এশিয়া এনার্জির এদেশীয় অনুচর যারা!

এশিয়া এনার্জির নাম কমবেশি সবাই শুনেছেন। বর্তমানে তারা জিসিএম রিসোর্স নাম ধারণ করেছে। বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলন করতে এসেছিল অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এই খনি কোম্পানিটি। মাত্র ৬ শতাংশ রয়্যালটি অর্থাৎ ১০০ কেজি কয়লা উঠলে বাংলাদেশ পাবে ৬ কেজি, আর এশিয়া এনার্জি পাবে ৯৪ কেজি, এমন অসম বিনিময়ের এক চুক্তি করিয়ে নিতে সমর্থ হয়েছিল তারা। চুক্তিতে এমনকি অবাধে কয়লা রপ্তানির সুযোগও রাখা হয়েছিল।

অথচ এশিয়া এনার্জির না ছিল কোনো অভিজ্ঞতা, না ছিল বিশেষ কোনো দক্ষতা। কেবল দুর্নীতির মাধ্যমেই তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর অনেক কিছুই ঘটেছে। প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংসকারী উন্মুক্ত কয়লা খননের বিরুদ্ধে জনতা রুখে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্র গুলি চালিয়ে মানুষ মেরেছে, এশিয়া এনার্জিকে রক্ষা করার জন্য। শেষ পর্যন্ত অব্যাহত গণআন্দোলনের মুখে এশিয়া এনার্জির কাজকর্ম থমকে থাকলেও এখনও তারা বিদায় হয়নি। ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত খননের জন্য এখনও তারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কয়লা নিয়ে লন্ডনে তারা শেয়ার মার্কেট থেকে টাকা তুলছে!

এরকম দুর্নীতিবাজ, অনভিজ্ঞ টাউট একটি কোম্পানি কিভাবে এখনও এদেশে টিকে আছে, এ এক গভীর রহস্য। আর সেই রহস্য ফাঁস করতেই আজকের এই নিবন্ধ। বাংলাদেশে এশিয়া এনার্জিকে টিকিয়ে রাখতে কারা ভূমিকা রাখছেন, কিভাবে ভূমিকা রাখছেন, তাদের পরিচয় ও তৎপরতা জানা থকা দরকার। জাতীয় স্বার্থের পিঠে ছুরি মারা এই অভ্যন্তরীণ শত্রুরা নিঃসন্দেহে বিদেশি শত্রুদের চেয়েও ভয়ঙ্কর। কারণ তারাই বিদেশী দখলদারদের ডেকে আনে।

প্রথমেই তাকাতে পারি, এশিয়া এনার্জির বাংলাদেশে প্রবেশের ইতিহাসের দিকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফুলবাড়ী কয়লা খনি প্রকল্পের নড়াচড়া শুরু হয় ১৯৯৪ সালের ২০ আগষ্ট। বিএইচপি মিনারেলস ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেটেড নামক অস্ট্রেলিয়ার একটি কয়লা অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের জ্বালানী মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে কয়লা অনুসন্ধানের নিমিত্তে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠানটি দিনাজপুর এবং রংপুর জেলায় ১৪ হাজার ১২০ হেক্টর এলাকায় কয়লা অনুসন্ধান করবে। অনুসন্ধানের পর সরকারের নিকট একটি প্রতিবেদনও পেশ করবে তারা। কিন্তু সেই চুক্তিতে কয়লা উত্তোলনের জন্য কোন প্রকার অনুমতি প্রদানের কথা উল্লেখ ছিল না। লক্ষ্য রাখুন, এই চুক্তিটি যখন হচ্ছে, তখন ক্ষমতায় বিএনপি সরকার।

চুক্তি অনুসারে উক্ত অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বিএইচপি ফুলবাড়ী এলাকায় কয়লা অনুসন্ধানের কাজ শুরু করে। ১৯৯৭ সালে ফুলবাড়ী কয়লা খনির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছিল তারা। এ সময় ফুলবাড়ী কয়লা খনির অনুসন্ধান প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েই তারা বাংলাদেশ থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। বিএইচপির চলে যাওয়াটা কোনো সরল বিষয় ছিল না। একটি বিদেশি কোম্পানি লাভজনক প্রকল্পের গন্ধ পেয়ে চলে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু তারা চলে গিয়েছিল এবং কিছুদিনের মধ্যে এই পশ্চাদপসরণের পেছনের রহস্য পরিষ্কার হলো।

বিএইচপি ফুলবাড়ীতে কয়লার অস্তিত্ত্ব জানতে পেরেছে, এই তথ্য প্রকাশের পরই শুরু হলো নয়া অভিযান। বিএইচপি যেখান থেকে এসেছে সেই অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র চার মাসের মধ্যে গঠন হলো নতুন এক কোম্পানি। যার ব্যবসাক্ষেত্র হবে বাংলাদেশ! এশিয়া এনার্জি কর্পোরেশন (বাংলাদেশ) প্রপ্রাইটরি লিঃ নামের এই কোম্পানিটি নিবন্ধিত হয় ১৯৯৭ সালের ১৫ অক্টোবর। অষ্ট্রেলিয়ায় গঠিত এই কোম্পানি (অষ্ট্রেলিয়ায় কোম্পানি নং-০৮০৪০৬৮১৯) নিউ সাউথ ওয়েলসের কর্পোরেশন আইনের আওতায় নিবন্ধন পায়। বিএইচপি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান হলেও পরে তারা জানায় যে, ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলন পরিবেশের জন্য সমস্যাজনক বিধায় তারা এখানে কাজ করতে চায়নি। কিন্তু সেজন্য লাভের গুড়ে ছাড় দিতে তারা নারাজ ছিল। তাই ডেকে এনেছিল অনভিজ্ঞ এশিয়া এনার্জিকে।

এরপর মাঠে নামল অস্ট্রেলিয়া সরকার। অস্ট্রেলিয় প্রতিনিধিদল ও কূটনীতিকদের জোর তৎপরতায় বাংলাদেশ সরকারের কোনো অনুমতি ব্যতিরেকেই ১৯৯৮ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারীতে বিএইচপির লাইসেন্স ও চুক্তি এশিয়া এনার্জির নিকট হস্তান্তরের দলিল স্বাক্ষর হলো। সেই হস্তান্তর দলিলের উপর ভিত্তি করে ১৯৯৮ সালে এশিয়া এনার্জি প্রবেশ করল বাংলাদেশে। তবে আগের চুক্তিতে কয়লা উত্তোলনের কোনো বিধান না থাকলেও এশিয়া এনার্জি তাদের লবিংয়ের জোরে ফুলবাড়ীতে কয়লা খনি উত্তোলনের দায়িত্বও পেয়ে গেল।

এশিয়া এনার্জির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের নিমিত্তে বাংলাদেশে একটি শাখা অফিস খোলার জন্য ১০ ডিসেম্বর ১৯৯৭ তারিখে তারা বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি লাভ করে। বাংলাদেশে শাখা হিসেবে কোম্পানীর কার্যক্রম পরিচালনার এই অনুমতি শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড কর্তৃক সময়ে সময়ে নবায়ন করা হয়। এমনকি কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুসারে এশিয়া এনার্জি নিবন্ধনের জন্য যৌথ স্টক কোম্পানী বাংলাদেশ এর নিবন্ধকের কাছে আবেদন করে এবং ১৯৯৮ সালের ১৮ মে তারিখে নথিভুক্তির সনদ লাভ করে। আবার লক্ষ্য করুন, এই চুক্তির সময় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার।

শেয়ারবাজারের ব্যবসা চাঙা করার জন্য এরপর কোম্পানিটি তাদের ঠিকুজি পরিবর্তন করে। বাংলাদেশে ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্পের অনুসন্ধান ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৩ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস-এ এশিয়া এনার্জি পিএলসি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (ইংল্যান্ডে কোম্পানি নং ০৪৯১৩১১৯) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০০৪ সালের ১৯ এপ্রিল কোম্পানির শেয়ার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের বিকল্প বিনিয়োগ মার্কেটে (এআইএম) লেনদেনের জন্য অন্তর্ভুক্ত হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের কয়লা চলে যায় লন্ডনের শেয়ারবাজারে।

এই হলো এশিয়া এনার্জির বাংলাদেশে প্রবেশের ইতিহাস। যাতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা ধরা পড়ে। বর্তমানে এশিয়া এনার্জি তাদের নাম বদলেছে। পূর্বতন নাম এশিয়া এনার্জি পিএলসি তারা বদলে ফেলেছে। লন্ডন ভিত্তিক একটি খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কোম্পানি হিসেবে নাম বদলে এখন তারা হয়েছে জিসিএম রিসোর্সেস পিএলসি (জিসিএম)। এই এশিয়া এনার্জি তথা জিসিএমকে বাংলাদেশে কারা পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি।

এশিয়া এনার্জির সঙ্গে সরকারের চুক্তিটি ছিল একেবারেই একপাক্ষিক। মাত্র ৬ শতাংশ রয়্যালটি! কয়লার মজুদের পুরোটা কখনই উত্তোলন করা যায় না। সর্বোচ্চ ৯০ ভাগ কয়লা হয়তো উন্মুক্ত পদ্ধতিতে তোলা যায়। তবে এই চুক্তিতে বিধান রাখা হয় ৮০ ভাগ কয়লা রপ্তানি করা যাবে! প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কয়লা উত্তোলনের দরকার কি? এই সম্পদ পরে উত্তোলনের জন্য রেখে দেয়া হোক।
তবে সবচেয়ে বড় আপত্তি ওঠে উন্মুক্ত পদ্ধতিকে ঘিরে। বিশেষজ্ঞরা জানান, উন্মুক্ত পদ্ধতির অর্থ হলো, মাটি কেটে খাল/পুকুর বানিয়ে খনিজ উত্তোলন করা। এই পদ্ধতিতে কয়লা উতোলনের পর মাটি দিয়ে আবার ওই পুকুর ভরাট করে দেয়া হয়। ফলে বিস্তীর্ণ সবুজ এলাকা পরিণত হয় মরুভূমিতে। কেটে ফেলতে হয় সব গাছপালা, উচ্ছেদ করতে হয় আবাসন, ধ্বংস হয় ফসলি জমি, কবরস্থানসহ নৃতাত্ত্বিক স্থাপনা।

তাছাড়া উত্তোলিত কয়লা থেকে চুইয়ে চুইয়ে যে কার্বনযুক্ত কালো পানি বের হয়, জমি তা টেনে নেয়ার ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। আবার পুকুর খননের পর ভূগর্ভস্থ পানি উঠে আসে। তা পাম্প করে নদীতে নিয়ে ফেলতে হয়। যদিও ফুলবাড়ী হচ্ছে বাংলাদেশের মিষ্টি পানির আধার। শুধু বোতলে পুরলেই যে পানি বিক্রি করা যায়, কোনো প্রক্রিয়ার দরকার পড়ে না। বিরাট এই সম্পদও ধ্বংস হয়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা এ সময় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন বাতিলের আহবান জানান। কিন্তু বেঁকে বসে এশিয়া এনার্জি। তারা জানে, উন্মুক্ত খনন হলেই তাদের বেশি লাভ! তা বাংলাদেশের মানুষের কপালে যাই ঘটুক না কেন, তাতে তাদের কীবা যায় আসে। দেখা গেল, তারা সব ধরনের অপরাধ করছে এই প্রকল্প চালিয়ে যেতে। প্রথমে তারা দিনাজপুরের সীমান্ত অঞ্চলে গড়ে তোলে মাদকের রুট। যার মাধ্যমে তরুণদের কিনে ফেলা যায়। এরপর তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বর-এমপিদের কিনতে শুরু করে। স্থানীয় এসব তৎপরতার বাইরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও তারা লবিং শুরু করে।

সম্প্রতি পরিবেশ আন্দোলনের নেত্রী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের দেয়া তার আত্মজৈবনিক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এশিয়া এনার্জির লবিংয়ের কিছু তথ্য বেরিয়ে আসে। সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে রিজওয়ানা বলেন, “আমি ব্রিটিশ ফান্ড নিয়েছি। কিন্তু ওরা আমার ওপর কোনো প্রেসার ক্রিয়েট করেনি। করলেও ফান্ড তুলে নেয়া ছাড়া আর কোন সফলতা আসত না। মাঝখানে যখন এশিয়া এনার্জির বিরোধিতা করা হয়, তখন একবার আমাকে ডেকে নিয়ে বলা হলো যে একটি ফেলোশিপের জন্য আমরা তোমার কথা ভাবছি। Would you be interested? আমি ইন্টারভিউ দিতে গেলাম। ইন্টারভিউ বোর্ডে দরজা বন্ধ করে আমাকে প্রথম প্রশ্ন করা হলো, আচ্ছা What’s your take on Asia Energy? আমি তো এই প্রশ্নগুলোর জন্য প্রস্তুত না তবুও আমার সরল মতামত দিয়েছি। আমি যখন বের হয়ে আসি তখন আমাকে জিজ্ঞেস করল তোমার কাছে প্রফেসর আনু মুহাম্মদ-এর ফোন নাম্বারটি আছে নাকি? এই প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে কিন্তু আমাকে স্পষ্ট করে দেয়া হলো কেন এটা করা হচ্ছে।” যদিও রিজওয়ানা হাসানদের দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন আছে। তবু তার দেয়া এই তথ্য প্রমাণ করে যে, এশিয়া এনার্জি কিভাবে দাতাদের ব্যবহার করে আসছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেমন এশিয়া এনার্জি দাতাদের মাধ্যমে জাল বিছিয়েছে, তেমনি কিনেছে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের। এই সময়পর্বে নিয়োগ পাওয়া প্রায় সব মার্কিন রাষ্ট্রদূতই বিনা ব্যতিক্রমে এশিয়া এনার্জির পক্ষে লবিং করেছে। যার প্রমাণ দিয়েছে উইকিলিকস। এমনকি ফরেস্ট কুকসনের মতো ইকোনমিক হিটম্যানদেরও নিয়গ দিয়েছে তারা।

জাতীয় ক্ষেত্রে এশিয়া এনার্জি লবিং এখনও চালাচ্ছে। এজন্য তারা প্রথমে কিনেছে মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের। তারপর কিনেছে প্রভাবশালী পত্রিকাগুলোর সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের। এশিয়া এনার্জির মতো লুটেরা বিদেশি কোম্পানির পরিবেশ ধ্বংসের এই কর্মসূচীতে বিদেশি লবিস্টদের মতোই দেশি এসব বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও সরকারি আমলারা সাঁয় দিচ্ছে! আসুন, স্বদেশী ঘাতক মীরজাফরদের চেহারা চিনে নেই।

মাহমুদুর রহমান
২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাকে জাতীয় বিনোয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যানের গুরু দায়িত্ব দেন। বিনিয়োগ বোর্ডে দায়িত্ব পাওয়ার পর বিদেশী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তার বিশেষ সখ্যতা গড়ে ওঠে। তার প্রশংসা করে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাস ওয়াশিংটনে তারবার্তা পাঠিয়েছিলেন, পরে যা উইকিলিকস ফাঁস করে দেয়।

২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্বালানি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান। বিদেশি বিনিয়োগের প্রত্যাশায় সিংহভাগ কয়লা রপ্তানির সুযোগ দিয়ে স্বল্প রয়্যালটির বিনিময়ে উন্মুক্ত খনির বিধান রেখে কয়লা নীতি প্রণয়নের চেষ্টা করেন তিনি। যা দেশের স্বার্থবিরোধী হিসেবে অভিহিত হয়। মাহমুদুর রহমান এ চুক্তি জনস্বার্থ বিরোধী স্বীকার করে নিলেও তা বাতিল করা সম্ভব নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করে বিবৃতি দেন।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যাপারে টাটার সঙ্গে জনস্বার্থ বিরোধী চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার জন্য মাহমুদুর রহমান অতিমাত্রায় তৎপর ছিলেন বলেও নিন্দিত হন। তার পরামর্শে এ সময় কয়লানীতির খসড়া তৈরী করে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইআইএফসি। কোনো রকম সমীক্ষা ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগেই আইএফসি এ কয়লানীতি প্রস্তুত করে, যেখানে ফুলবাড়ী ও বড়পুকুরিয়া যথাক্রমে এশিয়া এনার্জি ও টাটার নামে দেখানো হয় (২০০৫-০৬)। টাটা তখন বাংলাদেশে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে টাটা গ্রুপের আবাসিক পরিচালক মানজের হুসেন তখন বলেন, ‘এশিয়া এনার্জির ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প যে শর্তে দেওয়া হচ্ছে তাঁরাও একই শর্তে বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত খনি করতে আগ্রহী’ (প্রথম আলো, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৬)। আর এ সবই হয়েছিল মাহমুদুর রহমানের ইঙ্গিতে।

তার সময়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় খুন-খারাবিতেও জড়িয়ে পড়ে। ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত খননের বিপরীতে গড়ে ওঠা আন্দোলন দমাতে পুলিশ গুলি চালায়। তিনজনকে হত্যা করে মান রক্ষা করা হয় এশিয়া এনার্জির। আমিনুল, তরিকুল, সালেকিনের গড়িয়ে যাওয়া রক্তের পেছনে মাহমুদুর রহমানের অঙ্গুলি হেলনির দায় আছে! আর এর মাধ্যমে তিনি দেশবিরোধী, এশিয়া এনার্জির একজন লবিস্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অনেক অভিযোগ উঠলেও তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

তৌফিক ই ইলাহী
প্রায়শই তাকে জ্বালানি অপরাধী হিসেবে অভিহিত করা হয়। জ্বালানি খাতে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়ার প্রশ্নে মাহমুদুর রহমানকে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছাড়িয়ে গেছেন। উইকিলিকসে প্রকাশিত বেশ কিছু নিবন্ধে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে তিনি পরিচিতি পান। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত ২০১০ সালের এক নিবন্ধে উঠে আসে যে, “বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি গত বছরের জুলাই মাসে পাঠানো এক তারবার্তায় জানান, তিনি কয়লা খনির অনুমতি দিতে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।… সংসদীয় সমর্থন তৈরির ব্যাপারে তৌফিক-ই-ইলাহী তার সঙ্গে একমত হন বলে তারবার্তায় জানান মরিয়ার্টি।” এর ঠিক কিছুদিন পরেই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি উন্মুক্ত খননের পক্ষে মতপ্রকাশ করে। এর মধ্য দিয়ে তৌফিক ই ইলাহীর ক্ষমতা ও পশ্চিমা সংযোগের প্রভাব সবার দৃষ্ঠিগোচর হয়।

তার বিরুদ্ধে এরপর সুস্পষ্ট কিছু অভিযোগ তোলেন, দেশের স্বনামখ্যাত ক্লিন ইমেজধারী গবেষক ও বুদ্ধিজীবীরা। প্রধানমন্ত্রীর এই জ্বালানি উপদেষ্টা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বেসরকারি ও বিদেশিকরণের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এশিয়া এনার্জির পক্ষে তিনি বহুবার বক্তব্য রেখেছেন। উন্মুক্ত খননের পক্ষ নিতে সরকারকে অব্যাহতভাবে প্রভাবিত করেছেন।

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো হচ্ছে- ১. দেশের তিনটি গ্যাস ক্ষেত্র প্রান্তিক দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর কাছে তুলে দেওয়ায় মুখ্য ভূমিকা ছিল তাঁর। এ ক্ষেত্রে তিনি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নাইকোকে লাভবান হতে সহায়তা করেছেন। ২. ফুলবাড়ী কয়লাখনি উন্নয়নের জন্য এশিয়া এনার্জির সঙ্গে সরকারের যে চুক্তি হয়েছে বলে এশিয়া এনার্জি দাবি করে, সেই রাষ্ট্রবিরোধী চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রেও তৌফিক-ই-ইলাহী জড়িত ছিলেন। ৩. মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে বিস্কোরণের জন্য দায়ী অক্সিডেন্টালকে তিনি বিচারের ঊর্ধ্বে রাখেন এবং দেশত্যাগে তাদের সহায়তা করেন। ১৯৯৮ সালে অক্সিডেন্টালের সঙ্গে সম্পূরক চুক্তি সম্পাদনের সময় মাত্র পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত গ্যাস বিস্কোরণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেখানোর প্রস্তাব অনুমোদনের ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা পালন করেন। ৪. তিনি বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থে একাধিক অসম উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি (পিএসসি) সম্পাদন করেন, যা সংসদীয় কমিটিকেও দেখতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন। ৫. ড. তৌফিক-ই-ইলাহী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে বিদেশে বহুজাতিক কোম্পানির কার্যালয় উদ্বোধন করিয়েছেন। এভাবে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিদেশি কোম্পানির লবিস্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি! কিন্তু ঠিক খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনেক অভিযোগ উঠলেও এই দেশবিরোধী লবিস্টের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

মখা আলমগীর
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পল্টিবাজির ইতিহাস যদি কখনও লেখা হয়, তাহলে তার নাম বেশ বড় হরফে লেখা হবে বৈকি! জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচীর ওপরে ডক্টরেট করা ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর কিভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন, এটা অনেকের কাছেই বিষ্ময়! এমনকি নির্বাচনে তার জয় নিয়েও ছিল নানা ঝামেলা। তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তও শেষ পর্যন্ত দমিয়ে রাখা হয়েছিল হাইকমান্ডের নির্দেশে। সেই ক্ষমতাধর মখা, রানা প্লাজা ধস যার কাছে বিরোধীদের নাড়াচাড়ার ফল, তার পক্ষে দেশে চলমান বড় দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলো থেকে দূরে থাকা সম্ভব ছিল না।

বেশিদিন লাগল না। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার তিন মাসের মাথায় তিনি এশিয়া এনার্জির পক্ষে জিহাদ ঘোষণা করেন। ফুলবাড়ী এলাকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে এশিয়া এনার্জিকে সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

জানা যায়, ২০০৬ সাল থেকে ফরেস্ট ই কুকসন নামক মার্কিন এক টাউট এশিয়া এনার্জির হয়ে লবিং করে আসছেন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর তাকে বন্ধুত্বের প্রতিদান দেন। ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জির জরিপকার্য পরিচালনার জন্য তিনি পুলিশ পাঠান। মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। তবে স্থানীয় জনগণের তীব্র প্রতিরোধের মুখে সেখানে তখন এশিয়া এনার্জি কাজ করতে পারেনি। কিন্তু লবিস্ট হিসেবে মখা তার ভাগ ঠিকই বুঝে নেন। এবং প্রধানমন্ত্রী উন্মুক্ত খনন হবে না বলে মতপ্রকাশ করলেও মখা ঠিকই উন্মুক্ত খননের পক্ষে তৎপরতা চালিয়ে যান। এই কাজ তাকে প্রথম করতে দেখা যায় ২০০৯ সালে। সে বছর ২ সেপ্টেম্বর একুশের রাতে এসেছিলেন মহিউদ্দিন খান আলমগীর। আর সব লবিস্টদের ভাষায় তিনিও বললেন, “মাটির নিচে সম্পদ রেখে কোন লাভ নেই। এর উত্তোলন দরকার। এমনকি রপ্তানির বিধান রেখে হলেও বিদেশী কোম্পানীর কাছে ইজারা দেয়া ভুল হয়নি।” এসব বক্তব্য মখা পরেও অনেকবার দিয়েছেন। কিন্তু এজন্য তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাকে কোনোরকম বাধা দেয়া হয়েছে বলে শোনা যায়নি।

ড. কামাল হোসেন
কামাল হোসেন বুদ্ধিজীবী, আইনবিদ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। দুর্নীতিবাজ হিসেবে তিনি কখনই পরিচিত নন। কিন্তু এশিয়া এনার্জি তাকেও কিনতে সক্ষম হয়েছে। এশিয়া এনার্জির আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে তিনি যোগ দেন ২০০৬ সালে। এ সময় সাপ্তাহিক ২০০০ তার একটী সাক্ষাৎকার ছাপে। পত্রিকাটি এখন বন্ধ। কিন্তু পত্রিকাটির তৎকালীন সম্পাদক গোলাম মোর্তজা পরবর্তীতে একটি নিবন্ধে এ বিষয়ে স্মৃতিচারণ করে লেখেন, “এক সময় এশিয়া এনার্জির আইনগত দিক দেখার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। কেন এশিয়া এনার্জির পক্ষে কাজ করছেন? উত্তরে বলেছিলেন, ‘পেট চালাতে হবে তো’।” কামাল হোসেন পেট চালানোর কষ্টে পড়েছেন বলে বিবৃতি দিলে জাতি নিশ্চয়ই তাকে সহযোগীতা করতো। কিন্তু তিনি তা না করে যোগ দিলেন এশিয়া এনার্জির সঙ্গে। দেশবিরোধি তৎপরতায় যোগ দিতে তার বাধেনি।

আলী যাকের-আসাদুজ্জামান নূর
জিসিএম রিসোর্সেস পিএলসি’র সিইও গ্যারি লাই ৯ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এশিয়াটিক মার্কেটিং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফোরথট পিআর’ কে “বিবিধ তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে সার্বিক গণমাধ্যম সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনার” দায়িত্ব দেয়। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে ফুলবাড়ী কয়লাখনিতে উন্মুক্ত খননের পক্ষে জনমত গঠন তথা পাবলিক রিলেশানস (পিআর) তৈরির কাজ শুরু করে এশিয়াটিক মার্কেটিং!

এই এশিয়াটিকের প্রধান কর্তাব্যক্তিদ্বয় হচ্ছেন আসাদুজ্জামান নূর ও আলী যাকের। এই আলী যাকের একবার সিগারেটের বিজ্ঞাপন করায় জাহিস হাসানের বিরুদ্ধে কলাম লিখেছিলেন। তখন তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এতে তরুণরা প্রভাবীত হবে। তার এই নৈতিকতা এশিয়া এনার্জির ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন তার একটি সাক্ষাৎকার ছাপে। সেখানে আলী যাকের ফুলবাড়ীর আন্দোলন সম্পর্কে বলেন, “আন্দোলন হয়েছে কিনা আমি জানি না। বিতর্ক হলে তার সমাধান করা আন্দোলনকারী, সরকার ও এশিয়া এনার্জির ব্যাপার। এখানে আমাদের দায় নেই।” এভাবে দেশের মানুষ ও দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এশিয়া এনার্জির টাকার ভাগ পেতে ঝাঁপ দেন আলী যাকের-আসাদুজ্জামান নূরেরা! সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মন্ত্রী ও গণমাধ্যমে প্রভাবশালী হিসেবে তারা এশিয়া এনার্জির পক্ষে প্রচারণা পরিচালনা করছেন। যার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।

ম. তামিম-ড. ইজাজ
অধ্যাপক ম. তামিম ও ড. ইজাজ বুয়েটের শিক্ষক এবং জ্বালানি গবেষক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশী কোম্পানিগুলোর হয়ে তারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে ওকালতি করে যাচ্ছেন। তাদের কল্যাণেই বিদেশীরা এ কথা বলার সুযোগ পায় যে, বুদ্ধিজীবীদের একাংশ উন্মুক্ত খননের পক্ষে। উন্মুক্ত খননের পক্ষে এবং বিদেশী কোম্পানিগুলোর পক্ষে দুজনেই খোলাখুলিভাবে গত এক দশক ধরে বিবৃতি দিচ্ছেন। মার্কিনপন্থি এই দুই লবিস্ট বরাবরই এশিয়া এনার্জির পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন।

ফুলবাড়ীর আন্দোলনের বিরুদ্ধেও মতপ্রকাশ করেছেন এই দুই বুদ্ধিজীবী। ইন্টারনেটে সার্চ দিলে তাদের অসংখ্য লেখা ও মন্তব্যের দেখা মেলে, যেখানে দেশের চেয়ে বিদেশী স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এজন্য বিদেশিদের সুপারিশে রাষ্ট্র কর্তৃক পুরষ্কৃতও হয়েছেন দুজনে। বিশ্বব্যাংকের এজেন্ট ফখরুদ্দিন যখন সেনা সহযোগীতায় বিদেশী ইন্ধনে ক্ষমতায় আসেন, তখন ম. তামিম অস্থায়ী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা নির্বাচিত হন। তার আমলেই বাংলাদেশ ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের ফাঁদে পা রাখে! আর ইজাজ সাহেব হয়েছেন সরকারের জ্বালানি বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার উপদেষ্টা।

মোল্লা আমজাদ
মোল্লা আমজাদ এই দালাল মহলের মাঠ পর্যায়ের অনুচর। এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার নামে তার একটি পত্রিকা আছে। সেই পত্রিকার মধ্যভাবে চার রঙা বিজ্ঞাপন ছাপা হয় এশিয়া এনার্জির। আর তার সাবেক কর্মস্থল ডেইলি স্টার নিয়মিত এশিয়া এনার্জির পক্ষে প্রবন্ধ ছাপে। মোল্লা আমজাদ এশিয়া এনার্জির প্রভাবে জ্বালানি বিষয়ক বিভিন্ন কমিটিতেও যুক্ত রয়েছে। তার কাজ হচ্ছে, বিভিন্ন সময় জ্বালানি বিষয়ক সেমিনার আহবান করা এবং তাতে কয়লা উত্তোলনে এশিয়া এনার্জির গুরুত্ব তুলে ধরা। পরে লবিং করে বিভিন্ন পত্রিকায় এসব এজেন্ডাকে বুদ্ধিজীবী-গবেষকদের মত হিসেবে ছাপানোর ব্যবস্থা করে। এক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করে তার নয়া উত্তরাধিকারী ডেইলি স্টারের সাংবাদিক শাহরিয়ার। তারা সপক্ষের বুদ্ধিজীবীদের মতামত দিয়ে একতরফা লেখ ছাপেন। যা পড়ে জনগণ বিভ্রান্ত হয়।

অরুণ কর্মকার
প্রথম আলোর জ্বালানি বিষয়ক সাংবাদিক। প্রথম আলো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন এজেন্ডার পক্ষে ওকালতি করে চলেছে, এটা সবার জনা। সেই হিসেবে এশিয়া এনার্জির স্বার্থ রক্ষা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অরুণ কর্মকার এই এজেন্ডা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন বিধায় এ কাজে তার আগ্রহটা একটু বেশিই।

এশিয়া এনার্জির টাকায় তার জার্মানি সফর ও নগদ অর্থ লাভের কথা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের পকেট পুরতে প্রায়ই তাকে উন্মুক্ত খননের পক্ষে সাফাইমূলক প্রতিবেদন লিখতে দেখা যায়। এর ফলে তরুণরা বুঝে উঠতে পারেন না যে, আসলে উন্মুক্ত খননের ফলে কী ঘটবে। এভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেন অরুণ কর্মকার।

আরো আছে…
ফুলবাড়ী কয়লা খনি কোটি মানুষের জীবন বিপণ্ণ করবে। বাংলাদেশের মিষ্টি পানির আধার ধ্বংস করবে। চাষের জমি ধ্বংস করবে। বিরাট এক শ্যামল অঞ্চলকে পরিণত করবে মরুভূমিতে। আর উতোলিত কয়লার কিছুই আমরা পাব না। যা পাব তা রপ্তানি হয়ে যাবে বিদেশে। এরকম কঠিন সব দেশবিরোধী বিষয় এতে যুক্ত থাকলেও অনেক বুদ্ধিজীবীকেই দেখা গেছে এ প্রশ্নে একেবারেই নীরব। এ দেশের পানি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত আইনুন নিশাত কোনোদিন ফুলবাড়ীর পানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। জলবায়ু গবেষক আতিক রহমান কখনও এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ীকে মরুভূমি বানালে কী হবে, তা নিয়ে মুখ খোলেননি। কারণটা খুব পরিষ্কার। দুজনেই দাতাদের পরামর্শে কাজ করেন, মতামত দেন। দেশের স্বার্থের চেয়ে দাতাদের স্বার্থ তাদের কাছে বড়। এরকম আরো অনেকেই আছেন। সচেতন পাঠক একটু গভীরভাবে মনোযোগ দিলেই এদের চিনতে পারবেন। আর চেনামাত্রই এদের বর্জন করা আমাদের বক্তব্য। এই দেশবিরোধী ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রীদের দেশের আইনে বিচারের দাবী তোলাটাও খুবই যৌক্তিক।

[নোট : প্রতিটি তথ্যেরই সূত্র সংরক্ষিত আছে। তাছাড়া গুগল করলে আরও ডিটেইল জানতে পারবেন। এ বিষয়ক অসংখ্য নিবন্ধ অনলাইনে পাওয়া যায়।]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “এশিয়া এনার্জির এদেশীয় অনুচর যারা!

  1. এইসব জ্বালানি যুদ্ধাপরাধী ও
    এইসব জ্বালানি যুদ্ধাপরাধী ও জাতির নিকৃষ্ট সন্তানদের অবশ্যই চিনে রাখা দরকার। দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রে এরা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

  2. অস্ট্রেলিয়া শুধু ক্রিকেটে
    অস্ট্রেলিয়া শুধু ক্রিকেটে নয়,জুচ্চুরি তেও ভাল! নামগুলোর মাঝে এত বৈচিত্র্য দেখে অবাক হলাম। টাকার লাইনে সাধু, ডাকাত,চোর,পুলিশ সব একাট্টা।

  3. দেশের শীর্ষ জ্বালানী চোরদের
    দেশের শীর্ষ জ্বালানী চোরদের চিনে রাখা উচিত। দেশের সম্পদ লুটেপুটে খাওয়া জাতীয় শত্রুদের বিচার একদিন হবেই। এরা দেশ ও জাতীর শত্রু।

  4. চাইনিজ কুন কোম্পানীরে কাজ
    চাইনিজ কুন কোম্পানীরে কাজ দিলে অনেক দক্ষতার সাথে, দুর্নীতিবিহীন ভাবে আর স্বল্প খরচে প্রজেক্টগুলি সম্পন্ন হইত :ভাবতেছি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

40 + = 44