নবকালের নবদায়ঃ হরেক নব সম্প্রদায়… (পর্ব-২)

গতকল্য কথা দিয়াছিলাম, আজিকে এই লেখা খানা শেষ করিব। কিন্তু, যাহা বুঝিলাম; একাডেমিক চাপে থাকিয়া যাহা মন চায় তাহা লিখিবার ফুসরত কম বই বেশি নয়। কিন্তু উপায় নাই গোলাম হোসেন, ধরিলে শেষ না করিবার উপায় কোথায়। গতকল্য বলগারি লইয়া কিঞ্চিৎ খোঁচা মারিবার চেষ্টা করিয়াছিলাম। আজিকে হেফাজতি সম্প্রদায় লইয়া কিঞ্চিৎ আউট অফ বক্স ভাবিবার চেষ্টা করিব।
কাঁঠাল গাছে ঝুলছে ডাব, হেফাজতের আবির্ভাব
হেফাজতে ইসলাম নামে নতুন আরেক সম্প্রদায়ের কথা শুনিতে পাওয়া যাইতেছে বিগত কয়েক দিন যাবত। ইহাদের সম্পর্কে জানিতে গিয়া যখন এইদিকে সেইদিকে আছাড়ি পিছাড়ি করিয়া মরিতেছিলাম তখনি একদিন বিকালে ক্যাম্পাসে চায়ের দোকানে বসিয়া বিড়ি ফুকিতে গিয়া আমার দুই বন্ধু হাবু আর গাবুর কথোপকথন শুনিতে পাইলাম। হেফাজত লইয়া বিশ্লেষণ করিতে গেলে তাহাদের কথোপকথন হুবহু তুলিয়া দিতে হইবে। এইখানে আমি তাহাই দিলাম।
হাবুঃ হেফাজতের মানে কি?
গাবুঃ অভিধান খুঁজিলে কি পাওয়া যাইবে, জানা নাই। তবে যতটুকু শিখিয়াছিলাম বাল্যকালে, ইহার অর্থ রক্ষাকরা বলিয়াই জানিতাম।
হাবুঃ তাহা হইলে হেফাজতে ইসলাম শব্দখানার মানে কী?
গাবুঃ নিঃসন্দেহে ‘ইসলাম রক্ষা’।
হাবুঃ কি হইতে রক্ষা?
গাবুঃ রোস বাছা, দেখি আলুর পাতা কি কহে?
হাবুঃ আরে ধুর! আলুর পাতা আর কি বাল কহিবে?
গাবুঃ রোস, রোস! একটু গুগলাইয়া আসি। এইতো পাইয়াছি। হুম! শাহবাগের নাস্তিক বলগারগণের হাত হইতে ইসলামকে হেফাজত করিবার জন্য ধর্মের পাহারাদারগণ যেই ব্যানারখানা সামনে ধরিয়া উল্লম্ফন প্রক্রিয়ায় ধর্মরক্ষা করিতেছেন, তাহার নাম হেফাজতে ইসলাম।
হাবুঃ কেন? নাস্তিক বলগারগণ আবার শাহবাগে কি করিল?
গাবুঃ না! তেমন কিছুই করে নাই, তবে তাহারা রাজাকারগুলার ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই বলিয়া চিক্কুর পাড়িতেছিল।
হাবুঃ সেতো নাদান কতকগুলা পোলাপানও চাহিয়াছিল।
গাবুঃ তার আমি কি বাল জানি। শুনিয়াছি ইদানিংকালে যাহারাই রাজাকারের ফাঁসি চাহিয়া গণজাগরণ মঞ্চে যাইতেছিল, তাহাদেরকেই নাস্তিক বলগার বলিয়া হুজুরেরা চিল্লাইতেছে।
হাবুঃ রাজাকারের ফাঁসি চাইলেই তোমার নাম নাস্তিক বলগার হইয়া যাইবে?
গাবুঃ না শুধু তাহাই নয়, তাহারা শিবির আর জামাতে ইসলামি নিষিদ্ধ করিবার দাবিতেও চিক্কুর পাড়িতেছে।
হাবুঃ ইহার সাথে ধর্মের বিবাদখানা কোথায়?
গাবুঃ সত্যই বুঝিতে পারিতেছনা কি?
হাবুঃ না।
গাবুঃ তবে শোন। নামের সাথে ইসলাম থাকিলেই উহা ইসলামি দল। তুমরা ইসলামি দল নিষিদ্ধ করিবার দাবি তুলিয়া চিক্কুর পাড়িবে, আর উহারা কি ঘাস কাটিবে? তাহার উপর আবার…
হাবুঃ তাহার উপর আবার কি?
গাবুঃ তাহার উপর তুমরা আবার উহাদের টাকা-পয়সার উৎস লইয়া খাবলা খাবলি করিবে। আস্ত রাখিবে কেহ?
হাবুঃ হুম। তা ইসলাম হেফাজত করিতে গিয়া উহারা কি করিতেছে?
গাবুঃ কি আর করিবে! আজ এই পাড়া- কাল ঐ পাড়া, এই করিয়া সমাবেশ করিয়া বেড়াইতেছে। শুনিয়াছি উহারা আবার ষড় দফার উপরে আরো সপ্ত দফা মিলাইয়া তেরখানা দফা ঝাড়িয়াছে।
হাবুঃ কী চাহিতেছে তাহারা?
গাবুঃ সংবিধানের ঈমানি জোশ বাড়াইতে হইবে, ব্লাসফেমি আইন করিতে হইবে, যাহারা রাজাকারের ফাঁসি চায় উহাদেরই ফাঁসি দিতে হইবে, শিবির ঠেকাইতে গিয়া যাহাদের গ্রেফতার করা হইয়াছে উহাদের মুক্তি দিতে হইবেক, দেশখানাকে মুল্লুকে ওয়াজখানা বানাইতে হইবে, কাদিয়ানীদিগকে অমুসলিম ঘোষণা দিতে হইবে, নারী-পুরুষ প্রকাশ্যে মিশিতে পারিবেনা, মোমবাতি জ্বালানো যাইবেনা, যত ভাষ্কর্য আছে- ভাঙ্গিয়া ফেলিতে হইবে, আর নতুন ভাষকর্য বানানো যাইবেনা, উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ধর্ম শিক্ষা পড়াইতে হইবে, নাটকে- সিনামায় ভিলেনগুলাকে দাঁড়ি –টুপি পরানো যাইবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি।
হাবুঃ ওরে বাপরে! ইহারাতো দেখিতেছি খালি বাংলাদেশের নাম বদলাইয়া আফগানিস্তান রাখিবার দাবিখানা তুলেনাই।
গাবুঃ চিন্তা করিওনা। ক্ষমতায় গেলে উহারা তাও করিবে।
হাবুঃ ক্ষমতা?
গাবুঃ হুম। ক্ষমতা। সভা সমাবেশে উহারা ক্ষমতা লইতে চায়না বলিলেও, এক টকশোতে গিয়া এক রামপাঠা মুখ ফস্কাইয়া বলিয়া বসিয়াছে, ‘মোশতাক বাবাজী ক্ষমতায় থাকাকালীন লোকে নাকি আহ্লাদিত হইয়া তাহার মত টুপি পরিত। সেই রকম ভাবে ইনারা ক্ষমতায় গেলেও বাংলার নারীকূল আহ্লাদিত হইয়া বোরখা পরিবে।‘ একই টকা টকির প্রদর্শনীতে হুজুর আবার বলিয়া বসিয়াছেন, ‘যুদ্ধাপরাধী বলিয়া খালি আমাদিগকে ধরিবে? তোমাদিগের মধ্য হইতে কাহাকেও ধরিবেনা?’
হাবুঃ কস্কি মোমিন!
হাবু আর গাবুর এই কথোপকথন শুনিয়া মনে হইতেছিল, যাই সামনের দেয়ালখানায় নিজের মাথা ঠুকিয়া কই ‘একটুখানি সর বাপ। কান্দনের জায়গা দে’। হঠাত মনে পড়িল ইতিপূর্বে ইহারাই নারী নীতির বিরোধীতা করিয়া আস্ফালন করিতে গিয়া পুলিশের ঠ্যাঙ্গানি খাইয়া মুক্তকচ্ছ হইয়া পলাইয়াছিল। তা হইলে হঠাত এই সময়ে আবার তাহাদের চুলকাইল কিসে? প্রশ্নের উত্তর ঘাটিতে গিয়া একখানা চিন্তা আসিল মাথায়। হেফাজতের হেফাজতি জোশ চ্যাগাইয়া উঠিবার পিছনে কয়েকখানা ইস্যুর ব্যাপক ভূমিকা আছে বলিয়াই মনে হৈল। ইহা অবশ্য নিতান্তই অর্বাচীনের চিন্তা। ভুলচুক হইলে কিছু করিবার নাই। তাহা ছাড়া ব্যাক্তির মত প্রকাশ করিবার স্বাধীনতা থেকে আমার চিন্তা প্রকাশ করিলাম। কাহারো বুকে বিধিলে ব্যাথানাশক বড়ি খাইয়া লইতে পারেন। আমার কিছুই যায় আসে না।
০১। জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করণ ইস্যু
০২। জয় বাংলা ইস্যু
০৩। তেল- গ্যাস- বিদ্যুৎ- জ্বালানী ইস্যু
০৪। নির্বাচন ইস্যু
০৫। তৃতীয় শক্তির উত্থানভীতি
০৬। আন্তর্জাতিক চাপ
০৭। অভ্যন্তরীণ চাপ
কতিপয় লোকে পাগলা ঠাওরাইতে পারেন। আমি দমিবার পাত্র নহি। কি হইতে এত কিছু মনে আসিল, তাহা বুঝাইয়া দিব আগামীকল্য। খালি একখানা কথা মনে রাখিয়েন; স্লোগানগুলার হইতেও স্লোগান সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলান এইখানে অতি্মাত্রায় বেশি রকমে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে ঠান্ডা মাথার বিশ্লেষণ আগামীকল্য পাইবেন। (ক্রমশ)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “নবকালের নবদায়ঃ হরেক নব সম্প্রদায়… (পর্ব-২)

  1. চমেৎকার। হেফাজতের নিজ লুঙ্গি
    চমেৎকার। হেফাজতের নিজ লুঙ্গি আপনার নিকট হইতে হেফাজত করিবার নিমিত্তে হেফাজতে লুঙ্গি নামক একটি শাখা খুলিতে হইবে মনে হইতেছে। :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    1. সমাবেশে দাঁড়িয়ে যারা
      সমাবেশে দাঁড়িয়ে যারা বলে,

      আমাদের শরীরে মদুদীর রক্ত

      এরা কাপড় খুলেই নেমেছে ভাই। নতুন করে আর কি নাঙ্গা করব? 😀

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 5 =