জয় বাংলা শ্লোগানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

“জয় বাংলা”! রক্তে শিহরন জাগানিয়া একটা শ্লোগান। পাঁচ ফেব্রুয়ারীর নজিরবিহীন গণজাগরণের পূর্বে দীর্ঘ একটা সময় ধরে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানটা একটা নির্দিষ্ট দলের শ্লোগান হিসেবেই আখ্যায়িত হয়ে এসেছে। কিন্তু আসলেই কি জয় বাংলা কোন দলের নিজস্ব শ্লোগান? না, জয় বাংলা বাঙালী জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার ন্যায় সংগত দাবী দাওয়া ভিত্তিক আন্দোলনকে ধাপে ধাপে বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপান্তরের মূল শ্লোগান। আসলে জয় বাংলা শুধুই শ্লোগান নয়, “জয়বাংলা” বাঙ্গালী জাতির স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের শানিত অস্ত্র, জয় বাংলা একটি দর্শন। আসুন দেখা যাক কিভাবে আসলো জয় বাংলা শ্লোগান।

১৯৬৯ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করে। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে প্রথম দিন অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাবি ক্যাম্পাসের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটা সাধারণ ছাত্র সভা ডাকা হয়। সভা চলাকালীন অনেকটা হটাৎ করেই সবাইকে চমকে দিয়ে চিৎকার করে “জয় বাংলা” শ্লোগান দিলেন জিন্নাহ হলের ছাত্র (সূর্যসেন হল) ছাত্রলীগের আফতাব উদ্দিন আহমেদ, পরক্ষনেই সেই শ্লোগানের রিপ্লাই দিলেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক চিশতী শাহ হেলালুর রহমান। এরপরে কিছুক্ষণ ঐ শ্লোগান চললো। সেটাই এই বাংলার বুকে প্রথম “জয় বাংলা” শ্লোগান উচ্চারণ করা। এই দুই ছাত্রনেতাই ছিলেন নিউক্লিয়াস সদস্য। যদিও এর আগে “স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ” হাতে লেখা তিন পাতার একটি পত্রিকায় কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ করে, যার নাম ছিল “জয় বাংলা”।

পরের বছর ১৯৭০ সালের ৪ জানুয়ারী ছাত্রলীগের ২২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচী ছিল রমনা বটমূলে সভা ও সেখান থেকে র‍্যালী। সেই সভায় প্রধান অতিথি ও সভাপতি ছিলেন যথাক্রমে বঙ্গবন্ধু ও মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাপের মোজাফ্ফর আহমেদ। প্রকাশ্য রাজনীতি শুরুর পরে সেটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রথম প্রকাশ্য সভায় বক্তৃতা করা। আর এই কারণেই ব্যাপক উপস্থিতি রমনার বটমূলে। মঞ্চে বসে থাকা বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের পিছনে দেবদারু পাতায় ছাওয়া ব্যানারে হলুদ গাঁদা ফুল দিয়ে লেখা ছিল পাঁচটি অক্ষর “জয় বাংলা”, যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ঐ সমাবেশেই বক্তব্য শেষে সিরাজুল আলম খান বললেন জয় বাংলা। এতেই মুহুর্মুহু ঐ শ্লোগানে মুখরিত হয় পুরো এলাকা। এতে আওয়ামীলীগের কিছু সংখ্যক নেতা পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে রাগারাগি করেন। তাঁরা জয় বাংলা শ্লোগান দেয়া ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ইত্যাদি বলে অভিহিত করেন। তারপরেও ওই শ্লোগান চলে দীর্ঘ ক্ষণ। পরে জয় বাংলা লেখা ঐ ব্যানারসহ র‍্যালী শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পর দিন ৫ জানুয়ারী দেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোর কোন কোনটিতে প্রথম পাতায় ছবিতে বক্তৃতারত বঙ্গবন্ধুর পিছনে পরিষ্কার জয় বাংলা লেখাটা দেশবাসীর দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি।

১৯৭০ এর ১১ জানুয়ারী, রোববার পল্টন ময়দানের আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের জনসভায় পুরো পল্টন জুড়ে ছিল প্রচুর জনসমাগম। একমাত্র মসজিদটি ছাড়া তখনকার আউটার স্টেডিয়ামে আর কোনো স্থাপনা ছিল না। পেছনে ডিআইটির দিকে বাস্কেটবল খেলার জন্য ছোট ছোট স্টেডিয়ামের মতো কয়েকটি স্থাপনা ছিল মাত্র। সে সময় পল্টন ময়দানে এক লক্ষের মতো লোকসমাগম হতে পারতো। তেমনই লোকে লোকারণ্য অবস্থায় সেদিনের জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তৃতা মঞ্চটি ছিল বিশেষভাবে নির্মিত বেশ কিছুটা উঁচু। মঞ্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও গাজী গোলাম মোস্তফা ছাড়া অন্য কোন আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন না। তবে আওয়ামী লীগ করতেন না কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রধান কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন এমন একজন ব্যক্তির সেই মঞ্চে উপস্থিতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেই ব্যক্তিটি ছিলেন সিরাজুল আলম খান। সভা শুরু হলে প্রথম ২/৩ জন বক্তৃতা দেয়ার পর সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে এলেন। এসে অত্যন্ত আবেগ মিশ্রিত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন-

“আজ থেকে ‘জয় বাংলা’কে আমাদের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের প্রতীকী স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আসুন, আমরা সবাই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আওয়াজ তুলি ‘জয় বাংলা’।” তখন আকাশ থেকে বাজ পড়ার কানফাটা আওয়াজের মতো লক্ষ কণ্ঠে সমস্বরে ‘জয় বাংলা’শ্লোগানের ধ্বনিতে সারা পল্টন ময়দান মুখর হয়ে উঠে। সেই থেকে বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানলো তাদের আগামী দিনের স্লোগান ‘জয় বাংলা’। বলাই বাহুল্য, ‘নিউক্লিয়াস’ (স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ) এর সিদ্ধান্ত অনুসারেই একাজটি করা হয়।

উল্লেখ্য যে, সে সময় ভারত ও পাকিস্তানে যথাক্রমে ‘জয় হিন্দ’ এবং ‘জিও সিন্ধ’ (জিএম সৈয়দের নেতৃত্বে সিন্ধুতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন) স্লোগান দু’টি বেশ জনপ্রিয় ছিল। এ থেকেই ‘নিউক্লিয়াস’এর তরুণ নেতারা অনুপ্রাণিত হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি উদ্ভাবন করেন এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীকী স্লোগান হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়ার পর থেকে তখনকার আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা আন্দোলন বিরোধীরা ভারতের ‘জয় হিন্দ’ ও সিন্ধুর ‘জিও সিন্ধ’ এর সাথে মিশিয়ে এক ধরণের ঠাট্টা বিদ্রূপ করতো। সুযোগ পেলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর চড়াও হতো। যদিও পরবর্তীতে জয় বাংলা শ্লোগানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও বিস্তারের কারণে তাঁরা এই শ্লোগান মেনে নিতে বাধ্য হন।


( ছবি – “স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস” প্রকাশিত হাতে লেখা তিন পেইজের পত্রিকা “জয় বাংলা”র প্রথম পাতা)*** প্রথমে এখানে পত্রিকার প্রকাশকাল ভুল লিখেছিলাম

এই হচ্ছে জয় বাংলা শ্লোগানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। ‘জয়বাংলা’ শুধুই শ্লোগান নয়, ‘জয়বাংলা’ বাঙ্গালী জাতির স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের শানিত অস্ত্র, জয় বাংলা একটি দর্শন। এই শ্লোগানের উপরে ভিত্তি করেই এগিয়ে যায় বাংলার স্বাধীনতার সংগ্রাম। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় এই শ্লোগানটি একটা রাজনৈতিক দলের নিজস্ব শ্লোগান হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে এবং একটা পর্যায়ে তা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।

কিন্তু দীর্ঘ ৪২ বছর পরে চলতি বছরের পাঁচ ফেব্রুয়ারী কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে শাহবাগে যে নজিরবিহীন গণজাগরণের সৃষ্টি হয়, সেই জাগরণের মূল শ্লোগান হিসেবে আবির্ভূত হয় জয় বাংলা। আর এভাবেই দীর্ঘ দিন পরে একটা সংগঠনের নিজস্ব শ্লোগান হয়ে থাকা জয় বাংলা আবারও ফিরে আসে সাধারণ জনগণের শ্লোগান হিসেবে। ব্যক্তিগতভাবে যদি আমাকে প্রশ্ন করা হয় শাহবাগ গণজাগরণের প্রাপ্তি সম্পর্কে, তাহলে নির্দ্বিধায় আমি বলবো, এই গণজাগরণ জনতার শ্লোগান জয় বাংলাকে একটা দলের কুক্ষিগত হওয়া থেকে পুনরুদ্ধার করেছে। কারণ যে শ্লোগান ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শানিত অস্ত্র, এতদিন সেই শ্লোগান আমি দিতে পারিনি একটা বিশেষ দলের দলীয় শ্লোগান হিসেবে আখ্যায়িত হওয়ার কারণে। কিন্তু এখন আমি জয় বাংলা শ্লোগান দিতে পারছি। তাই অন্যান্য অনেক প্রাপ্তির সাথে এই জয় বাংলা শ্লোগান জনতার কাছে ফিরে আসাটাও কম বড় প্রাপ্তি নয়। এখন আর জয়বাংলা কোন রাজনৈতিক দলের শ্লোগান নয়, এই শ্লোগান কোন রাজনৈতিক দলের নয় সম্পত্তিও নয়।

কৃতজ্ঞতা : কাজী সালমা সুলতানা আপা এবং ফেসবুক বন্ধু শ্রদ্ধেয় বাংলা বাঙ্গালী সাহেব।

তথ্য সুত্র:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও সমাজতন্ত্র – এম মনিরুল ইসলাম
জাসদের উত্থান পতন : অস্থির সময়ের রাজনীতি – মহিউদ্দিন আহমেদ
কাজী আরেফ আহমেদের অপ্রকাশিত শিরোনামহীন পাণ্ডুলিপি (আইএইচএন কর্তৃক প্রকাশিতব্য)।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৫ thoughts on “জয় বাংলা শ্লোগানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

  1. ১. জয় বাংলা পত্রিকাটা ঊনিশ শো
    ১. জয় বাংলা পত্রিকাটা ঊনিশ শো তেষট্টি সনের হলে তাতে ৬ দফা আর ১১ দফার কথা এল কী করে? লক্ষ্য করুন শুরুর দুই লাইনের প্যারাটার শেষ অংশ। আসলে এ পত্রিকাটা বের করা হয়েছিলো সিরাজুল আলম খানের পরিকল্পনা অনুসারে জয় বাংলা স্লোগান চালুর পরে।
    ২. সন ১৯৭০-এর ১১ জানুয়ারির পল্টন ময়দান সংঘর্ষের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে তাতেও গোলমাল আছে। জামাতিদের সভায় আক্রমণ করা হবে এটা আগেই ঠিক করা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল মওদুদির উপস্থিতিতে একচোট ধোলাই দিয়ে পাকিস্তানিদেরকে জানান দেয়া যে, বাংলায় তাদের দিন শেষ। জামাতিরাও তা জানতে পেরেছিল, আর তাই মঞ্চের পাশে একটা তঁাবু বানিয়ে তার ভিতরে আগে থেকেই লাঠিসোটা জমা করে রেখেছিল। সভা যখন চলছে সেই সময়ে আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগের একটা বড় মিছিল পল্টন ময়দানের পাশের রাস্তা দিয়ে নিয়ে আসা হয়। মিছিল থেকে ইটপাটকেল ছঁুড়ে মারামারি বাধানো হয় এবং পল্টন ময়দান যুদ্ধক্ষেত্রে রূপান্তরিত হয়।
    এ যুদ্ধকাণ্ডের বিশদ বিবরণ বেশ রসিয়ে বর্ণনা করা হয় পরের দিনের দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায়, ভেতরের পুরো এক পৃষ্ঠা জুড়ে।

    1. ধন্যবাদ। এটা অবশ্যই ১৯৬৩
      ধন্যবাদ। এটা অবশ্যই ১৯৬৩ সালের হতে পারে না। এটার আমার তথ্যগত একটা বড় সর রকমের ভুল হয়েছে। আসলে সূত্র হিসেবে যা উল্লেখ করেছি সেখানে এভাবেই ছিল। আবার এমন হতে পারে পত্রিকাটা ১৯৬৩ সাল থেকেই প্রকাশিত হয়ে আসছে কিন্তু এখানে ছবির কপিটা ১৯৬৯ এর পরের যে কোন সময়ের।

      নাহ, ১৯৭০ এর ১১ জানুয়ারী জামাতের সভায় আক্রমণের কোন উদ্দেশ্য ছিল না ছাত্রলীগ বা ছাত্র জনতার। এই বিষয়ের উপরে আমি তিন জনের বর্ণনা পড়েছি। তিন জন হচ্ছেন – প্রয়াত কাজী আরেফ আহমেদ, মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মণি) এবং আসম আব্দুর রব। এছাড়া নিউক্লিয়াস ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবিএম আহসান উল্লাহ সাহেবের লেখাতেও ওই তিন জনের মতোই আক্রমণের শিকার হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ছাত্র জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করে। আমি জানিনা পত্রিকা কি বিবরণ ছাপা হয়েছিল।

      আর এই ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে হামলার শিকার হওয়ায় পরবর্তীতে নুরুল আমীনের জনসভায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। এবং সেদিন জয় বাংলা শ্লোগান উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথেই বিনা প্রতিরোধ মুসলীগাররা পলটন ত্যাগ করেছিল।

      তথ্য সুত্রঃ
      জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও সমাজতন্ত্র – এম মনিরুল ইসলাম

  2. আফসুস প্রাণের “জয় বাংলা”
    আফসুস প্রাণের “জয় বাংলা” স্লোগানটির বিপরীতে স্বাধীনতা বিরুধীরা “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ” নামে একটি স্লোগান প্রতিপক্ষ হিসেবে দাড় করিয়েছে ।তবে ৫ তারিখের জাগরণের পর এটা স্বীকৃত হয়ে গেছে যে, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ দলীয় স্লোগান হলেও জয় বাংলা একটা রাষ্ট্রীয় স্লোগান, বাংলার প্রতিটি জনতার প্রাণের স্লোগান এবং এই স্লোগানের কোন প্রতিপক্ষ বা বিকল্প হতে পারে না ।
    জয় বাংলা ।
    জয় বঙ্গবন্ধু ।

    1. ।তবে ৫ তারিখের জাগরণের পর এটা

      ।তবে ৫ তারিখের জাগরণের পর এটা স্বীকৃত হয়ে গেছে যে, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ দলীয় স্লোগান হলেও জয় বাংলা একটা রাষ্ট্রীয় স্লোগান, বাংলার প্রতিটি জনতার প্রাণের স্লোগান এবং এই স্লোগানের কোন প্রতিপক্ষ বা বিকল্প হতে পারে না ।

      একমত :তালিয়া: :তালিয়া: যতই বিভ্রান্তি ছড়াবার চেষ্টা করুক না কেন, বাঙ্গালীর প্রানের স্লোগানকে আর দাবায়ে রাখতে পারবে না… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

      জয় বাঙলা
      জয় বঙ্গবন্ধু :salute:

    2. জিন্দাবাদ শ্লোগানের জনক
      জিন্দাবাদ শ্লোগানের জনক খন্দকার মুশতাক। এবং স্বাধীন বাংলাদেশে জয় বাংলার পরিবর্তে অফিসিয়ালি প্রথম বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলা হয় ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে খন্দকার মুশতাকের রেডীও ভাসনে। ধন্যবাদ শাহীণ ভাই।

  3. সোজা প্রিয়তে নিলাম।
    আচ্ছা,

    সোজা প্রিয়তে নিলাম।
    আচ্ছা, উত্তর বাংলা ভাই, আমি এতদিন জয়বাংলা স্লোগান নিয়ে যা জানতাম তা হল-

    ১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় -এর মধুর ক্যান্টিনে শিক্ষা দিবস (১৭ মার্চ) যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ-এর আহুত সভায় তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব আহমেদ ও চিশতী হেলালুর রহমান “জয় বাংলা” স্লোগানটি সর্বপ্রথম উচ্চারণ করেন। তবে ১৯ জানুয়ারি ১৯৭০-এ ঢাকা শহরের পল্টনের এক জনসভায় ছাত্রনেতা সিরাজুল আলম খান তাঁর ভাষণে সর্বপ্রথম “জয় বাংলা” স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন বলে প্রচলিত আছে।

    তবে আমি অনিশ্চিত।

    1. ১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ তারিখে

      ১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় -এর মধুর ক্যান্টিনে শিক্ষা দিবস (১৭ মার্চ) যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ

      প্রথমত আপনি একটু টাইপিং মিসটেক করেছেন, ১৭ মার্চ নয়, হবে ১৭ সেপ্টেম্বর, কারণ সেটাই শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে আজ পর্যন্ত। আর হ্যাঁ, ১৯৭০ সালের শিক্ষা দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ডাকসুর এক সাথে অর্থাৎ ঐক্যবদ্ধভাবে পালনের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলাদাভাবেই দিবসটি পালন করে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন। আর ১৯ তারিখের বিষয়টা মোটামুটি স্বীকৃত। ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    2. প্রথমেই নিজের ভুল তথ্যের জন্য
      প্রথমেই নিজের ভুল তথ্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আজ প্রায় আড়াই বছর পরে আমি জানলাম আমার তথ্যটা ভুল ছিল। আসলেই তারিখটা ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর, যা আপনি ধরিয়ে দিয়েছিলেন। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ অঘূর্নায়মান ইলেকট্রন ভাই।

  4. উত্তর বাংলা ভাই, “নিউক্লিয়াস”
    উত্তর বাংলা ভাই, “নিউক্লিয়াস” সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছিলাম। এ নিয়ে একটা পোস্ট পেতে পারি সামনে? অথবা এ ব্যাপারে কোন বই সাজেস্ট করতে পারেন?

    1. ধন্যবাদ ব্রাদার। পোস্ট তো
      ধন্যবাদ ব্রাদার। পোস্ট তো রেডি করাই আছে আমার কাছে। দেয়ার প্লানও নিছিলাম, দেয়া হয়নি। তবে আগামীতে দিবো অবশ্যই। আর আপনি চাইলে ফেসবুক গ্রুপ শহীদ কাজী আরেফ আহমেদ দেখতে পারেন। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

      1. ধন্যবাদ, পোস্টের অপেক্ষায়
        ধন্যবাদ, পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম। :অপেক্ষায়আছি: :জলদিকর:
        আর ছোট্ট একটা অপ্রাসঙ্গিক ব্যাপার। আমার পক্ষে তো ব্রাদার হওয়া সম্ভব না, আমি আসলে মেয়ে, ভি.এন.সি. থেকে এবার এইচএসসি দিলাম। আরও অনেকেই ভাই বলে ডাকেন, একটু বিব্রত হয়ে যাই। :চিন্তায়আছি:

        1. হা হা হা ……… তাহলে তো
          হা হা হা ……… তাহলে তো সমস্যাই। আর ভুল হবে না। মনে থাকবে। ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:

  5. এই ইতিহাস জানার পর জয়বাংলা
    এই ইতিহাস জানার পর জয়বাংলা শ্লোগাটি আমি এখন নিয়মিত ব্যবহার করি। এই শ্লোগানটির মত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও মুক্ত করতে হবে একদলীয় বৃত্ত থেকে।

    1. আমি নিজেই এই শ্লোগানটা এখন
      আমি নিজেই এই শ্লোগানটা এখন দিতে পারি বলে গর্বিত বোধ করি। আমাদের প্রাণের শ্লোগান হওয়া উচিৎ এটাই। ধন্যবাদ। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    1. ধন্যবাদ কালবৈশাখী। কমেন্টের
      ধন্যবাদ কালবৈশাখী। কমেন্টের উত্তর দিছি একটু দেখে নিয়েন। তবে আরও বিস্তারিত লিখতে হবে। সময় করে আবারও লিখবো। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  6. কিছু নতুন তথ্য জানলাম। ভালো
    কিছু নতুন তথ্য জানলাম। ভালো লাগলো। ১৯৭০ এর ১৮ জানুয়ারী, রোববার পল্টন ময়দানের আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের জনসভার একটা ছবি থাকলে আরও একটু ভালো লাগতো।

    1. কোথায় যে পাওয়া যাবে সেই মিটিং
      কোথায় যে পাওয়া যাবে সেই মিটিং এর ছবি!! তারপরেও খোঁজ করবো। দেখা যাক পাওয়া যায় নাকি। ধন্যবাদ রায়ান ভাই। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  7. ধন্যবাদ। জয় বাংলা শ্লোগানের
    ধন্যবাদ। জয় বাংলা শ্লোগানের পিছনের এই ইতিহাস জানা ছিল না। আসলে কোন দিন মাথাতেই আসে নাই যে এই শ্লোগানটাও কোন না কোন ভাবে বলা শুরু হয়েছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  8. ইতিহাসের চাপা পড়া অধ্যায়গুলো
    ইতিহাসের চাপা পড়া অধ্যায়গুলো জানার ক্ষেত্রে আপনার পোস্টগুলো সবসময়ই ১০০০ ওয়াটের হ্যাজাক লাইটের মত কাজ করে। :মাথানষ্ট: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: সবই ফকফকা হয়ে যায়, অন্ধকারে থাকে না কিছুই… :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: 😀

    গোলাপ নেন উত্তর বাঙলা ভাই… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  9. “জয় বাংলা”! রক্তে শিহরন

    “জয় বাংলা”! রক্তে শিহরন জাগানিয়া একটা শ্লোগান। পাঁচ ফেব্রুয়ারীর নজিরবিহীন গণজাগরণের পূর্বে দীর্ঘ একটা সময় ধরে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানটা একটা নির্দিষ্ট দলের শ্লোগান হিসেবেই আখ্যায়িত হয়ে এসেছে। কিন্তু আসলেই কি জয় বাংলা কোন দলের নিজস্ব শ্লোগান? না, জয় বাংলা বাঙালী জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার ন্যায় সংগত দাবী দাওয়া ভিত্তিক আন্দোলনকে ধাপে ধাপে বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপান্তরের মূল শ্লোগান। আসলে জয় বাংলা শুধুই শ্লোগান নয়, “জয়বাংলা” বাঙ্গালী জাতির স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের শানিত অস্ত্র, জয় বাংলা একটি দর্শন। আসুন দেখা যাক কিভাবে আসলো জয় বাংলা স্লোগান…

    এমন শুরুর পর আর কিইবা বলার আছে… শুধুই :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 5