গগনবিদারি চিৎকার আর ভিডিও ফুটেজে ফটিকছড়ির নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

ফটিকছড়ি। এই নামটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় জামাত শিবির হেফাজতের কিছু রক্তখেকোর চেহারা। এই নামটি মনে করিয়ে দেয় ১১ এপ্রিলের জামাত-শিবির-হেফাজত কর্তৃক সংঘটিত ভয়াবহ, নির্মম ও নৃশংস সন্ত্রাস ও হত্যাযজ্ঞের কথা। তালেবানীয় কায়দায় একদল বেজন্মার অবিশ্বাস্য রকমের ভয়াবহ নৃশংসতা। ভুজপুর ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ নম্বর কক্ষ। ওইদিন এই কক্ষেই হয়েছে রক্তের হোলি খেলা।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নারায়ে তাকবির স্লোগান দিয়ে স্কুলকক্ষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটানো হচ্ছে। গগনবিদারী চিৎকারে ভারী হয়ে উঠেছিল ওইদিন ফটিকছড়র আকাশ বাতাস। যারাই এ পর্যন্ত ভিডিও ফুটেজগুলো দেখেছে তাদের মুখে একটাই কথা এরা মানুষের সন্তান হতে পারে না।

জামাত-শিবিরের ১০ নেতার তাণ্ডবে ৫ নম্বর কক্ষেই মারা গেছে ছাত্রলীগের দুই কর্মী ফোরকান ও রুবেল। একই কক্ষে গুরুতর আহত হয়ে প্রাণ হারান আওয়ামী লীগের আরেক কর্মী ফারুক ইকবাল বিপুল। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ছাত্রশিবির ক্যাডার তৌফিক ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দিতে হাতের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছে ছাত্রলীগ নেতাদের। অসহায় গ্রামবাসীর কেউ দেখছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কেউ বা মোবাইলে তুলছে নৃশংসতার ছবি।

শুধু তৌফিক নয়, হত্যাকাণ্ডের ফুটেজে এমন ভয়ঙ্কর রূপে দেখা গেছে জামায়াত-শিবিরের ১০ নেতাকর্মীকে। এদের কেউ সাধারণ মানুষের ভেতরে ঢুকে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিচ্ছে মোটরসাইকেলে, কেউ বা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে হামলার জন্য প্ররোচনা দিচ্ছে গ্রামবাসীকে, কেউ বা কিরিচ কিংবা লাঠি নিয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে হামলার।

ফটিকছড়ির নারকীয় তাণ্ডবের পরিকল্পনা হয়েছে অনেক আগেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের ১০ নেতাকর্মীর ওপর। এদের মধ্যে আছেন দাঁতমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিব আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও ভুজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিউল আলম নূরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা নূর মো. আলকাদেরী, দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার তৌফিক, বেলাল, লোকমান, সাদ্দাম, সেকান্দর ও কালাইয়া। ভুজপুরের জামায়াতঘেঁষা বিএনপি নেতা নুরুল আলম আজাদও ছিলেন হামলার নেতৃত্বে। এদের মধ্যে চার-পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ফটিকছড়িতে হামলার আগের দিনই ওয়েবপেজের মাধ্যমে গুজব ছড়ায় জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াওয়াচ বাংলাদেশ নামক একটি ওয়েবসাইট। ১০ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৪ মিনিটে এই ওয়েবপেজে ‘ফটিকছড়িতে যে কোনো মুহূর্তে কয়েকটি কওমি মাদ্রাসায় হামলা’ শীর্ষক একটি লিংক দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘ফটিকছড়িতে যে কোনো মুহূর্তে কয়েকটি কওমি মাদ্রাসায় হামলার আশঙ্কা। গোপন বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া ওবাইদিয়া, ধর্মপুর এমদাদুল উলুম বড় মাদ্রাসা, জাফতনগর হাফেজুল উলুম মাদ্রাসায় বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিছু নিম্ন শ্রেণীর পাঁতি গুণ্ডা। এদের সংগঠিত করছে উগ্র কয়েকজন কট্টর কওমিবিদ্বেষী। জাফতনগরের মো. আফাজ উদ্দিন, জাহানপুরের মাস্টার নাসির নামে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী এবং বালুমহালের কিছু শ্রমিক।

জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ওয়েবপেজে এমন গুজব ছড়ানোর এক মিনিট পর সেটি শেয়ার করা হয় ১৮ দলীয় জোটের ওয়েবপেজেও। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এভাবে গুজব ছড়ানো হলেও ১১ এপ্রিল ফটিকছড়ির কাজীরহাটে অতিরিক্ত কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

ফটিকছড়ির একেবারে উত্তর সীমান্তে ভুজপুর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন জামায়াতের শফিউল আলম নূরী। দক্ষিণে হারওয়ালছড়ি ইউনিয়নেরও চেয়ারম্যান জামায়াতের ইকবাল হোসেন চৌধুরী। আবার পূর্বে থাকা পাইন্দং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএনপিপন্থি একেএম সরওয়ার হোসেন স্বপন। অনেকে বলছে, এ কারণে হামলার জন্য কাজীরহাটকে বেছে নেয় জামায়াত-শিবির।

এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বেজন্মাদের ফাঁসি চাইলে মনে হয় কম হয়ে যায়। গিলোটিন হতে পারে এদের জন্য উপযুক্ত

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৬ thoughts on “গগনবিদারি চিৎকার আর ভিডিও ফুটেজে ফটিকছড়ির নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

  1. বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এটাও এড়িয়ে
    বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এটাও এড়িয়ে যেতে বলবেন সরকারের কোন মন্ত্রী। নতুন নতুন ইস্যু আসবে, আমরাও ভুলে যাবো… যেভাবে ভুলে গেছি এরকম হাজারো নৃশংসতার ঘটনা।

  2. ভুজপুর ইউনিয়ন এর পাশের
    ভুজপুর ইউনিয়ন এর পাশের ইউনিয়নে আমার বাড়ি । এই ঘটনা যে পূর্বপরিকল্পিত টা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রত্যক্ষ হত্যা কাণ্ডের সাথে যারা জড়িত পুলিশ একটু আন্তরিক হলেই তাদের ধরতে পারে কিন্তু তা না করে ৩/৪ হাজার মানুষের নামে মামলা দিয়ে আসল ঘটনাটাই সবাই ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে।

  3. পুলিশের আন্তরিকতা এরকই ! তারা
    পুলিশের আন্তরিকতা এরকই ! তারা কোন তদন্ত না করেই আন্দাজ নির্ভর মামলা করে তাদের আসল উদ্দেশ্য হাসিল করে থাকে বরাবরই ! এটা আর নতুন কি ?

  4. চাট্ִগাইয়া এলাকা গুলাতে
    চাট্ִগাইয়া এলাকা গুলাতে পুলিশরা যে নিরুপায়, এটা আজকাল নতুন কিছু না।
    এটা পরিকল্পিত নৃশংস্য ঘটনা, এইসব পাল্ִটাপাল্ִটি খুনাখুনীর ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কত , কাঊকে একেবারে মেরে ফেলাটা কোনো সমাধান নয়।

    এ ধরনের দলীয় প্রতিহিংসা একধরনের রাজনৈতিক ব্যাধি।

  5. প্রকৃত অপরাধীদের ধরার মত এত
    প্রকৃত অপরাধীদের ধরার মত এত ক্লু আছে যে সরকার ও প্রসাশন একটু আন্তরিক হলেই সবাইকে ধরতে পারবে। সরকার যদি সেই আন্তরিকতা না দেখায় তাহলে আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ কর্মীরা আশাকরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ম্যাসেজটা ধরতে পারবেন বলেই মনে করি।

  6. মিয়া এত সব বালসাল বাদ দিয়ে
    মিয়া এত সব বালসাল বাদ দিয়ে বৈদেশে অ্যাসাইলামের আবেদন করেন। বাংলাদেশ আমাদের হোগায় বাঁশ দেয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারবে না। মুসলমান বাঙালীকে নিয়ে আমার আর কোনও আশা নাই। এরা মুসলমানই রয়ে যাবে। মানুষ আর হতে পারবে না।

    [সিরাম সব ভাষা ব্যাবহারের জন্যে দুঃখিত নই। প্রয়োজনে কমেন্ট মুছে দিয়েন।]

  7. তারমানে দাঁড়াচ্ছে
    তারমানে দাঁড়াচ্ছে আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ যে ঐ এলাকায় শোডাউন নিয়ে যাবে এটা তারা আগে থেকেই জানতো। আওয়ামীলীগের ভেতরের খবর তাদের কাছে আগেই কিভাবে গেল? সর্ষের ভেতরেই কি ভূত???
    :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:

  8. ফাঁসি? গিলোটিন? হাহ, ঠিকমতন
    ফাঁসি? গিলোটিন? হাহ, ঠিকমতন মামলাই করা হলো না। উচ্চবাচ্য নেই সরকারের কোনো মহলেই। কি হবে বলেন। পড়ে পড়ে মার খেয়ে যেতে হবে। ইটস এ রুল নাউ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 1