারের চাকরী পান। মাইনে ছিল মাসিক ৬০ টাকা। তখনকার দিনে ৬০ টাকা অনেক। জিনিসপত্রের দাম কম ছিল। দাম বাড়তে থাকলো ‘৪২-এর পর। শেখ আবদুল্লা একটা ‘রিডিং রুম’ স্থাপন করেন শ্রীনগরে। সেখানে আলোচনা হত কাশ্মিরী মুসলমানদের দুঃখ-দুর্দশা কিভাবে দূর করা যায়, লেখাপড়া কিভাবে শেখানো যায়। একই সময়ে গোলাম আব্বাস জম্মুর মুসলমানদের নিয়ে ‘ইয়ংমেনস্‌ মুসলিম এয়াসোসিয়েশন’তৈরী করেছিলেন। অন্যদিকে লাহোরে কাশ্মিরী ও পাঞ্জাবী মুসলমানদের নিয়ে গঠিত ‘অল ইন্ডিয়া কাশ্মীর মুসলিম কনফারেন্স’ কাশ্মীরের রাজনীতি নিয়ে চর্চা করতো।

১৯৩০-এ ইন্ডিয়াতে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়। গান্ধীর নেতৃত্বে এই আন্দোলনের কথা আমরা জানি। অন্যদিকে মহম্মদ ইক্‌বাল তখন বলতে শুরু করেছেন মুসলমানরা স্বতন্ত্র। উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটা মুসলমান বেল্ট তৈরীর কথা উনি বলেছেন। এই দুই ধরনের আন্দোলনের প্রভাবই ছিল কাশ্মিরী মুসলমানদের মধ্যে। ‘রিডিং রুম’ থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় কাশ্মীরে। মুসলমানদের চাকরী দিতে হবে, লেখাপড়া শিখতে দিতে হবে। রাজা হটাও আন্দোলন তখনও শুরু হয়নি। বিক্ষোভ বাড়তে থাকে।

মহারাজার বৃটিশ মন্ত্রী জি.ই.সি ওয়েকফিল্ড রাজাকে একটা পরামর্শ দেন, বলেন- একটা কাজ কর, এদের কাছ থেকে একটা ডেপুটেশন নিয়ে শোনো এরা কি বলতে চায়। ১৯৩১’র ২১শে জুন, মুসলমানরা একত্র হয়ে ৭জন প্রতিনিধি বাছাই করে। এই প্রতিনিধিরা ডেপুটেশনে যাবে। রাজাকে বলবে কি চাই তাদের। এই সময় আবদুল কাদির নামে এক পাচক হঠাৎ ওই সভায় এসে বলে- হিন্দুদের মারো, হিন্দুদের না মারলে কাশ্মিরীদের কিছু হবে না। হিন্দুদের মারো বললে হিন্দুরাজার আমলে শুনবে কেন? তাকে গ্রেপ্তার করা হল।

১৩ই জুলাই যখন তাকে বিচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেই সময় জনতা জেলখানার বাইরে জড় হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। উপস্থিত সরকারী রক্ষীরা ভয় পেয়ে গুলি ছোড়ে। ২১ জন মারা যান। এইভাবে শুরু হল কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলনের। ১৯৩১’র ১৩ই জুলাই কাশ্মিরীদের স্মরণীয় দিন।

১৯৩২ সালের জুলাই মাস। শেখ আবদুল্লা দেখলেন এইভাবে আবেদন নিবেদন করে চলবে না, আমাকে একটা রাজনৈতিক দল করতে হবে। তাঁর পরামর্শদাতা ছিলেন চারজন। যার মধ্যে প্রেমনাথ বাজাজ, গিরিধারীলাল ডোগরার মত হিন্দু ব্যক্তিরাও ছিলেন। প্রেমনাথ বাজাজই ওনাকে রাজনৈতিক দল গঠন করার পরামর্শ দেন। ১৯৩২-এ ‘অল জম্মু এয়ান্ড কাশ্মীর মুসলিম কনফারেন্স’ গঠন হয়। এইসব নানা আন্দোলন চলেছে। সাতবছর এই নামেই সংগঠন চলে।

কিন্তু ১৯৩৯-এ এসে শেখ আবদুল্লার মনে হল– আমরা তো শুধু মুসলমানদের হয়ে লড়াই করছি না। সত্যিই এই সাত বছর এঁরা যে আন্দোলন করেছেন তাতে শিখ ও হিন্দুরাও যুক্ত হয়েছেন। আন্দোলনটা কি? রাজার স্বৈরাচারী ক্ষমতা কমাতে হবে, এয়্যাম্বলী করতে হবে, ৭০ শতাংশ চাকরী মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে, আইন প্রণয়ন করতে হবে ইত্যাদি। সত্যিই মুসলমানদের কোন চাকরী ছিল না। পন্ডিতরা লেখাপড়া জানত, তাই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে তারা কিছু চাকরী পেত। সবচেয়ে বেশী চাকরী ছিল ডোগরা রাজপুতদের, ওরা রাজত্ব করতো। ম্যাট্রিক পাস না করে, এমনকি সই করতে না পেরেও তারা বড় বড় বিভাগীয় সেক্রেটারী পদে সরকারী চাকরী পেত। সুতরাং মুসলমানরা আন্দোলন তো করবেনই। আর তাতে হিন্দু, শিখরাও যোগ দিয়েছিলেন। এই আন্দোলনের নেতা হিসাবে শেখ আবদুল্লা বুঝতে পারলেন যে তাদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ সংগঠন করতে হবে। লড়াই তো মহারাজার বিরুদ্ধে। সুতরাং আলাদা কোনো দল নয়। ১৯৩২’র ‘মুসলিম কনফারেন্স’ ১৯৩৯’এ নাম বদল করে হল ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স’।

ন্যাশনাল কনফারেন্স কি করল? একটা ‘ন্যাশনাল ডিমান্ড’ পেশ করল- ১৯৩৯’র ৩০শে সেপ্টেম্বর। তাতে তারা ‘যৌথ ভোট ব্যবস্থা’ চাইল, ‘দায়িত্বশীল আইন-প্রণয়ন’ চাইল এবং একটা আলাদা প্রস্তাবে কংগ্রেসের যুদ্ধ সম্পর্কিত মতকে সমর্থন করলো। এদিকে মুসলীম লিগের কোনো যুদ্ধ সম্পর্কিত নিজস্ব মত ছিল না, প্রচ্ছন্নভাবে বৃটিশের প্রতি সহানুভূতি ছিল। সুতরাং কাশ্মীরের এই ব্যাপারটা তাদের মোটেই ভাল লাগলো না।

এইবার কংগ্রেসের কথায় আসি। বৃটিশ রাজত্বে দুটো ভাগ ছিল। একটা হল বৃটিশ ইন্ডিয়া, যাতে আমরা ছিলাম। আর একটা হল নেটিভ স্টেট্‌স, ইন্ডিয়ান ইন্ডিয়া, যাকে আমরা করদ রাজ্য বলি। এদের সংখ্যা ছিল ৫৬৫। কিছু কিছু রাজত্ব খুব বড় ছিল, যেমন মাইসোর, কাশ্মীর, হায়দ্রাবাদ। অধিকাংশ ছিল ছোট। এদের সঙ্গে বৃটিশের সম্পর্ক কেমন ছিল? এরা নিজের নিজের এলাকায় সৈন্য রাখতে পারতো। কিন্তু কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারতো না, সেটা বৃটিশের এক্তিয়ার। এরা এমনকি নিজেদের টাকাপয়সাও তৈরী করতে পারতো। কিন্তু ইন্ডিয়ান মানি (বৃটিশ) চলতো সব জায়গায়। আভ্যন্তরীণ স্বশাসন, কিন্তু বাইরে বৃটিশের বিষয়, বাইরের পরিচয় তাদের কিছু ছিল না। ‘ডকট্রীন অব প্যারামাউন্টসী’ অনুযায়ী তোমরা রাজারা নিজেদের ব্যাপারটা দেখো। ইন্ডিয়ান ইন্ডিয়া বা নেটিভ স্টেট-এ গণতন্ত্র ছিল না, রাজত্ব ছিল খুবই খারাপ।

সর্বভারতীয় কংগ্রেস কিন্তু এই নেটিভ স্টেতগুলিকে একটুখানি ক্ষমার চোখে দেখতো। কেন? তারা মনে করতো এইগুলি কতগুলি দুর্গ। এদের তাতিয়ে রাখলে দরকারমতো এদের দিয়ে বৃটিশকে আঘাত করা যাবে। যতদিন গেল, তারা বুঝতে পারলো যে আসলে পরের লড়াইটা করতে হবে বৃটিশ গভর্মেন্টের সঙ্গে, আর এই করদ রাজ্যগুলিকে আনতে হবে ইন্ডিয়ার মধ্যে। আনতে গেলে দুটো বাধা- রাজা নিজে চাইবে না ইন্ডিয়ার মধ্যে আসতে। বৃটিশ গভর্মেন্ট যখন বলেছিল তখনও তারা রাজী হয়নি। দ্বিতীয় বাধা হল প্রজা- রাজতন্ত্রে যার কোনো ক্ষমতা নেই। ফলে রাজাকে ক্ষমতাচ্যূত করতে হবে। আর দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করে তারপর ইন্ডিয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

কংগ্রেস প্রথমে ছিল নিরপেক্ষ। পরে আস্তে আস্তে সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯২৭’এ ‘অল ইন্ডিয়া স্টেটস পিপল্‌স কনফারেন্স’ গঠন হল সব রাজ্যের মানুষকে নিয়ে। ১৯২৮’এ কংগ্রেস নেটিভ স্টেট বা করদ রাজ্যগুলির ব্যাপারে নির্দিষ্ট অবস্থান নিতে শুরু করে। ১৯৩৯’এ ‘অল ইন্ডিয়া স্টেট্‌স পিপল্‌স কনফারেন্স’-এর প্রেসিডেন্ট হলেন জহরলাল নেহরু। তিনি ঘোষণা করলেন- আমাদের দুটো জিনিস করতে হবে। রাজাকে ক্ষমতাচ্যূত করে ভিতরে গণতন্ত্র আনতে হবে। আর নেটিভ স্টেটকে ইন্ডিয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। আমরা ‘ডকট্রীন অব প্যারামাউন্টসী’ মানি না। হয় ইন্ডিয়ায় যেতে হবে, নয় পাকিস্তানে যেতে হবে। স্বাধীন থাকতে পারবে না।

১৯৪০ সালে নেহরু কাশ্মীরে যেন। কাস্মীরে যাওয়ার পর নেহরুর সঙ্গে শেখ আবদুল্লার একটা সমঝোতা হয়। তারপর থেকেই ন্যাশনাল কনফারেন্স ‘নেহরু লাইন’ ও কংগ্রেসের দ্বারা প্রভাবিত হয়। এইসব দেখে জম্মুর মুসলমান নেতা গোলাম আব্বাস ১৯৪১’এ আলাদা হয়ে ‘মুসলিম কনফারেন্স’ করেন। এই মুসলিম কনফারেন্সকে জিন্না সমর্থন দেন, আর ন্যাশনাল কনফারেন্সকে কংগ্রেসের তল্পিবাহক আখ্যা দেন। সেখ আবদুল্লার সঙ্গে জিন্নার সম্পর্ক খারাপ হয়।

ন্যাশনাল কনফারেন্স ১৯৪৪’এ ‘নয়া কাশ্মীর’ পরিকল্পনা তৈরী করে। এটা সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের ধাঁচে একটা কাশ্মিরী পরিকল্পনা। ১৯৪৬ সালে ন্যাশানাল কনফারেন্সের নেতৃত্বে শুরু হল ‘কুইট কাশ্মীর’ আন্দোলন। মহারাজা হরি সিং-কে বলা হল- তুমি এক কথায় তল্পিতল্পা নিয়ে কাশ্মির ছেড়ে চলে যাও। এই আন্দোলনটা কংগ্রেসী নেতারা খুব ভাল চোখে দেখেননি। কারণ কংগ্রেসী নেতারা কাশ্মীরের স্বায়ত্ত্বশাসন বা স্বশাসন চাইলেও হরি সিং-কে কাশ্মীর থেকে তাড়াতে চাননি। এই আন্দোলনেও কিন্তু কাশ্মীরে হিন্দু ও মুসলমানরা একসঙ্গে ছিল। তখন কাশ্মীরের জনসাধারণ শেখকে ‘দেবতুল্য’ বলে মানতো।

১৯৪৭’এ দেশভাগের সময় বৃটিশ গভর্নমেন্ট বলল কাশ্মীর ইত্যাদিরা স্বাধীন হয়ে যাবে। নেহরু এবং কংগ্রেস বলল- আমরা তা মানি না। আমরা মানি যে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে বৃটিশ গভর্নমেন্ট যেমন নেটিভ স্টেটগুলির অধিকার পেয়েছে, আমরাও তেমনি সেগুলি ন্যায়সঙ্গত উত্তরাধিকার হিসাবে পাব। যারা পাকিস্তানে যাবে, তারা যেতে পারে। বাদবাকী স্টাটগুলি আসবে ইন্ডিয়ায়, সে তারা নিজেরা মানুক আর নাই মানুক।

এই সময় বল্লভভাই প্যাটেল একটা বিভাগ খুললেন- স্টেট ডিপার্টমেন্ট, আমেরিকার মতো। ঐ বিভাগে সেক্রেটারী হয়েছিলেন ভি.পি.মেনন। ঠিক হল প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক বিষয়, যোগাযোগ- এই তিনটি বিষয়ে নেটিভ স্টেটগুলি ‘ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাকসেশন’ -এর মাধ্যমে ১৫ই আগষ্টের মধ্যে ইন্ডিয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে। সব রাজারা ১৫ই আগষ্টের আগে সই করল এই ‘ইন্সট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন’-এ। করল না কাশ্মীর, জুনাগড় এবং হায়দ্রাবাদ (তেলেঙ্গানা)।

কাশ্মীরের মহারাজ হরি সিং ঠিক করতে পারছিলেন না কি করবেন। যখন অক্টোবরে উপজাতি আক্রমণ শুরু হল, তারা মিউরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত এগিয়ে এল, তখন ভি.পি.মেনন শ্রীনগরে এসে মহারাজার সঙ্গে দেখা করলেন। দেখলেন মহারাজা পুরোপুরি ঘাবড়ে গেছেন। তিনি মহারাজাকে দ্রুত পরিবার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে জম্মুতে চলে যেতে বললেন।

সেইসময় জম্মু ও কাশ্মীরে প্রধান মন্ত্রী মেহেরচাঁদ মহাজন দিল্লীতে এসে নেহরুর সঙ্গে দেখা করে বললেন, “সৈন্য পাঠান, কাশ্মীরকে ইন্ডিয়ার অন্তর্ভুক্ত করুন। আর জনসাধারণের দলকে যে ধরনের ক্ষমতা চান দিন। কিন্তু আজ সন্ধ্যার মধ্যেই সেনাবাহিনীর শ্রীনগরে যাওয়া দরকার। না হলে আমি জিন্নার কাছে যাব এবং তার সঙ্গে রফা করে শহরকে বাঁচাব। একথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নেহরু উঠে দাঁড়ালেন, রেগে গিয়ে উনি আমাকে বেরিয়ে যেতে বললেন। যেই আমি বেরোনোর জন্য উঠে দাঁড়িয়েছি, একটা ঘটনা ঘটল- যেটাই কাশ্মীরকে পাকিস্তানের হাত থেকে রক্ষা করলো। প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে শেখ আবদুল্লা ছিলেন, তিনি আমাদের কথাবার্তা শুনছিলেন। পরিস্থিতি খারাপ বুঝে উনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা ছোট্ট কাগজ পাঠান। প্রধানমন্ত্রী কাগজটা পড়লেন এবং বললেন- আপনি যা বলছেন সেটা আবদুল্লারও মত। আর তাঁর মনোভাব পুরো পালটে গেল।”

এভাবেই জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “স্বাধীন কাশ্মীর যেভাবে ভারতের পদানত হলো!

  1. বোঝা যায় অন্যান্য পাহাড়ি
    বোঝা যায় অন্যান্য পাহাড়ি অন্চলের মানুষের মত কাশ্মিরের মানুষরাও সংগ্রামি।
    আর লেখার স্টটাইলটাও ভালো লেগেছে।ধন্যবাদ।

  2. অনেক তথ্যবহুল লেখা। অনেক কিছু
    অনেক তথ্যবহুল লেখা। অনেক কিছু জানলাম। আমি লেখকের কাছে দুইটা পয়েন্ট পরিষ্কারভাবে জানতে চাচ্ছি-
    ১) আপনি শুরুতেই বলেছেন- দেশভাগের আগে ১৯৪১-এর সেন্সসাস অনুযায়ী কাশ্মীরের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ লক্ষ্য। তারপর খুব সম্ভবত ১৩ নং অনুচ্ছেদে আপনি বলেছেন- ১৯২৫ সাল থেকে হরি সিং রাজা হন।হরি সিং-এর রাজত্বকালে অত্যাচারের নমুনা এরকমঃ ‘রিজিওনাল রেকর্ডস সার্ভে কমিশন অব দ্য কাশ্মীর গভর্নমেন্ট’ থেকে জানা যায় যে, মোট রাজত্ব আদায়ের মধ্যে শাসক নিজে নিত ১২.৫ শতাংশ,৪০ শতাংশ যেত বিদেশে, মাত্র ৩০ শতাংশ পেত জম্মু এবং নামমাত্র ১৭.২৫ শতাংশ বরাদ্ধ ছিল কাশ্মীরের জন্য। কাশ্মীর ছিল এই রাজত্বের মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল অংশ। তাহলে বুঝুন কিরকম রাজত্ব চলত কাশ্মীরে। জনসংখ্যার আনুপাতিক হিসেবে রাজস্বের ব্যয়ভার কম হতে পারে না? যদি ১৯৪১ সালে কাশ্মীরে জনসংখ্যা ৪০ লক্ষ হয় তাহলে হরি সিং এর রাজত্ব কালে এই জনসংখ্যা বোধ করি আরও কিছুটা কম ছিল। যদি কম নাও হয় তাহলেও তো এমন হতে পারে যে জনসংখ্যার দিক থেকে জাম্মু কাশ্মিরের তুলনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ তাই তাদের ব্যয়ভারটিও বেশী।। হতে পারে না? আবার যেহেতু তৎকালে এই স্বায়ত্বশাসিত রাজত্বটি ব্রিটিসরাজের নেটিভ ষ্টেটস ছিল তাই রাজস্ব প্রদানের হারটিও ব্রিটিশ সরকারই নির্ধারণ করে দিত। এমনকি রাজা কি পরিমাণে রাজস্ব রাখবে তাও কেন্দ্রীয় সরকার নির্ধারণ করে দিত। এ ব্যাপারে কোন বিশেষ তথ্য উল্লেখ করেন নি। ২২ নং অনুচ্ছেদে- আভ্যন্তরীণ স্বশাসন, কিন্তু বাইরে বৃটিশের বিষয়, বাইরের পরিচয় তাদের কিছু ছিল না। ‘ডকট্রীন অব প্যারামাউন্টসী’ অনুযায়ী তোমরা রাজারা নিজেদের ব্যাপারটা দেখো। এখানে রাজস্ব প্রদানের হার কি কেন্দ্র থেকে নির্ধারণ করা হতো কিনা বা যেহেতু এটি স্বশাসিত রাজ্য তাই বহিঃরাজ্যের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কে আলাদা করের ব্যাপারটি উল্লেখ করা হয় নি। এ বিষয়টি একটু পরিষ্কার করে দিন। কেননা পাকিস্তান শাসন ব্যবস্থায় মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৫ ভাগ পূর্ব পাকিস্তানে ছিল কিন্তু মোট ব্যয়ভারের শতকার ৭০ ভাগের কমবেশী চলে যেত পশ্চিম পাকীস্তানীদের খাতে। জনসংখ্যার হার পূর্ব পাকিস্তানে বেশী থাকার পরও পশ্চিম পাকিস্তানীদের পেছনে ব্যয় বেশী হতো বলে আমরা এটাকে অত্যাচার হিসেবে দেখি। কাশ্মীর ও জাম্মুর ব্যাপারে এরকমের জনসংখ্যার হারের সুস্পষ্ট তথ্য নেই। ৪০ লক্ষ কাশ্মীরিদের জন্যব যে ১৭.২৫ শতাংশ বরাদ্দ সেটি কিভাবে কম হয় তা স্পষ্ট না।

    ২) সেইসময় জম্মু ও কাশ্মীরে প্রধান মন্ত্রী মেহেরচাঁদ মহাজন দিল্লীতে এসে নেহরুর সঙ্গে দেখা করে বললেন, “সৈন্য পাঠান, কাশ্মীরকে ইন্ডিয়ার অন্তর্ভুক্ত করুন। আর জনসাধারণের দলকে যে ধরনের ক্ষমতা চান দিন। কিন্তু আজ সন্ধ্যার মধ্যেই সেনাবাহিনীর শ্রীনগরে যাওয়া দরকার। না হলে আমি জিন্নার কাছে যাব এবং তার সঙ্গে রফা করে শহরকে বাঁচাব। একথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নেহরু উঠে দাঁড়ালেন, রেগে গিয়ে উনি আমাকে বেরিয়ে যেতে বললেন। যেই আমি বেরোনোর জন্য উঠে দাঁড়িয়েছি, একটা ঘটনা ঘটল- যেটাই কাশ্মীরকে পাকিস্তানের হাত থেকে রক্ষা করলো। প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে শেখ আবদুল্লা ছিলেন, তিনি আমাদের কথাবার্তা শুনছিলেন। পরিস্থিতি খারাপ বুঝে উনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা ছোট্ট কাগজ পাঠান। প্রধানমন্ত্রী কাগজটা পড়লেন এবং বললেন- আপনি যা বলছেন সেটা আবদুল্লারও মত। আর তাঁর মনোভাব পুরো পালটে গেল।” এর মানে কি স্বাক্ষর বা কোন দলিল ছাড়াই কাশ্মীর ভারতের দখলে আসে আর যদি সেটা হয় তাহলে পাকিস্তানের খাতে যে অংশটা গেল সেটা কিভাবে এবং গেল ?

  3. এ রকম এক তরফা, তথ্য উৎসহীন,
    এ রকম এক তরফা, তথ্য উৎসহীন, শুধু নির্বাচিত অংশের উল্লেখ প্রোপাগান্ডাম মূলক উদ্দেশ্য ছাড়া আর কি বলবো। কাশ্মিরেএর ডেমোগ্রাফী কিভাবে পরিবর্তিত হলো, কিভাবে হরি সিং এর মুস্লিম সেনারা বেঈমানী করে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে যোগ দিল কিচ্ছু উল্লেখ নেই। আরো অনেক কিছু উল্লেখ করার ইচ্ছে ছিল। যাই পুরা বামপ্ন্থী ইতিহাসবিদের মতো কাশ্মিরের সাম্প্রদায়িক চরিত্রটি কি সুন্দর ভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 8 =