গন আদালত থেকে শাহবাগ চত্বর : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আন্দোলনের একুশ বছর

শাহবাগের মহাজাগরণ এক পক্ষ অর্থাত পনের দিন অতিক্রম করেছে। শুধু শাহবাগ নয়–চট্টগ্রাম থেকে দিনাজপুর, সিলেট থেকে খুলনা-যশোরের ছাত্র-জনতার জাগরণের মঞ্চ পক্ষ অতিক্রম করেছে এবং কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া সমাবেশ চলমান রেখেছে। জনতার এই স্বতস্ফূর্ত সমাবেশকে বিদেশী সাংবাদিকদের কেউ তুলনা করেছেন মিশরের তাহরির স্কয়ারের সঙ্গে, কেউ করেছেন দিল্লীর আন্না হাজারের উত্থানের সঙ্গে, কেউ করেছেন নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিট দখলের আন্দোলনের সঙ্গে।

গত দুই বছরে আমেরিকা, মিশর ও ভারতের এই তিনটি গণ অভ্যুত্থান নি:সন্দেহে যুগান্তকারী ঘটনা। ঢাকার শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের মতো এসব মহাসমাবেশ চলমান ছিল বিরতহীন। কিন্তু বাংলাদেশের শাহবাগ চত্বর কয়েকটি কারণে সাম্প্রতিক ইতিহাসের এসব অভ্যুত্থানের চেয়ে স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত: তাহরির স্কয়ারের মতো শাহবাগের জাগরণ মঞ্চের নায়ক ‘ফেসবুক প্রজন্ম’ হলেও তাহরির স্কয়ারের নেপথ্যে ছিল মৌলবাদী মুসলিম ব্রাদারহুড এবং সেনাবাহিনীর বড় অংশ, যার প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পতন চেয়েছে। একই ভাবে ভারতের রাজধানীতে আন্না হাজারের গণজাগরণ মঞ্চের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল হিন্দু মৌলবাদীদের বিভিন্ন সংগঠন এবং চরিত্র ছির সরকারবিরোধী। নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিট দখলের গণজাগরণের নেপথ্যে কজ করেছে বিভিন্ন এনজিও।

ঢাকার শাহবাগ চত্বরের আন্দোলন আরম্ভ হয়েছে দলনিরপেক্ষ তরুণ ব্লগারদের দ্বারা, যারা নিজেদের দাবি করেছেন শহীদজননী জাহানারা ইমামের সন্তান এবং তাঁর আন্দোলনের উত্তর-প্রজন্ম। এই তরুণরা বছরের পর বছর ‘৭১-এর ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যাকারী জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী অপরাপর মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ‘সাইবার যুদ্ধে’ নেতৃত্ব দিয়েছেন, দেশে ও বিদেশে বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। তাদের যুদ্ধ ‘৭১-এর গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও চরম দন্ড দ্রুত কার্যকর এবং জামায়াত শিবির চক্রের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের জন্য। একুশ বছর আগে শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্ব সূচিত নাগরিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল প্রধানত: এ দুটি দাবির ভিত্তিতে, যার প্রধান শক্তি ছিল মুক্তিযুদ্ধোত্তর তরুণ প্রজন্ম।

১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু নৃশংস হত্যাকান্ডের পর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে, শাস্তিপ্রাপ্তদের মুক্তিদান করে, নিষিদ্ধঘোষিত জামায়াতে ইসলামী এবং ধর্মব্যবসায়ীদের অপরাপর দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে, সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা মুছে ফেলে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধপূর্ব যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। বাংলাদেশের বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির পাকিস্তানিকরণ এবং তথাকথিত ‘ইসলামীকরণ’ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যে প্রজন্ম বেড়ে উঠেচিল তারা জানত না ‘৭১-এর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ভয়বহতা ও ব্যাপকতা, তারা জানতা না কারা ছিল মুক্তিযুদ্ধের শত্রু-মিত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী। মুক্তিযুদ্ধের একুশ বছর পর শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে সূচিত ‘৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজের এই পাকিস্তানিকরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। আন্দোলনের ভেতর দিয়ে যে প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে তাদের দেশপ্রেম ও মুক্তযুদ্ধের চেতনাবোধ শাহবাগ চত্বরের মহাজাগরণের মূল শক্তি।

শাহবাগ চত্বরের মহাজাগরণ তাহরির স্কয়ার বা আরব বসন্তের মতো সরকারপতনের আন্দোলন নয়। কায়রো ও দিল্লীর গণজাগরণের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল মুসলিম ও হিন্দু মৌলবাদি সংগঠন। শাহবাগের মহাজাগরণের প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছে ধর্মীয় মৌলবাদ। যে কারণে অতীতের সকল গণতান্ত্রীক আন্দোলনকে পাকিস্তানি শাসক এবং তাদের এদেশীয় তল্পিবাহক মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক জামায়াতে ইসলামী গং যেভাবে ‘পাকিস্তানবিরোধী’ ও ‘ইসলামবিরোধী’, ‘ভারতের চক্রান্ত’ বলেছে, যেভাবে তারা ‘৭১-এর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী বাঙালিদের ‘দৃষ্কৃতকারী’, ‘ইসলামের দুষমন’ ও ‘ভারতের এজেন্ট’ বলেছে একই ভাষায় তারা শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের নায়কদের প্রতি বিষোদগার করছে তাদের প্রচারমাধ্যমে। ব্লগার রাজিব হায়দারকে জামায়াতের ঘাতকরা নৃশংসভাবে হত্যাকরেও রেহাই দেয়নি– চরিত্রহনন সহ তাকে মুরতাদ আখ্যা দিয়ে তার সহযোগিদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। একুশ বছর আগে তারা শহীদজননী জাহানারা ইমাম, কবি সুফিয়া কামাল মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল কাজী নূরউজ্জামান, অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, কথাশিল্পী শওকত ওসমান, অধ্যাপক আহমদ শরীফ, সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ সহ নির্মূল কমিটির শীর্ষ নেতাদের একই ভাষায় চরিত্রহনন করেছে এবং মুরতাদ ঘোষণা করে হত্যার জন্য দলের কর্মীদের প্ররোচিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাংলাদেশের সংবিধানের বিরুদ্ধে জামায়াতের এই জেহাদে শামিল হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি থেকে আরম্ভ করে কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা এবং ধর্মব্যবসায়ী ভন্ডপীররা। উদ্দেশ্য একটাই–যে কোনও মূল্যে যুদ্ধাপারধীদের চলমান বিচার প্রক্রিয়া প্রতিহত ও বানচাল করা।

শাহবাগ চত্বরে মহাজাগরণ থেকে ঘোষিত ছয় দফা সরকার পতনের কর্মসূচী না হলেও এটি সরকারের কিছু দায়িত্বহীনতা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ও চাপ। ব্যক্তির পাশাপাশি গণহত্যাকরীদের সংগঠনের বিচারের জন্য নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে যতবার দাবি জানানো হয়েছে ততবার আইনমন্ত্রী বলেছেন, তারা শুধু ব্যক্তির বিচার করবেন সংগঠনের করবেন না। ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনের বিচার না করলে এ বিচার তিরিশ লক্ষ্য শহীদ পরিবারের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না এ কথা বহুবার বলা সত্ত্বেও সরকারের নীতিনির্ধারকদের টনক নড়েনি। জাতীয় সংসদে যেদিন প্রধানমন্ত্রী আবেগপূর্ণ অশ্রুরুদ্ধ কন্ঠে শাহবাগের মহাজাগরণের সঙ্গে সংহতি জ্ঞাপন করলেন তারপরই আইনমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনের বিচারের বিল সংসদে উত্থাপন করলেন। শাহবাগের মহাজাগরণ চলমানকালেই বিলটি সংসদে সর্বসম্মত পাশ হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরও হয়ে গেছে। তবে জামায়াতের রাজনীতি তথা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ সম্পর্কে সরকারের মন্ত্রীরা একেকজন একেকরকম কথা বলছেন। সর্বশেষ গত ১৯ ফেব্রুয়ারী তথ্যমন্ত্রী বলেছেন ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কোন পরিকল্পনাই সরকারেরই নাই।

এর একদিন আগে ১৮ফেব্রুয়ারী শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে বক্তৃতার এক পর্যায়ে আমি বলেছিলাম, ‘৭২-এর সংবিধান পুন:প্রবর্তন ছাড়া ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বা ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা যাবে না। সেদিন কয়েকজন তরুণ ব্লগার ক্ষোভের সঙ্গে আমাকে বলেছিলেন শাহবাগ চত্বর থেকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার শ্লোগান বন্ধ হয়ে গেছে। আমি তাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেছি, তোমাদের সব দাবি এক সমাবেশে সরকার মেনে নেবে এটা কেন ভাবছ? শাহবাগের মহাজাগরণ না হলে সরকার অপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারেরও উদ্যোগ নিত না। এটা তোমাদের আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বিজয়। তোমাদের আন্দোলনের চেতনা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এটাও কম অর্জন নয়। ধর্মের নামে রাজনীতি বন্ধ করতে হলে বঙ্গবন্ধুর মতো বলিষ্ঠ, দূরদর্শী, প্রজ্ঞাবান নেতা দরকার। এ সরকার যদি জামায়াত নিষিদ্ধ করে সেটাও আমাদের আন্দোলনের একটা বড় বিজয় হবে।

বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের আন্দোলন শুরু হয়েছে ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে। এর একুশ বছর পর বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের একুশ বছর পর জাহানারা ইমামের গণআদালতে যুদ্ধাপরাধি গোলাম আযমের বিচার হয়েছে। গণআদালতের একুশ বছর পর শাহবাগ চত্বরে ইমরান, পিয়াল, বাঁধন, আসিফ, আরিফ, নিলয়, লাকি ও রাকিবদের মহাজাগরণ হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সমাজ নির্মাণের আন্দোলন চলমান থাকবে।

শাহবাগ চত্বরের মহাজাগরণ আরম্ভের দু সপ্তাহ আগে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র ২১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনকন্ঠে প্রকাশিত আমার এক নিবন্ধে লিখেছিলাম–‘ গত ৬ জানুয়ারী (২০১৩) মহাজোট সরকারের চতুর্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘প্রথম আলো’য় বিভিন্ন বিষযে যে জনমত জরিপের ফল প্রকাশিত হয়েছে তার ভেতর দুটি হচ্ছে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার এবং জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ সম্পর্কে। ‘যুদ্ধাপরাধিদের বিচারে বর্তমান সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারছে কি? এ প্রশ্নের জবাবে ২০০৯ সালে উত্তরদাতাদের ৮৬% ‘হ্যাঁ’ বলেছেন, ২০১২ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪% -এ। ট্রাইব্যুনালের লোকবল, রসদ ও নিরাপত্তার ঘাটতি যদি অব্যাহত থাকে, জামায়াতের বহুমাত্রিক চক্রান্ত সম্পর্কে সরকার যদি আগের মত উদাসীন থাকে– ২০১৩ সালের শেষে সরকারের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা এ ক্ষেত্রে কোথায় এসে দাঁড়াবে ভেবে শঙ্কাবোধ করছি।

‘প্রথম আলো’র জরিপে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের পক্ষে ৫৮% উত্তরদাতা ‘হ্যাঁ’ বলেছেন, ৪১% বলেছেন ‘না’। যদি নির্দিষ্টভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের কথা বলা হত আমি মনে করি অন্ততপক্ষে ৮০% উত্তরদাতা ‘হ্যাঁ’ বলতেন। বাংলাদেশ সহ উপমহাদেশের বহু ধর্মীয় সংগঠন এবং আলেম-উলামারা মনে করেন জামায়াত রাজনীতির নামে ইসলাম ধর্মকে কলঙ্কিত করছে। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার উপর যদি গণভোট হয় এ কথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়–সিংহবাগ মত হবে নিষিদ্ধকরণের পক্ষে। তবে ‘৭১-এর গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে জামায়াতের বিচারের জন্য গণভোটের প্রয়োজন নাই। নির্বাচকমন্ডলী ২০০৮-এর নির্বাচনেই এই ম্যান্ডেট মহাজোটকে দিয়েছে। আমজনতা যা চান সরকারের বিজ্ঞ নীতি নির্ধারকরা যদি তা না বোঝেন তাহলে হবে– সর্বনাশের আর বাকি নেই।

শাহবাগের মহাজাগরণ আমার প্রত্যাশা আরও সমৃদ্ধ করেছে। ট্রাইব্যুনালের আইন সংশোধনের পর এর প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা নিয়ে এখন যদি গণভোট হয় আমি মনে করি ৫৮% নয়, ৮০% মানুষ এর পক্ষে বলবে। এটাই জাহানারা ইমামের আন্দোলনের নতুন প্রজন্মের সন্তানদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

ঢাকা
২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৩

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “গন আদালত থেকে শাহবাগ চত্বর : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আন্দোলনের একুশ বছর

  1. শাহবাগ আমাদের নতুন করে স্বপ্ন
    শাহবাগ আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। শাহবাগ দেখিয়ে দিয়েছে সবকিছু এখনও নষ্টদের অধিকারে যায়নি। চমৎকার লেখাটির জন্য শাহরিয়ার কবির স্যারকে ধন্যবাদ।

  2. ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সমাজ

    ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সমাজ নির্মাণের আন্দোলন চলমান থাকবে।

    একমত। তবে আমি চাই দ্রুতই শেষ হয়ে যাক এই যুদ্ধ।

  3. চমৎকার একটি লেখা। ‘ইস্টিশন’
    চমৎকার একটি লেখা। ‘ইস্টিশন’ মুলধারার অনেক ভাল ভাল লেখকের লেখা আমাদের পড়তে সুযোগ করে দিচ্ছে। বাংলাব্লগে ইস্টিশন আশাকরি ভিন্নতা আনতে পারবে। আমার প্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব শাহরিয়ার কবিরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি অনলাইনের মাধ্যমে লেখার জন্য। আশাকরি ইশ্টিশন অন্য লেখকদের লেখা পড়ার সুযোগ করে দেবে।

  4. ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সমাজ

    ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সমাজ নির্মাণের আন্দোলন চলমান থাকবে।

    কতদিন পর্যন্ত? সমাজটা হয়ত ধর্ম নিরপেক্ষ, কিন্তু রাষ্ট্র সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ধর্ম নিরপেক্ষ না। ৭২-এর সংবিধানে সম্পূর্ণ ফিরে যাওয়া ছাড়া রাষ্ট্র ধর্ম নিরপেক্ষ অবস্থানে কিভাবে যাবে? সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা আর রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামের সহাবস্থান কি আমাদের রাজনৈতিক দৈন্যতার প্রকাশ ঘটায় না। আওয়ামীলীগ কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা বলে। কিন্তু সেই আওয়ামীলীগই বঙ্গবন্ধু যে রাস্ট্রের স্বপ্ন দেখতেন, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারলেন না। তাই, আমাদের তরুণ প্রজন্ম যত স্বপ্নের বীজই বপন করুক, আওয়ামী-বিএনপি দিয়ে সেই বীজ থেকে চারা গঁজাবার কোন সুযোগ নাই। ৭৫-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত খুনী জিয়ার স্বপ্নই বাস্তবায়ন হচ্ছে। এরশাদ, বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের মাধ্যমেই জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।

  5. মূল সমস্যাগুলো থেকে চোখ তুলে
    মূল সমস্যাগুলো থেকে চোখ তুলে নিলে যা হয়, আমাদের তাই হয়েছে। ‘৭১ এর পর ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে তো বিচ্ছিন্ন করা হয়-ই-নি বরং পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। অথচ রাষ্ট্র তখন ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখ পড়ে আছে। সেই মুখ পড়ে চলার মূল্য এতদিন হাড়ে হাড়ে দিয়ে এসেছি, দিচ্ছি। শেকড়ে পানি আর সার দিয়ে দিয়ে এদের বাড়তে দিয়েছি, তাই ধর্ম থেকে রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন না করে শুধু জামাতকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হচ্ছে। তার মানে কি দাড়ালো? আমরা কি মিডিয়ার সৃষ্ট বাংলা ভাইকে দেখিনি? এখনো সময় আছে, শেকড় ধরে টান দেবার। প্রজন্ম সব রকম দলীয় বলয় থেকে বেরিয়ে, যদি ষ্পষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টি নিয়ে এগুতে পারে, তো কল্যাণ দেশ ও দশের।

  6. ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটা শুনলে
    ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটা শুনলে ভালো লাগে। কেমন একটা প্রগতীশীল ভাব আছে এর মধ্যে। ধর্মনিরপেক্ষতা যদি হয় যার যার ধর্ম তার তার, তাহলে আমাদের হতে হবে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা খ্রীষ্টান। তারপর তাদের সহাবস্থান। কিন্তু যারা ধর্মহীন তাদের অবস্থান নিয়ে ভাবার কি সময় আসেনি?
    হুমায়ুন আজাদের‌ ‘আমার অবিশ্বাস’ বইয়ের কথা মনে পড়ে। আমি কলা গাছ, আকাশ বাতাসকেও ধর্ম বলে দাড় করিয়ে বিশ্বাস করলে ক্ষতি নেই। কিন্তু ধর্মহীন হলেই নিগৃহীত হতে হবে। নতুন সমাজ বিনির্মানে এসব নিয়ে ভাবার কি সময় হয়নি?

      1. ধর্ম নিরপেক্ষতা জিনিসটা
        ধর্ম নিরপেক্ষতা জিনিসটা বাংলাদেশে এখন চর্চার চেয়ে রাজনীতির গুটি হিসাবে বেশী ব্যবহৃত হচ্ছে। ধর্ম নিরপেক্ষতা চর্চার জিনিস। ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে চর্চা করতে হবে। না হয় এটা শুধু একটা কেতাবী শব্দ হিসাবে আমাদের কাছে সৌন্দর্য্য ছড়াবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 53 = 58