পারমাণবিক অস্ত্র। পর্ব ১- ভারত

বিশ্বে পারমানবিক অস্ত্রধারী মোট ৯টি দেশ আছে। তারা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, চায়না, ভারত, পাকিস্তান, ও উত্তর করিয়া। এর মধ্যে শুধু ইসরায়েল তাদের দেশে পারমানবিক অস্ত্রের উপস্থিতি স্বীকার করেনি।
পারমানবিক অস্ত্র নিয়ে এই সিরিজে আমি প্রতিটি দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করব। প্রথমে শুরু করব আমাদের প্রতিবেশী ভারতকে দিয়ে।

স্মাইলিং বুদ্ধা ও পারমাণবিক কর্মসূচীর ইতিহাস
ভারত মুলত তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করে ১৯৪৪ সালে। ভারতীও পরমাণু বিজ্ঞানী হমি ভাভা প্রতিষ্ঠা করেন টাটা ইন্সটিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ। সেখান থেকেই পরমাণু গবেষণা শুরু করে ভারত। পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতার পর হমি ভাভার তত্ত্বাবধায়নে পারমাণবিক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী জহর লাল নেহরু।
তবে ১৯৫৪ সালের দিকে ভাভা তার কর্মসূচি অস্ত্র বানানোর দিকে নিয়ে যান। তখন থেকেই সত্যিকার অর্থে ভারত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করে।
৬০এর দশকে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ধীর গতিতে আগাতে থাকে। তবে ৬২ সালে চায়নার সাথে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর নেহরু পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতি আরও আগ্রহী হন। ১৯৬৫ সালে ভাভার নেতৃত্বে পারমাণবিক অস্ত্রের ডিজাইন তৈরি করা হয়। ১৯৬৬ সালে তিনি মারা গেলে তাকে ভারতীও পরমাণু কর্মসূচীর জনক উপাধি দেওয়া হয়। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হন বিজ্ঞানী আর রামান্না।
বেশীরভাগ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ইউরেনিয়াম ব্যাবহার হলেও ভারত ব্যাবহার করে প্লুটোনিয়াম। রাশিয়ার এক প্লুটোনিয়াম রিয়েক্টর দেখেই মুলত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৬৯ সালে পুরনিমা নামের একটি গোপন প্লুটোনিয়াম প্লান্ট তৈরি করা হয়। এখান থেকেই মুলত পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্লুটোনিয়াম সরবরাহ করা হতো।
১৯৭২ সালে ইন্দিরা গান্ধী পারমাণবিক অস্ত্র পরিক্ষার জন্য অনুমোদন দেন। তার এই অনুমোদনের ব্যাপারে খুব কম মানুষই জানত। এমনকি তখনকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিজে জানতে পেরেছেন পারমাণবিক অস্ত্র পরিক্ষার পরে!
১৯৭৪ সালের ১৮ মে বুদ্ধ জয়ন্তীতে রাজাস্থান রাজ্যের পোখরানে ভারতীও সামরিক ঘাটিতে প্রথম পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অপারেশনের নাম ছিল “পোখরান ১” বা “স্মাইলিং বুদ্ধা”।
এই পোখরান বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভারতই প্রথম রাষ্ট্রে পরিনত হল যারা কিনা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য না হয়েও পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

অপারেশন শক্তি বা পোখরান
১৯৯৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয় পান বিজেপির অটল বিহারী বাজপেই। ক্ষমতায় আসার পরপরই তিনি ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে মনোযোগ দেন। তিনি এপিজে আব্দুল কালাম ও আর চিদাম্বারামের সাথে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেন। পরবর্তীতে তাদের দুইজনকেই প্রধান কর্মসূচি পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন।
সিআইএ আর আইএসআইইয়ের নজরদারি থাকার কারনে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে চলে কর্মসূচীর কার্যক্রম। এমনকি স্যাটেলাইটের চোখ ফাকি দিতে রাতে চলত সব কাজ। আর সব বিজ্ঞানীকেই পড়তে হতো সামরিক পোশাক।
অপারেশন শক্তিতে মোট ৫টি বোমা বিস্ফোরণ করা হয়। ১১ মে ১৯৯৮ এ শক্তি ১,২,৩ বিস্ফোরণ করা হয় ও ১৩ই মে বিস্ফোরণ করা হয় শক্তি ৪ ও শক্তি ৫. এটাই ছিল ভারতের প্রথম পরিপূর্ণ পারমাণবিক বিস্ফোরণ। এর মধ্য দিয়ে ভারত ষষ্ঠ রাষ্ট্র হিসাবে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশে পরিনত হয়।

পোখরান ২এ বিস্ফোরিত একটি বোমা।

ব্যালিস্টিক মিসাইল
ভারতের পারমাণবিক ওয়ারহেড যুক্ত ভুমি থেকে ভুমি ব্যালিস্টিক মিসাইল আছে মোট চারটি। অগ্নি-১, অগ্নি-২, অগ্নি-৩ ও প্রিথভি-১. এর মধ্যে শুধু অগ্নি-৩ ৫ হাজার কিলোমিটার ও অগ্নি-২ ২৫০০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “পারমাণবিক অস্ত্র। পর্ব ১- ভারত

    1. স্বাগতম। এখানে সব কিছু বলা
      স্বাগতম। এখানে সব কিছু বলা হয়নি। ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের কার্যক্রমের পিছনে অনেক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে। সেগুলো তুলে ধরিনি। তার মুল কারন আমি লেখাটাকে শুধু তাদের পারমাণবিক কর্মসূচীর মদ্ধেই রাখতে চেয়েছি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 + = 20