বদরুদ্দীন উমর সম্পাদিত ‘সংস্কৃতি’ ও মার্কসবাদ

কমরেড বদরুদ্দীন উমর উপমহাদেশের প্রখ্যাত মার্কসবাদী পণ্ডিত হিসেবে সর্বমহলে স্বীকৃত। কেবল পাণ্ডিত্য, শিক্ষাদান আর লেখালেখিতে তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। এখানেই তার অগ্রসরতা। সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার লড়াইয়ে সামনের সারিতে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। অংশীদার হয়েছেন কমিউনিস্ট আন্দোলনের ধারাবাহিকতার, গড়ে তুলেছেন একটি কমিউনিস্ট পার্টি। যার নাম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)। এর অধীনে ‘জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল’ নামক ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশাজীবীসহ জনগণের মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি ও তার সহযোদ্ধারা।

সংগঠনটির উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশিত হচ্ছে, ‘সংস্কৃতি’ নামক একটি পত্রিকা। যার সম্পাদক স্বয়ং বদরুদ্দীন উমর নিজে। পত্রিকাটি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলন, জনগণের নানা প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়াদিতে মার্কসবাদী মতামত প্রকাশ করে থাকে। মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গী গঠনে ও বস্তুবাদ আয়ত্ত্বকরণের সংগ্রামে নিয়োজিতদের কাছে পত্রিকাটির গুরুত্ব অপরিসীম। পত্রিকাটির সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা।

সংস্কৃতির ডিসেম্বর, ২০১৫ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে সদ্যই। এর সম্পাদকীয় হিসাবে ছাপা হওয়া নিবন্ধটি আমাদের আলোচনার বিষয়। সাধারণত সম্পাদকীয় লেখার দায়িত্ব সম্পাদকের হলেও আমাদের দেশের চর্চ্চায় দেখা যায় অধিকাংশত নির্বাহী সম্পাদকই সম্পাদকীয় লিখে থাকেন। পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হাসিবুর রহমান। সে যাই হোক, নিবন্ধটি যিনিই লিখুন না কেন এর দায়িত্ব অবশ্যই সম্পাদক ও সম্পাদনা বোর্ডের ওপর বর্তায়। কারণ তাদের মনোনয়ন ছাড়া এটি ছাপা হওয়া সম্ভব ছিল না। সম্পাদকীয় সম্পর্কে আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সম্পাদকীয়টা কেবল একটি লেখাই নয়, বরং সম্পাদক ও সম্পাদনা বোর্ডের নিজস্ব অবস্থানও বটে!


সংস্কৃতির একটি নমুনা সংখ্যা

সম্পাদকীয় নিবন্ধটির আলোচ্য বিষয় হলো, রাষ্ট্র টিকে থাকার ক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর ভূমিকা। নিবন্ধটিতে যে আলোচনা হয়েছে তা বস্তুগত ঘটনা তথা বাস্তব/সত্য এবং মার্কসবাদের সঙ্গে কতখানি সম্পর্কিত সে বিষয়ে আলকপাত করাই আমার উদ্দেশ্য। প্রবন্ধের শুরুর দিকেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনগণের ওপর নিপীড়নকারী বর্তমান সরকার মনে করছে যে, তারা চিরকালই ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু তারা এটা আমলে নিচ্ছে না যে, ইতিহাস এর চেয়েও কঠিন।

ইতিহাসের সেই কঠিন বাস্তবতার বিষয়ে ধারণা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে,
‘১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর আজ ৪৪ বছর পর এদেশের জনগণের ওপর একের পর এক ফ্যাসিস্টদের শাসন যে এদেশে বলবৎ হবে, এ ধারণা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বা স্বাধীনতার মুহূর্তে কারও ছিল না।’

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। ‘জনগণের জীবনে যে এমন দুঃখ হবে… এ ধারণা… স্বাধীনতার মুহূর্তে কারও ছিল না।’ এটা সঠিক নয়। বরং ১৯৭১ সালেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এবং তার অব্যবহিত কাল পরেই কমরেড সিরাজ সিকদার তার বহু রচনায় উল্লেখ করেছিলেন যে, দেশটা পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন হচ্ছে না। আর পরাধীনতা মানে যে জনগণের ওপর বিরাট নিপীড়ন, তা নিশ্চয়ই ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়বে না। একাত্তরে আরও অনেক বামপন্থি পার্টি ভিন্ন ভাষায় হলেও পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা না হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এনেছিলেন। সুতরাং বাংলাদেশে জনগণের ওপর এমন স্টিম রোলার চলবে, এটা কেউ ধারণা করেননি, তা সঠিক নয়। হতে পারে লেখক নিজে এটা ধারণা করেননি এবং সংস্কৃতির সম্পাদনা বোর্ডের সঙ্গে যুক্তরা ধারণা করেননি।

এর পরেই লেখা হয়েছে,
‘১৯৭১ সালের শেষে উৎপাদনের সাথে সম্পর্কহীন ফড়িয়া চরিত্র সম্পন্ন এক শ্রেণী ক্ষমতা দখল করে এদেশে লুটপাটকারী, চোর, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, ভূমিদস্য ও চরম সুবিধাবাদীদের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাদেরই কর্তৃত্বে গঠিত হয়েছিল বাঙলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতির ভিত্তি। বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই যে, সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক ফ্যাসিস্ট শাসনের নগ্ন রূপই আমরা ২০১৫ সালে প্রত্যক্ষ করছি।’

অদ্ভুত খোঁড়া এই বিশ্লেষণ। এখানে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতির ভিত্তি তৈরি করেছে স্থানীয় ফড়িয়া চরিত্র সম্পন্ন এক শ্রেণী। সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকা এখানে অস্বীকার করা হয়েছে। কোথাও উল্লেখ করা হয়নি যে, এই শাসকরা সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে আঁতাত করে চলে, তাদের পরামর্শ ও সাহায্যে এখানে লুণ্ঠন-নিপীড়নের বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই এই রাষ্ট্রেরও ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারত ও তার আন্তর্জাতিক মিত্ররা সরাসরি আওয়ামী লীগকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল। ১৯৫৬ সালে সমাজতন্ত্রের অবসানের পর নয়া সাম্রাজ্যবাদী হিসাবে বেড়ে ওঠা সোভিয়েত পক্ষ তাতে যুক্ত ছিল। দেশ গঠনের পর থেকে আজ অবধি সাম্রাজ্যবাদীরা এখানকার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন। সংস্কৃতির সম্পাদনা বোর্ড সাম্রাজ্যবাদের এই ভূমিকা সম্পর্কে জানেন না, এটা বললে বিরাট ভুল হবে। কারণ আমাদের দেশে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে কমরেড উমরের পার্টি অন্যতম নেতৃস্থানীয়।

তাহলে কেন তারা সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকা আড়াল করলেন? এটা মূলত একাত্তরকে জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে দেখার ফল। যারা একাত্তরকে জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে বিচার করেন, আমরা দেখেছি, তারা সে সময় সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকা কি ছিল তা দেখতে পান না। অথচ বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলে নতুন কোনো রাষ্ট্র গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বিপ্লবী শক্তির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা কিংবা জাতীয় মুক্তিসংগ্রামীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে অন্য যে কোনো কিছুই সাম্রাজ্যবাদের ইচ্ছামুক্ত হতে পারে না। একাত্তরে ইন্দিরা গান্ধীর বিশ্বজুড়ে সফর ও সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে আপস-রফার ইতিহাস, মার্কিন নৌ বহরের অগ্রগতি, রাশিয়ার হস্তক্ষেপ, সেটা আমাদের খোলা চোখেই দেখিয়ে দেয়।

নিবন্ধটিতে এরপর উঠে এসেছে বাংলাদেশের আজকের এই পর্যায়ে এসে দাঁড়ানোর পেছনে বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর ভূমিকার প্রশ্নটি। বলা হয়েছে, স্বাধীন বাংলাদেশের যে গণবিরোধী চরিত্র দাঁড়িয়েছে তাতে ‘যে বিষবৃক্ষ পত্রপল্লবে বিকশিত হয়েছে তা হলো… আওয়ামী লীগের উচ্ছিষ্টভোগী ও পদলেহী বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী।’ সম্পাদকীয় নিবন্ধটি গুরুত্বারোপ করেই বুঝাতে চেয়েছে যে, এই বুদ্ধিজিবীরাই সমাজে শাসকশ্রেণীর টিকে থাকার ভিত্তি। এদের কাজটা যত সুচারূ হয় রাষ্ট্র তত নির্বিঘ্নে তার কার্যক্রম চালাতে পারে, আর এদের কাজ ঠিকঠাক না হলে রাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত নির্যাতন চালিয়ে নিজের অবস্থানকে অটুট রাখতে হয়।

বলা হচ্ছে,
‘আমলাতন্ত্র, পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ইত্যাদি শক্তিকে সরকার প্রয়োজন মত ব্যবহার করে থাকে নির্যাতনের জন্য। কিন্তু শোষণের মত নির্যাতনের কোন স্বাধীন ভূমিকা নেই। সমাজে শোষণ একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও নির্যাতন তেমন নয়। নির্যাতন শোষক শ্রেণীই করে থাকে, কিন্তু প্রয়োজন না হলে তারা নির্যাতন করে না এবং প্রয়োজন হলে সেটা কর অল্পবিস্তর মাত্রায়। শ্রেণী বিভক্ত সমাজে শোষণ এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু নিষ্প্রয়োজনে কেউ নির্যাতন করে না।… শাসক শ্রেণীর সরকার পুলিশ, সেনাবাহিনী ব্যবহার করে যখন সেই সরকারের বিভিন্ন নীতি বিরোধিতার মুখে পড়ে, যখন তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ হয়।’

এই বক্তব্য কি বস্তুগত সত্যকে প্রতিফলিত করে? দ্বন্দ্বমূলক ঐতিহাসিক বস্তুবাদকে প্রতিফলিত করে? পড়লে মনে হবে যেন কোনো বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে কথা বলছেন। কারণ তারা তেমনটাই দেখেন। বড় কোনো আন্দোলনে না গেলে তাদের ওপর রাষ্ট্র নিপীড়ন চালায় না। কেবল আওতার বাইরে গেলেই রাষ্ট্র হচতক্ষেপ করে। কিন্তু এটা কি শ্রমিক-কৃষকের ক্ষেত্রে সত্য? রাষ্ট্র তো নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবেই জন্ম নেয়। জন্মের সময়ই সে কৃষক-শ্রমিককে মজুরী কাঠামোতে বন্দি করে এবং যেকোনো মূল্যে ধনীদের সম্পদের নিরাপত্তার বিধান নিশ্চিত করার ঘোষণা দেয়। যে কৃষক চাষ করে, দাম পায় না, খরচ ওঠে না, তার ওপর আর কী নিপীড়নের দরকার? যে শ্রমিক কারখানায় প্রতিদিন গালি-কিল-লাথি খেয়ে অভ্যস্ত, তার ওপর আর কী কী করা হলে প্রাত্যহিক নির্যাতনকে আমলে নিবেন?

তবে এটা ঠিক যে, রাষ্ট্র এই অব্যাহত নিপীড়নের পরেও জনগণ সংগঠিত হলে আগের চেয়ে বহুমাত্রায় বেশি নিপীড়ন চাপিয়ে দেয়। কিন্তু এই নিবন্ধে যে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রের ‘নির্যাতনের কোন স্বাধীন ভূমিকা নেই’, এটা কি রাষ্ট্র ‘দমনের হাতিয়ার’ এই সত্যকে প্রতিফলিত করে? রাষ্ট্র কেবল দরকার হলে নিপীড়ন চালায় বলার মধ্য দিয়ে মূলত এই নিবন্ধে রাষ্ট্র সম্পর্কে মার্কসীয় বিশ্ববীক্ষাকেই উল্টে দেয়া হয়েছে। মার্কসের নাম বাদ দিয়েও বলা যায়, শ্রেণীবিভাজিত রাষ্ট্র যে এক শ্রেণী কর্তৃক আরেক শ্রেণীকে দাবিয়ে রাখার জন্যই তৈরী হয়, তা মেনে নিলে রাষ্ট্রের নিপীড়নমূলক ভূমিকাকে এভাবে (বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে গৃহীত ব্যবস্থা হিসাবে) দেখাটা নিঃসন্দেহে ওই ক্ষমতাসীনদের পক্ষেই দাঁড়ানো।

নিবন্ধটিতে এরপর বুদ্ধিজীবীদের ভয়ানক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিবরণ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে,
‘শাসক শ্রেণী ও তাদের সরকারকে রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশ, সামরিক বাহিনীর যে ভূমিকা থাকে তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে বুদ্ধিজীবীদের। এই বুদ্ধিজীবীরা যদি শাসক শ্রেণীর পক্ষে না থাকতো তাহলে কোন শাসক শ্রেণীর পক্ষেই মসৃনভাবে তো নয়ই, এমনকি সংকটাপন্ন হয়েও নিজেদের শাসন বলবৎ রাখা তাদের দ্বারা সম্ভব হতো না। এ প্রসঙ্গে অবশ্য বলা দরকার যে, বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যেমন থাকে শাসক শ্রেণীর খেদমতগার, তেমনি তাদের মধ্যে থাকে শাসক শ্রেনীর বিরুদ্ধচারী। এই বিরুদ্ধচারীরাই দ্বান্দ্বিক নিয়মে সমাজে প্রগতির চাকা ঘুরিয়ে থাকেন।’

এখানে দেখা যাচ্ছে শাসকশ্রেণীর ক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে মূল গুরুত্বারোপটা করা হয়েছে বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর ভূমিকার ওপর। বিপরীতে আরেক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীরা সমাজে প্রগতির চাকা ঘোরান। এখানে রাজনীতির শেষ মীমাংসাটা যে যুদ্ধ কিংবা অস্ত্র, তাকে হাল্কা করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমাজে প্রগতির চাকা ঘোরানোটা যে জনগণের অবদান তাকে অস্বীকার করে একে কেবলই বুদ্ধিজীবীদের কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ থেকে এমন ধারণাও জন্মায়, যেন শাসকশ্রেণীর পক্ষাবলম্বনকারী বুদ্ধিজীবীশ্রেণীর বিপরীতে কেবল প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরাই থাকে। কিন্তু আমরা জানি, এর মধ্যে শতধা বিভক্তি আছে। শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন অংশ আছে, প্রতিক্রিয়াশীলতার মাত্রায় তারা একে অপরকে যেমন টেক্কা দেয়, তেমনি তাদের অভ্যন্তরেই আবার গণতন্ত্রী, উদারপন্থী, সংশয়পন্থীসহ নানা মতাদর্শের বুদ্ধিজীবীদের অস্তিত্ত্ব থাকে। এই বৈচিত্র্যটা আলোচ্য নিবন্ধে আসেনি। এমনকি সরকারি দল আওয়ামী লীগের ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের কড়া সমালোচনা প্রবন্ধের বিরাট অংশজুড়ে স্থান পেলেও এর বাইরে যে বিএনপি-জামাত ঘরানার এক বুদ্ধিজীবী শ্রেণী আছে, তারা যে বর্তমান ক্ষমতাসীন শাসকশ্রেণীকে অব্যাহত সমালোচনা করে চলেছে, তার গোমরটা কোথায়, কিংবা এ ধরণের বুদ্ধিজীবীদের যে কর্মকান্ড, তা নিয়ে একছটা আলাপও পুরো প্রবন্ধের কোথাও নেই।

পুরো নিবন্ধটিতে সমাজ পরিবর্তনে জনগণের ভূমিকার বিষয়টি যাথাযথভাবে কোথাও আসেনি। শ্রমিক, কৃষকের স্বার্থের জায়গা থেকে বুদ্ধিজীবীশ্রেণীর ভূমিকা, শ্রমিক-কৃষক নিজেরা যে পরিবর্তিত হতে পারেন, তারাও যে দর্শন চর্চ্চায় সক্ষম, তাদের এগিয়ে আসার মাধ্যমেই যে শাসকশ্রেণীর শক্তিশালী বাহুগুলো একে একে পরাস্ত হবে, সেই আলাপটা আসেনি। বরং লেখাটি মধ্যবিত্ত দৃষ্টিকোণেরই প্রতিনিধিত্ব করে। এজন্যই স্বাভাবিকভাবে এতে প্রতিফলিত হয়েছে জাতীয়তাবাদ ও উদারতাবাদ। একাত্তর প্রশ্নে জাতীয়তাবাদের প্রভাব সুস্পষ্ট। আর রাষ্ট্র প্রশ্নে উদারতাবাদ। ওই একই দৃষ্টিকোণের কারণে সমাজে প্রগতির চাকা ঘোরানোর কাজটাও আর জনগণের থাকল না।

সংস্কৃতির সম্পাদক, কমরেড বদরুদ্দীন উমরের কাছে আমরা জানতে চাই, এই সম্পাদকীয় নিবন্ধটি শ্রমিকশ্রেণীর স্বার্থকে রক্ষা করে? এটা কি ইতিহাসের বস্তুগত সত্যকে প্রতিফলিত করে?
আপনাদের জবাব পেলে আমরা অবশ্যই এই আলোচনাকে সুস্থভাবে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “বদরুদ্দীন উমর সম্পাদিত ‘সংস্কৃতি’ ও মার্কসবাদ

  1. এক টানে পড়ে ফেললাম। এই
    এক টানে পড়ে ফেললাম। এই বিতর্কটায় অংশ নেয়া দরকার, এই আলাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার। আমার মতামত পরে দিব। লেখকের সঙ্গে কিছু দ্বিমত আছে। তবে আগে উমর ভাইদের পক্ষ থেকে বক্তব্য জানতে চাই।

    1. আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য
      আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ। তবে অন্যদের মতামতের আগেই আপনার যেটুকু দ্বিমত আছে বলে উল্লেখ করেছেন, তা প্রকাশ করাটা বাঞ্ছনীয় মনে করি।

  2. ফেসবুকে এ সংক্রান্ত দুটো
    ফেসবুকে এ সংক্রান্ত দুটো মন্তব্য পেলাম। লেখকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

    মন্তব্য : ১ । Murad Morshead
    বহুদিন পৱ এৱকম ফালতু আলোচনা পড়লাম যাকে ৱীতিমতো “ক্লাসিকাল স্তৱেৱ ফালতু ” হিসেবে অভিহিত কৱতে স্বস্তি বোধ কৱব।

    মন্তব্য : ২ । আবিদুল ইসলাম
    এই আলোচনায় ‘সংস্কৃতি’র সাথে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন কিনা জানি না। তবে বদরুদ্দীন উমরের নামের বানান ভুল যদি এড়িয়েও যাই এর মধ্যে আরো অনেক হাস্যকর বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে যা আলোচনার অযোগ্য। মনে হচ্ছে দুই পৃষ্ঠার একটা সম্পাদকীয়তে এমন অনেক কিছুই থাকতে হবে যা মার্কসবাদের সব কিছুকেই কভার করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকা বদরুদ্দীন্ উমরের বিভিন্ন লেখায় অসংখ্যবার উঠে এসেছে। সংস্কৃতির অন্যান্য লেখায়ও আছে। সেসব থেকে চোখ বন্ধ করে রেখে কেবল এই সম্পাদকীয়তেই কেন থাকল না এবং তার অর্থ অন্য লেখাগুলো বাতিল হয়ে গেল এই মতামত গ্রহণযোগ্য নয়। আর সমাজ পরিবর্তনে বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা আলোচনা করা হয়েছে একটা বিশেষ স্তরে। এখানে জনগণের ভূমিকা কোথাও অস্বীকার করা হয় নি। আর বাস্তবতা থেকে চোখ ফিরিয়ে রেখে তত্ত্বের চর্চা করলে এমনটা মনে হতেই পারে। বাস্তব অবস্থার বিশ্লেষণ করে বরং বলা প্রয়োজন বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ভুল কোথায় আছে।

    দ্বিতীয় কথা হলো, ‘সংস্কৃতি’ কোনো মার্কসবাদী পার্টির মুখপত্র নয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের চিন্তাচেতনার লেখকরা লিখে থাকেন, তাদের চিন্তার মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র্যও বিদ্যমান। আর লেখক এটা ইস্টিশনে পোস্ট করে বদরুদ্দীন উমরের মতামত জানতে চেয়েছেন! আমি জানি না বদরুদ্দীন উমরের কিংবা সংস্কৃতি সম্পাদক মণ্ডলির অন্য কারো ইস্টিশনে অ্যাকাউন্ট আছে কিনা যদ্দরুণ তারা এখানে এসে আলোচনায় আগ্রহী হবেন।

    1. ধন্যবাদ দাদা, মন্তব্যদুটোকে
      ধন্যবাদ দাদা, মন্তব্যদুটোকে ফেসবুক থেকে এখানে তুলে আনার জন্য। মুরাদ সাহেবের মন্তব্যের জবাব দেয়ার কিছু নেই। তবে আবিদুল ইসলামের মন্তব্যটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

  3. আবিদুল ভাইকে প্রথমেই অপরিসীম
    আবিদুল ভাইকে প্রথমেই অপরিসীম ধন্যবাদ উমর ভাইয়ের নামের বানান বিভ্রাট ধরিয়ে দেয়ার জন্য। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমি বাস্তবেই আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভুলটা শুধরে নিলাম। কেবল তাই নয়, ইস্টিশন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে আমার নিজের ব্লগ নিকের বানানও কইসঙ্গে শুধরেছি। আগে এটা ছিল ‘সাম্যবাদি’। এখন শেষে দীর্ঘ-ঈকার যুক্ত করেছি।

    আবিদুল ভাইয়ের লেখা আমি দীর্ঘদিন ধরেই অনলাইনে অনুসরণ করে আসছি। তিনি সুসংবদ্ধ রচনা লিখে থাকেন। কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করলে তার সপক্ষে যুক্তি রাখেন। কিন্তু এই মন্তব্যে দেখলাম দায়সারাভাবে তিনি অভিযোগ তুলেছেন কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই। যেমন বলছেন,

    ”বদরুদ্দীন উমরের নামের বানান ভুল যদি এড়িয়েও যাই এর মধ্যে আরো অনেক হাস্যকর বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে যা আলোচনার অযোগ্য।”

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বলা হচ্ছে যে, আমার লেখাটিতে আলোচনার অযোগ্য এমন অনেক বিষয় এসেছে, যা কিনা হাস্যকর। এমনকি উমর ভাইয়ের নামের বানান ভুলটাকেও তিনি ‘হাস্যকর’ বলছেন। ‘আরও অনেক’ শব্দদ্বয় প্রয়োগের মধ্য দিয়ে তাই প্রতিপন্ন হয়। তবে নামের বানান ভুলটা কোনোমতেই হাস্যকর নয় বরং সিরিয়াস একটা ভুল, যে ভুল স্বীকারে আমি অবশ্যই প্রস্তুত। পাশাপাশি আরও অনেক হাস্যকর ও আলোচনার অযোগ্য বিষয়গুলো ঠিক কী, তা জানতে চাই আবিদুল ভাইয়ের কাছে। আর বিষয়গুলো কেন আলোচনার অযোগ্য এবং কেন হাস্যকর তার ব্যাখ্যাও দিবেন। আশা করি, তিনি কেবল দায়সারা অভিযোগেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবেন না, বরং ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে আমাদের পুনর্গঠিত হতে সাহায্য করবেন।

    এরপরে আবিদুল ভাই দুই প্রৃষ্ঠার নিবন্ধের কথা উল্লেখ করেছেন, যদিও তা তিন পৃষ্ঠা। কিন্তু তাতে মার্কসবাদের সমস্ত বিষয় যে আনা সম্ভব নয়, এ বিষয়ে তার সঙ্গে আমিও একমত। কিন্তু আমার প্রশ্নটা হচ্ছে, ৭১ সম্পর্কে এখানে যে ব্যাখ্যা এসেছে তা কি বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে? সেক্ষেত্রে এই লেখাটি যে সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকাকে গুরুত্ব না দিয়ে একাত্তর প্রশ্নে আলোচনা করেছে, তা কি ভুল ধারণা দিচ্ছে না? নাকি অন্যান্য লেখায় এসেছে বলে এই লেখার দুর্বলতাটা ঢেকে যাচ্ছে?

    আর আপনি যে প্রশ্নটা তুলেছেন যে, বুদ্ধিজীবীদের অবস্থান সম্পর্কে ভুলটা কোথায় বলা হয়েছে, সে সম্পর্কে মূল লেখার কয়েকটি বাক্য পুনরায় উল্লেখ করতে চাই- বুদ্ধিজীবীদের ওপর সবকিছুকে নির্ভরশীল করার মাধ্যমে ”রাজনীতির শেষ মীমাংসাটা যে যুদ্ধ কিংবা অস্ত্র, তাকে হাল্কা করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমাজে প্রগতির চাকা ঘোরানোটা যে জনগণের অবদান তাকে অস্বীকার করে একে কেবলই বুদ্ধিজীবীদের কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।” অথচ এই কাজটা করেন মূলত জনগণ।

    আরেকটা বিষয় আমি সামনে এনেছি রাষ্ট্রের চরিত্রের প্রশ্নটি। এটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলাম না, পেলে ভালো লাগত। আর শেষে যা বলেছেন, সেটা কেবলই প্রক্রিয়াগত ব্যাপার। আশা করি, তারা নিজস্ব ফোরামেই এই লেখা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

  4. উমর ভাইরা হয়তো এই লেখাটিকে
    উমর ভাইরা হয়তো এই লেখাটিকে অবমূল্যায়ন করবেন। বলছি, কারণ ওটা তাদের প্র্যাকটিস। নিজেদের তারা বোদ্ধাসঙ্ঘ হিসাবে বিবেচনা করে। উমর ভাই নিজেও এরিস্ট্রোকেসি থেকে বের হতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। কন্সপিরেসি থিওরি তাদের মজ্জাগত। সমালোচনা করলেন তো বলে দিবে, এরা সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট। এটা উমর ভাইদের দীর্ঘ দিনের প্র্যাকটিস।

    সাম্যবাদী’র আলোচনাটা ভালো হয়েছে। উমর ভাইয়ের সাম্প্রতিক লেখাগুলোতে শ্রেণি প্রশ্নে দুর্বলতা বেশ প্রকটভাবে দেখা যায়। সংগঠনটাও আদ্যোপান্ত মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবিদের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শ্রমিক কৃষকের লাইন বা নেতৃত্ব সেখানে কর্তৃত্ব করেনা। ফলে সমালোচনা তারা সহজভাবে নিবে মনে হচ্ছেনা।

    লেখাটা পড়ে মনে হয় এটা হাসিব ভাইয়ের লেখা। নিজে যেমন বুদ্ধিজীবী, নিজের চারপাশে যেমন মানুষদের দেখেন, তাদের নিয়েই যে তার জগত এটা লেখা থেকে বোঝা যায়। অনুশীলনে মার্ক্সবাদ থাকলে রাষ্ট্র নিয়ে অমন কথা বলতে পারতোনা।

    কেন্দ্র হিসাবে উমর ভাইরা বেশ পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও অভিজাত হওয়ায় তাদের সমালোচনা কমই হয়। লেখক সাহস নিয়ে এইভাবে সুস্থ সমালোচনা করায় তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

  5. ইতোমধ্যে তা ঘটতে শুরু করেছে।
    ইতোমধ্যে তা ঘটতে শুরু করেছে। মুরাদ মোরশেদের প্রতিক্রিয়াটা তেমনই। তিনি লিখেছেন, //আনিস ৱায়হান , অতি নিম্ন মানেৱ এই লেখায় আপনাৰ বাহাসেৱ আমন্ত্ৰণে আপনাৱ বালকসুলভ যে উচ্ছাস লক্ষ্য কৱা যাচ্ছে , আপনাৱ একজন দুৱেৱ শুভাকাংক্ষী হিসেবে আমাৱ খাৱাপ লাগছে । দায়িত্ব নিয়ে আমি কিছু বলাৱ এনাৱজি নেই। মি আবিদ বলেছেন , তাৱ দশা দেখতে পাচ্ছি। তাকে সম্ভবত আৱেকটি ফালতু আলোচনাৱ উত্তৱ দিতে হবে।ওদিকে বিশেষ কৱে লেখকেৱ উত্তৱ এৱ অন্ধ কনফিডেন্স আমাকে আসল বালকেৱ দেখা মিলিয়েছে। ফিলিং সুখী ! 🙂 বিদায় এভৱিওয়ান ।//

    এটা খুবই দুঃখজনক যে সমালোচনা হওয়ার পরে তার জবাব না দিয়ে তাকে ফালতু, নিম্ন মান, এসব শব্দ দ্বারা চিত্রিত করা হচ্ছে। বাস্তবে যদি এটা নিম্ন মানের হয়েও থাকে তাহলে কি মার্কসবাদীরা সমালোচনাকে এভাবে বাতিল করে দিবে?

    যার সমালোচনা হয় তার সতর্কতা বেশি জরুরী। সে দিক থেকে দেখলে আপনার বক্তব্য একেবারেই আলোচনামুখী নয়, গঠনশীল নয়, ব্যক্তিতাবাদের প্রতিফলন মাত্র। কারণ এটাকে ব্যক্তিমত হিসেবে দেখা হচ্ছে, ভাবা হচ্ছে না যে, দুর্বল মত বললেও এরকমটা আরও অনেকেই ভাবতে পারেন, সুতরাং একে মত হিসাবে দেখা ও খন্ডনের প্রয়োজনীয়তা উদ্ভূত হওয়ার কথা।

    তা তো নয়ই বরং মুরাদ মোরশেদ আমাকে বালক বানিয়ে গেলেন। আমার জানার ইচ্ছা, বালকসুলভ উচ্ছ্বাস কে দেখালো এটা জরুরী নাকি সুনির্দিষ্ট মতামতের বিপরীতে সুনির্দিষ্ট জবাবটা জরুরী?

    সমালোচনা খুবই মৌলিক একটি বিষয়। সমালোচনার পরে সমালোচিতের প্রতিক্রিয়া খুবই গুরুত্বপুর্ণ। ভুল থাকলে তা মেনে আত্মসমালোচনা করাটা বিপ্লবী। আর ভুল না মেনে সমালোচনাকে বিরোধিতা বা খারিজ করাটা ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়া। আর সমালোচনার বিপরীতে ভিন্নমত থাকলে দৃঢ়ভাবে তার পক্ষে দাঁড়ানোটা বিপ্লবী। তা না করে আলোচনাকে দূরে ঠেলে দেয়াটা উদারতাবাদ।

    1. ন্যায্য জবাবই দিয়েছেন। নিচের
      ন্যায্য জবাবই দিয়েছেন। নিচের কথাগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।

      ”সমালোচনা খুবই মৌলিক একটি বিষয়। সমালোচনার পরে সমালোচিতের প্রতিক্রিয়া খুবই গুরুত্বপুর্ণ। ভুল থাকলে তা মেনে আত্মসমালোচনা করাটা বিপ্লবী। আর ভুল না মেনে সমালোচনাকে বিরোধিতা বা খারিজ করাটা ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়া। আর সমালোচনার বিপরীতে ভিন্নমত থাকলে দৃঢ়ভাবে তার পক্ষে দাঁড়ানোটা বিপ্লবী। তা না করে আলোচনাকে দূরে ঠেলে দেয়াটা উদারতাবাদ।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 57 = 58