বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ধর্মীয় মৌলবাদ | প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে আজ সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে ধর্মীয় মৌলবাদ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এখানে কর্তৃত্ব করছে ইসলামী মৌলবাদ। মৌলবাদী তৎপরতা বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রায়শই ধর্মীয় প্রশ্নে মতবিরোধের কারণে মানুষ লাশ হচ্ছেন। এক্ষেত্রে কেবল যে ধর্মবিরোধী নাস্তিকরাই মৌলবাদীদের হাতে প্রাণ দিচ্ছেন এমন নয়। পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে প্রাণ দিচ্ছেন এমনকি আলেম তথা ধর্মীয় পন্ডিত ও পীর তথা ধর্মগুরুরাও। আর নৃশংসভাবে কুপিয়ে নাস্তিক হত্যা তো এক প্রকার নিয়মিত ঘটনায় পরিণত করেছে মৌলবাদীরা। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, মৌলবাদের এমন বিকাশের ভিত্তি কি?

অনেকেই বলছেন, বিচারহীনতার কারণে, অপরাধীদের শাস্তির আওতায় না আনার কারণেই এমন উপর্যুপরি হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এটা ঠিক যে, দেশে আইনের শাসন থাকলে হয়তো এমন অপরাধ কম হতো। কিন্তু একটু মনোযোগ দিলেই দেখা যাবে, কেবল সুবিচার প্রতিষ্ঠা পেলেই মৌলবাদের শিকড় উপড়ানো যাবে না। কারণ তার শিকড় ইতোমধ্যে অনেক গভীরে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশে মৌলবাদের তৎপরতাকে উন্মোচন করতে গেলে মৌলবাদ কি, মৌলবাদের ভিত্তিসমূহ কি এবং তা কিভাবে ভূমিকা রাখছে সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞান থাকা খুবই জরুরী।

প্রথমেই জানা থাকা দরকার যে, মৌলবাদের জমজ সম্পর্কের এক ভাই আছে, তার নাম ফ্যাসিবাদ। মৌলবাদ ও ফ্যাসিবাদের মধ্যে একটাই অমিল আছে। তা হচ্ছে, ফ্যাসিবাদীর মতাবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে। অপরদিকে মতাবস্থানে অটল থাকার নামই মৌলবাদ। মিলের জায়গাটা হচ্ছে, উভয়েই নিজ মতাবস্থানকে একমাত্র সঠিক পথ মনে করে এবং সেই সঠিকতা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ভিন্ন মতাবলম্বীকে বাতিল, দমন ও এমনকি উৎখাতের দিকেও যেতে পারে।

বাংলাপিডিয়া মৌলবাদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশে শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ সব দেশে মৌলবাদ বলতে যেকোনো ইসলামি আন্দোলনকে নির্দেশ করে যারা কোরান ও শরিয়ার শিক্ষাকে কঠোরভাবে মেনে চলার পক্ষে মত প্রদান করে। ধর্মীয় ক্ষেত্রে এবং ধর্মীয় রীতি-নীতি কঠোরভাবে মেনে চলার অর্থে ‘মৌলবাদ’ শব্দটির উৎপত্তি খ্রিস্টীয় ‘মৌলবাদী’ (Fundamentalists) শব্দ থেকে হয়েছে।’ এই তাত্ত্বিক আলাপ নির্দেশ করে যে, বর্তমান বিশ্বে মৌলবাদ বলতে সাধারণ অর্থে ধর্মীয় মৌলবাদ এবং প্রথমত ইসলামী মৌলবাদকেই বুঝায়। যদিও এর প্রয়োগ শুরু হয়েছে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের কোনো কোনো অংশকে কেন্দ্র করে।

এদিকে ধর্মীয় মৌলবাদের সংজ্ঞার দিকে নজর দিলে বলতে হয়, বাস্তবে যখন কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী বা ব্যক্তি তার ধর্মের আদি বিধানগুলোকে আঁকড়ে ধরে কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার ফলে যে নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা আমলে নিতে চায় না, বরং পূর্বেকার বিধি মোতাবেক তারা চলতে চায় এবং অন্যদের চলতে বাধ্য করার ইচ্ছা পোষণ করে, তখন সে ধর্মীয় মৌলবাদী হিসেবে গণ্য হয়। দ্বন্দ্বটা ঠিক এখানেই। নতুন ও পুরাতনের দ্বন্দ্ব। সে অর্থে পরিস্কার সংজ্ঞাটা হবে, যারা নতুনকে গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নয়, বরং পুরনোকে চাপিয়ে দিতে চায় তারাই মৌলবাদী।

আর সব সমাজের মতো আমাদের সমাজেও মৌলবাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মৌলবাদী মতাদর্শের উপস্থিতির কারণ নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। বর্তমান নিরীশ্বরবাদীরা অনেকেই বলছেন, মৌলবাদের উৎস আসলে ‘বিশ্বাস’। যতদিন অজানায় বিশ্বাস স্থাপনের অন্ধ মতাদর্শ কর্তৃত্ব করবে ততদিন মৌলবাদ থাকবে বলে তারা মনে করেন। কেউ কেউ একই মতের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তারা দাবি করেন, ধর্মগ্রন্থগুলোই মৌলবাদের ভিত্তিমূল। অপরদিকে সমাজবাদীদের মত হচ্ছে, মৌলবাদ আসলে সুনির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও শ্রেণীসম্পর্কের ফলাফল। একটা সমাজে বৈষম্য থাকলে, অসমতা থাকলে এর উপস্থিতির ভিত্তি রচিত হয়। আবার সমাজে ক্ষমতাসীন শ্রেণীটি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে নিজেদের অনড়, স্থায়ী ও সঠিক বলে দাবি করে। ফ্যাসিবাদের এই উত্থান, মৌলবাদকেও বিকশিত করে। কারণটা আগেই বলেছি।

আমাদের দেশটা এখন বাংলাদেশ হলেও কিছুকাল পূর্বে এটা ছিল পাকিস্তান। তার আগে ছিল ব্রিটিশ ভারত, তারও আগে মুঘল। অর্থাৎ একই দেশে মানচিত্র ও রাষ্ট্রের অব্যাহত পরিবর্তন ঘটে চলেছে। এর মধ্যে বাংলায় মুসলিমদের আগমন শুরু হয় পাল শাসনামলের (৮০০-১২০০ সাল) শুরুতে, অর্থাৎ ৮০০ সালে। কিন্তু ভারতে মুসলিমরা প্রথম এসেছিল ৬৩০ সালেই। মুসলিমদের দুটি ধারা ভারতে ধর্ম প্রচার করতে এসেছিল। একটি ধারা ইরান থেকে বিস্তৃত পারসিক সভ্যতার মিশেল পাওয়া ইসলাম ধর্ম। এই ধারার অনুসারীরা ধর্মকে ঈশ্বরের সঙ্গে ব্যক্তির যোগাযোগের সূত্র হিসেবে বর্ণনা করতেন। ধর্মীয় আচার, প্রথাকে তারা গুরুত্ব দিতেন না। মারেফাত, সূফী হিসেবে পরিচিত এই ধারাটি বাংলার দরিদ্র্য জনমানুষের মধ্যে অল্প সময়েই বিকাশ লাভ করে। অপরদিকে অন্য ধারাটি ছিল রাজধর্ম ইসলাম। নবী মুহাম্মদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত খেলাফতের হাত হয়ে রাজধর্ম হিসেবে সৈন্যবাহিনীসমেত ভারতবর্ষে ইসলাম হাজির হয় মুহাম্মদ বিন কাশিমের নেতৃত্বে অষ্টম শতাব্দীতে। গজনীর সুলতান মাহমুদ দশম শতাব্দীতে সেই শক্তিবৃদ্ধি করেন এবং মোহাম্মদ ঘোরি দ্বাদশ শতাব্দীতে ভারতে ইসলামের খুঁটিকে চিরস্থায়ী করে দেন। এই ধারার অনুসারীরা ইসলামের সংশ্লিষ্ট ধর্মগ্রন্থগুলোতে বিবৃত বিধি, আচার ও প্রথাগুলো পালন করার ওপর প্রাধান্য দিতেন। এই দুই ধারার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য ছিল।

সূফী ধারাটি এসেছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। তারা এসেছিল দয়া, মানবতা, ক্ষমা ও প্রেমের বাণী নিয়ে। ধর্মকে তারা পরলৌকিক মুক্তির পথ ও ইহকালের উন্নত সংস্কৃতি মনে করেই প্রচারে বেরিয়েছিল। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের তারা ইসলাম গ্রহণের জন্য চাপ দিতো না। বরং তাদের জয় করার চেষ্টা করত। এটা তাদের প্রচারণায় মূর্ত হয়। মুসলিম সূফী পন্ডিতরা ইসলামের ‘সবাই ভাই-ভাই’ তত্ত্বকে সামনে তুলে ধরত। তারা ভারতে এসে এখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। যার স্রোতধারায় গ্রাম বাংলায় মারেফাতি ইসলাম ও বাউল সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।

রাজ ধারাটি এসেছিল রাজপ্রাসাদে অর্থাৎ ধনী ও অভিজাতদের মধ্যে। তারা এসেছিল অস্ত্র ও সৈন্য নিয়ে। তারা এসে বশ্যতা দাবি করেছিল। যারা বশ্যতা মানতে চায়নি, তাদেরকে অস্ত্রের মুখে মানতে বাধ্য করেছিল তারা। যারা আনুগত্য প্রদর্শন করেছিল, তাদেরকে বিশেষ সুযীগ সুবিধা দিয়েছিল তারা। ইহলোকে ধর্মীয় বিধি অক্ষরে অক্ষরে পালন করাটাকেই তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিত। সূফীদের ধর্মবাণীকে তারা গোড়া থেকেই বিরোধিতা করত। গণস্তরে ছড়িয়ে পড়া ইসলামকে তারা হিন্দুয়ানি বলত, আর নিজেদের দাবি করত খেলাফতের উত্তরসূরী তথা সুবিশাল ইসলামী সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি। তাদের হাত ধরে এই ধারার ধর্মমত রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও অভিজাতদের মধ্যে ঘাঁটি গাড়ে।

এই দুই ধারার ইসলামের মধ্যেকার পার্থক্যটাই হচ্ছে ধর্মীয় মৌলবাদ। দেখা যাচ্ছে, সূফীরা বিষয়টিকে আত্মিক মনে করে বিধায়, ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত বিধি, আচার ও অনুশাসনগুলো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। অন্যদিকে রাজধারার মুসলিমরা রাজসভার কেতাদুরস্ত থাকার বিধানের মতো করেই ইসলামকেও ধর্মগ্রন্থের আলোকে কেতাদুরস্ত এক বিষয়ে পরিণত করে। বৈশিষ্ট্যের কারণেই ইসলামের কেতাদুরস্ত রাজধারাটি শাসক শ্রেণীর মধ্যে বিকশিত হয়। গরিব মানুষদের পক্ষে এই ধারা পালন করাও ছিল কঠিন। কারণ সেই যুগে অধিকাংশ দরিদ্র্য ভারতীয়রই কাপড় চোপড়, জুতার অভাব ছিল। ফলে ইসলামী পোশাক পরিধানের বাস্তবতা তাদের ছিল না। আবার অধিকাংশ ভূস্বামী ছিল হিন্দু। এজন্য বাহ্যিকভাবে দৃশ্যমান ধর্মীয় আচারকে তারা এড়ানোর চেষ্টা করত। পাশাপাশি দারিদ্র্যের জন্য তাদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে হতো। যে কারণে সময় মেপে ধর্ম পালন তাদের পক্ষে অনেকক্ষেত্রেই ছিল অসম্ভব। দারিদ্র্যের এই চেহারাটা এমনকি ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সর্বত্র দৃশ্যমান ছিল। অন্যদিকে চাষাদের মধ্যে বিকশিত লোকধারার ইসলাম ধর্ম অভিজাতরা বর্জন করে।

এ থেকে স্পষ্ট হয়, ইসলামের রাজধারা কট্টর। শ্রেণীগত কারণেই তা অস্ত্রবাহী ও সহিংস, যেহেতু শাসকরা ছিল অস্ত্রধারী। আর বিপরীতে ইসলামের লোকধারা মানবতাবাদী। শ্রেণীগত কারণেই তা ছিল নমনীয়, কারণ দরিদ্র্যদের আধিপত্য করার মতো কিছু ছিল না। এজন্য দেখা গেল শাসকদের প্রচারিত ইসলামে কাফিরদের শায়েস্তা করার বিধান এলো। আর লোকধারার ইসলামে কাফিরদের জয় করাটা প্রাধান্য পেল। এভাবেই ইসলামের রাজধারাটি এ অঞ্চলে ভিন্নমতাবলম্বীকে দমনের মাধ্যমে তথা ধর্মীয় মৌলবাদের সূচনা ঘটাল। ভারতে এভাবেই ইসলাম ধর্মীয় মৌলবাদের গোড়াপত্তন ঘটে গজনীর সুলতান মাহমুদের আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ঘোরীর হাত ধরে।

ঘোরীর প্রতিনিধি হিসেবে ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজী ও তার সেনাবাহিনী বিহার-বাংলা দখল করে। এর মাধ্যমে বাংলায় রাজধর্ম ইসলাম ও মৌলবাদী ইসলাম ধর্মের গোড়াপত্তন ঘটে। সেই রাজধর্মের প্রতাপ এখনো দৃশ্যমান। আমাদের দেশে এখনো দেখা যাবে, শাসকশ্রেণীর দলগুলো বা ক্ষমতা দখলের সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় দলগুলো কট্টরপন্থী মৌলবাদী ইসলামের প্রচার চালায়। বিপরীতে বাউল ও সূফীরা গণমানুষের মধ্যেই বিচরণ করে। তারা ধর্মীয় মৌলবাদের কিছু মাত্রায় বিরোধিতাও করে।

চলবে…
নোট : এই লেখাটিতে কেবলমাত্র দীর্ঘ এই গবেষণা প্রবন্ধের ভূমিকা অংশটুকুই দিচ্ছি। প্রবন্ধটির কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে এতে সন্নিবেশিত হবে আদিপর্বের বয়ান, মুঘলদের উত্তরাধিকার ও সুলতানী আমলের জের, ব্রিটিশের ভূমিকা, দ্বিজাতি তত্ত্ব ও দেশভাগ, পাকিস্তানের উত্তরাধিকার, মুসলিম লীগের উত্তরাধিকার, জামায়াতের ভূমিকা, নব্য উদারবাদী অর্থনীতির ভূমিকা এবং ৯/১১ পরবর্তী বাংলাদেশ রাষ্ট্রকাঠামোসহ আরো অনেক প্রসঙ্গ। এসব পর্বে উঠে আসবে দীর্ঘমেয়াদে কিভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠেছে সে সম্পর্কিত বিস্তারিত আলাপ। স্বাভাবিকভাবেই তাই ইতিহাসের এই আলাপ ছুঁয়ে যাবে সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, নৈতিকতা ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ক ভাবনাগুলোকেও।

তথ্যসূত্র :
১) সুমিত সরকার। Modern India। ম্যাকমিলান, ১৯৮৩।
২) রোমিলা থাপার। ভারতবর্ষের ইতিহাস। কলকাতা, ২০০৪।
৩) রোমিলা থাপার। Somanatha The Many Voices of History. দিল্লী, ২০০৪।
৪) জওহরলাল নেহেরু। The Discovery of India. অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। লন্ডন, ১৯৪৬।
৫) বাংলাপিডিয়া। ঢাকা, ২০১২।
৬) মুনিউদ্দীন আহমদ খান। Selections form Bengal Government Records on Wahabi Trials (1863-1870), Asiatic Society of Pakistan। ঢাকা, ১৯৬১।
৭) ডাব্লিউ ডাব্লিউ হান্টার। Our Indian Musalmans : Are they bound in conscience to rebel against the Queen? লন্ডন, ১৮৭১।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৭ thoughts on “বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ধর্মীয় মৌলবাদ | প্রেক্ষাপট

  1. গুরুত্বপূর্ণ আলাপ। ইসলামের
    গুরুত্বপূর্ণ আলাপ। ইসলামের দুই ধারার মধ্যে দেখা যাচ্ছে শাসকশ্রেণীগুলো মৌলবাদী ধারার উত্তরসূরী। সেক্ষেত্রে ধর্মীয় মৌলবাদ ঠেকাতে হলে শাসকশ্রেণীর মৌলবাদী ধারার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কর্তব্য হাজির হচ্ছে।

  2. এই লেখাটিতে কেবলমাত্র দীর্ঘ

    এই লেখাটিতে কেবলমাত্র দীর্ঘ এই গবেষণা প্রবন্ধের ভূমিকা অংশটুকুই দিচ্ছি। প্রবন্ধটির কাজ চলছে।

    আশা করছি বই আকারে আমরা সেটা দ্রুত পাবো।

  3. রাজধর্ম ইসলাম’ এ অঞ্চলে

    রাজধর্ম ইসলাম’ এ অঞ্চলে এসেছিল অসীর তীক্ষ্ণ ফলায় ভর করে!

    এই কথাটির মধ্যে একটা কড়া মৌলবাদের গন্ধ আছে। আসলে যখন কোন লেখক এমন কোন মন্তব্য করেন, তখনই লেখকের সেই লিখা আম পাবলিকের কাছে গ্রহনযোগ্যতা হারায়। বোঝাই যাচ্ছে লিখাটি একটি একপেশে কড়া হিন্দুত্ববাদী লিখা হবে। অর্থাৎ এক মৌলবাদের মোকাবেলায় আরেক ধরনের মৌলবাদী আচরন।
    নীচে ফেসবুকের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ব্যাপক হাত তালি সেটাই প্রমাণ করে।
    দেখা যাক লিখা কোন দিকে আগায়।

    1. লেখায় হিন্দুত্ববাদীতা খুঁজে
      লেখায় হিন্দুত্ববাদীতা খুঁজে বেড়ানোটা কি মৌলবাদীতা নয়? হিন্দুদের লেখা পড়ার দরকার কি? চোখে কালো চশমা লাগায়া বসে থাকলেই হয়। এতে করে অনুভুতি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভবনা একেবারেই থাকে না।

  4. অসাধারণ লেখা হচ্ছে দুলাল।
    অসাধারণ লেখা হচ্ছে দুলাল। ভালো লাগলো। পড়াশোনাও প্রচুর করেছ বুঝতে পারছি। আমি ইষ্টিশন ব্লগের নিয়মিত পাঠক। তুমি জানো সঙ্গত কারনেই কোন মন্তব্য করি না। এই প্রথম মন্তব্য করলাম। লিষ্টে নাম উঠেছে দেখলাম। সাবধানে থেকো, ভালো থেকো সুস্থ থেকো। (সোহেল, রণশিঙ্গা)

  5. অনেকদিন পর একটা চমৎকার লেখা
    অনেকদিন পর একটা চমৎকার লেখা পড়লাম। সিরিজ চালায় যান। আপনার মতো মানুষ হাত গুটায় বসে থাকেন, এটা মেনে নেয়া যায় না। বছরে একটা করে লেখা লেখার মতো ব্লগার আপনি না। ধারাবাহিক হন।

  6. পোষ্ট ভালা পাইসি। এই বেলা
    পোষ্ট ভালা পাইসি। এই বেলা নুনুভূতিসম্পন্ন দুর্বল হজমশক্তির অধিকারী পাঠকদের সীমা ভেঙ্গে যাওয়ার সময় হলো বলে…

  7. বাস্তবে যখন কোনো ধর্মীয়

    বাস্তবে যখন কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী বা ব্যক্তি তার ধর্মের আদি বিধানগুলোকে আঁকড়ে ধরে কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার ফলে যে নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা আমলে নিতে চায় না, বরং পূর্বেকার বিধি মোতাবেক তারা চলতে চায়

    এখানে একটা মনস্তাত্বিক পাজল কাজ করে। একজন মুসল মান বেড়ে ওঠার পর শিক্ষাদীক্ষা, জ্ঞান বিজ্ঞান সহ জগতের সকল গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাদের ধর্মের কোন বাস্তবিক অবদান খুজে পায় না। কিন্ত শৈশব থেকেই তাদেরকে ধর্মের গৌরব জনক ইতিহাস শেখানো হয় ।, বলা হয় যে এক সময় জ্ঞান বিজ্ঞান সহ সব ক্ষেত্রেই শুধু তাদের ধর্মের মানুষদের রাজত্ব ছিল। একদিকে তারা আধুনিক সভ্যতায় তাদের ধর্মের খুব বেশি অবদান খুজে পায় না আবার এত দিন ধরে গড়ে ওঠা ধর্মীয় বিশ্বাসকেও পুরোপুরি অবিশ্বাস করতে পারে না। এই মনস্তাত্বিক দ্বন্দ থেকে তারা ফিরে যেতে যায় মধ্য যুগে যখন তাদের ধর্মের প্রায়োগিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল বলে তারা বিশ্বাস করে। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

    1. একদিকে তারা আধুনিক সভ্যতায়

      একদিকে তারা আধুনিক সভ্যতায় তাদের ধর্মের খুব বেশি অবদান খুজে পায় না আবার এত দিন ধরে গড়ে ওঠা ধর্মীয় বিশ্বাসকেও পুরোপুরি অবিশ্বাস করতে পারে না। এই মনস্তাত্বিক দ্বন্দ থেকে তারা ফিরে যেতে যায় মধ্য যুগে যখন তাদের ধর্মের প্রায়োগিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল বলে তারা বিশ্বাস করে।

      ঠিক বলেছেন। কিন্তু এই ধরনের পশ্চাতপদী চিন্তা ও বিশ্বাস তাদেরকে পেছনে ফেলে দিচ্ছে। তাই বের হয়ে আসতে হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে তাল মিলাতে হবে।

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

  8. দুলাল ভাই খুব ভাল একটা বিষয়
    দুলাল ভাই খুব ভাল একটা বিষয় নিয়ে লেথা শুরু করেছেন। প্রথম পর্বে উপ মহাদেশে মৌলবাদের রাজনৈতিক বিকাশের বিষয়টি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। আশাকরি পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে মৌলাবাদের অার্থ-সামাজিক বাস্তবতার দিক গুলোও আসবে। মৌলবাদী সন্ত্রাসের পেছনে বিশ্ব পুজিবাদের বড় বিনিয়োগ আছে। বিশেষত, অস্ত্র ব্যবসা চাঙ্গা রাখার জন্য। মধ্যপ্রাচ্য সেই বিনিয়োগের বড় ক্ষেত্র দীর্ঘদিন ধরে, এখন তাদের নজর দক্ষিণ এশিয়ার দিকেও প্রসারিত হচ্ছে…পশ্চিমা গবেষকরাও সেই ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন…আশাকরি দুলাল ভাই বিস্তৃত প্রেক্ষপটে বিষয়গুলো তুলে আনবেন।

  9. মুক্তিযুদ্ধের নানা আকাঙ্খার
    মুক্তিযুদ্ধের নানা আকাঙ্খার সংকলনের প্রতিফলন ৭২এর সংবিধান। সেখানে ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পুর্বশর্তগুলি যেমন,
    “২ ধারায় বলা হয়েছিল,
    ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য (ক) সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা, (খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, (গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার, (ঘ) কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।
    আর একটি ধারা মৌলিক অধিকার এর ৩৮ নং অনুচ্ছেদ সংগঠনের স্বাধীনতাঃ
    ৩৮) জনশৃংখলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সঙ্ঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে; তবে শর্ত থাকে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী কোন সাম্প্রদায়িক সমিতি বা সঙ্ঘ কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিত্তিক অন্য কোন সমিতি বা সঙ্ঘ গঠন করিবার বা তাহার সদস্য হইবার বা অন্য কোন প্রকারে তাহার তত্পরতায় অংশগ্রহণ করিবার অধিকার কোন ব্যক্তির থাকিবে না।”

    ৭৫ পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি রাষ্ঠ্র ক্ষমতা দখল করে স্বাভাবিকভাবে এই ধারাগুলি বাতিল করে। মূল সংবিধানের এই ধারাগুলি পুনর্জীবিত এবং কার্যকর করা গেলে দেশে সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলি শক্তি হারিয়ে ফেলত। unfortunately, ৪০ বছর পরে বর্তমানের আওয়ামীলীগ সেই সামর্থ রাখে না এগুলি পুনর্জীবিত করে কার্যকর করার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

44 + = 45