বিনোদিনী পরিবার ও একটি ভীমরুল

(ভিমরুল এর কামড়ে আমার বানান ভুল হয়েছে। ক্ষমা করার দরকার নাই কেননা গল্পটা কাল্পনিক বাস্তব। কাউকে ব্যথা দেবার জন্য লিখিনি। নিছক মজা করার ছলেই লিখেছি)
যথারীতি সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় আজও রিহারসেল চলছে। অন্ধকার রুমটার নিভু নিভু টিউব লাইট যেন বিনোদিনীর প্রতিকী রুপ নিয়ে জ্বলছে আর নিভছে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে আজ কোরাম সঙ্কটের অভাবে টেনে হিচড়ে চলা গ্রুপে সবাই উপস্থিত! এমন কি পূরানো সদস্যদের মধ্যে দুই লাক্স বিউটির একজন প্রিয়াম অরচি ঢাকা থেকে উড়ে এসছেন। তার চেয়ে ও বড় আশ্চর্য্য কথা সিনিয়র সদস্য বিউটি কুইন তনুশ্রী দীপা হাজির! নিশচই সহস্র ব্যস্ততার মধ্যে মা বিনোদিনী কে ভুলে যেতে পারেন নি নাড়ীর টানে। সবার হাতে সেলফোনের লাইট জ্বলছে যেন মিনি গনজাগরণ মঞ্চ! বেশ টগবগে চলছে রিহারসেল আনন্দ আর উত্তেজনা নিয়ে; ক’দিন পরেই শো। মঞ্চে অংশগ্রহণকারী সবাই আনকোরা নতুন। সবাই যার যার অংশ মুখস্ত মহড়া দিচ্ছেন তার কো – আরটিস্টের সাথে। এর ফাকে দলের প্রধান অনূপ দা একটু জিড়িয়ে নেবার জন্য কিংবা পান খাবার জন্য একটু বাইরে গেছেন; এখনি ফিরবেন। সব কিছু ঠিক ঠাক চলছিল কিন্তু বাধ সাধলো বেরসিক ভিমরুল, যেন তক্কেতক্কে ছিল এই দিন টির অপেক্ষায় দীরঘদিন!
ভিমরুল টা ভো উড়ে গিয়ে আদর করে দিলো সঙ্গীতা কে। কোথায় কামড় দিল বোঝার উপায় ছিলো না।
ডায়ালগ বলতে গিয়ে সঙ্গীতা হঠাত তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠলো । “ অ্যাই না! আমি কি করলাম! “ভিমরুলের কামড়ের মাহাত্তে কিনা কে জানে তার চশমার কাচে বেক্কেল (সুইট) হাসির দ্যুতি ছড়িয়ে পড়লো।
আর যায় কোথায় রিহারসেল! সবাই চোখ ছানাবড়া। কিছু বুঝে উঠবার আগেই ভিমরুল টা গিয়ে জয়দ্বীপের পা** কামড় বসিয়ে দিলো। জয়দ্বীপের হাত থেকে স্ক্রিপ্ট পড়ে গেলো। “ঊফ” শুধু একটা শব্দ শোনা গেল তার মুখ থেকে। এক ঝটকায় ঘাড় ঘুরিয়ে চশ্মার ভেতরে বড় বড় গোল গোল চোখে বলল “ দেখলেন তো স্বপন দা … ভিমরুল ও আমাদের ভালো চায় না। এভাবে রিহারসেল করা যায়? “
চোখজোড়া অম্বরীশ মিত্রের দিকে ফিরলো “ রিহারসেল কেন্সেল করে দেই …আজকে আর না! ”
সবাই তখন ভিমরুল এর গতি প্রক্রিতি নিয়ে ব্যস্ত। ভিমরুল এর ভো শব্দের সাথে সব কটা চোখ বায়ে-ডানে, ওপ রে–নীচে ঘুরচে আর যেন ভিমরুল ইতোমধ্যে ডিসিশান নিতে ব্যস্ত তারপর কাকে! মওকা বুঝেই এক ছুটে দিলো কামড়!
শুধু দেখা গেল দেবাশীষ ধড় হাত দিয়ে ধরের পাশে ঘাড় মালিশ করছে। তার ভ্রু জোড়া কিঞ্চিত বাকা। “না থাকে নাটকের মুড, না থাকে কবিতার মুড”
অম্বরীষ মিত্রের এহেন চেহারা কেউ কখন দেখে্নি আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। দৌড়ে গিয়ে দরজাটা খুলে দিলেন আর ১০ নাম্বার সিগ্নালের রাডারের মতো চোখ ঘুরছে সমান তালে। একবার দানে একবার বায়ে করতে গিয়ে ঝামেলা বাজিয়ে ফেললেন বেচারা!
তীব্র চিতকার করে উঠলেন শুধু। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সইনিকের মত বলে উঠলেন “ শালা রাজাকারের বাচ্চা! “
শাহেদ ওরফে কাজী কামড় খেয়ে এক গাল হেসে দিলেন “ স্বপন দা এই ভিমরুল টা আমাদের উপর মনে হয় কুব কেপে গেসে…হে হে হে”
সোহেল অরফে কুজোবুড়ো কামড় খেয়েই খিলখিল করে হেসে উঠলেন। অবশ্য তার জা অবয়ব এমন শত ভিমরুল কামড়ালেও …
যে রুবায়েত এর ফেসিয়াল এক্সপ্রেশান অভিনয়ের ধার কাছ দিয়ে যায় না আজ কামড় খাবার পর মুগ্ধ হয়ে আছে সবাই, ভাবছে অভিনয় করছে না তো! এতটুকু এক্সপ্রেশান দিতে পারলেই নাটক সুপারডুপার হিট নিশ্চিত!
না দরজা খুলে দিলে ও ভিমরুল বাইরে বেরিয়ে যায় নি। যাবেইবা কেন। এই দিনের অপেক্ষায় হয়তো ছিলো!
ছাড়লো না দুই লাক্স বিউটি কে ও। আমি নিশিচত করে বলতে পারি ভিমরুল টা পুরুষ এবং মেয়ে ভিমরুল এর কাছ থেকে অনেকবার ছেকা খেয়েছে জীবনে। নইলে এভাবে কোনো সুন্দরী কে কোনো পোকা কামড়াতে পারে!
হ্যা তনুশ্রী দীপার কথা বলছি। তনুশ্রী আজ তার জীবনে সেরা অভিনয় টা করেছে। না মানে বলতে চাইছি, “পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়” নাটকে এইটুকু করলে…যাই হোক তনুশ্রী “উফ” করে একটা শব্দ করলো।
তারপর তার স্বভাব সুলভ ভঙ্গীতে নতুন সবার দিকে হাত নেড়ে বললো “আসলে থিয়েটার করতে গেলে অনেক কিছু সয্য করতে হয়”
না ব্যাথাটা আর বোধহয় সয্য করা গেলনা । তীব্র চিতকার করে উথলো সে। ভিমরুল টা খুজতে খুজতে বললো “ জুতিতে তোর ২৪ টা দাত যদি ফেলে দেয়া যেতো”!
যাই হোক জীবনে অনেক কিছু শিখবার আছে। ভিমরুল এর ২৪ টা দাত আছে কিনা সবাই সন্দেহ নিয়ে মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে।
ইতোমধ্যে প্রিয়াম ব্যাগ গুছিয়ে ভো দউর! “আমি বাইরে দাড়াচ্ছি”। আসলে ভিমরুল বাবা তাকে ও আশীরবাদ করেছেন। তিনি হয়তো রুমের ভেতর চেহারার বিকরিতি দেখাতে চান নি কাউকে।
হ্যা, বাবা স্বপন কামড় খেয়েই বলে উঠলেন “ তোর মত ফালতু মানুষ আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকার কোনো যোগ্যতা নাই। আইযকা , অক্ষনি তোরে ব্লক মারতেসি।“ বলেই লজ্জা পেয়ে গেলেন। ভিমরুল, ফ্রেন্ডলিস্ট !!!
সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। কুত্তায় থুড়ি ভিমরুল কামড়াইলে পাগলে কিনা কয়!
এতক্ষণ সব লন্ডভন্ড হয়ে গেলে ও এক চুল নড়েনি দলের কনিষ্ঠ সদস্যা ‘মিথিলা কিউটি বিউটি’। সে তার জায়গায় নিজ ভঙ্গিতে বসে আছে মুখ নিচু করে আর মাঝে মাঝে বা হাত দিয়ে মুখের সামনে থেকে চুল সরিয়ে দিচ্ছে কানের পাশ দিয়ে।
মিথিলার ভ্রু একটু করে হঠাত কুচকে গেলো। সামান্য একটু বোধ হয় সে নড়াচড়া করলো হয়তো করেনি ঠিক বোঝা গেলোনা!
সবাই কিন্তু মিথিলাকে দেখছে। কারন ভিমরুল টা তার দিকেই গেছে। এখন আর কোনো আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছেনা।
ভিমরুল টা কোথায় গেল কোথায় গেলো ভাবতে অনূপ দা ফিরলেন। আজ একটু দেরী করে ফিরলেন। সাধারনত এমন করেন না।
“সাড়ে ৮ টা বেজে গেছে। ঠিক আছে আজকে এইটুকু থাক! শোনো আমি কিন্তূ বুধবার রুম নিয়ে নেবো। তোমাদের ব্লকিং দেখিয়ে দেবো , প্রদীপ এসে যদি দেখে তোমাদের মুখস্ত হয়নি কি অবস্থা হবে বল তো। আচ্ছা আজকে যাও। জয়দ্বীপ, তুমি মিথিলা কে রিক্সায় তুলে দাও।”

সবার মাথায় ঘুরছে ভিমরুল এর কি হোলো। কোনো শব্দ পাওয়া ্যাচ্ছে না। একে একে সবাই বেরিয়ে যাবে তাই উঠে দাড়াতে সেলফোনের আলোয় দেখা গেলো মিথিলা যেখানে বসে ছিলো ভিমরুল টা সেখানে মরে পড়ে আছে!
ভিমরুল এর শহিদী অথবা কাফেরী মরন হল!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “বিনোদিনী পরিবার ও একটি ভীমরুল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

80 − 78 =