কোনটি হবে সঠিকতর ?

একটা গান আমার ভাল লাগে আর আমার বন্ধুর ভাল লাগেনা সেটা নিয়ে তর্ক হতে পারে স্বাভাবিক। এগুলো ঘটতে পারে একটা সিনেমার ক্ষেত্রে, একটা পেইন্টিঙ্গের ক্ষেত্রে, একটা উপন্যাসের ক্ষেত্রে। আমার মাঝে মাঝে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয় কারটা সঠিক হবে! আমি সঠিকতার কথা বাদই দিলাম। সঠিকতর কারটা?

সেদিন আমি আর আমার এক বন্ধু আড্ডা দিচ্ছি সিনেমা নিয়ে। সে বলে উঠল, সিরিয়াস সিনেমা ফালতু বরং ক্রাইম সিনেমাগুলো ভাল। আমি এটার প্রতিবাদ করলাম এভাবে, সিরিয়াস ফিল্মে আর্টিস্টিক কাজ ভাল পরিমানে থাকে যেটা কমার্শিয়াল ফিল্মগুলোতে থাকে না। সে বলতে লাগল, সব ফিল্মই কমার্শিয়াল…… এই সেই। আমি সেটা নিয়ে মাথা ঘামালাম না। আমার ভেতর অদ্ভুত একটা কনফিউশান হল। আমি যেইসব সিনেমাগুলো দেখি আমার বাসায় কাজের মেয়েটির নিশ্চই সেটি ভাল লাগবে না। আবার সে যেই সিনেমাগুলো দেখে সেটি আমার ভাল লাগবে না। এর পেছনে কাজ করে যার যার অভ্যন্তরীন রুচি এবং মানুষিক গঠন। কিন্তু … আমি কিন্তু হলফ করে বলতে পারব আমি যেই সিনেমাগুলো দেখি তা বাসায় কাজ করা মেয়েটির দেখা সিনেমা থেকে উন্নততর এবং ভালতর। কিন্তু আমি কিভাবে সিদ্ধান্তে আসলাম আমার দেখা ভারী ভারী সিনেমাগুলোই ভাল ? তার কাছে কিন্তু তার দেখা হিন্দী অথবা কলকাতার দেভের সিনেমাই সর্বোচ্চ আবেদনময়। সে কিন্তু আমার ফিল্মগুলোকে ভালতর স্বীকার করবে না। জটিলতা হচ্ছে, আমি যেটাকে উতকৃষ্টতর বলছি ঠিক অন্যটা তার কাছে উতকৃষ্টতর যা আবার আমার কাছে না। ঠিক গানের ব্যাপারে একইরকম। আমি যেই গান শুনি সেটা তার কাছে চরম বাজে লাগে । আবার সে যেই গানকে প্রেফার করে সেটা আমার কাছে অপছন্দের। সে যদি বলে তার শোনা গানগুলো বেশি সুন্দর তা আমি মেনে নিব না। আবার ঠিক বিপরীত ভাবে আমি আমারটার কথা বললে সে বিশ্বাস করবে না । আমি যদি বলি আমার শোনা গান অথবা দেখা সিনেমা গুলো বেশি ভাল সেটা আমি কোন যুক্তির বিনিময়ে সিদ্ধান্ত নিলাম ? কিংবা সে কিভাবে সিদ্ধান্তে আসলো আমার শোনা গানগুলো আউল ফাউল ? আমাদের দুজনের ভেতরেই যে রুচিগত ব্যাবধান সেটার ভিত্তি কি? আসলেই কি ভাল খারাপ বলে কিছু আছে? অথবা কম সুন্দর বেশি সুন্দর বলে কিছু আছে? যদি থেকে থাকে আমি কিসের মাধ্যমে সমাধানে পৌছব কারটা সত্যিকার অর্থেই বেশি ভাল ?

স্টিফেন হকিং তার ‘দি গ্রান্ড ডিজাইন’ বইয়ে বলেছিলেন এরকম ভাবে। গোল এক্যুরিয়ামে যেই মাছগুলো থাকে সেটি পৃথিবীকে দেখে একটি গোলীয় জগত হিসেবে আর আমরা দেখি সরলভাবে। এখন আমরা এক্যুরিয়ামের বাইরের মানুষগুলো খুব সহজেই বলে ফেলতে পারি মাছগুলো বাস্তবতার একটা বিকৃত প্রতিরুপ দেখে। স্টিফেন হকিং নিজেই বলেছিলেন, ‘আসলেই কি গোল্ডফিশগুলো বাস্তবতার একটা ভিন্ন প্রতিরুপ দেখে?’ স্টিফেন হকিং এর কথাগুলো যদি আমি গুছিয়ে বলতে যাই তাহলে এমন হবে ঃ আমরা কি করে বলব যে আমাদের দেখা জগতটাই আসল আর মাছের দেখা জগতটা বিকৃত ? মাছগুলো চাইলেই এক্যুরিয়ামের ভেতর থেকে নতুন করে গতির সুত্রগুলো তাদের জগতের মত করে বানাতে পারে। যার মাধ্যমে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন জিনিষের গতি এবং অবস্থান পরিমাপ করতে পারবে নিজেদের জগতের মত করে। আমরা মানুষেরা ঠিক যেমনটি আমাদের মত করে সমীকরনগুলো করেছি বিভিন্ন কিছু পরিমাপ করার জন্যে। সুতরাং আমরা কখনোই বলতে পারব না আমাদের জগতটা বেশি বাস্তব এবং তাদেরটা কম বাস্তব। আমাদের দুজনেরটাই বাস্তব আমাদের মত করে। এটা পার্থক্য করার উপায় নেই।
মূলত এটাই ছিল স্টিফেন হকিং এর বক্তব্য। আমরা ফিরে যাই আমার আর বাসায় কাজ করা মেয়েটির তুলনামূলক রুচির কাছে। স্টিফেন হকিং গোল্ডফিশ আর মানুষের যে তুলনামূলক জগতের কথা বলেছেন আমাদের কি সেইরকমই একটা অবস্থা ? আমরা কি কখনো সিদ্ধান্তে আসতে পারব না যে কে বেশি উচ্চ রুচিসম্পন্ন? দুটো আলাদাভাবেই একটা সম্পূর্ণ মানুষিকতা যা আমাদের আলাদা আলাদাভাবে একটু অন্যরকম কিন্তু সমান গুরুত্বপূর্ণ ? যদি থেকে থাকে তাহলে কেন হবে? সেই গোল্ড ফিশ আর মানুষের মত । দুটির মধ্যে একটি যদি বেশি বাস্তুব হয় তাহলে কোন ভিত্তিতে হবে? স্টফেন হকিং কিন্তু সিদ্ধান্ত টেনেছেন দুটিই সমান বাস্তব।

ধরা যাক আমি একজন মানুষ আর কাজ করা মেয়েটি একটি গোল্ড ফিশ। আমি আমাকে মানুষ ধরছি কারন আমি ধরেই নিয়েছি আমার রুচিবোধ তার থেকে উন্নত ও অধিকতর যুক্তিসঙ্গত। সুতরাং কাজ করা মেয়েটি সেভাবে জিনিসগুলোকে অনুভব করছে আমি কিন্তু একটু অন্যভাবে অনুভব করছি। এবং সমস্ত লিখা জুরেই আমার প্রশ্ন ছিল কোনটা ভাল বেশি। আমি কিন্তু মানতে পারছি না আমাদের দুজনের রুচিই আলাদা আলাদাভাবে পরিপূর্ণ এবং আমারটা বেশি ভাল নয়। সত্যিই কি তাই? আমি কি তাকে গলা উচিয়ে বলতে পারব না যে আমার শোনা গানগুলো উৎকৃষ্টতর বেশি ! এরকম প্রশ্ন কিন্তু মানুষকে দ্বিধাগ্রস্ত করে ফেলে অনেক সময়। আপনারা যখন একে অন্যের সাথে তর্ক করেন একই ব্যাপার ঘটে। অনেক যুক্তির বিনিময় হয় সে যুদ্ধের। ফলাফল কিন্তু শুন্য ! সবাই সবারটা নিয়ে সুখে আছে। কারো হুমায়ুন আহমেদ ভাল লাগে কারো তিন গোয়েন্দা আর আমার ইয়েস্তেন গার্ডার। হয়ত কখনো সিদ্ধান্তে পৌছানো যাবে না কার পছন্দটা বেশি যুতসই। এবার সম্পূর্ণ ঘটনাটা আমার মত করে আবার বলি যাতে আমরা একটা সমাধান পাই ‘ভাল’ এবং ‘বেশি ভাল’ এর মধ্যে। না হলে তুলনামূলক বিচার করাটাই অন্যায় হয়ে যাবে। অন্যায় হয়ে যাবে সমালোচনা। আমি উদাহরনে আনব আমার আর কাজ করা মেয়েটির যা তুলনা করেছি গোল্ড ফিশ এবং মানুষের সাথে।

আমার আর বাসার কাজ করা মেয়েটির পার্থক্য কোথায়? রুচিতে। আমি একটা প্রশ্ন করেছিলাম এ লিখায়, ভাল লাগার ভিত্তি কি? তাহলে আমাদের প্রত্যেকটা সিদ্ধান্তেরই থাকবে একটা ভিত্তি বা কারন । যেই কারনটার উপড় নির্ভর করবে একটা জিনিস যা মানুষের ভাল লাগবে নাকি না লাগবে। আমি এখানে একটা জটিল আলোচনায় যাব। মানুষের ভাল লাগা মন্দ লাগার কারন কিন্তু একটাই থাকে। একই কারনের জন্যেই একেকটা মানুষের আলাদা আলাদাভাবে আবেগের সূত্রপাত ঘটে। একই কারনের জন্যে হলেও আবেগটা আলাদা আলাদাভাবে একটু অন্যরকমভাবে কাজ করে মানুষিক গঠনের একটা তারতম্যের কারনে। যেমন নৈতিকতার কারন একটাই তা হচ্ছে সমাজের সুগঠন যাতে পরিচ্ছন্ন সমাজ নিয়ে বাঁচা যায়। আমরা নৈতিকতা তাকেই বলব যা নিয়ে চললে সমাজ সুগঠিত হয় এবং পরিচ্ছন্নভাবে বেচে থাকা যায়। এবং অনৈতিকতা তাকেই বলব যা নৈতিকতা নয় এবং সমাজে বিশৃংখলা ঘটায় এবং জীবন প্রবাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। নৈতিকতার এই সঙ্গাটা অবচেতনভাবে মেনে নিয়েই আমরা বুঝি কোনটা নৈতিক কোনটা অনৈতিক। যা সুন্দরভাবে বেচে থাকার অন্তরায় আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটাকে করে ফেলি অনৈতিক বা খারাপ। যেমন খুন, হত্যা , সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আরো অনেক উদাহরন এরকম। এখন আমরা দেখতে পারব মাঝে মাঝে মানুষভেদে নৈতিকতাবোধের একটা পার্থক্য দেখা যায়। আমার কাছে যেটা নৈতিক অন্যের কাছে সেটা নৈতিক না বা সামান্য আপত্তিকর। এখন আমরা প্রশ্ন করতে পারব না এ সিদ্ধান্তের ভিত্তি কি। কারন ভিত্তিটা আমরা জানি কোনটা নৈতিক আর কোনটা অনৈতিক। এখন দেখতে হবে সে আমার কাজটা কে নৈতিক বলছি সেটা নৈতিকতার ভিত্তিকে সাপোর্ট দেয় কিনা। আমি নৈতিকতার যে সঙ্গাটা দিয়েছি সেটাকে সাহায্য করবে কিনা অথবা সমর্থন দিবে কিনা। এবং যদি তর্কাতর্কি হয় কোনটা বেশি নৈতিক তাহলে দেখতে হবে কোনটা তার ভিত্তিটাকে বেশি সমর্থন দান করে। সহজভাবে বলতে গেলে দুটির মধ্যে যেটি সমাজকে বেশি সাহায্য করবে ,বেচে থাকার উপযোগি করবে সেটিই বেশি নৈতিক। এবং এটা নির্ধারণের জন্যে হবে যুক্তির বিনিময় বা বিভিন্ন পরিসংখ্যান এটা দেখানোর জন্যে যে দুটির মাঝে যেকোন একটি তার ভিত্তিটাকে বেশি পরিপূর্ণতা বা সমর্থন দেয়। দুইজন মানুষের যদি নৈতিকতা নিয়ে বিরোধ হয় দুজনেই একই ভিত্তির উপড়ই সিদ্ধান্ত নিবে কোনটি বেশি নৈতিক তাদের পর্যবেক্ষন থেকে। যে বেশি বিচক্ষন সে বেশি পরিস্কার পর্যবেক্ষন করতে পারবে এবং তারটাই বেশি সঠিক হবার সম্ভাবনা বেশি। কারন একজন বুদ্ধিমান মানুষ ভাল পর্যবেক্ষনকারি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং ভাল পর্যবেক্ষনকারিই দ্রুত কজ ইফেক্টটা ধরতে পারেন।

কিন্তু তবুও কেন তর্ক চলমান থাকে, একে অন্যের যুক্তি মেনে নেয় না। এর সমাধান কি ? এর কারন একটা মানুষ নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরতে কখনোই চায় না ইগোর জন্যে। অনুভব করতে চেষ্টা করে না অন্যের যুক্তি। আমরা ফিরে যাই আমার আর বাসায় কাজ করা মেয়েটির কাছে। একটা গান ভাল লাগার কারন হবে একটাই। আমার যে কারনে একটা গান ভাল লাগবে তার একই কারনে ভাল লাগবে। কিংবা বলতে গেলে মানুষের গান ভাল লাগার কারন একটাই। একটা গান তখনি বেশি ভাল হবে যখন সেটা সে কারনকে বেশি পরিপূর্ণতা দিবে। আমি জানি না গান ভাল লাগার কারনটা কি ! আমি ধরে নিলাম ভাল লাগার কারন হচ্ছে মনের আলোড়ন। একটা গান মনকে যত আলোড়িত করবে বা নাড়া দিবে গানটি ততই ভাল হবে। এখন এখানে একটা জটিলতা আসে । সেটা হচ্ছে, কাজের মেয়েটির গান বেশি আলোড়িত করে নাকি আমার গান মনকে বেশি আলোড়িত করে? একভাবে দেখা যায়- তার গান আমাকে আলোড়িত করে না আবার আমার গান তাকে আলোড়িত করে না। নাকি তার গান আমাকে আলোড়িত করতে পারে না, এবং আমার গানে সে আলোড়িত হতে পারে না ? নাকি ঘটনাটা সম্পূর্ণ বিপরীত? আমি একটা দিকে এগিয়ে আছি যে, একটা সময় তার শোনা টাইপের গানই আমার ভাল লাগত এখন ভাল লাগে না। কিন্তু তার কিন্তু কখনো আমার শোনা গানগুলো উপলব্ধি করা হয়নি। বিষয়টা সহজভাবে বলতে গেলে তার গানে ভাল লাগার উপকরনের উপযোগ আমার কাছে শেষ হয়ে গেছে কারন এর চেয়ে ভাল উপকরন আমার গানে আছে মনকে আলোড়িত করার। আমার গানের ভাল লাগার উপকরনগুলোর উপযোগ তার কাছে শুরুই হয়নি। এখানে আমি বলতে পারব তার অনুভূতিটার সাথে আমি পরিচিত তাই আমি আমার অনুভূতির সাথে তুলনা করে বলতে পারছি যে তার গানটা বেশি অনুভূতি তৈরি করতে পারে না। সে কিন্তু আমারটার সাথে তুলনা করতে পারছে না। কারন আমার গানে যেগুলো ভাল লাগা তৈরি করে সেটা তার এন্টেনাতে ধরছে না (আমি তাকে অপমান করতে চাইছি না মোটেই) । আমি বলতে পারব আমার অনুভূতিটা যদি সে বুঝে তাহলে সে ওইসব গানই গ্রহন করবে যা আমারটার সমান অনুভূতি তৈরি করবে।

এটা যদি না বোঝা যায় তাহলে আরেকটা ঘটনা ছোট করে বলি। আমি যখন তিন গোয়েন্দা পড়তাম ক্লাস নাইনে তখন সেটা আমার অসম্ভব ভাল লাগত। কেউ বাজে বললে সহ্য হতনা। যুক্তি দেখাতাম কেন ভাল লাগে। আমার পড়তে অনেক আনন্দ হত। ঠিক এর পর যখন আমি অন্যান্য বই পড়া শুরু করলাম যেমন হুমায়ুন আহমেদ , সেটা আমাকে বেশি আনন্দ দিত; আমার বেশি ভাল লাগত। আমি যেহেতু হুমায়ুন আহমেদ পড়ার আর তিন গোয়েন্দা পড়ার আনন্দের তুলনামূলক পার্থক্য করতে পেরেছি তখন বেছে নিয়েছি হুমায়ুন আহমেদ। তাই আমি বলব হুমায়ুন আহমেদ উৎকৃষ্টতর। আমার ধারনা তখনই সত্যি হবে যখন বই পড়তে ভাল লাগার কারনটাকে হুমায়ুন আহমেদ বেশি পরিপূর্ণতা দিবে। এখন তর্ক করা যেতে পারে কোনটা বেশি পরিপূর্ণতা দেয়। সে শুধু তিন গোয়েন্দা পড়েছে এবং যে শুধু হুমায়ুন আহমেদ পড়েছে তাদের মধ্যে বেলেন্সড তর্ক হবে না। কারন একজন আরেকজনের অনুভূতিটা জানবে না। সুন্দর তর্ক হবে তখনই যে দুটিরই অনুভূতিটা ভালমত জানে এবং তুলনা করতে পারে। না হয় কিসের তর্কাতর্কি ? এক তরফাই হবে। আমাদের তর্কটা কখনোই মীমাংসায় পৌছায় না কারন দেখা যায় তার্কিকদের মাঝে কেউই কারো অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন না, কিংবা বুঝতে চেষ্টা করে না। এবং দেখা যায় যে কোন একজন থাকে দুটি অনুভূতিই জানে এবং অন্যজন একটিই জানে। যে দুটি অনুভূতি জানে সে বলতে পারবে অন্যজনকে যে, সে যদি তার অনুভূতিটাকে বুঝত তাহলে অবশ্যই তার ধারনাটা গ্রহন করত। যেমন আমি বলতে পারি আমার বাসায় কাজ করা মেয়েটা যদি আমার গানের উপলব্ধিটা ধরতে পারত তাহলে সে আমার গানই শুনত। আমি জানি দুই টাইপের গানের তুলনা কিন্তু সে জানে না।

আমরা অত্যন্ত হতাশ হচ্ছি না এটা ভেবে যে কোনটিই বেশি সত্যি নয়; দুটিই সমান সত্যি। বরং আমরা ভাবতে পারব আমারটা বেশি সত্যি হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। এটা ভাবতে পারলেই নিজের সততার সাথে ভালমত দাঁড়ানো যায়। না হলে আপনি কিসের পাশে দাঁড়াবেন ?

আমার তত্ত্বের আমি দুটো অনুমোদন দিলামঃ
১। প্রত্যেকটা কর্মের নির্দিষ্ট ভিত্তি থাকবে
২। যেটি ভিত্তিটিকে বেশি মেনে চলবে সেটি বেশি সার্থক হবে। এবং সেটা নির্ধারন হবে যুক্তি এবং কর্মের কজ-ইফেক্ট দিয়ে।

আমরা মনে হয় নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে বেশি ভাল জিনিসটি পেতে পারি। 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “কোনটি হবে সঠিকতর ?

  1. এসব জিনিস আসলে আপেক্ষিক।
    এসব জিনিস আসলে আপেক্ষিক। যেমন, আপনার কোন বন্ধু কারো প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। ছ্যাকা খেয়ে ভাবছে জীবনটাই বৃথা। আপনি ভাবছেন- ধুর এইটা কোন মেয়ে হইল? এরচে কত্ত ভালো ভালো মেয়ে আছে। এর জন্য জীবন কেন বৃথা হবে? এই “কেন”র কোন উত্তর হয় না। মানুষে মানুষে বৈচিত্র আছে বলেই প্রকৃতি এতো বিচিত্র।

    1. আপনি যেই প্রশ্নটা করেছেন আমি
      আপনি যেই প্রশ্নটা করেছেন আমি ধরতে পেরেছি। আপনি যদি পুরোটা মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে বুঝতে পারবেন আমার আর সেই বন্ধুর মাঝে তফাত কি। আমি আবারো ছোট করে বলছি। একটা মেয়েকে ভাল লাগার একটা কারন থাকবে। আমাদের খুজে বের করতে হবে সেই কারনটি কি। আপনি কি বলতে পারবেন সেই কারনটি কি? আমি কিন্তু বলতে পারব। এখন মেয়েটিকে আমার বন্ধুর খুব ভাল লাগে আর আমার বাজে লাগে এক্ষেত্রে দেখতে হবে কার অনুভূতিটা বেশি সমর্থন করে কারনটাকে। কারনটা যদি হয় এমন একটা জীবনসঙ্গি নির্বাচন যার মাধ্যমে আমার বংশধর রা খুব নিরাপদ ভাবে জন্ম নিবে এবং ভাল গুনাগুন নিয়ে বিকশিত হবে তাহলে কিন্তু আমরা যুক্তি প্রয়োগের একটা বিষয় পেয়ে যাই। সেটাই। আপনার কনফিউশান থাকলে আরো প্রশ্ন করুন। ধন্যবাদ ।

      1. কোনটাকে আপনি “কারন” হিসেবে
        কোনটাকে আপনি “কারন” হিসেবে নির্বাচন করবেন সেটাও কিন্তু আপেক্ষিক। কেউ খুব সংসারী টাইপ চুপচাপ মেয়ে পছন্দ করবে, আবার কেউ পছন্দ করবে একটু উচ্ছল কাউকে। জীবন সঙ্গি শুধুমাত্র ঘর সংসার সামলানোর জন্য হবে এমনটা যেমন কেউ চায় মনে মনে, আবার কেউ কেউ চায় আরও বেশী কিছু। আরও একটা উদাহরণ দেই- দেখবেন বাজারে বিভিন্ন কালারের পোশাক থাকে। আপনি হয়ত খুব হালকা ধরনের কোন রঙ পছন্দ করেন, যেটা অন্য একজন জীবনেও গায়ে দেবে না। আবার অন্য একজন হয়ত কটকটে কমলা রঙের একটা জামা পছন্দ করেছে, যেটা আপনাকে কোটি টাকা দিলেও গায়ে চড়িয়ে বাইরে বের হবেন না। এখন পোশাক পছন্দের ক্ষেত্রে “কারন” হিসেবে আপনি কোনটাকে সঠিক বলে ধরে নেবেন? আপনি যেটাকে সঠিক বলে ধরে নিচ্ছেন, সেটা আরেকজনের কাছে সঠিক নাও হতে পারে।

        1. আচ্ছা । ধন্যবাদ প্রশ্ন করার
          আচ্ছা । ধন্যবাদ প্রশ্ন করার জন্যে। আপনি দেখবেন আমাদের পছন্দ অপছন্দের ব্যাপারে একটা কারন থাকে। এই যে দেখুন আপনি বললেন কারন কি একটাই থাকবে কিনা। আমার হাইপোথিসিস কিন্তু বলে কারন একটাই থাকবে। কারন অসংখ্য হবেনা। যেমন একটা মেয়েকে আমরা প্রেমিকা হিসেবে পছন্দ করি এর কারন থাকে একটাই। শুনতে খারাপ লাগলেও কারন টা হচ্ছে যৌনসঙ্গি নির্বাচন যাতে আমরা আমাদের পরবর্তি প্রজন্মে আমাদের জিনকে নিরাপদে পৌছে দিতে পারি। মোট কথা আমরা প্রেমে পড়ি যৌনসঙ্গি নির্বাচনের জন্যে তার চেহারা এবং মানসিকতা দেখে। চেহারা গুরুত্ব দেয়ার কারন স্টোন এইজ ব্রেইনের জন্যে। এবং স্বভাব চরিত্র হচ্ছে সেই কারন যার মাধ্যমে আমার পরবর্তি প্রজন্ম একটা নিরাপদ জীবন পেতে পারে। কিংবা পরবর্তি প্রজন্মও সুন্দর গুনাগুন পেতে পারে। তাই আমরা চেহারা আর মন মানসিকতা গুরুত্ব দেই। আমি কি বলব তাই গুলিয়ে ফেলেছি। আপনি বলেছিলেন কারনটাও আপেক্ষিক। কিন্তু আমি তা বলছি না। যেমন আপনি দেখবেন সমাজের কোন ‘বাদ’ উপযুক্ত, মানে গণতন্ত্র নাকি সমাজতন্ত্র নাকি একনায়কতন্ত্র ? এখন আপনি তর্কে আসতে পারেন এটি নিয়ে। কিন্তু দেখবেন তর্কের ভিত্তি হবে একটাই যে যেই মতবাদটি সমাজকে বেশি সুবিধা দিবে সেটি বেশি গ্রহনযোগ্য হবে। মোট কথা কারনটা হবে সমাজের উপকার। তাই আমি বলতে চাইছি যেকোন একটা ‘বাদ’ অথবা ‘অনুভূতি’ এর ভিত্তি নির্দিষ্ট থাকবে। আপনি একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন দেখবেন কারন নির্দিষ্ট কিন্তু একই কারন নিয়ে একেকজন একেক পথে যাচ্ছে। আমি কিন্তু প্রবন্ধেই তা দেখিয়েছি গান আর নৈতিকতার মাধ্যমে।
          আপনি রঙের ব্যাপার এনেছেন। এখন চিন্তা করতে হবে রঙ দেখে আমার মস্তিস্কের কোন অংশ টা আলোড়িত হয়। এবং ভাল লাগলে কিভাবে প্রতিক্রিয়া করে এবং প্রতিক্রিয়া পজিটিভের কারনটা কি? আমি এর উত্তর আপাতত দিতে পারছি না। কারন এগুলো নিয়ে নতুন গবেষনা হচ্ছে। আগে যেখানে বলা হত অনুভূতির কোন কারন নেই এখন কিন্তু সেইরকম বলা হয় না। দেখা যায় প্রত্যেকটা অনুভূতিরই একটা নির্দিষ্ট কারন থাকে। বিবর্তনীয় মনোবিদ্যাতে তাই গবেষনা করে বের করা হয়। এই আলোচনাটা এতই ব্যাপক যে আমি শর্টকাটে শেষ করতে পারছি না চাইলেও। আপনি চাইলে আমি আরেকটা লিখা লিখতে পারি বিস্তারিত :p ধন্যবাদ আপনাকে।

          1. আপনার বক্তব্য এবার কিছুটা
            আপনার বক্তব্য এবার কিছুটা ক্লিয়ার হয়েছে। তবে “কারন” বলতে আপনি একেবারে গোঁড়ায় হাত দিয়েছেন। আমি একটু শাখা প্রশাখায় গিয়েছি। প্রেমের মূলে যদি যৌনতা থাকে বলেও ধরে নেই, সেই ক্ষেত্রেও দেখবেন পছন্দের ক্ষেত্রে একেক জনের পছন্দ এক এক রকম। যেমন কেউ মোটা সঙ্গি পছন্দ করে, কেউ স্লিম। এগুলো নিজের বন্ধুদের মাঝেই দেখেছি। আমি এই জায়গায় এসে বলেছি- ব্যাপারটা আপেক্ষিক।

            কেন লিখবেন না? অবশ্যই লিখবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =