আমি বিদ্রোহের পক্ষে | আমি বিডিআরের পক্ষে

ঐতিহাসিক বিডিআর বিদ্রোহের পর পাঁচটি বছর গত হলো। বিদ্রোহে নিহত সেনা সদস্যদের স্বজনেরা এখনো বিচার প্রার্থনা করে মোমবাতি জ্বালাচ্ছেন। শাসকশ্রেণীর রাজনৈতিক দলগুলো এ নিয়ে কানামাছি খেলছে। বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগ ঠিকমতো বিচার করেনি। আওয়ামী লীগ বলছে, আমরাই বিচার করেছি! অন্য কেউ হলে শত বছর লেগে যেতো!

শাসকদের গণমাধ্যমগুলো বিদ্রোহীদের বিচারের কিছু খুঁত ধরার চেষ্টা নিয়মিতই চালিয়ে যাচ্ছে। তারা চায় আরও ভালো, আন্তর্জাতিক মানের, সুষ্ঠু বিচার। নানা ধরণের বিশেষ নিউজ, প্রোগ্রাম, ফিচার ও আলোকচিত্রের মাধ্যমে তারা দেশবাসীকে শিক্ষা দিচ্ছে, বিরাট এক অবিচার হয়ে গেছে! এর বিরূদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করাটা মানবিক কর্তব্য।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, আজ দেশের মোটামুটি অধিকাংশই বিডিআর বিদ্রোহের বিপক্ষে। নিহত সেনা সদস্যদের দুঃখে অনেকে চোখের পানিও ফেলছেন। কিন্তু বিদ্রোহের সময় এই দেশবাসী বিডিআরদেরই সমর্থন দিয়েছিল। কারণ বিদ্রোহে তখনো বিডিআরদের জয়ের সম্ভাবনা ছিল। সেই লড়াইয়ে তারা পরাজিত হয়েছেন। বিরাট পরাজয়ের নিচে পাথরচাপা পড়েছেন। আজ দেশবাসী সেনা সদস্যদের পক্ষে। পরাজিতকে সমর্থন করার বিপদ আছে অনেক। আর লাফ দিয়ে অফিসারের পক্ষে দাঁড়ালে সবদিকে সুবিধা। তাই বিডিআরের পক্ষে আজ মানুষ পাবেন না। নিপীড়িত শ্রেণী যতখানি জানতে পারে, তাতে তাদের পক্ষেও সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয় না!

আমরা নিপীড়িতের পক্ষে। বিডিআর এখনো নিপীড়িত। বিদ্রোহে বিডিআর সদস্যরা তাদের শত্রুপক্ষকে হত্যা করেছিলেন। এই অপরাধে তাদের ১৫২ জনের ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবনসহ ৪২৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৮ জনের জেল হয়েছে ৪০ বছর। এ পর্যন্ত সারা দেশে ১১টি বিশেষ আদালতে ৫ হাজার ৯২৬ জনকে দণ্ড দেয়া হয়েছে। এর আগে অনেক বিডিআর সদস্য গায়েব হয়ে যাওয়ার কথা আমরা শুনেছি। অনেকে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এও শোনা কথা! মিথ্যা হবার কথা না। খুব ভয়ঙ্কর কিছু ঘটাটাই ছিল স্বাভাবিক। পরাজয়ের দায় যে বিরাট হয় এ তো ইতিহাসের শিক্ষা! ১৮৫৭ সালের ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের পরাজয়ের পর ব্রিটিশরা যেসব গ্রামে বিদ্রোহীদের অবস্থান অনুমান করতো, সেসব গ্রাম কর্ডন করে আগুন ধরিয়ে দিতো। কেউ বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে থামানো হতো!

বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। অধিকাংশই বিডিআরের বিপক্ষে। একপক্ষ সিদ্ধান্ত নেন সেনাপ্রীতির অবস্থান থেকে। আরেক পক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে। কিন্তু আমি বিডিআর বিদ্রোহকে ‘বিদ্রোহ’-ই মনে করি। বিডিআর সদস্যরা নিগৃহীত হতেন। তাদের সুযোগ সুবিধা ছিল না। অধিকার ভূলুণ্ঠিত হতো। তাই তারা লড়াইয়ের পথে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা করে হয়নি। পুরোটাই ছিল স্বতঃস্ফূর্ততা। ফলে বিদ্রোহে ভুলভাল অনেক কিছুই করেছেন তারা। এজন্য তারা পরাজিত হয়েছেন।

বিদ্রোহে ভুলভাল অনেক কিছু ঘটাটাই স্বাভাবিক। তার ওপরে স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ হলে তো কথাই নেই। তাই বলে বিদ্রোহটা তো আর অন্যায্য হয়ে যায় না। অনেকে এই বিদ্রোহে দেশি-বিদেশি অনেক ধরণের কানেকশনের কথা বলেন। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় বিদ্রোহটাই ছিল মূল। এসব তার সঙ্গে কিছু মাত্রায় যুক্ত থাকতেই পারে। এমনকি লীগের কর্তারা ঘটনার আগে বিষয়টা জানতেও পারেন। এটাও অস্বাভাবিক কিছু না।

ঘটনা যাই ঘটুক। বিডিআরদের ক্ষোভের কারণগুলোর কিছুই প্রশমিত হয়নি। বরং তারা আরো বেশি চাপের মধ্যে পড়েছেন। অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে আছেন দেশরক্ষার দায়িত্বে থাকা আমাদেরই এই পরিজনেরা। রুশ দেশে এরকমই এক বিদ্রোহ হয়েছিল পতেমকিন জাহাজে। বৃটিশের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তোপ দাগাও হয়েছিল এরকম ব্যারাক থেকেই। যারা হেরে গেছেন তারা অবশ্যই সব অপবাদের শিকার হবেন। কিন্তু আমি এই দণ্ডিতদেরই পক্ষে! আমাদের নীতি একটাই- বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত।

অনেকেই বলেন, এটা কোনো বিদ্রোহ না। এখানে নৃশংস হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ হয়েছে। কিছু দুষ্কৃতিকারি মুখ ঢেকে এসব কাজ করেছেন। শুনলে হাসি পায়! কেউ কি কোনো নিপীড়িতকে গিয়ে ঠিক করে দিতে পারবে, এইভাবে আন্দোলন করবা আর এইভাবে করবা না! এটা কিভাবে সম্ভব? পৃথিবীতে মানুষের বড় বড় লড়াইগুলো দেখলে তো এর চেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যায়। স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন হওয়ার কারণেই এই ভুলগুলো হয়েছে বলে মনে করি। এই কাজগুলো সমর্থনযোগ্য না। কিন্তু, নৃশংস হত্যাই যদি হয় মানবিকতার মানদণ্ড, তাহলে আমি এতে দোষ দেখি না! ওরা তো প্রতিদিন মরে। তিলে তিলে মরে। তার প্রকাশটা ভয়াবহ হওয়াই স্বাভাবিক।

বিদ্রোহে বিডিআর সদস্যদের হাতে তাদের প্রতিপক্ষেরা খুন হয়েছে। এটাই বিদ্রোহ। এটা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। কিন্তু তারা ঠিকই কত বিডিআর মারা গেছে, নিখোঁজ হয়েছে, এ বিষয়ে চুপ! নানা নীতিকথা তুলে এরা শেষ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে শাসকশ্রেণীর পক্ষেই দাঁড়াচ্ছেন। এটা তাদের শ্রেণীঅবস্থানের ফলেই ঘটছে। এটাকে দোষ দেই না। কিন্তু তারা হত্যাটা দেখে। এর আগের নির্যাতন নিপীড়নের খবর রাখে না। গার্মেন্টে মানুষ পুড়ে মরলে এরা বলে খারাপ হয়েছে। পুড়ে মরার আগে রুখে দাঁড়ালে বলে, নিজে যে ফ্যাক্টরিতে কাজ করে সেখানে কেউ এসব করতে পারে! এগুলো স্পষ্ট শ্রেণীর ব্যাপার।

বিডিআর সদস্যদের দণ্ড দেয়ার সময় যে বিচারক রায় পড়েছিলেন তিনি রায়ে বলেছেন, ‘বিডিআর আর আমরা (সেনাবাহিনী)…।’ বিজয়ী প্রতিপক্ষ বিচারক হলে তাতে বিচারের ন্যায্যতা নিয়ে আর কোনো প্রশ্নই থাকে না। স্পষ্টই বোঝা যায় পরাজিতের কান্না শোনার এখানে কেউ নেই। তার আর্জি সত্যি মিথ্যা বিচার করার সুযোগ কোথায়! আবারো বলছি- বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত! বৈষম্য থাকলেই বিদ্রোহ হবে। বিডিআরে এখনো বৈষম্য আছে। দেখা যাক, মুক্তির এই লড়াই শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায় কিনা!

বিডিআর সদস্যদের বিচার চলাকালে কয়েকবার গিয়েছিলাম বকশিবাজারের বিশেষ সেনা আদালতে। বিডিআর সদস্যদের পরিবার পরিজন কারো কারো সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। অধিকাংশই দরিদ্র্য মানুষ। সেনা সদস্যদের পরিজনদের মতো তাদের চেহারা সুন্দর না! তাদের দেখে কারো প্রেম জাগবে না, মমতা জাগবে না। তাদের কান্না শাসকশ্রেণীর সংবাদ মাধ্যমেও তাই দেখা যায় না। যেদিন গরিব মানুষ তাদের অধিকারের দাবিতে মাঠে নামবেন, আমি নিশ্চিত সেখানে বিডিআর সদস্যরা, তারা না থাকলে তাদের পরিজনেরা, সামনের সারিতে এসে দাঁড়াবেন। আমি নিশ্চিত, এই দেশে নিপীড়িতরা একদিন নিপীড়কদের উচ্ছেদ করবে। সেদিন বিডিআর বিদ্রোহের কথা সোনার অক্ষরে লেখা হবে। অপেক্ষা শুধু দুনিয়ার মজদুর এক হওয়ার!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫৯ thoughts on “আমি বিদ্রোহের পক্ষে | আমি বিডিআরের পক্ষে

  1. আমি এটা কে বিডিআর বিদ্রোহ
    আমি এটা কে বিডিআর বিদ্রোহ বলিনা, বলি দাস বিদ্রোহ । বাংলাদেশ ও দক্ষিন এশিয়ার সামরিক বাহিনী গুলো তে জওয়ান রা হচ্ছে “অফিসার” দের দাস …… অফিসার এর বউ এর দাস, অফিসার এর ছেলের দাস, অফিসার এর মেয়ের দাস আর দিনের শেষে এই দাসের জন্যে পোড়া রুটি আর নিরঘুম রাত ! সামরিক বাহিনির কাঠামো ও সংস্কৃতি একটি বিশাল বাহিনী কে করে রেখেছে মালিক – দাস এর বাহিনী ……… ! পৃথিবীর আরও অনেক দাস বিদ্রোহের যা যা কারন এখানেও তাই ই বিদ্যমান … দীর্ঘ মেয়াদী বঞ্চনা !

    ভালো লিখেছেন আনিস !

    1. শুধু কি সামরিক বাহিনীতে? এটা
      শুধু কি সামরিক বাহিনীতে? এটা প্রতিক্ষেত্রে হয়ে আসছে, আমরাও কারো দাস হয়ে আছি আবার অন্য কেউ আমাদের…… শুধু উপলব্ধি করতে পারি না এই পার্থক্য। কারণ অন্যের অন্যায় আমাদের কাছে স্পট হলেও নিজের বেলায় না।

    2. এই কথাগুলো এখন মানুষকে বুঝাতে
      এই কথাগুলো এখন মানুষকে বুঝাতে গেলে তারা ভাবে, আমরা তাদের কাছে কিছু চাইতেছি! কী অদ্ভুত লাগে, বলতে পারব না।

  2. আপনার সাথে বহু মতে আমার মত
    আপনার সাথে বহু মতে আমার মত বিরোধ থাকলেও আজ আপনার সাথে আমি এক মত।
    অনেকেই এই মন্তব্য দেখে অবাক হবেন। কিন্তু হ্যাঁ আমি বিডিআর এর পক্ষে।

    এই বিদ্রোহ পুঞ্জীভুত এক ক্ষোভের বহি:প্রকাশ মাত্র। বিডিআর বিদ্রোহের মাস খানেক আগে আমি গিয়েছিলাম সেখানে, আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে। সেখানে তাদের দেয়া সুযোগ দেখে আমি অবাজ হয়ে বলে ছিলাম এত সূযোগ সুবিধা। তখন তারা বলেছিল বৈষম্যের কথা, সেনা সদস্য ও বিডিআর এর মধ্যে বৈষম্য।পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে যদি পাকিস্তানীরা বৈষম্য না করত। অধিকার বঞ্চিত না করতো তাহলে কিন্তু আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ হত না। আর আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত হতাম আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া হত দেশদ্রোহী অপবাদ। পাকিস্তানের বৈষম্যের কাছে অন্যায় এর কাছে সেনা বাহিনীর এ অত্যাচার খুবই নগন্য। কিন্তু এটা তেমনই এক বিদ্রোহ।

    হটাৎ হওয়া এক বিদ্রোহ হওয়ায় তারা পথ ভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাদের কি করা উচিত আর কি উচিত নয় তা ঠিক রাখতে পারে নি। এমন অনেকেই আছেন যারা নিজের জীবন বাঁচাবার জন্য বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিল। তা না হলে তাদেরও মৃত্যু হত। আমি মোটেও এ হত্যা সমর্থন করি না। কিন্তু ঢালাউ ভাবে বিডিআর কে খারাপ বলার বিরোধিতা করছি। আমারা শুধু সেই ৫৭ জন সেনার কথাই বার বার বলছি কিন্তু সেখানে কিছু বিডিআর জোয়ান ও মারা গিয়েছিল তা কি কেউ বলেছেন? বলেন নি।

    শুধু এই বিদ্রোহে শহীদ হওয়া সেনা কর্মকর্তাদের জন্য আফসোস করে বিডিআর কে খারাপ বললে হবে না ভেবে দেখুন কেন তারা এমন করেছিল

    1. পৃথিবীতে লড়াই ছাড়া কোনো
      পৃথিবীতে লড়াই ছাড়া কোনো অন্যায় উৎখাত হয়নি। কোনো বিদ্রোহ রক্তপাত ছাড়া ঘটেনি। যতদিন শাসকের হাতে অস্ত্র আছে, শোষিত ততদিন অস্ত্র দিয়েই জবাব দিবে।

    1. আলু পটলের ভাগাভাগি নিয়ে যে
      আলু পটলের ভাগাভাগি নিয়ে যে বিদ্রোহের সূত্রপাত তার অভ্যন্তরে যত ঘটনাই থাকুক সেটাকে বিদ্রোহ বলে শব্দটির প্রতি অবিচার করবেননা।আপনার থেকে এই ধরনের একপেশে লেখা সত্যি আশা করা যায়না।

      1. আপনি আলু পটলই দেখবেন! ১৮৫৭ কে
        আপনি আলু পটলই দেখবেন! ১৮৫৭ কে বৃটিশরা বলতো জার্মানির ষড়যন্ত্র! এটা পক্ষ বিপক্ষ ও শ্রেণীগত দৃষ্টিভঙ্গীর ওপর নির্ভরশীল!

  3. আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি
    আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি না। তবে কেন জানি মনে হয় বিদ্রোহের ভাষা অন্যরকম হলেও পারত। আবার এও হতে পারে সশস্ত্র বিদ্রোহ ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।

  4. সেনা অফিসারদের হত্যাকে সমর্থন
    সেনা অফিসারদের হত্যাকে সমর্থন দিলে বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলার আর কোন রাইট আপনার থাকে না। :আমিকিন্তুচুপচাপ:

    1. বিচারবর্হিভুত কোন হত্যাকেই
      বিচারবর্হিভুত কোন হত্যাকেই জায়েজ করা উচিত না। তবে বিডিআর বিদ্রোহের অন্তরালে অনেক ঘটনা আছে। এটা নিছক কোন তাৎক্ষণিক বিপ্লব না। আমি হত্যার বিরুদ্ধে, কিন্তু বিডিআর’র সেই সময়কার দাবীগুলোর প্রতিও সমর্থন জানাচ্ছি। বিডিআর বিদ্রোহ হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা না।

      1. (No subject)
        :টাইমশ্যাষ: :টাইমশ্যাষ: :টাইমশ্যাষ: :টাইমশ্যাষ: :টাইমশ্যাষ: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  5. বিডিআর সদস্যদের বিচার চলাকালে

    বিডিআর সদস্যদের বিচার চলাকালে কয়েকবার গিয়েছিলাম বকশিবাজারের বিশেষ সেনা আদালতে। বিডিআর সদস্যদের পরিবার পরিজন কারো কারো সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। অধিকাংশই দরিদ্র্য মানুষ। সেনা সদস্যদের পরিজনদের মতো তাদের চেহারা সুন্দর না! তাদের দেখে কারো প্রেম জাগবে না, মমতা জাগবে না। তাদের কান্না শাসকশ্রেণীর সংবাদ মাধ্যমেও তাই দেখা যায় না। যেদিন গরিব মানুষ তাদের অধিকারের দাবিতে মাঠে নামবেন, আমি নিশ্চিত সেখানে বিডিআর সদস্যরা, তারা না থাকলে তাদের পরিজনেরা, সামনের সারিতে এসে দাঁড়াবেন। আমি নিশ্চিত, এই দেশে নিপীড়িতরা একদিন নিপীড়কদের উচ্ছেদ করবে। সেদিন বিডিআর বিদ্রোহের কথা সোনার অক্ষরে লেখা হবে। অপেক্ষা শুধু দুনিয়ার মজদুর এক হওয়ার!

    — কিছুই বলার নেই। যারে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা ছাড়া। প্রচণ্ড একরোখা হয়ে গেল আনিস ভাই। আপনি নিজেও জানেন ব্যাপারটা আসলে আপনি অতিসরলীকরণ করে নিজের ইচ্ছামত গতিপথে প্রবাহিত করেছেন। এইটা ন্যায়সঙ্গত আলোচনা বা পর্যালোচনা হয় নি…

    1. আমি বরাবরই বলে আসছি, সমাজটা
      আমি বরাবরই বলে আসছি, সমাজটা শ্রেণী বিভাজনের মধ্য দিয়েই আগায়। আপনি একটা শ্রেণির পক্ষপাতিত্ব করছেন, আমি অন্যটির! এ কারণে আমার কাছে আপনার বক্তব্যটাও প্রথাগত শ্রেণীদায়িত্ব পালন বলেই মনে হচ্ছে।

  6. সমস্যার শুরু হয় সেখানেই যখন
    সমস্যার শুরু হয় সেখানেই যখন কিছু মানুষ কিছু মানুষকে গিনিপিগের মত ব্যাবহার করে।অসন্তোষ কোথায় নেই,পরিবার থেকে এলাকায়,এলাকা থেকে পাড়া-মোহল্লা,সেখান থেকে শহর-নগর-দেশ।অসন্তোষের শেষ নাই।কিন্তু সেই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ শুধুই ফায়দা লুটতে চায়।অন্তত বাংলাদেশের জন্মলগ্নের পরের ইতিহাস তাই বলে।আমার কথা হল তারাকি পরাধীন কোনো দেশে ছিল যে একটি বিদ্রোহ করে কিছু সামরিক সদস্যদের হত্যা করে দেশ স্বাধীন করার চেস্টা করেছিল?ধরে নিলাম ঐ সামরিক অফিসার সকলেই খুব খারাপ।কিন্তু তাদের হত্যা করে ফলাফলটাই বা কি এসেছিলো? এক বাহীনি আরেক বাহীনির প্রতি অভ্যুত্থান ঘটাতে চাইছিল? ব্যাপারটা হাস্যকরনা?আনিসভাই উদ্যেশ্যটা কি ছিল?কারা চাইছিল?কেনো চাইছিল? তা আপনি যেমন জানেন,তেমনি আমিও।কিছু বোকা,গাঁধার জন্য আমরা সেদিন কাদের হারিয়েছি সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।কিছু কিছু মানুষ কিছু কিছু মানুষকে সত্যি গিনিপিগ বানিয়ে ফেলে নিজেদের অসৎ উদ্যেশ্য চরিতার্থ করার জন্য।এবং এটাই বাস্তবতা।

    1. আমি মোটেও সেই অফিসার গুলো
      আমি মোটেও সেই অফিসার গুলো হত্যার সমর্থন দেই না। কিন্তু বিডিআর রা কেন বিদ্রোহ করেছিল, তাদের ক্ষভের কারণ কি তা কি ভেবে দেখেছেন??

      যদি সেদিন আর্মি রা বিডিআর এর ভেতর ঢুকতে পারত দৃশ্যপট কিন্তু ভিন্ন হত ভাই।

      আজ সেনা সদস্যের পক্ষে নয় বিডিআর এর পক্ষে বলতেন।

      আমার আগের মন্তব্যটা পড়বার অনুরোধ রইলো।

      1. তোমার কথাতেইকি প্রমান হয়না যে
        তোমার কথাতেইকি প্রমান হয়না যে কারা সেদিন বিশৃঙ্খলা করেছিলো আর কারা সর্বোচ্চ সংযোম দেখিয়েছিল?বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যদি সেদিন চাইতো তাহলে ১৫ মিনিটে রক্তের গঙ্গায় ভাসিয়ে দিত।ভাবো যদি এটা ইজরাইলি সেনা বাহিনী হত?

        1. ভাই সেটা সংযম কে বলল!!
          এলাকা

          ভাই সেটা সংযম কে বলল!!

          এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল আমাদের্। তারা হামলার প্রস্তুতি শেষ করে। তখনই তৌহিদ সহ অন্যরা নরম হয়ে অস্ত্র সমর্পন করে।

          1. নিরীহ সিভিলিয়ানদের নিরাপত্তার
            নিরীহ সিভিলিয়ানদের নিরাপত্তার কথা ভাবা,বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া এগুলোকে সংযোম বলেনা?তবে হ্যা কিছু অফিসার সরাসরি আক্রমনের পক্ষে ছিল তবে শেখ হাছিনা এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকের পরিশ্রমলব্ধ প্রচেষ্টায় আরো অনেক রক্তপাত ঢাকাবাসীকে দেখতে হয়নাই।তৌহীদ অন্তত কিছুদিন আয়ু বেশি পেয়েছে।

          2. সেটা কিন্তু সেনা বাহিনীর
            সেটা কিন্তু সেনা বাহিনীর সংযম ছিল না। তারা সকল অস্ত্র গোলাবারুদ জমা করেছিল কিন্তু হামলার জন্যে

          3. না জয়,সেটি ছিল কিছু সশস্ত্র
            না জয়,সেটি ছিল কিছু সশস্ত্র বিদ্রোহীদের দমনের প্রস্তুতি মাত্র।তারা শসস্ত্র ছিলো সেই সাথে আক্রমত্মক যে কোনো ঘটানা ঘটানোর জন্য তৈরি।সেখানে একটি সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি যুদ্ধের মতই থাকবে।যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য।তুমি নিশ্চয় ট্যাংক দেখে ঘাবড়ে গেছো।তারতো আর মালকোঁচা গ্রামরক্ষা বাহিনী ছিলনা।

          4. জননেত্রী শেখ হাসিনার
            জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞাপূর্ণ সমাধানে অনেক সুন্দরভাবে সমাপ্ত হয়েছে ঝুকিপূর্ণ বিষয়টি, যা নিয়ে কুরুচির রাজনীতি চলছে দেশে। হায় কই যামু।

    2. কিছু কিছু মানুষ কিছু কিছু

      কিছু কিছু মানুষ কিছু কিছু মানুষকে সত্যি গিনিপিগ বানিয়ে ফেলে নিজেদের অসৎ উদ্যেশ্য চরিতার্থ করার জন্য।এবং এটাই বাস্তবতা।

      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

        1. পুঁজিবাদি এই রাষ্ট্রব্যবস্থা
          পুঁজিবাদি এই রাষ্ট্রব্যবস্থা ও এর প্রতিনিধিরা আগাগোড়াই আমাদের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। মার্কস বলেছেন, তারা নিজের কবর নিজেরাই খুঁড়ছে। লড়াইটা এখানে অনিবার্য। এ ক্ষেত্রে কে কোন পক্ষ নেবে, সেটাই কথা। আমি নিপীড়িত গিনিপিগদের পক্ষে!

          1. আমিও তাই। কিন্তু পুঁজিবাদের
            আমিও তাই। কিন্তু পুঁজিবাদের থাপ্পরে টিকতে পারছি কই দাদা? এখন সব বাদ দিয়ে তাই নেমেছি বাকশাল/চীন নিয়ে!

  7. গঠন মূলক আলোচনা হয়নি আনিস
    গঠন মূলক আলোচনা হয়নি আনিস ভাই। আপনি ব্যাপারটাকে পুরোপুরি একদিকে রেকটিফাই করার চেস্টা করেছেন। বিদ্রোহ অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। এডলফ হিটলারও কিন্তু মহামতি ফ্রিডরিখ নীৎশের দর্শনকে ব্যবহার করে ইহুদি নিধন করেছিলো। ভাগ্যিস! হিটলারের পতন হয়েছিল! নয়তো ইতিহাস হিটলারকে মহামানব বানিয়ে দিতো। আমি উদাহরণ হিসবে সঙ্গত কারনেই হিটলারকে টানলাম। হিটলারের জীবনীটা পড়লেই বুঝবেন, ইহুদিদের প্রতি তার ঘৃণা কি যে চরম আকার ধারন করেছিলো। এগারো বছর বয়সে হিটলার পড়া লিখা ছেড়ে দেন। ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহের কারণে আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু তৎকালীন সময়ে ইহুদীদের প্রচন্ড প্রতাপ ছিলো। হিটলার ইহুদীদের এতই ঘৃণা করতো যে, ইহুদি স্কুল শিক্ষকরা শাসন করলেও সেখানে ইস্যু খুঁজে বের করত। হিটলার ভাগ্য বিড়ম্বিত হয়ে এবং ইহুদি শিক্ষকদের সাথে ঝামেলা করে স্থায়ীভাবে পড়ালিখা ইস্তফা দিয়ে ভিয়েনাতে আসলেন। ভিয়েনা তে এসেই তার ইহুদী বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। কারণ তখন অধিকাংশ কলকারখানা, সংবাদ পত্রের মালিক ছিলো ইহুদিরা। এবং ইহুদীদের আকাশছোঁইয়া জাত্যাভিমান ছিলো। ১৯১২ সালে ভিয়েনা ছেড়ে মিউনিখে এলেন হিটলার। ইহুদীদের শোষনের শিকার হয়ে দিন মজুর হয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতেন। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দিলেন। তারপরের ইতিহাস সবারই জানার কথা।

    যাই হোক, এখানে এবার শোষিত(!) হিটলারের জায়গায় বিডিআর আর শোষক (?) ইহুদীর জায়গায় সেনাবাহিনীকে বসিয়ে ঘটনা বিচার করে দেখুন। আপনি হত্যাকে সমর্থন করতে পারেন কিভাবে? আপনি বলেছেন বিপ্লবে হত্যা হবে। এটাকি স্বাভাবিক কোনো কীর্তি? আমি যেকোনো অবস্থায় হত্যাকে সমর্থন করতে পারিনা। বিপ্লবের অনেক ভাষা আছে। এখানে অনেকে হয়তো ১৯৭১ এর প্রসঙ্গ তুলতে চাইবেন। না! ৭১ এ যা হয়েছিলো সেটা স্বাধীনতা যুদ্ধ। আলাদা একটি ভূখন্ডের যোগ্য দাবীতে দেশের আপামর জনসাধারণ বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলো,মরে গিয়েছিলো আবার বেঁচে উঠলো! বিডিআর দের উদ্দেশ্য তাহলে কি ছিলো? ওদের হাতে সরকার অস্ত্র তুলে দিয়েছিলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, গৃহযুদ্ধ করার জন্য নয়। ওডের কোনো অধিকার নেই সামান্য(কিংবা অসামান্য) দাবী দাওয়া আদায়ের জন্য প্রতিপক্ষের লাশ ফেলে দেয়া! এটা এক প্রকার গৃহ যুদ্ধের নামান্তর। আমি কিছুতেই হত্যা সমর্থন করতে পারছিনা। দেশ রক্ষায় নিয়োজিত সৈনিকরাই যদি এভাবে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে হত্যা খেলায় মেতে উঠে, তাহলে যারা দেশ ধ্বংসে নিয়োজিত তারা কি করতে পারে একটু ভেবে দেখুন! তাহলে কি জামায়াতের হিংস্রতাও সমর্থনযোগ্য? তারাও সুবিধাবঞ্চিত হয়ে বিপ্লব করছে? জওয়ানরা চাইলে অসহযোগের ডাক দিতে পারতো। কোন যুক্তিতে তারা অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করবে? কোন যুক্তিতে আপনি ওদেরকে সমর্থন দিতে পারেন?

    যাদের দেখে সবাই দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের জ্ঞান অর্জনে ব্রতী হয়, তাদের এমন দেশবিরোধী কর্ম কিভাবে মানুষের সমর্থনের দাবী জানাতে পারে? তাই বলবো, সত্যকে স্বীকার করা উচিত, নয়তো সত্য সবাইকে শিকার করবে।

    1. আমার পূর্বের মন্তব্যে আমি
      আমার পূর্বের মন্তব্যে আমি স্পষ্ট করে বলেছি- একটা স্বাধীন দেশে বিচার বর্হিভুত যে কোন হত্যাকান্ড কোনভাবেই সমর্থন করিনা। কিন্তু, বিডিআর বিদ্রোহ কি সরকারের ব্যর্থতা না? তাদের দাবীগুলো কি যৌক্তিক ছিল না? যদি যৌক্তিক হয়, তাহলে বিদ্রোহটা অনাকাঙ্খিত ছিল না। এর দায়ভার কার? রাস্ট্রের নয় কি? তবে এটা ঠিক বিডিআর’র এই ক্ষোভকে পুঁজি করে এই বিদ্রোহের অন্তরালে অনেকেই অনেক রাজনৈতিক ফাঁয়দা নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে- একটা সুশৃঙ্খল বাহিনীতে স্বাধীনতার এত বছর পরও ক্ষোভ কেন থাকবে? এই ক্ষোভ একদিনে গঁজে উঠা নয়। অনেকদিনের পঞ্জিভুত ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে ঐ দিন। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কি আঙুল চুষতে ছিল? বাংলাদেশের সীমান্ত যারা অর্হিনিস পাহারা দিয়ে রাখে, তাদের প্রতি আমাদের সরকারগুলোর এত অবহেলা কেন ছিল?

      বিপ্লব আর বিদ্রোহের পার্থক্য বুঝতে হলে আমাকে শেষ বয়সে এসে আবার বিপ্লব সম্পর্কে জানতে হবে বোধ হয়। বিপ্লবের সংঙ্গা যে পালটে গেছে এটা আমার জানা ছিল না। তারপরও বলব- মেহনতি মানুষের বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক!

    2. সহমত ইলেকট্রন ভাই ।
      অধিক

      সহমত ইলেকট্রন ভাই ।

      অধিক সুবিধা আদায়ের দাবীতে মানুষ(সেনা) হত্যা কোনভাবেই বিদ্রোহ নামে সঙ্গ্যায়িত হতে পারে না ।

      1. হিটলার শোষিত ছিল। যুক্তির তোড়
        হিটলার শোষিত ছিল। যুক্তির তোড় দেখে ছেলেবেলার আরোহ ও অবরোহের জোকসটা মনে পড়ে গেল! আপনি পাখি খান, পাখি মাছি খায়, মাছি গু খায়, আপনিও গু খান! এ ধরণের যুক্তি দিয়ে অনেক কিছুই সিদ্ধ বা বাতিল করা যায়।

        জনগণের কোন অংশের পক্ষ নেবেন, তা আপনার চিন্তার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত! আপনার চিন্তার কাঠামো সম্পর্কে ধারণা পেলাম। ধন্যবাদ। 🙂

  8. ব্যার্থতাতো অবশ্যই ছিল,তবে
    ব্যার্থতাতো অবশ্যই ছিল,তবে ভুলে গেলে চলবেনা তখন সদ্য নির্বাচিত একটি গনতান্ত্রিক সরকার সবেমাত্র ক্ষমতায় এসেছে তাও মাত্র কয়েকমাস।এবং এর পূর্বে দীর্ঘ তিন বছর একটি অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় ছিল।এবং যার মূখ্য ভুমিকায় ছিল সেনাবাহিনী।এবং তারও আগে ছিলো জামাতের মত একটি বিতর্কিত দলকে সাথে নিয়ে আরো একটি সরকার।আসলে অসন্তোষের শুরু সেখান থেকেই। বেশ কয়েকটি কারণই দাড় করা যায়,যেমন গনতান্ত্রিক সরকারকে অযোগ্য প্রমান করা অথবা যুদ্ধাপরাধীর ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা একটি দলকে কু করে হঠিয়ে দেয়া।তবে যাই হোকনা কেনো গোয়েন্দাবিভাগের দায় এড়ানো সম্ভব নয়।

    1. সেটাই! এটাকি সরকারের ব্যর্থতা
      সেটাই! এটাকি সরকারের ব্যর্থতা ছিলো? নাকি সরকারকে ব্যর্থ প্রমানে প্রতিপক্ষের কারসাজি ছিলো?

      1. সরকারকে ব্যর্থ প্রমানে
        সরকারকে ব্যর্থ প্রমানে প্রতিপক্ষের কারসাজি ছিলো?

        সরকারকে ব্যর্থ প্রমানে প্রতিপক্ষের কারসাজি ছিলো?

        সরকারকে ব্যর্থ প্রমানে প্রতিপক্ষের কারসাজি ছিলো?

        :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

      2. এটাকি সরকারের ব্যর্থতা ছিলো?

        এটাকি সরকারের ব্যর্থতা ছিলো? নাকি সরকারকে ব্যর্থ প্রমানে প্রতিপক্ষের কারসাজি ছিলো?

        :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  9. সেদিন বিডিআর’রা যা করেছিল তা
    সেদিন বিডিআর’রা যা করেছিল তা বিদ্রোহ নয়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙ্গে দেয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র ।আর এতে দেশী বিদেশী অনেক ব্যাক্তি ও সংগঠনেরও হাত রয়েছে ।

      1. সাথে র’ এর ষড়যন্ত্র, বা
        সাথে র’ এর ষড়যন্ত্র, বা সিআইএ, আইএসআই -এর কথাও বলতে পারেন। অনেকেই এসব বলেন। এতে করে সামাজিক অন্যায়ের বিরূদ্ধে মানুষের একজোট হয়ে বিদ্রোহ করার প্রবণতা দুর্বল হয়। প্রথাগত শ্রেণীদায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করুন।

  10. একাত্তরে বাঙ্গালী হত্যার
    একাত্তরে বাঙ্গালী হত্যার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানীদের অসংখ্য যুক্তি ছিলো । ক্ষেত্রভেদে অনেক শক্তিশালী যুক্তিও বটে ।

    সমাজে কে অত্যাচারিত না ? ঐ বিডিআরদের দেখেছি সাধারণ মানুষের সাথে পশুর মতো ব্যবহার করতে । ঐ সাধারণ মানুষকে দেখেছি বাসার গৃহকর্মীর সাথে তারচেয়েও খারাপ ব্যাবহার করতে । যত যুক্তি যত কারণ যত কিছুই হোক না কেনো , ৫৭ জন সেনা অফিসার সহ ৭৪ জন মানুষ হত্যাকে আমি কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারি না ।

    যদি নিছক বিদ্রোহই হতো , চোখ উপরে বেয়নেট চার্জ করে হত্যা করা হতো না ।

    যদি নিছক বিদ্রোহই হতো , সেনা কর্মকর্তাদের স্ত্রী কন্যাদের লাঞ্ছিত করার পর হত্যা করা হতো না ।

    আমি বরং একটা স্বতন্ত্র বাহিনী গঠনের পক্ষে । BGB কে সেনা আওতার বাইরে একটি স্বাধীন সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে পরিণত করলে সীমান্তে হত্যা বন্ধ করা সম্ভব হয় । আমেরিকায় US Marine, US Navy, US Army – প্রত্যেটটা ফোর্স সমান শক্তিশালী । আমাদের দেশে সেনাবাহিনীর একক ক্ষমতায়ন দৃষ্টিকটু ।

    অপরাধ অপরাধই
    কি হবে যে , তা কবে কিডা ।

    1. বিদ্রোহ কখনো নিছক হয় না হে
      বিদ্রোহ কখনো নিছক হয় না হে বৎস!
      ঘৃণা, ক্ষোভ, বিক্ষোভের পরই আসে বিদ্রোহ, তার পর যুদ্ধ। ঘৃণা, ক্ষোভ, বিক্ষোভের এই সমষ্টি কোনো বুদ্ধিজীবীর প্রদর্শিত সংযত পথে আগাবে না, এটা নিশ্চিত করেই বলা চলে! তোমার পক্ষটা খুবই স্পষ্ট। তুমি শাসকের পক্ষে। তুমি বিডিআর বিদ্রোহ ইস্যুতে কথা বলছো, সেনা হত্যার কথা বলছো, অথচ বিডিআরের বিরূদ্ধে নিপীড়ন ও তাদের হত্যা করার বিষয়টা নিয়ে মুখ খোলোনি। সমাজে মূল্যবোধটা তৈরি করে দেয় শাসকরাই। কিন্তু শ্রমজীবীদের কাতার থেকে দেখলে ন্যায্যতা অন্যায্যতার মাপকাঠিটাই বদলে যায়!

        1. ঘটনা হলো, এর মধ্য দিয়েই
          ঘটনা হলো, এর মধ্য দিয়েই ইতিহাস আগাইছে। আগে এলাকা দখল করলে মানুষ সেখানকার সবাইকে মেরে ফেলতো। তারা রুখে দাঁড়াতে পারলে কি আদর করতো? স্পার্টাকাসের ইতিহাস পড়! ১৮৫৭’র ইতিহাস পড়। আধুনিক আমেরিকার গোড়াপত্তনের ইতিহাস পড়। পরবর্তীতে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সংগ্রামগুলোর ইতিহাস পড়। কিছু ঘটনার ছাপ পাবা জ্যাক লণ্ডনের আয়রণহীল উপন্যাসটা পড়লে!

          কাণ্ডজ্ঞান দিয়ে জ্ঞানকান্ডের মূল্যায়ন করা যায় না!

  11. বিডিআর বিদ্রোহ আমিও সমর্থন
    বিডিআর বিদ্রোহ আমিও সমর্থন করি। কোনো নৃসংসতা কে আমি উত্সাহিত করি না ,সার্ত্রে বলেছিলেন, মানুষ কখনই ভুল কাজ করে না ,পরে অবস্থা দৃষ্টে কৃতকর্ম ভুল প্রমান হলেও ওই মুহুর্তে যেটা সেরা তাই সে করে। দিনের পর দিন বিডিআর রা সেনাবাহিনীর দ্বারা নিপীড়িত হয়েছে। ডালভাত কর্মসূচির লাভের গুর খেয়েছে আর্মি ,কাজ করেছে বিডিআর জওয়ান রা। সীমান্তে জীবনের ঝুঁকি নেয় ,জীবন দেয় বিডিআর ,পদক পায় নেতৃত্বাধীন আর্মি। সীমান্ত পাহারা দেয় বিডিআর ,চোরাচালানির অর্থে ফুলে ফেঁপে ওঠে সেনাবাহিনীর অফিসার।
    বহুদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। প্রশমিত করার চেষ্টাও না করে আগুন উস্কে দেয়া হয়েছে দশকের পর দশক।
    আমাদের মত সাধারণ মানুষ মিছিল মিটিং অবরোধ হরতাল করে প্রতিবাদ করতে পারে ,কিন্তু স্বশস্ত্র একটা আধা সামরিক নিয়মিত বাহিনীর প্রতিবাদ বন্দুকের নল দিয়েই হবে , সেটাই স্বাভাবিক।
    কামনা করি দেশপ্রেমিক বিডিআর দের ক্ষোভ প্রশমিত করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে সবমহল থেকে সরকার কে পরামর্শ দেয়া হোক।
    রাষ্ট্রযন্ত্রের হারিকাঠে বলির শিকার বিডিয়ার রা প্রাপ্য সুবিচার পাক।

      1. আহারে রুশো পাগলারা বুকে যায়গা
        আহারে রুশো পাগলারা বুকে যায়গা পেলেও, হতভাগা লজিক্যালদের স্থান কই দাদা?
        :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

        1. মতামতের ক্ষেত্রে দ্বিমত
          মতামতের ক্ষেত্রে দ্বিমত বিরাজমান। তবু দিলাম, আপনেরেও! :বুখেআয়বাবুল: :থাম্বসআপ: :bow: :বুখেআয়বাবুল: :থাম্বসআপ: :bow:

    1. না রুশো অতো বড় কইরেন না
      না রুশো অতো বড় কইরেন না ভাইয়া। ধর্ষণ বিষয়ক এ পোস্ট নিয়া বড় “খতরনাক” অবস্থায় আছি।

      একাত্তরে হয়নি সাজা ,মুক্তিযুদ্ধ হয়নি শেষ ,
      গর্জে ওঠো বীর বাঙালি ,গর্জে ওঠো বাংলাদেশ ।।

      চমৎকার কথা। :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 62 = 70