উচ্চশিক্ষিত বাঙালীর পাপ স্খলনের দায় কাঁধে নেয়া মৃত্যুঞ্জয়ী নায়ক – অভিজিত রায়

রবি ঠাকুরের ছোট গল্প রবিবার এর নায়কের নাম ‘অভি’ । অভীক কুমার। এটা তাঁর বাপ-মা’র দেয়া নাম নয়, বাপ-মা’র দেয়া নাম ছিলো অভয়াচরন। স্রেফ হিন্দু আস্তিক পিতার ইগোর বিরুদ্ধাচারন করবার জন্যই নাস্তিক পুত্র নিজের নামটা পর্যন্ত পালটে ফেলে। সমাজের খুব বেশী মানুষ কে চটায়না এমন একটু আধটু নাস্তিকতা হিন্দু সমাজ সব সময়েই সহ্য করে নেয়, ব্লটিং পেপার এর মতো শুষে নেয়। কিন্তু অভি’র নাস্তিকতা সেই মাত্রাকে অতিক্রম করেছিলো বহুগুণে। নাস্তিকতার প্রকাশ ছিলো মাত্রা ছাড়ানো, সেটা বন্ধু মহলে ধর্ম ও ভগবান নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য থেকে শুরু করে খোদ পুজোর ঘরে জাগ্রত দেবতাদের অপমানের ঘটনা। ব্রাহ্মণ পুত্র হয়ে মুসলমান খালাসিদের সাথে মিলে পরোটা আর নিষিদ্ধ মাংসের ভোজন উৎসব করতো সে । এই সকল আচার বিরুদ্ধ কাজের শাস্তি হিসাবে তাঁর ভাগ্যে জুটেছিল পিতৃ গৃহ থেকে বিতাড়িত হওয়া। স্রেফ বাবার হাঁড়ির ভাত বন্ধ হয়ে যাওয়া, ব্যস ! নাস্তিক হিসাবে তাঁকে তালিকাভুক্ত হতে হয়নি। নিজের সম্পর্কে খিস্তি খেঁউড় শুনতে হয়নি। হত্যার হুমকি নিয়ে জীবন যাপন করতে হয়নি। শহরের ব্যস্ত সড়কে ধারালো অস্ত্রের অঘাতে খুন হয়ে রক্তাক্ত দেহে পড়ে থাকতে হয়নি।


রবিঠাকুরের রবিবারের ‘অভি’র সাথে আমাদের ‘অভি’দার বিস্তর ফারাক আছে। রবিঠাকুরের ‘অভি’ জন্মেছিলেন অবিভক্ত ভারতে। অভিজিত রায় জন্মেছিলেন মুসলমানদের দেশ বাংলাদেশে । তাই তাঁর নাস্তিক হয়ে ওঠার পরিণতিটা রবিঠাকুরের ‘অভি’র পরিণতির চাইতে বহুগুণ ভয়াবহ হয়েছিলো। অভিজিত রায় কে শুধুমাত্র লেখালেখির জন্যে বাংলাদেশের রাজধানীর একটি প্রধান সড়কে নিহত রক্তাক্ত দেহে পড়ে থাকতে হয়েছিলো।


অভিজিত রায় জানতেন সংগ্রাম টি দীর্ঘ মেয়াদী। তাই তিনি শুধু একা একজন ব্যক্তি হিসাবে আলোকিত হয়ে উঠতে চাননি। তিনি চেয়েছেন তাঁর সময় কে আলোকিত করতে। তাঁর প্রজন্ম কে আলোকিত করতে। তাইতো নিজে তারকা হয়ে ওঠার বদলে তাঁর চারপাশ কে বহু তারকার আলোতে জলসাতে চেয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মুক্তমনা । যেখানে হাইস্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক পর্যন্ত সকল বয়সের, জ্ঞানের, অভিজ্ঞতার মানুষ লিখেছেন, শেয়ার করেছেন তাদের চিন্তার ফসল, অভিজ্ঞতার নির্যাস। মুক্তমনা হয়ে উঠেছিলো বাঙ্গালীর মুক্তচিন্তার প্রধান কেন্দ্র । মুক্তমনা সম্ভবত খুব সামান্য কয়েকটি ব্লগের একটি ব্লগ যা বাংলাদেশের মূলধারার কুৎসিত রাজনীতির সকল প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে বিজ্ঞান, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, ধর্ম, রাজনীতি সহ সকল ধরনের চিন্তাকে প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা প্রকাশের স্বাধীনতার সপক্ষে সোচ্চার থেকেছে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই মুক্তমনা টার্গেট হয়েছে ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর, তাদের পৃষ্ঠপোষক সরকারি, বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক শক্তির। একথা খুব অবাক করা নয় যে মুক্তমনা, অভিজিত রায় কিম্বা মুক্তচিন্তার লেখকেরা মৌলবাদী ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর আক্রোশের শিকার হবেন। সম্ভবত মুক্তচিন্তার মানুষেরা এই ঝুঁকিকে মেনে নিয়েই এই সংগ্রামে লেগে থাকেন। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি, শুধু মৌলবাদীরা নয়, বাঙ্গালীর উচ্চ শিক্ষিত, কথিত প্রগতিশীল, ডান – বাম – মধ্যপন্থী – সরকারি – বিরোধী দলীয় গোষ্ঠীর অনেকেই সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে অভিজিত রায়ের বিরুদ্ধে, মুক্তমনা, মুক্তচিন্তার লেখক, ব্লগারদের বিরুদ্ধে সামাজিক কুৎসা প্রচারের উতসবে মেতেছেন। অভিজিত রায় ছিলেন এদের আক্রমণের প্রধান টার্গেট। আমরা এর নমুনা দেখেছি অভিজিত হত্যাকাণ্ডের আগে এবং পরে।কোনও কোনও ব্লগার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথাকথিত সেলেব্রেটিদের কেউ কেউ আজও অভিজিত, মুক্তমনা ও মুক্তচিন্তার মানুষদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ অব্যাহত রেখেছেন।


অভিজিত রায় ফেসবুক সহ প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে খুব সরব ছিলেন না। প্রতি ঘনটায় বা প্রতিদিন স্ট্যাটাস দিয়ে কাঙ্গালের মতো লাইক গুনে দেখবার মতো সময় অভিজিত রায়ের ছিলোনা । তাই ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিজিতের বন্ধুর সংখ্যা ছিলো হাতে গোনা। এই ফেসবুকের মাধ্যমেই আমরা একদিন প্রায় আচমকা আবিষ্কার করলাম বাংলাদেশের একটি অনলাইন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যারা বইও সরবরাহ করে থাকে, তারা তাদের অনলাইন বইয়ের দোকান থেকে অভিজিত রায়ের পুস্তক নামিয়ে ফেলেছে এবং প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে অভিজিত রায়ের পুস্তক বিক্রি বন্ধ করেছে। একজন ছিচকে মৌলবাদীর হুমকির মুখে তারা এই কাজটি করেছে বলে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। রকমারি নামের এই মৌলবাদ তোষক প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং অনলাইনে প্রতিবাদ করেছি, তাদের কে আহবান করেছি তাদের সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্যে। সবশেষে সেই মৌলবাদ তোষক পুস্তক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটিকে বর্জনের আহবান জানিয়েছিলাম প্রগতিবাদী সাধারণ মানুষদের কাছে । প্রচুর সাড়াও পেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু অবাক হয়েছিলাম – অনলাইনের কিছু তারকা ‘ভট্টাচার্য’ রা আমাদের এই প্রতিবাদের বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। তারা সেই মৌলবাদী পুস্তক বিক্রেতা দোকানের হয়ে, অভিজিতের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। প্রবল ভাবে ওকালতি করেছিলেন সেই মৌলবাদ তোষক বই ব্যবসায়ীর পক্ষে। অভিজিত রায় শুধু একজন মুক্তমনাই নন, তিনি একজন পেশাদার লেখক ছিলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি লেখালেখি করতেন। এই সকল “উচ্চশিক্ষিত” বাঙ্গালী, একজন লেখকের অধিকারটুকু সংরক্ষণের পক্ষেও একটি বর্ণ উচ্চারণ করেননি। আমরা এই পোশাকি মানুষগুলোকে চিনে রেখেছি। অভিজিত রায়ের বিরুদ্ধে, মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে এদের এই সকল ভট্টাচার্যর সঙ্ঘবদ্ধ ‘জিহাদের’ কথা আমরা লিখবো। নাম ধাম সহ আগামী প্রজন্ম জানবে সেই সব কথা।


ধর্ম সহ সকল অন্ধ বিশ্বাস মানুষের মস্তিষ্কের উপর যেভাবে কর্তৃত্ব করে তার সাথে ভাইরাস একটি পোষক কোষের উপরে যেভাবে কর্তৃত্ব করে তার হুবুহু মিল রয়েছে। অর্থাৎ অন্ধ বিশ্বাস মানুষের মস্তিষ্কে ভাইরাসের মতোই কাজ করে। ভাইরাস যেমন পোষক দেহের কার্যক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়, তেমনি ধর্ম ও অন্ধ বিশ্বাসও মানুষের নিজস্ব বিবেচনাবোধ কে ধ্বংস করে দেয়। ধর্ম কিভাবে মানুষের বিবেচনাবোধ কে লোপ করে দেয় তাঁর হাজার হাজার উদাহরণ আছে।পৃথিবীর সকল ধার্মিক হয়ত খুন করেন না, কিন্তু একথা তো সত্যি যে ধর্ম বিশ্বাস মানুষ কে প্রায়শই ভয়ঙ্কর রকমের বিভাজিত করে। ধর্মীয় দাঙ্গার ইতিহাস আমরা জানি, শিয়া – সুন্নি বিভাজনের রক্তাক্ত ফলাফল প্রায় প্রতিদিন ঘটছে, ধর্মের কারণে পিতা কন্যাকে হত্যা করছেন, ভাই বোন কে হত্যা করছেন এমন ঘটনা খুব বিরল নয় । বিশ্বাস মানুষ কতটা অন্ধ করে তোলে যে ভারতে মন্দিরে পিটিয়ে মারা হয় ৯০ বছরের প্রবীণ মানুষকে, কারণ তাঁর অপরাধ, তিনি দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত। ধর্ম, বিশ্বাস ও ভাইরাস এর মেটাফোর নিয়ে অসংখ্য লেখালেখি হয়েছে, সমাজবিজ্ঞানের এমন কি বায়োলজিক্যাল সায়েন্স পরিসরেও অনেক প্রকাশিত গবেষণাপত্র আছে। এই ধারনাগুলোকে জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখার আঙ্গিকে (পপুলার সায়েন্স) অভিজিত রায় প্রকাশ করেছেন তার বিভিন্ন লেখায় এবং পুস্তকে। এই বিষয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত লিখেছেন তাঁর “বিশ্বাসের ভাইরাস” বইয়ে। পুস্তকটির প্রচ্ছদ দেখলেই বোঝা যাবে এখানে বিশ্বাস বা ধর্ম বিশ্বাস বলতে সকল ধর্ম বিশ্বাস এর কথা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, শুধু ইসলাম বা হিন্দুত্ব নয়।

আন্তর্জাতিক পরিসরের এই সকল গবেষণার, লেখালেখির কোনও খোজ খবর রাখেন না এই রকমের একজন ব্লগার আচমকাই অভিজিত রায়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ সহ এক বিরাট সিরিজ ফেঁদে বসলেন অভিজিত রায় বেচে থাকতেই। বাংলাদেশের এবং আমাদের প্রজন্মের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য সেকুলার মানুষটিকে এই ব্লগার নামকরণ করলেন “সালাফি সেকুলার” হিসাবে। অভিজিত রায়কে চিনহিত করলেন, ইসলাম বিদ্বেষী এবং উপসংহার টানলেন এইভাবে যে অভিজিত রায় ও তার মতো অন্যদের লেখালেখি আসলে ইসলাম বিদ্বেষ এবং সালাফি ধরনের সেকুলারিজম। এই ব্লগার তার নিজের লেখাতেই স্বীকার করেছিলেন যে তিনি অভিজিতের পুস্তকটি কিম্বা এ সম্পর্কিত অন্তর্জাতিক প্রকাশনা গুলো পড়ে উঠতে পারেন নি। পড়াশুনার এই সীমাবদ্ধতা নিয়ে, একটি পোষকের দেহে ভাইরাস কিভাবে কাজ আর মানুষের মস্তিষ্কে বিশ্বাস কিভাবে কাজ করে তার কানাকড়ি না জেনেও তিনি কলম তুলে নিয়েছিলেন অভিজিত রায়ের বিরুদ্ধে, কারণ অভিজিতের লেখা খণ্ডনের চাইতেও অনেক জরুরী ছিলো অভিজিত কে “সালাফি সেকুলার” বানানোটা। যদিও এই ব্লগার কখনই ব্যাখ্যা করেননি ‘সালাফি’ দের নবী কি মুহম্মদ নাকি মনু? তিনি ব্যাখ্যা করেননি ‘সালাফি’ দের কিবলা কি মক্কা নাকি অযোধ্যা? তিনি ব্যাখ্যা করেন নি সালাফিদের গ্রন্থ কি কুরআন নাকি বেদ? অভিজিত রায়কে “সালাফি সেকুলার” বানানোর জন্যে এই সকল কিছু ব্যাখ্যা করবার দরকার নেই। শতকরা নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে একজন নাস্তিককে যদি অপদস্থ করা যায়, তাহলে পুরস্কার তো হাতে হাতে, তাইনা? এই উপস্থিত পুরস্কারের লোভ কয়জন সামলাতে পারে বলুন? আমরা অভিজিত রায়কে “সালাফি সেকুলার” বানানোর এই ইতিহাসও ভুলবোনা এবং আমাদের পরের প্রজন্মও কে জানিয়ে যাবো।


অভিজিতের হত্যাকাণ্ডের পরে উচ্চশিক্ষিত বাঙ্গালীদের কারও কারও কান্নার দৃশ্য আমরা দেখেছি । আমরা জানিনা, এ কান্না হয়ত তাদের সত্য অনুভূতি তাড়িত হতে পারে। যারা অভিজতের বই প্রত্যাহারকারীদের পক্ষে ওকালতি করেন, যারা অভিজিত কে “সালাফি সেকুলার” ট্যাগ দেন, অভিজিতের হত্যাকাণ্ডে তাদের কান্না আমাদেরকেও আপ্লুত করে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে এ কান্না পোশাকি নয়। কিন্তু হায়, উচ্চ শিক্ষিত বাঙ্গালীর পোশাক বদলাতে সময় লাগে সেকেন্ডেরও ভগ্নাংশ সময়। তাই টিএসসি সড়কের উপরে অভিজিতের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই কোনও কোনও “গুরুশিষ্য” যুগল অভিজিত কে “ইসলাম বিদ্বেষী” হিসাবে প্রচার করতে শুরু করেন। কেউ কেউ অভিজিতের রক্তের সাথে তার খুনি জঙ্গিদের রক্তের সাদৃশ্য বর্ণনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। উচ্চ শিক্ষিত বাঙ্গালী “কিন্তু”, “যদি”, “অথচ”, “নতুবা” ইত্যাদি নানান রকমের শব্দ দিয়ে অভিজিত হত্যাকারীদের বীভৎস অপরাধ কে লঘু করার ‘জিহাদে’ শামিল হন। অভিজিত হত্যাকাণ্ড কে সামাজিক ভাবে জায়েজ করবার এই জিহাদে যেমন আছে ইসলাম, আহমেদ, চৌধুরী, তেমনি আছেন ভট্টাচার্য মহাশয়েরাও । আমরা অক্ষরে অক্ষরে মনে রেখেছি সেসব । আমাদের পরের প্রজন্ম কে জানাবো সবিস্তারে, বাংলাদেশের মুক্ত চিন্তার শত্রুমিত্রদের আসল চেহারা।


গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের এক চমৎকার বিবর্তন ঘটেছে। দেশের অর্থনীতি যেহেতু বিকশিত হয়েছে দালাল মুৎসুদ্দিদের হাতে, তাই শিল্প সাহিত্য সঙ্গীত সকল ক্ষেত্রেই আজ দালাল ফড়িয়াদের দাপট। যাদের বড়ো বড়ো শপিং মলে সসেজ – রুটি বিক্রি করার কথা, কিম্বা বড়জোর “টারজান দি এইপম্যান” ধরনের পুস্তক লেখার কথা, তারাই এখন বছর বছর রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক পুস্তক প্রসব করছেন। এহেন মন্দা বাজারে, অভিজিত রায়ের অনুপ্রেরণায় এক ঝাঁক তরুণ লেখক গড়ে উঠেছেন যারা নিরেট বিজ্ঞানের বিভিন্ন জরুরী বিষয় সহজবোধ্য করে প্রকাশ করছেন নতুন প্রজন্মের জন্যে ।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ঝাঁক তরুণ প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তুলছেন ধর্ম, বিশ্বাস, কুসংস্কার নিয়ে। প্রশ্ন তুলছেন কথিত ধর্মীয় মহাপুরুষদের নিয়ে। তাদের এই লেখালেখির মাঝে রয়েছে সুস্থির গবেষণা, গভীর ভাবনা এবং প্রখর যুক্তিবোধ। অভিজিত প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছেন এই সকল টগবগে তরুণের লেখার মধ্য দিয়ে।


বাংলাদেশ শতকরা নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশ। দেশ ও সমাজের সকল স্তরে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে উচ্চশিক্ষিত মুসলমানেরা প্রায় সকলেই ঘুষ খেয়ে থাকেন। পুলিশ, ডাক্তার, শিক্ষক, উকিল, আমলা সকল পেশার মাঝে ঘুষ এখন ডাল্ভাতের মতোই।এরা ঘুষ খান এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন । এদের ইসলামী নৈতিকতা ঘুষ খাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়না। পুলিশের বেতনের টাকায় তাদের পান বিড়ির খরচ হয়না, সুতরাং বাকিটা জোগাড় হয় ঘুষ থেকে। ডাক্তার ঘুষ নেন ফারমাসিউটিক্যালস কোম্পানি থেকে, ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক থেকে। নিতান্তই হত দরিদ্র না হলে আজকাল বাংলাদেশে কোনও নারীর নরমাল ডেলিভারি হয়না, সামর্থ্য আছে এমন দশ জনের নয়জনেরই সিজারিয়ান সেকশন অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা ভূমিশঠ হয়। আর দিনরাত সিজারিয়ান সেকশন অপারেশনে ব্যস্ত অবস্ট্রেটিক্স এর এই ম্যাডামদের মাথা জুড়ে থাকে ইসলামী ঐতিহ্যের হিজাব । হাজার হোক, মুসলমান বলে তো কথা, অবৈধ উপায়ে টাকা উপার্জন করলেও, পরকালের কথাও তো ভাবতে হবে, তাই না? শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানদের দেশে ভেজাল ঔশুধ প্রস্তুত করে শিশুদের হত্যা করা হয়, প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষদের হত্যা করা হয় এবং এই সকল হত্যাকাণ্ডের মাঝে ইসলামী নৈতিকতা এসে দাড়ায়না। উচ্চ শিক্ষিত মুসলমানদের একটা বড়ো অংশ মদ্যপান করেন । মদ্যপান করার ক্ষেত্রে ইসলাম কোনও বাধা হয়ে দাড়ায়না। দেশে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত গণিকালয় আছে, সেখানেও ক্রেতাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ শিক্ষিত মুসলমান। ইসলাম এখানে গণিকালয়ে যাবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা । এই উচ্চ শিক্ষিত মুসলমানদের কাছে আল্লাহ বা মুহাম্মদের চাইতেও অনেক বেশী ক্ষমতাবান হচ্ছেন শেখ হাসিনা কিম্বা খালেদা জিয়া। এদের কাছে শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার বানী কুরআন বা হাদিসের বানীর চাইতেও অধিক শক্তিমান। এই শক্তির কাছে ইসলাম তুচ্ছ, আল্লাহ নবী রাসুল তুচ্ছ । এই উচ্চশিক্ষিত মুসলমানদের ইসলাম জেগে ওঠে কেবল নাস্তিকদের বিরুদ্ধে। অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে । মুক্তমনাদের বিরুদ্ধে । এরা নাস্তিকদের কে মনে করেন “আপদ” , “নির্বোধ” , উৎপাত ! কেনও মুসলমানদের ইসলাম শুধু নাস্তিকদের বিরুদ্ধেই জেগে ওঠে তার প্রমাণ রয়েছে মুসলমানদের গ্রন্থ কুরআনের ছত্রে ছত্রে। আল্লাহ কে অস্বীকার করার চাইতে বড় কোনও অপরাধ ইসলামী মস্তিস্কে নেই। আল্লাহ ও তাঁর কথিত প্রেরিত পুরুষ মুহম্মদ কে অস্বীকার করা কাফেরদের একমাত্র পরিণতি হচ্ছে মৃত্যু। নাস্তিকরা কাফের, তাই মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব হচ্ছে নাস্তিকের বিরুদ্ধাচারন করা, সামাজিক ভাবে অপদস্থ করা, সময় ও সুযোগ মতো পাওয়া গেলে হত্যা করা। এটাই বিশ্বাসের ভাইরাস। একজন মুসলমানের কাছে একজন নাস্তিক কখনই স্বাভাবিক মানুষ নন, একজন নাস্তিক হচ্ছে কাফের আর কাফের কে হত্যা করা মুসলমানদের গ্রন্থ নির্দেশিত মহান দায়িত্ব। আমাদের উচ্চ শিক্ষিত বাঙ্গালী মুসলমান “অনুভূতিতে আঘাত” দেয়ার অপরাধে নাস্তিকদের কে সেই একই তকমা এটে দিয়েছেন দিনের পর দিন । “বিশ্বাসের ভাইরাস” আক্রান্ত এই সকল উচ্চ শিক্ষিত বাঙ্গালীর মস্তিষ্ক তাদের আধুনিকতার পোশাকের আড়ালে প্রতিদিন আসলে সেই সকল জঙ্গির জন্যেই ভিত্তিভূমি তৈরি করছেন যার উপরে দাড়িয়ে এরা স্বচ্ছন্দে খুন করে চলে যায় অভিজিত – অনন্ত – বাবু – নীল বা দীপনদের। প্রকৃত অর্থে অভিজিত সহ সকল নাস্তিক, মুক্তমনা মানুষ এই সকল প্রতারক বাঙ্গালীদের পাপ স্খলনের দায় তুলে নেন নিজেদের কাঁধে। কেননা নাস্তিকেরাই এই সকল প্রতারণার বিরুদ্ধে মানবতার কথা, মানুষে মানুষে সমান অধিকারের কথা, ধর্মের মিথ্যা – কুৎসিত ভণ্ডামির কথা বলে আসছেন।


সমাজের ইতিহাস ব্যক্তির ইতিহাসের মতো দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায়না। সমাজের পরিবর্তন হয় খুব ধীর গতিতে । তাই আমরা জানি রাতারাতি কোনও পরিবর্তন হবেনা বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে । ভট্টাচার্য -আলম -ইসলাম – আহমেদ ইত্যাদি নানান নামের “ইসলাম পসন্দ” ফড়িয়ায়াদের হাতে হয়ত মুক্ত চিন্তার আন্দোলন কে আরও অনেক অপদস্থ হতে হবে। মুক্ত চিন্তাকে, মত প্রয়াকশের স্বাধীনতাকে নিগৃহীত হতে হবে হাসিনা – খালেদাদের হাতে। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাস বলছে ভবিষ্যৎ আমাদের । সারা পৃথিবীতে ধর্ম, ধর্ম বিশ্বাস, ধর্ম গ্রন্থ, কথিত আল্লাহ – ঈশ্বর – ভগবান আর তাদের প্রেরিত পুরুষেরা এতোটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হননি আর কখনই। শত শত তরুণ বাংলা ভাষায় ধর্ম, ধর্ম গ্রন্থ আর কথিত নবী রাসুলদের চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন যা সত্যিই এক অনবদ্য নতুন ধারা। সামনে দিন আসছে যখন মনু হোক বা মুহম্মদ হোক, তাদের প্রতিটি ধাপ চ্যালেঞ্জড হবে। কুরআন – বাইবেল বা গীতা হোক না কেনও, প্রতিটি অক্ষর চ্যালেঞ্জড হবে। আর এই সকল মোকাবিলায় আমাদের এক অনিঃশেষ প্রেরণার উৎস অভিজিত রায় । যতদিন মুক্তচিন্তার সংগ্রাম থাকবে, অভিজিত রায় সে সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। অভিজিতের বই প্রত্যাহারের জন্যে রকমারির গায়ে মৌলবাদ তোষণের কুৎসিত দুর্গন্ধ লেগে থাকবে চিরকাল । যারা অভিজিতের বইয়ের বিরুদ্ধে, রকমারির পক্ষে ওকালতি করেছিলেন, সেই দুর্গন্ধ লেগে থাকবে তাদের গায়েও । অভিজিত কে যারা “সালাফি সেকুলার” বানাতে চেয়েছিলেন, তারা পোশাক পালটাবেন জানি, কিন্তু সেই কালো হাঁসটিকেও চিনে নেবে সকলেই। ইতিহাস এক অদ্ভুত শাঁখের করাত !

১০
মৃত্যুর তাৎপর্য নিয়ে প্রাচীন চীনা সাহিত্যিক সীমা সিয়েন খুব সাদামাটা ভাবে লিখেছিলেন ঃ

“ মানুষের মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু সকল মৃত্যুর তাৎপর্য এক নয়। কোনও কোনও মৃত্যুর তাৎপর্য হবে থাই পাহাড়ের চাইতেও ভারি আবার কারও কারও মৃত্যুর তাৎপর্য বেলে হাঁসের পালকের চাইতেও হালকা।”

যারা রকমারির হয়ে ওকালতি করেছেন, যারা অভিজিত আর তার খুনিদের রক্তের সাদৃশ্য নিয়ে মায়া কান্না করেছেন, যারা মুক্তমনা অভিজিত রায় কে “ইসলাম বিদ্বেষী”বানানোর জন্য দিনরাত কুস্তি করেছেন, যারা অভিজিত রায় কে “সালাফি সেকুলার” বানানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের জন্যে শেষ লাইনঃ

ইতিহাস প্রমাণ করছে এবং প্রমাণ করবে – কে পাহাড় আর কে পলকা বেলে হাঁস !

মুক্তচিন্তার জয় হোক !

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪৫ thoughts on “উচ্চশিক্ষিত বাঙালীর পাপ স্খলনের দায় কাঁধে নেয়া মৃত্যুঞ্জয়ী নায়ক – অভিজিত রায়

  1. অসাধারণ একটি পোস্ট।
    অসাধারণ একটি পোস্ট। মায়াকান্না প্রসবকারী সকল মুখোশধারীদের মুখোশ খুলে দেয়ার মাধ্যমে শুরু হোক অভিজিৎদার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন।

  2. আমি যানি না আপনাদের এইসব
    আমি যানি না আপনাদের এইসব প্রচারিত বুলি কতজন মানুষ গ্রহন করছে। রাস্তা ঘাটে যে হারে বোরকা হিজাব দাড়ি দিনকে দিনকে দিন বেড়ে চলেছে তাতে ভীত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মসজিদ। কি ঢাকা; কি লন্ডন কি প্যারিস সবযায়গার একই অবস্থা।
    যানি না ইসলামের সাথে এই যুদ্ধের শেষ ফলাফলটা আসলে কি!

    1. রাস্তাঘাটে বোরকা হিজাব
      রাস্তাঘাটে বোরকা হিজাব দাড়িওয়ালারা এখনো ইন্টারনেটে অভিজিৎ রায় ও মুক্তচিন্তকদের লেখার আওতায় এখনো আসেনি। যেখানে পিস টিভি আছে, তাবলীগ জামাত আছে, মসজিদে তাওহিদী তালিম তার বিপরীতে এখনো যে দেশে ইন্টার নেটে সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে পৌঁছাতে পারেনি এখনো সেদেশে ইন্টারনেটের ১০ বছরে তরুণদের মধ্যে যে বিপুল পরিমাণ অংশ ধর্মের সমালোচনা করতে শুরু করেছে- তার প্রতিক্রিয়ায় যেভাবে নাস্তিকদের তালিকা ও তাদের হত্যা শুরু হয়েছে- সেটা আশা জাগনিয়া। আরো সহজ কোন মাধ্যম ও প্রচু বইপত্র প্রকাশ শুরু হলে দ্রুত অভিজিতের স্বপ্নের মুক্তচিন্তা এদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদী। সময় লাগবে- কিন্তু ধর্মবাদীদের বিপরীতে একটা উল্লেখ করার মত ধর্ম বিরোধী মুক্তুচিন্তার শক্তি এদেশে তৈরি হবে। আরো সুদূর ভবিষ্যত হিসেবে দেখতে পাই- ইসলাম একসময় ইহুদী-খ্রিস্টান ধর্মের মত দাঁত-নখহীন অর্থব হয়ে যাবে।

      1. আসলে ইসলাম ই যে একমাত্র সত্য
        আসলে ইসলাম ই যে একমাত্র সত্য ধর্ম এসব আলচনা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়। মানুষ যত ভোগবাদি হবে ততই ধর্ম থেকে দুরে সরে পরবে এটার জন্য অযথা কাউকে বাহবা দেয়ার প্রয়জন নাই। আর মালাউনের বাচ্চারা ছাড়া কেউত এসব পেশাব পায়খানা পড়ে ঞ্জ্যান অর্জন করতে আসে না

        1. কোন মালাউনের বাচ্চা কি কখনো
          কোন মালাউনের বাচ্চা কি কখনো আপনার পুটু মেরেছিল নাকি শামীম? আমিতো জানতাম এই কামটাতে জামায়াতের পুলাপাইনের সোল এজেন্সি আছে।কারণ সাথী হতে গেলে নাকি রুকনদের কাছে পুটু মারা খেতে হয় বিন্দাস।মালাউনের বাচ্চাগুলোও তাহলে এই লাইন ধরসে? সাধে কি আর কয়, মালাউনকা বাচ্চা কাভি নেহি আচ্ছা” , আপনার জন্য গভীর সমুবেদনা রইলো ভাই।কি আর করা, আপাতত প্যারাসিটামল খেয়ে ব্যথা কমান।গেবন বড়ই বিচিত্র।

          1. তাইত হতে নিচ্ছিল দাদা! ভাগ্য
            তাইত হতে নিচ্ছিল দাদা! ভাগ্য ভাল আপনার মা এসে আমাকে বাচাল, কি অসম্ভব ভালগ তিনি !! আমার পুটু মারাটা তিনি নিয়ে নিলেন, এমন ভাল আর কাউকে দেখিনি জানেন ? দয়া করে একটু জিগ্গেস করবেন তার প্যারাসিটামল লাগবে কিনা?

      2. সুষুপ্ত, আপনি জেগে জেগে
        সুষুপ্ত, আপনি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছেন, অথবা নেশার ঘোরে আবোল তাবোল বকছেন।

        যতোই দিন যাবে ইসলামের প্রতি মানুষ আরও বেশি করে আকৃষ্ট হবে।

        1. সুষুপ্ত সপনো দেখছেন না। কারণ
          সুষুপ্ত সপনো দেখছেন না। কারণ সুষুপ্ত পৃথিবীর ইতিহাস জানেন। আপনি একটু পৃথিবীর ইতিহাস পড়ুন ও এর গতিপথ জানার চেষ্টা করুন। বাংলাদেশ টা পৃথিবী নয়। 😀

          1. এরা পড়বে পৃথিবীর ইতিহাস?
            এরা পড়বে পৃথিবীর ইতিহাস? নিজেরদের ধর্মগ্রন্থ এরা অর্থসহ পড়ে না। বাপের ধর্ম এরা না বুঝেই পালন করে। বুঝে ধর্মগ্রন্থ কেউ পড়লে তার মধ্যে যদি মানবতাবোধ থাকে সে ধর্মকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস মনে করে ছুঁড়ে ফেলবেই।

          2. আসেলে মুসলমানরা কখন বাপের
            আসেলে মুসলমানরা কখন বাপের ধর্ম পালন করে না ওটা মালাউনদের কাজ। মুসলমানরা তাদের সৃষ্টিকর্তার বিধান পালন করে আর তিনি যে বিধান তাদের দিয়েছেন তাতে ওদের কোন সন্দেহ নেই তাই চোখবুজে তাই পালন করে যা তিনি আদেশ করেছেন কারন তিনিইত একমাত্র বিধানদাতা সর্বশক্তিমান!

          3. “আমাকে গালিদেয়ার অধিকার
            “আমাকে গালিদেয়ার অধিকার তোমাকে দেয়া হল,কিন্তু নবীকে নয়,আমার ভুল আছে,কিন্তু ইসলামে নেই।”

            এই যে দিলাম, কান খারা কইরা হুন –

            – তোর নবী একটা ভণ্ড
            – সে একটা জারজ (আব্দুল্লাহ তার নিজের বাপ না, এইদা জানছ নি? না জানলে ইউটিউব-এ সার্চ দেয়)
            – তোর নবী ছিল ‘শিশু কামী’
            – তোগো নবির ‘খৎনা’ করা ছিলনা (এইডা মনে হয় জানতি না, তাই না? মানে তার ইমানদন্ডের আগা চিকককন আছিলো হেদো পাঠাগো মতন)
            – হুবাল মূর্তি (যেই ডারে তরা এখন ‘আল্যা’ কস, হেইডারে সে পুজা করত, পরে বানাইছে নিরাকার)

            তুই, তর নবী আর হ্যাগো অনুসারী (মানে এই স ম রায়হান, ফারাবি) – এইগুলান সবি একেকটা আবালচোডা, বুঝচোত নি হালায়? না বুজলে ক, ‘আলেট্টু বুঝাইয়া দ্রিমু’ ?

  3. কয়েকটা জায়গায় কথা বলতে চাই-
    কয়েকটা জায়গায় কথা বলতে চাই-

    উচ্চশিক্ষিত বাঙালি মুসলমানের ক্ষেত্রে যেইসব বিষয় বললেন, সেগুলি কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলছেন আমার বোধগম্য নয়। সেটি স্পষ্ট করলে ভালো হবে। আমি যা বুঝতে পারছি তাই বলছি। উচ্চশিক্ষিত বাঙালি মুসলমান ঘুষ খায়, পতিতালয়ে যায়, মদও খায়। আপনার প্রত্যাশা হচ্ছে, ইসলামী মুল্যবোধ এইসব ক্ষেত্রে মুসলমানের জন্যে বাধা হবার কথা ছিলো। সেটি হয়নি। আমি যদি পাল্টা প্রশ্ন করি, এই প্রত্যাশাটা আপনার নিজের অবচেতনে ইসলামী মুল্যবোধের সঠিকতাকে স্বীকার করে নেবার সামিল- তখন কী বলবেন? আপনার কাছে মনে হয়েছে ইসলামী মুল্যবোধ টা এদেশের উচ্চশিক্ষিত মুসলমানরা পার্শিয়ালি মানেন, কেবল নাস্তিকদের বেলায় , নাস্তিকদের লেখালেখির বেলায়। হয়তো অন্য সকল ক্ষেত্রে , মানে আপনার ভাষ্যমতে ঘুষ, গণিকাভোগ কিংবা মদ্যপানের বেলায় উচ্চশিক্ষিত বাঙালি মুসলমান ইসলামী মুল্যবোধের বাঁধা মানেন না, কিন্তু নাস্তিকদের বেলায় ইসলামী মুল্যবোধের বলে বলিয়ান হন! আমি আশ্চর্য হই, ইসলামী মুল্যবোধকে আপনি মনে করেন মদ্যপান, গণিকাভোগ কিংবা ঘুষ দুর্নীতির বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। এইখানেই ঘুরেফিরে ইসলামী মুল্যবোধের সঠিকতাকে আপনি মেনে নিচ্ছেন অচেতনে, গণিকাবৃত্তি কিংবা ঘুষ-দুর্নীতির রোধে ইসলামী মুল্যবোধের কার্যকারীতাকে আপনি স্বীকার করে নিচ্ছেন অচেতনে, কেবল আপনার আক্ষেপ- মুসলমানরা সেই মুল্যবোধকে ধারণ করছে না, ধারণ করছে কেবল নাস্তিকবিরোধী মুলবোধটুকুকে, যেটিকে ইসলামী মুল্যবোধের খণ্ডিত রুপ বলে আপনার কাছে মনে হয়েছে! এইযে সহীহ ইসলাম কে মুসলমানরা পুরোপুরি মানছেনা, মানলে ঘুষ, গণিকাভোগের মত বিষয়গুলি থাকতোনা বলে আপনার লেখা পরোক্ষে বলছে- সেটা কি ধরণের দর্শন, সবিনয়ে প্রশ্ন রাখলাম।

    এবার এইসব ক্ষেত্রে বাস্তবতা টা কি আসলে?

    যাবতীয় ইসলামী মুল্যবোধ, জীবনবোধ ও জীবনদর্শনের ভিত্তি হচ্ছে গণিকাভোগ, মদ্যপান এবং ঘুষ; সাথে রয়েছে ভীতি ও সন্ত্রাস। কীভাবে?

    আপনি ইসলাম মানলে আপনাকে বেহেস্ত দেয়া হবে। বেহেস্তে গণিকা আর মদের সর্বোতকৃষ্ট এবং সীমাহীন জোগান রয়েছে। এইসব পেতে চাইলে আপনাকে ইসলামী নির্দেশনামত জীবন যাপন করতে হবে। অর্থাত, আপনি ইসলামী মুল্যবোধ ধারণ করলে আপনাকে এইসব দেয়া হবে। ফলে, এই গণিকাভোগ এবং মদ্যপানের পুরষ্কারের টোপ ইসলামী মুল্যবোধকে মানুষের কাছে গ্রহণীয় করার একটি ভিত্তি। এই দৃষ্টিতে, এই দুইটি বিষয়- মদ্যপান ও গণিকাভোগের বিষয়টি ইসলামী মুল্যবোধকে টিকিয়ে রাখার একেকটি খুটি। ফলে, কী পেতে যাচ্ছে শরীয়তের ইসলামী মুল্যবোধকে গ্রহণ করলে- মুসলমান সেটার পরখ করবেই এবং সেকারণেই মদ্যপান এবং গণিকাভোগ সে করবে। ইসলামী মুল্যবোধটাও তাতে আরও চাগিয়ে উঠবে, কেননা পৃথিবীর নারী ও মদের তুলনায় বহুগুণ আকর্ষণীয় নারী ও মদের লোভ টা তখনই চাঙ্গা হবে, তখনই সে তার মুল্যটা বুঝবে, যখন দুনিয়ায় কিছু ভোগ করতে পারবে। ফলে, ইসলামী মুল্যবোধ তাকে মদ্যপান ও নারীভোগ থেকে নিবৃত্ত করবেনা, করেনি কখনোই , বরং উতসাহিত করেছে।

    এবার আসেন ঘুষের বিষয়ে। আপনি এই বেহেস্ত পাবেন- তার উপায় কি? তার উপায় হচ্ছে আল্লা নামের এক সত্তাকে খুশি করা! তিনি খুশি হলেই আবার আপনাকে এই নারী ও মদ ভোগের অধিকার দেয়া হবে। ঘুষের অফিসিয়াল অথেন্টিক এ্যাপ্রুভাল তা ইসলাম দিচ্ছে এইখানে- যে আল্লা মুমিনদের জান ও মাল খরিদ করেছেন জান্নাতের বিনিময়ে! অর্থাত, আপনি আল্লার জন্যে টাকা পয়সা দেবেন, তারপরেই জান্নাত পাবেন। তার জন্যে নামাজ পড়বেন রোজা রাখবেন- কেবল বেহেস্ত পাবার জন্যে! এই নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, জাকাত- সবই জান্নাত পাবার ঘুষ বলে আমার কাছে মনে হয়। মধ্যযূগের দুর্নীতিবান রাজ রাজরাদের রাজত্বে জমিদারী পেতে হলে যেমন ঘুষ দিয়ে রাজাকে খুশি করতে হতো, সেই ধারণাই মুহম্মদ ইম্প্রোভাইজ করে ইসলামে গ্রহণ করেছেন। আবার, রাজার হুকুম না মানলে যেই বর্বরোচিত শাস্তির বিধান আমরা মধ্যযূগে দেখি, সেটাকেও একইভাবে তিনি গ্রহণ করেছেন ইসলামে। এখন সেটা তিনি সমাজে শান্তি আনার মহত উদ্দেশ্যেই করেন, আর সমাজকে শৃঙ্খলিত করে ক্ষমতারোহনের জন্যেই করেন- যে কারণেই করেন- ব্যাপারটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যে অবধারিত এবং এসবের ফলেই যে এই নারীভোগ, মদ্যপান, ঘুষের ব্যাপারগুলি ঘটে চলেছে উচ্চশিক্ষিত মুসলমানের মাঝে- সেইটা তো সত্যি? ফলে- এই ঘুষের বিষয়ে ইসলামী মুল্যবোধ কোনও বাধা নয়, বরং ইসলামী মুল্যবোধের উপাদান হচ্ছে ঘুষ।

    এরপর মনে করেন ভয়ভীতি ও সন্ত্রাস। আপনি ইসলাম না মানলে আপ্নাকে মৃত্যুর পরে জাহান্নাম দেয়া হবে। চরম ভীতিকর অবস্থা সেখানে। আর দুনিয়ায় না মানলে আপনাকে যেখানে পায় হত্যা করবে, দৃষ্টান্তমুলক নৃসংসতায় হত্যা করবে। ফলে, অভিজিত রায়দেরকে খুন করাটাও ইসলামী মুল্যবোধেরই অখণ্ড উপাদান। এইসব আলাদা কিছুই নয় এবং পৃথিবীর সব দেশের শরীয়তী সহী মুসলমানগণ এই মুল্যবোধই লালন করে।

    এখন, একেক দেশে মুসলিম পরিচয়ে পরিচিত জাতিগুলির চরিত্র একেক রকম। যেমন, মধ্যযূগের বাঙালি মুসলমান একেবারেই মানবিক, সেকুলার মুসলমান। এরকম বহু জায়গাতেই আছে। তাদের সবাইকে জেনারালি শরীয়তি মুসলমান বলাটা একটু জেনারালাইজেশান এবিং এই জেনারালাইজেশান করে মুসলমান= সন্ত্রাসী, নারীলোভী, মাতাল- এইসব বলাটা একটু বাতুলতা। শরীয়তের মুসলমান আর পরিচয়ের মুসলমান এক জিনিস না। এই কথাটা খুবই সহজ। এইখানে কিছু মানুষের দর্শনের সঙ্গে সালাফীওয়ালাদের দর্শন মিলে যায়। সেটা হইলো- তুমি মুসলমান মানেই তোমার কোরান-হাদিসের সকল হুকুম আহকাম মানতে হবে। না মানলে তুমি মুসলমান না। এইভাবে, তারা মুসলমানের যেই ছবি আমাদের সামনে হাজির করে- তার মধ্যে সন্ত্রাসী, নারীলোভী, বর্বর কাউকে আমরা খুজে পাই। একই কাজ ইসলামের বিরোধীতা করতে গিয়েও কেউ কেউ করে বসে, দৃষ্টিভঙ্গিতে যাদের সঙ্গে এই সালাফিদের কোনও ফারাক নাই! তারাও মনে করে ইসলামী মুল্যবোধ মানলেই দুর্নীতি, মদ্যপান, জেনা বন্ধ হবে, সালাফি মোল্লারাও তাইই মনে করে। সালাফিরাও মনে করে মুসলমান হতে হলে তোমার জেহাদ করতে হবে, হাদিস কোরান মানতে হবে, বেহেস্তের লোভ, দোযখের ভয় করতে হবে, চারটা বিয়ে, যৌনদাসী গ্রহণ করতে পারো- ইসলামের বিরোধীতা করতে গিয়েও কেউ কেউ মুসলমান পরিচয়ের মানুষ মাত্রই এইসব করবে- এমন একটা স্বতঃসিদ্ধ গ্রহণ করছেন! এখন মুসলমান পরিচয় আর ইসলামিক স্ক্রিপচারে ডেপিক্ট করা মুসলমান যে এক জিনিস না- বেশীরভাগ মানুষ যে বেদ-কোরান থেকে ডেভিয়েট করে, কেউ কেউ পুরা ১৮০ ডিগ্রিতে- সেটা কে কাকে বোঝাবে? দৃষ্টিভঙ্গির এই জায়গাটায় মিলে গেলে ধর্মবিরোধী বা সেকুলার মানুষদেরকে কী বলা যেতে পারে- এই প্রশ্নটার উত্তর চাই, আশা করি দেবেন।

    আর আপনি নিজেও, যেই শিরোনাম লিখেছেন এবং তার যে ব্যাখ্যা শেষে দিয়েছেন- যে ইসলামী মুল্যবোধকে সকল ক্ষেত্রে ধারণ না করে পাপ করা উচ্চশিক্ষিত মুসলমানের করা পাপকে মোচনের দায়িত্ব অভিজিত রায় নিয়েছিলেন, তাতে অভিজিত রায়কে কি মিসইন্টারপ্রেট করছেন না? অভিজিত রায় কি মুসলমানের মুল্যবোধ না মানার পাপকে উন্মোচিত করছেন মুল্যবোধ মানিয়ে শাপমোচনের আশায়? এই দায়িত্ব পালনের কাজ তো সালাফিদের? বিনীত প্রশ্ন রাখলাম, উত্তর পাবো আশা করি।

    বহুদিন পরে আপনার লেখা পেলাম, ভালো লেগেছে। আর ফেইসবুকে আসছেন না যে একেবারেই? আমাদের ওপর ক্ষোভ?

    1. সাদিক, আপনাকে ধন্যবাদ লেখাটি
      সাদিক, আপনাকে ধন্যবাদ লেখাটি পড়বার জন্য।

      প্রথমত, আমার লেখার অস্পষ্টতা ব্যাখ্যা করবার দায় নিশ্চিত ভাবেই আমার। কিন্তু আমি যা লিখিনি বা বলিনি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা করা বা বিতর্ক করাটা কঠিন এবং সম্ভবত সময়ের অপচয়ও বটে। ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে আমার কোনও আলাদা এলারজি নেই, কারণ আমি জানি ইসলামী মূল্যবোধ বা ধর্মীয় মূল্যবোধ এই বিষয়টিই ফাকা বুলি ছাড়া আর কিছুই নয়। মূল্যবোধ আসে সমাজ থেকে, ধর্ম সেই সকল মূল্যবোধ কে আসমান থেকে নাজেল হওয়া বলে চালানোর চেষ্টা করে। ইসলামী মূল্যবোধ বলে আমরা যেসকল বিষয় জানি তার কোনও কিছুই কি ইসলামী হিসাবে “ইউনিক”? নাকি এই সকল মূল্যবোধই কোনও না কোনও ভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত ছিলো? সুতরাং ইসলামী মূল্যবোধ বলে কোনও কিছুই আমি লিখিনি এখানে ।

      দ্বিতীয়ত, সম্ভবত পৃথিবীর প্রায় সকল সভ্য সমাজে ঘুষ নেয়া, গণিকালয়ে যাওয়া এ জাতীয় বিষয়গুলোকে অনৈতিক হিসাবে দেখা হয়। শুধু ইসলাম নয় সকল ধর্মই দাবী করে যে ধর্ম মানুষ কে নৈতিক করে তোলে, এই দাবীটি কতটা ফাঁকা বুলি সেটা বোঝাতেই বাংলাদেশের উদাহরণ গুলো দেয়া। একই উদাহরণ হিন্দু প্রধান ভারত কিম্বা খ্রিস্টিয়ানিটি প্রধান নাইজেরিয়ার জন্যেও প্রযোজ্য। অর্থাৎ ধর্ম আসলে মানুষ কে নৈতিক করে তোলেনা, অন্তত তার নিশ্চয়তা দিতে পারেনা। মানুষ নৈতিক হয়ে ওঠে তার পারিবারিক – সামাজিক চর্চার মধ্য দিয়ে । একটা সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করি

      বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ এবং এদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম (আমি বাংলাদেশ কে ইসলামী দেশ বলছিনা) পৃথিবীর যে গুটি কয়েক দেশে গনিকাব্রিত্তি একটি আইনসম্মত পেশা, বাংলাদেশ তাদের একটি। অন্যদিকে, প্রায় ধর্মহীন সমাজ সুইডেন বা নরডিক দেশগুলোতে, গনিকাবৃত্তি শুধু অনৈতিকই নয়, আইনগত ভাবেও নিশিদ্ধ ও অপরাধ। সুতরাং আপনি হয়ত বুঝতে পারছেন, ইসলামী মূল্যবোধ বলে যে সকল বিষয়কে উল্লেখ করেছেন তা আসলে স্বাভাবিক প্রত্যাশিত মানবিক মূল্যবোধ। যা বোধ করি আপনি আমি আমরা সকলেই চাই।

      আমি বলতে চেয়েছি, বাংলাদেশে মুসলমানের ইসলাম আর ভারতে একজন হিন্দুর হিন্দুত্ব কোনটাই এই ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে এদেরকে বিরত রাখতে পারেনা, কিন্তু এই মুসলমানেরাই হিন্দুদের মন্দির ভাঙ্গে আর গুজরাটে এই হিন্দুরাই ঘর ছাড়া করে মুসলিমদের। এর পেছনের মোটিভেশন টি কি ধর্ম বিশ্বাস নাকি অন্য কিছু? এটাকেই অভিজিত্রায় বলেছেন বিশ্বাসের ভাইরাস।

      “পাপ” শব্দটিকে শুধু একটি শব্দ হিসাবেই দেখুন । উচ্চ শিক্ষিত বাঙ্গালী এই বিশ্বাসের ভাইরাস বিষয়টিকে আড়াল করার জন্যই দিনরাত সংগ্রাম করে যাচ্ছে । আমি উচ্চ শিক্ষিত বাঙ্গালীর এই প্রতারণা কে বলেছি তাদের পাপ। অভিজিত রায় সহ আরও অনেক মুক্ত চিন্তার লেখক, সংগঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী রা এই পাপ স্খলনের দায় বহন করে চলেছেন। অভিজিত রায় এদের একজন অগ্রণী মানুষ।

      আপনার কমেন্ট এর দিতিয় অংশও নিয়ে আমার খানিকটা দ্বিমত আছে, কিন্তু সে আলোচনা এখানে প্রাসঙ্গিক মনে করছিনা ।

      ফেসবুক আমাকে বন্ধু দেয়ার বদলে শত্রু বেশী উপহার দিয়েছে, তাই ফেসবুক ছেড়েছি। কারও উপরে রাগ করে নয়। 😀

  4. নাস্তিকরা এখন অভিজিত রায়কে
    নাস্তিকরা এখন অভিজিত রায়কে ‘নায়ক’ আখ্যা দিচ্ছেন। কিন্তু এই লেখার যে গতি, তাতে মনে হচ্ছে ‘নবি’ আখ্যা দিতেও বেশিদিন লাগবে না। কোনো মূল্যায়ন, বিশ্লেষণ, সমালোচনা নেই। আছে একতরফা প্রশংসা আর নায়ক বানানোর জন্য ক্রমাগত আবেগ বিনিয়োগ হয়েছে। আর আছে ইংগিত যে, আগামীতে অভিজিতের সমালোচনাও এরা মেনে নেবে না।

    লেখাটিতে যেভাবে উচ্চশিক্ষিত বাঙালীর পাপ স্খলনের বার্তা এসেছে, তাও কতকটা ধর্মের মডেল থেকে ধার নেয়া- যীশুর সেই মানবজাতির পাপমোচনে নিজেকে উৎসর্গ করার তত্ত্ব! লেখক যেভাবে জোর দিয়েছেন তাতে এটা স্পষ্ট যে, পাপ-পূণ্যের ধর্ম মডেল এখনও মানদণ্ড হিসেবে তার কাছে খুব গ্রহণযোগ্য! আর বারবার জোর দিয়ে অভিজিত রায়কে যেভাবে উচ্চশিক্ষিত বাঙালীর সচেতন পাপমোচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে মনে হয় যেন, এই প্রতিজ্ঞা করেই অভিজিত রায় কাজে নেমেছিলেন যে, তিনি উচ্চশিক্ষিত বাঙালীকে পাপমোচনের পবিত্র দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এরকম ইংগিত অভিজিতের কোনো লেখায় আছে নাকি? নাকি লেখকের সঙ্গে এ বিষয়ে অভিজিতের পরামর্শ হয়েছিল যে, তিনি উচ্চশিক্ষিত বাঞালীদের পাপমুক্তি ঘটাবেন? যদি তেমনটি না হয়, তাহলে অভিজিতকে কেন পাপমোচক অবতার বানাচ্ছেন।

    প্রকৃত অর্থে অভিজিত সহ সকল নাস্তিক, মুক্তমনা মানুষ এই সকল প্রতারক বাঙ্গালীদের পাপ স্খলনের দায় তুলে নেন নিজেদের কাঁধে। কেননা নাস্তিকেরাই এই সকল প্রতারণার বিরুদ্ধে মানবতার কথা, মানুষে মানুষে সমান অধিকারের কথা, ধর্মের মিথ্যা – কুৎসিত ভণ্ডামির কথা বলে আসছেন।

    লেখার এক পর্যায়ে এই উল্লেখের মধ্য দিয়ে সকল নাস্তিককে সচেতন পাপমোচকের কাতারে তুলে দেয়া হলো। যাদের অধিকাংশই কিনা মোহাম্মদকে গালি দেয়া আর বিদেশ যাওয়ার উপায় ছাড়া নাস্তিকতার আর কোনো অর্থ বোঝে না! এরাই নাকি সকল প্রতারণার বিরুদ্ধে মানবতাবাদের কথা বলে? মানুষে মানুষে সমানাধিকারের কথাও বলে? আমরা তো দেখছি নাস্তিকরা ইহুদী জঙ্গি রাষ্ট্রটার সঙ্গে ফিলিস্তিনিদেরও জঙ্গি বলে, মুসলিম জনপদের মানুষ হলে নাস্তিকরা আর মানবতা বা সমানাধিকার কিছুই মনে রাখতে পারে না। লেখক এখানে এসে এইসব বাস্তবতাকে আমলে নেননি, বরং মিথ্যাচার করে গেছেন!

    যদিও লেখাটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, পারভেজকে পঁচানো। কারণ সম্প্রতি পারভেজ এই লেখকসহ তার প্রবাসী নাস্তিক বন্ধু লুক্স ও স্নিগ্ধার বিরুদ্ধে কিছু কথা বলেছেন। তার সূত্র ধরে যে এই পোস্ট, তা খুবই স্পষ্ট। অভিজিত রায়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পারভেজকে সাইজ করার এই মিশনটা আপত্তিকর!

    এভাবে অভিজিত রায়কে আরও অনেক জায়গায় অনেকেই নিজ সুবিধামতো কাজে লাগাবে বলে বোধ করছি। এজন্য কোথাও তাকে নায়ক, কোথাও বা নবির কাতারে নেয়া হবে।

    1. আপনার কমেন্ট এর জন্যে
      আপনার কমেন্ট এর জন্যে ধন্যবাদ।

      ভাইয়া সাম্যবাদী, এই নগণ্য লেখাটিতে মোট ১০ টি ছোট ছোট অংশ আছে, সেসবের মধ্যে এক পারভেজ এর নামই আপনার মনে আসলো ? আমি কি কোথাও লিখেছি এই নামটা? বুঝতে পারছি, ” ঠাকুর ঘরে কেরে? – আমি কলা খাইনি” … এই প্রবাদ টি কিভাবে এসেছে।

      তবে আমি পারভেজের মুরীদ ভাগ্যে সুখী হচ্ছি। আপনার মতো অনেক মুরীদ পারভেজের আছে, এটা সন্দেহাতীত ভাবে পারভেজের গুন, শক্তি, পজিটিভ দিক।

      নবুয়ত বিষয়টা পিওরলি ইসলাম ও কমিউনিস্টদের জন্যে। ইসলামের নবী তবুও একজন ( যদিও তারা অন্যান্য আব্রাহামিক নবীদেরকেও স্বীকার করে) কিন্তু কমিউনিস্টদের নবী তো হাজার হাজার …… ! কার্ল মার্কস থেকে শুরু করে চারু মজুমদার বা শীব্দাস ঘোষ বা শিরাজ শিকদার পর্যন্ত। সুতরাং নবীতন্ত্র সম্পর্কে আপনারই বেশী ভালো জানার কথা।

      নাস্তিকদের কোনও নবী নেই। আপনার মাথা ভরতি যেহেতু নবীচিন্তা, তাই এটা আপনার এক ধরনের হ্যালুসিনেশন হচ্ছে।

      অবশ্য, আপনি যেহেতু ছদ্মনামের মানুষ, আমি নিশ্চিত নই আপনি নিজেই পারভেজ কিনা। যদি হয়ে থাকেন, তাহলে বিনীত ভাবে বলছি , ভ্রাতা পারভেজ, আমি শুধু অভিজিতের বিরুদ্ধাচারন এর যে ফর্ম গুলো দেখেছি গত এক বছরে তাইই লিখতে চেয়েছি। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, সেই ইতিহাসে আপনিও আছেন। আমি জানি, আপনার সাথে আমাদের অনেকের দূরত্বের চাইতে নৈকট্যই বেশী।

      আমি প্রায় নিশ্চিত, অভিজিত রায় কখনই নবী হতে চান নি, কারণ “নবী” শব্দটি প্রায় “দুশ্চরিত্র” শব্দটির সমার্থক, অভিজিত রায় কোনও ভাবেই তেমন মানুষ ছিলেন না। 😀 😀

      নাস্তিকদের নবী নিয়ে একটা লেখা তৈরি করছি, সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে, এখানেই পোস্ট করবো, তখন না হয় আরও বিস্তারিত আলাপ করা যাবে নে, কি বলেন ভাইডি?

      1. হিট প্রিত্যাশি ব্লগারদের মতো
        হিট প্রিত্যাশি ব্লগারদের মতো আপনার মন্তব্যটা পড়ে মরমাহত হলাম। ভেবেছিলাম, বয়সের কারণেই আপনি অন্তত আসিফদের চেয়ে পরিণত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আপনি তসলিমার লাইনের লোক, বুড়ো হলেও আক্কেল হবে না টাইপের আর কি!

        কী প্রশ্ন করলাম, আর কী উদ্দতর দিলেন? আমি নবি প্রশ্ন তুলেছি বিধায় আপনি আমাকে বলছেন যে, আমার মাথায় নবীচিন্তা। তাহলে আপনার এই সূত্র মোতাবেকই, আপনি যে অভিজিতকে পাপমোচক বানাচ্ছেন, তার মানে আপনার মাথায় খালি পাপ-পূণ্যের ধর্মীয় চিন্তা। আর তা দিয়েই অভিজিতকেও মূল্যায়ন করছেন। নবীর প্রসঙ্গটা আসলে আপনিই এনেছেন, অভিজিতকে পাপমোচক যীশুর মডেলে উপস্থাপন করে।

        নাস্তিকদের সমানাধিকারের লড়াইয়ের যাত্রী বানাইলেন ক্যামতে? অবশ্য এই প্রশ্নটা আপনি মন্তব্যে সযতনে এড়িয়ে গেছেন হিটখোর ব্লগারদের মতো করেই। শুধু নিজের সুবিধামতো গীত গেয়েছেন, প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে গেছেন। যীশুর মডেলে অভিজিতের আলোচনা কেন? আপনার লেখায় অভিজিতের কোনো মূল্যায়ন নেই, আছে কেবল শর্তহীন প্রশংসা ও তার সমালোচকদের প্রতি নিন্দা। এটা সমালোচনার রাস্তা বন্ধ করে ভক্তির পথ খুলে দেয়। আপনাদের লাইনের মুরীদরা এভাবে প্রচার চলতে থাকলে আর কোনোদিন অভিজিতকে সমালোচনা বা তার ভুল খন্ডনের সাহস করবে না। এই পথটা আপনারা হিটখোররা হাতে ধরে বানাচ্ছেন।

        পারভেজের প্রসঙ্গটা আসতেই আপনাদের অসততা বেরিয়ে পড়ল। আপনারা সবাই যুক্তি করে, আলোচনা করেই যে, তাকে আক্রমণ করছেন, এটা ধরণ দেখলে বোঝা যায়। আর জিজ্ঞেস করলে ভাব নেন যেন পারভেজের কথা অনেকদিন ধরে মাথাতেই আসেনি। আপনাদের যদি ন্যুনতম সততা থাকত তাহলে তাকে সরাসরি অভিযুক্ত করতে পারতেন, পেছন থেকে ছোরা চালাচালি করতেন না।

        প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে, নিজের ধান্দা পূরণের লক্ষ্যে লিখবেন। তা দু’দিন পরে বা দু’বছর পরেই লিখলেন, তাতে কীইবা যায় আসে। এরকমই তো হাবাজাবা লিখবেন। আর অভিজিতকে নবীর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন, পাশাপাশি একে ওকে আক্রমণ করার জন্য তাকে ব্যবহার করবেন ঢাল হিসেবে। এই নমুনা তো এ লেখাতেই দেখা গেল, যেহেতু আপনাদের আত্মসমালোচনা নেই, তাই এই ধারাই যে অব্যাহত থাকবে, তা বলা যায়।

        এই পোস্টের শিক্ষা : বাম পঁচলে খালি ডাক্তার পিনাকি হয় না, ডাক্তার গোসাও হয়! ডাক্তার গোসা ফ্যাসিস্ট মৌলবাদী নাস্তিকদেরও সমানাধিকারের জন্য লড়াই করছে বলে মিথ্যাচার করে, যেমনটা করে ডাক্তার পিনাকি ধর্মীয় মৌলবাদীদের রক্ষা করতে গিয়ে! দুজনের মধ্যে মিল হচ্ছে, দুটোই সিপিবির ঔরসজাত, ডাক্তারি তথা কসাইগিরি তাদের পেশা আর দু’জনই মৌলবাদীদের পক্ষে!

        1. ভাইজান সাম্যবাদী, আপনার
          ভাইজান সাম্যবাদী, আপনার কমেন্ট এ গালিগালাজ এর ভিড়ে তো আসল কোনও প্রসঙ্গই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। গালি দিবেন দ্যান, সেটাতে আপনার দক্ষতা আছে বোঝা যাচ্ছে, কিন্তু অন্তত আসল কথাটা বলে তারপরে গালি দ্যান।

          বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের অবস্থা মরা নদীর মতো কেনও সেটা আপনার কমেন্ট করার ঢং দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যায়।

          আপনার জন্যে করুণা প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু পাচ্ছিনা। সাবালক হন ভাইয়া, বড়ো হয়ে উঠুন।

  5. এসব করে কি হয়। সারা জীবন
    এসব করে কি হয়। সারা জীবন নাস্তিক থেকে হার্ট এটাকে আক্রান্ত হয়ে বা পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার আগে আশে-পাশে মানুষের কাছে দোয়া চাইতে এ জীবনে কম দেখিনি। শুধু কি তাই পাছায় ফোড়ার তীব্র ব্যাথায় আল্লাহ আল্লাহ আর বাচাও বাচাও করতে অসংখ্যবার দেখেছি। মৃত্যু নামক সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সারা জীবন চর্চিত বিবর্তনবাদ, সাইন্স, টেকনোলজি সব কিছু কর্পুরের মত হাওয়া হয়ে যায়।তাছাড়া শেষ জীবনে হজ্ব-টজ করে নাস্তিকের খাতা থেকে নাম কাটানোর লোকের অনেক উদাওহরণ তো আমাদের আশে-পাশেই আছে।

    আমাদের নবীজি উট আর গাধার পিঠে চড়ে মাত্র ২৩ বছরেই প্যাগানদের বিরুদ্ধে একাই লড়াই করে ইসলাম নামক বিশ্বাসকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার সময় ব্লগ, ফেসবুক,টুইটার ছিল না। যেগুলো আপনাদের হাতে আছে। অলরেডি ১০ বছর চলে গেছে। কিন্তু আপনাদের দৃশ্যমান কোন সফলতা নেই। বরং ইসলামের ব্যাপকতাই কিন্তু বেশী চোখে পড়ছে। দেখা যাক কি হয়।

    1. ভোগবাদ ই সব কিছুর মুল কারন
      ভোগবাদ ই সব কিছুর মুল কারন আর পৃথিবীতে যত মিথ্যা আর উদভট বিষয় তারা উদ্ভাবন করে এর একমাত্র শত্রু হচ্ছে ইসলাম তথা কুরান । এই কুরানের জন্য শুধু নাস্তিক বিধর্মিরা নয় মুসলমান নামধারিদের ও বিড়াট সমস্যা! শান্তি মত একটু ভোগ-উপভোগ করতে পারে না, মনের মধ্য নানারকমের কুহক সৃষ্টি করেদেয় ! মৃত্তু,পরকাল, হিসাব-নিকাষ উহ অসহ্য !! যদি এটাকে মুছেদেয়া যেত পৃথিবী থেকে তহলে আমরা মনেরসুখে লে্ঙটা হয়ে সেলফি তুলতে পারতাম !! মাল খেয়ে মাগিবাজি করতে পারতাম…..

      1. মাগিবাজি, মদ খাওয়া, ধর্ষন,
        মাগিবাজি, মদ খাওয়া, ধর্ষন, নারী নির্যাতন, পর্ণ দেখাসহ ইসলামে ঘোষিত সকল নাজায়েজ কাজ বেশি পরিমানে করার পরিসংখ্যান মুসলমানদের ও মুসলিম দেশগুলোর বেশি। গুগুলে সার্চ দিয়ে দেখে নিন। গোপনে বা জোরপূর্বক এসব করা ভাল? নাকি একটা আইনী কাঠামোয় ও নৈতিকতার মধ্যে থেকে করা ভাল?

        ইসলাম যদি সত্যই মহান ও সৌন্দর ধর্ম হয়- এই ধর্মকে মুসলিম যৌনালোভী ও সাম্রাজ্যলোভীদের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। অশিক্ষিত ও বর্বর মোল্লারাই ইসলামের ধ্বংস ডেকে আনছে। নাস্তিক বা মুক্তমনারা সামান্য সমালোচনায় কেন এত বড় ও মহান ধর্মের ভীত নড়ে যায়, এটা নিয়ে ভাবেন। লেখার জবাব লেখা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। চাপাতি কোন সমাধান নয়, এটা ১৪০০ বছর আগের সংস্কৃতি ছিল। ইসলাম যদি সেই সংস্কৃতি থেকে বের না হতে পারে ধ্বংস অনিবার্য।

        1. মাগিবাজি, মদ খাওয়া, ধর্ষন,

          মাগিবাজি, মদ খাওয়া, ধর্ষন, নারী নির্যাতন, পর্ণ দেখাসহ ইসলামে ঘোষিত সকল নাজায়েজ কাজ বেশি পরিমানে করার পরিসংখ্যান মুসলমানদের ও মুসলিম দেশগুলোর বেশি।

          কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এগুলোর প্রডিঊসার, পরিচালক, প্রদর্শক কিন্তু আপনাদের মত নাস্তিক মুক্তমনারাই। নারীর শরীর, মদ, মাগী নিয়ে আপনারাই ব্যবসা করেন। ব্লগে প্রকাশ্যে চুমু আর কামলীলার আহবান আপনারাই জানান।
          এবং এগুলোর জন্য কোন প্রতিবাদ কোনদিনই করতে দেখি না। আপনারা যদি এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে না আসতে পারেন তাহলে আপনাদের ধংশ অনিবার্য।

          1. হাহাহা… প্রকাশ্যে প্রেমিকা
            হাহাহা… প্রকাশ্যে প্রেমিকা কে চুমু দেয়া কি অন্যায়? ঘরে গৃহ পরিচারিকা কে জোর করে ধর্ষণ করা কি পুণ্যের কাজ? জা আমাদের হাজার হাজার মুসলমান ভাইয়েরা করেছেন, করছেন? এমন কি নবিজির ইতিহাসেও তো তা পাওয়া যায়, ভাইয়া?

          2. ঘরে গৃহ পরিচারিকা কে জোর করে

            ঘরে গৃহ পরিচারিকা কে জোর করে ধর্ষণ করা কি পুণ্যের কাজ? জা আমাদের হাজার হাজার মুসলমান ভাইয়েরা করেছেন, করছেন?

            এসব কাজ সারা পৃথিবীতেই হিন্দু, খৃষ্টান, বৈধ্য, আস্তিক -নাস্তিক সবাই কম বেশী করছে। শুধুমাত্র মসুলিমদের সিংগেল আঊট করাটা ভুল। ওয়েস্টার্ন কান্ট্রিগুলো হয়ত বা একটু কম। কারন সেখানে সেক্স করাটাকে লিগালাইস করা হয়েছে। সমাজের যৌন চাহিদাকে পুরন করতে প্রচুর পরিমান ব্রোথেল, সেক্স ক্লাব, ন্যুড বীচের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।সেখানে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েরা যায় এবং দেহ ব্যবসায় অংশ নেয়। সেসব যায়গায় একজন ছেলে এডাল্ট হয়ার সাথে সাথেই অবাধ যৌনতার স্বাদ পেতে পারে কোন সামাজিক বাধা ছাড়াই। এসব প্রতিরোধে ওয়েস্টার্ন সভ্যতা কখনো ব্যসবস্থা নেয়নি। বরং রাষ্ট্রিয়ভাবে উতসাহিত করেছে।

            তাই মুসলিদের দোষ দেয়ার চাইতে একটু চোখ-কান খোলা রাখাটাই ভাল।

          3. হাহাহা… প্রকাশ্যে প্রেমিকা

            হাহাহা… প্রকাশ্যে প্রেমিকা কে চুমু দেয়া কি অন্যায়?

            হা হা হা। প্রকাশ্যে অবিবাহিত বন্ধবীকে চুমু দেয়া আর কামলীলা করাটা যদি অন্যায় না হয়, তাহলে নিজের বিয়ে করা স্ত্রীর সাথে অথবা দাসীকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরের মধ্যা তার সাথে সেক্স করা কি অন্যায়??

          4. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এগুলোর

            কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এগুলোর প্রডিঊসার, পরিচালক, প্রদর্শক কিন্তু আপনাদের মত নাস্তিক মুক্তমনারাই। নারীর শরীর, মদ, মাগী নিয়ে আপনারাই ব্যবসা করেন। ব্লগে প্রকাশ্যে চুমু আর কামলীলার আহবান আপনারাই জানান। এবং এগুলোর জন্য কোন প্রতিবাদ কোনদিনই করতে দেখি না। আপনারা যদি এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে না আসতে পারেন তাহলে আপনাদের ধংশ অনিবার্য। – See more at: https://istishon.blog/node/15876#sthash.1Qfs2M2b.dpuf

            রাইট, হাবশী গোলাম ভাই। নাস্তিকতা মানেই যেন প্রকাশ্যে সেক্স, লিভ টুগেদার, অন্ধভাবে, ঢালাওভাবে সমকামিতা ও উভয়কামীতার সবটুকুকে সমর্থন, বাপ-মেয়ে, মা-ছেলের সেক্সকে সমর্থন ইত্যাদি। যেমন, ব্লগার রাজীব হায়দার বাপ-মেয়ের সেক্সকে সমর্থন করে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলো। এসব নীতি-নৈতিকতাহীন কাজকর্ম, অর্বাচীনতা, অন্ধত্ব, উগ্রতা, সীমালংঘনের কারণেই আমি নিজে নাস্তিক হয়েও বাংলাদেশের এইসব নাস্তিকদের চেয়ে মুসলমানদের সঙ্গই বেশী পছন্দ করি; তাদেরকেই এইসকল নাস্তিকদের চাইতে উন্নত মানুষ মনে করি। দুই-একজন বাদে বাংলাদেশের বেশিরভাগ নাস্তিকই মার্কামারা আর স্টুপিড; এদের ধ্বংস তাই অনিবার্য।

          5. আপনি যদি নাস্তিক হন তাহলে এসব
            আপনি যদি নাস্তিক হন তাহলে এসব তো আপনার কাছে লিগ্যালাইস ব্যাপার হওয়া উচিত, এগুলিই জীবনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত, আসলে আপনি জাতের নাস্তিক না মনেহয়? আপনি মুক্তমনা নন, সংশয়বাদী। তাহলেতো আপনার দুনিয়া আখেরাত দুই যাবে!

          6. আপনি যদি নাস্তিক হন তাহলে এসব

            আপনি যদি নাস্তিক হন তাহলে এসব তো আপনার কাছে লিগ্যালাইস ব্যাপার হওয়া উচিত, এগুলিই জীবনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত, আসলে আপনি জাতের নাস্তিক না মনেহয়? আপনি মুক্তমনা নন, সংশয়বাদী। তাহলেতো আপনার দুনিয়া আখেরাত দুই যাবে! – See more at: http://www.istishon.com/node/15876#sthash.gfLcx9Mp.dpuf

            নাস্তিক হলে এসব ব্যাপার লিগাল হবে কেন? আমি নাস্তিক বলেই এগুলো আমার কাছে লিগালাইজ না। আমি মানবধর্মের অনুসারী। যা কিছু মানুষের জন্য ক্ষতিকর আর খারাপ, তার বিরুদ্ধে যেতে হলে ধর্মের ভিতর দিয়ে যেতে হবে কেন? আমার কি নিজস্ব বিবেক-বুদ্ধি নেই? আর আমাদের মত মানুষই সত্যিকার মুক্তমনা, যেটা অভিজিত রায় বা তসলিমা নাসরিন হতে পারেননি। একটু চিন্তা করে দেখবেন, তাহলেই ব্যাপারটা মাথায় ঢুকবে।

          7. তাহলে কে বানাল আপনার এই
            তাহলে কে বানাল আপনার এই বিবেক-বুদ্ধি ? আপনি নিজেই কি নিজের স্রষ্টা ? অন্য আর কোন প্রানির কেন বিবেক-বুদ্ধি হল না? আর মানুষের জন্য কোনটা ক্ষতিকর কোনটা ভাল এটা নির্ধারনই বা কে করবে? আর আপনার মানবধর্ম না মেনে যারা মানুষ খুন করছে ধর্ষন করছে ডাকাতি করছে পারমানবিক বোমা মেরে গ্যাস চেম্বারে রেখে লক্ষ লক্ষ মানুষ মেরেছে তাদের বিচার কি এই দুনিয়াতে করা সম্ভব? আর কে আমাদের কে এই সুন্দর পৃথিবীতে রাখল? মঙ্গল গ্রহে কেন আমরা থাকলাম না? আর মানুষের জন্ম মৃত্তুই বা কে সৃষ্টি করল? এমন হাজারো প্রশ্ন যার কোন উত্তর নাস্তিকদের কাছে নেই, কিন্তূ এই কোরানে সব প্রশ্নেরই উত্তর আছে, তবে সেই উত্তর পেতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই একটি জীবন্ত মনের অধিকারি হতে হবে এবং অসিম দয়ালু স্রষ্টার সাহা্য্য চাইতে হবে।

            ” মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি সুউচ্চ অতি মহান”

        2. আমিতো তাই বলেচি দাদা, কেউত
          আমিতো তাই বলেচি দাদা, কেউত এসবে বাধা দিচ্চে না, মন্দ বলচে না, এটাত সভ্য! দেশে লিগ্যালাইস ব্যপার !! কিন্তু এই অসভ্য বর্বর মোচলমান আর তাদের ভগবান আল্লাহর যত জ্বালা,আর এই কুরান, দিয়ে অশিক্ষিত নিরক্ষর নবী ব্যটা বলে কিনা ঘরে বউ রেখে বাহিরে মধু খেলে তাকে পাথর মেরে ইহলিলা সাংগ করে দিতে!! দেকেচেন কত বড় কতা ? কে মানে তার কতা, আমরাত এই দেশে Spencer Tunick-2016 করতে চাই !!! ভেনু কিন্তু কক্সেসবাজার। আহ্ কত সুন্দর ব্যপার!! ঝাকে ঝাকে বস্রহীন সুন্দরী রমনী !!!

        3. প্রকৃতপক্ষে, মানবিকতাহীন,
          প্রকৃতপক্ষে, মানবিকতাহীন, নীতি-নৈতিকতাহীন, উগ্র ও অশ্লীল নাস্তিকদের চেয়ে অন্ধবিশ্বাসী কিন্তু মানবিক, নীতিবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন, মধ্যপন্থী মুসলমানরাই আমার কাছে বেশী প্রীতিকর।

          1. ”অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা
            ”অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ন্যায়পরায়নতা, সদাচারন ও আত্বীয় স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজকর্ম ও সীমালংঘনজনিত সব কাজ থেকে নিষেধ করেন, তিনি তোমাদের উপদেশ দেন (এগুলো মেনে চলার), আশা করা যায় তোমরা এ থেকে শিক্ষা গ্রহন করবে”– কুরান

          2. উগ্র ও অশ্লীল নাস্তিকদের চেয়ে

            উগ্র ও অশ্লীল নাস্তিকদের চেয়ে অন্ধবিশ্বাসী কিন্তু মানবিক, নীতিবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন, মধ্যপন্থী মুসলমানরাই আমার কাছে বেশী প্রীতিকর।

            @শেহজাদ আমান,
            অন্ধবিশ্বাসী ধার্মিক মানবিক কিভাবে হয়? ধর্ম সম্পর্কে আপনার অবস্থান সব সময় সংশয়বাদীদের চেয়েও খারাপ। এক্টিভিস্টদের এতটা সুবিধাবাদী হতে নেই। ধর্ম বিষয়ে আপনি যদি এতটাই সংশয়বাদি হয়ে থাকেন, তাহলে এ বিষয়ে কথা না বলাই ভাল। এতটা কন্ট্রাডেক্টরী আচরণ হাস্যকর।

          3. অন্ধবিশ্বাসী ধার্মিক মানবিক

            অন্ধবিশ্বাসী ধার্মিক মানবিক কিভাবে হয়?

            যেমন করে আজকের যুগের বেশিরভাগ নাস্তিক অসামাজিক, প্রতিক্রিয়াশীল আর মানবীয়-চেতনা বিরোধী হয়, সেইভাবে…।

            আপনি আমাকে একটিভিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন দেখে ভাল লাগলো। তবে, ভাই আস্তিকতা-নাস্তিকতার বিষয়গুলো আজ শুধু মোটা দাগের বিষয় নয়। নাস্তিকদের মধ্যে প্রচুর বাজে প্রথা ও সংস্কৃতি ঢুকে গেছে ও যাচ্ছে। আবার, মুসলমান বা অন্য ধর্মের লোকেরাও যে সবসময় সংস্কারাচ্ছন্ন, তাও নয়। আজকাল উভয়ের বৈশিষ্ট উভয়ের ভিতর ঢুকে গেছে। তাই, আস্তিক বা নাস্তিক, কাউকেই সাবজেক্টিভ ওয়েতে বা ফর্মূলামাফিক বিচার করতে চাইলে, সেটা মনে হয় ঠিক হবেনা।

          4. আপনি যাদের বন্ধু মনে করেন
            আপনি যাদের বন্ধু মনে করেন তারা আপনাকে কতটুকু বন্ধু মনে করার যোগ্যতা রাখে সেটা শামীমের মন্তব্যগুলা দেখলেই বোঝা যায়। এইভাবে নিজের ইয়ে বাচানোর চেষ্টা করা যায় কিন্তু অন্ধ হলেই প্রলয় বন্ধ হয়না। কুপকুপি বাড়লে এরকম সুবিধাবাদী অবস্থান আপনাকে বাড়তি কোন সুবিধা দিবে ইতিহাস সেটা বলেনা। বরং যেকোন একটা পক্ষ নেয়াই সৎ।

  6. পারভেজ আলম সাহেবের উচিত
    পারভেজ আলম সাহেবের উচিত আলোচনায় অংশ নেওয়া। বিশেষভাবে তিনি কি এখনো অভিজিৎ রায়’কে “সালাফি সেকুলার” মনে করেন? এ বিষয়ে পারভেজ আলমের সুস্পষ্ট অবস্থান জানা গেলে আলোচনা করতে সুবিধা হবে। আর পোস্টে আলোচিত অন্যদের বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার।

  7. জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় অংশ নেয়ার
    জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় অংশ নেয়ার থেকে দর্শক হওয়া অধিক লাভজনক বিধায় গ্যালারীতে বসলাম।দেখি কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়।আমার পরম পূজ্য ভট্টাচার্য্য দাদা ফেসবুকীয় বুদ্ধিজীবী বিধায় ব্লগপোষ্টে সম্ভবতঃ আসবেন না। এখানে তো আর নৌট বা স্টেইটাস প্রসবের স্কোপ নেই।তবুও প্রত্যাশায় থাকলাম তাঁর শুভাগমনের।

    আর সারোয়ার ভাই, ফেসবুক আপনাকে,আমাকে শত্রুই শুধু দেয়নি, বন্ধুও দিয়েছে প্রচুর।কাজেই শ্ত্রুর কারণে বন্ধুদের দূরে ঠেলে দেয়ার মানে হয়না। আপনার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রইলাম।
    ………………………………………………

    “যুক্তির আকাশে উড়ুক মুক্তির বারতা”

  8. আপনাকে ধন্যবাদ অভিজিৎ রায়কে

    আপনাকে ধন্যবাদ অভিজিৎ রায়কে স্মরণ করার জন্য

    পারভেজ আলমকে বাদ দেন। তাকে জবাব দিয়েছেন অভিজিৎ রায়। এমনকি গার্ভেজ আলম বলে অভিহিতও করেছেন। এটা বাদ দেয়া দরকার।

    1. দেখুন এই লেখাটিতে আরও
      দেখুন এই লেখাটিতে আরও সুস্পষ্ট কিছু প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই লেখাটি তে আমি প্রায় ৬ / ৭ জন লেখকের নানান লেখার মাঝে কিছু প্রবণতার কথা লিখেছি। পারভেজ বা মাসুদ রানা বা আব্দুন নুর তুষার এরা যে কেউই অভিজিত রায়ের সমালোচনা করতে পারে, তার কোনও লেখা, বা বই ধরে তুলা ধুনা করে দিতে পারে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এই মানুষ গুলো তা করছেন না। তারা আগেই অভিজিত রায় কে এক বা একাধিক ট্যাগ দিয়ে দেন, তারপরে সেই ট্যাগ কে প্রতিষ্ঠা করেন। এটা কোনও সুস্থ চর্চা নয়। পারভেজ আলম সৃজনশীল ব্লগার, পিনাকীদের থেকে তার নিজেকে আলাদা করার দায়িত্ব তার নিজেকেই নিতে হবে, লেখায় আরও অনেক দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে।

      পারভেজের সাথে আমার কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা নেই, বরং নৈকট্য আছে অনেক বিষয়ে।

      1. তারা আগেই অভিজিত রায় কে এক বা

        তারা আগেই অভিজিত রায় কে এক বা একাধিক ট্যাগ দিয়ে দেন, তারপরে সেই ট্যাগ কে প্রতিষ্ঠা করেন। এটা কোনও সুস্থ চর্চা নয়।

        এইটাই কোরআন এর শিক্ষা। এই যে দেখেন না… এই মুমিন রা আগে বিশ্বাস করে আল্লাহ আছে, এরপর বিজ্ঞান এর সাপেক্ষে প্রমান খুজে। সিদ্ধান্ত কিন্তু আগেই নেওয়া হয়ে গেছে, এরপর সিদ্ধান্তের সাপেক্ষে উপযুক্ত তথ্য প্রমান সংগ্রহের প্রচেষ্টা । ঠিক একই রকম, আগেই অভিজিৎ রায় সম্পর্কে খারাপ ধারনা নিয়া ট্যাগ করে, এরপর সেই খারাপ ধারনার পক্ষে যুক্তি প্রমান এর জন্য আদ্য-প্রান্ত সংগ্রাম চালায় যায় । এই সংগ্রাম যদি কুরান-হাদিস বিশ্লেষণ এর পিছনে বায় করত, তাইলে এতদিনে সব ধর্মবিশ্বাস ছুইটা যাইত ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 − 44 =