ওটা ভালোবাসা নয়, তোমার পায়ে শেকল পরানোর কৌশল

আমি তোমাকে আরও অধিক সময় আমার পাশে চাই। তোমার এই কষ্ট আমার সহ্য হয় না। এই রোদ, বৃষ্টি, ধুলোবালি, জ্যাম ঠেলে প্রতিদিন অফিস করা নিতে পারি না। তোমার এই পরিশ্রম আমাকে কষ্ট দেয়।

মাঝে মাঝে ভাবি সৃষ্টিকর্তা তোমাকে যেন তৈরি করেছে শুধু আমার জন্য। এই শরীর, এই চেহারা শুধু আমার। অন্য কেউ তোমাকে দেখুক তা আমি চাই না। অন্য কেউ তোমার এই সুদর্শন চেহারা দেখে প্রশংসার বানী শোনালে আমার সহ্য হয় না। তাই তোমাকে হিজাবে দেখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

আচ্ছা তোমার রান্নায় এমন কী জাদু আছে? আমি যদি একবেলা রেস্টুরেন্টে খাই, মনে হয় কীসের যে অপূর্নতা। কোন তৃপ্তি নেই। বেহেস্তের খাবারও মনে হয় তোমার রানার মত সুস্বাদু হবে না। আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যেন তোমার এই সুমিষ্ট হাতের রান্নাই খেতে পারি।

তুমি তো জানো আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ছেলেদের কেমন দৃষ্টিভঙ্গির হয়? এরা মেয়েদের মাংসের বাইরে কিছু ভাবতে পারে না। তাই তুমি ছেলে বন্ধুদের সাথে মিশলে চিন্তিতবোধ করি।

তাহাদের স্বামীকুল এইসমস্ত ডায়লগ গুলো যুগের পর যুগ ধরে দিয়ে আসছে। ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের নামে এইসব ডায়লগ দিয়ে সুকৌশলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করার পন্থাটা খুঁজে নেয়। আর সেই আবেগি নারীরা এইসব কথাকে ভালোবাসা ভেবে তাদের সুকৌশল দমন নামক টোপে হাস্যজ্জ্বল মুখে পা দেয়। এমনকি যখন শিক্ষিত নারীরা এসব টোপে পা দেয় তখন আফসোসটা বেশি হয়।
তুমি উচ্চ শিক্ষায় স্বশিক্ষিত হয়েছো, কিন্তু চাকরি করতে পারছ না, ভালোবাসার নামে তোমাকে হিজাব বা মাথায় ঘোমটা দিতে হচ্ছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রান্নার উপমা পেয়েছো এখন তিনবেলা রান্না না করে উপায় কী? এরকম কত কী!

এগুলো নতুন নয়, যুগের পর যুগ ধরে এগুলো হয়ে আসছে। এবং খুব স্বশিক্ষিত নারীদের সাথেও এগুলো হয়ে আসছে। এই বোকা নারীরা এই সব চতুর পুরুষদের চাল গুলো বুঝে উঠতে সক্ষম হয়ে ওঠে না।

দিন শেষে তারা নিজেদের এটা বলেই বুঝ দেয়, আমরা মেয়ে, মা জাতি আমরা সন্তান জন্ম দেই, আমাদের তো একটু নরমই হওয়া উচিৎ। এই নরম থেকে নরমতর হতে গিয়ে আমরা বারবার ওই পুরুষতান্ত্রিক চতুর পুরুষদের সাজানো গোছানো ফাঁদ গুলোতে নিজেদের স্বেচ্ছায় ঠাই দেয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “ওটা ভালোবাসা নয়, তোমার পায়ে শেকল পরানোর কৌশল

  1. মৌলবাদী অপশক্তি নারী জাগরনের
    মৌলবাদী অপশক্তি নারী জাগরনের পথে একমাত্র বাধা। তারা নারীকে দাসী করেই রাখতেই বেশি পছন্দ করে। সমাজ উন্নায়নের জন্য নারী -পুরুষের সম্মেলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন…

    1. অপশক্তি, মৌলবাদ এগুলো পরের
      অপশক্তি, মৌলবাদ এগুলো পরের বিষয় ভাইডু, এগলা সমাজ শেখানো কথাবার্তা। বেশিরভাগ মেয়েই নিজেকে দাসী হিসেবে দেখতেই পছন্দ করে; মেয়েদের আগে নিজেদের ছোট মনমানসিকতা ও স্বেচ্ছহা অক্রিয়তা থেকে বের হয়ে আসা জরুরী।

    1. ধন্যবাদ। বেশ কিছুদিন ধরে
      ধন্যবাদ। বেশ কিছুদিন ধরে ফেইসবুকের স্ট্যাটাস এত রিপোর্ট করছে। তাই ফেইসবুকের পাশাপাশি এখানেও পোস্ট দিয়ে রাখলাম। আসলে এটা ব্লগে পোস্ট দেয়ার মত মানানসই হয়নি হয়তো।

  2. নারীদের অবশ্যই নিজের জীবন
    নারীদের অবশ্যই নিজের জীবন আছহে, নিজেদের পরিচয়েই তাদেরকে পরিচিত হতে হবে; আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অনেক মেয়েকেই দেখেছি যে তারা বিয়ের পর স্বামীর নামের পদবীটাকে নিজের নামের পরে লাগিয়ে দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে, তারা নিজে অনেক ভালো কর্পোরেট জব করলেও স্বামী আর স্বামীর পরিচয়েই যেন পরিচিত হওয়াটাকেই ধর্তব্য মনে করে। এই ধরণের মনমানসিকতাও মনে করি ঠিক না। আর বর্তমানে দুই একজন বাদে সব মেয়েই টাকাপয়সা থাকাটাকেই ছেলেদের একমাত্র যোগ্যতা মনে করে বিয়ে বা প্রেমের ক্ষেত্রে; এই ধরণের চিন্তা থেকেও মেয়েদের আশু বেরিয়ে আসা জরুরী মনে করি, যদি তারা সমতা চায়…। :ভাবতেছি: :ভাবতেছি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

56 + = 62