প্রায় সবাই কেন ধর্মের বিরোধিতা কারীকে খারাপ চোখে দেখে !!

শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষ কেন ধর্মের বিরোধীতা কারীদের খারাপ চোখে দেখে? আসুন আজ এর একটু কারন অনুসন্ধান করি । আমাদের দেশে যারা শিক্ষিত শ্রেনী বলে দাবী করেন তাদের মধ্যেই যেত তেন ভাবে ধর্মকে মেনে নেওয়ার একটা প্রবনতা দেখা যায় । কিন্তু কেন ? আমাদের দেশে একটা বাচ্চা জন্মের পর থেকেই শুনে আসে ইসলাম ধর্ম মহান ধর্ম (অন্য ধর্মেও একই রূপ আজ শুধু ইসলাম নিয়েই বলব)। যার স্রস্টা আল্লাহ নিজেই । এই ধর্মে হত্যা, চুরি ডাকাতি অন্যের উপরে জুলুম – এসবের কিছুই নাই বরং ১০০ভাগ নিরাকার বাদী । অথচ হিন্দু ধর্মের লোকেরা যে পুতুল পূজা করে সেই পুতুলের কোন ক্ষমতাই নাই । যার প্রমান ১৪০০ বছর আগে দ্বীনের দয়াল নবীই প্রমান দিয়েছেন, এগুলি ভেংগে ফেললে কিছুই হয় না । এছাড়া আমাদের দেশে ১ম শ্রেনী থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক । ঠিক এই সময়ে বিভিন্ন ধর্ম বই থেকে কিছু উদৃতি দিয়ে তা শেখানো হয় । একটা উদাহরন দিলেই তা বুঝবেন । যেমন –
হে মুহাম্মদ’ আমি তোমাকে মানুষের নিয়ন্ত্রণ কর্তা করে পাঠাইনি, আপনার একমাত্র কাজ আল্লাহর বাণী সরবরাহ করা (সুরা শুরা:৪৮)।
এখানে মুহাম্মদের একটা নিস্পাপ চরিত্র দেওয়া হয়েছে । এতে অনেকেই ভাববে নবী আল্লাহর বানী লিখে লিখে সবার কাছে বিলি করেছেন আর ওমনি সবাই দলে দলে ইসলাম কবুল করেছে ?
তোমার ধর্ম তোমার জন্য এবং আমার ধর্ম আমার জন্য (সূরা কাফিরুন:৫)।
অসাধারন সাম্য অসাম্প্রদায়িকতার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই আয়াতে , অথচ ধর্মই সম্প্রদায় তৈরির কারখানা । তার পরেও সেটা কি পৃথিবীতে বিরল নয় ?
আল্লাহ যাকে চান বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন (সূরা ফা-ত্বির:৮)!!
সৃস্টি কর্তা যেহেতু একজন আছেন এবং তিনি আল্লাহ নামেই পরিচিত অতএব ক্ষমতার মালিক যে আল্লাহই তাতে সন্দেহ হয় কিভাবে ফলে এই আয়াত ১০০ভাগই সহি ।
ধর্মের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তি নাই (সূরা বাকারা:২৫৬)।
আহা কি সুন্দর সাম্যের বাণী । যা চিরন্তন মান্যকর ও সুন্দর যা সম্পূর্ন ভাবে বল প্রয়োগের বিপরীত ।
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না –আল- হাদিস ।
হাদিস মানে নবীর বানী । এই হাদিস যারা পড়বে তারা কি কোন ভাবেই মুহাম্মদ সম্মন্ধ্যে কোন খারাপ ধারনা করবে ?
যার ফলে সেই ছোট বেলায় পারিবারিক শিক্ষার সাথে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটা মিল বন্ধন ঘটে যা সত্য যাচাইয়ের মোক্ষম অস্ত্র । ধর্মীয় শিক্ষার ইতি ঘটে এই দশম শ্রেনী পর্যন্ততেই । যা একেবারে পাশ করার স্বার্থে । পাঠ্য বইয়ের শিক্ষার বাইরে কেউই কোন দিন কোরান হাদিস ঘেটেও দেখে না । ফলে তাদের মনের গহীনে একটা ধারনা তৈরি হয়ে যায় যে কোরানের সকল আয়াতই ঐরকম সাম্য ও শান্তি বানী দিয়েই পরিপূর্ন । এর সাথে তার নামাজ রোজা পালন করে সে নিজেকে পরিচিত করে তুলে একজন শান্তির ধর্মের সদস্য হিসাবে এবং নিজেকে গর্বিত ভাবে । ফলে মনস্তাত্তিক ভাবে তার ধর্ম নিয়ে একটা গর্বও থাকে নিজের অজান্তেই । একারনেই শিক্ষিতরা দাবী করেই ইসলামে কোন বিতর্কিত, ক্ষতিকর কিছু নাই তখন অশিক্ষিতরাও তাতে সায় দিবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকে কি ?
অথচ কোরানে ওসবের বিপরীতে অজস্র আয়াত আছে তা সাম্যের বা শান্তির সম্পূর্ন বিপরীত । এমন কি এমন কোন পাতা নাই যেখানে উপরের উদাহরনের বিপরীত আয়াত নাই । যেমন –
“তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না। —— সূরা আন নিসা, আয়াত নং ৮৯।
“তোমরামুশরিকদেরকে হত্যা করো যেখানেই তাদেরকে পাও, তাদেরকে ধরো, তাদেরকে বেঁধে ফেলো, তাদেরকে হত্যারজন্য ঘাটিতে ওঁত পেতেঅপেক্ষা করতেথাকো।” (সূরা আত তাওবা, আয়াত ৫)
তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর (সুরা আল বাকারাহ ২ : ২১৬)।
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। কোরান – ৯:৭৩
এর পরেও ছোট বেলা থেকেই মাথার ভিতরে ঢূকানো হয় জান্নাতের লোভ ও জাহান্নামের ভয় ।
,যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তার দোযখী। কোরান ৫:১০।
যেহেতু শিখে এসেছে কোরানের সকল বানীই ঈশ্বী যা চিরন্তন সত্য অতএব কোরানের সকল কিছুই সত্য বলেই মানতেই হবে । এর পরে কোন শিক্ষিত জন ধর্মেকে মানুষের জন্য খারাপ ভেবে ধর্মের বিপক্ষে বা সস্কারের কথা বলবে ?
এদিকে যারা ধর্মিয় শিক্ষায় শিক্ষিত ও যা দিয়ে তারা রুটিরুজির ব্যবস্থা করেন তারা তো আমাদের দেশের দলীয় মন্ত্রীদের মত দলীয় শৃংখলে আবদ্ধ থাকেন । দল বা দলের সমর্থকরা যতই খারাপ কিছু করুক না কেন তারা সবাই ধোয়া তুলসি পাতা প্রমানেই তারা ব্যস্ত থাকেন । কারন তা না হলে তাদেরও রুটিরুজি বন্ধ হয়ে অত্যাচারিত হওয়ারও ভয় থাকে । যার প্রকৃত উদাহরন আমাদের সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী । যার ফলশ্রুতিতে আমাদের পরিবার সমাজ ও রাস্ট্রে নিজ নিজ দলিয় বা সম্প্রদায়কে পবিত্র জ্ঞান করাই তো আমাদের শিক্ষারই একটা অংশ হয়ে গেছে । যে শিক্ষার মধ্যে যুক্ত আছে পারিবারিক সামজীক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা । কথায় আছে – ছোট বেলার পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠনিক শিক্ষা থেকে বের হওয়া যায় না । এর পরেও কিভাবে কেউ ধর্মের বিরুদ্ধকারী হবে ?
শিক্ষা ক্ষেত্রে তাদেরকে যে ধর্মিয় শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তাতে তারাও তৈরি হচ্ছে এক প্রকার ধর্ম কানাতে । তাই আমার মতে বাধ্যতামূলক ধর্ম পাঠ্য বইতে দুই ধরনের আয়াতই দিয়ে দেওয়া উচিত । যাতে ছোট থেকেই সবাই নিজেদের মত করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে । কিন্তু তা কি বাস্তবের আলোকে সম্ভব ? অথচ আমরা তাকিয়ে আছি সেই অসম্ভব ভবিষ্যতের আশায় ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “প্রায় সবাই কেন ধর্মের বিরোধিতা কারীকে খারাপ চোখে দেখে !!

  1. বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত
    বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত অসুস্থরা তাদের মতের বাইরের সবাইকে খারাপ চোখে দেখবেই। খারাপ চোখে দেখা মানেই ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান সঠিক আছে বলে ধরে নিতে হবে।

    1. হ্যা, কিন্তু দুর্ভাগ্য
      হ্যা, কিন্তু দুর্ভাগ্য রাস্ট্র এই ভাইরাস তাড়ানোর জন্য কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না । কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

54 − = 52