শিক্ষা ব্যবস্থা : সমস্যা কারিকুলামে

প্রশ্ন উঠেছে পাঠ্যপুস্তকের মান নিয়ে। অনেক শিক্ষাবিদই মনে করছেন যে, এখন বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছালেও সেই বইয়ের অভ্যন্তরে যা থাকছে, তা মানসম্পন্ন নয়। প্রায় প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকেই থেকে যাচ্ছে নানা ভুল ও অসঙ্গতি। পাশাপাশি পাঠ্যবিষয় বা কনটেন্টের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমানে শিক্ষা কাঠামোতে যে কারিকুলাম অনুসরণ করা হচ্ছে, তাতেই রয়েছে বিস্তর গলদ।

শিক্ষাকে উপার্জনমুখী করে ফেলায় পাঠ্যপুস্তকে এর ছাপ পড়েছে। যা পড়ানো হচ্ছে তা শিক্ষার্থীর মেধা, মনন, নৈতিকতা ও সামাজিক সত্তার যথার্থ বিকাশে সহায়ক নয়। শিক্ষার্থীদের যথার্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে বছরের প্রথম দিনে পাঠ্যবইয়ের চেয়েও বেশি জরুরি মানসম্পন্ন বই ও মানসম্পন্ন শিক্ষা। কিন্তু তা নিশ্চিত হবে?

শিক্ষা সংকট কতখানি
শিক্ষা বিষয়ক আলোচনায় বর্তমানে জাতি দু’ভাগে বিভক্ত। একভাগ মনে করছে, এ সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থার বিরাট অধঃপতন ঘটেছে। আগে যেখানে নকল ছিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা, এখন সেখানে শিশু থেকে বড় সবার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয়কেন্দ্রিক পড়ালেখার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন মিলছে। ফলে শিক্ষার্থীদের অনুশীলন যাচাইয়ের জন্য এতদিনের দাঁড়ানো যে পরীক্ষাগ্রহণ ব্যবস্থা, তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষার হার বাড়ানোর সরকারি উচ্চাভিলাষ। জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অন্যতম একটি বিষয় ছিল শিক্ষার হার বৃৃদ্ধি তথা দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। সরকার সেই লক্ষ্য পূরণের নিমিত্তে পরীক্ষায় পাসের হার বাড়াতে বদ্ধপরিকর ছিল বলে মনে করেন একাধিক শিক্ষাবিদ। যার ছাপ পড়েছে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে। শিক্ষকরা নানা সময় অভিযোগ করেছেন খাতা দেখার সময় পাসের হার বাড়ানোর বিষয়ে পরীক্ষকদের নির্দেশনা দিয়ে দেয়া হয়। এমনকি কম মার্কস দেয়ায় অনেক শিক্ষকই হেনস্থার মুখোমুখি হয়েছেন, হচ্ছেন এবং এটা একটা সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রাজধানীর একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষয়িত্রী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘আমি মাধ্যমিক পরীক্ষার অঙ্ক খাতায় সর্বোচ্চ মার্কস দিয়েছিলাম ৯৩। এজন্য আমাকে শাসানো হয়। খাতা ফেরত দিয়ে জানানো হয় যে, পূর্ণ মার্কস অর্থাৎ ১০০ অন্তত কয়েকজনকে দিতেই হবে।’ রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, ‘পরীক্ষার খাতা দেখা আর না দেখা একই কথা। আমাকে বলে দেয়া হয়েছিল কেউ যেন শূন্য না পায়। যে খাতায় কয়েক পৃষ্ঠা লিখেছে, তাকে পাস করিয়ে দেয়ার কথাটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলে দেয়া হয়েছে।’

এই অবস্থা বর্তমানে সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। মেধার মূল্যায়নে বর্তমান পরীক্ষাগ্রহণ পদ্ধতি কাজে লাগছে না। কিন্তু শিক্ষকরাও এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারছেন না। বরং সরকারের অভিযোগ, শিক্ষকদের লোভের কারণেই অনেকক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা পদ্ধতির সংকট ও খাতা মূল্যায়নে সরকারি নির্দেশনাই কেবল নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই নানামুখী সংকটে জর্জরিত। সরকারি পদ্ধতির শিক্ষা কাঠামো, বেসরকারি পদ্ধতির শিক্ষা কাঠামো, মাদ্রাসা শিক্ষা কাঠামো, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা কাঠামো, বহুমুখী এ ব্যবস্থাপনার সংকট দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। গ্রামে শিক্ষাদান পদ্ধতি যে শহরের তুলনায় অত্যন্ত মানহীন সেই আলোচনাও কম হয়নি।

সম্প্রতি বিশ্বব্যবস্থার অধীন হিসেবে এ দেশেও উগ্রপন্থা ও অসহিষ্ণুতার বিস্তার প্রকট রূপ ধারণ করেছে। পাশাপাশি লাগাতার শিশু হত্যা, নানা পদ্ধতির নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও নারীর চলাফেরার ওপর প্রতিবন্ধকতা, দিনেদুপুরে অপরাধ অথচ মানুষের নীরবতা, সমাজে অন্যায়-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অভাব ও যথেচ্ছ লুটপাটের এক কালো সংস্কৃতি যেন দেশের সর্বত্র চেপে বসেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের প্রশ্ন উঠলেই প্রথমে আসে জাতির মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রসঙ্গ। যা কিনা অনেকখানি গড়ে ওঠে শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়েই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা একদল চাকুরে কর্মী উৎপাদন ব্যতিরেকে সমাজকে আর কিছু দিতে পারছে না। শিক্ষিত সমাজের মধ্যে নৈতিকতার বালাই নেই। গৃহকর্মীর ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার, শিশুকে পিটিয়ে হত্যা, শিক্ষাঙ্গনে নারী নিপীড়ন, এমনকি ভিন্নমতের মানুষকে কুপিয়ে হত্যা ও দেশজুড়ে অবাধ লুটপাট, এর সবকিছুর সঙ্গে উচ্চশিক্ষিতদের সম্পৃক্ততা লক্ষণীয়। এ থেকেই প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষাব্যবস্থা কি তাহলে অকার্যকর হয়ে পড়েনি? সমাজে আজ গণমুখী চিন্তা ও সর্বজনীন ফলাফলের যে সংকট, সর্বত্র যে দখলদারিত্ব এবং অনৈতিকতার প্রতিযোগিতা তা কি প্রমাণ করছে না যে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মানুষ করে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে? দেশে বর্তমানে অধিকাংশ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে বিদেশিরা। এটাও শিক্ষাব্যবস্থার একটা সংকট হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কলা, মানবিক ও শিল্পে অনাগ্রহ এবং বাণিজ্য ও উপার্জনমুখী বিষয়গুলোর ব্যাপক বিস্তারও গুরুত্বপূর্ণ এক সমস্যা। সংস্কৃতি বিনির্মাণেও শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকট। এমনকি সামাজিক অসাম্য ও বৈষম্য দূরীকরণ ও নানা মতের বিকাশের প্রয়োজনীয়তাও শিক্ষার্থীদের বোঝাতে পারছে না এই শিক্ষাব্যবস্থা। ফলে সমাজে অন্যায়-উগ্রতা শক্ত ভিত্তি পেয়ে গেছে। যার ফলে ক্রমশ শিক্ষা কাঠামোর আমূল রূপান্তরের দাবি জোরালো হচ্ছে, যার মধ্যে পাঠ্যপুস্তকের মানই কেবল নয়, শিক্ষকের মান ও দক্ষতা এবং এই খাতে সত্যিকারের বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টিও ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে।

শিক্ষার এই সঙ্কট, সমাজের আজকের এই দৈন্য চেহারা সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, ‘শিক্ষার প্রধান সমস্যা তিনটি। প্রথমত বাণিজ্যিকিকরণ। শিক্ষা এখন পণ্য হয়ে গেছে। আর পুঁজিবাদী সমাজে মুনাফাটাই যেহেতু মূল লক্ষ্য তাই পণ্যে ভেজাল হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। শিক্ষা নামক পণ্যটিতেও ওই ভেজালটা ঢুকে গেছে। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রের গুরুত্বহীনতা। রাষ্ট্র যে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয় না, শিক্ষাই যে জাতির ভবিষ্যতের ভিত্তি, এটা যে রাষ্ট্র আমলে নেয় না, তার প্রমাণ শিক্ষকদের সাম্প্রতিক আন্দোলন। এতগুলো ক্যাম্পাস বন্ধ অথচ রাষ্ট্র ভ্রƒক্ষেপও করছে না। শিক্ষকরা তো কেবল তাদের বেতন নয়, আন্দোলন করছেন মর্যাদা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট আরও অনেক অধিকারের প্রশ্নেও। তৃতীয় সমস্যাটা হচ্ছে তিন ধারার শিক্ষা। এটা রাষ্ট্র বাড়াচ্ছে। এরকম তিন ধারার শিক্ষা যত বাড়বে, বৈষম্য তত বাড়বে। সমাধানের প্রশ্নে গেলে বলব, সংস্কারের সময় শেষ হয়ে গেছে। এই শিক্ষাব্যবস্থাকে সংস্কারের আর কোনো সুযোগ নেই। এখন সমাজের আমূল রূপান্তর দরকার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের এখন আমূল পরিবর্তন ছাড়া যে কিছু সঠিক হবে না, এই সত্যটা মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে।’

ভুলের নজির আলোচনায়
এ বছর দেশব্যাপী প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ৭২৮ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২টি নতুন বই। বছরের প্রথম দিনে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের উৎসবটা সরকার বেশ উৎসাহ নিয়ে করলেও এর পরের ধাক্কাটি তারা একেবারেই সামলাতে পারেনি। বইয়ের ছাপা, কাগজ ও বিষয়বস্তুর মান আগের তুলনায় কিছুটা বদলালেও ভুল তথ্য, মুদ্রণ ভুলসহ নানা ধরনের ত্রুটি ও অসঙ্গতি আগের মতোই রয়ে গেছে। যা দূর করা সম্ভব ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। এ বছর শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোর কয়েক দিনের মাথায় পাঠ্যপুস্তকের ভুলের নজির সবার সামনে তুলে ধরেছে শিক্ষা আন্দোলনের কর্মী ও অভিভাবকরা।

মাধ্যমিকের ৭ম শ্রেণির বাংলা বইয়ে সুকুমার রায়ের কবিতা নিয়ে যে অনাকাক্সিক্ষত প্রেক্ষিত সৃষ্টি করা হয়েছে তা কারোই কাম্য নয়। সপ্তবর্ণা নামক বাংলার বইটিতে ৬৯ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে সুকুমার রায়ের ‘আনন্দ’ কবিতাটি। কিন্তু সেটি কবি যেভাবে লিখেছিলেন সেভাবে নয়, বরং ভয়াবহ এলোমেলোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আগের বাক্য পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যা কিনা বইটির সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত কেউই দেখতে পাননি এবং এই ভুলসমেতই বইটি শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেছে। এরকম ভুল ও আরও অনেক রকমের ভুল প্রায় সব বইয়েই রয়েছে বলে অভিভাবকরা মতামত প্রকাশ করেছেন।

পুরনো ঢাকার অধিবাসী আব্দুল কুদ্দুস একটি স্টেশনারি দোকানের মালিক। দোকানটি তার ঘরের লাগোয়া। নিজের ছেলে মেয়েকে তিনি নিজেই পড়ান। আব্দুল কুদ্দুস জানান, আগে তিনি কিছুকাল শিক্ষকতা করেছিলেন। বিয়ের পর থেকেই ব্যবসা করছেন, কিন্তু সন্তানদের এখনও নিজেই পড়ান। তিনি বলেন, ‘প্রায় সব বইতেই ভুল আছে। আমার এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়েটি এবার অষ্টম শ্রেণিতে উঠেছে, আর ছেলেটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে। মেয়েকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ানোর সময় বইয়ে যেসব ভুল দেখেছি, তার অনেকগুলোই দেখলাম নতুন বইয়েও রয়ে গেছে। সময় পেলে, এ নিয়ে বসতে পারলে সুনির্দিষ্টভাবে বিস্তারিত বলতে পারব।’

আরেকজন অভিভাবক প্রকৌশলী আসলাম হোসেন জানান, ‘পাঠ্যবইয়ের ভুল সন্তানদের পড়াতে গিয়ে আমি নিজেই দেখতে পাচ্ছি। নবম-দশম শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের ম্যাথমেটিকসের নতুন ও পুরনো বই মিলিয়ে দেখলাম। ২০১৩ এবং ২০১৬ সালের বইয়ে আমি একই ভুল দেখতে পেয়েছি অনেক জায়গায়। নমুনা হিসেবে বলতে পারি, পৃষ্ঠা চারের ২২তম বাক্যে শর্ত ভুল দেয়া ছিল, সেই ভুল এখনও আছে। ৫৯ পৃষ্ঠায় ৬ নং সূত্রটি ভুল দেয়া আছে। ২২০ পৃষ্ঠার ৬ নং অঙ্কটি ভুল। ১৭৬ পৃষ্ঠায় ১৬ নং অঙ্কটি অসম্পূর্ণ। ১৬৯ পৃষ্ঠার ১, ৫ ও ৭ নং অঙ্ক ভুল। ১৫৬ পৃষ্ঠার ২ নং উদাহরণের সমাধান ভুল। এরকম আরও অনেক ভুল আছে প্রায় সব বইয়েই। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি দেখছি শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা এখন ভয়াবহতম। যা পড়ানো হচ্ছে, তাতে করে মানুষ হিসেবে যে একজন শিক্ষার্থীর বিকাশ হবে তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আবার সন্তানদের কথা শুনে বুঝি, অনেক শিক্ষক তাদের পড়াতে পারেন না। ধর্ম, আইসিটির মতো বিশেষ বিষয়গুলোর মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব সর্বত্রই। অল্প বয়সের শিক্ষার্থীদের কাঁধে বইয়ের বোঝাও বিরাট। শিক্ষকরাও সময় দেন না বা অনেক কিছু আদৌ বোঝেন না। আগে মেঘনাদবধ কাব্য আমাদের পড়ানো হতো অনেক সময় নিয়ে। এখন শুনি যে, স্যাররা নাকি একদিনের আলাপেই সেটা শেষ করে দেন। এতে শিক্ষার্থীরা যে কিছু বোঝে না তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। প্রকৌশলসহ বিশেষায়িত বিষয়গুলোতে মেধাবী ছাত্রের সংখ্যা কমছে। এটা শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার ফল বলে মনে করি।’

পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের সঙ্গে দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ও বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকেন। বইয়ের শুরুতে পদভারী এসব সম্পাদকদের নাম দেয়া থাকলেও বইয়ের মান দেখলেই অনুমান করা যায় যে, তারা আসলে এই বইগুলো সম্পাদনা করা বা খুঁটিয়ে একবার দেখে দেয়ার কাজটিও করেন না। তাই যদি হতো, তাহলে এত ভুল পাঠ্যবইয়ে থাকত না। এ বিষয়ে রাজধানীর কাফরুলে অবস্থিত সরকারি ভাষানটেক কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মোহন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন, এ বিষয়ে আমি ১৯৯৭ সাল থেকে প্রতিবাদ স্বরূপ লিখে আসছি। গ্রন্থ-আকারে সেগুলো প্রকাশও হয়েছে। ইউজিসি পুরস্কারও দিয়েছে আমাদের একটি যৌথ-গবেষণাকর্মকে। এসব কাজের জন্য একবার আমাকে পাঠ্যবই সম্পাদনা ও পরিমার্জনা করার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটিতে রাখা হয়েছিল, ২০০০ সালের দিকে। সেই তখন থেকেই বুঝেছি পাঠ্যবইয়ের মানের উন্নয়ন বা ভুলের নিরসন ঘটবে না। কারণ এই বই যারা নির্মাণ করেন, সম্পাদনা করেন, পরিমার্জনা করেন বা মাঠ-পরীক্ষা করেন, এবং যে প্রক্রিয়ায় তারা কাজগুলো করেন, খোলাখুলিভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, তারা জানেন এগুলো সব ছোটলোকের বাচ্চাদের জন্য হচ্ছে, তাদের বাচ্চাদের জন্য নয়। কাগজে-কলমে বাধ্য করা হলেও, বা সত্যিই যদি এগুলো তাদের ছেলেমেয়েদের ঘাড়ে চাপানো হয় তবু তারা জানেন, এসব তারা পাশে ফেলে রাখতে সক্ষম। তাদের সন্তানদের জন্য রয়েছে ভিন্ন ধরনের শিক্ষা, ভিন্ন ধরনের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই। বিশ বছর আগের চিত্র আর বর্তমান চিত্রের মধ্যে গুণগত পার্থক্য নেই। আগে অধিকাংশ বই একরঙা ছিল, এখন চার রঙা হয়েছে, এটুকুই।

কারিকুলামের সংকট
অনেক বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষা আন্দোলনের কর্মী বইয়ে মুদ্রণ প্রমাদ ও তথ্য ভুলের বিষয়টির চেয়েও যা পড়ানো হচ্ছে তার মান নিয়ে অত্যধিক চিন্তিত। তারা মনে করেন শিক্ষাব্যবস্থাটা নির্ভর করছে সরকার প্রণীত জাতীয় কারিকুলামের ওপর। যার নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠ্যবই রচিত হচ্ছে। এই কারিকুলামে যদি সংস্কার না আনা যায়, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট মেটানো যাবে না। শিক্ষা আন্দোলন কর্মী, লেখক ও গবেষক রাখাল রাহা জানান, যখন থেকে শিক্ষার উন্নয়নের বড় প্রকল্পগুলো গৃহীত হতে শুরু করল, কারিকুলাম তৈরি হতে শুরু করল, তখন থেকে পাঠ্যপুস্তকের উন্নয়ন কিছুটা অবশ্যই হয়েছে, তবে মানের দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখব অবনমন ঘটেছে বেশি। ১৯৮৮ সালের আগে আমাদের কোনো কারিকুলাম ছিল না।

দেশ স্বাধীনের পর আমাদের এখানে পাকিস্তান আমলের পাঠ্যপুস্তকগুলো অনেকদিনই চলেছে। আমার মনে আছে, চান তারা পতাকায়, আয় তোরা ছুটে আয়- এই কবিতাও দেশ স্বাধীনের পর পড়ানো হতো। অর্থাৎ তখনো নতুন বই ছাপা সম্ভব হয়নি। এরপর বঙ্গবন্ধুর আমলেই পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের একটি কমিটি হয়। তারা নতুন বই প্রণয়ন করে জিয়াউর রহমানের আমলে। তখনকার নতুন পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। তখন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনাদের নিয়ে অনেক লেখা পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। আমার মনে আছে, শহীদ রুমি যে যুদ্ধে যাওয়ার আগে মায়ের কাছে অনুমতি নিতে যান, তা একটি গল্পের মাধ্যমে তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে আনা হয়েছিল। এই বইগুলোই কারিকুলাম তৈরির আগ পর্যন্ত চলেছে।

এরশাদের আমলে ইউনিসেফের তহবিল এলো, কারিকুলাম হলো, বাংলা বানানের প্রমিতকরণ, এরকম আরও অনেক কিছুই করা হলো। আমাদের শিল্পী-সাহিত্যিক, বিশেষজ্ঞ-বুদ্ধিজীবীরা তখন এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই কারিকুলামের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে শুরু হয় বই রচনা। তখন থেকেই পাঠ্যপুস্তকের মূল জায়গাটা থেকে মনোযোগ সরে গেছে। বিদ্যাসাগররা যখন বই লিখেছেন, তখন কারিকুলাম ছিল না। কিন্তু মূল বিষয় ছিল শিক্ষা, নীতি ও মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা। পাকিস্তান আমলে কারিকুলাম না থাকলেও এসব নৈতিক বিষয় ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল পাকিস্তান আদর্শ ও তার সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় বিষয়াদি। বাংলাদেশ আমলেও কারিকুলামের আগ পর্যন্ত এসব নৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছিল। কিন্তু কারিকুলাম প্রণয়নের পর মনোযোগের জায়গাটা শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার বিষয়গুলো থেকে সরে গেল। আমার মনে আছে, ১৯৯০ সাল অবধি তৃতীয় শ্রেণির আগ পর্যন্ত কোনো ইংরেজি বই ছিল না। অর্থাৎ কেবল পাঠ্যবিষয়ের মান নয়, ভাষার দিক থেকেও একটা আগ্রাসন এই নতুন কারিকুলামের প্রেক্ষিতে যোগ হলো।

নতুন কারিকুলামে মূল মনোযোগ দেয়া হলো যোগ্যতা-দক্ষতাকে। মুক্তবাজারের উপযোগী মানুষ গড়ে তোলার দিকে। আদর্শ, নৈতিকতার বিষয়গুলো পাঠ্যবিষয় থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে গেল। শিক্ষার উদ্দেশ্য হয়ে গেল কেবলই উপার্জন। দক্ষতা-যোগ্যতার বিষয়টি যখন প্রাধান্যে এলো, বইও সেভাবে লেখা হতে লাগল। তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশ দরকার, আইসিটি নামে একটা বই ঢুকিয়ে দেয়া হলো। শিল্পের বিকাশ দরকার, চারু-কারু একটা বই করে দেয়া হলো। এরকম শরীরচর্চা থেকে শুরু করে যে যোগ্যতা দরকার তার সঙ্গে যুক্ত বই লেখা হয়ে যাচ্ছে। পুরো বিষয়টি একেবারেই যান্ত্রিক। এই যে দক্ষতা অর্জনকে শিক্ষার ভিত্তি করা হলো, তাও যান্ত্রিকভাবে- এটারই ফলাফল হলো সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার আজকের এই দুর্দশা।

পাঠ্যবইয়ের ভুল ও অন্যান্য বিষয়াদিও এর সঙ্গে যুক্ত এবং এগুলো ধারাবাহিক। এই যে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এটা এরকম যে, ধরুন একজন পঞ্চম শ্রেণি অবধি পড়ালেখা করল। সে তাহলে পড়তে পারবে, পোস্ট অফিসে গিয়ে টাকা পাঠাতে পারবে, স্বাক্ষর করতে পারবে, দরখাস্ত লিখতে পারবে। এরকম দেখা যাবে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়লে তার আরও কিছু দক্ষতা তৈরি হবে। আমাদের কারিকুলাম শুধু এই দক্ষতার দিকেই নজর দিচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থী সত্যিকারের মানুষ হিসেবে বিকশিত হচ্ছে কিনা, তার মানবিক গুণগুলো প্রস্ফুটিত হতে পারছে কিনা কারিকুলাম সেদিকে নজর দিচ্ছে না। কারিকুলামের এই সংকটে শিক্ষক আক্রান্ত, পাঠ্যপুস্তক সম্পাদক আক্রান্ত, পাঠ্যপুস্তকের বিষয় আক্রান্ত, ফলস্বরূপ গোটা সমাজ আক্রান্ত। আমাদের এখন এই কারিকুলামকে কিভাবে মনুষ্য সমাজের বিকাশের উপযোগী করে গড়ে তোলা যায় সেদিকে মূল নজর দিতে হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষাবিদরা অনেকেই মনে করেন, বর্তমানে পাঠ্যপুস্তকে যেসব নিবন্ধ ও কবিতা যুক্ত হয়, তা মানস গঠনে যতটুকু ভূমিকা রাখতে সক্ষম তাও অর্জন করা যাচ্ছে না। কারণ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা নেই। কবিতা বোঝা, বা সাহিত্যের মূলভাব অনুসরণ করা কিংবা ইতিহাসকে, জগৎকে উপলব্ধি করাটা শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কারণ তারা পাস করার জন্য, ভালো ফলের জন্য ব্যক্তিগত শিক্ষকের নির্বাচিত ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে এমন অংশগুলোই কেবল পড়ছে। পুরো পাঠের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে না। শিক্ষকরাও বিদ্যালয়ে ছাত্রদের এত সময় দিতে পারছেন না। তাদের আয় অনেক কম। বড় শহরগুলোতে টিকে থাকার জন্য তাদের আলাদাভাবে ছাত্র পড়াতে হয়। এসব মিলিয়ে পাঠ্যপুস্তকে যতটুকু আছে, ততটুকুও শিক্ষার্থীদের দেয়া যাচ্ছে না।

গবেষকরা দাবি করেছেন, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে গেলে বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে একমুখী যদি এখনই নাও করা যায়, মৌলিক কিছু বই সব ধারায় একই হতে হবে। কারিকুলামে হাত দিতে হবে। সৎ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক গড়ে তোলার নীতির প্রতিফলন তাতে থাকতে হবে। সরকারি বিদ্যালয় বাড়াতে হবে। বেসরকারি বিদ্যালয়কে সরকারি বিদ্যালয়ের সমান সুযোগ-সুবিধায় আনতে হবে। শিক্ষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাঠ্যবই এমনভাবে করতে হবে যেন এর জন্য আলাদা সহায়িকার দরকার না পড়ে। ভাষার বিনির্মাণ, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত বিষয়াদিকে ধারণের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সর্বোপরি সর্বজনের শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। প্রতিবছর শিক্ষায় যে বিরাট বরাদ্দ দেখানো হয়, তার বড় অংশ সামরিক শিক্ষা খাতে চলে যায়, বাকিটুকুর বেশিরভাগ ব্যয় হয় উচ্চশিক্ষায়। কিন্তু প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের মতো বুনিয়াদি স্তরে বরাদ্দের অভাব প্রকট।

এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘আমি এ মন্ত্রণালয়ে এসেছি অল্পদিন হলো। তার মধ্যেই অনেক কিছু বুঝছি। সুকুমার রায়ের কবিতা ও পাঠ্য বইয়ের ভুল দেখার জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি করা হয়েছে। আমরা তাদের সুপারিশ শুনব। দায়ীদের জবাবও শোনা হবে। তবে এখনই কারিকুলামে কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা সরকারের নেই। যদিও আমরা মনে করি, দেশপ্রেমিক, নৈতিক ও সৎ নাগরিক গড়ে তুলতে পারবে এমন একটা শিক্ষা কাঠামো গঠন করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। এ মুহূর্তে আমরা শিক্ষকদের মান উন্নয়নে জোর দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে সব লক্ষ্য অর্জনই সম্ভব হবে মনে করি।’

শিক্ষার উদ্দেশ্য সুসভ্য মানুষ গড়ে তোলা, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এরকম অনেক প্রবাদই চালু আছে সমাজে। কাগজে-কলমে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকেও হয়তো ইতিবাচক হিসাবে কেউ কেউ দেখাতে পারেন। কিন্তু আজ বাংলাদেশের সমাজ ও বিশেষ করে শিক্ষিত সমাজ যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা প্রমাণ করছে যে, শিক্ষার যে মহান উদ্দেশ্যের কথা আমরা বলে বেড়াই, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিলছে না।
অনেক সংকটের কথাই আলোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঠিক কোথায় হাত দিতে হবে, তাও আলোচনায় আসছে। সেই বিষয়গুলোতে নজর দেয়া গেলে এবং এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হলে হয়তো আস্তে আস্তে শিক্ষার এই অবনমনের ধারা রোখা যাবে। কিন্তু তা করা গেলেও, যে প্রজন্ম ৯০ থেকে আজ অবধি এই অগোছালো শিক্ষাপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে, সমাজটাকে তারা ততদিনে কোথায় নিয়ে দাঁড় করবে তা চিন্তার বিষয়। তার চেয়েও দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, আদৌ সরকার ও জনগণ কবে বুঝবে যে, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল রূপান্তর এখনই দরকার! কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, সরকার শিক্ষার এই অবনমন তো স্বীকারই করছে না! তাহলে এ অবনমন রুখবে কে! এই প্রশ্নটা এখন সবার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “শিক্ষা ব্যবস্থা : সমস্যা কারিকুলামে

  1. খুবই গুরুত্বপপূর্ন লেখা।
    খুবই গুরুত্বপপূর্ন লেখা। শিক্ষার স্ট্রাকচারের গোড়ায় গলদ,তাই ভার্সিটি লেভেলে এসে ধস খাবে বলাই বাহুল্য। শুধু A+ এর মানদন্ডে সব কিছু বিচার করা যায় না। কারিকুলাম ছাড়াও আরো সমস্যা,কনটেন্ট অনেক কিন্ত ইন্টারেক্টিভ কিছু নাই। আর আমার মতে কারিকুলামে নৈতিক ও কারিগরি দুইটাতেই প্রাধান্য দেয়া উচিত। থিওরি থেকে প্রাকটিকেলে বেশি জোর দেয়া উচিত,মুখস্থকরণ এমনিতেই কমে যাবে। লেখককে ধন্যবাদ।

    1. অসংখ্য ধন্যবাদ মূল্যবান
      অসংখ্য ধন্যবাদ মূল্যবান মতামতের জন্য। আপনাকে ইদানীং ব্লগে কম দেখি। আপনারা একটু সময় দিলে তো ব্লগের পরিবেশটা সুস্থ থাকে।

  2. অনেক সংকটের কথাই আলোচনা করছেন

    অনেক সংকটের কথাই আলোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঠিক কোথায় হাত দিতে হবে, তাও আলোচনায় আসছে। সেই বিষয়গুলোতে নজর দেয়া গেলে এবং এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হলে হয়তো আস্তে আস্তে শিক্ষার এই অবনমনের ধারা রোখা যাবে।

    আমি তা মনে করি না। কারণ এই সরকার ও এমনকি বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থাই আজকে শিক্ষার এই দুরবস্থা তৈরি করেছে। যা আপনিও উল্লেখ করেছেন। শিক্ষাকে মুনাফার হাতিয়ার যারা করেছে, সেই পুঁজিবাদীদের বিনাশ না করা অবধি এই সমস্যা সমাধান হবে না। এই ব্যবস্থার অধীনে শিক্ষার সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

25 − 24 =