হিটলারকে ভয় পাচ্ছে জার্মানি!

৭০ বছর পর জার্মানিতে প্রকাশিত হতে চলেছে হিটলারের আত্মজীবনী ‘মাইন ক্যাম্ফ’। এতকাল সেই দেশে নিষিদ্ধ ছিল বইটি। ইউরোপের সাধারণ আইন অনুযায়ী, প্রকাশের ৭০ বছরের মাথায় যেকোনো বইয়ের ওপর থেকে লেখকের স্বত্ব বিলুপ্ত হয়। আর স্বত্ব বিলুপ্ত হলে হিসেব মতো নিষেধাজ্ঞাও অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই কাল থেকে যেকোনো প্রকাশকই ছাপতে পারবেন বইটি। আর তাতেই কপালে ভাঁজ পড়েছে জার্মান প্রশাসনের।

এমনিতেই দেশে বিপুল বিরোধী জুটেছে মুসলিম শরণার্থীদের। এখন হিটলারের বই ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়লে সেটা আবার প্রুশীয় জাতীয়তাবাদের পালে হাওয়া দিবে। তাতে করে জার্মান জাতির উচ্চমর্যাদার বোধে আক্রান্ত হতে পারে অনেকেই। নিজ দেশে মুসলিম অভিবাসীদের সংস্কৃতির বিস্তার, বিদেশীদের উচ্চ পদে অবস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদেশি বিনিয়োগকে তারা জাতীয় মর্যাদার জন্য অগৌরব মনে করতে পারে। সেক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে মুসলিম অভিবাসী ও বিদেশী অভিজাতরা হামলার শিকার হতে পারেন। আবার বিদেশী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপরেও হামলা হতে পারে। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিস্তৃতি এই জার্মান উগ্র জাতীয়তাবাদকে ত্বরান্বীত করতে পারে। এরকম পরিস্থিতি এগিয়ে এলে তা জার্মানির জন্য শোচনীয় পরিণতি বয়ে আনবে। জার্মান বিশেষজ্ঞরা তাই গভীরভাবে চিন্তিত।

সঙ্কট কেবল একমুখী হলে তাও হয়তো একটা রাস্তা করা যেত। কিন্তু এ তো শাখের করাত! জার্মান চিন্তাবিদরা বলছেন, হিটলার এমনকি আইএস জঙ্গিদেরও সহায়ক হতে পারে! মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটের সময়ে শরণার্থীদের জন্য দেশের সীমান্ত খুলে দিয়েছিল জার্মানি। তার কিছুদিনের মধ্যেই প্যারিসে জঙ্গি হামলা হয়। প্রশ্ন ওঠে, মাথা গোঁজার ঠাঁই দিতে গিয়ে ইউরোপে জঙ্গি ঢুকিয়ে ফেলেনি তো জার্মানিসহ অন্য কয়েকটি দেশ? এই সম্ভাবনা অস্বীকার করলেও সংশয় রয়েছে ইউরোপ থেকে আইএস জঙ্গি তৈরি করতে শুরু করলে কী হবে! জার্মান প্রশাসন মনে করছে, এই পরিস্থিতিতে ফ্যাসিস্ট শাসক হিটলারের রাজনৈতিক ভাবনা এতটা সহজলভ্য হয়ে গেলে জেহাদি আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে সেটিকে ব্যবহার করতে পারে জঙ্গি নিয়োগকারীরা। এমনকি নেতিবাচকভাবেও এর ব্যবহার হতে পারে। যা কিনা জার্মানদের হত্যার ন্যায্যতা প্রতিপন্ন করবে।

তবে জার্মান সরকার একেবারে বসে নেই। এতদিন নিষিদ্ধ ছিল, ভাবনা ছিল না, কিন্তু এবার তো আইনি পথেও বইয়ের প্রকাশ আটকানো সম্ভব নয়। তাই গত কয়েক মাসের চেষ্টায় জার্মানির সরকারি প্রতিষ্ঠান মিউনিখের ‘আধুনিক ইতিহাস গবেষণা কেন্দ্র’ সম্পাদনা করে বের করছে মাইন ক্যাম্ফের নতুন সংস্করণ। সেখানে শুধু হিটলারের লেখা নয়, জুড়ে দেওয়া হচ্ছে তৎকালীন ইতিহাসের ঘটনাপঞ্জিও। সরকার মনে করছে, ইতিহাসের নিরিখে হিটলারের রাজনৈতিক অবস্থান বিচার করলে নাৎসি শাসনের আসল চেহারাটা প্রকাশ পাবে। সরকারের সম্পাদনা করা বইটি পড়ে হিটলারকে আর বড় নেতা মনে হবে না, বরং বোঝা যাবে কতটা অত্যাচারী ছিলেন তিনি।


মিউনিখের একটি বইয়ের দোকানে হিটলারের নয়া আত্মজীবনী!

বইয়ের স্বত্ব বিলোপের ফলে নানা প্রকাশকই কম দামে এই বই ছেপে বের করবে। সেই বই পড়ে ফের দেশ জুড়ে নাৎসিদের সম্পর্কে সহানুভূতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। তাই রাজনৈতিক সঙ্কট এড়াতেই সরকার এত ঘটা করে প্রকাশ করছে মাইন ক্যাম্ফের নতুন সংস্করণ। সদ্যই, গত ৯ জানুয়ারি, ২০১৬ জার্মানির সমস্ত বইয়ের দোকান ও ওয়েবসাইটে পাওয়া গেছে সরকারের প্রকাশিত এই নয়া ‘হিটলার আত্মজীবনী’। প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মাথায় বইটি সেলআউট হয়ে গেছে। এটা জার্মান সরকারের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে এই সংস্করণের বাইরে গিয়ে কেউ যদি শুধু হিটলারের লেখা অংশটুকু প্রচার করে, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা এখনো ঠিক করতে পারেনি জার্মান প্রশাসন। এদিকে সারা বিশ্বের ইহুদীরা এই বই পুন.প্রকাশে বাধা না দেয়ায় এবং সরকারিভাবে এর বিশেষ সংস্করণ প্রকাশ করায় বেজায় ক্ষুব্ধ। তারা নিন্দা জানাচ্ছে, বিক্ষোভ করছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “হিটলারকে ভয় পাচ্ছে জার্মানি!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

55 − = 49