জাফর ইকবালের ভাববাদ শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় দালালি!

জাফর ইকবাল এবার নতুন বিতর্ক হাজির করেছেন। বস্তু ও চিন্তার বিতর্ক। খুব গভীর দর্শনের বিতর্ককে সাদামাটা করে তিনি নিজের চিন্তার পক্ষে কাজে লাগিয়েছেন। জাফর ইকবাল মাও সেতুঙের একটি উদ্ধৃতিকে নবায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। মাও বলেছেন, ”প্রত্যেকটি মানুষ একটা মুখ নিয়ে জন্মায়, কিন্তু সে মুখে অন্ন যোগানোর জন‌্যে তার রয়েছে দুটি হাত!” মাও এ বক্তব্য দ্বারা মানুষের বিবর্তনে, ভবিষ্যৎ নির্মাণে, প্রয়োজন পূরণে শ্রমের-হাতের অপরিসীম ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।

জাফর ইকবাল এর বিপরীতে গেছেন। তিনি মাও এর বক্তব্যকে নবায়ন করে বলেছেন, ”প্রত্যেকটি মানুষ একটা মুখ ও দুটি হাত নিয়ে জন্মায়। কিন্তু ভয় পাবার কিছু নেই কারণ সব মানুষের মাথায় রয়েছে দশ হাজার কোটি নিউরন!” অর্থাৎ জাফর ইকবাল এখানে চিন্তাকেই প্রধান করেছেন। তিনি বলছেন, দশ হাজার কোটি নিউরনের রয়েছে অসাধারণ ক্ষমতা। কী সেই ক্ষমতা? চিন্তার ক্ষমতা। তার মানে মানুষের বিবর্তনে, ভবিষ্যৎ নির্মাণে, প্রয়োজন পূরণে শ্রমের তুলনায় চিন্তার গুরুত্ব বেশি? এটা নিঃসন্দেহে ভাববাদ। নিউরন তথা চিন্তার ভূমিকাকে খাটো করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আমরা তাকেই প্রধান মনে করি না। মাও এর হাতকে সরিয়ে জাফর ইকবাল যখন নিউরনকে সমস্যার সমাধান হিসেবে হাজির করেন, এটা ভাববাদকেই প্রতিষ্ঠা করে।

কিভাবে? বিবর্তনে, ভবিষ্যৎ নির্মাণে, প্রয়োজন পূরণে মানুষের লাগে সম্পদ। সম্পদ তৈরী হয় দুইভাবে। এক হচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে- ভূমি, খনিজ প্রভৃতি। দুই হচ্ছে মানুষের শ্রমে- বাকি সব কিছু। জাফর ইকবাল বলেছেন চিন্তাও সম্পদ। বস্তুবাদ আমাদের শিখিয়েছে, জ্ঞান আসে বস্তুকে কেন্দ্র করে পরিচালিত অনুশীলন থেকে। এর বাইরে জ্ঞানার্জনের কোনো পথ নেই। এই পদ্ধতিতেই জ্ঞানের পথে মানুষের যাত্রা চলছে। তাহলে চিন্তা সম্পদের ভিত্তিও অনুশীলন কিংবা শ্রম। সুতরাং সম্পদ আহরণে অবশ্যই শ্রমই প্রধান ভূমিকা পালন করে।

জাফর ইকবাল যে বলছেন নিউরন সমস্যা সমাধান করবে, এটা অতীত বিস্মৃত হওয়া! সেই অর্থেও এটা ভাববাদী। ভাববাদ বর্তমানকে সুদীর্ঘকালের বিকাশের ফল মনে করে না। বর্তমান থেকেই তারা শুরু করে বর্তমানকে চিরায়ত মূল্যায়ন করে। জাফর ইকবাল সাহেব, নিউরন সমাধান না, এটা অতীতের দিকে তাকালেই পেতেন। নিউরনবিহীন প্রাণীকূলের একঘেঁয়ে শ্রমের ফলেই উদ্ভুত হয়েছে নিউরন! অর্থাৎ বস্তুর বিকাশ ও তাতে যুক্ত শ্রমই নিউরনের উদ্ভব ঘটিয়েছে। চিন্তাহীনতা থেকে চিন্তার দিকে এগুনোর সুযোগ মিলেছে অপরিসীম শ্রমের ফলে।

মানুষের জন্য একটি মৌলিক সত্য হচ্ছে, সমাজবদ্ধ না হলে মানুষ বিকশিত হতে পারে না। আর সমাজবদ্ধ মানুষকে টিকে থাকতে হলে, বিকশিত হতে হলে করতে হয় উৎপাদন। যা তার প্রয়োজন পূরণ করে। চিন্তাহীনতার কালে শ্রম তার ভূমিকা রেখেছে, শ্রম দিয়েই তখন প্রাণীকূলের প্রয়োজন পূরণ হয়েছ। তারই ধারাবাহিকতা চিন্তার উদ্ভব ঘটিয়েছে। এরপর চিন্তার বিকাশ শ্রমের ধরণকে পাল্টেছে। কিন্তু শ্রমহীনতা দিয়ে, শুধু চিন্তা দিয়ে কি মানুষ তার ভবিষ্যৎ তৈরী করতে পারবে?

চিন্তা মৌলিক নয়, তা বস্তুর প্রতিফলন। যা আসে পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়ায়। যখন বস্তুকে ভুল পরিচয়ে উপস্থাপন করা হয় নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য, তখন পর্যবেক্ষকের মস্তিষ্কে ভুল তথ্যটাই প্রতিফলিত হয়। তার চিন্তা গড়ে ওঠে ওই নির্দিষ্ট পক্ষটির উদ্দেশ্যের অনুকূলেই। যতক্ষণ পর্যন্ত ওই চিন্তা তার প্রয়োজনের সঙ্গে বিরোধে না জড়ায় ততক্ষণ সে ওই চিন্তাকে আরো অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে নিয়ে যায় না। যেমন, রাষ্ট্র বলে যে, পাহাড়ে সন্ত্রাস, তাই সেখানে সেনা মোতায়েন জরুরী। রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে চলা গণমাধ্যমগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে আমাদের মাথায় পাহাড়ের সন্ত্রাস সম্পর্কে তথ্য আছে। সরকারের এ ঘোষণা সেই তথ্যকে শক্তিশালী করে এবং সেনা মোতায়েন বা পাহাড়িদের বিরুদ্ধে শক্তিপ্রয়োগের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে চিন্তার উল্লম্ফন ঘটায়। এটা যতক্ষণ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়ে অর্থাৎ কোনো চাহিদার সঙ্গে বিরোধে না জড়ায় ততক্ষণ এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী থাকে। একই পদ্ধতিতে বস্তুভিত্তি না থাকলেও ভাববাদকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত রাখা হয়।

এর অর্থ হচ্ছে, নিউরন থাকলেই তা সব সময় সমাধান আনে না। বরং সমাজে প্রতিনিধিত্বশীল শক্তিগুলো তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা তথ্য তথা মিথ্যা জ্ঞান প্রচার করে। অনুশীলনে না গিয়ে, পরখ করে না দেখে, শুধু চিন্তানির্ভর থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই এই ভুলগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। যার ওপর ভিত্তি করেই টিকে থাকে অবৈজ্ঞানিক ও ভাববাদী ক্রিয়াকলাপ।

এই আলাপকে এত দীর্ঘ করার কারণ হচ্ছে, শ্রমের ভুমিকাকে বুর্জোয়ারা বরাবরই খাটো করে। একারণে তারা তাদের সমাজে চিন্তার পারিশ্রমিক বেশি নির্ধারণ করেছে। আর শ্রম দ্বারা উৎপাদিত সম্পদের মালিকানা শ্রমদাতার কাছ থেকে হরণ করে চিন্তাধারীর পকেটে ঢোকানোর ব্যবস্থা করেছে। কার্ল মার্কস তার উদ্ধৃত্ত মূল্যের তত্ত্বে শ্রমের প্রকৃত ভূমিকাকে উন্মোচন করেছেন। একজন বস্তুবাদী হিসেবে তিনি বিবর্তনে অনুশীলন তথা শ্রমের ভূমিকাকে প্রধান সাব্যস্ত করেছেন। ভাববাদীরা করেছে এর উল্টোটা। জাফর ইকবালও তাই করলেন। মাও এর বক্তব্য গ্রহণ করলে আপনাকে শ্রমের প্রকৃত মূল্য দেয়ার প্রশ্নে আসতে হবে, যা শ্রমদাতাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে। আর জাফর ইকবালের বর্ধিত মতটা গ্রহণ করলে আপনি বুর্জোয়াশ্রেণীর স্বার্থটা রক্ষা করবেন, যারা শ্রম দেয় না।

জাফর ইকবাল তার এই লেখায় একটি অপরাধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ”আমাদের দেশের লেখাপড়া নিয়ে আমার অভিযোগের শেষ নেই সেটা এখন সবাই জানে – কিন্তু আজকে আমি অভিযোগ করব না। আজকে আমি শুধু সবাইকে মনে করিয়ে দেব এই দেশের তিন কোটি বাচ্চা প্রতি বছর নূতন বই হাতে নিয়ে লেখা পড়া করতে শুরু করে – শুধুমাত্র এই বিষয়টা চিন্তা করেই আমাদের সবার মনের সব দুশ্চিন্তা সব দূর্ভাবনা দূর হয়ে যাবার কথা!”

এই বক্তব্য দিয়ে তিনি সরকারের কাছে তার বশ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছি বলে শিক্ষামন্ত্রী যে সফলতা প্রচার করছেন, এর মাধ্যমে জাফর ইকবাল তার পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন। তার এই বক্তব্যের অর্থ কী? এটা কি প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্রের কাছে তার বশ্যতা স্বীকার নয়? শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তিনি যে আওাজ তুলেছিলেন, তা থেকে সরে আসা নয়? সরকারের বই দেয়ার সফলতা প্রচার করা নয়? এটা অবশ্যই দালালি। যাদেরর মাথায় জাফর ইকবালের অনন্য উচ্চতার বোঝা! তারা মাথা তোলার সাহস রাখেন না, বিধায় এই দালালিও দেখতে পান না। জাফর ইকবালের ভুলগুলোকে এড়িয়ে যাওয়াটা হচ্ছে উদারতাবাদ। আর যেকোনো মূল্যে তার পক্ষে দাঁড়ানোটা হচ্ছে প্রথা।

এই বুর্জোয়ারা যে গণবিরোধী শিক্ষাব্যবস্থা জারী রেখেছে, এটা নিয়ে জাফর ইকবাল কখনোই কথা বলেন না। বুর্জোয়া শিক্ষা ব্যবস্থার যে মানহানী সরকার ঘটাচ্ছে গত কিছুদিন তার কিছু বিরোধিতা করেছিলেন। এখন এই বক্তব্য দিয়ে সরকারের সঙ্গে আপস করলেন জাফর ইকবাল। বলেছেন, বই পাচ্ছে এটা ভেবেই তার সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাচ্ছে। এর পক্ষে নানা ধরণের যুক্তি দিয়ে, আশাবাদের কথা শোনাতে চাই বলে, যার বিরোধিতা তিনি করেন সেই ভেস্তে যেতে বসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে উৎপাটনের ডাক না দিয়ে তার সঙ্গে মিলেমিশে চলার রাস্তাই ধরলেন।

নিজেকে ভালো প্রমাণ করে, কৌশলে রাষ্ট্রের অন্যায়কে সিদ্ধ করার যে কাজটা জাফর ইকবাল করলেন, এটা অন্যায়। এটা দিয়ে অন্যায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যাতে কেউ না দাঁড়ায় তার ব্যবস্থা করলেন। রাষ্ট্রকে ধারণ করা ও তার পক্ষে থাকার মত তথা চিন্তা প্রচার করলেন। এভাবেই শাসকেরা তাদের প্রয়োজন অনুসারে সমাজে ভুল চিন্তা ছড়ায় ও তার পৃষ্ঠপোষকতা করে। জাফর ইকবালরাও তার অংশ। তাই যারা প্রকৃত মুক্তির কথা ভাবেন, তাদেরকে বস্তুবাদের ছদ্মবেশী এসব ভাববাদীদের খপ্পর থেকে বের হতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৪ thoughts on “জাফর ইকবালের ভাববাদ শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় দালালি!

  1. ভাইরে, এদেশের সকল বুদ্ধিজীবি
    ভাইরে, এদেশের সকল বুদ্ধিজীবি রাজনীতির সাথে জড়িত। যখন তাদের সমর্থিত দল ক্ষমতায় থাকে তখন তাদের চরিত্র প্রকাশ হয়ে পড়ে। বুদ্ধিজীবি শ্রেনী বুর্জোয়া রাজনীতি ও অন্ধভাবে দলীয় সমর্থনের বৃত্ত থেকে যতদিন বের হতে না পারবে, ততদিন এই শ্রেনী থেকে আমরা কিছুই আশা করতে পারি না।

  2. প্রতিটি,প্রতিটি ক্ষেত্রেই
    প্রতিটি,প্রতিটি ক্ষেত্রেই দলীয় মনোভাব কাজ করছে এখন দেশে! হায়রে বুদ্ধিজীবি-
    দল আগে না দেশ আগে সেটাই বুঝলি না

  3. আলাপকে এত দীর্ঘ করার কারণ
    আলাপকে এত দীর্ঘ করার কারণ হচ্ছে, শ্রমের
    ভুমিকাকে বুর্জোয়ারা বরাবরই খাটো করে।
    একারণে তারা তাদের সমাজে চিন্তার
    পারিশ্রমিক বেশি নির্ধারণ করেছে। আর শ্রম
    দ্বারা উৎপাদিত সম্পদের মালিকানা শ্রমদাতার
    কাছ থেকে হরণ করে চিন্তাধারীর
    পকেটে ঢোকানোর ব্যবস্থা করেছে।****** এক মত।

    আর খমতাধরের বাইরে গিয়ে এদের অন্যায়ের কথা বলার সাহশ তাদের নেই।

    1. এটা অনেকেই বলবেন যে, চাষাবাদ
      এটা অনেকেই বলবেন যে, চাষাবাদ বাড়া থেকে অনেক কিছু সহজ হয়েছে চিন্তা দিয়ে। কিন্তু আমি বলব, মানুষের পুণঃপৌনিক শ্রম তার চিন্তাকে শানিত করেছে। সেই চিন্তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে আরো বিকশিত হয়েছে। এটা শ্রম বা অনুশীলন বিচ্ছিন্ন নয়। এটাকে শ্রম বিচ্ছিন্ন করে ফেলাটাই বুর্জোয়া এজেন্ডা। এটাকে তারা শ্রমবিচ্ছিন্ন করেছে। করে এখন মনসান্টো এনেছে। যা কৃষকের ও পরিবেশের জন্য ভয়ানক হুমকি হয়েছে। যদি তারা এটাকে শ্রম বিচ্ছিন্ন না করত, তাহলে ল্যাবরেটরি থেকে গণবিরোধী প্রযুক্তি আবিষ্কার হতো না।

      1. “সেই চিন্তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা

        “সেই চিন্তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে আরো বিকশিত হয়েছে।”

        বৈজ্ঞানীক পরীক্ষা নিরীক্ষাটা তাহলে কি?

        বিজ্ঞানের কল্যানে মানুষের কায়িক পরিশ্রম অনেক কমে গেছে। আরো কমে যাবে। এটা ভাল দিক নাকি খারাপ দিক?

        1. বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা
          বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা একক নিউরনপ্রসূত কিছু নয়। এটা অনুশীলন, অনুসন্ধান তথা শ্রমনির্ভরও বটে! মানুষের কায়িক শ্রম কমেছে এটা আংশিক সত্য। পূর্ণসত্যটা হলো, গরিব মানুষের শ্রম বেড়েছে আর ধনীদের কমেছে। শুধু বিজ্ঞান নয়, শ্রেণীবিভক্ত সমাজে কোনোকিছুই সার্বজনীন নয়।

          1. আমি তো জানি যে কোন পরীক্ষা
            আমি তো জানি যে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার আগে যথেষ্ট চিন্তা ভাবনা করতে হয়। এবং অবশ্যই তা নিউরনপ্রসূত ব্যপার। আর যদি এটাকে পরিশ্রম বলেন তাহলে তো আর দ্বিমত করার কিছুই থাকে না। নিউরণপ্রসূত কার্য কে কাজ হিসেবে মেনে নিলেন।

            গরিবের শ্রম বেড়েছে কি ভাবে একটু ব্যাখ্যা করবেন? প্রযুক্তির প্রসারে সবারই শ্রম কমেছে। একটা রিকশাওয়ালার কথা ভাবুন,এক সময় ঠেলা দিয়ে কাজ করতো। এখন কেবল পেডল নয় ইঞ্জিনও ব্যবহার করছে। ধান মাড়াই,আখ মাড়াই,মাটি কাটা,ভবন নির্মান থেকে শুরু করে কোন পেশায় এখন আগের মতো কায়িক পরিশ্রম করতে হচ্ছে?

            মোবাইল প্রযুক্তিটা প্রায় সব শ্রেণির মানুষ ব্যবহার করতে পারছে। এক মিনিট কথা বলে যে তথ্যটি সে পেয়ে যাচ্ছে আগে হলে তার জন্য কয়েক ঘন্টা হাটতে হতো। এসব সুবিধা কি কায়িক পরিশ্রম কমিয়ে দিচ্ছে না!

            আর প্রযুক্তি বিজ্ঞানকে আপনি কি করে কায়িক পরিশ্রম হিসেবে ধরবেন? যদি কায়িক পরিশ্রম ধরেন তাহলে জাফর ইকবালের কথা তো মেনে নিচ্ছেন। আর যদি না ধরেন তাহলে ব্যাখ্যা কি?

          2. বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা
            বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা যদি নিউরণপ্রসূত না হয়, তবে একজন শ্রমিককে কেমিস্ট্রি ল্যাবে ঢুকিয়ে দেন, দেখবেন কিছুক্ষণ পর সে একটা ভজঘট বাধিয়ে নিজেই ধ্বংস হয়ে যাবে। কায়িক শ্রম এবং বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা, দুইটার মধ্যে একটা বিশাল পার্থক্য আছে। একটাকে আরেকটার পরিপূরক ভাবার চিন্তা করাটা বোকামি।

          3. জাফর ইকবাল তার এই লেখায় একটি

            জাফর ইকবাল তার এই লেখায় একটি অপরাধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ”আমাদের দেশের লেখাপড়া নিয়ে আমার অভিযোগের শেষ নেই সেটা এখন সবাই জানে – কিন্তু আজকে আমি অভিযোগ করব না। আজকে আমি শুধু সবাইকে মনে করিয়ে দেব এই দেশের তিন কোটি বাচ্চা প্রতি বছর নূতন বই হাতে নিয়ে লেখা পড়া করতে শুরু করে – শুধুমাত্র এই বিষয়টা চিন্তা করেই আমাদের সবার মনের সব দুশ্চিন্তা সব দূর্ভাবনা দূর হয়ে যাবার কথা!”
            এই বক্তব্য দিয়ে তিনি সরকারের কাছে তার বশ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছি বলে শিক্ষামন্ত্রী যে সফলতা প্রচার করছেন, এর মাধ্যমে জাফর ইকবাল তার পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন।

            অসম্পূর্ণ বক্তব্য। কারো একটা মতামতের সাথে সহমত প্রদর্শন করা মানে তার অনুসারী হওয়া নয়। শিক্ষামন্ত্রীর তুমুল সমালোচনা করেছেন ড: জাফর ইকবাল অনেক জায়গায়। সেগুলো হয়ত আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। মাসখানেক আগে কোন একটা টিভি চ্যানেলে (আমি এই মুহুর্তে নামটা মনে করতে পারছি না) একটা দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ে অনেক সুচিন্তিত মতামত দিয়েছিলেন, এবং বর্তমান সরকারকে ধুয়ে দিয়েছিলেন শিক্ষা ব্যবস্থার অনেকগুলো ত্রুটি সরাসরি তুলে ধরে।
            বছরের শুরুতে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে যাওয়ার সাফল্যের প্রশংসা করলেই সরকারের দালাল হয়ে যায়! আপনার মত বিচক্ষণ মানুষের কাছ থেকে এটা আশা করিনি।

          4. যেটা প্রসংশা যোগ্য তার
            যেটা প্রসংশা যোগ্য তার প্রসংশা করতে হবে, এবং যা নিন্দনিয় তার নিন্দা করতে হবে। কিন্তু একজন ব্যক্তি দুইটাই কেন করতে পারবে না?

            মানুষের জ্ঞানকে তিনি নিউরণ নাম দিয়ে বুঝিয়েছেন। এতে কি ভাবে ভাববাদকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে ব্যপারটা বুঝি নাই।

    1. আর সেই সিস্টেমটার প্রত্যক্ষ
      আর সেই সিস্টেমটার প্রত্যক্ষ উপাদানের অদল বদলের জন্য দরকার শ্রম! তাই গুরুত্বের প্রশ্নে অবশ্যই হাতই গুরুত্বপূর্ণ!

    1. কিছুই করতে পারিনি বলতে পারেন!
      কিছুই করতে পারিনি বলতে পারেন! কিন্তু তাই বলে কি আমার মতামত দেয়ার অধিকার নেই? আমি কিছু না পারা মানুষকে কেন আপনি সমালোচনা করতে গিয়ে বাজে কথা বলছেন? এটা কি আপনার অহেতুক উত্তেজনা নয়? আর অহেতুক উত্তেজনা কখন আসে? যখন যুক্তি পথ হারায়। আপনি যুক্তি খুঁজে পেতে জাফর ইকবালের সঙ্গে দেখা করে আসতে পারেন। 🙂

    1. আপনার সিদ্ধান্তের পেছনের
      আপনার সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তিগুলো বললে ভালো হতো। শুধুমাত্র সিদ্ধান্তের জানানটা কেবল পক্ষপাতিত্ব ছাড়া আর কিছু প্রকাশ করে না!

  4. পোস্টের পিছনের সম্ভাব্য
    পোস্টের পিছনের সম্ভাব্য পটভূমিঃ

    ১। যদু-মধু-কদু সবাই অনলাইন সেলিব্রিটি আর আমি কি হনু? জাফর ইকবাল কড়া মাল, ভাল টপিক…
    ২। দালালি তো আর করি না… মতামত প্রকাশ করি… টাকা খাই যার গুন গাই তার… যে খায় না অয় মানুষ ভালা না…

  5. বস্তু ও চিন্তার বিতর্ক। খুব

    বস্তু ও চিন্তার বিতর্ক। খুব গভীর দর্শনের বিতর্ক

    কোনো সন্দেহ নাই, তয় আগাগোড়া পরিবার দেখিয়া এবং পড়িবার পরে এবং যুক্তি-তর্কের অবসনান্তে মূল দর্শন অপরাপর খাতে প্রবাহিত হওয়াতে অরূপ একটি সুগভীর বিষয় অতিশয় অগভীর বোধ হইতেছে: ……..

    এক্ষণে, আমর কাছে তাই বৃথা এ তর্ক।

    কারণ ১: ব্যক্তি যতই সুমহান হোন, তিনি একজন ব্যক্তি। একজন জাফর ইকবাল কি বলিলেন তাহা শুনিবার মানে শুনিয়া প্রভাবিত হইবার সময় এ জাতির নাই, তাছাড়া, নিজের লভ্যাংশ ছাড়া আমরা কিচ্ছু বুঝিনা।

    কারণ ২: আমি সিধা বুঝি, ডিম ছাড়া মুরগি, মুরগি ছাড়া ডিম হয় না। গুরুত্ব কার বেশি শুধু মানুষই ভাবে। কারণ তার ব্রেইনে নিউরন বহুত বেশি। কারণে অকারণে সে তাদের খাটাবে, কারণ পরিশ্রমের বিকল্প নাই, অলস নিউরন অকামেরও না। নিউরনকে পরিশ্রমে ঝালাই করিলে তবেই সে পরিপক্ক হয়। আর পরিপক্ক হইবার পর সে কি কি পারে সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা হইতে পারে, তবে আমার মগজ আবার কম, তাই বরং বলিব, ” আমি জানি না”, কেননা, আমার নিউরন অপরিপক্ক।

    কিন্তুক আল্লাহ পাক মানুষেরে নিউরন বেশি দিসে কিয়ারে? বাকি সব প্রানিয়ে তয় পরিশ্রম কইরা খাইতাছে। ন্যুরণ কম হইলে পরে আমরা কি ভালো মন্দ খাইয়া মরিতে পারিতাম না? সে মোজেজা আল্লাহ পাক ভালো জানেন।

  6. আজকে আমি শুধু
    সবাইকে মনে

    আজকে আমি শুধু
    সবাইকে মনে করিয়ে দেব এই দেশের তিন কোটি বাচ্চা প্রতি বছর নূতন বই
    হাতে নিয়ে লেখা পড়া করতে শুরু করে – শুধুমাত্র এই বিষয়টা চিন্তা করেই
    আমাদের সবার মনের সব দুশ্চিন্তা সব দূর্ভাবনা দূর হয়ে যাবার কথা!”
    এই বক্তব্য দিয়ে তিনি সরকারের কাছে তার বশ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

  7. রবার্ট ওপেনহাইমার একজন
    রবার্ট ওপেনহাইমার একজন মহাপ্রতিভাশালী বিজ্ঞানী ছিলেন।কিন্তু পরমাণু বোমার জনক এই বিজ্ঞানীকে হিরোশিমা-নাগাসাকির ধবংসযজ্ঞের শিকার হওয়া জাপানিদের বংশধরেরা অবশ্যই প্রথমে দেখে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে।তাই বিজ্ঞানীরা যদি রাজনীতিতে স্লো পয়জনিং করেন,বাস্তব জীবনে মুখে বলেন এক কথা আর কাজে করেন আরেক;তা দেখেও না দেখার ভান করার অবকাশ নেই।আর তাঁদের আশেপাশে বসবাস করা লোকজনের দৃষ্টিতেও তা এড়িয়ে যাবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 2 =