মৃত্যু-টা হবে কিরকম ?

“তবুও মরিতে হবে, এও সত্য জানি
মোর বাণী
একদিন এ বাতাস ফুটিবে না,
মোঁর আঁখি এ আলোকে লুটিবে না,
মোর হিয়া ছুটিবে না
আরুণের উদ্দীপ্ত আহ্বানে,
মোর কানে কানে
রজনী কবে না তার রহস্যবারতা
শেষ করে যেতে হবে শেষ দৃষ্টি,
মোর শেষ কথা”

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কেমন যন্ত্রণার কথা এগুলো?

আমি যখন ক্লাস থ্রি-তে পড়ি আমার বাসার পাশের এক লোক মারা যায়। তখনই আমার প্রথম গভীরভাবে একটা চিন্তা আসে, মানুষ মৃত্যুর পর কোথায় যায়? এই যে বৃদ্ধলোকটা এতদিন লাঠি নিয়ে হাটত, বসে থাকত গাছের ছায়ায়, চোখ মেলে দেখত সামনের বিস্তৃত ধানক্ষেতকে; সেই লোকটি এখন কোথায়? আমি যেহেতু ছোট ছিলাম তাই ধরে ধরে উপলব্ধি করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু এখন ঠিক একই ভাবে চিন্তা করি মৃত্যুর পর আমরা কোথায় যাই! মা বলত, আমরা মৃত্যুর পর যাই আল্লাহর কাছে। আশেপাশে শুনতাম, আমরা মৃত্যুর পর যাই কবরে সেখানে থাকে অসংখ্য জিনিস যা শাস্তি দেয়ার জন্যে ব্যাবহৃত হয়। এই উত্তরটা আমার কখনো মনপুত হয়নি। আমি চিন্তা করতাম মরার পর যদি মানুষ যন্ত্রনা ভোগ করে তাহলে সে কিভাবে মৃত হল? সেটা ছিল ছোটকালের চিন্তা।

মৃত্যুটা মানবসমাজের কাছে সবসময় লোমহর্ষকই থাকবে কারন এটা একবারই প্রত্যক্ষ করা যায়। আর এক্ষেত্রে আমার ধারনা, একবার প্রত্যক্ষ করা গেলেও অনুভব করা যায় না। কারন মৃত্যু মানেই হচ্ছে অনুভূতিহীনতা। যেমন অনুভূতিহীনতা হচ্ছে ঘুম (যদি না আমরা স্বপ্ন না দেখি)। আমরা জীবনে অসংখ্যবার ঘুনিয়েছি। কিন্তু আমরা কিন্তু কখনোই অনুভব করতে পারিনি ঘুমটা কি! ঠিক যেই সময়টুকু আমাদের অনুভূতি ছাড়া গেছে সেটুকুই আমরা ঘুম হিসেবে ধরে নিয়েছি। আচ্ছা মৃত্যু কি একটা গভীর ঘুমের বাইরে কিছু হবে? যদি হয়ে থাকে তাহলে কি এর কোন যৌক্তিকতা আছে? আমি যখন কেউ কে এতটুকু বলতে যাই , আমাকে বলা হয় আমি নাস্তিক। আমি যদি প্রত্যেকটা ঘটনার যৌক্তিকতা খুজতে যাই তাহলে আমাকে বলা হয় আমি নাস্তিক। আমি কিন্তু আমার প্রশ্ন থামিয়ে রাখিনি। আমি কিছু বিশ্বাসও করছি না আবার অবিশ্বাসও করছি না। আমি আমার বিশ্বাসের দরজা রেখেছি খোলা। একটা সত্যিকারের দার্শনিক কখনো তার বিশ্বাসের দুয়ার বন্ধ রাখে না।

গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, “ঘুম হচ্ছে দ্বিতীয় মৃত্যু”। কারন ঘুমের সময় সাময়িকভাবে আমাদের অনুভূতি লোপ পায় কারন সেক্ষেত্রে কোন চেতনা থাকে না। আর মৃত্যু হচ্ছে পুরোপুরি ভাবে চেতনার লোপ। আমাদের সবসময় ভাবতে কষ্ট লাগে এই যে আমরা বিকেলের নরম আলোয় বেলকনিতে বসে কি সুন্দর চুক চুক করে চা খাচ্ছি মৃত্যুর পর সেটা আর হবে না, আমরা বইমেলার একটা নতুন বইয়ের পৃষ্ঠার ঘ্রাণটা কখনো শুকতে পারব না, আমরা খুব ভোরে ছাদে উঠে শান্ত নিরিবিলি শহরটাকে চোখ মেলে দেখতে পারব না। মৃত্যুকে আসলে এই কারনেই আমরা এত ঘৃণা করি। আমরা কিন্তু সত্যিকার অর্থে মৃত্যুকে ঘৃণাই করি, সে ঘৃণাবোধ থেকে আমাদের আসে ভয়। ঠিক যেমনটা আড়শোলার ক্ষেত্রে। আস্তিক, নাস্তিক, আজ্ঞেয়বাদী যাই বলুন না কেন, মৃত্যুটাকেই চেতনার শেষ মনে করে। আমরা আস্তিকরা যতই বলি, মৃত্যুর পর এখানে যাব ওখানে যাব এই হবে ওই হবে, সেগুলো মুখের বুলি মাত্র। আমরা সবাই যা বিশ্বাস করি সেটা হচ্ছে মৃত্যুর পর থাকবে একটা বোধহীনতা। তাই দেখবেন প্রচন্ড আঘাত পেলে আস্তিক নাস্তিক নির্বিশেষে প্রচ্ছন্ন হলেও আত্মহত্যার চিন্তা করে কিংবা মৃত্যু কামনা করে। নিজের জীবনের উপড় প্রচণ্ড চাপ পড়লে আস্তিকরাও তো আত্মহত্যা করে। সেটা কোন বিশ্বাসের কারনে? অবচেতনভাবে সে এতদিন কি বিশ্বাস করে এসেছিল যেটা ধামাচাপা দিয়ে রাখতে চেয়েছিল সমাজের শিক্ষা ?

সমাজের শিক্ষার কথা যেহেতু আসল আমরা পিছাতে পিছাতে যেতে পারি সেই আড়াই লক্ষ বছর আগে আদি নিনডার্থালদের সময়ে। যেখানে প্রথম ঘটেছিল ধর্মের উৎপত্তি। এর আগে পিথেকানথ্রোপাস আর সিনাথোপাসদের মাঝে এধরনের কোন ধর্মীয় নিদর্শন পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে আমরা একটা ছোটখাট সিদ্ধান্তে আসতে পারি, ধর্ম বোধটা ছিল সময়ের প্রয়োজনে। আসলে আমি এখানে একটা সূক্ষ ভুল করেছি। নিনডার্থালদের সময়ে সেটা ধর্ম ভাবলে ভুল হবে, সেটা ছিল পরকালের প্রতি একটা বিশ্বাস বোধ। মানবসমাজে ঈশ্বরের ধারনা এসেছে অনেক পরে। নিনডার্থাল সময়ে মৃত্যু ভয় থেকেই এসেছিল তাদের পরকালের চিন্তা। আদিম মানুষ হয়তো ভাবতে পারেনি জীবিত একটা শক্তি হুট করে ভেনিশ হয়ে যাবে ! তারা এনেছিল পরকাল। তার জন্যে তারা মৃত্যুর পর কোন মানুষকে তার মৃতদেহের পাশে ফুল, খাদ্যদ্রব্য, আস্ত্রসামগ্রী নিবেদন করত। তারা মনে করত মৃত্যুর পর মানুষ বেচে থাকে কোনভাবে তাই এগুলো তাদের দরকার। তাদের এই অনূভুতি এসেছিল মূলত দুটি কারনে। এক, মৃত্যু ভয় আর দ্বিতীয়ত, মৃত্যু রহস্য।

আমরা যদি আমাদের সমাজের দিকে যান্ত্রিক একটা দৃষ্টি দেই তাহলে জন্ম মৃত্যু লাগবে অত্যন্ত স্বাভাবিক একটা ঘটনার মত। পশু, পাখি, উদ্ভিদ এই জন্মাচ্ছে আবার হারিয়ে যাচ্ছে এটা তো নিত্যকার একটা ঘটনা। কিন্তু একটু গভীরে দৃষ্টি দিলে ঘটে চিন্তাধারায় একটা প্রচণ্ড ঝড় হয়। যেমন, জন্মের আগে কি আমরা মৃত ছিলাম? মার্ক টোয়েন বলেছেন, মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না কারন জন্মের আগে আমার কোন সমস্যা হয় নি। অত্যন্ত সুন্দর একটা উক্তি। এর মানে আমরা জন্মের আগে যা ছিলাম মৃত্যুর পর হয়ে যাব তাই। শূন্য থেকে এসেছি আবার মিশে যাব শূন্যতে। সূফিবাদরা আবার এক ডিগ্রি বাড়িয়ে বলেন, আমাদের জীবন সমগ্রটাই মায়া। আমি এখানে কারো যুক্তি খন্ডন করতে আসিনি। আমি সত্যিকার অর্থে এসেছি সবার মত চিন্তা করতে আর সবাইকে আমার মত চিন্তা করাতে। আমরা যখন কারো যুক্তি খন্ডন করব এর আগে চিন্তা করতে হবে তারা কিভাবে দেখে জগতটাকে। আমরা কারো মতবাদ শুনেই ফেলে দিতে পারি না এবং একজন দার্শনিক কখনো এই কাজটি করেন না। আমি নিচে জগতটাকে কেন মায়া বলা হয় তা একটু অনুভব করতে চেষ্টা করাব। (এর মানে এই না আমি এই মতবাদে বিশ্বাসী)

চৈনিক দার্শনিক ইয়াং সু’জা একবার বলেছিলেন, “আমি স্বপ্নে দেখলাম একটা প্রজাপতি। স্বপ্ন ভাঙ্গার পর বুঝতে পারলাম না আমি কি ইয়াং সু’জা যে প্রজাপতিটাকে স্বপ্ন দেখল নাকি আমি সেই প্রজাপতিটা যে ইয়াং সুজাকে দেখছি”। আমি স্মৃতি থেকে উক্তিটা বললাম। সামান্য ভুল হতে পারে কিন্তু ভাবটা অক্ষুন্ন। এখানে এই উক্তিটাতে কিন্তু অনিশ্চয়তার গভীর একটা চিন্তা ফুটে উঠেছে। আমি এখন চলে যাব ইয়েস্তেন গার্ডারের সেই ‘সোফির জগত’-এ। যেই উপন্যাসের নায়িকা ছিল সোফি। তাকে দর্শন শিখাত আলবার্টো নক্স নামে একজন খ্যাপাটে দার্শনিক। আলবার্টো নক্স যখন তাকে দর্শনের কোর্স করাতে করাতে গেল ঠিক বাস্তবতা কি সে বিষয়ে তাদের সন্দেহ হল তারা বুঝি কোন বাস্তব অস্তিত্ব নয়। তারা বুঝতে পারল তারা উপন্যাসের একটা চরিত্র। আপনারা কি ব্যাপারটা ধরতে পারছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি? আমি আরেকটু গুছিয়ে বলি। আলবার্টো নক্স তার ছাত্রী সোফিকে বলল “আমরা বুঝি বাস্তব কোন স্বত্তা নই, আমরা কোন একটা উপন্যাসের চরিত্র। আমাদের মনে হচ্ছে আমাদের স্বাধীন কোন অস্তিত্ব আছে কিন্তু আসলে আমরা লেখকের মস্তিস্কের সামান্য চিন্তা মাত্র। আমি যে তোমাকে এই কথা বলছি তা লেখকই বলাচ্ছে, এখন লেখকটা অনবরত টাইপ করে যাচ্ছে তার টাইপ রাইটারে আর আমরা পাচ্ছি একটা জীবন কিন্তু যখন তার উপন্যাসটা শেষ হয়ে যাবে আমরা তখন বুঝব ও না ঠিক আমরা কোথায় ছিলাম” এটা মূলত আলবার্টো নক্সের উপন্যাসের চরিত্র হিসেবে উদ্ভট কথা হলেও আমি একজন এর বাইরের জগতের পাঠক হিসেবে ঠিকই বুঝতে পারি যে তারা ছিল আসলে একটা লেখকের উত্তপ্ত নিউরণের ফলাফল মাত্র। তাদের আসলে কোন অস্তিত্ব নেই। কিন্তু যেই আমি উপন্যাসের ভেতরে ঢুকে যাব আমার মনে হবে কথাগুলো বলছে আলবার্টো নক্স-ই , সংশয়ে আছে সোফি। আমার প্রত্যাশা থাকবে সোফি আর আলবার্টো নক্স এর উপড়। কিন্তু যেই না আমরা উপন্যাস থেকে বের হয়ে যাব দেখব আলবার্টো নক্স কোন বাস্তবতা ই না। আলবার্টো নক্স সন্দেহ করেছিল, “ঠিক এমনও হতে পারে যেই লেখক আমাদের লিখছে তাকেও লিখছে আরেকজন উপন্যাসিক কিন্তু সে বিন্দাস লিখে যাচ্ছে নিজের মত। একবারও ভাবছে না সে আরেকজন লেখকের টাইপরাইটার টেপার ফলাফল মাত্র”। তারপর আলবার্টো নক্স আর সোফি যায় লেখককে ফাঁকি দিতে। তারা এমন একটা পদ্ধতি বের করতে চায় যা হবে লেখকের অগোচরে কিন্তু হায় তারা যা চিন্তা করবে তা লেখক জানে এবং এভাবেই চিন্তা করছে। তারা মূলত পালাতে চেয়েছিল একটা উপন্যপাসের পাতা থেকে। তারা দৌড়াতে থাকে আর একটা সময় দেখে সময় থেমে গেছে। তারা বুঝতে পারল উপন্যাসটা শেষ হয়ে গেছে। উপন্যাসের শেষে থাকে পাঠকের চরম বেদনা, এরকম রক্তমাংসের মায়াকড়া সোফি আসলে নেই! যেই সোফি দর্শন নিয়ে মগ্ন থাকত নরওয়ের কোন একটা জায়গাতে সেই সোফি আসলে একটা সাজানো গল্প যা সোফি কখনো ভাবতেই পারেনি।

সোফির জগত ছিল পুরোদস্তুর একটি অদ্ভুত উপনপ্যাস। যার শেষের দিকে একটি ঘটনার মাধ্যমে একটা সম্ভাবনার কথা ইঙ্গিত করেছেন। ইয়েস্তেন গার্ডার এভাবে পরিনতি দিয়েছে উপন্যাসের হয়তো তিনি আস্তিক ছিলেন বলে। ঠিক এরকম ভাবে চিন্তা করতাম আমি যখন ছিলাম ক্লাস টেইনে। আমি যখন একটা স্বপ্ন দেখতাম আমার মনে হত আমি বুঝি এখানে স্বাধীন। চাইলেই আমি সাইকেল টা নিয়ে দিতে পারব একটা নিরাপদ রাইড। চাইলেই আমি থামিয়ে দিতে পারব সাইকেলটা। যুদ্ধের ময়দানের স্বপ্ন যখন দেখতাম আমি ভাবতাম আমি বোধহয় একটু অসচেতন হলেই মারা যাব। স্বপ্নের ভেতরই নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিতাম, বাহ! আমি তো বেশ বেচে আছি! ঠিক যখন স্বপ্নটা ভাঙত আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করতাম স্বপ্ন পুরোটাই ছিল মিথ্যা সাজানো। আমি চাইলেই যুদ্ধের ময়দানে আমাকে মারতে পারতাম না , কারন স্বপ্নের একটা ফেইট ছিল। অথচ স্বপ্নে আমি ক্ষুণাক্ষরেও চিন্তা করতে পারিনি এটি সাজানো ছিল। একবার এমনও হয়েছে স্বপ্নের পর যখন বার বার আমি চিন্তা করতে থাকলাম স্বপ্নে কেন বোঝা যায় না সেটা সাজানো না ? এরপর আমি স্বপ্ন দেখলে যে করেই হোক বুঝব এটা সাজানো। এরপর একটা স্বপ্ন দেখলাম আমি অনেক টাকা পেয়েছি একসাথে। আমার স্বপ্নের ভেতরই মনে হয়েছিল , “এটা তো স্বপ্ন হতে পারে ! কারন আমার তো এতগুলো টাকা পাওয়ার কথা নয়!”। স্বপ্ন কিন্তু এরপরও আমাকে বিশ্বাস করাতে বাধ্য করিয়েছে যে সেটি স্বপ্ন নয়; ছিল বাস্তব। আমি স্বপ্নের ঘোরেই বললাম, আমি কি বোকা একটা বাস্তব ঘটনাকে স্বপ্ন বলছি ! পুরো ব্যাপারটা কি হাস্যকর না?
এখন কি ইয়াং সুজার মত বলতে ইচ্ছে করে না, আমি কি একটা একটা প্রজাপতির স্বপ্ন কিন্তু কোনভাবেই বুঝতে পারছি না? আবার আরেকটা জিনিস দেখবেন স্বপ্নে আমরা এত হাস্যকর অবৈজ্ঞানিক জিনিস দেখি কিন্তু তা ঠিক ঠিকই বিশ্বাস করি। অবিশ্বাস করি যখন স্বপ্নটা ভাঙ্গে তখন। আমরা যদি স্বপ্নটাকে কম বাস্তবতা ধরি তাহলে বলা যায় এ কম বাস্তবতাটা ধরতে পারি যখন এর চেয়ে অধিকতর বাস্তবতায় যাই (ঘুম ভাঙ্গার পর স্বাভাবিক জীবন)। ঠিক এমনকি আমরা এখন যেটিকে বাস্তবতা ভাবছি তা মায়া কিংবা ভুল মনে হবে এর চেয়ে অধিক বাস্তব কোন অস্তিত্বে গেলে? কে বলবে কোনটা ঠিক? যেখানে বিজ্ঞানের নতুন একটি শাখা বায়োসেন্ট্রিজমে বলা হয়, মৃত্যুই আমাদের শেষ নয় !

ইচ্ছে ছিল বায়োসেন্ট্রিজম নিয়েও কিছু লিখব কিন্তু মাথা ব্যাথা করছে। লিখার সময় আমার ব্রেইন স্টোর্মিং হয় কারন আমি যখন লিখি তখন আমি কীবোর্ডটা নিয়েই থাকি। পরবর্তিতে চেষ্টা করব আরো জ্ঞানী সাজতে। প্রচুর নির্ঘন্ট আর রেফারেন্স লিখে লিখে :p

বিঃদ্রঃ এখানে আমার ব্যাক্তিগত মতামত আর দর্শনের উপর দুইটি সম্ভাবনার কথা প্রকাশ করেছি। আমার ভুল হতে পারে চিন্তাধারায় তা আলোচনার মাধ্যমে ধরিয়ে দিলে মনে করব আমার ব্লগ লিখা সার্থক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “মৃত্যু-টা হবে কিরকম ?

  1. আপনার লেখাগুলো পড়ে খুব মজা
    আপনার লেখাগুলো পড়ে খুব মজা পাচ্ছি। কারন ঠিক এইভাবে এই প্রশ্নগুলো আমার মাথায়ও ঘুরত বা এখনও ঘোরে। আমার মনে আছে, ছেলেবেলায় বাসা থেকে বেশ খানিকটা দূরে পাশাপাশি দুটো বড় দীঘি ছিল। দুই দীঘির মাঝে একটা চওড়া রাস্তা ছিল। সেই রাস্তার পাশে বসে এই ধরনের প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তা করতাম। যে চিন্তাটা আমার মাথায় বেশী ঘুরত সেটা হচ্ছে- ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা যিনি আছেন, সবকিছু সৃষ্টি করার আগে উনি কি করতেন? অথবা উনারও তো একসময় “যাত্রা শুরু” হয়েছিলো, সেটা কেমন ছিল? তার আগে এই বিশ্বজগত কি ছিল? না থাকলে সেই ফাঁকা স্পেসে কি ছিল? এই বিশ্বজগতের শেষ কোথায়? যদি শেষ কোথাও থেকেই থাকে, তার বাইরে কি আছে? শেষ না থাকলে সেটার রূপ কেমন। কারন অসীম কোন কিছুর সম্পর্কে ধারণা পেতে আমরা অভ্যস্ত নই।

    আমরা যারা ঈশ্বর বা পরকালের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখি, তারা আসলে নিজেকে কিছু ব্যাপারে প্রবোধ দিয়ে বুঝিয়ে রাখি। যেসব বিষয় আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি না, সেইসব বিষয়ে একটা অনুসিদ্ধান্ত তৈরি করে নেই। ব্যাপারটা অনেকটা এইরকম- একটা শিশু যখন মাতৃগর্ভে থাকে সে যেমন জানেনা বাইরের জগতটা কেমন, তদ্রুপ পরকালের ব্যাপারেও আমরা ঐ শিশুটির মতোই। সৃষ্টি রহস্য নিয়ে মানুষের ভাবনা আজকের নয়। যুগযুগ ধরেই এই চিন্তাগুলো মানুষকে ভাবিয়েছে। যারা যুক্তি বা প্রমানের বাইরে কিছু বিশ্বাস করতে চান না, তারাই ঈশ্বরে অবিশ্বাসী হয়েছেন। আর যারা, মনকে বুঝ দিয়েছেন এই ভেবে যে, অনেক কিছুই মানুষের ধারনার অতীত তারা পরকালকে একটা অনিশ্চিত সত্য ধরে নিয়েই জীবন কাটিয়ে গেছেন বা যাচ্ছেন। কে ভুল, কে সঠিক সেটা স্পষ্ট করে বলা ঠিক এই মুহুর্তে কি সম্ভব?

    জগতের অনিশ্চয়তা নিয়ে একটা মুভি দেখেছিলাম- “the thirteenth floor”। সেখানেও ঠিক এভাবেই জিনিসটা দেখানো হয়েছিলো, আমরা অন্য কারো চিন্তার ফসল না তো?
    লেখাটা পড়ে ভালো লাগল।

    1. ধন্যবাদ আপনাকে।
      আপনি আমার

      ধন্যবাদ আপনাকে।
      আপনি আমার আরেকটা লিখা পরিক্রমিনিতি তে ও অনেক আগে এরকম একটা কমেন্ট করেছিলেন। :p যাই হোক, আপনি সারাদিন ব্লগে থাকেন এটা দেখেও ভাল লাগে। একটা পাঠক হলেও থাকে যে পড়বে মাস্ট। হা হা হা

  2. মৃত্যু টা হবে জন্মের মতন। এটা
    মৃত্যু টা হবে জন্মের মতন। এটা মজার বেপার, অনাবিষ্কৃত ইভেন্ট তো তাই অনেকেই ভীষণ ঘাবড়িয়ে যায়।

  3. মৃত্যুর মত রহস্যময় একটা বিষয়
    মৃত্যুর মত রহস্যময় একটা বিষয় নিয়ে পোস্ট’দাতার ভাবনাগুলি অসাধারণ !!!

    সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রত্যেক জীবিত’রাই এই রহস্য একবার ভেদ সুযোগ পাবে এবং এই রহস্য ভেদ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার সুযোগ পাবেনা !!!
    মৃত্যু একটি কঠিন সত্য, তবে বেঁচে আছি এটাই মনে হয় এখনো পর্যন্ত মিরাকল !!!
    মিরাকল আর কঠিন সত্যের মাঝখানে যে বেঁচে থেকে মৃত্যু নিয়ে ভাবতে পারছি … তাতেই বেশ ভালো লাগছে !!!

    আরো ভালো লাগতো, যদি মরার পর মন্তব্যে এসে পোস্ট’টিতে মরার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে পারতাম — 😀 😀 😀

  4. আমি আপনার মতো বা অনেক
    আমি আপনার মতো বা অনেক দার্শনিকের মতো বিশ্বাসের দরোজা খোলা রাখিনি । আমি অবিশ্বাসের দরোজা খোলা রেখেছি … সেই দরোজা দিয়ে বিশ্বাস বাবু এবং অবিশ্বাস মশাই দুজনই প্রবেশ করেণ তবে দুজনের সাথে রাত্রি যাপন করিনা ।

    ভালো লিখেছেন , আরও সহজ করে লিখলে আমার মতো মূর্খদের বুঝতে আরও বেশি সহায়ক হতো …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 3