ধর্মের নামে বাকরুদ্ধ ও চিন্তাপঙ্গু করার ষড়যন্ত্র

ধর্মের নামে বাকরুদ্ধ ও চিন্তাপঙ্গু করার ষড়যন্ত্র

আঠারো শতক ও উনিশ শতকের প্রথম দিকে আমার পূর্ব পুরুষ অত্যাচারিত, শোষিত হয়েছেন বর্গী-ইংরেজদের হাতে। ৪৭ এর দেশ বিভাগত্তের পরে আমার ভাষার ওপর আক্রমন করে, মুক্ত চিন্তাতো দূরের কথা আমাদের বাকরুদ্ধ করে রাখার জন্য আমাদের ভাষার উপর আক্রমন করে পাক বাহিনী। প্রাণ দিতে হয় আমার ভাইদের। রক্তাত্ত হয় আমার মায়ের কোল। মায়ের চোখে অশ্রু নামে অবলিলায়।

৭১ এ আমার মা-বোনের সম্ভ্রম কেরেছে পাক বাহিনী সহ মীরজাফরের দল। প্রাণ দিতে হয়েছে ৩০ লক্ষ্য বীর বাঙ্গালীকে। ওদের উদ্দ্যেশ্য ছিলো একটায় বাঙ্গালী যেন পৃথীবির বুকে না দাড়াতে পারে।
আর আমারা প্রতিহত করেছি, প্রতিবাদ করেছি, যুদ্ধ করেছি, এসব কিছুর উদ্দ্যেশ্য একটায় অসাম্প্রদায়ীক ও স্বাধীন ভাবে বাংলার মানুষকে অর্থাৎ বাঙ্গালীকে পৃথীবির বুকে স্থান তৈরি করা। যেখানে বাংলার হিন্দু, বাংলার বোদ্ধ, বাংলার খৃষ্টান, বাংলার মুসলিম বাস করবে একই কাতারে। যেখানে ধর্ম-ধর্ম, গোত্র-গোত্র, বর্ণ-বর্ণ, কোন ভেদাভেদ থাকবেনা।
ওরা বেছে বেছে হত্যা করেলো বাংলার বিবেকবান বুদ্ধিজীবীদের। কেড়ে নিলো ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম। কেড়ে নিলো ৩০ লক্ষ্য তাজা প্রাণ। সব কিছুর বিনিময়ে অবশেষে আসলো অনেক প্রত্যশিত ১৬ই ডিসেম্বর…স্বাধীন আমি, মুক্ত আমি সকল পরাধীনতা থেকে।

ভেবেছিলাম এইবার বুঝি ধর্ম, গোত্র, বর্ণ, নির্বিশেষে সবাই বাস করব একইসাথে। মুক্ত ভাবে শ্বাস নিব প্রাণ ভরে। আমার দেশে আমি মুক্ত ভাবে বিচরন করবো, মুক্ত ভাবে বুক উঁচিয়ে কথা বলবো। বিশ্বে উঠে দাড়াব নতুন এক পরাশক্তি হিসেবে।

নাহ!! ৭৫ এ কাপুরুষের দল আবার রক্তাত্ত করল বাংলার মাটিকে। হত্যা করল আমার জাতির মূল নায়ক কে। যার পরিচয়ে আমি পরিচিত, যার দিক নির্দেশনায় আমি হয়েছিলাম মুক্তির পথযাত্রি। আমি আবারো হতাশাগ্রস্থ। একটি পরিবারের পিতা না থাকলে, পরিবারটি যেমন হতাশাগ্রস্থ হয়, ঠিক তেমনি আমি নির্লিপ্ত।

আসলো স্বৈরাচার, আমার গণতন্ত্রকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে আমাই করল নিঃস্পৃহ।
নাহ!! আমি আর পারছিনা! দিনে দিনে পুরোনো ক্ষত গুলোতে আবার পচন শুরু হয়েছে। যন্ত্রনায় আমি অস্থির। নিজের দেহের পচনে কীটদের রক্ত শুষে খাওয়ার যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছি আমি।
এমন সময় আবারো পরোক্ষভাবে ৭১ এর পরাশক্তি এ দেশের ক্ষমতায়। আমি নির্বাক। আমার দেহে প্রাণের স্পন্দন থেমে যাচ্ছে। গাছকে রেখে ঠিক যেন শিকর কেটে নেওয়া হচ্ছে। পাতা গুলো যেন একাকি শুকিয়ে ঝরে যাচ্ছে, গুড়ি গুলো খাদ্যের অভাবে ধুকে ধুকে শুকিয়ে চৌচির হচ্ছে।

অতঃপর অনেক প্রত্যাশিত সম্ভাবনার সূর্যোদয়। আমার মত ধুকে ধুকে মৃত্যুবরণকারীরা সহ্য না করতে পেরে,ফুসে উঠেছে। বাংলা মাকে পুর্নাঙ্গ ভাবে ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টা। বাংলাকে দুর্গন্ধময় আবর্জনা থেকে পরিচ্ছন্ন করার যুদ্ধে আবার ফুসে উঠেছে বাংলার ছেলেরা। ওদের সাথে আমি জোর দিয়ে বলতে পারছি, “রাজাকারের ফাঁসি চাই”। মুক্তমনা হয়ে লিখতে পেরেছি যে প্রাণের কথা তা প্রকাশ করছি নির্বিচারে।

আগে কখনো ৭১ এর ঘাতক দের নামের আগে রাজাকার, আলবদর, আল সামস খেতাব দিয়ে তাদের নাম ডাকা হয়নি -পত্র পত্রিকায় লেখাও হয়নি, যেমনটি মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে লেখা হয়/ ডাকা হয়। ওরাও তো মুক্তিযোদ্ধাদেরর চেয়ে কম করেনি। শুধু পার্থক্য একটায় মুক্তি্যোদ্ধারা মেরেছে পাক হানাদার-খান সেনাদের, আর ওই বেঈমানরা মেরেছে, বেছে বেছে বাংলার বিবেকবান, বুদ্ধিজীবী, দেশের শ্রেষ্ঠ সূর্য সন্তারদের। ওদের অর্জনো কিন্তু কম ছিলোনা তবুও তাদেরকে কোন খেতাব দিয়ে ডাকা হয়নি, লেখা হয়নি।
আজ আমরা তেমন খেতাব প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। যা ৪২ বছরেও হয়েছিলো না।

কিন্তু হঠাৎ এ কি হলও!!! হঠাৎ করে ওরা আমার ধর্মকে পুঁজি করে আমায় নষ্ট বলছে। আমরা কথা বলায়, খেতাব দেওয়ায় যেন, ধর্ম ব্যবসায়ীদের আঁতে লেগেছে। আজ কথা বলায় ওদের ধর্ম ব্যবসা ব্যহত তাই আমকে অপবাদ দিচ্ছে নষ্ট বলে।
আরো অবাক লাগছে, জাতীয়তাবাদ এর নামে এক গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দ্যেশ্যে ধর্ম ব্যবসায়ীদের সাথে হাত মেলাতে একটুও কার্পণ্য বোধ করছেনা !!!! তাদের একটুও বিবেকে বাধছেনা !! ভাবছেওনা দেশটাকে কিভাবে ধংস করার চক্রান্তে সহযোগীতা করছে।নির্বিচারে মিথ্যাচারে মতছে লিপ্ত হচ্ছে। নিজের কাছে বড় লজ্জা লাগছে, তাদেরকে বাঙ্গালী হিসেবে পরিচয় দিতে। প্রকাশ করতে বড়ই কষ্ট হচ্ছে তাদের শরিরেও মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে।
আগে যদি সবাই ৭১ এর ঘাতক দের নামের আগে রাজাকার, আলবদর, আল সামস খেতাব দিয়ে তাদের নাম ডাকা হত -পত্র পত্রিকায় লিখা হত। তবে হয়ত এমন নষ্ট-নাস্তিক খেলায় নামতে তাদের অনেক বেগ পেতে হত। হয়ত পারত না।

এদিকে আর এক পক্ষ, তাদেরই মত নিয়ে আমার কলমকে আহত করছে! আমায় আবার কোণঠাসা করছে! আমার চিন্তাধারা যেন ব্যহত হচ্ছে। স্বাধীনচেতাদের কলম কেড়ে বন্দি কারখানায় পুরছে। যেন কন্ঠনালীকে দড়ি দিয়ে বেধে নির্বাক করে,শ্বাসরোধ করে হত্যা করার প্রচেষ্টা।
আমার স্বাধীনদেশে আবারও আমাকে পরাধীনতার দিকে অগ্রসর করানো হচ্ছে।
তবে কি আমাকে আবার বাকরুদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের সাথে লিপ্ত হচ্ছে তারা!???

আমি মুক্ত হতে চাই। আমি পরাধিনতার স্বাধ, আর নিতে চাইনা। আমার ভাষায়, আমার মনের কথা আমার মত করে বলতে চাই। আমার কলমকে তোমরা অপদস্ত করোনা।
আমি গণতন্ত্রের নামে তোমাদের নাটক আর দেখতে চাইনা। তোমাদের গণতন্ত্র আমি দেখেছি। তোমাদের গণতন্ত্র হচ্ছে ১৮২৫ দিনে ১দিন। গণতন্ত্রের নামে তোমাদের এই খেলা বন্ধ কর। তোমারা আমাকে, আমার মত করে বলতে দাও। নাহয়, আমার শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও আমার ধর্ম, আমার দেশ, আমার মা, আমার বাক শক্তিকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে প্রতিহত করবো। হুঁশিয়ার জানাই তোমাদের…আমায় আবার রক্ষা করার যুদ্ধে নামিও না, কারণ আমি, আমার মাকে পুর্নাঙ্গ ভাবে ফিরে পাওয়ার যুদ্ধে ব্যস্ত …।
আমার লক্ষ্যে আমি অটুট। তাই আমার লক্ষ্য থেকে আমায় বিচ্যুত করনা। যদি সেই চেষ্টা কর তবে তোমাদেরও রক্ষা হবেনা। হুশিয়ার !!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ধর্মের নামে বাকরুদ্ধ ও চিন্তাপঙ্গু করার ষড়যন্ত্র

  1. আমরা আমাদের ভূখন্ড স্বাধীন
    আমরা আমাদের ভূখন্ড স্বাধীন করতে পেরেছি, কিন্তু বাঙ্গালী হিসেবে আমরা এখনো পরিপূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারিনি।

    আমাদের সময় এসেছে বাঙ্গালী হিসেবে স্বাধীনতা অর্জন করার, আসুন অভিক্ִ ভাই এর সাথে একাত্মতা পোষণ করে যার যার বিবেকের সাথে আমাদের প্রথম যুদ্ধ টা সেরে ফেলি।

    1. আসলেই আমাদের বাঙ্গালী হিসেবে
      আসলেই আমাদের বাঙ্গালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে পৃথিবীর বুকে। !!!
      ধন্যবাদ আপনাকে কমেন্ট এর জন্য ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

48 + = 56