Know Thyself

আরজ আলী মাতুব্বরের সত্যের সন্ধানে বইটা যখন আমি পড়তে থাকি প্রায় সময়েই আমি বইটা রেখে ভাবতে থাকি। প্রশ্নের গভীরতা খোঁজার চেষ্টা করি। একটা ছিল আত্মা বিষয়ক প্রশ্ন। সেখানে তিনি প্রশ্ন রেখেছিলেন এভাবে, আমাদের দেহ দেখিয়ে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় এটি কার আমরা জবাব দিবঃ এটি আমার। আবার আমাদের মনকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় এটি কারঃ সেক্ষেত্রেও জবাব দিব মনটি আমার। এক্ষেত্রে ‘আমার’ বলে যে দাবিটি করছে সেই দাবিদারটি কে ? অত্যন্ত গভীর একটি প্রশ্ন। এর প্রশ্নটির সাথে ‘আমি কে?’ প্রশ্নটির কোন ব্যাবধান নেই। দুটি আসলেই একই প্রশ্ন। আমরা দেখি যে যুগে যুগে প্রায় প্রত্যেকটা দার্শনিকই প্রশ্ন রেখে গেছেন ‘আমি কে?’। এবং আমরা জানি অমর সেই উক্তিটি ‘know thyself’ তথা নিজেকে জানো। শুধু প্রখ্যাত দার্শনিকই হয়ত নয় একটা সাধারন কৃষকও কাজ শেষে ক্ষেতের পাশে বসে চিন্তা করতে পারে, ‘আমি কে?’। কিংবা একজন সাধারণ চাকরিজীবি, একজন রিক্সাচালক, একজন সফল ব্যাবসায়ী। এই প্রশ্নটি হয়তো কেউকেই ছাড়ে না।

আমার খেয়াল আছে আমি যখন ক্লাস নাইনে কি টেইনে পড়ি এ প্রশ্নটা আমার অনর্থক লাগত। আমি এ প্রশ্নে চিন্তা করার কোন কিছু খুজে পেতাম না। মনে হত, আমি আবার কে ! একজন মানুষ ! ব্যাস এইতো। কিন্তু ভার্সিটি ওঠার পর ঠিকই কুড়ে কুড়ে খেতে লাগল এ প্রশ্নের উত্তর। অনেকে বলে থাকেন এ প্রশ্ন করা অর্থহীন কারন এই যে এর কোন উত্তর নেই। এ জন্যে কিন্তু প্রশ্ন করা থেমে থাকেনি। লালন প্রশ্ন করেছিল অন্যভাবে। লালনের প্রশ্নে ‘স্রস্টা কে’ এই প্রশ্নের মাঝে মূলত মিশে ছিল ‘আমি কে’ প্রশ্নটি। আধ্যাত্মবাদে বিশ্বাস করা হয় যে নিজেকে জানে সেই জানতে পারে স্রস্টাকে। তাই আধ্যাত্ম সাধনার মূল বিষয় থাকে নিজের ভেতরটা চষে বেরানো। নিজের রুপটাকে বুঝা একটু। আধ্যাত্মবাদের গভীরের আলোচনায় যাব না। যারা ‘আমি কে’ প্রশ্নটার মানে বুঝতে পারেনি তাদের জন্য আমি দিব একটি থট এক্সপেরিমেন্ট। যেটির সমাধানেই হয়তো খুজে পাওয়া যাবে ‘আমি কে’ এর উত্তর।

আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্ন দিয়েই শুরু করি। আমার দেহটা কি আমি? একভাবে উত্তরটা হয় ‘হ্যা, আমার দেহটা আমিই’। তাহলে আরেকটা প্রশ্ন করা যেতে পারে, ‘আমার মৃত্যুর পর সেটি কি আমিই থাকব?’ এক্ষেত্রে উত্তর একটাই হবে, ‘আমার দেহটা পরিপূর্ণভাবে আমি না, আমার একটা অংশবিশেষ’ । তাহলে বাকি অংশটা কি থাকে? সেটা অবশ্যই আমার চিন্তা চেতনা, আমার মানসপট মোট কথায় আমার দেহ দ্বারা প্রাপ্ত জ্ঞানকে যেটি বিশ্লেষন কিংবা পর্যবেক্ষন করে। আমার মন। এটিকে আত্মাও বলা যেতে পারে। সুতরাং সরল কথায় বলতে গেলে আমি তৈরী হই আমার দেহ এবং আমার মন দ্বারা। আপনি গঠিত হয়েছেন আপনার নিজস্ব দেহ এবং মন দ্বারা আবার আপনার সন্তানটিও গঠিত হয়েছি নিজস্ব দেহ ও মন দ্বারা।

এখন আমার মন যদি আপনার দেহের ভেতর ঢুকে যায় সেটি আপনি থাকবেন নাকি আমি থাকব? ধরা যাক আমার মনটা আপনার ভেতর ঢুকে গেল তাহলে কিন্তু আপনার ইন্দ্রিয় (দেহ) দ্বারা যেই জ্ঞানটা বাইরে থেকে আসছে আমিই তা পর্যবেক্ষন ও বিশ্লেষন করব। এর মানে একটাই দাঁড়ায়, দেহটা আমাদের বাসা-ই কিন্তু ‘আমি’ আছি আমার মনে। এ তথ্যটুকু আমরা সবাই জানি মোটামুটিভাবে। আরজ আলী মাতুব্বর যে প্রশ্নটা করেছিল “ ‘আমার’ দাবিদারটা কে?” আমরা সে প্রশ্নের উত্তর না পেলেও এতটুকু বলতে পারি যে সে ‘আমার’ দাবিদার হচ্ছে আমাদের মন।
এখন যদি ভাবি মন কি? মন অবশ্যই ব্রেইনের একটা অংশ। মনের অস্তিত্ব ব্রেইনের মাঝেই। আপনি, আমি, আপনার বাচ্চাটি কিন্তু চিন্তা করে ব্রেইন থেকেই। এবং আমরা সেটাকেই মন বলি যা দেহ (ইন্দ্রিয়) দ্বারা প্রাপ্ত তথ্য (জ্ঞান) কে পর্যবেক্ষন ও বিশ্লেষন ও প্রক্রিয়া করে। মনের উৎপত্তি ব্রেইনেই। আপনার ব্রেইনটি যদি অন্যের মাথায় লাগিয়ে দেয়া হয় কোনভাবে তাহলে সেই দেহে থেকে চিন্তা করবেন আপনিই। সেই দেহটাকে ব্যাথা দিলে আঘাত পাবেন আপনিই। এখন বলা যেতে পারে ‘মন’-ই ‘আমার’ দাবিদার। ভাল কথা । আমরা ধরে নিব আত্মা বলতে বাতাসের মত আলাদা কিছু নেই। আত্মা তা-ই যা আমিত্বের সৃষ্টি করে। ব্রেইনের একটা অংশের ক্রিয়ার ফল। আমি কিছু জায়াগায় মন আর আত্মাকে একভাবে দেখছি। মন আর আত্মা এক নয়। মন ভাল থাকলে আমার ভেতর যে ‘আমি’ কাজ করে ‘মন’ খারাপ থাকলেও আমার ভেতর সে ‘আমি’ কাজ করে। আত্মা বলতে আমি বুঝব যা ‘আমি’ ভাবের সৃষ্টি করে। আমার মনের সেই অংশটি যা ‘আমার’ দাবিদার। পুরো বিষয়টাকে গোলমেলে লাগছে? আমি কিন্তু গুলিয়ে ফেলেছি। অগোছাল হয়ে যাচ্ছে কথাগুলো। আবার প্রথম থেকে শুরু করা যাক।

আমাদের চিন্তাটা শুরু হয়েছে আরজ আলী মাতুব্বরের একটা প্রশ্ন দিয়ে। প্রশ্নটা হচ্ছে, ‘আমার ভেতর যেই জিনিসটা ‘আমি’ বলে সেই জিনিসটা কে? বা কি?’ এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া তখনই সম্ভব যখন আমরা পাব ‘আমি কে’ প্রশ্নটার উত্তর। ‘আমি কে’ এর উত্তরেই প্রথম যে জিনিসটা মাথায় আসে তা হচ্ছে আমার দেহ আর মনটা ই হচ্ছে আমি। কিন্তু দেখা যায় ‘আমার দেহ’ টা কোনভাবেই আমি না। কারন আমার দেহে কারো মন ঢুকে গেলে এই দেহের চোখ যা দেখে তা আমি দেখব না; দেখবে যার মন আমার দেহেতে সে। এর মাধ্যমে একটা সিদ্ধান্তে আসা যায়, ‘আমি’ দেখা/শুনা যা-ই করি আমার দেহের সাহায্যে কিন্তু তা পর্যবেক্ষন/প্রক্রিয়া করে আমার মন। আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি ‘আমি’ আমার মন। কিন্তু তাও না। আমি আমার মনের একটা অংশ। দেহের বিভন্ন তথ্য নেয় আমার মন আর আমার মনের তথ্য নেই ‘আমি’ তথা আমার আত্মা। এবং আমাদের প্রশ্ন এই আত্মাটা কি! আত্মা হচ্ছে সেই জিনিসটাই যা ‘আমি’ ভাব তৈরী করে । এখন প্রশ্ন কোন জিনিসটা আমি ভাব তৈরি করে?

এবার শুরু করা যাক, থট এক্সপেরিমেন্টঃ

মানুষ গঠিত তার দেহ আর মন নিয়ে। এবং মন দেহেরই একটা ব্যাপার স্যাপার কারন মন তৈরি হয় ব্রেইনে। তাহলে প্রত্যেকটা মানুষের আলাদা ব্রেইন থাকবে। একেক ব্রেইন হবে একেক রকম যার কারনে একেক মানুষের মন মানুষিকতা একেক রকম হবে। এখন আমি আমার দেহের একটা ক্লোন বা কপি করে ফেললাম। আমার ক্লোনটাতে আমার অবয়ব আমার ব্রেইনটা একই রকম থাকবে। তাই না? এখন আমি প্রশ্ন করি, ‘সেই ক্লোনটা কি আমি হব?’ । না, সেটাও আমি হব না। কেন না? আমার দেহে যা আছে তার দেহে তো তাই আছে। পার্থক্যটা হতে পারে স্মৃতি তে। এখন আমার ব্রেইনের সমস্ত স্মৃতি কপি পেস্ট করে দিলাম আমার ক্লোনের ব্রেইনে। তাহলে কিন্তু আমরা সেইম হয়ে গেলাম। আমি যা জানি সেও তা জানে। আমি যা পারি সেও তা পারে। আমি যদি একটা বস্তি থেকে উঠে আসি তাহলে সেও মনে করবে সে বস্তির সন্তান। আমার যদি ইলিশ মাছ ভাল লাগে তারো লাগবে। কারন আমাদের ডিএনএর গঠন এক যা আমাদের চরিত্র নিয়ন্ত্রন করে। আমি যদি একটা খুন করি তাহলে সেই খুনের অনুতাপ কিন্তু সেই ক্লোনটিও অনুভব করবে। তাহলে আমার করা খুনের শাস্তি যদি সেই ক্লোনকে দেয়া হয় সেটা উচিত হবে? মানবতা দৃষ্টিকোণ থেকে অমানবিক হবে না? আমার প্রশ্ন কেন হবে? আমার আর তার ভেতর তো পার্থক্য নেই। এর উত্তর আমি আর আমার ক্লোনটি এক না। কিন্তু কেন এক হব না? পার্থক্যটা কোথায়? আমার ক্লোনটি কেন ‘আমি’ হলাম না? এর উত্তর তখনই মিলবে যখন আমরা পাব ‘আমি কে’ এর উত্তর। কিংবা আমাদের করা থট এক্সপেরিমেন্টের সমাধানই হবে ‘আমি কে’ এর উত্তর। এবং এটি এমন একটি এক্সপেরিমেন্ট নিজেই প্রশ্নের উত্তর বের করা যেতে পারে আবার সে উত্তর থেকেই আরেকটা প্রশ্ন করা যেতে পারে। আমার আর আমার ক্লোনটার ভেতর পার্থক্য কি যেটা আমার আর তার ‘আমি’ এর ভেতর পার্থক্য করে ? এর উত্তরে বলা যেতে পারে, আমাদের আলাদা আলাদাভাবে অবস্থান। এখন যদি আমরা অবস্থানটা বিনিময় করি?

এর অনেকগুলোর উত্তরই আমি পেয়েছি। এগিয়েছি অনেকদূর। এখন অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছি লিখতে লিখতে। এ ব্যাপারে আলোচনা করা যাবে পরে। এটি এমন এক প্রশ্ন যা মানুষকে ক্লান্তই করে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৬ thoughts on “Know Thyself

  1. আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্ন

    আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্ন দিয়েই শুরু করি। আমার দেহটা কি আমি? একভাবে উত্তরটা হয় ‘হ্যা, আমার দেহটা আমিই’। তাহলে আরেকটা প্রশ্ন করা যেতে পারে, ‘আমার মৃত্যুর পর সেটি কি আমিই থাকব?’ এক্ষেত্রে উত্তর একটাই হবে, ‘আমার দেহটা পরিপূর্ণভাবে আমি না, আমার একটা অংশবিশেষ’ । তাহলে বাকি অংশটা কি থাকে? সেটা অবশ্যই আমার চিন্তা চেতনা, আমার মানসপট মোট কথায় আমার দেহ দ্বারা প্রাপ্ত জ্ঞানকে যেটি বিশ্লেষন কিংবা পর্যবেক্ষন করে। আমার মন। এটিকে আত্মাও বলা যেতে পারে। সুতরাং সরল কথায় বলতে গেলে আমি তৈরী হই আমার দেহ এবং আমার মন দ্বারা। আপনি গঠিত হয়েছেন আপনার নিজস্ব দেহ এবং মন দ্বারা আবার আপনার সন্তানটিও গঠিত হয়েছি নিজস্ব দেহ ও মন দ্বারা।

    চমৎকার বলেছেন। আপনার সাথে সহমত।

  2. আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্ন

    আরজ আলী মাতুব্বরের প্রশ্ন দিয়েই শুরু করি।

    প্রশ্ন হলো আরজ আলী কি আত্মাতে বিশ্বাস করতো? যদি করে তাহলে উনার নাস্তিকতার যৌক্তিকতা কতটুকু?

    আবার আপনার সন্তানটিও গঠিত হয়েছি নিজস্ব দেহ ও মন দ্বারা।

    বুঝতে পারলাম না লাইনটুকু।

    এই “আমিত্ববাদে” যদি আরজ আলীকে সম্মান দেয়া হয় তাহলে আসিফ মহিউদ্দিনকে কেনো ব্যঙ্গ করা হবে?

    শিরোনামটা বাংলায় দিলে ভালো হত।

    1. দেখুন, আমি এক্ষেত্রে বলেছি
      দেখুন, আমি এক্ষেত্রে বলেছি আত্মাটা কি। যা ‘আমি ‘ ভাব তৈরি করে আমি সেটাকেই আত্মা বলেছি। বায়বীয় কোন বিষয় নয়। শুধু আমিত্ম তৈরি করে যেটি।

      বাক্যটাতে লিখতে ভুল হয়েছে। সেখানে হবে, “আপনার বাচ্চাটিও গড়ে উঠেছে তার দেহ আর মন নিয়ে ”

      আসিফের আমিত্মটা ছিল তার অহংবোধ। আসিফ তার আমিত্মের উতস খুজেনি। আরজ আলী আমিত্মের উতস খুজেছেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার সংশয় থাকলে অকপটে বলুন।

  3. আপনার লেখার ভক্ত হয়ে গেলাম।
    আপনার লেখার ভক্ত হয়ে গেলাম। নিয়মিত লেখা চাই।
    ইস্টিশন মাস্টারের প্রতি আবেদন, লেখাটি ইতিমধ্যে অন্য কোথাও প্রকাশিত না হয়ে থাকলে স্টিকি করা যেতে পারে।

    1. নাহ , লিখাটা কোথাও প্রকাশ করা
      নাহ , লিখাটা কোথাও প্রকাশ করা হয়নি এখানে ছাড়া । লিখাটার বয়স কয়েক ঘন্টা । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই জন্যে যে আপনার লিখাটা একটা বড়সড় অনুপ্রেরণা ।

  4. তুমিও প্রশ্ন তুলেই রেখে
    তুমিও প্রশ্ন তুলেই রেখে দিলে?

    বাই দ্যা ওয়ে- আমার এক ফ্রেন্ডকে (সাগর) ভার্সিটি থেকে এসাইনমেন্ট দিয়েছে- “Who am I?”
    একটু হেল্প দরকার! আমি তেমন কিছু করতে পারি নাই… তুমি কি পারবা?
    বাই দ্যা বাই- আরজ আলী মাতুব্বরের বইটা কি কয়েক দিনের জন্য ধার দেয়া যায়?

    ও- একটা সস্তা সমাধান দেই?
    “আমি” হচ্ছে আমার “রূহ”! যার কোন ক্লোন হয় না…!
    (ক্লোন করলে সেটা হবে আমার দেহ-মন (নফস!) এর ক্লোন… “রূহ”-এর নয়!)
    আবার প্রশ্ন করো না যেন- “রূহ” কী?
    এর উত্তর আমার খুব একটা জানা নাই! বড় কোন আলেম-এর সন্ধান কর। ওনারা অনেক সময় অনেক কঠিন যুক্তি তর্কের পাশ কাটিয়ে সরল মনে সহজ সমাধান দিয়ে দেন!

    😛

  5. আসিফের আমি আমি করাটা হলো
    আসিফের আমি আমি করাটা হলো নিজের প্রচার । তায় আমি আমির মানে সে চায় তাকে সবাই চিনুক । আরজ আলীর আমি আমিত্ব মানে নিজেকে নিজে চিনা । যে মানুষ নিজেকে নিজে চিনতে শিখে তার দ্বারা খারাপ কাজ হয় না বলে আমার ধারনা । এখানে ব্যাপারটা কম্পিউটারের মত হার্ডওয়ার সফটওয়ার এর মতো । মানে দেহ হার্ডওয়ার আর মন সফটওয়ার ।

        1. কেন? মন্তব্য লেখার ঘরের উপরেই
          কেন? মন্তব্য লেখার ঘরের উপরেই তো ইমোটিকনের খনি আছে। ওখানে ক্লিক করে ওপেন করুন। তারপর যেই ইমো দিতে চান ওইটাতে ক্লিক করলেই তো হয়ে যায়। :ভালুবাশি: :শয়তান:

  6. মানুষ আর দশটি প্রানীর মতই
    মানুষ আর দশটি প্রানীর মতই প্রানী। মানুষ নিজেকে উন্নত করেছে। হজার পাচেক বছর আগে সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ কিছু যোগ বিয়োগ করতে পারত মাত্র। মানুষ বিবর্তনের মাধ্যমে নিজের মনোজগতকে উন্নত করেছে। আকাশ থেকে সভ্যতা আসেনি। মানুষ মানুষের মাংশ খাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। চুল,কাটার পর ,মল মূত্র ত্যাগ করার পর আমরা তা নিস্কাশন করার জন্য ব্যাস্ত হই,তেম্নি মৃত্যুর পর শবদেহ সৎকারের জন্য ব্যাস্ত হই কারন তা না হলে দুর্গন্ধ বেরুবে। মানুষের মৃত্যুর পর দেহের মুল্য নেই। আত্মা মানুষের তৈরী। মানুষ আর দশটি প্রানীর মতই সাধারন প্রানী,জন্ম/ মৃত্যুর কোন উদ্দেশ্য নেই। জীবনকে ইতিবাচক ভাবে উপভগ করাই জীবনের উদ্দেশ্য। ন্যায়,নীতি বানাতে হয়েছে,কারন মৃত্যুর পর কিছুই হবে না না বিচার না আচার। বিচার করতে হবে মানুষের জন্যি,তা হলে অনাচার বাড়বে। যে অন্যায় করে মরেছে সে অন্যায় করার জন্যই জন্মেছিল,আর তার বিচারের পর শাস্তি হলে তা মানব জাতির টিকে থাকার পথ প্রশস্ত হয়। এই ঘূর্ণিতেই আছি আমরা। হতাশাবাদিতার কিছুই থাকে না যদি করমব্যাস্ত জীবন থাকে। বড় বড় তাত্ত্বিক রা ভোগবাদী ই হয়ে থাকেন।

    1. আপনার কয়েকটা কথার সাথে একমত।
      আপনার কয়েকটা কথার সাথে একমত। তবে ভাবের সামান্য পার্থক্য আছে। মানুষ কি মনোজগত বিবর্তন করেছে নাকি বিবর্তিত হয়েছে?

      কোন আত্মা মানুষের তৈরি? আত্মার ধারণাটা?
      ধন্যবাদ আপনাকে 🙂

      1. আর সব বিবর্তনের মতই মানুষের
        আর সব বিবর্তনের মতই মানুষের মনোজগতের বিবর্তন। মানুষের মগজের ওজন গড়ে অন্যান্য প্রানীর চেয়ে বেশী, মানুষ চিন্তা করতে পারে অনেক বেশী, সৃজনশীল কাজ করতে পারে, সব কিছুই বিবর্তিত হয়েছে এবং হচ্ছে। মানুষের প্রানান্ত সারভাইভাল যুদ্ধ মানুষের মনোজগতের বিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি। আতুর ঘড়েও মানুষ মারা যায়। জন্ম দুর্ঘটনা কিন্তু মৃত্যু অবশ্যম্ভাবি। কাজেই মানুষ ও প্রানী।

        1. মানুষ ও প্রানী, মন আছে বলেই
          মানুষ ও প্রানী, মন আছে বলেই এই প্রানীটি মানুষ। আত্মিক স্বাধক রা বলেছেন, ‘ দম এর প্রতি খেয়াল করো ‘ নিজের দম কে ১০ মিনিট বন্ধ রাখার চেষ্টা করুন, তারপর দেখুন আপনার চিন্তাধারা কোনদিকে ছোটে আর আপনার অস্তিত্ব আপনাকে কি নির্দেশ দেয়?

  7. “আরজ আলী মাতুব্বর : পাঠ ও
    “আরজ আলী মাতুব্বর : পাঠ ও মূল্যায়ন”, নামে একটি রেফরেন্স বই বের হইছে সূচিপত্র প্রকাশনী থেকে। বাঙলাদেশের স্বনামধন্য চিন্তাবিদেরা সেই বইটিতে নিজেদের প্রবন্ধ দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ৪৫০ টাকা। আমি লেখককে অনুরোধ করবো আরজ আলী মাতুব্বরকে নিয়ে আরো ডিটেইল খোঁজ নিয়ে এবং ওনার সম্মন্ধে যত রেফারেন্স ওয়ার্ক আছে সেগুলো একটু ঘাটলে হয়তো আমরা আরো ভালো একটি লেখা পাইতাম।

    1. সাইফুল ভাই আমার উদ্দ্যাশ্যে
      সাইফুল ভাই আমার উদ্দ্যাশ্যে ছিল না আরজ আলী মাতুব্বরের চিন্তা বিশ্লেষন করা। আরজ আলী মাতুব্বরের আত্মা বিষয়ক যে প্রশ্নটা জন্ম দেয় সেটা নিয়ে একটু ভাবা। এই প্রবন্ধে আরজ আলী মাতুব্বরকে না আনলেও চলত। ধন্যবাদ আপনাকে।

  8. সরি টু সে, আপনার লেখা পড়ে
    সরি টু সে, আপনার লেখা পড়ে আমার :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে:
    এত দার্শনিক কথা কেন জানি মাথায় ঢুঁকে না :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  9. আসলেই তো ঝামেলার ব্যাপার! আমি
    আসলেই তো ঝামেলার ব্যাপার! আমি বোধটা তো মনে হয় ব্রেইন থেকেই আসছে, তাই না? “আমি” যে “আমি”, সেটা তো একটা চিন্তা, আর চিন্তা করে কে? আমার ব্রেইন। :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 3 =