মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের “অশ্লীলতা প্রসঙ্গ” এবং ভোলতেয়ার এর “কোলা ব্যাঙের” কাহিনী।

/ALTERNATES/w640/02_Ba+Deep_Book+Fair_160216_0001.jpg” width=”400″ />


মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের বিষয়ে আমার কোন ব্যক্তিগত মুগ্ধতা নেই। আমি তার লেখার ভক্ত নই, তার ব্যক্তিত্বের ভক্ত নই। আমি যখন সিলেটে মেডিক্যাল স্কুলে পড়াশুনা শুরু করি তার বছর কয়েক আগে থেকে জাফর ইকবাল স্যার সপরিবারে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যোগ দিয়েছিলেন। সিলেটের ছাত্র রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকার সুবাদে স্যারের সাথে বিভিন্ন সভা সমিতিতে, কর্মসূচীতে যোগদানের সুযোগ হয়েছিলো। বলাই বাহুল্য, সেই সকল কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে অবশ্য তাঁর সাথে আমার কোন ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। তবে সাধারন অর্থে জাফর স্যারকে আমার পজিটিভ মানুষ মনে হয়, কারন তিনি কখনই ক্যাম্পাস ভিত্তিক শিক্ষক রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ ত্যাগ করেননি। কিন্তু স্যারের প্রতি আমার কোন ব্যক্তিগত মুগ্ধতা তৈরী না হবার প্রধান কারন ছিলো, আমার বিবেচনায় আমি তাকে শেষ পর্যন্ত শাসক দলের ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবি হিসাবেই দেখেছি। আমি হয়তো ভুল হতে পারি। শাসক দলের মৌলিক নীতিতে আঘাত করে এমন কোন বয়ান প্রদান করা বা এমন কোন কর্মসূচীতে যুক্ত হতে স্যারকে দেখিনি। আমি যখন বলি দেখিনি, তখন আমি বোঝাই ২০০৫ সাল পর্যন্ত, আমার দেশ ছাড়ার পূর্ব পর্যন্ত। দেশ ছাড়ার পরে অবশ্য স্যারকে বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর সাথে আরো ঘনিষ্ঠ হতে শুনেছি। যদিও পরীক্ষায় নকলের প্রতিবাদ হিসাবে তাঁকে শহীদ মিনারে একা বসে থাকতে দেখেছি। ছাত্রলীগের ছেলেদের হাতে অপদস্থ হয়ে বৃষ্টিতে অসহায়ের মতো বসে থাকতে দেখেছি। কিন্তু আওয়ামী সরকার কর্তৃক মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার হরণ , সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, রাজনীতিতে দুর্নীতিবাজ মানুষদের দৌরাত্ম, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশ ব্যাপী খুন – গুম এই সকল প্রসঙ্গ নিয়ে স্যারের খুব বেশী সরব লেখালেখি আমি দেখিনি। কেউ যদি আমার ভুল ধরিয়ে দেন, বিনীত ভাবে আমার মতামত প্রত্যাহার করে নেবো। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ গনমানুষের দাবী দাওয়া নিয়ে তাঁকে খুব একটা সরব হতে দেখেছি বলে মনে করতে পারিনা। তিনি সব সময়েই প্রিভিলেজড নাগরিক দলের বুদ্ধিজীবি। সিলেটে সহ সারা দেশে ছাত্র রাজনীতির প্রতি বিরাগ – বিমুখ একটা বিশাল তরুন – যুবক গোষ্ঠীর আদর্শ মানুষ জাফর স্যার। অবশ্য আমার বা আমাদের প্রত্যাশা মতই তাঁকে রেস্পন্ড করতে হবে এটা ঠিক নয়। এটা নিশ্চিত ভাবেই তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হতে পারে। তিনি হিন্দু মন্দির ভেঙ্গে ফেলার প্রতিবাদ করেছেন, কিন্তু কারা ভেঙ্গেছে, কারা ভাংছে, এর পেছনের মানুষ গুলো কারা সেই সকল আলোচনায় যাওয়াকে তিনি লেখক হিসাবে, সমাজের একজন অগ্রসর মানুষ হিসাবে তার দায়িত্ত মনে করেন নি বা মনে করেন না। এটা হতেই পারে, আমি ব্যক্তি মানুষের এই স্বাধীনতায় সম্পূর্ণ ভাবে বিশ্বাস করি। একজন স্বাধীন মানুষ হিসাবে তিনি তার রাজনৈতিক সচেতনতার কতটুকু অনুশীলন করবেন এটা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। এতো লম্বা ভুমিকা দেবার কারন দুটি কথা বলা।

১ – দিনের শেষে, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার একজন সরকার ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী এবং
২ – একজন স্বাধীন মানুষ হিসাবে সরকার ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবি হওয়াটা তাঁর ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে পড়ে।

এবং আমি তাঁর স্বাধীন অধিকার চর্চার বিষয়ে কোনভাবেই কোন হস্তক্ষেপ কে সমরথন করিনা। তাঁর চিন্তার স্বাধীনতা, সেই চিন্তাকে প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। পৃথিবীর বেশীর ভাগ সভ্য দেশে মানুষের এই অধিকার গুলোকে সংবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানেও এই অধিকার গুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।

কিন্তু, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার কি মানুষের এই স্বাধীন অধিকার চর্চার বিষয়গুলোকে বোঝেন? স্বীকার করেন? তিনি কি মনে করেন, তাঁর যেমন স্বাধীন ভাবে লেখার, মতামত প্রকাশের অধিকার আছে, ঠিক তেমনি ভাবে আমার বা আরো অনেক মানুষেরও একই অধিকার আছে?

না তিনি সেটা মনে করেন না। অন্যদের স্বাধীন অধিকার চর্চার বেলায় তিনি কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করতে চান। তিনি নিজে লেখালেখির পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করলেও অন্যদের কারো কারো লেখাকে তিনি অশ্লিল, গারবেজ বলে উল্লেখ করেন এবং সেই সকল লেখকের বিরুদ্ধে রাস্ট্রের নিবর্তন মুলক আচরনের সামাজিক বৈধতার ব্যবস্থা করে দেন। বদ্বীপ প্রকাশনার বিরুদ্ধে সরকারী ব্যবস্থা কে যায়েজ করেছেন দুজন মানুষ একজন সরকারী বেতনভুক কর্মচারী বাংলা একাডেমির পরিচালক এবং অন্যজন দুর্ভাগ্যজনক ভাবে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।


জাফর ইকবাল স্যার আমেরিকার প্রখ্যাত “বেল ল্যাবরেটরী”তে কাজ করেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে তিনি জানেন না ইন্টারনেট এর শক্তির কথা। তিনি জানেন না যে বই জব্দ করা যায়, কিন্তু চিন্তা কে জব্দ করা যায়না। তিনি বদ্বীপ প্রকাশনীর প্রকাশিত পুস্তক “ইসলাম বিতর্ক” কে বলেছেন অশ্লীল এবং শুধু তাই নয় তিনি সকলকে পুস্তকটি পড়তে বারন করেছেন। অনলাইনে পুস্তকটির পিডিএফ কপি ডাউনলোড হয়েছে হাজার হাজার বার। আমারো সুযোগ হয়েছে “ইসলাম বিতর্ক” বইটি পড়ার। আমি হয়তো জাফর স্যারের মত পুত-পবিত্র পাঠক নই, কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি এই বইটি যদি অশ্লীল পুস্তক হয় তাহলে বাংলাদেশের প্রথম সারির বেশ কজন লেখকের চরম অশ্লীল পুস্তক ও লেখা আমি পড়েছি। এই তালিকায় পড়বেন – সৈয়দ শামশুল হক, ইমদাদুল হক মিলন, হুমায়ুন আজাদ এমন কি আরো সৃজনশীল লেখকদেরও কেউ কেউ।জাফর স্যার কি প্রকাশ্যে সৈয়দ হক, হুমায়ুন আজাদ বা ইমদাদুল হক এর কোন বই কে অশ্লীল বলেছেন কখনও? জাফর স্যার কি সৈয়দ শামসুল হক বা হুমায়ুন আজাদের কোনও পুস্তক নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন কখনও? কিম্বা জাফর স্যার কি এদের কোনও পুস্তক অশ্লীলতার দায়ে জনগন কে পড়তে বারন করেছেন? আমি অন্তত শুনিন, পড়িনি। যদি কেউ এমন কোনও লেখা দেখাতে পারেন, আমি আমার এই মতামত প্রত্যাহার করে নেবো। জাফর স্যার জানেন, সৈয়দ হক বা ইমদাদুল হক মিলন এর বইকে অশ্লীল বলাটা সহজ নয়। শুধু সহজ নয় তাইই নয়, এদের বইকে অশ্লীল বলে পড়তে বারন করাটা কতটা কঠিন কাজ এটাও জাফর স্যার জানেন। সুতরাং জাফর স্যারের শ্লীলতাবোধ জাগ্রত হয়ে ওঠার একমাত্র জায়গা হচ্ছে আপাত নিরীহ – সরকারী সমর্থনহীন বদ্বীপ প্রকাশনীর শামসুজ্জোহা মানিকের মত বয়স্ক মানুষেরা।


শিরোনামে ভোলতেয়ার মহাশয়ের “কোলা ব্যাঙের” কথা উল্লেখ করেছি। এর মানে এই নয় যে জাফর স্যার একজন কোলা ব্যাঙ, বরং আমরা সবাই সম্ভবত এক একজন কোলা ব্যাঙ। দেখুন ভোলতেয়ার মহাশয় কিভাবে কথাটি বলেছিলেন –

“যদি একটা কোলা ব্যাঙ কে জিজ্ঞাসা কর সৌন্দর্য কি? সে নিশ্চিত ভাবেই উত্তর দেবে যে সৌন্দর্য মানে হচ্ছে ছোট্ট মাথা থেকে বেরিয়ে আসা দুটি বড় বড় চোখ, একটি ফোলানো হলুদ পেট, পিঠের উপর অসংখ্য কালো কালো দাগ, ঠিক তাঁর স্ত্রী কোলা ব্যাঙের মতই। যদি গিনির একজন কালো মানুষ কে একই প্রশ্ন কর সে উত্তর দেবে – সৌন্দর্য হচ্ছে গাঢ় কালো তেলতেলে তক, পুরু ঠোট, বোচা চওড়া নাক সহ একটি মুখশ্রী ই সৌন্দর্য”।

অর্থাৎ সৌন্দর্য বিশয়টি প্রেক্ষিত নির্ভর এবং কে তাকে সংজ্ঞায়িত করছে সেটাও একটা প্রধান বিবেচনার বিষয়। “ইসলাম বিতর্ক” পুস্তকটি মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কাছে অশ্লীল মনে হতেই পারে, এতে কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু বিরাট সমস্যা হচ্ছে তিনি তাঁর মনে হওয়াটাকে নিয়ে একজন স্বৈরাচারীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তাঁর কাছে অশ্লীল মনে হলেও আরো বহু মানুষের কাছে যে সেটা অশ্লীল মনে নাও হতে পারে, সেই মৌলিক বিশয়টি তিনি ভুলে গেছেন। শুধু ভুলে যাননি, তিনি তাঁর নিজের মতামতটিকে অন্য সবার উপরে চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি “মুক্ত চিন্তার পক্ষে, কিন্তু গারবেজ প্রকাশনার পক্ষে নন”, অর্থাৎ তিনি ধরেই নিয়েছেন যে তাঁর কাছে যা গারবেজ মনে হবে তা সকলের কাছেই গারবেজ মনে হতে হবে।মুহাম্মদ জাফর ইকবাল আর যাইই বুঝুন না কেন চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়টি একদমই বোঝেন না। সে জন্যেই তিনি প্রথমত তাঁর “অশ্লীল” মনে হওয়াকে বাকী সবার উপরে চাপিয়ে দেন। দ্বিতীয়ত তিনি যেহেতু চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা কে সকলের জন্যে সমান মনে করেন না, তাই প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে সরকারের নিপীড়নমূলক কাজ কে সহায়তা করেছেন। অথচ একজন লেখক হিসাবে নৈতিক ভাবে তাঁর এসবের উল্টো কাজ গুলোই করার কথা ছিলো।


হিন্দু মৌলবাদীদের চাপে ২০১৪ সালে ভারতে মার্কিন লেখক, গবেষক ওয়েন্ডি ডনিগার এর হিন্দুত্ব বিষয়ক পুস্তক ”The Hindus: An Alternative Hisotry” বাজার থেকে তুলে নেয় তাঁর প্রকাশক পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া। চরমপন্থী হিন্দু মৌলবাদীদের দাবী ছিলো এই বইটিতে তাদের দেব দেবীদের প্রতি চরম অস্মমান করা হয়েছে। এমন কি ভারতের মধ্যপন্থী সুশীল সমাজও মন্তব্য করেছিলো যে বইটিতে হিন্দু ধর্মকে “যথাযথ” ভাবে তুলে ধরা হয়নি। প্রবল চাপের মুখে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া বাধ্য হয় বইটি তুলে নিতে।

সেই সময় লেখক অরুন্ধতি রায় সহ বেশ কয়েকজন লেখক ওয়েন্ডি ডনিগার এর হয়ে পেঙ্গুইনকে তীব্র সমালোচনা করেন। ভারতের মৌলবাদী গোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেন। এমন কি তারা নিজেরাও তাদের পুস্তক পেঙ্গুইন থেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষনা দেন। স্বয়ং অরুন্ধতি রায় ঘোষনা দেন যে তিনি ডনিগার এর পুস্তকটির জন্যে ভারতীয় প্রকাশক জোগাড় করবেন। বিস্ময়কর শোনালেও সত্যি হচ্ছে, ভারতের সৃজনশীল লেখকেরা ডনিগার এর পুস্তকটি প্রকাশের জন্যে একটি দেশীয় প্রকাশনা সংস্থা খুজে বের করেন এবং দিল্লি ভিত্তিক একটি প্রকাশনা সংস্থা থেকে ২০১৫ সালে ডনিগার এর পুস্তকটি আবার প্রকাশিত হয়।

ভাবা যায়, সেই তুলনায় আমাদের মহানায়ক তুল্য মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারদের ভুমিকার কথা?


সৈয়দ শামসুল হকের “নিশিদ্ধ লোবান” মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস।খুব ভালো উপন্যাস। কোনও সন্দেহ নেই কথা শিল্পী হিসাবে সৈয়দ হক অতুলনীয়। তাঁর এই উপন্যাসের শেষ দিকে তিনি একটি বর্ণনা যুক্ত করেছেন, একজন পাকিস্থানী সৈন্য একটি বাঙ্গালী মেয়েকে ধর্ষণের জন্য তুলে নিয়ে এসেছেন। আমরা জানি প্রায় চার লক্ষাধিক মা – বোনের উপরে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিলো । কিন্তু সেই সকল ধর্ষণ আর যৌন নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ পাঠ করতে কতজন পাঠক প্রস্তুত? কিন্তু সৈয়দ হক পাকিস্থানী সৈন্যের বয়ানে সেই রকমের একটি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিচ্ছেন এভাবে –

“আমি কখনও হিন্দু মেয়েকে ন্যাংটো দেখিনি” ……
“আমাকে একটা কথা বলো – হিন্দু কি প্রতিদিন গোসল করে?”
“হিন্দু মেয়েদের গায়ে নাকি কটু গন্ধ?”
“তাদের জায়গাটা পরিস্কার?”
“শুনেছি মাদী কুকুরের মত? সত্যি?”
“শুনেছি হয়ে যাবার পরে সহজে বের করে নেওয়া যায়না?”
“আমাকে কতক্ষণ ওভাবে ধরে রাখতে পারবে?”

জাফর স্যারের কাছে আমার প্রশ্ন, এই টেক্সট গুলো কি অশ্লীল? যদি অশ্লীল হয় তাহলে আপনি কি এর প্রতিবাদ করেছেন কোনদিন? আমার কাছে এই টেক্সট এর অশ্লীলতার চাইতেও পাকিস্থানী পশুগুলোর বীভৎসতা ফুটে উঠেছে। তাহলে অন্তত একটা বিষয় বোঝা যাচ্ছে যে টেক্সট কখনও অশ্লীল হয়না, মানুষ টেক্সট কে কিভাবে অনুধাবন করছে সেটাই টেক্সট কে অশ্লীল করে তোলে। হয়তো বহু মানুষের কাছে এই টেক্সট অশ্লীল মনে হবে। তাহলে কি সৈয়দ হক সাহেবের নিশিদ্ধ লোবান বইটিকে আমরা নিশিদ্ধ করে দেবো? তাহলে রাস্ট্র সৈয়দ হক কে হাতকড়া পরিয়ে জেলখানায় নিয়ে যাবে? উত্তর দেবেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার?


জাফর স্যার আপনি একটা কোলা ব্যাঙ। কোনও সন্দেহ নেই, কোলা ব্যাঙ হওয়াটা দোষের কিছু নয়, কিন্তু আপনি কোলা ব্যাঙ হয়ে আমার অধিকারটুকু কেড়ে নিতে ছেয়েছেন । আপনার শ্লিলতাবোধের ভার আমার কাধেও চাপিয়ে দিয়েছেন। এটা অন্যায়। আমরা একথা মনে রাখবো। একটি পুস্তক কে অশ্লীলতার অজুহাতে নিষিদ্ধ করা হলো, সেই পুস্তকের প্রকাশনা সংস্থাটির স্টল কে পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে দেয়া হলো, প্রকাশক, যিনি নিজে একজন লেখকও বটে, তাঁকে হাত কড়া পরিয়ে জেলে নিয়ে যাওয়া হোল। এই সকল কাজে শাসক গোষ্ঠীর আচরণ কে বৈধতা দিলও আপনার প্রকাশয় বিবৃতি এবং সাক্ষাতকার। বাংলাদেশের মত প্রকাশের অধিকার হরণের ইতিহাস নিয়ে ভবিষ্যতে কেউ গবেষণা করলে নিশ্চিত ভাবেই এই ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করবে এবং সেখানে আপনার অবস্থান থাকবে বিরুদ্ধবাদীদের কাতারে। এটা দুর্ভাগ্যজনক।

মুক্ত চিন্তার জয় হোক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৫ thoughts on “মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের “অশ্লীলতা প্রসঙ্গ” এবং ভোলতেয়ার এর “কোলা ব্যাঙের” কাহিনী।

  1. মুক্তচিন্তা ভালো। কিন্তু
    মুক্তচিন্তা ভালো। কিন্তু মুক্তচিন্তা মানে অশ্লীলতা নয়। আর গদ্য সবাই লিখতে পারে। কিন্তু সাহিত্য পারে না।
    ‘ইসলাম বিতর্ক’ একটি চটি বই।

    1. ভালো কথা, ইসলাম বিতর্ক আপনার
      ভালো কথা, ইসলাম বিতর্ক আপনার মতে একটি চটি বই, আমার মতে এটা আরও হাজারটা বইয়ের মতোই আরেকটা বই। এই বইটার কি বাজারে থাকার অধিকার আছে? ভাইয়া সাইয়িদ রফিকুল হক?

  2. যদি সত্যি আমার সুযোগ হতো তবে
    যদি সত্যি আমার সুযোগ হতো তবে অবশ্যই আমি জাফর ইকবালকে এই প্রশ্ন করতাম যা আপনি করতে চেয়েছেন। নিষিদ্ধ লোবান ও কি অশ্লীল? নাকি মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি আছে বলে সেটি অশ্লীল নয়?
    জাফর ইকবালকে অধিকাংশ মানুষ সাহিত্যের ঈশ্বর ভাবেন। যেহেতু তিনি স্বয়ং নিজ মুখেই বলেছেন “ইসলাম বিতর্ক” বইটি অশ্লীল অর্থাৎ এমন বই মাত্রই অশ্লীল, সেহেতু নিঃসন্দেহে বইটি অশ্লীল। এক অর্থে একটা সিল পড়ে গেলো ইসলাম নিয়ে লেখা মানেই অশ্লীল।
    তিনি অজান্তেই মৌলবাদীদের উদ্দেশ্য সফল করে দিচ্ছেন। বাহ !

  3. জাফর ইকবাল একজন নাস্তিক হয়েও
    জাফর ইকবাল একজন নাস্তিক হয়েও একজন ভদ্র-সভ্য মানুষ বলেই বইমেলায় প্রকাশিত চটি বই – ইসলাম বিতর্কের বিপক্ষে কথা বলেছেন। ২১শের বই মেলা থেকে প্রকাশিত যে কোন বইই একটা বাড়তি গুরুত্ব রাখে। তাই এটার বিরুদ্ধে বাংলা একাডেমী ব্যাবস্থা নিবেই। মুক্তমনা আর ধর্মকারী ব্লগগুলো থেকে আরো ভয়াবহ চটি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এসব নিয়ে কেউ কিছু বলবে না । কারন বইমেলা আর ব্লগ সম্পুর্ন ভিন্ন দুইটা ক্ষেত্র।
    নীলক্ষেত আর ফার্মগেটের চটী বিক্রতারা প্লে-বয় পত্রিকা বই মেলায় বেচতে চাইলে আপনি কি তাদের পক্ষেও কলম ধরবেন? তাদেরও তো বাক স্বাধীনতা আছে; তাই নয় কি!!!

  4. জাফর ইকবাল স্যার আমেরিকার
    জাফর ইকবাল স্যার আমেরিকার প্রখ্যাত “বেল ল্যাবরেটরী”তে কাজ করেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে তিনি জানেন না ইন্টারনেট এর শক্তির কথা। তিনি জানেন না যে বই জব্দ করা যায়, কিন্তু চিন্তা কে জব্দ করা যায়না। – See more at: https://istishon.blog/node/16014#sthash.rJFbt3zK.dpuf
    Jafor Iqbal eita bhalo korei janen. Sheijonnoi uni kintu shudhu boita porte mana korechen, online theke porte mana korenni.uni janen jader porar kotha tara thiki online theke pore nibe. Uni chaan muktochintar joy hok, Uni shudhu chaan na ekta boi er karone kaoke kupiye mere fela hok. Karon eita bangladesh….eikhane muktochintar joy er jonno shudhu boi likhe gelei hobe na, aro onek kichui korte hobe, sheitai Jafor Iqbal kore jacchen.

    Sorry for the english typing.

  5. জাফর স্যার আপনি একটা কোলা

    জাফর স্যার আপনি একটা কোলা ব্যাঙ। কোনও সন্দেহ নেই

    নিজেদের দয়া করে একটু পরিবর্তন করুন । তা না হলে কোলা ব্যাঙ এর তালিকা দিন কে দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকবে।
    ডঃ জাফর ইকবাল, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ডঃ জাকির হোসেন, ডাঃ আব্দুন নূর তুষার, ডাঃ পিনাকী ভট্টাচার্য এরা সবাই আপনাদের সাইকোপ্যাথিক চিন্তা-ভাবনার সমর্থক নয় বলে আজকে কোলা ব্যাঙ পরিচিতি লাভ করছে। সত্যিই আফসোস আপনাদের জন্য।

    1. ভাইয়া হাবশি। আমরা হয়ত সকলেই
      ভাইয়া হাবশি। আমরা হয়ত সকলেই এক একটা কোলা ব্যাঙ। একটু বোঝার চেষ্টা করুন, কেনও ভলতেয়ার কোলা ব্যাঙ এর উপমা টি ব্যবহার করেছেন। আর জাফর স্যার এর সাথে যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, জাফর স্যার এদের সকলের চাইতে ভালো মানুষ।

  6. কে কোন বই পড়বে এটা ঠিক করে
    কে কোন বই পড়বে এটা ঠিক করে দেয়ার অধিকার কারও নেই। কিন্তু স্যারের এই মন্তব্যের পিছনের প্রেক্ষাপট, বর্তমান অবস্থা, সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহ সব কিছু মাথায় রাখলে স্যারের এমন বক্তব্য নিয়ে খুব বেশি অবাক হতে হয়না।
    https://istishon.blog/node/15828

  7. আজকাল প্রায়ই খবরে শুনি/পড়ি
    আজকাল প্রায়ই খবরে শুনি/পড়ি গ্রেফতারকৃত লোকটির কাছে জিহাদি ইসলামি বই পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

    1. ভাইয়া, সহজ কথা সহজ করে বলি,
      ভাইয়া, সহজ কথা সহজ করে বলি, আমার মতে পৃথিবীর কোনও পুস্তক নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়। আপনার কি মনে হয় বাংলাদেশে কখনও জ্বিহাদী পুস্তক নিষিদ্ধ হয়েছে? আর যারা গ্রেফতার হয় তাঁরা কি কেবল জ্বিহাদী পুস্তক রাখার জন্য গ্রেফতার হয়? পশ্চিমা বইয়ের দোকান আমাজন বা বারন্স এন্ড নোবেল ও তো মউদুদীর বই বিক্রি করে, কোনও সমস্যা আছে? একবার আমাজনে মউদুদীর নাম লিখে দেখেন তাঁর কতগুলো বই সেখানে বিক্রি হচ্ছে, তাতে কি সারা পশ্চিমা বিশ্ব ভেঙ্গে পড়ছে? কিন্তু এমন কোনও মুসলিম দেশ আছে যেখানে স্যাটারনিক ভার্সেস বিক্রি হতে পারে? এটাই ধর্মীয় মৌলবাদ আর উদারনিতিবাদের মধ্যে পার্থক্য।

      বোঝাতে পারলাম ভাইয়া?

  8. আপনার সাথে একমত। কোন বইই
    আপনার সাথে একমত। কোন বইই নিষিদ্ধ হওয়া উচিৎ না এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিৎ , এমনকি রাজাকারের বা দেশদ্রোহীর ও।

    পশ্চিমা বিশ্বের মূল্যবোধ একদিনে গড়ে ওঠেনি। ঐ পর্যায়ে যেতে আমাদের আরো অনেক দশক লাগবে , বিশেষত গনতন্ত্রহীনতা যখন আমাদের দেশে গেঁড়ে বসেছে। পশ্চিমা বিশ্বেও ব্লাসফেমী আইন আছে , জানেন কী?

    https://en.wikipedia.org/wiki/Blasphemy_law

    1. ভাই, পশ্চিমের সকল কিছু ঢালাও
      ভাই, পশ্চিমের সকল কিছু ঢালাও ভাবে প্রশংসা করা বা গ্রহণ করার মানুষ আমি নই। পশ্চিমাদের বড় বড় শহরে এখনো তাদের ইতিহাসের বদমাইশি, শয়তানির গন্ধ লেগে আছে। পশ্চিমাদের কোনও কিছুই আমি লবণ ছাড়া গ্রহণ করিনা। কিন্তু পশ্চিমাদের কথা বাদ দিয়েও তো আমরা মানুষের উন্নত মূল্যবোধ গুলোর কথা ভাবতে পারি তাই না?

  9. পশ্চিমাদের কথা বাদ দিয়েও তো

    পশ্চিমাদের কথা বাদ দিয়েও তো আমরা মানুষের উন্নত মূল্যবোধ গুলোর কথা ভাবতে পারি তাই না?

    অবশ্যই পারি। তবে কিনা আমাদের মূল্যবোধ কোথা থেকে কোথায় এসে দাড়িয়েছে , সেটা জানতে শরৎচন্দ্র , বিমলমিত্র ও অন্যান্যের উপন্যাস পড়ুন এবং বর্তমানকে বিচার করুন। এর জন্য কারা দায়ী , কিভাবে মূল্যবোধের উন্নয়ন ঘটানো যায় , সেটা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 8 = 1