শিক্ষিতরাও কেন ধর্মান্ধ ? এর জন্য দায়ী কি বা কে ?

আমাদের সমাজে প্রায় সকল পরিবারেই কোন শিশু জন্মের পর থেকেই পারিবারিক ভাবে তাকে শেখানো হয় “তার ধর্মই আসল সত্য ও ঈশ্বরের মনোনিত ধর্ম “। এভাবে বড় হতে হতে সেই কথা গুলি তার মনে গেথে যায়, যা কোন দিনও ভুলতে পারে না । ফলে, যারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে স্কুলে যায় তারা ধর্ম পড়ে দশম শ্রেনী পর্যন্ত । এই সময়ে তাদেরকে পড়ানো হয় কিছু আয়াত যেমন —

তোমার ধর্ম তোমার জন্য এবং আমার ধর্ম আমার জন্য (সূরা কাফিরুন:৫)।
আল্লাহ যাকে চান বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন (সূরা ফা-ত্বির:৮)!!
ধর্মের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তি নাই (সূরা বাকারা:২৫৬)।
একই ভাবে কিছু হাদিসও পড়ানো হয় , যেমন – “ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না “।

সাধারন ভাবে স্কুল পর্যন্তই ইতি ঘটে তার ধর্ম পড়ার প্রয়োজনীয়তা । এরা কোন দিন জানেই না ধর্মের অন্য পাতায় কি আছে । ফলে তার মনের মধ্যে একটা বিশুদ্ধ ধারনা জন্মে ধর্ম-এ আর বাকী যা বলা হয়েছে সবই এমন বিশুদ্ধ বানী যা অবশ্যই আল্লাহর নিজস্ব বানী । যা পালন করলে প্রতিটা মানুষই প্রায় ফেরেস্তার সমকক্ষ হয়ে যাবে । সমাজে থাকবে না কোন হানাহানি বিদ্যেষ । তাই প্রত্যেকের উচিত ধর্ম মানা । তখন সে নিজস্ব বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়ে ধর্মের ঐ বানী গুলি প্রমানিত সত্য হিসাবে দাঁড় করায় । ফলে ধর্মের বিরোধীতাকারী বিজ্ঞানের কোন তত্ত্বই সে সঠিক ভাবে মেনে নেয় না । এভাবে সে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে জীবন জিবিকার জন্য সমাজে রথী মহা রথি হলেও মনে মনে ধর্মের জন্য কিছু করতে না পারার একটা অপরাধ বোধ ভিতরে ভিতরে থেকেই যায় । পাশাপাশী ধর্মহীন বা বিধর্মীদের প্রতি একটা ঘৃনাও মনের গভীরে পোসন করে । কারন নিজে ধর্ম পালন না করতে পারলেও যারা করতেছে তারা যে নিঃসন্দেহে ভাল কিছুর জন্যই করতেছে তাতে তার মনে কোন সন্দেহ থাকে না । আর তাই ধর্ম বিরোধীরা তাদের চোখে নিকৃষ্ট হিসাবেই গন্য হতে বেশী বিবেক বুদ্ধি খরচা করতে হয় না ।

এদিকে যে বাচ্চা ধর্মিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করে সে মনে মনে ভাবে সে যা পড়ছে তা পাক পবিত্র ফলে সে নিজেও নিজেকেও পাক পবিত্রই ভাবে । আর আধুনিক শিক্ষার শিক্ষিত লোকদেরকে চিহ্নিত করানো হয় মোনাফেক হিসাবে । বাস্তবে আমাদের দেশের প্রায় আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতরাই দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান । এসব দেখে এই ধর্মিয় শিক্ষায় শিক্ষিতরা নিজেদেরকে সৎ ও পাক পবিত্র হিসাবে মানাটা আরও পাকা পোক্ত হয়ে যায় । তারা ঘৃনা করা শুরু করে এই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদেরকে, যা কোরান হাদিসের আলোকেও সঠিক । যার ফলে এই ধর্মিয় শিক্ষায় শিক্ষিতরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদেরকে আল্লাহ নবীর মতই কথায় কথায় দোজখের ভয় দেখায় ।

এই দুই পক্ষের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে এক পক্ষের অপরাধ বোধের উপরে অন্য পক্ষ খুব সহজেই প্রভাব বিস্তার করে । যার জন্য এই ধর্মিয় শিক্ষায় শিক্ষিতরা সমাজের একটা সন্মানীয় যায়গা দখল পেয়েছে । ফলে এই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা ধর্মের জন্য কিছু একটা করতে পারাকে তারা নিজেকে ধন্য মনে করে ও তাতে তাদের কিছু পাপ কমে যাবে বলেও আশা করে । ফলে ধীরে ধীরে এই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা তাদের জ্ঞান বুদ্ধি বিবেক হারিয়ে ধর্মিয় শিক্ষায় শিক্ষিতদের কাছে বিনা শর্তে আত্মস্মর্পন করে । আর এই শিক্ষিত জন গোষ্ঠীও সেই মোল্লা শ্রেনীদেরকে সন্মানিত করতে চেষ্টা করে বিভিন্ন ভাবে, । কারন সবাই মৃত্যু পরবর্তি ভয়ে আতংকিত থেকে ক্ষমা পাওয়ার কৌশল খুজে । যার প্রমান ধর্ম নিরপেক্ষ দেশের প্রধান মন্ত্রী হয়ে বংগবন্ধুর ও আই সি সম্মেলনে যোগদান ও ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা । যা সংবিধানিক ভাবে অপরাধ ও অন্যায় ছিল কিনা তা সময়ই বলে দিবে । এরই ধারা বাহিকতায় বর্তমানে যখন মোল্লারা বলে –“রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করুন” তখন এই শিক্ষিতরা আগে ভাগেই সকল খাবারের দোকান বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠে (সে নিজে রোজা করুক বা না করুক)। আর ভাবে যাক অন্তত একটা ছোয়াবের কাজ করেছে । ফলে ক্ষমাশীল আলাহ তাকে ক্ষমা করলেও করতে পারে ।

এভাবেই চলছে দেশের প্রতিটা ক্ষেত্রে ধর্ম না মানলেও ধর্ম ও ধার্মিকদেরকে শ্রদ্ধা করার এক সামাজীক লড়াই । ফলে কেউ চাকুরি ক্ষেত্রে পিছন দরজা দিয়ে অঢেল ইনকাম করে লাইব্রেরী বা বিদ্যালয় না করে শেষ বয়সে বাবা বা দাদার নামে একটা মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করে । যার ফলে সমাজে তাকে ঘূস খোর বলার মত নীতিবান কেউ থাকে না । মোল্লারাও চায় এভাবেই অগ্রসর হয়ে সংখ্যার জোরে তারাই তাদের খেলাফত কায়েম করে ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করতে । আর তারই জ্বলন্ত প্রমান বর্তমানে ওলামালীগের দাবী নামা । আগামীতে এই মোল্লাদের আর কি কি দাবী এই মডারেটররা স্ব-উদ্দ্যোগ ও উতসাহে পালন করে দেশ ও দেশের মানুষকে জান্নাতী করে সেটা দেখার আশায় রইলাম ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “শিক্ষিতরাও কেন ধর্মান্ধ ? এর জন্য দায়ী কি বা কে ?

  1. শিক্ষিতরা শিক্ষিত হতে পারেনি,
    শিক্ষিতরা শিক্ষিত হতে পারেনি, তাই তারা ধর্মান্ধ। চাকুরী করার জন্য তারা শিক্ষিত। খোদায়ী শিক্ষা তাদের চাকুরীর নিশ্চয়তা দিতে বাধ্য। তারা বুঝে না যে শিক্ষা দুনিয়ায় সামান্য চাকুরীর নিশ্চয়তা দিতে পারেনা, সে শিক্ষা কাল্পনিক আখেরাতে কোন বালটাও করতে পারবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 21 = 27