বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ইতিহাস ও কিছু কথা

কিছুদিন আগে দেখলাম এক ফেসবুক বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনারায়ণ দাসের ছবির সাথে ক্যাপশন আবেগপূর্ণ কয়েকটা লাইনসহ পোস্ট দিয়েছেন। পোষ্টের মূল বক্তব্য হচ্ছে শিবনারায়ণ দাস আমাদের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার, যাকে কখনই তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। এবং এটা নিয়ে শিবুদা’র মধ্যে একটা চাপা অভিমান আছে। আমি নিজেই সেই বন্ধুর মস্ত বড় ফ্যান এবং সে ফেসবুকে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তো ঐ পোস্টে কমেন্টের পর কমেন্ট চলছে। আমি সবগুলো কমেন্ট পড়লাম। এমন একজন মানুষকে উপস্থাপন করার জন্য সবাই ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, কেউ বা কৃতজ্ঞতা। সাথে শিবুদার প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি দেয়ার দাবী। সেখানে আমিও কমেন্টে বললাম –

“জাতীয় পতাকা এবং শিবু’দা প্রসঙ্গে আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, যদি শিবনারায়ণ দাসকে জাতীয় পতাকার ডিজাইনার বলি তাহলে একই কারণে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলতে হয়!! কারণ, এটা যেমন আমরা সবাই জানি সেদিন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে জিয়ার উপস্থিতি এবং স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করাটা ঘটনা চক্রে। সেদিন ওখানে জিয়া না থেকে মীর শওকত বা মঞ্জুর, খালেদ মোশাররফ যে কেউই থাকতে পারতেন এবং যিনি থাকতেন তিনিই ঘোষণাটা পাঠ করতেন। ঠিক তেমনি ১৯৭০ সালের ৬ই জুন তৎকালীন ইকবাল হলে শিব নারায়ণ দাসের উপস্থিতিও ঘটনা চক্রে। ঐ দিনই কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসেছেন এবং সেই রাতে ইকবাল হলে অবস্থান করছিলেন ছাত্রলীগ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বুয়েট) শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক ইনু সাহেবের সাথে। ঐ দিন যদি উনি ইকবাল হলে উপস্থিত না থাকতেন তাও পতাকাটা বানানো হতোই। তাছাড়া ডিজাইনার কাকে বলবো? যারা রঙ, নকশা বা থিম করেছেন তাদেরকে, নাকি যিনি এঁকে দিয়েছেন তাঁকে? ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঐ ঘটনায় (পতাকা বানানো) উপস্থিত বেশ কয়েকজনের লেখাতে এসেছে কাজী আরেফ, শাহজাহান সিরাজ, মার্শাল মণি মিলে পতাকার রঙ এবং থিমটা ঠিক করার পরেই আঁকার জন্য শিব নারায়ণ দাসকে ডাকা হয় কারণ তাঁর আঁকা জোঁকার হাত ভালো। তখন থেকে সেলাই করিয়ে আনা পর্যন্ত তিনি পতাকা তৈরির কাজে জড়িত ছিলেন। তিনি একজন জাতীয় বীর। আজীবন সম্মানের পাত্র। তবুও তার প্রতি সম্মান রেখেই একদম প্রথম কথাটা বললাম যে, ‘যদি শিবনারায়ণ দাসকে জাতীয় পতাকার ডিজাইনার বলি তাহলে একই কারণে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলতে হয়’!”

আমাদের কোমল মতি শিশুদের শেখানো হচ্ছে জাতীয় পতাকার ডিজাইনার পটুয়া কামরুল ইসলাম। তিনিও একজন খ্যাতিমান শিল্পী। আমাদের সম্মানের পাত্র। কিন্তু লাল সবুজের আমার জাতীয় পতাকার ইতিহাস জানার পরে তাঁকে আমি কোন ভাবেই পতাকার ডিজাইনার বলতে পারি না। এবারে দেখা যাক সেদিন পতাকা বানানোর পিছনের ইতিহাস।

৬ জুন ‘৭০, জয় বাংলা বাহিনীর ব্যাটেলিয়ন ফ্ল্যাগ বানানো : পতাকা পিছনের ইতিহাস জানতে আমাদেরকে একটু পিছনে যেতে হবে। সময়টা মুক্তিযুদ্ধের নয় বছর আগে, ১৯৬২ সাল। দুই অংশের মধ্যে ১২ শত মাইলের দূরত্ব স্বত্বেও শুধু মাত্র ধর্মের ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পনেরো বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এদেশের মানুষ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেমেছিল স্বাধীনতা প্রাপ্তির বছর না পেরুতেই সব ধূলিসাৎ হয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর একের পর এক চরম বৈষম্য মূলক আচরণে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বুঝতে পারে এর থেকে পরিত্রাণের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। আর এই লক্ষেই দুর্দান্ত প্রতাপশালী শাসক স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের মার্শাল ল বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে একটা ছোট্ট একটা গ্রুপ বাঙ্গালীর জাতীয় রাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তিন জনের সেই গ্রুপে ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আলম খান, ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এবং কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা কাজী আরেফ আহমেদ। ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই তিন ছাত্রলীগ নেতার উদ্যোগে গঠিত হয় ‘নিউক্লিয়াস’ নামের গোপন সংগঠনটি, যা ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামেও পরিচিত। প্রকাশ্যে এই নিউক্লিয়াসের কোনো কর্মকাণ্ড ছিল না। তবে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রাথমিক পর্যায়ে বাঙ্গালী জাতিসত্তার উন্মেষ ঘটিয়ে প্রচারধর্মী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগকে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি প্রগতিশীল সংগঠনে রূপান্তর করে তারই ছত্রছায়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী কর্মী সৃষ্টি করে বাঙলার ন্যায়সঙ্গত দাবি-দাওয়া ভিত্তিক আন্দোলনকে ধাপে ধাপে বাঙ্গালির স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপান্তর করাই ছিল নিউক্লিয়াস বা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের লক্ষ্য। জয় বাংলা শ্লোগানের উত্থান, জাতীয় পতাকা তৈরী ও উত্তোলন করা, সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তার অনুমোদন, স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা, জাতীয় সঙ্গীত নির্ধারণসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের যাবতীয় নীতি কৌশল প্রণয়ন হয় এই নিউক্লিয়াস থেকেই। বঙ্গবন্ধু নিউক্লিয়াস সম্পর্কে অবগত ছিলেন শুরু থেকেই এবং তাঁর সমর্থন ছিল এদের প্রতিটা কাজে। তবে নিউক্লিয়াস সকল বিষয়ে যার কাছ থেকে সব থেকে বেশী সহযোগিতা পেয়েছে তিনি হলেন বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেসা । ‘৬৯ সালে জেল থেকে বেরিয়ে গোল টেবিল বৈঠকে প্যরোলে মুক্তির কঠিন সিদ্ধান্তটি শেখ ফজিলাতুন্নেসার দৃঢ়টার জন্যই ফলপ্রসূ হয়নি। এছাড়াও ‘৭১ সালে মুজিব-ভুট্টো, মুজিব-এহিয়ার আলোচনার সময় বেগম মুজিবের দৃঢ় ও আপোষহীন ভূমিকার কথা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। যাই হোক, আমাদের আলোচনার বিষয় নিউক্লিয়াস নয়, তবুও জাতীয় পতাকার ইতিহাস বলতে গেলে প্রাসঙ্গিক ভাবেই এসে যায় নিউক্লিয়াস নামটি। যা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) এবং পরে মুজিব বাহিনী নাম ধারণ করে।


(কাজী আরেফ, হাসানুল হক ইনু, মাঝে পতাকা সেলাই করা দর্জি আব্দুল খালেক ও নাসিরুল্লাহ, নীচে আসম আব্দুর রব ও শাহজাহান সিরাজ। বড় ছবিতে শিবনারায়ণ দাস।)

১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের পরে বেশ জোড়ে সোরেই এগিয়ে যেতে থাকে এই গোপন সংগঠনের কাজ। তেমনি এক সময়ে ১৯৭০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী সার্জেন্ট জহুরুল হকের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে “১৫ই ফেব্রুয়ারী বাহিনী” গঠন ও মার্চপাসটের মাধ্যমে ছাত্র যুবকদের সুশৃঙ্খল বাহিনীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় নিউক্লিয়াস থেকে নেওয়া হয় । ১৯৭০ সালের ০৭ জুন ছয় দফা দিবসে (মনু মিয়া দিবস) ছাত্রলীগ পল্টন ময়দানে শেখ মুজিবকে গার্ড অব অনার প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অবশ্য এইদিন শ্রমিক লীগই প্রথম শেখ মুজিবকে গার্ড অব অনার দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই প্রেক্ষিতেই ছাত্রলীগ ও উপরোক্ত সিদ্ধান্ত নেয়। এই গার্ড অফ ওনার দেয়াকে আরও অর্থবহ এবং একটা পেশাদারী সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজে পরিণত করতে পোশাক হিসেবে ছেলেদের প্যান্ট শার্ট এবং মেয়েদের সালোয়ার কামিজ বা শাড়ীর রঙ করা হয় সাদা। সাথে সবার জন্যই সাদা কাপড়ের জুতা ও মাথাতে নেতাজী সুবাস চন্দ্র বোসের সামরিক পোশাকের সাথে ব্যবহৃত টুপির সাদৃশ্য টুপি। তবে টুপির রঙ হয় কালচে সবুজের সাথে নীচের দিকে টকটকে লাল। সামনের দিকে হলুদের মাঝে গোল করে “জয় বাংলা” লেখা আলাদা এক খণ্ড কাপড় সেফটিপিন দিয়ে আটকানো। ছাত্রলীগের স্বেচ্ছা সেবকদের নিয়ে মহড়া চলতে থাকে ইকবাল হলের মাঠে। চূড়ান্ত মহড়া হয় ০৬ জুন বিকেলে এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হয় কুচকাওয়াজে বাদক দল সংযোজনের। টুপির কালচে সবুজ ও লাল রঙের এক খণ্ড কাপড় বাদ্যযন্ত্রীদের পিঠে ঝোলানোর ব্যবস্থা করা হয়।

ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এই কুচকাওয়াজ ও গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানের দায়িত্ব অর্পিত হয় “নিউক্লিয়াস” এর তিন প্রতিষ্ঠাতার একজন কাজী আরেফ আহমেদের উপর। ছাত্রলীগের এই বাহিনীর নাম দেওয়া হয় “জয় বাংলা বাহিনী”। ব্যাটেলিয়নের অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় আসম আব্দুর রবকে। সব কিছু চূড়ান্ত হওয়ার পরে ‘নিউক্লিয়াস’ থেকে জয় বাংলা বাহিনীর ব্যাটেলিয়ন ফ্ল্যাগ তৈরীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কাজী আরেফ আহমেদ ১৯৭০ সালের ৬ই জুন রাতে ইকবাল হলের (সার্জেন্ট জোহূরুল হক হল) ১১৬ নম্বর রুমে আসম আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ ও মনিরুল ইসলামকে (মার্শাল মণি) ডেকে জানান জয় বাংলা বাহিনীর ফ্ল্যাগ তৈরীর প্রয়োজনীয়তার কথা। এও জানালেন যে, জয় বাংলা বাহিনীর এই ব্যাটালিয়ন ফ্ল্যাগই অদূর ভবিষ্যতে বাঙ্গালী জাতীয় রাষ্ট্র বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকার সম্মান লাভ করবে*।

ঐ রুমেই অর্থাৎ ইকবাল হলের ১১৬ নম্বর রুমে শুরু হলো পতাকা বানানোর প্রক্রিয়া। আসম আব্দুর রব ও মনিরুল ইসলাম মণি (মার্শাল মনি) বললেন, পতাকার জমিনটা হবে ব্যাটল গ্রিন। শাহজাহান সিরাজ বললেন রক্ত লাল একটা কিছু যেন থাকে পতাকায়। কাজী আরেফ আহমদ তখন গাড় সবুজ জমিনের মাঝখানে গোলাকার লাল রঙের উদিত সূর্য এঁকে সবাইকে দেখান। সেই সময় পাকিস্তানী সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করতে “United state of Bangle” বা “যুক্ত বাংলা” নামের এক কাল্পনিক রাষ্ট্রের প্রচারণা চালাচ্ছিল। তাই কাজী আরেফ বললেন, পতাকার মাঝখানে রক্ত লাল প্রভাত সূর্যের মাঝে সোনালি রঙের (পাটের রং সোনালী এবং পাকা ধান ক্ষেতের রঙও সোনালী) পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা থাকবে। পতাকায় ভূখণ্ডের মানচিত্র সুনির্দিষ্টভাবে থাকলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না পাকিস্তানী সরকারের পক্ষে। সকলে একমত হলেন। ঠিক হয়ে গেলো ব্যাটেলিয়ন ফ্ল্যাগের রঙ, নকশা এবং থিম।

কাপড় সংগ্রহ ও সেলাই এর দায়িত্ব দেয়া হলো হাসানুল হক ইনু ও কামরুল আলম খান খসরুকে। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে নিউ মার্কেট এলাকার বলাকা বিল্ডিঙে ছাত্রলীগের অফিস সংলগ্ন নিউ পাক ফ্যাশন টেইলার্সে গিয়ে কাপড়ের পরিমাণ জেনে নিলেন তাঁরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিউ মার্কেট থেকে নিয়ে আসলেন লেডি হ্যামিলটন কাপড়। বারোটার দিকে কলাপসেবল গেইট বন্ধ করে দিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে পতাকা সেলাই করে দিলেন পাক ফ্যাশনের আব্দুল খালেক ও নাসিরুল্লাহ। কারণ, পাকিস্তানী আইনে এই কাজ ছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। রাত তিনটার দিকে বানানো হয়ে গেলো দুইটি পতাকা। পতাকা নিয়ে ইনু ও কামরুল আলম খান খসরু ফিরে আসলেন ইকবাল হলে। তখনও মানচিত্র বসানো বাকী। সিদ্ধান্ত হলো পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র লাল বৃত্তের মাঝে রঙ দিয়ে আঁকা হবে। এসব করতে করতে রাত প্রায় শেষ। বলাকা ভবনে ছাত্রলীগ অফিস হওয়ায় নিউ মার্কেট কাঁচা বাজার সংলগ্ন এক আর্টিস্ট এর দোকান থেকে তাঁকে ডেকে সংগ্রহ করা হলো সোনালী রঙ এবং তুলি। এদিকে ইনু ছাত্রলীগের একজনকে সাথে নিয়ে গেলেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন জিন্নাহ হলের (বর্তমানে তিতুমীর হল) এনামুল হকের (ইনু সাহেবের কাজিন) ৪০৮ নং কক্ষে। তার কাছ থেকে অ্যাটলাস নিয়ে ট্রেসিং পেপারে পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র একে আনলেন ইকবাল হলে। তখন প্রয়োজন পড়লো একজন অংকন শিল্পীর। সমস্যার সমাধানও হয়ে যায় সাথে সাথেই। কারণ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা কুমিল্লার শিব নারায়ণ দাস ঐ দিনই ঢাকায় এসেছেন এসএম হল ছাত্রলীগের সম্মেলন উপলক্ষে ব্যানার ফেস্টুন লেখার জন্য এবং সেই রাতে ইকবাল হলেই অবস্থান করছিলেন। সবাই জানতেন শিব নারায়ণ দাসের আঁকা আঁকির হাত খুব ভালো। ১১৬ নাম্বার রুমের মেঝেতে বিছিয়ে শিব নারায়ন দাস তার নিপুণ হাতে ট্রেসিং পেপার থেকে ম্যাচের কাঠি দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র আঁকলেন লাল বৃত্তের মাঝে। তাতে দিলেন সোনালি রঙ। তৈরি হয়ে গেল জয় বাংলা বাহিনীর পতাকা এবং অনেকের অজান্তেই রচিত হলো ইতিহাস। এক গর্বিত ইতিহাস। পতাকা তৈরীর পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন কাজী আরেফ আহমেদ, আসম রব, হাসানুল হক ইনু, মার্শাল মণি, শরীফ নূরুল আম্বিয়া, শিব নারায়ণ দাস, শাহজাহান সিরাজ, কামরুল আলম খান খসরু, গোলাম ফারুকসহ আরো কয়েকজন। তাঁরা সত্যিই ভাগ্যবান গর্বিত এই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন।

পরদিন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের ০৭ জুন ছয় দফা দিবসে (মনু মিয়া দিবস) আগের রাতে তৈরী করা ব্যাটেলিয়ন ফ্লাগসহ পল্টন ময়দানে শেখ মুজিবকে গার্ড অব অনার প্রদানের কথা থাকলেও সকালে আবহাওয়া মেঘলা থাকায় এবং এই পতাকার আবেগ বেশী মাত্রায় অনুভব করায় পতাকা প্রদর্শিত করে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে একটা ছোট্ট লাঠিতে পেঁচিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বাহিনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুকে অভিবাদন জানাতে মঞ্চের কাছে গেলে ডাকসুর তৎকালীন ভিপি আসব আব্দুর রব লাঠিতে মোড়ানো পতাকাটি বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দেন। বঙ্গবন্ধু ফোল্ড করা পতাকাটি খুলে একবার আন্দোলিত করেই পাশে থাকা একজনের (কাজী আরেফ বা আব্দুর রাজ্জাক) হাতে দিয়ে দেন। সেখান থেকে ঐ পতাকা চলে যায় হাসানুল হক ইনুর হেফাজতে। এই কুচকাওয়াজের পর পরই ঢাকায় পাড়া মহল্লায় ছাত্র যুব স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে বাহিনী গঠন করে গার্ড অফ ওনার প্রদান শুরু হয়ে যায়। নিজ মহল্লায় চূড়ান্ত কুচকাওয়াজের জন্য তখন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ পতাকাটা ইনুর কাছে থেকে নিয়ে যান। কিন্তু পরবর্তীতে ঘটনা প্রবাহ এতো দ্রুত ঘটতে থাকে যে গার্ড অফ ওনার দেয়ার বিষয়টা চাপা পরে যায়। আর পতাকাটা থেকে যায় জাহিদের মালিবাগের বাসাতেই। প্রায় এক বছর আগে বানানো জয় বাংলা বাহিনীর এই পতাকাই ১৯৭১ এর ২ মার্চ ঢাকা ইউনিভার্সিটির বট তলায় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আহূত ছাত্র জনসভায় লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে প্রদর্শন ও উত্তোলন করেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আসম রব। ঐ দিন পতাকা প্রদর্শনের (উত্তোলনের) সিদ্ধান্তও ছিল নিউক্লিয়াসের।**

১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ পাকিস্তান রিপাবলিক দিবসে পল্টন ময়দানে আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তানী পতাকা পুড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। জয় বাংলা বাহিনীর চারটি প্লাটুন কুচকাওয়াজ দ্বারা ঐ পতাকাকে অভিবাদন জানান। কুচকাওয়াজে নেতৃত্ব দেন জয় বাংলা বাহিনীর কমান্ডার আসম রব, সাথে ছিলেন হাসানুল হক ইনু ,কামরুল আলম খান খসরু। আসম রব সামরিক কায়দায় বঙ্গবন্ধুকে অভিবাদন জানান এবং পতাকা বঙ্গবন্ধুকে প্রদান করেন। তখন বঙ্গবন্ধুর সাথে মঞ্চে ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক, কাজী আরেফ আহমেদ, শেখ ফজলুল হক মণি, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ প্রমুখ। ঐ দিনই বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ও গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তোলনের পূর্বে বঙ্গবন্ধু নিজেই পতাকাটি বাসার সামনে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে কয়েকবার আন্দোলিত করেন। এই পতাকাই পরবর্তীতে প্রবাসী সরকার অনুমোদন করেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই পতাকাই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর লাল সবুজের মাঝে সোনালী রঙের মানচিত্র বসানো এই পতাকা নিয়েই বিজয়ীর বেশে মুক্তিযোদ্ধারা ঘরে ফেরেন।


(ছবি- ২৩ মার্চ ১৯৭১, বাম থেকে দ্বিতীয় আব্দুল কুদ্দুস মাখন, আসব রব, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ। হাসানুল হক ইনু পতাকা উত্তোলন এবং কামরুল ইসলাম খসরু (পরবর্তীতে ওরা এগারোজন সিনেমার নায়ক) গান ফায়ার করছেন।)

জাতীয় পতাকায় সামান্য পরিবর্তন/সংশোধন : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন লাল সবুজের মাঝে সোনালী রঙের মানচিত্র বসানো পতাকাই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা মুজিব নগর সরকার কর্তৃক ব্যবহৃত হয়। কিন্তু কিছু সমস্যা ও জটিলতার কারণে স্বাধীনতার পর পরই (১৯৭২ সালের প্রথমেই) এই পতাকা সামান্য পরিবর্তন/সংশোধনের করা হয়। কারণ, মানচিত্রসহ পতাকা বানানোটা ছিল বেশ কঠিন, তাছাড়া মানচিত্র উভয় পাশ থেকে একই রকম লাগেনা দেখতে। এক পাশে মানচিত্র প্রদর্শিত হলেও অপর দিকে উল্টোভাবে প্রদর্শিত হয়। দায়িত্ব পরে পটুয়া কামরুল হাসানের উপরে। তিনি শুধু পতাকা থেকে বাংলাদেশের মানচিত্র বাদ দেন। সবুজ বাংলার পটভূমিতে টকটকে লাল সূর্য ও শত শহীদের রক্তস্নাত স্বাধীনতার প্রতীক এই পতাকা।

শেষ কথা : পটুয়া কামরুল হাসানকে জাতীয় পতাকার ডিজাইনার বলা হচ্ছে পাঠ্য পুস্তকে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে ১৯৭০ এর ০৬ জুন দিবাগত রাতে বানানো এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিব নগর সরকার কর্তৃক ব্যবহৃত পতাকা থেকে তিনি শুধুমাত্র মানচিত্রটা বাদ দিয়েছেন। তাই আমি কোন ভাবেই এটা বলতে পারি না আমাদের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কামরুল হাসান। আগেই বলা হয়েছে ঐ পতাকা বানানোর সাথে কারা জড়িত ছিলেন। আসলে এই পতাকা ছিল একটা সম্মিলিত প্রয়াস। তাই কারও নাম নিতে হলে ঐ দিন পতাকা বানানোর প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত প্রত্যেকের নামই বলা উচিৎ। সেই সাথে চূড়ান্ত করার জন্য পটুয়া কামরুল হাসানের। কিন্তু আমরা কি তা করছি? করছি না। পাঠ্য পুস্তকে ডিজাইনার হিসেবে নাম বলা হচ্ছে কামরুল হাসানের, আমাদের কোমল মতি শিশুদের পাঠ্য পুস্তকের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার ভুল ইতিহাস শেখানো হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে।

৬ জুন ১৯৭০ রাতে পতাকা বানানোর প্রক্রিয়ায় যারা জড়িত ছিলেন তাঁদের মধ্যে এই বিষয়ে প্রত্যেকের ভাষ্য পাওয়া গেলেও শুধুমাত্র শিব নারায়ণ দাস এই প্রসঙ্গে কোন কথা বলেননি। তাই তাঁর ভাষ্য পাওয়া যায়নি। তিনি এড়িয়ে যান। শিবুদা অভিমানী। তাঁর হয়তো কোন অভিমান রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস উপস্থাপন করার স্বার্থেই তাঁর উচিৎ নীরবতা ভেঙে আমাদের জাতীয় পতাকার গর্বিত ইতিহাসকে সম্পূর্ণ এবং সমৃদ্ধ করা।

* পতাকায় লাল বৃত্তে সোনালী মানচিত্র বসানোর প্রস্তাবটা কে দিয়েছেন তা নিয়ে দুই ধরণের বক্তব্য পাওয়া যায়। কাজী আরেফ এবং ইনুর বক্তব্য অনুয়ায়ী প্রস্তাবটা করেছেন কাজী আরেফ এবং মার্শাল মণির বক্তব্য সেটা করেছেন নিউক্লিয়াসের প্রধান সংগঠক সিরাজুল আলম খান। তবে প্রস্তাব যে ই করে থাকুন সব কিছুর মতো এই সিদ্ধান্তটা গ্রহণ করেন নিউক্লিয়াসের তিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং তা বঙ্গবন্ধুর জ্ঞাতসারেই। পতাকা প্রদর্শনের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর অনুমোদন নেন আব্দুর রাজ্জাক। যিনি ছিলেন নিউক্লিয়াস তথা ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধুর মধ্যে সমন্বয়কারীর দায়িত্বপ্রাপ্ত।

** এপ্রসঙ্গে সাংবাদিক লেখক মাসুদুল হকের “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে র এবং সিআইএ” গ্রন্থে লেখক কর্তৃক নেয়া ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ, তাঁর মা, আসম রব ও ইনুর সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত জানা যায়।

কৃতজ্ঞতা: শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের বড় ভাইয়ের কন্যা কাজী সালমা সুলতানা। যিনি কাজী আরেফ আহমেদের অপ্রকাশিত শিরোনামহীন পাণ্ডুলিপি (আইএইচএন কর্তৃক প্রকাশিতব্য) থেকে লিখেছেন ফেসবুক নোট “স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ও জয় বাংলা বাহিনী”।

তথ্য সুত্রঃ
১) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সমাজতন্ত্র : মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মণি), এবছরের একুশে বই মেলায় প্রকাশিত
২) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে র এবং সিআইএ : মাসুদুল হক
৩) প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুর পরে তাঁকে নিয়ে লেখা নিউক্লিয়াসের সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার এবিএম আহসান উল্লাহ সাহেবের প্রবন্ধ।
৪) বিভিন্ন সময়ে পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত আব্দুর রাজ্জাক, কাজী আরেফ, হাসানুল হক ইনু, আসব বর, শাহজাহান সিরাজের সাক্ষাৎকার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫১ thoughts on “বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ইতিহাস ও কিছু কথা

  1. নেট লাইনের অবস্থা এতোই খারাপ
    নেট লাইনের অবস্থা এতোই খারাপ যে এই পোস্ট দিতে অনেক সময় চলে গেলো। শেষ দিকে একটু তাড়াহুড়াও করতে হয়েছে। স্পেলিং এবং টাইপিং মিসটেক থাকতে পারে। সেজন্য আগেই বলে রাখছি।

  2. যথেষ্ট পড়াশোনা করে লিখেছেন.
    যথেষ্ট পড়াশোনা করে লিখেছেন. ধন্যবাদ….
    তবে যে সেব বইয়ের রেফারেন্স দিয়েছেন তার সততা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে।
    যেভাবে ৫২’র ভাষা আন্দোলনে রাজনীতি ও তৎকালীন ছাত্রনেতাদের নাম এসেছে- অনেক পরে. যখন সাধারণ ছাত্রদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে ২১ ফেব্রুয়ারির গেীরবময় আন্দোলনের কৃতিত্ব… এ প্রসঙ্গে ভাষা সৈনিক আহমদ রফিক একটা বই লিখবেন বলে জানিয়েছিলেন ২০১২ সালের শুরুতে। তাই এই বইগুলোর ক্ষেত্রেও ছুরি কাচি নিয়ে বসে পড়াশোনা করা উচিত।

    1. আমি শুধু ঐ বইগুলোর উপরেই
      আমি শুধু ঐ বইগুলোর উপরেই নির্ভর করে লিখিনি। সেদিন যারা উপস্থিত ছিলেন তাঁদের অনেকের সাথে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা থেকেও জেনেছি। ঘটনাচক্রে আমার চাচাও ছিলেন। তেমন নাম করা কেউ নন বলে তাঁর নামটা আমি আনিনি। আর মাসুদুল হকের বইটা হচ্ছে একটা দলিলের মতো। উনি নিউক্লিয়াসের কট্টর বিরোধী বলেই প্রতীয়মান হয়েছে তাঁর লেখায়। এই বিষয়ে সার্চ দিলে অনেক লেখা পাবেন, সব গুলোতেই একই নামগুলা আছে ঘুরে ফিরে। আর টেইলরে গিয়ে সেলাই করে আনা প্রসঙ্গটা এতো বিস্তারিত আমি অন্য কোন লেখায় পাইনি। মানে ঐ দুই জনের নাম, ছবিসহ, সব লেখাতেই শুধু পাক ফ্যাসন টেইলারসের নাম আছে। যাই হোক, ইচ্ছা আছে নিউক্লিয়াস নিয়ে একটা লেখা দেয়ার। সেখানে আরও ক্লিয়ার জানা যেতে পারে সব কিছু। এবং গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্যও লাগতে পারে এই লেখা। ………… আপনাকে ধন্যবাদ সুন্দর কমেন্টের জন্য।

  3. আপনার সাথে এক মত যে, যারা
    আপনার সাথে এক মত যে, যারা পতাকা বানানোর সাথে যুক্ত ছিলেন তাদের প্রত্যেকেরই নাম নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যিনি থিম নির্বাচন করেছেন।

    এবং আপনাকে ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

  4. অনেক ধন্যবাদ তথ্যগুলো আমাদের
    অনেক ধন্যবাদ তথ্যগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
    :salute:
    আর কিছুদিন পর আপনার একাউন্টটা আরেকটা উইকিপিডিয়া হিসেবেই কাজে দিবে আমার জন্য। 😀

  5. দুই অংশের মধ্যে ১২ মাইলের

    দুই অংশের মধ্যে ১২ মাইলের দূরত্ব স্বত্বেও শুধু মাত্র ধর্মের ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পনেরো বছর পার হয়ে গেছে।

    —– ঠিক করে দিয়েন । ইতিহাসটা জানা ছিলনা । আপনি যে বইগুলোর রেফারেন্স দিলেন এর প্রতিটি তেই কি এই বিষয়ে লেখা ছিল ? আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন চমৎকার একটা পোস্টের জন্য ।

  6. মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ একটা
    মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ একটা পোস্ট। বারবার ধন্যবাদ দিয়ে আপনাকে ছোট করার ইচ্ছা নাই। তাই নিজ থেকে ধন্য হয়ে যান।

    এই ইতিহাসের এক বিন্দুও জানতাম না। এখন জানলাম। অন্যকেও জানাবো।

    বাঁচতে হলে জানতে হবে। কারন ইতিহাস বিকৃতি এইডসের অপর নাম। ইতিহাস বিকৃতি পশুকে মানুষ বানিয়ে দেয়। মানুষ নিশ্চয় পশু অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী।

    1. বাঁচতে হলে জানতে হবে। কারন

      বাঁচতে হলে জানতে হবে। কারন ইতিহাস বিকৃতি এইডসের অপর নাম। ইতিহাস বিকৃতি পশুকে মানুষ বানিয়ে দেয়। মানুষ নিশ্চয় পশু অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী।

      ধন্যবাদ। ভালো বলছেন।

  7. দেরী করে ফেললাম!! দুঃখিত…
    দেরী করে ফেললাম!! দুঃখিত… এমন একটি অসাধারণ পোস্ট আরও আগেই পড়া উচিৎ ছিল!!
    সোজা প্রিয়তে!! যখনই পড়তে মন চাইবে একবার ডু মারতে হবে!! অনবদ্য…
    ভাই আপনাকে :salute:
    আর সকল মুক্তিযুদ্ধা এবং পতাকার মুল কারিগরদের শত-সহস্র :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

  8. এই লেখা পড়েছিলাম ফেসবুকে। এতো
    এই লেখা পড়েছিলাম ফেসবুকে। এতো ডিটেইলস নয়। কিন্তু বক্তব্য সেইম। সম্ভবত “মুক্তিযোদ্ধা ছাত্র কমান্ড” নামের আইডি থেকে পোস্ট দেয়া হয়েছিল। সবাইকে নিয়ে যে ছবিটা সেটা সহ। মনিরুল ইসলামের বইটা পড়া হয়নি। এছাড়া মাসুদুল হকের “স্বাধীনতা যুদ্ধে র এবং সিআইএ” গ্রন্থটা বেশ তথ্য সমৃদ্ধ এবং সর্ব মহলে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল। কারণ সেখানে প্রতিটি ঘটনায় রেফারেন্স ছিল। আপনি যে ছবি ব্যবহার করেছেন বা ছাত্রলীগ নেতা জাহিদের নাম বলেছেন এসব ঐ বই থেকে সংগৃহীত তথ্য বলেই মনে হচ্ছে। আর …………… ভালো লিখেছেন।

    আসলে এই পতাকা ছিল একটা সম্মিলিত প্রয়াস। তাই কারও নাম নিতে হলে ঐ দিন পতাকা বানানোর প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত প্রত্যেকের নামই বলা উচিৎ। সেই সাথে চূড়ান্ত করার জন্য পটুয়া কামরুল হাসানের।

    এটাই সারাংশ হওয়া উচিৎ। বিশেষ করে কাজী আরেফ, সিরাজুল আলম খান, মনিরুল ইসলাম, আসম বর, শাহজাহান সিরাজ, ইনু,শিব নারায়ণ দাস,শরীফ নূরুল আম্বিয়া,গোলাম ফারুক এই নামগুলো। এছাড়া আপনি সম্ভবত চিশতি সাহেবের নামটা ভুলে বাদ দিয়েছেন। মানে বাদ পড়ে গেছে। সেদিন উনিও ছিলেন সেই কর্মযজ্ঞে। যাই হোক, ধন্যবাদ দারুণ পোষ্টের জন্য।

  9. আপনার কথা ও রেফারেন্স নিয়ে
    আপনার কথা ও রেফারেন্স নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকলেও একটা বিষয় চরম সত্য যে, আমাদের জাতীয় পতাকার থিম, ডিজাইন, আঁকা আঁকি, সাইজ মিলানো, সেলাই ইত্যাদি একজন করেননি বা সেই সময়ে একজনের পক্ষে করাও সম্ভব নয়।সুতরাং পতাকা তৈরীর পুরো কৃতিত্ব একজনকে(পটুয়া কামরুল হাসান) দেয়া আসলেই অযৌক্তিক।

    অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক সংশোধনের মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাসটি তুলে ধরে, পতাকা তৈরীতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মানিত করার দাবী জানাই।

    1. ধন্যবাদ শহীদ ভাই। আমি এই
      ধন্যবাদ শহীদ ভাই। আমি এই বিষয়টা নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করছি। সেটা করতে গিয়ে দেখছি ঘুরে ফিরে এই নামোগুলোর কথাই পাওয়া যায় সব খানে। এই জন্য বলেছে এটা সম্মিলিত প্রয়াস। তাই কাউকে এককভাবে কৃতিত্ব দেয়া উচিৎ নয়।

  10. চমৎকার এবং তথ্যবহুল পোস্ট।
    চমৎকার এবং তথ্যবহুল পোস্ট। অর্ন্তজালের এসব লেখা আমাদের প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস থেকে রক্ষা করবে। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই পোস্টটি যদি অন্য কোন ব্লগে প্রকাশ না হয়ে থাকে তবে স্টিকি করা হোক।

    1. আর কোথাও দেইনি। ফেসবুকেই
      আর কোথাও দেইনি। ফেসবুকেই দিছিলাম অনেক শর্ট করে। ব্লগ বলতে এখানেই ফার্স্ট। ধন্যবাদ ডিয়ার চন্দ্রবিন্দু।

  11. চমৎকার লিখেছেন।
    মুক্তিযুদ্ধের

    চমৎকার লিখেছেন।
    মুক্তিযুদ্ধের সকল কৃতিত্ব রাজনৈতিকভাবে আওয়ামীলিগের ঘরে তোলার নোংরা রাজনৈতিক প্রচেষ্টা কারণে ইতিহাসটি বিকৃত হয়েছে। যারা এই কাজের সাথে জড়িত ছিল, তাদের অনেকেই বেঁচে আছেন। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিডিয়ায় স্বাধীন বাংলায় প্রথম পতাকা উত্তোলন দিবসের দিন আলোচনায় সঠিক ইতিহাসকে তুলে আনার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু চেতনার একক অংশীদারদের কারণে এই ইতিহাস আলোর মুখ দেখছেনা।

    অবাক হলাম, এই পোস্টটি কেন স্টিকি হল না? ইস্টিশন মাস্টার কি ঘুমাচ্ছেন?

    1. মুক্তিযুদ্ধের সকল কৃতিত্ব

      মুক্তিযুদ্ধের সকল কৃতিত্ব রাজনৈতিকভাবে আওয়ামীলিগের ঘরে তোলার নোংরা রাজনৈতিক প্রচেষ্টা কারণে ইতিহাসটি বিকৃত হয়েছে।

      আওয়ামী না হয় বিকৃত করছে বাকি দল গুলো কি তখন বসে আঙ্গুল চুষেছে

      1. বাকী দল তখন কয়টা ছিল? সিপিবি,
        বাকী দল তখন কয়টা ছিল? সিপিবি, ন্যাপ তো তখন আওয়ামীলীগের সাথে। বাকি থাকে শুধু জাসদ। আপনি নিশ্চয়ই বিএনপির কাছে আওয়ামীলীগের স্বীকৃতি আশা করতে পারেন না। তেমনি স্বাধীনতার পরে জাসদ ও আওয়ামীলীগের অবস্থান কি এখনকার বিএনপি-আলীগের মতো ছিল না? তাহলে আর কেমন করে কি করবে?

      2. আওয়ামীলীগ সমর্থকদের এটি একটি
        আওয়ামীলীগ সমর্থকদের এটি একটি কমন কথা- ‘আওয়ামীলীগ পারে নাই, অন্যরা কি করেছে’? এই ধরনের মন্তব্যকে বলা যায় প্রসঙ্গকে পাশ কাটানোর চেষ্টা। মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষের কেউ কি অন্যদের প্রতি আস্থা রেখেছে কখনো? যাদের প্রতি আস্থা রাখা যেত, তারা কি কখনো ক্ষমতায় এসেছে?

        আওয়ামীলীগের মধ্যে বাম বিদ্বেষীভাব স্বাধীনতার পরে যেমন ছিল, এখনো তেমন আছে। বর্তমানের বাম বিদ্বেষী আচরণ এত নোংরা পর্যায়ে চলে গেছে যে, নিকট আগামীতে এর খেসারত দিতে হবে। পুর্বেও বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার সুযোগ হয়েছিল আওয়ামীলীগের এক রোখামী আচরনের কারণে। তাজউদ্দিনের চেয়ে খন্দকার মোস্তাকের মুল্য অনেক বেশী ছিল বঙ্গবন্ধুর কাছে।

        1. বামেরা সরকারকে মিস গাইড করছে
          বামেরা সরকারকে মিস গাইড করছে এমন একটা অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। আমার ধারণা বাংলাদেশ প্রতিদিনের পীর হাবিবুর রহমান প্রথম এই বিষয়ে লেখার পর থেকেই এমন ধারণা জন্মেছে কট্টর আওয়ামী সমর্থকদের। …… আমার প্রশ্ন বামেরা খারাপ, বুঝলাম। তাহলে আওয়ামীলীগের মতো প্রাচীন দলে এই বামেরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন কিভাবে?? দলে কি নেতৃত্ব দেয়ার লোকের অভাব হয়েছে? এটার উত্তরে বলা হয়, নেত্রীকে ভুল বুঝিয়ে এসব করা হচ্ছে। কি আজব কথা। এই কথাটা বলার মানে কি তাঁরা জানেন? আরে ভাইয়েরা, নেত্রীকে ভুল বুঝালো কেউ আর উনিও বুঝলেন!! তাহলে তো তারই নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। কারণ তিনি অন্যেরকথায় প্রভাবিত হচ্ছেন (আপনাদের কথায়)।

        2. জাতীয় পতাকার ইতিহাস আওয়ামীলীগ
          জাতীয় পতাকার ইতিহাস আওয়ামীলীগ এর কারণে বিকৃত হয়েছে এটা এই প্রথম আপনার মুখে শুনলাম। আমার জানা মতে শিল্পী কামরুল হাসান কোন দল করেতেন না। কিভাবে আওয়ামীলীগ জাতীয় পতাকার ইতিহাস বিকৃত করল ঠিক বোধগম্য হল না।

          “আওয়ামীলীগ পারে নাই অন্যেরা কি করেছে” এই প্রশ্ন এই কারণে আসে যে, কাজ না করতে পারলেও কথার ওজনে তো বাকিদের কম নাই।
          মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি একে অপরকে আস্থা রাখেনি সে দোষ কি আওয়ামীলীগ এর? থাকলেও, সেটা কি তার একার?
          দলের নীতি গত ভাবেই কিন্তু বামের সাথে আওয়ামীলীগ এর পার্থক্য আছে। স্বাধীনতার পরে বাম বিরোধী মন ভাবের জন্য দোষ কার? আওয়ামীলীগ এর? যে দেশের মানুষের পেটে ভাত নাই, গায়ে পোশাক নাই, চাষের হাল নাই, রাস্তা ঘাঁট নাই সেই দেশে বিপ্লবের নামে কি করেছে বামেরা, মানুষ জানেনা? এগুলো আপনিও ভাল করেই জানেন?

          পুর্বেও বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার সুযোগ হয়েছিল আওয়ামীলীগের এক রোখামী আচরনের কারণে

          এই বিষয় নিয়ে পরে কোন পোস্টে আলোচনা করা যাবে।

          তাজউদ্দিনের চেয়ে খন্দকার মোস্তাকের মুল্য অনেক বেশী ছিল বঙ্গবন্ধুর কাছে।

          কেন তাজউদ্দীনের চাইতে মোস্তাকরা মূল্যায়িত হয়। আন্তর্জাতিক বিষয় বাদ দিলাম সদ্য স্বাধীন দেশ, ভঙ্গুর অর্থনীতি, ক্ষুধার্ত মানুষের মুখ, লোভী আখের গোছানর দল, বামদের সাম্যের আন্দোলন, বাদ ছিল কিছু? অসহিষ্ণু জনগন দেশ স্বাধীন হয়ছে এবার সরকার খাওয়াবে এমন চিন্তা কি করে নাই।

          “ভাত দে হারামজাদা নইলে তোর মানচিত্র চিবিয়ে খাবো” এই জাতীয় কবিতা লেখা হয় নাই?
          বাঙ্গালীর ভাতের ব্যবস্থা করতে গিয়েই মোস্তাকরা বারে বারে কাছে চলে আসে।

    2. ধন্যবাদ দুলাল ভাই। এটা খুবই
      ধন্যবাদ দুলাল ভাই। এটা খুবই পরিস্কার যে মুক্তিযুদ্ধের পরে নিউক্লিয়াসকে অস্বীকার করা হয়েছে আওয়ালীগের পক্ষ থেকে এবং সেটা করা হয়েছে সমাজতন্ত্র ভীতি এবং শেখ মণি প্রবর্তিত “মুজিববাদ” কে একটা মতবাদ হিসেবে দাঁড় করানোর জন্যই। সেটা না করা হলে জাসদের জন্ম হতো না। দেশের চেহারাও অন্য রকম হতে পারতো।

  12. খুব ভাল তথ্যবহুল একটি পোস্ট।
    খুব ভাল তথ্যবহুল একটি পোস্ট। কিন্তু প্রথম দিকে আমার কিছু জানার ছিল। লাল সবুজের ধারণা নিশ্চয় হঠাৎ করেই কাজী আরেফ, হাসানুল হক ইনু, আসম আব্দুর রব ও শাহজাহান সিরাজের মনে আসেনি। এই ঘটনাক্রমের শুরুটা জানতে পারলে ভাল লাগতো।

    1. অবশ্যই। সামনের পোস্টে হয়তো
      অবশ্যই। সামনের পোস্টে হয়তো জানতে পারবেন। শুধু এটুকু বলে রাখি –

      পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগের উদ্যোগে ১৯৬৯ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ঢাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষা দিবস এর আলোচনা সভা চলাকালীন অনেকটা হটাত চিৎকার করে “জয় বাংলা” শ্লোগান দিলেন ছাত্রলীগ ও নিউক্লিয়াসের সদস্য আফতাব উদ্দিন আহমেদ, পরক্ষনেই সেই শ্লোগানের রিপ্লাই দিলেন চিশতী শাহ হেলালুর রহমান। এরপরে কিছুক্ষণ ঐ শ্লোগান চললো। সেটাই এই বাংলার বুকে প্রথম জয় বাংলা শ্লোগান উচ্চারণ করা।

      পরের বছর ১৯৭০ সালের ৪ জানুয়ারী ছাত্রলীগের ২২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচী ছিল রমনা বটমূলে সভা ও সেখান থেকে র‍্যালী। সেই সভায় প্রধান অতিথি ও সভাপতি ছিলেন যথাক্রমে বঙ্গবন্ধু ও মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাপের মোজাফ্ফর আহমেদ। প্রকাশ্য রাজনীতি শুরুর পরে সেটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রথম প্রকাশ্য সভায় বক্তৃতা করা। আর এই কারণেই ব্যাপক উপস্থিতি রমনার বটমূলে। মঞ্চে বসে থাকা বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের পিছনে দেবদারু পাতায় ছাওয়া ব্যানারে হলুদ গাঁদা ফুল দিয়ে লেখা ছিল পাঁচটি অক্ষর “জয় বাংলা”, যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ঐ সমাবেশেই বক্তব্য শেষে সিরাজুল আলম খান বললেন জয় বাংলা। এতেই মুহুর্মুহু ঐ শ্লোগানে মুখরিত হয় পুরো এলাকা। পরে ঐ ব্যানারসহ র‍্যালী শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পর দিন ৫ জানুয়ারী দেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোর কোন কোনটিতে প্রথম পাতায় ছবিতে বক্তৃতারত বঙ্গবন্ধুর পিছনে পরিষ্কার জয় বাংলা লেখাটা দেশবাসীর দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি।

      একই বছর ৭ জুন ছয় দফা দিবসে বঙ্গবন্ধুকে দেয়া গার্ড অফ অনার উপলক্ষে জয়বাংলা বাহিনীর সদস্যদের পোশাকের রঙ নির্ধারণ করা হয় সাদা এবং সাথে সবার জন্যই সাদা কাপড়ের জুতা ও মাথাতে নেতাজী সুবাস চন্দ্র বোসের সামরিক পোশাকের সাথে ব্যবহৃত টুপির সাদৃশ্য টুপি। তবে টুপির রঙ হয় কালচে সবুজের সাথে নীচের দিকে টকটকে লাল। সামনের দিকে হলুদের মাঝে গোল করে “জয় বাংলা” লেখা আলাদা এক খণ্ড কাপড় সেফটিপিন দিয়ে আটকানো। এবং বাদক দলের টুপির মতো কালচে সবুজ ও লাল রঙের এক খণ্ড কাপড় বাদ্যযন্ত্রীদের পিঠে ঝোলানোর ব্যবস্থা করা হয়। (এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, চূড়ান্ত সময়ে বাদ্যযন্ত্রীদের পিঠে লাল সবুজ একখণ্ড কাপড় ঝোলানোর ব্যবস্থা করা হয় যা মূলত টুপির কাপড় থেকে বেঁচে যাওয়া কাপড় দিয়েই বানানো হয়। মানে নতুন কাপড় কেনার দরকার ছিল না। কারণ, নিউ মার্কেটের এক নম্বর গেটের পাশে এক দর্জির দোকানে টুপিগুলো বানানো হয় যেখানে বেশ কিছু লাল সবুজ কাপড় বেঁচে গিয়েছিল। ঐ দর্জির দোকানের মালিক ছিলেন প্রয়াত বিএনপি, আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুর রহমানের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান।)

      আপনি জানতে চেয়েছেন হটাত করে তো ওনাদের মনে আসেনি সবুজ লাল রঙের কথা। ঠিক। আমি ব্যাপারটা এভাবে দেখছি যে, প্রথমত, আমাদের এই দেশ সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা। এখান থেকে সবুজটা আসতেই পারে। তাছাড়া আমাদের সবুজ বাংলার সাথে স্বাধীনতার রক্ত লাল সূর্য (শহীদদের রক্ত) কম্বিনেশনটাও আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত উপরের ঘটনাগুলোতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সময় লাল, সবুজ এবং হলুদ রঙ ব্যবহার করা হয়। এরপরেই আসে পতাকা বানানোর প্রক্রিয়া। সেখানে পতাকার রঙটা ঐ তিন রঙ থেকে হতেই পারে কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই। যা আমার কাছে স্বাভাবিক এবং গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। …………… আপনাকে ধন্যবাদ।

      1. এই বিষয়েই একটা পোস্ট আশা করছি
        এই বিষয়েই একটা পোস্ট আশা করছি উত্তরবাংলা ভাইয়ের কাছে। খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। ধন্যবাদ।

  13. উত্তর বাংলা ভাই, আপনি তো
    উত্তর বাংলা ভাই, আপনি তো ইশটিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেলেন। আপনার অধিকাংশ পোস্টই মনে হয় স্টিকী হয়েছে।
    আসেন চা খাই। :চা: :চা: :চা: :চা: :চা:

  14. শিক্ষা এবং জানার কোন শেষ নাই।
    শিক্ষা এবং জানার কোন শেষ নাই। আবারও আপনার পো্স্টে প্রমানিত হলো। ইতিহাস শিক্ষা বিষয়ক পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  15. আপনার পোস্টগুলো পড়তেছি কিছু
    আপনার পোস্টগুলো পড়তেছি কিছু দিন থেকে। অসাধারণ সব বিষয়ে পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন। ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না। আপনার লিখনি যেন থেমে না যায়। সত্য প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এসবের দরকার আছে। ………… একটা ব্যক্তিগত রিকোয়েস্ট। ফেসবুকে আমার আইডিতে একটা রিকোয়েস্ট দিয়েন, নাহয় আপনার আইডির লিংকটা। আপানার সুসবাস্থ কামনা করছি।

    1. তানভীর কি ফান করলা? তুমি তো
      তানভীর কি ফান করলা? তুমি তো আমার সাথে অ্যাড আছোই। নিকের কারণে না চিনতে পারার কথা না। সন্ধ্যায় তো প্রেসক্লাবে আসবা, না? তখন কথা হবে। এখন সন্ধ্যা পর্যন্ত খুঁজতে থাকো। পেয়ে যাবা।

  16. বিষয়টা সামনে আনার জন্য আপনাকে
    বিষয়টা সামনে আনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। কিছুটা জানলেও এতো বিস্তারিত জানা ছিল না।

    আসলে এই পতাকা ছিল একটা সম্মিলিত প্রয়াস। তাই কারও নাম নিতে হলে ঐ দিন পতাকা বানানোর প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত প্রত্যেকের নামই বলা উচিৎ। সেই সাথে চূড়ান্ত করার জন্য পটুয়া কামরুল হাসানের। কিন্তু আমরা কি তা করছি? করছি না। পাঠ্য পুস্তকে ডিজাইনার হিসেবে নাম বলা হচ্ছে কামরুল হাসানের, আমাদের কোমল মতি শিশুদের পাঠ্য পুস্তকের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার ভুল ইতিহাস শেখানো হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে।

    এটাই মূল কথা হওয়া উচিৎ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

56 − 51 =