ওবামা, নরওয়ে ও মুক্তমনাদের ইউরোপ দর্শন!

সাম্রাজ্যবাদ কি জিনিস, তা নাকি আমাদের ইউরোপবাসী মুক্তমনা* বন্ধুরা আজ আর দেখতে পান না। তাই একটু পেছনে নিয়ে যেতে চাই সবাইকে। পেছনের একটি ঘটনা থেকে কিছু কথা বলতে চাই। তা থেকে তথাকথিত মুক্তমনাদের ইউরোপ দর্শনের সঙ্কটটা পরিষ্কার হওয়া যাবে সহজেই। বেশিদিন আগের নয়, ঘটনাটি ২০০৯ সালের।

সে বছর ৯ অক্টোবর তারিখে “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনীতি আর জনগনের মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতায় অসামান্য অবদানের জন্য” নরওয়ের নোবেল কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করে।১

এই ৯ অক্টোবর তারিখটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওবামা যেদিন নোবেল পেলেন, ঠিক তার ৪২ বছর আগে ১৯৬৭ সালের এই দিনেই নিরস্ত্র অবস্থায় নয়টি গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল বন্দী চে গুয়েভারাকে। এই হত্যাকান্ডে সিআইএ’র ভূমিকা আজ প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণীত।২ সিআইএ’র সেই ‘মহান’ কর্মে উল্লসিত যুক্তরাষ্ট্রের শাসকদের পরামর্শদাতা নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা সে সময় লিখেছিল, ‘একজন মানুষের সঙ্গে সঙ্গে একটি মিথও চিরতরে বিশ্রামে চলে গেল।’৩ ঐতিহাসিক এই দিনটিতেই এলো ওবামার নোবেলের ঘোষণা!

এ ঘোষণা শুনে বিশ্ববাসী তখন বিস্ময় প্রকাশ করে। কেননা এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত প্রাথমিক নামের তালিকায় ওবামার নাম ছিল না। প্রাথমিক নামের তালিকা চূড়ান্ত হয় সে বছরের ১ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে মাত্র ১২ দিন অফিস করেছিলেন ওবামা। সেই ১২ দিনে তিনি দৈনন্দিন কিছু সভা করেছিলেন মাত্র। এর মধ্যে তিনি শান্তিতে নোবেল পদক আয় করে ফেলেন কিভাবে? তাও আবার তালিকাবহির্ভূতভাবে!৪

শান্তিতে নোবেল দেয় নরওয়ের নোবেল শান্তিপদক কমিটি। নরওয়ের পার্লামেন্ট নোবেল কমিটির সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। ওবামা যেবার নোবেল পেয়েছিলেন, সে বছর সংসদে সোশ্যালিস্ট লেফট পার্টির কোটা থেকে শান্তিপদক কমিটির সদস্য হয়েছিলেন আগোট ভ্যালে। ওবামার নোবেল প্রাপ্তিতে তিনি বলেছিলেন, ‘ওবামা এই সম্মানের উপযুক্ত নন।’৫ তা সত্ত্বেও নোবেল পান ওবামা। নোবেল কমিটি এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। কমিটির চেয়ারম্যান জাগল্যান্ড বলেন, ‘যখনই আমরা নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করি, এটা বড় এক বিতর্কের সূত্রপাত ঘটায়। সুতরাং ওবামাকে নিয়ে বাদানুবাদটাও অপ্রত্যাশিত নয়।’

ইরাক ও আফগানিস্তানে চলমান দুটি যুদ্ধ, ইরান-সিরিয়ার সঙ্গে বৈরিতা ও পাকিস্তানে রক্তপাতের জন্য দায়ী থাকাকালেই ওবামার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়াটা বিরাট বিতর্কের জন্ম দেয়। বারাক ওবামা যখন নোবেল পান তখন তার ক্ষমতার বয়স মাত্র ৮ মাস। তিনি চলমান দুটি যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। ইরাক-আফগানিস্তান এবং কিছুটা পাকিস্তানেও তারই সমর্থনে ঘটছিল ব্যাপক রক্তপাত, চলছিল ধ্বংসযজ্ঞ। এসব কিছুকে অতিক্রম করে নোবেল কমিটির ভাষ্য মতে, শুধুমাত্র ‘ব্যক্তি হিসেবে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ’ করেই তিনি এ পুরস্কার পান। পদক নেয়ার সময় ওবামা বলেছিলেন, কাজ করার জন্যই তাকে এ পদক দেয়া হয়েছে। কাজ তিনি ঠিকই করেছেন। এর পর ওবামার সরকারকে পৃথিবীর অনেক প্রান্তেই রক্তপাতে জড়িত হতে দেখা গেছে। সর্বশেষ ফিলিস্তিনে ইজরায়েলি হামলার মদদদাতা ছিলেন তিনি। ইউক্রেনেও রয়েছে তারই হাত!

ওবামার নোবেল জয়ের এই ঘটনাটি টেনে আনলাম দুটি কারণে। এটির ঘোষণাদাতাদের পরিচয় জানাতে এবং যে তারিখে এটি ঘোষণা দেয়া হয় তার তাৎপর্য তুলে ধরতে। আগেই বলেছি, আমৃত্যু বিপ্লবী চে গুয়েভারাকে হত্যার দিনেই নোবেল পান সিআইএসহ সব মার্কিন খুনী বাহিনীর হোতা বারাক ওবামা। আর ওবামাকে এই পদক দেয় নরওয়ে সরকারের ঠিক করে দেয়া কমিটি। তারিখটাও তাদেরই বাছাই করা। এই নরওয়ের কী পরিচিতি শুনে আমরা অভ্যস্ত?

অনেক ‘মুক্তমনা’দের কাছে ইউরোপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়া, শান্তি, ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি শুনতে শুনতে এখানে মোসলমানদের দেশে বাস করা আমাদের কমিউনিস্টদের মূর্চ্ছা যাওয়ার দশা। সেই কবে থেকে শুনছি- সাম্রাজ্যবাদ ইউরোপে গিয়ে ফিকে হয়ে গিয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় সাম্রাজ্যবাদ হয়ে গেছে জনগণের আদি ও অকৃত্রিম মিত্র। তাহলে এই নরওয়ে কে? নোবেল শান্তি কমিটি কারা বানায়? তারা কেন যুদ্ধরত এক রক্তখেকোকে শান্তিপদক দেয়? সাম্রাজ্যবাদী নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত মার্কিনকে কেন তারা কলঙ্কমুক্ত করতে চায়? কেন তারা চে গুয়েভারার মৃত্যু দিবসে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শান্তিপদক দেয়?

তাহলে? সাধের নরওয়ে আমাদের কী দিল? সোজা কথায় মিথ্যাচার আর দুর্নীতি। তার সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণ করল, তারা সাম্রাজ্যবাদের একনিষ্ঠ সেবক। ওবামার আসল চেহারাকে গোপন করে, সাম্রাজ্যবাদকে সহনশীল রূপে পৃথিবীর সামনে উপস্থাপনের দায়িত্ব পালন করল তারা। আর এটা সম্পন্ন হলো দুর্নীতি করেই, প্রথম তালিকার মনোনীতদের বাদ দিয়ে ওবামাকে নোবেল দেয়াটা দুর্নীতির মধ্যেই পড়ে। আর তারযুদ্ধনায়ক পরিচয় গোপন করে তাকে শান্তির দূত দাবী করাটা নিঃসন্দেহে মিথ্যাচার। কাজটা করল নরওয়ে সরকারের মনোনীতরাই। বাড়তি তারা যেটা করল, তা হচ্ছে চে গুয়েভারাকে অপমান! দেখার মতো চোখ থাকলে সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকা এখানে দেখতে পাওয়ার কথা। নরওয়ে সরকার কেন, কী স্বার্থে এই মিথ্যাচার ও দুর্নীতিতে জড়িত হলো? এমন প্রশ্ন তুললেই আমরা এখানে সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকার বাস্তব রূপ উন্মোচনের দিকে এগুতে পারব। কিন্তু আমাদের এই ইউরোপবাসী কিংবা ইউরোপ গমনেচ্ছু পশ্চিমা পুঁজিতান্ত্রিক ভাবাদর্শীদের দেখার সেই চোখটা নেই। থাকলে তারা ভালোমানুষি লেবাসের আড়ালে সাম্রাজ্যবাদের বশংবদ এই ইউরোপীয় ভৃত্যদের আসল চেহারাটা ঠিকই উন্মোচন করতে পারতেন।

আমাদের ‘মুক্তমনা’দের ইউরোপ দর্শনের মূল সঙ্কটটা আদতে দৃষ্টিভঙ্গী তথা মতাদর্শে- সেখানে কাজ করে ব্যক্তির (ধনী ও মধ্যবিত্তের) কতিপয় লাভালাভের বিষয়াদি। তাই ধর্মহীনতার অধিকার এবং স্বাতন্ত্র্য তথা এককভাবে ভোগের অধিকার পাওয়াটাকেই তারা চূড়ান্ত জ্ঞান করেন। এজন্যই নরওয়ের মতো দেশগুলো তাদের কাছে আরাধ্য হয়। কিন্তু তারা যদি এক পা বাড়িয়ে ব্যক্তির লাভালাভের চেতনাকে সমষ্টির লাভালাভের চেতনা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করতেন, তাহলে তারা দেখতেন যে, প্রতিটি গরিব মানুষ পৃথিবীতে অধিকারহীন, শোষিত ও বঞ্চিত! এমনকি কল্যাণ রাষ্ট্রের গরিবরাও। এর কারণ যে সাম্রাজ্যবাদ তাদের চোখে তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে তখনই যখন তারা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে সমষ্টির স্বার্থ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করতে পারবেন। তখন আর ধর্মহীনতা ও একক ভোগের অধিকার তাদের চোখ অন্ধ করে দিতো না। বরং শোষকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অসংখ্য কারণ খুঁজে পেতেন তারা। খোলা চোখেই দেখতে পেতেন, সাম্রাজ্যবাদ কি এবং কিভাবে তা ইউরোপে খুঁটি গেড়ে আছে!

এই বিশ্লেষণ থেকে যেভাবে আমরা দেখলাম, নরওয়ের মতো দেশ কিভাবে সাম্রাজ্যবাদের তল্পি বহন করে এবং সাম্রাজ্যবাদী নেতাকে নির্লজ্জভাবে পুরস্কৃত করে, সমষ্টির স্বার্থের জায়গা থেকে দেখলে এটা অবশ্যই মুক্তমনাদেরও চোখে পড়তো। বর্তমান বিশ্বে নরওয়ের একটা পরিচিতি আছে সেক্যুলার কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে। কিন্তু তার আসল চেহারাটা কেমন কল্যাণমুখী তা তো দেখলেনই। তথাকথিত মুক্তমনাদের অনেকেই সেক্যুলার ও কল্যাণের কথা বলেন, তাদের অনেকের অবস্থাও এরকমই ফাঁপা!

[* -‘মুক্তমনা’ মানে সব মুক্তমনা নন। তথাকথিত বা ‘*’ চিহ্ন দিয়ে কেবল সেই অংশটিকেই বোঝানো হয়েছে, যারা সাম্রাজ্যবাদ কি তা কখনো দেখতে পান না এবং ইউরোপের নানা দেশের প্রগতিশীলতার বর্ণনা দিয়ে বেড়ান। সংখ্যায় এরাই অধিক।]

তথ্যসূত্র

১। http://www.nobelprize.org/nobel_prizes/peace/laureates/2009/press.html

২। http://news.bbc.co.uk/2/hi/7027619.stm

৩। http://archive.prothom-alo.com/print/news/10872

৪। http://www.foxnews.com/opinion/2009/10/09/tommy-seno-obama-nobel-prize-win.html

৫। http://usatoday30.usatoday.com/news/world/2009-10-14-obama-nobel-defense_N.htm

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৮ thoughts on “ওবামা, নরওয়ে ও মুক্তমনাদের ইউরোপ দর্শন!

  1. গাধার সামনে মূলা ঝুলানো বলে
    গাধার সামনে মূলা ঝুলানো বলে একটা বাক্য আছে বোধহয়। বিশ্ববাসীকে সম্রাজ্যবাদীরা মনে হয় গাধাই মনে করে। সামনে নোবেল নামক একটা মূলা ঝুলিয়ে দিয়েছে। যা দেখে বিশ্ববাসী মনে করবে ওবামা শান্তিপ্রিয় মানুষ। কিন্তু রক্তচোষার আসল রূপ মানুষ ঠিকই চিনেছে। যতই ওরা চেষ্টা করুক ঢেকে রাখার।
    আর আমাদের দেশের তথাকথিত কিছু মুক্তমনার কথা মনে পড়লেই আমার ঘৃনা জন্মায়। ওরাও দালালের খাতায় নাম লিখিয়েছে।

  2. মুক্তমনা বলতে প্রগতিশীল,
    মুক্তমনা বলতে প্রগতিশীল, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী, সেকুলার, নাস্তিক বুঝায় কি? যদি তাই হয়, তবে তারা কি করে পশ্চীমের দালালী করে? পশ্চীমের দ্বিমুখী নীতির মুখোশ তো মুক্তমনারাই খুলে দেবে, নয় কি? পশ্চীমের স্তুতি যখন মুক্তমনারা গায়, তখন তাদের ভন্ডামী মৌলবাদীদেরও ছাড়িয়ে যায়। এটা মৌলবাদীদের মতই স্ববিরোধীতা।

    1. নরওয়েসহ স্ক্যান্ডিনেভিয়
      নরওয়েসহ স্ক্যান্ডিনেভিয় রাষ্ট্রগুলোর সেকি প্রশংসা শুনি তাদের মুখে! অথচ এসব দেশের সাম্রাজ্যবাদের দালালি তাদের চোখে পড়ে না। এটা তাদের সত্যিকারের অবস্থানকে খোলামেলাভাবে প্রকাশ করে দেয়।

  3. আমাদের দেশের মুক্তমনা নামে
    আমাদের দেশের মুক্তমনা নামে আলোচিতরা আসলে সব ভোগবাদের কান্ডারি! ইউরোপ তাদের কাছে প্রিয় সেখানে বসে যা খুশি লিখে দেশকে অস্থিতিশীল করা যায়, ব্যাপক মদ খাওয়া যায়, নারী বিষয়টা জানি না। এইটুক বুঝি, এরা সব শিক্ষিত দুশ্চরিত্র! এদের কোনো তাত্ত্বিক জ্ঞান নেই, মাথা ঠেলা উলটাপালটা মন্তব্য ছাড়া। সাম্রাজ্যবাদ বোঝার মতো এত গভীর চোখ তাদের নাই। সমাজ পরিবর্তনেরও এদের কোনো ইচ্ছান নাই, লাইক কামানো ছাড়া। থাকলে তারা আরো পরিশীলিত হত।

  4. যেদিন যুক্তরাষ্ট্রের
    যেদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শান্তিতে নোবেল পেল, সেদিন টিভিতে খবরটি দেখে আমি স্তম্বিত হয়ে গেলাম। জানতাম, শান্তিতে নোবেল যতটুকু না কর্মের স্বীকৃতি তার চেয়েও বেশী রাজনৈতিক। কিন্তু এতটাই রাজনৈতিক ! যে ওবামা সদ্য যুক্তরাষ্ট্রের নব নিযুক্ত প্রেসিডেন্ট, যে এখনও শান্তি বা অশান্তি জাতীয় কর্মকান্ড পরিচালনার সময়টুকু পান নি, যে নোবেল ঘোষনা আসার ঠিক আগ মহুর্তেও পেন্টাগনে বসে আফগানিস্থানে আরো বেশী পরিমানে অশান্তি তৈরী করার শলাপরামর্শ করছিলেন, সে কিনা পেয়ে গেল শান্তিতে নোবেল? টিভিতে খবরটা শুনে রাগে-দুঃখে এবং প্রচন্ড ক্ষোভে সেদিনই তাৎক্ষণিক একটি কবিতা লিখে ছিলাম। কবিতাটির আবেগ এবং মূল্য ছিল তাৎক্ষণিক। হয়ত এটি কোন কবিতাই হয়নি। তারপরও এখানে শেয়ার দিলামঃ

    ওঁম শান্তি, ওঁম শান্তি

    ওবামা, তোমার শান্তিতে নোবেল প্রাপ্তি
    আমাকে একটুও বিচলিত করে না ।

    আফগানিস্থানের বারুদের গন্ধ,
    তোমার শান্তিবাহিনীর ব্রাশফায়ারে
    ঝাঁঝরা বুকের খন্ডিত পিন্ড
    কিংবা বেসামরিক আফগানিদের
    অসংখ্য পর্বতমালায় বাধাপ্রাপ্ত
    রক্তের স্রোতধারা,
    অসলোর ঐ বন্ধ কক্ষ পর্যন্ত পেৌছায় না।
    তাই, তোমার শান্তিতে নোবেল প্রাপ্তি
    আমাকে বিচলিত করে না।

    গুয়েনতোনামা বে কারাগারের অন্ধকুঠুরীর
    তেজোদীপ্ত যুবকের তারুণ্য নষ্ট হওয়ার কষ্ট,
    মদ্যপ সৈনিকের বন্দী যুবকের নগ্নদেহে
    বেয়োনেটের খোঁচার আত্মচিৎকারের জবাবে
    তোমার সৈনিকদের আনন্দোল্লাসের শব্দ
    অসলোর ঐ বন্ধ কক্ষ পর্যন্ত পেৌছায় না।
    তাই, তোমার শান্তিতে নোবেল প্রাপ্তি
    আমাকে বিচলিত করে না।

    ইরাকে শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত
    তোমার ক্লান্ত সৈনিকগুলোর
    দীর্ঘদিনের জৈবিক ক্ষুধার বিষ্পোরণে
    সন্তানের সম্মুখে মায়ের সম্ভ্রমহানির আত্মচিৎকার
    কিংবা হাতের নিশানা অনুশীলনের বাহানায়
    বন্দুকের ট্রিগার চেপে নিরীহ ইরাকীদের
    বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করার জয়োল্লাস–
    অসলোর ঐ বন্ধ কক্ষ পর্যন্ত পেৌছায় না।
    তাই, তোমার শান্তিতে নোবেল প্রাপ্তি
    আমাকে বিচলিত করে না।

    তাই, অনেকের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে
    আমিও বলি—– ওঁম শান্তি, ওঁম শান্তি ।।
    ওঁম শান্তি, ওঁম শান্তি……..

    1. বর্তমান বিশ্বে নরওয়ের একটা

      বর্তমান বিশ্বে নরওয়ের একটা পরিচিতি আছে সেক্যুলার কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে। কিন্তু তার আসল চেহারাটা কেমন কল্যাণমুখী তা তো দেখলেনই। তথাকথিত মুক্তমনাদের অনেকেই সেক্যুলার ও কল্যাণের কথা বলেন, তাদের অনেকের অবস্থাও এরকমই ফাঁপা!

      সবাক!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 87 = 97