আমরা এমন কেন ?

ল্যাফটেনেন্ট জেনারেল পদ হতে অবসর গ্রহণকারী জেনারেল জ্যাকব ১৯৭১ সালে মেজর জেনারেল হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন।
জাতিসংঘ এবং চীনের প্রবল চাপের মুখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উদ্ধতন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণে আপত্তি জানাচ্ছিলেন। কিন্তু জ্যাকব সব ধরনের চাপের উর্দ্ধে গিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে সচেষ্ট ছিলেন।

তিনি সব সময় বলতেন – “I’ve always said it was your (Bangalees) liberation war. It was your war of independence, not otherwise,” ।

প্রথমেই তিনি ঢাকাকে দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। এর জন্য তিনি সুচারুভাবে এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে অগ্রসর হন।
তাঁর পরিকল্পনা অবশেষে সফল হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানীদের ঢাকা থেকে হটাতে সফল হয়। দখলের পর তিনি পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সকল যোগাযোগ মাধ্যম ধ্বংস করেন। তিনি তিন সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা দখলের পরিকল্পনা করেন,কিন্তু তা হয়ে যায় এক রাতের ভিতরেই। তারপর ধীরে ধীরে আরো অনেক স্থান দখল করতে সক্ষম হয় ভারতীয় সেনাবাহিনী ।
পাকিস্থানের আত্মসমর্পনের ব্যাপারে নিয়াজি তর্জন-গর্জন করেছে, কিন্তু জ্যাকব ছিল দৃঢ়। জ্যাকব নিয়াজিকে বলেন:

“জেনারেল, আমি আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছি, যদি আপনি পাবলিকের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেন ও শর্ত গুলো গ্রহণ করেন, আমরা আপনাকে এবং আপনার সৈন্যদের দেখব। ভারত সরকার কথা দিয়েছে আপনার ও আপনার সিভিলিয়ানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। আপনি যদি আত্মসমর্পণ না করেন, আমরা কোনো দায়িত্ব নিব না। আমি আপনাকে ৩০ মিনিট সময় দিব। আপনি যদি মেনে না নেন, আমার কোন উপায় নাই কিন্তু যুদ্ধবিগ্রহ এর পুনরারম্ভ অর্ডার দিতে চাই।”

পরে জ্যাকব চিন্তায় পরে যান:
”যদি তিনি (নিয়াজি) না করেন , আমি কি করব? আমার হাতে কিছুই নেই। শুধু ঢাকাতেই নিয়াজির আছে ২৬,৪০০ সৈন্য আর আমাদের আছে প্রায় ৩,০০০ সৈন্য।”

পাকিস্তান এর প্রধান বিচারপতি হামিদুর রহমানের যুদ্ধ তদন্ত কমিশনের প্রধানের কাছে ছত্রভঙ্গ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখার জিজ্ঞাসা ছিল , ”কেন জেনারেল নিয়াজী এ ধরনের একটি লজ্জাজনক পাবলিক নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ স্বীকার করেছে, যখন তার ঢাকার মধ্যে ২৬,৪০০ সৈন্য ছিল এবং ভারতের মাত্র কয়েক হাজার সৈন্য ছিল”? জেনারেল নিয়াজী উত্তরে বলেছেন :

“আমি জ্যাকব দ্বারা ব্লাকমেইলড হয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হই “।

যদি জেনারেল নিয়াজী বাধ্য না হতেন তাইলে কি হতো একবার ভাবুন তো ? ৯মাসে কি স্বাধীনতা আসতো ? কত প্রান দিতে হতো চিন্তা করতে পারেন ?

তারপর জেনারেল জ্যাকব তার বিবৃতিতে বলেন,-
“পূর্ণ ক্রেডিট মুক্তিযোদ্ধা এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের। তারা জয়ের জন্য আসল কাজ টি করেছেন এবং তাদের বীরত্বর জন্য জাতি স্বাধীনতা লাভ করেছে “ ।

২০১২ সালে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি গর্বিত আমি ইহুদি, তার থেকেও বেশি ও অনেক বেশি গর্বিত যে আমি ভারতীয়”।

বেশ কিছুদিন অসুস্থতার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই লেফটেন্যান্ট জেনারেল যিনি একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণে রাজি করিয়ে নিজে হাতে দলিলের খসড়া লিখেছিলেন, বাংলাদেশের বন্ধু সেই ভারতীয় জেনারেল জেএফআর জ্যাকব আজ বুধবার সকালে দিল্লির একটি সামরিক হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

সৌদি আরবের বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের মৃত্যুতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা গেলে জে এফ আর. জ্যাকবের মৃত্যুতে কোন শোক নাই কেন ? উনি ইহুদি ছিলেন সেই জন্য নাকি ভারতের অবদান অস্বীকার করার জন্য ?

তথ্য সূত্র — https://bn.wikipedia.org/…/%E0%A6%9C%E0%A7%87_%E0%A6%8F%E0%…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 64 = 67