অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যাকাণ্ড ॥(জাতি কি ভুলে গেছে সে কাল রাতের কথা????)

২০০১ সালের ১৬ নবেম্বর, শুক্রবার। সকাল সোয়া ৭টার দিকে চার অজ্ঞাত পরিচয় অস্ত্রধারী যুবক ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর ব্যসত্মতম জামাল খান রোডের বাসায় হাটহাজারী কলেজের অধ্যৰগোপাল কৃষ্ণ মুহুরীকে (৬০) মাথায় স্বয়ক্রিয় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেহত্যা করে। সন্ত্রাসীরাসকলেই জামায়াত শিবিরের ক্যাডার। জামায়াত শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকা- ঘটায়। এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদে ১৬ নবেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর জামাল খান, মোমিন রোড এলাকায় অঘোষিত হরতাল পালিত হয়।রাসত্মাজুড়ে ছিল প্রতিবাদ মিছিল।
জামায়াত শিবিরের অবৈধ অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত নাজিরহাট ডিগ্রী কলেজের অধ্যৰ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীর নৃশংস হত্যাকা-ের ব্যাপারে তাঁর স্ত্রী রেলওয়ে অডিক কর্মকর্তা উমা মুহুরী বাদী হয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। কোতোয়ালি থানার মামলা নং-৪২ তাং ১৬-১২-২০০১ ধারা ৩০২/১২০(খ)। মোট ১১ আসামির বিরম্নদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার শেষে গিট্টু নাসির, তসলিম উদ্দীন ওরফে মন্টু, আজম ও আলমগীর কবির ওরফে বাইজাআলমগীরের ফাঁসির আদেশ হয়। পরবর্তীতে গিট্টু নাসির ক্রস ফায়ারে মৃতু্য বরণ করে। আসামি মহিউদ্দিন ওরফে মাইন উদ্দীন, হাবিব খান, শাজাহান এবং সাইফুল ওরফে ছোট সাইফুলসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দেয় আদালত।
নাজিরহাট কলেজের অধ্যৰ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী ছিলেন একজন আওয়মী লীগ ভক্ত। এছাড়া তিনি সকল ধরনের অন্যায়, অনিয়ম ও অবৈধ চাপের বিরম্নদ্ধে সোচ্চার থেকে কলেজ পরিচালন করতেন। এ কারণেজামায়াত-শিবিরের স্বার্থান্বেষী ক্যাডাররা তাঁকে পৃথিবীথেকে সরিয়ে দেয়। হত্যাকা-টি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার বন্ধের দিনকে সন্ত্রাসীরা বেছে নিয়েছে।
অধ্যৰ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীর মৃতু্যর পর পরইচট্টগ্রামবাসী এ হতাকা-ের বিরম্নদ্ধে বিৰোভে ফেটে পড়ে। কালো পতাকা উঁচিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে মিছিল বের হয়। বিৰুব্ধ জনতার সকল মিছিল এসে জামাল খান রোডে জড়ো হয়। হত্যাকা-ের পর থেকে জামাল খান সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রতিবাদ আর মিছিলের জনপদে পরিণত হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যাকাণ্ড ॥(জাতি কি ভুলে গেছে সে কাল রাতের কথা????)

  1. এত এত হত্যাকান্ডের মধ্যে
    এত এত হত্যাকান্ডের মধ্যে কয়টাই আর মনে থাকে বলুন ? এরূপ জঘণ্য হত্যাকান্ডের ফিরিস্তি দিতে গেলে পুরা রাত শেষ হয়ে যাবে সংখ্যা শেষ হবে না….

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − = 8