রুশ অবরোধে তুরস্কের বিপদ কতটুকু?

যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি করছে সাধারণ রুশীরা। এমনকি মস্কোতে অবস্থিত তুর্কী দূতাবাসে হামলাও চালিয়েছে জনতা। মূলত তুরস্কের এই আঘাতটা গিয়ে লেগেছে রুশীদের অহংবোধে! নিজেদের তারা বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে জ্ঞান করে। এখন তুরস্কের এই হামলায় তারা বিরাট অপমানিত। রুশ সরকারও জাতীয় এই মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছে এবং তুরস্কের অর্থনীতিকেই ভূপাতিত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এ অবরোধ আরোপ হলে তুরস্ক কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?

রাশিয়ার ভেতরে তুরস্কের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের জাহাজিকরণ ও তুর্কী কোম্পানিগুলোর কাজ ও সেবা নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একই নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের বিনিয়োগ কর্মসূচিগুলোতেও আরোপ করার চিন্তাও চলছে। তুরস্কে রুশ পর্যটক যাওয়াও বন্ধ করা হচ্ছে। যদিও এতদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিল। রাশিয়া ছিল তুরস্কের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। পাশাপাশি বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রুশ পর্যটক তুরস্কে যায়।

 

রাশিয়ার পোলট্রি ও কৃষিজাত আমদানি-পণ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে তুরস্ক থেকে। রুশী বিক্ষোভকারীরা তুরস্ক থেকে আসা ডিমগুলো নিক্ষেপ করেছে মস্কোস্থ তুর্কী দূতাবাসে। এই বিক্ষোভকে আমলে নিয়ে রুশ সরকার ঘোষণা করেছে তুরস্ক থেকে আর কোনো পোলট্রি পণ্য কেনা হবে না। শুধু তাই নয়, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়ার নাগরিকদের তুরস্ক সফরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বলেছে, তুরস্ক এখন রুশীদের জন্য মিশরের মতোই নিরাপত্তাহীন। সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার সব পর্যটন কোম্পানি তুরস্কে পর্যটক পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। পর্যটন প্যাকেজের বুকিং বাতিল করা ও উড়োজাহাজের টিকিট ফেরত দেওয়ার ধুম লেগেছে। এর ফলে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়েছে তুরস্কের পর্যটন ব্যবসা।

তুরস্কের পর্যটন খাতের মোট রাজস্বের ১২ শতাংশ আসে রুশ পর্যটকদের কাছ থেকে। ২০১৪ সালে ৪৪ লাখ রুশ পর্যটক তুরস্কে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এ থেকে তুরস্ক আয় করেছে ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বছরের প্রথম নয় মাসে ২৭ লাখ ৮০ হাজার রুশ নাগরিক তুরস্ক সফর করেছেন। এখন রুশিরা তুরস্কে বেড়াতে যাওয়া বন্ধ করলে দেশটি ২.৭৭ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।


অধিকাংশ রুশী মনে করেন আইএসকে সহযোগিতা করছেন এরদোগান

রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের আরও অনেক বড় বড় ব্যবসায়িক সম্পর্ক আছে। রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা তুরস্ক। তুরস্কের মোট গ্যাস-চাহিদার ৬০ শতাংশ মেটায় রাশিয়া। রাশিয়ার গ্যাস ছাড়া তুরস্কের অর্থনীতি ভেঙে না পড়লেও যে প্রায় ভঙ্গুর হয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর বাইরে রাশিয়ার রোসআতম কোম্পানি তুরস্কে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। ওই কেন্দ্রের চারটি রিঅ্যাক্টর মোট ৪৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে তুরস্কের বিদ্যুৎ-জ্বালানী পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে তুরস্কে বিনিয়োগ কমবে, শিল্পোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

বিগত বছরগুলোতে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমশ বেড়েছে। কখনো কখনো দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়েছে, আবার কিছু সময় পরে তা কেটেও গেছে। এভাবে গত দেড় দশকে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় আট গুণ। ২০০১ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪.৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

গত বছর নভেম্বরের শেষে রুশ প্রেসিডেন্ট তুরস্ক সফরে যান। তখন দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তুরস্কের কাছে গ্যাসের দাম ছয় শতাংশ কম নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন পুতিন। তুরস্ক আরও তিন বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস চাইলে তাতেও তিনি সম্মতি দেন। দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ২০২০ সালের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেন।

এখন হঠাৎ করে রুশ সহযোগীতা প্রত্যাহার হলে তুরস্কের অর্থনীতি এক ধাক্কায় তার এক-তৃতীয়াংশ সামর্থ হারাবে। যদিও ন্যাটো জোট এবং আমেরিকা তুরস্ককে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে এটা ধরেই নেয়া যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তুরস্ক রাশিয়ায় খাদ্যপণ্যের যে বাজার হারাচ্ছে, আর পর্যটন ও গ্যাসখাতে যে ধরণের চাপে পড়তে যাচ্ছে, তা কোনো কিছু দিয়েই পুষিয়ে ওঠার সুযোগ নেই। খাদ্য রপ্তানির বিকল্প বাজার দাঁড় করাতে তাদের ন্যূনতম দুই বছর লাগবে। যা কিনা তুর্কী কৃষি উৎপাদকদের দুই বছরের দীর্ঘ মন্দায় ফেলে দিবে। এ অবস্থায় সরকারকে আবার রাজস্ব থেকে ভর্তুকি দিতে হবে। তা দিয়েও দুই বছর এত বড় খাত টানা যাবে কিনা তা নিয়ে দেশটির অর্থনীতিবিদরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

এদিকে গ্যাস ও পর্যটন খাত যে সঙ্কটে পড়বে তা মোকাবেলার কোনো রাস্তাই দেখা যাচ্ছে না। শুধু তুরস্ক নয়, পুরো ইউরোপই রুশ গ্যাসের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। এর বিকল্প উৎস তেমন একটা নেই বললেই চলে। যা আছে তাও বিলি-বণ্টিত! তুরস্ককে গ্যাস দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে, এমন দেশ নেই। আর ২.৭৭ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারাতে বসা পর্যটন খাতও পাচ্ছে না কোনো বিকল্পের সন্ধান। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তুরস্কের পর্যটন খাতের এক দশক সময় লাগতে পারে। যেখানে কিনা আইএস আতঙ্কে এখন তুরস্কে পর্যটক এমনিতেই কম। রুশ-তুর্কী উত্তেজনাও বিদেশী পর্যটকরা বিবেচনায় নিবেন। এর ফলে তাদের পর্যটক আরও কমে যাবে বলা ধারণা করা হচ্ছে।

এসব তথ্য বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো দিন রাত খবর প্রকাশ করছে। জাতিসংঘও উদ্বেগ দেখিয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, তুরস্ক আসলে আমেরিকা ও ন্যাটোর পরামর্শে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হচ্ছে, দুই দেশের জনগণ ও জাতিসমূহের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে।

এসবের মাধ্যমে সেই প্রবাদটি আবারও সত্য প্রতিপন্ন হতে চলেছে, যাতে কিনা বলা হয়েছে- ‘আমেরিকা যার বন্ধু, তার শত্রুর দরকার নেই!’ দেখা যাচ্ছে দুর্নীতিদুষ্ট তুর্কী নেতা এরদোগানের ভুল সিদ্ধান্তে পুরো তুরস্ক ও সেখানকার জনগণের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। ইতোমধ্যে তুরস্কের শেয়ার বাজারের সূচক এবং দেশটির মুদ্রা লিরার মান কমে গেছে। ডলারের বিপরীতে এক শতাংশ দর পতন ঘটেছে লিরার। অন্যদিকে ইস্তাম্বুলের শেয়ার মার্কেটে সূচক নেমেছে এক দশমিক চার শতাংশ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২২ thoughts on “রুশ অবরোধে তুরস্কের বিপদ কতটুকু?

  1. তুরস্কের প্রসিডেন্ট সাবেই না
    তুরস্কের প্রসিডেন্ট সাবেই না আমেরিকা আবিস্কার মুসলমানরা করছে বলে দাবী করেছিল! তুরস্ক ব্যবসাপাতি হারায় পথে বসলে বসবে, কিন্তু রাশিয়ার আইএস বিরোধী হামলায় তার দিলে যে চোট দিছে তার বদলা তো নিতে হবেই। এই তূর্কিরা মুসলিম না হলে ইউরোপের অন্যতম শান্তির দেশ হতো তুরস্ক!

  2. আপনার মন্তব্যের প্রথম বাক্যটি
    আপনার মন্তব্যের প্রথম বাক্যটি বলছে যে, এরদোগান একজন অপদার্থ মুসলিম, যে কিনা আমেরিকার ইতিহাস নিয়ে নির্বোধের মতো মিথ্যাচার করে। দ্বিতীয় বাক্যটি বলছে, রাশিয়া যে আইএসকে হামলা করেছে, এতে মুসলিম তুরস্ক ক্ষিপ্ত। তাই তারা ব্যবসা হারানোর ঝুঁকি নিয়ে আইএস প্রেমে মগ্ন হয়েই রুশ বিমান ভূপাতিত করেছে। তৃতীয় বাক্যটি বলছে, তুরস্ক যদি মুসলিম জনপদ না হতো, তাহলে তা হতো শান্তির আবাসস্থল।

    এই সবই মেনে নিচ্ছি। আমার প্রশ্নটা একটু ভিন্ন জায়গায়। আমি জানতে চাই যে, এরদোগান না হয় আইএস প্রেমে মগ্ন হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমেরিকা ও ন্যাটো কেন তাকে সমর্থন জানাল? তাহলে কি তারাও আইএসের মিত্র? অথচ তারা তো মুসলিম নয়! কেন তারা তুরস্কের মুসলিম শাসক, সরকার ও তার দ্বারা পরিচালিত এই হামলাকে সমর্থন জানাচ্ছে, জবাব দিবেন কি?

    1. কিন্তু আমেরিকা ও ন্যাটো কেন

      কিন্তু আমেরিকা ও ন্যাটো কেন তাকে সমর্থন জানাল? তাহলে কি তারাও আইএসের মিত্র? অথচ তারা তো মুসলিম নয়! কেন তারা তুরস্কের মুসলিম শাসক, সরকার ও তার দ্বারা পরিচালিত এই হামলাকে সমর্থন জানাচ্ছে, জবাব দিবেন কি?

      আমেরিকার ন্যাটোদের ভূমিকা তাদের সাম্রাজ্যবাদীর রাজনীতির লাভ-শোকসান জড়িত। সুপার পাওয়ারের বিষয় জড়িত। আমি এই বিষয়ে সচেতন। সচেতন বলেই আইএস, আল কায়দা, আর মুসিলম দেশগুলির জিহাদীদের প্রতি মদদ, প্রশ্রয়, সহানুভূতির সাথে সাম্রাজ্যবাদীদের রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলি না। সাম্রাজ্যবাদীরা জিহাদী ইসলামকে পুজি করে সুযোগ নিচ্ছে। কিন্তু জিহাদীরা শতভাগ ইসলাম ধর্মের অনুশাসন ও অনুপ্রেরণায় কাজ করে যাচেছ। তুরষ্ক নিজের পায়ে যে কুড়ালটা মেরেছে স্রেফ ইসলামী মাইন্ড থেকে। এটা আমার মনে হয়েছে।

    2. তারা মনে করে পৃথিবীর একমাত্র
      তারা মনে করে পৃথিবীর একমাত্র সমস্যা ধর্ম।সাম্রাজ্যবাদ পুজিবাদ পৃথিবীতে কোনো সমস্যা না।ধর্ম উঠায়া দিলেই আমেরিকা সব ছাইড়া দিবে।তারা মনে করে ধর্মের কারনেই আমেরিকা এমুন করে মাঝে মাঝে।পরের কমেন্টটা পড়েন,সে বলেছে-“ তুরষ্ক নিজের পায়ে যে কুড়ালটা মেরেছে স্রেফ ইসলামী মাইন্ড থেকে। এটা আমার মনে হয়েছে” ইসলামি মাইন্ড থেকেই তুরষ্ক অর্থাৎ ন্যেটো রাশিয়ার বিমান ভুপাতিত করছে।

      1. নিচের মন্তব্য আর উপরের
        নিচের মন্তব্য আর উপরের মন্তব্য মিলিয়ে দেখলাম, একজন অবিশ্বাসী এবং একজন মুসলিম বিশ্বাসী এক্ষেত্রে একমত যে, এরদোগান মুসলিম হওাতে এই কাজ করছে! হাসি পেয়েছে। 🙂

  3. তুরষ্কের তেমন কিছু হবে
    তুরষ্কের তেমন কিছু হবে না,কারন ন্যাটো দেশ সমূহের তেমন কিছু হবে বলে হয় না।
    (বিদ্র:এটা আমার প্রথম কমেন্ট)

    1. এটা আপনার প্রথম কমেন্ট বলেই
      এটা আপনার প্রথম কমেন্ট বলেই কিছু বলছি না। তবে অনুরোধ করছি উত্তেজিত হয়ে মতামত না দিয়ে অন্তত বাক্যটা পূর্ণাঙ্গ করুন।

  4. কামাল আতাতূর্কের
    কামাল আতাতূর্কের প্রেতাত্বাদের কান্না কাটি দেখে সত্যই আফসোস হচ্ছে।
    আমি এরোদগানের প্রশংশা করি। তার মেরুদন্ড আছে। তুরস্ক কোন অন্যায় করেনি। আকাশ সীমা ভাঙ্গায় রাশিয়ার বিমানে হামলা চালান একদম ঠিক কাজ। সবকিছু ব্যাবসার হিসাবে চলে না।
    কামাল তুরস্ককে অনেক পিছিয়ে দিয়েছিল।আর কোন কামাল আতাতুর্কের মত শৈরাচার যেন কোন মুসলিম দেশে জন্মাতে না পারে সেদিকে খুব খেয়াল রাখতে হবে আমাদের।

    1. এরদোগান চলছে আমেরিকার কথায়,
      এরদোগান চলছে আমেরিকার কথায়, আর সব মধ্যপ্রাচ্যের আহাম্মক রাজাদের মতো এটাও একটা গর্দভ। নিজ দেশ ও জাতীর কী সর্বনাশটাই না করছে। উম্মাদ মুসলিম ও অ্যান্টি মুসলিমরা এটুকু বুঝতে পারছে না যে, ধর্ম নয় তেল চুরি করাটাই ইজরায়েল ও তুরস্কের লক্ষ্য!

  5. এই লেখাটি এবং এর সাথের
    এই লেখাটি এবং এর সাথের কমেন্টগুলো পড়েন -http://www.guruchandali.com/blog/2015/11/13/1447409968233.html।এটি আপনার লেখার সাথে যুক্তিযুক্ত এবং সম্পর্কিত।

  6. আমেরিকা-সৌদী-ইসরাইলের দালাল
    আমেরিকা-সৌদী-ইসরাইলের দালাল এরোদগান দেশটারে আফগান-ইরাকের পরিণিতিতে নিয়া যাবে। শেষে ইহুদী-সাম্রাজ্যবাদীদের উপর সব দোষ চাপাইয়া দিয়া পাবলিকরে ভোদাই বানাবে।

  7. তুরস্কর দরকার কি হামলা
    তুরস্কর দরকার কি হামলা করার… 😉 রাশিয়া হামলা করছে সেটা সহ্য করতেই হপে… বিশ্ব মোড়ল বলে কথা… :Pnসোভিয়েত ভেংগেছে তাতে কি… উনাদের গায়ে কিন্তু কিন্তু সেই সোভিয়েত ইউনিয়ন এর রক্ত বহমান 😉

    1. বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায়
      বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় আমেরিকা ও রাশিয়া দুটোই দখলদার সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। তবে কিছু মানুষ রাশিয়ার উত্থানে আনন্দিত। তা যতটা না এজন্য যে, তারা আগে কমিউনিস্ট ছিল, বরং তার চেয়েও বেশি এজন্য যে, বিশ্ব ক্রমশ দুই মেরুর দিকে এগুচ্ছে। এক মেরুর চেয়ে দুই মেরুকে যারা শ্রেয়তর মনে করেন, তারাই রাশিয়াকে সমর্থন করছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি রাশিয়ার সমর্থক নই। এটা একটা অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ। এর জন্য আমি প্রধানত নির্ভর করেছি, সিএনএনের প্রতিদিন বিকেলের বিজনেস অ্যানালাইসিসের তথ্যাদির ওপর। এর সঙ্গে রুশ সমর্থনের কোনো বিষয় নেই। তবে মার্কিন বিরোধিতা আছে লেখাটির শেষ দিকে। আর তা সংবাদ সঙ্গত কারণেই।

  8. পুতিন আসলে মধ্যপ্রাচ্বের
    পুতিন আসলে মধ্যপ্রাচ্বের অস্ত্রের বড় বাজারটা ধরতে চাইছে। ইরান, সিরিয়া আর মিশরের বাজার ধরতে পারলেই কেল্লা ফতে। বিলিওন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে ভঙ্গুর অর্থনিতীকে কিছুটা হলেও চাংগা করে যাবে। ইউরোপ আর আমেরিকা অস্ত্র বিক্রি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রচুর কামিয়েছে।
    এক্ষেত্রে তুরস্ককে একটু চাপে রাখাটা একটা স্ট্র্বাটেজী।

  9. আমেরিক, ন্যাটো, আই এস সবই
    আমেরিক, ন্যাটো, আই এস সবই একি সূত্রে গাথা। তুরস্কে রাশিয়া যে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে তা কাটিয়ে উঠতে তুরস্ককে যুগ যুগ ধরে ভুগতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 2 =