আমাদের মুল সমস্যা হচ্ছে চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং আমাদের পরম স্বাধীনতা অর্জন। – অধ্যাপক পারভেজ আমির

(পারভেজ আমির আলী হুডভয় জন্ম গ্রহন করেন ১৯৫০ সালে। দক্ষিন এশিয়ার একজন প্রথম সারির নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানী এবং পাকিস্তানের একজন শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী হিসাবে তিনি পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলোজি (এম আই টী) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি তাঁর পি এইচ ডি লাভ করেন এবং বর্তমানে ইসলামাবাদে কায়দে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসাবে কর্মরত আছেন। যুক্তরাস্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভিজিটিং অধ্যাপক হিসাবে কাজ করে থাকেন। এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাঁর নিজের বিশ্ববিদ্যালয় এম আই টি। ইসলামের রাজনইতিক দর্শন বিষয়ে তাঁর বহু লেখা রয়েছে। পাকিস্থানের সাধারন জনগোষ্ঠী কে যুগ যুগ ধরে অমানবিক পশ্চাৎপদ জীবনে ধরে রাখার পেছনে ইসলাম তথা ধর্মের ভুমিকা নিয়ে তিনি বহু লেখা লিখেছেন, রেডিও সাক্ষাতকার ও টিভি ডকুমেন্টারী্তে অংশ নিয়েছেন এবং সেসব তৈরী ও প্রচারে সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছেন। তাঁর এই সাক্ষাতকার টি ২০১০ সালে মিডল ইস্ট কোয়ারটারলি তে ছাপা হয়। এখানে সাক্ষাতকারটী হুবুহ বাংলা অনুবাদ করে প্রকাশ করা হলো।

প্রফেসর পারভেজ হুডভয় আস্তিক বা নাস্তিক এ বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য তথ্য আমার জানা নেই। তবে তিনি মনে করেন ইসলামের যথাযথ সংস্কার মুসলমানদের কে আধুনিক বিশ্বের মুলধারায় নিয়ে আসতে পারে। তাঁর এই সাক্ষাতকার টি অন্তত আধুনিক ও উদারপন্থী মুসলিম নাগরিকদের কিছু চিন্তার খোরাক দেবে।

অনুবাদ বিষয়ে যেকোন মতামত ও পরামর্শ সাদরে গৃহীত হবে। সাক্ষাতকার এর মতামত অধ্যাপক পারভেজ আমির আলীর নিজস্ব, এ প্রসঙ্গে এই অনুবাদকের কোনও দায় নেই।)

প্রশ্নঃ সারা দুনিয়াতে মুসলিম জনগোষ্ঠী প্রায় দেড় বিলিয়ন এবং মুসলিম বিশ্বের সম্পদ ও সুবিধা থাকার পরেও কেন ইসলামিক বিশ্ব জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চায় এতো পিছিয়ে? আপনি বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন? অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়েছে কি?

প্রফেসর পারভেজঃ দুঃখজনক ভাবে সামান্য পরিবর্তনও হয়নি। প্রায় সাতশো বছর আগে মুসলিম সমাজে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চার একটি স্বর্ণযুগ ছিলো যা প্রায় চারশো বছর দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিলো। তারপর থেকে ইসলাম ও জ্ঞান -বিজ্ঞান সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে ধাবিত হয়েছে, যা কখনই আর একপথে মিলিত হয়নি। জ্ঞান – বিজ্ঞানে বিভিন্ন অবদান পরিমাপ করা হয় সাধারণত বিভিন্ন আবিস্কার, বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা, পেটেন্ট রেজিস্ট্রেশন এবং বিভিন্ন পদ্ধতির উদ্ভাবন দিয়ে। সেদিক থেকে গত সাতশো বছরে ইসলামিক দুনিয়ার অবদান প্রায় না বলার মতই। খুব ক্ষীণকায় কিছু প্রবনতা লক্ষ করা গেছে এই শতকের গোড়ার দিক থেকে কিন্তু তাও আবার ম্লান হয়ে গিয়েছিলো আধুনিক দুনিয়ার অত্যন্ত অগ্রসর বিজ্ঞান চর্চার কাছে। এই পিছিয়ে পড়া থেকে মুসলিম বিশ্ব আবারো জ্ঞান বিজ্ঞানের গতি সঞ্চারের খানিকটা চেস্টা করছে।


প্রশ্নঃ এই জ্ঞান – বিজ্ঞান ও সৃজনশীল চর্চার ক্ষেত্রে ইসলামী উলামা – মাওলানাদের ভুমিকা কি বলে আপনি মনে করেন?

প্রফেসর পারভেজঃ প্রথাগত ইসলামী উলামাগন আসলেই একটা সমস্যা, কিন্তু তারাই সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। বড় সমস্যা হচ্ছে ইসলামিজম, ইসলামের মুলাভিমুখী ব্যাখ্যা বা সহজ কথায় ইসলামের মৌলবাদী ব্যাখ্যা যা প্রায়শই ধর্ম ও ধর্মতত্বর এলাকা ছেড়ে সাধারন জনগনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এলাকায় চলে আসে। যেখানে এবং যখনই ধর্মীয় মৌলবাদ জনগনের জীবনের মুল চালিকা শক্তিতে পরিনত হয় সেখানেই অন্ধ বিশ্বাসের মেঘ সকল যুক্তি ও বিবেচনাবোধ কে ঢেকে ফেলে। যদি এই ধরনের শক্তি সমাজের মূলধারার ক্ষমতা দখল করে নেয়, তাহলে তারা সমাজের যৌক্তিক চিন্তা ভাবনা করার স্বাধীনতা কে খর্ব করে, বাধা দেয়।

প্রশ্নঃ মুসলমানদের এই ধরনের ধর্মীয় রক্ষণশীলতা এবং বিজ্ঞানবিরোধী আচরন কি এখনকার মত সবসময়েই একই রকমের ছিলো? নাকি মুসলমানেরা আরো বেশী বিজ্ঞানমুখী ছিলো, ধরুন কয়েকশো বছর আগে?

প্রফেসর পারভেজঃ আমার শৈশবে, বর্তমান সময়ের চরম শক্তিমান মোল্লারা প্রায় হাসি ঠাট্টা কৌতুকের পাত্র ছিলো। তাদের আড়ালে তাদের কে নিয়ে কৌতুক করা হতো। মাত্র শ’খানেক বছর আগেও ফারসী কবি হাফিজ বা রুমী এই সকল ধর্মীয় মোল্লাদের কে নগ্ন করেছেন, তাদের নির্বুদ্ধিতা কে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। আর আজকের দিনে সেই সকল নির্বোধ মোল্লারাই ইরানের খমতা দখল করেছে। এসবের উত্তর ধর্ম বা ধর্মতত্বে যেমন আছে তেমনি আছে রাজনীতিতেও। খোমেনী এমন একটা মতবাদ ও ব্যবস্থা তৈরী করেছেন যা এই সকল ধর্মীয় মোল্লাদের কে অসীম ক্ষমতা দিয়েছে, যা এরা আগে কখনও ভাবতেও পারতোনা। ফলে, এরা পাড়ার সাধারন মোল্লা হওয়ার বদলে রাজনৈতিক নেতায় পরিনত হয়েছে। এভাবে এখন ইসলাম আধ্যাত্মিক ও পারথিব জীবন কে মেলানোর চেস্টা করছে।

প্রশ্নঃ ইদানিং মুসলমানদের মধ্যে বহু ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও টেকনোলজিস্ট তৈরি হচ্ছে যাদের কেউ কেউ কট্টর ইসলামিস্ট এমন কি জঙ্গীও হয়ে উঠছেন। এ প্রসঙ্গে ইসলাম বিশয়ক গবেষক ম্যালিজ রুথভেন বলেছেন – বিজ্ঞান সম্পরকে উপরভাসা জ্ঞান ও ধারনাই মানুষকে ধর্ম গ্রন্থের কর্তৃত্ববাদী টেক্সট কে বিশ্বাস করতে শেখায় এবং এ ধরনের জ্ঞানই কুরান কে নির্ভুল বা অভ্রান্ত এই রকমের বিশ্বাস তৈরী করতে সাহায্য করে। এ প্রসঙ্গে আপনার মতামত কি?

প্রফেসর পারভেজঃ এই প্রশ্নটিকে অনেক ভাগে ভাগ করতে হবে এবং বেশ কয়েকটি স্তরে উত্তর দিতে হবে। এটা শুধু ধর্মতত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবেনা। বাইবেলে অনেক হিংসাত্মক টেক্সট আছে, কিন্তু তারপরেও অনেক বিজ্ঞানী আছেন যারা বাইবেলে বিশ্বাস করেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে তারা শান্তিতে বিশ্বাসী মানুষ। এক্ষেত্রে বিশ্ব ইসলামিক আন্দোলন কি বয়ে নিয়ে এসেছে সেটা একটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। কিছু অর্থে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার মুসলিম ভার্শন, পশ্চিমের প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি।

কিন্তু আমি এর সামাজিক দিক নিয়েই কথা বলতে চাই, গুরুত্ত দিতে চাই। প্রথমেই আমরা ‘বিজ্ঞানী’ ও ‘টেকনোলজিস্ট’ বা কারিগরি বিদ্যায় শিক্ষিত স্পেসিয়ালিস্টদের আলাদা করতে চাই। ‘টেকনোলজিস্ট’ হচ্ছেন তারা যারা বিজ্ঞানের কিছু বিশয়কে দক্ষতা হিসাবে ব্যবহার করেন কিছু বিশেষ কাজ করার জন্যে, বিজ্ঞান কে তারা ব্যবহার করেন না পৃথিবীর বা প্রকৃতির নিয়ম গুলোকে জানার জন্যে। আমি খুব প্রথম সারির কোনও মুসলিম বিজ্ঞানী কে কখনও ইসলামিস্ট হতে দেখিনি, জঙ্গী হতে দেখিনি, এমন কি কারো কারো গাঢ় ধর্ম বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও। কিন্তু দ্বিতীয় তৃতীয় শ্রেনীর টেকনোলজিস্ট রা এই ক্ষেত্রে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এরা হচ্ছেন সেই গ্রুপ যারা বিজ্ঞানের কিছু অংশ ব্যবহার করেন কিছু বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক কাজ করার জন্যে যেমন – ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনোলজিস্ট ইত্যাদি। এরা খুব সহজেই জঙ্গীবাদের দিকে ঝুকে পড়েন। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এই ধরনের পেশার মানুষেরা ছাত্রজীবন থেকেই খুব গভীর ভাবে না জেনেই কোনও কিছু বিশ্বাস করবার ব্যাপারে অভ্যস্থ হয়ে ওঠেন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কারনেই। এরাই ধর্ম গ্রন্থের প্ররোচনায় বেশী ধরা পড়েন।

প্রশ্নঃ এই ব্যাখ্যা কি পাকিস্থানে শিক্ষিত বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

প্রফেসর পারভেজঃ আমাদের ফিজিক্স এর সেরা ছাত্রদের বেশীরভাগই খুবই মুক্তমনা এবং কদাচিত ধার্মিক। এই সকল ছাত্রদের যথেষ্ট মেধা ও ক্ষমতা আছে ভীড়ের থেকে নিজেদের কে আলাদা করে রাখার। আমার কলিগদের মধ্যে পেশাগত ভাবে সবচাইতে ব্যর্থরাই ধর্ম চর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন আর খোলামেলা ভাবে ধার্মিকতা দেখিয়ে বেড়ান। পেশাগত সফলতা ও সক্ষমতা আর জঙ্গী দর্শনের প্রতি আসক্তির মাঝে একটা সম্পর্ক আছে। পেশাগত ভাবে সফল – সক্ষম মানুষেরা ধর্ম ও জঙ্গী দর্শনের হাতছানিতে কখনই ধরা পড়েন না।

প্রশ্নঃ ভারতের অবস্থাও কি একই রকমের?

প্রফেসর পারভেজঃ হ্যাঁ, সেখানেও একই অবস্থা। আমি দেখেছি সত্যিকারের বিজ্ঞানীদের মাঝে বিজ্ঞান-বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি খুব বিরল কিন্তু টেকনলজিস্টদের মাঝে বরং বিজ্ঞান বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি খুবই প্রবল এবং এটা হিন্দু ও মুসলমান উভয় সমাজের মাঝেই বিদ্যমান। দ্বিতীয় গোত্রের মানুষ বৃষ্টির জন্যে প্রার্থনা করেন, ভুমিকম্প কে মনে করেন ঈশ্বরের বা আল্লাহর অভিশাপ, মনে করেন ঈশ্বর বা স্বর্গীয় উদ্দেশ্যে মানত করলে অসুস্থ মানুষ ভালো হয়ে উঠবেন, এরা বিশ্বাস করেন পবিত্র পানি যাবতীয় পাপ দূর করে দেবে, এরা চাঁদ তারার হিসাব কষেন বিয়ে করার জন্যে একটা ভালো দিন পাওয়ার আশায়, প্রিয় মানুষের বিপদমুক্তির জন্যে আরেকটা প্রানী যেমন পাঁঠা বা ছাগল জবাই করেন, ধর্ম গ্রন্থ থেকে সুরা বা শ্লোক পাঠ করেন মানসিক রোগীকে ভালোকরার জন্যে, এরা মনে করেন সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব, এরা মনে করেন কোনও একজন অসীম খমতাধর এই পৃথিবীটাকে ধরে রেখেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের কুযুক্তি রীতিমত আঁতকে ওঠার মত।

প্রশ্নঃ ভারত এবং পাকিস্থান উভয়েই নিউক্লিয়ার শক্তির অধিকারী এখন, এটা কি ইঙ্গিত করে যে এই উপমহাদেশের মাটিতে এখন আধুনিক বিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়েছে?

প্রফেসর পারভেজঃ হ্যাঁ, আংশিক ভাবে এটা সত্যি, কিন্তু অযৌক্তিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পথটি এখনও অনেক দীর্ঘ । ধরুন – ভারতের নিউক্লিয়ার বোমা পরীক্ষা করা হয়েছিলো পোখরানে, এই পরীক্ষার আগে প্রধান কনসারন বা দুশ্চিন্তার বিশয়টি ছিলো সেই অঞ্চলের পশুদের জন্যে, এবং এই পশু বিশয়ক দুশ্চিন্তার প্রধান কারন ছিলো ধর্মীয়, সত্যিকার অর্থে পশুদের প্রতি ভালোবাসা নয় । ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী যশবন্ত সিং সেই সময়ের নিউক্লিয়ার বোমার বোমার গবেষক দলের কাছে লিখেছিলেন (যে দলে পরবর্তী রাস্ট্রপতি জনাব কালাম ও ছিলেন) পশুদের এই ক্ষয় ক্ষতি অগ্রহণযোগ্য।

প্রশ্নঃ এটা দেখা যায় যে, মুসলিম সংস্কৃতি প্রায়শই বিজ্ঞানভিত্তিক মুক্তচিন্তা, মতামত, চিন্তা ও প্রকাশের স্বাধীনতা, কোনও বিশয়ের খোলামেলা আলোচনা, বিতর্ক ইত্যাদি কে নিরুতসাহিত করে, বাধা দেয়। সালমান রুশদীর ঘটনার পরে, পশ্চিমেও মুসলমানেরা আইন করে ইসলাম বিশয়ক বিতর্ক বা আলোচনা কে নিষিদ্ধ করতে চায়। আপনি কি মনে করেন কোনও উপায়ে এ ধরনের চর্চার শেষ হতে পারে? কিভাবে?

প্রফেসর পারভেজঃ দেখুন মানব ইতিহাসে “এনলাইটেনমেন্ট” একটি সাম্প্রতিক ঘটনা। খুব বেশী হলে চারশো বছরের পুরোনো। কেউ হয়তো আশা করতে পারে, মুসলমানেরা একদিন হয়ত এই ধারাকে বুঝে উঠতে পারবে। কিন্তু আসল প্রশ্নটা হচ্ছে এই সকল মৃত প্রথাকে কিভাবে প্রবল ঝাঁকুনি দেয়া যেতে পারে? উত্তরটা হচ্ছে, যে শিক্ষা পদ্ধতি আমাদেরকে প্রশ্ন করতে শেখায়না, প্রশ্ন করতে বাধা দেয়, বরং প্রশ্ন না করে বাধ্যগত হয়ে থাকতে শেখায়, সেই শিক্ষা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মুসলমানদের সংস্কার শুরু হতে পারে কেবল এখান থেকেই। উর্দুতে আমরা বলি – শিক্ষক শুধু তোমার শিক্ষকই নয়, তোমার পিতাও। আর আমাদের সংস্কৃতিতে আমরা বলি বাবা সকল কিছু জানেন, তিনি কখনও ভুল করতে পারেন না। এর মানে হচ্ছে শিক্ষক সবকিছু জানেন, তাঁর ভুল হতে পারেনা। তাঁকে প্রশ্ন করা যাবেনা।

প্রশ্নঃ এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাই কি কর্তৃত্ববাদের উৎস?

প্রফেসর পারভেজঃ এটা শুধু উৎসই নয়, এ ধরনের শিক্ষার পরিণামই হচ্ছে কর্তৃত্ববাদ। বিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন করার পদ্ধতি না শিখে, ছাত্ররা এখানে বসে বসে কতগুলো উদ্ভট নিয়ম, ঘটনা আর সংখ্যা মুখস্থ করে। কখনও কখনও শিক্ষক নামের পাহারাদার চোখের সামনে বসে এরা সারাক্ষণ মুখস্থ করে। এরা মুখস্থ করে “যদি ক সত্য হয় তাহলে খ মিথ্যা”, কারন এটাই তাদের টেক্সট বইয়ে লেখা আছে। রাগে আমি দাঁত কিড়মিড় করি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কোনও ছাত্র আমার সামনে এই ধরনের মুখস্থ বিদ্যা বলার বা ব্যাখ্যা করার চেস্টা করে।

প্রশ্নঃ পাকিস্থানের মত একটি দেশে কিভাবে তাহলে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরী করা যেতে পারে?

প্রফেসর পারভেজঃ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা অনেক পরে আসবে। পরিবর্তন টা শুরু হতে হবে প্রাইমারী ও হাই স্কুল স্তর থেকে। খুব ভালো বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষন পদ্ধতি চালু করতে হবে যেখানে প্রশ্ন করাকে, প্রশ্ন তোলাকে উতসাহিত করা হবে। সাধারন ভাবেই একজন শিক্ষার্থীর মাঝে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠবে যখন সে পড়াশুনার সাথে তাঁর নিজের মন – মস্তিস্ক কে যুক্ত করতে পারবে, অর্থহীন মুখস্থ করার বদলে। এই জন্যে বস্তুগত বিষয় দিয়ে শুরু করতে হবে। এটা বোঝার জন্যে কারো কগ্নিটিভ সায়েন্স এ পি এইচ ডি করার দরকার নেই যে কম বয়স্ক ছাত্ররা সেই বিশয়গুলোকেই ভালো করে শিখতে পারে, আত্মস্থ করতে পারে, যে বিশয়গুলো হয় তারা দেখতে পায়, ধরতে বা ছুঁতে পারে, শুনতে পারে বা শুঁকে দেখতে পারে। কোমলমতি শিশুরা যখন বড় হতে থাকে তখন তারা বিমূর্ত বিষয়গুলো বুঝতে শেখে, বিভিন্ন প্রতিক কে বুঝতে শেখে, যুক্তি গুলোকে সাজাতে শেখে, নানান তত্ব কে সাধারন জীবনে প্রয়োগ করতে শেখে। মুখস্থ বিদ্যা মানুষের এই ক্ষমতাগুলোকে হয় ধংস করে দেয় নয়ত চিরতরে অবিকশিত রেখে দেয়।

বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষন পদ্ধতি চালু করতে হবে যেখানে প্রশ্ন করাকে প্রশ্ন তোলাকে উতসাহিত করা হবে। সাধারন ভাবেই একজন শিক্ষার্থীর মাঝে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠবে যখন সে পড়াশুনার সাথে তাঁর নিজের মন – মস্তিস্ক কে যুক্ত করতে পারবে, অর্থহীন মুখস্থ করার বদলে। এই জন্যে বস্তুগত বিষয় দিয়ে শুরু করতে হবে। এটা বোঝার জন্যে কারো কগ্নিটিভ সায়েন্স এ পি এইচ ডি করার দরকার নেই যে কম বয়স্ক ছাত্ররা সেই বিশয়গুলোকেই ভালো করে শিখতে যে বিশয়গুলো হয় তারা দেখতে পায়, ধরতে বা ছুঁতে পারে, শুনতে পারে বা শুঁকে দেখতে পারে। কোমলমতি শিশুরা যখন বড় হতে থাকে তখন তারা বিমূর্ত বিষয়গুলো বুঝতে শেখে, বিভিন্ন প্রতিক কে বুঝতে শেখে, যুক্তি গুলোকে সাজাতে শেখে, নানান তত্ত্ব কে সাধারন জীবনে প্রয়োগ করতে শেখে। মুখস্থ বিদ্যা এই মানুষের এই ক্ষমতাগুলোকে হয় ধংস করে দেয় নয়ত চিরতরে অবিকশিত রেখে দেয়।

প্রশ্নঃ তাহলে আমাদের স্বাভাবিক জ্ঞান চর্চার ধরনটি কেমন হওয়া উচিত?

প্রফেসর পারভেজঃ শিক্ষকদের উচিত এই প্রশ্নগুলো তোলা, যেমন – আমরা কিভাবে জানি? বা জ্ঞান লাভ করি? আমরা কিভাবে কোনও কিছু পরিমাপ করি? আমাদের মাপ জোখের সঠিকতা কতটুকু? কিভাবে সেটা নিসচিত করা যাবে? এসবের সপক্ষে এভিডেন্স বা প্রমানাদি কোথায়? এই সকল তথ্য – প্রমানের বা ফলাফলের অর্থবহতা কতটুকু? আমাদের এই সকল ব্যাক্ষ্যার কি কোনও বিপরীত ব্যাখ্যা আছে? কিম্বা এর চাইতে সহজ কোনও ব্যাখ্যা? শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছাত্রদের মাঝে এই ধরনের প্রশ্ন করার ও তাঁর উত্তর খোঁজার অভ্যাস গড়ে তোলা।

প্রশ্নঃ আপনি বলেছেন “কোনও মুসলিম নেতা আজ পর্যন্ত ধর্মকে বিজ্ঞান থেকে আলাদা করার কথা বলেন নি”। আপনি কি মুসলমান সেকুলারিস্টদের এমন কোনও আন্দোলন দেখছেন যেখান থেকে এই ধরনের প্রবনতার পরিবর্তন আসতে পারে?

প্রফেসর পারভেজঃ পাকিস্তানে এমন কোনও কিছু আমি দেখিনি কিন্তু ইরানে এই ধরনের কিছু ঘটনা ঘটছে। ইরান হচ্ছে এই মুহূর্তে ইসলামিক বিশ্বে বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে সবচাইতে অগ্রসর দেশ। যে শিক্ষা ব্যবস্থাটি তার দেশের জন্যে প্রকৃত অর্থেই কাজ করবে তেমন শিক্ষা ব্যবস্থাই চালু করেছে। পাকিস্থানের নেতারা যেখানে বিজ্ঞান ও ধর্মকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, সেখানে আয়াতোল্লাহ খোমেনি সুস্পষ্ট ভাবে বিজ্ঞান ও ধর্মকে বিচ্ছিন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর। এমন কি আয়াতোল্লাহ খোমেনি এও বলেছিলেন যে “ইসলামিক গণিত” বলে পৃথিবীতে কিছু নেই। এমন কি তিনি ডারউইনিজম এর বিরুদ্ধেও অবস্থান নেননি। বাস্তব সত্যি হচ্ছে ইরান হচ্ছে একটি বিরলতম মুসলিম দেশ যেখানে বিবর্তনবাদ পড়ানো হয়। এটা সম্ভবত এইজন্যে যে শিয়া মুসলিমরা সুন্নীদের চাইতে সামাজিক ভাবে অনেক উদার মনস্ক এবং বিবর্তন বিশয়ক ধারনাটা তারা সুন্নীদের মত করে বোঝেন না। শিয়া মহিলারা একটা লম্বা চাদর কিম্বা হিজাব পরিধান করেন কিন্তু অন্যান্য দেশ গুলোর মত গাঢ় কালো বুরকায় সমস্ত কিছু ঢেকে দেন না। আমি তেহরানের রাস্তায় মহিলা ট্যাক্সি ড্রাইভার দেখেছি যা নিউ ইয়র্কের রাস্তাতেও বিরল। স্টেম সেল রিসার্চের জন্যে ইরান একটি প্রথম দিককার দেশ কিন্তু জর্জ ডাব্লিউ বুশ এই স্টেম সেল রিসার্চ আমেরিকায় নিষিদ্ধ করেছিলেন।

প্রশ্নঃ পাকিস্থানের মাদ্রাসাগুলো বিশেষ করে দেওবন্দি মাদ্রাসাগুলো অগ্রসর বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা কে কতটা কঠিন বা অসম্ভব করে তুলেছে?

প্রফেসর পারভেজঃ দেওবন্দি – সালাফি – ওয়াহাবী ও এই ধরনের ধারা গুলো যুক্তি ও জ্ঞান – বিজ্ঞান ভিত্তিক কোনও ধারনা কিম্বা স্বর্গীয় কোনও বিষয়ে অনুপস্থিতি এ সকল ধারনা গুলোকে গ্রহন করার ক্ষেত্রে এখন অনুপযুক্ত। এগারোশ শতকে খাজা নিজাম উল মুল প্রথম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেওবন্দি মাদ্রাসা গুলো তাদের প্রাক-বিজ্ঞান যুগের কারিকুলামই অনুশিলন করে যাচ্ছে।এই সকল মাদ্রাসা গুলো ১৯৭০ এর পর থেকে আরো বিপদজনক হয়ে উঠেছে যখন থেকে সৌদি আরব এই অঞ্চলে ওয়াহাবী মতবাদ প্রচারের জন্যে তাদের পেট্রো-ডলার ঢালতে শুরু করেছে। হাজার হাজার মাদ্রাসা তৈরী হয়েছে সেই সময় আমেরিকা, সৌদী আরব ও পাকিস্থানের যৌথ উদ্যোগে, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আমেরিকা – পাকিস্থান ও সৌদী আরবের যৌথ জিহাদের জন্যে। সি আই এ এই সকল মাদ্রাসা কে বিনামুল্যে লক্ষ লক্ষ কুরআন উপহার দিয়েছে, আমেরিকায় ডিজাইন করা ও ছাপানো কোটি কোটি জিহাদী বই-পুস্তক এই মাদ্রাসা গুলোতে এসেছে আফগান ছাত্রদের জিহাদী করে গড়ে তোলার জন্যে। এই মাদ্রাসাগুলো শেষ পর্যন্ত তালিবানদের নার্সারিতে পরিনত হয়েছে।

প্রশ্নঃ মাদ্রাসা গুলোকে সংস্কার করার কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি?

প্রফেসর পারভেজঃ ৯/১১ এর ঘটনার পরে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ কে প্রচুর পরিমানে টাকা দেয়া হয়েছিলো আমেরিকার তরফ থেকে এই মাদ্রাসা শিক্ষা কে সংস্কার করার জন্যে। এই টাকা দেয়া হয়েছিলো মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম কে আরো বিস্তৃত করে ইংরেজী, বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার বিষয়ক শিক্ষা কে যুক্ত করার জন্যে। বিশাল অংকের টাকা খরচ করা হয়েছিলো কোনও সাফল্য ছাড়াই।এই প্রবল নারী বিদ্বেষী, আধুনিকতা বিরোধী জঙ্গী গোষ্ঠী কখনই সংস্কারকে স্বাগত জানাবেনা। পাকিস্তান রাস্ট্র আক্ষরিক অর্থেই এদের কাছে বন্দী। এরা পাকিস্তানের সব কটি বড়ো শহর কে অচল করে দিতে পারে, এদের সেই শক্তি আছে। অন্যদিকে পূর্ব আফ্রিকা, ভারত ও বাংলাদেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের মাদ্রাসাও দে্খা যাবে। রক্ষনশীলতার মাঝেও তারা কিছু সেকুলার সাবজেক্ট পড়ানোর অনুমতি দেয়। এই অঞ্চলের কোনও কোনও মাদ্রাসায় এমন কি অমুসলিমরাও পড়াশুনা করতে পারে, যা পাকিস্থানে কল্পনার অতীত।

প্রশ্নঃ আপনি বলেছেন অত্যন্ত নিম্নমানের বৈজ্ঞানিক জার্নাল প্রকাশনার কথা,ইরানে এবং অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে, এবং সেখানে যারা তাদের লেখা প্রকাশ করেন সেই সকল লেখাও অত্যন্ত নিম্নমানের। এমন কি বেশীরভাগ মুসলিম দেশগুলো অন্যের লেখা থেকে চুরি করাকেও সহ্য করে নেয়, এমন কি সেটা কোনও বই কিম্বা পি এইচ ডি থিসিসের বেলাতেও এই ধরনের চৌর্যবৃত্তি চলে। আপনার কি মনে হয় এই ধরনের ক্ষতিকর প্রবনতার কারন কি?

প্রফেসর পারভেজঃ আমি এই প্রবনতা কে বলি “পেপার পলিউশন” বা প্রকাশনার জঞ্জাল। এই সকল জঞ্জাল মার্কা প্রকাশনা ও চুরী করে লেখা বই আরটিকেল এর পাহাড়ের কারন হচ্ছে, প্রকাশনার জন্যে বিরাট অংকের সন্মানী দেয়া হয়, কি প্রকাশনা হচ্ছে সেদিকে কারো কোনও খেয়াল নেই। কিছু গবেষনায় মাঝে মাঝে সারবস্তু থাকে কিন্তু বেশীরভাগ প্রকাশনাতেই সে সবের কোনও বালাই নেই। সরকারী মহলে কিছু মানুষ বসে আছেন যারা এই ধরনের আবরজনা প্রকাশনা কে উতসাহিত করেন। বর্তমান ব্যবস্থাতেই এই ধরনের চর্চা কে বন্ধ করা সম্ভব, শুধুমাত্র যদি সকল ধরনের অর্থনৈতিক প্রনোদনা কে বন্ধ করে দেয়া যায় এবং চুরি করে বা নকল করে লেখা সকল প্রকাশনার জন্যে চরম শাস্তির বিধান রাখা হয়।

প্রশ্নঃ আপনি এটাও বলেছেন যে “এখানে কায়দ ই আজম বিশ্ববিদ্যালয়ে, পাকিস্থানের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, নাটক কে সমর্থন করা হয়না”। একি ধারা এমন কি যুক্তরাজ্যের ও কিছু স্কুলে দেখা গেছে, সেখানে এমন কি দাবা খেলাও নিষিদ্ধ, দাবা খেলাকে তুলোনা করা হয়েছে শুকরের রক্তে হাত রাঙ্গানোর সাথে। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম পরিবার থেকে আসা বহু মেধাবী শিশু – কিশোর – তরুন কে সম্ভাবনাময় অভিনেতা, সঙ্গীত শিল্পী, নাট্যকার, পরিচালক, লেখক হওয়া থেকে বঞ্চিত করে এবং করছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

প্রফেসর পারভেজঃ এখানে এখন প্রকাশ্য যুদ্ধ চলছে উদারনিতিবাদী – মধ্যপন্থী মুসলমানদের সাথে গোঁড়া মুসলমানদের। আধুনিক ও প্রথাবাদী চিন্তার মধ্যে অসমাপ্ত লড়াইটা এখন আরো ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে। মুসলমান হয়া সত্ত্বেও বেশীর ভাগ পাকিস্থানী এখন তাদের কন্যা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চায়, শিক্ষিত করতে চায় কিন্তু চরমপন্থি মুসলমানেরা চায় এ ইচ্ছাকে ঠ্যাকাতে। আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়েই ছাত্রীদের কে হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়, সঙ্গীতের যন্ত্রপাতি ভেঙ্গে ফেলা হয়, ছাত্র – ছাত্রীদের এক সাথে সামাজিক – সাংস্কৃতিক আদান প্রদানে বাধা দেয়া হয়।


প্রশ্নঃ এই ধরনের পরিস্থিতিতে কি তালিবানদের কোনও ভুমিকা আছে?

প্রফেসর পারভেজঃ হ্যাঁ, ২০০৯ সাল পর্যন্ত এরা মোট ৩৫৪ টা স্কুল বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে এবং তারা হুকুম জারী করেছে যে ২০০৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর পরে পাকিস্তানের কোনও মেয়ে শিশু স্কুলে যেতে পারবেনা। মেয়েরা ঘরে থাকবে। ২০০৯ সালের অক্টোবরে তারা একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের ক্যাফেটেরিয়ায় আত্মঘাতি বোমা হামলা চালায়, এই ঘটনার পরে পাকিস্থানের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। একই সময়ে অপর একজন আত্মঘাতি বোমাবাজ ছেলেদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে টারগেট করে।


প্রশ্নঃ ইসলামিস্টরা একটা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা মারলো?

প্রফেসর পারভেজঃ সেটাই, এই ঘটনা সারা দেশে এক ধরনের শোক ও শক এনে দিয়েছিলো। কারন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ছিলো খুবই রক্ষনশীল এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং এখানে মেয়েরা যথেষ্ট পর্দা অনুসরন করতো, তাও তাদের কে সন্তুষ্ট করেনি। মুসলমানেরাই অন্য মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। এই যুদ্ধে যদি চরমপন্থিরা জয়ী হয়, কিম্বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে, তাহলে এই অঞ্চলে আর কখনও মুক্ত চিন্তা, সৃজনশীলতা, আবিস্কার, বিজ্ঞান চর্চা এসবের কিছুই হবেনা। আধুনিক যন্ত্রপাতি কিম্বা দ্রুতগতির ইন্টারনেট আমাদের সমস্যা নয়, আমাদের মুল সমস্যা হচ্ছে চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং আমাদের পরম স্বাধীনতা অর্জন।

আধুনিক যন্ত্রপাতি কিম্বা দ্রুতগতির ইন্টারনেট আমাদের সমস্যা নয়, আমাদের মুল সমস্যা হচ্ছে চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং আমাদের পরম স্বাধীনতা অর্জন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৪ thoughts on “আমাদের মুল সমস্যা হচ্ছে চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং আমাদের পরম স্বাধীনতা অর্জন। – অধ্যাপক পারভেজ আমির

  1. আসলে বিজ্ঞানীরা আস্তিক না
    আসলে বিজ্ঞানীরা আস্তিক না নাস্তিক সেটা বিবেচ্য বিষয় নয় । কারন তারা পাপ পুণ্য পরকাল আল্লাহর কাছে জবাবদিহীতা ইত্যাদি বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত নন। তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন ওহী আসে না। এসব বিষয় নিয়ে সম্পর্কযুক্ত হচ্ছেন নবী রাসূল পায়গম্বর । তারা মানুষকে আল্লাহর বানী শুনান।
    বিজ্ঞানী মাত্রেই সঠিক তেমনটা নয়। তাদের মধ্যে মিথ্যুক প্রতারক ধর্ষক সবই আছে।
    আশা করি বিষয়টা বুঝতে পারছেন।

    1. ভাইয়া হাবশি, আমি আপনার সাথে
      ভাইয়া হাবশি, আমি আপনার সাথে একমত। তবে নবীদের মাঝেও অনেক ধর্ষক নারী লোলুপ মানুষ আছেন, যেমন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ। কি বলেন?

      1. পার্থক্য হইল বিজ্ঞানীরা
        পার্থক্য হইল বিজ্ঞানীরা ধর্ষনের স্বপক্ষে কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আবিষ্কার করে না, নবীরা কল্পিত ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে আয়াত বা বানী নাযিল করে নিজেদের অপকর্ম জায়েজ করে।

      2. ভাই সরোয়ার
        নাস্তিক; প্যাগান ;

        ভাই সরোয়ার
        নাস্তিক; প্যাগান ; মুর্তিপূজক; অগ্নিপূজকদের দৃষ্টিতে তিনি ধর্ষক; ভন্ড আর প্রতারক।
        কিন্তু বিশ্বাসী মুসলিমদের চোখে তিনি আল্লাহর রাসূল আর শেষ নবী।
        পার্থক্যটা কোথায় আশা করি বুঝতে পারছেন।

        1. জনাব হাবশী ভাই,
          পাকিস্তানের

          জনাব হাবশী ভাই,
          পাকিস্তানের এই পদার্থ বিজ্ঞানীকে নিশ্চয় আপনি ইসলামের শত্রু মনে করেন। ইসলামের খেদমেতগার তালেবানদের হাতে এই পাকিস্তানের এই বিজ্ঞানীর কতল চান আপনি।

          1. না ভায়া দুলাল
            আজকে ইসলামের

            না ভায়া দুলাল
            আজকে ইসলামের বিরুদ্ধে কেবল পদার্থবিজ্ঞানিই নন; বরং কবি; সাহিত্যিক; রাজনিতীবিদ এরা সবাই ব্লগ; ফেসবুক; মিডিয়ায় লিখা লিখি করছে।
            আর এর কারনটা হচ্ছে ইসলামের ব্যাপকতা আর এর প্রসার।
            মরা বাঘ নিয়ে কেউই মাথা ঘামায় না। ইসলাম নিয়ে সবার মাথা ঘামান প্রমাণ করে ধর্ম হিসেবে ইসলাম ১৪০০ বছর পরেও কত শক্তিশালী।

          2. জ্বি ভাই, সন্ত্রাসবাদের শক্তি
            জ্বি ভাই, সন্ত্রাসবাদের শক্তি আমরা দেখছি; কিন্তু এটাকে চিরস্থায়ী মনে করে প্রশান্তিতে ভোগার কোন কারণ নাই। অটোমান সাম্রাজ্যের শক্তি চিরস্থায়ী ছিলনা। তদ্রুপ ধর্মভিত্তিক অন্য সাম্রাজ্যগুলোর পতন হয়েছে নিয়মিত বিরতিতে। জোর করে মানবতার বিরুদ্ধে শক্তি দেখানোকে ব্যাপকতা ও প্রসারতা বলে চালিয়ে দেওয়া যায়, কিন্ত দীর্ঘস্থায়ী যে হয় না সেটার স্বাক্ষী ইতিহাস।

  2. চমৎকার একটা কাজ। ব্লগে
    চমৎকার একটা কাজ। ব্লগে বর্তমানে মেধাবী ব্লগারের সংকটের কারনে এই ধরনের কাজ আমরা পাইনা। আপনাকে ধন্যবাদ অনুবাদটির জন্য। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানভিত্তিক এমন অনুবাদ আশা করছি আপনার থেকে।

    এই ভদ্রলোক এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে পাকিস্তানের মত সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে বেঁচে আছে কিভাবে?

    1. ঠিক বলেছেন। মজার ব্যপার হচ্ছে
      ঠিক বলেছেন। মজার ব্যপার হচ্ছে এই হাস্যকর ধর্মের বিরুদ্ধে লিখা লিখি করলে খুব সহজেই সেলিব্রিটি হওয়া যায়; ইউরোপে আশ্রয়; চাকরী আর ডলার পাঊন্ড কামাই করা যায়।
      মুক্তমনা নামক একটি ব্লগ আছে। যেখানে এই হাস্যকর ধর্মের বিরুদ্ধে লিখা লিখি করে অনেক ব্লগারই সংসার চালায়।
      এবার বুঝেন ধর্মের ঠ্যালা।

  3. ১/ সারওয়ার সাহেবের কাছে
    ১/ সারওয়ার সাহেবের কাছে সবিনয়ে জানতে চাইছি — বিগত কয়েক শতকে হিন্দু, বৈধ্য, যৈন , শিখ ইত্যাদি ধর্মালম্বি বিজ্ঞানে কি কি অবদান রেখেছে?
    ২/ মুসলিমদের মধ্যে তো প্রচুর ধর্মত্যাগী নাস্তিক আছে। তারা কেন জ্ঞান- বিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না?
    ৩/ আপনার গ্রুপের (ধর্ম ব্যাসার গ্রুপ) লোকজন দুচারটা বংগানুবাদ করা ছাড়া ঠিক কি অবদান রাখতে পেরেছে; জ্ঞান- বিজ্ঞান প্রসারে?
    ৪/ পৃথীবির উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞানী বসবাস করে ইসরাইল নামক ধর্মভিত্তিক দেশটিতে; তারা কি নাস্তিক নাকি কট্টর ইহুদীবাদী?
    সদউত্তরেরে আশায় থাকলাম।

    1. যে ব্যাক্তি বিনা যুক্তি ও
      যে ব্যাক্তি বিনা যুক্তি ও প্রমাণে কোরানকে গার্বেজ ও ইসলামের নবীকে ধর্ষক হিসাবে বিশ্বাস করে ও ঘোষনা দেয় , তার কাছ থেকে সদুত্তর আশা করা বাতুলতা মাত্র। জীবনে কোন দিন কোরান বুঝে পড়েছে বা নবীর জীবণী জানতে নিরপেক্ষ ইতিহাস পড়েছে বলে মনে হয় না।

      1. ভাইয়া, আপনি যখন বলেন কোরান
        ভাইয়া, আপনি যখন বলেন কোরান হচ্ছে “কমপ্লিট কোড অফ লাইফ”, তখন কি যুক্তি প্রমাণ দেন? আর কুরআন কেনও একটি অসংলগ্ন ও অপ্রয়োজনীয় পুস্তক তা নিয়ে আমি আগে লেখালেখি করেছি। আপনি চাইলে আমরা বিতর্ক করতে পারি, কোনও সমস্যা নেই।

        আর নবীর নারী প্রীতির কথা তো আমরা ইসলামের ইতিহাসেই পাই, তাই না?

        1. আমি কোথাও {কোরান হচ্ছে
          আমি কোথাও {কোরান হচ্ছে “কমপ্লিট কোড অফ লাইফ”} বলেছি বলে মনে পড়ে না, বরং যারা এমন দাবী করে , তারা কোনদিন কোরান বুঝে পড়েছে বলে আমার মনে হয় না। আপনি কি পুরো কোরান কখনো বুঝে পড়েছেন? যদি পড়ে থাকেন , তাহলে জানার কথা কোরানের প্রথমেই (সূরা বাকারা আয়াত ২) বলা আছে কোরান আল্লাহভীরুদের জন্য দিকনির্দেশক। যতদুর বুঝেছি আপনি আল্লাহভীরু দুরে থাক , আল্লাহর অস্তিত্বই স্বীকার করেন না। সুতরাং আপনার কাছে এটাকে যে গার্বেজ মনে হবে সেটার ইঙ্গিত কোরানেই দেয়া আছে। একারনে খামাকা কোরান নিয়ে আপনার সাথে বিতর্ক করে সময় নষ্ট করার মানে হয় না।

          ইসলামের ইতিহাস আমরা যেটা জানি , সেটা কতটুকু সত্য , তা নিয়ে কখনো গবেষনা করেছেন? নাকি ধর্মান্ধদের মতো বিশ্বাস করে বসে আছেন এবং তার উপরে ভিত্তি করে কুৎসা রটনা করে চলেছেন? আপনি একজন শিক্ষিত লোক। যৌক্তিক কারনে আশা করা যায় , আপনি যখন কোন অভিযোগ করবেন , তখন মোটামুটি নিশ্চিত হয়েই করবেন।

          নারী প্রীতি ছাড়া যে পুরুষ , সে হয় নপুংশক নয় সমকামী। ইসলামের নবী আমাদের মতোই মানুষ ও পুরুষ। তার নারী প্রীতি থাকতেই পারে। কিন্তু নারী প্রীতি ও ধর্ষন নিশ্চয় এক নয়। নবী ধর্ষক ছিলেন এমনটি আমি সত্য মিথ্যা কোন ইতিহাসেই পাই নি। আপনি কোথায় পেয়েছেন?

          1. আমি কুরআন বাংলায় পড়েছি,
            আমি কুরআন বাংলায় পড়েছি, নিশ্চয়ই আপনার মতো করে “বুঝে” পড়িনি। আমি কুরআন নিয়ে কোনও অভিযোগ করিনি, আমি আমার মতামত বলেছি। এটা মুহাম্মদ রচিত একটি পুস্তক এবং আজকের যুগের মানদণ্ডে অপ্রয়োজনীয় এবং বিপদজনক।

            যুদ্ধে পরাজিত শত্রুর কন্যাকে জোর করে বিয়ে করে, তাঁর পিতাকে হত্যার রাতে তাঁকে বিবাহে বাধ্য করাটা কে যদি আপনি নারী প্রীতি বলেন, তাহলে আপনার সাথে কোনও বিতর্কের সুযোগ থাকেনা।

            আপনার চিন্তা কে স্বাগত জানাই।

          2. যুদ্ধে পরাজিত শত্রুর কন্যাকে

            যুদ্ধে পরাজিত শত্রুর কন্যাকে জোর করে বিয়ে করে, তাঁর পিতাকে হত্যার রাতে তাঁকে বিবাহে বাধ্য করাটা কে যদি আপনি নারী প্রীতি বলেন, তাহলে আপনার সাথে কোনও বিতর্কের সুযোগ থাকেনা।

            বিতর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই আপনার বর্ণীত এই কাহিনী সত্য , তাহলে ও নবী যে ধর্ষক ছিলেন তা এই কাহিনী থেকে বলা যায় না। যে সময়ে মেয়ে মানুষের জীবণের কোন মূল্যই ছিল না (যুদ্ধের সময়ে তো আরো) , সে সময়ে তিনি বিয়ে না করেও যা ইচ্ছা তাই করতে পারতেন। তারপরেও বিয়ে করেছিলেন। বিয়ে করাকে যদি ধর্ষন বলেন , তাহলে আসলেই বিতর্কের সুযোগ থাকে না। জানেন কি , বর্তমানেও মধ্য এশিয়ার কোন কোন দেশে জোর করে তুলে নিয়ে অপহরন করে বিয়ে করার সামাজিক রীতি এখনো চালু আছে?

            বাংলাদেশের বয়স মোটে ৪৫ বছর। বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস কয়জন মানুষ জানে? ১৪০০ বছর আগের ইতিহাস থেকে উদ্ধৃতি দেয়ার সময় লবন কি মিশিয়েছিলেন?

            এবার ইসলামের ইতিহাস নিয়ে আইভির ব্লগ থেকে-

            মুসলিম ইতিহাস প্রথম ইমাম তাবারীর (৮৩৯-৯২৩ খ্রীঃ) দ্বারা লিখিত হয় হিজরী তৃতীয়ের শেষ দিকে ও চতুর্থ শতক শুরুর দিকে। ইমাম তাবারী ৩১০ হিজরীতে মৃত্যূ বরন করেন। তার ইতিহাসের নথিপত্র বলতে কিছুই ছিল না। তার পুরো ইতিহাস সংরক্ষিত হয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তির শোনা কথার উপর ভিত্তি করে। আর এই ব্যক্তিগণও কেউ কোন ঘটনার সাক্ষী ছিলেননা। পুরোটাই শোনা কথা হিসেবে এসেছ তার পূর্ববর্তী এবং তারও পূর্ববর্তী এমন করে ছয় বা সাত পুরুষ আগের কারো কাছ থেকে। এমনকি তাবারী তার বইয়ের শুরুতে বলেছেন যে, যে সব অসংগত ঘটনা তিনি বর্ণনা করেছেন তার জন্য তিনি দায়ী নন বরং যারা তাকে বলেছেন তারাই দায়ী। তিনি আরও লিখেছিলেন তার পারসিক পুরোহিতমন্ডলীগণ (Magian) তাকে যে ভাবে উপদেশ দিতেন এবং তার রাজকীয় নিয়োগ-কর্তাদের আদেশ অনুযায়ী তিনি তার বই লিখেছেন। এগুলো ছাড়াও, তিনি আরো উল্লেখ করেছেন তার এসব ঘটনা বর্ণনার উৎস হারমুযান, জাফীনা এবং সা’বা বিন শামি’উন (এরা সবাই খলীফা বা ইমাম হত্যার সাথে জড়িত ছিলো) বংশধরদের কাছ থেকে এসেছে। ইমাম তাবারী একজন কাহিনীকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তার ১৩ খন্ডের ইতিহাস এবং ৩০ খন্ডের কোরানের ব্যাখ্যা তাকে ইমামদের মধে অন্যতম হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। তার এই ইতিহাস ও কোরানের ব্যাখ্যা আব্বাসীয় রাজাদের কাজ-কর্মের সাথে সামঞ্জস্য করে লিখিত। তাই সহজেই তার লেখা রাজকীয় সমর্থন পায়। তার ইতিহাস-রচনা এবং কোরানের ব্যাখ্যা রাজকীয় ভাবধারাকে আইনসিদ্ধ করে ভোগ-বিলাস, ঐশ্বর্য, দাস-দাসী, হারেমের প্রথাকে উৎসাহিত করে। তাবারী তাদেরকে ধর্মের বৈধতা দান করে নিজে অর্থ-বিত্ত ও ধর্মের ধ্বজাধারী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে মুহম্মদ বিন ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-কালীনীও একই পথের পথিক হন। তিনিও হিজরী চার শতকের শেষের দিকে এসে ইতিহাস লেখেন কোন নথিপত্র ছাড়াই শুধু শোনা কথার উপর ভিত্তি করে।

            উল্লেখযোগ্য যে ইসলামের ইতিহাসের পরিচিত ইতিহাসবিসগণের প্রায় সবাই তাবারী-কালীনী পরবর্তী যুগের। তাদের আগে কি কেউ ছিল না!! মুসলিম ইতিহাসের যে সময়টাকে স্বর্ণ-যুগ বলা হয় সে সময়ের প্রমাণ-পত্র সব কোথায়? ১৬৫ আল-হিজরীতে আব্বাসীয় বংশের খলীফা হারুন-আর-রশীদ যখন ইমাম আহমাদ বিন হানবালকে তার তথ্যের সত্যতা প্রমানের নথি-পত্র দেখাতে বলেন তার কিছুই তিনি দখাতে পারেননি। এমনকি মামুন আর-রশীদের সাথে ‘কোরান আল্লাহর বাণী না অন্য কিছু’ এই নিয়ে বিতর্কে অংশ গহণ করে বেত্রঘাত পর্যন্ত সহ্য করতে হয়েছিল। ঐ সময় অন্য কোন ইমাম তার পাশে রাজ-তন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বলেনি যে-এই আচরন অইসলামিক। ফলে, সময়ের সাথে সাথে শাসকদের স্বেচ্ছাচারিতা শক্তি অর্জন করতে থাকে।

            ইমাম আবু হানিফার শিষ্য/ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ যেমন খলীফা মো’তামিদের (২৭০ হিজরী) রাজকীয় বিচার বিভাগের একজন বিচারক ছিলেন, ইমাম তাবারীও তেমনি একজন সেসময়ের বিচারক ছিলেন। ইমাম তাবারী, খলীফা আল-মুক্তাদার বিল্লাহর ইচ্ছার অন্যতম দোসর ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায় যে ইমাম তাবারী তার পারসীয়ান পরিচয় গোপন করার জন্য নিজ নাম ইবন জরীর বিন রুস্তম ইবন তাবারী (Ibn Jareer bin Rustam Ibn Tabar) থেকে ইবন জরীর বিন ইয়াজিদ তাবারী (Imam Ibn Jareer bin Yazeed Tabari) নামে পরিচয় দিতেন। তার সম্বন্ধে অনেক বিতর্কিত খবর আছে, অর্থাৎ ইসলামের কোন দল কে (শিয়া/সুন্নী, খারীজি/অথবা জরোয়াস্ট্রিয়ান)তিনি অনুসরন করতেন। প্রচলিত আছে যে ইমাম তাবারী বিন ইয়াজিদ এবং ইমাম তাবারী বিন রুস্তম দু’জন ভিন্ন ব্যক্তি, যদিও তারা দু’জনেই জন্মেছেন একই দিনে, দু’জনেই ইতিহাসবিদ, একই শহরে বাস করতেন, একই রকম দেখতে, একই রকম পোশাক পরিধান করতেন এবং এমনকি একই দিন মৃত্যূ বরন করেন। এই ধরনের সমাপতন সত্যি বিস্ময়কর!!

          3. বিতর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই

            বিতর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই আপনার বর্ণীত এই কাহিনী সত্য , তাহলে ও নবী যে ধর্ষক ছিলেন তা এই কাহিনী থেকে বলা যায় না।

            বলপূর্বক বিবাহ ও সঙ্গম যদি ধর্ষণ না হয়, তাহলে আসলেই আপনার সাথে বিতর্ক করাটা সময়ের অপচয়।

            যে সময়ে মেয়ে মানুষের জীবণের কোন মূল্যই ছিল না (যুদ্ধের সময়ে তো আরো) , সে সময়ে তিনি বিয়ে না করেও যা ইচ্ছা তাই করতে পারতেন।

            যাক স্বীকার করছেন যে মহানবীর কাছে মেয়ে মানুষের জীবনের কোনও মূল্যই ছিলোনা, তাই তিনি জা খুশী তাই করতে পারতেন। এই জা খুশী তাই করার জন্যে তিনি অন্তত বিয়ে টা করে নিতেন। ভালো।

            মহানবীর কি বিবাহ বহির্ভূত সঙ্গী ছিলো?

            তারপরেও বিয়ে করেছিলেন। বিয়ে করাকে যদি ধর্ষন বলেন , তাহলে আসলেই বিতর্কের সুযোগ থাকে না।

            তা ঠিক, ইসলামে বলপূর্বক বিবাহ ও সঙ্গম ধর্ষণ নয়।

          4. আমি আবার কখন স্বীকার করলাম,
            আমি আবার কখন স্বীকার করলাম, যে মহানবীর কাছে মেয়ে মানুষের জীবনের কোনও মূল্যই ছিলোনা, তাই তিনি জা খুশী তাই করতে পারতেন। – আমি সময়ের কথা , তৎকালীন সমাজব্যাবস্থার কথা বলেছি , মহানবীর নয়। সততা বিহীন তর্ক , কুতর্কের সমতুল্য। ক্ষ্যান্ত দিলাম।

          5. সেটাই তো বললাম, নবী তো সেই
            সেটাই তো বললাম, নবী তো সেই যুগের মানুষ ছিলেন, সেই যুগের মূল্যবোধ হিসাবে তিনি জা খুশী করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা না করে বিবাহ করেই জা খুশী তা করেছিলেন, যেহেতু তিনি বিবাহ করে নিয়েছিলেন, সেহেতু কোনও সমস্যা নেই। এটাই তো আপনার বর্ণনার মরম, তাই নয় কি? আর আমি বলছি, পরাজিত পক্ষের নারীদেরকে তাদের মতামতের বিরুদ্ধে বিবাহ করে তাদের সঙ্গমে বাধ্য করাটা ধর্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। ধর্ষণ কি, এটা তো যুগে যুগে আলাদা কিছু নয় তাই না? আপনার বক্তব্যের মূল্য ন্যারেটিভ টা কি সেটা কি আপনিই আদৌ জানেন?

          6. ভাই সারোয়ার
            আপনি সাফিয়া রা এর

            ভাই সারোয়ার
            আপনি সাফিয়া রা এর যে ঘটনা নিয়ে মহা তর্ক করছেন , সেই সাফিয়া কিন্তু তার স্বামী কেনানার কাছে বহু আগেই মুহাম্মদ সা এর স্ত্রী হবার বাসনা পোষণ করেছিলেন এবং এজন্য তাকে মহা চড়ও খেতে হয়েছিল।
            সম্ভবত আপনি যে ইতিহাসের বই পড়েছেন সেখানে এই পাতাগুলো ছিল না। উইপোকায় খেয়েছিল।

          7. হাবশী ভাই, আমাদের প্রিয় নবীর
            হাবশী ভাই, আমাদের প্রিয় নবীর স্ত্রী হবার জন্যে সেই সময় সকল নারীই মুখিয়ে থাকতো। সেটা আমরা জানি ভাই। ইতিহাসের পাতা গুলো উই পোকা খেয়ে ফেললেও আমরা জানি যে আমাদের প্রিয় নবী একজন রমনীমোহন মানুষ ছিলেন।

    2. ভাইয়া রুশদী, আপনার কমেন্ট ও
      ভাইয়া রুশদী, আপনার কমেন্ট ও প্রশ্ন গুলোর জন্য ধন্যবাদ।

      আপনি কি বলবেন, “জ্ঞান বিজ্ঞানে অবদান” কিভাবে পরিমাপ করা হয়ে থাকে সেটা আপনি জানেন কিনা। যদি না জেনে থাকেন তাহলে এই লেখাটা আবার পড়ে দেখেন, এখানে প্রফেসর পারভেজ সাহেব ব্যাখ্যা করেছেন কিভাবে জ্ঞান বিজ্ঞানে অবদান পরিমাপ করা হয়। সায়েন্টিফিক প্রকাশনা, পেটেন্ট রেজিস্ট্রেশন, আবিষ্কার, ইনোভেশন। এখন আপনি একটু গুগোল করে দেখেন পৃথিবীতে সর্বাধিক পেটেন্ট কোন দেশগুলোর আছে আর সেখানকার মানুষেরা কি ধর্ম পালন করে। একটু গুগোল করে দেখেন। না পারলে আমাকে জানাবেন, আমি আপনাকে সাহায্য করবো।

      পৃথিবীর শীর্ষ দশটা টেকনোলজি কোম্পানি সৌদি আরব, কাটার, কুয়েত, বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে তাদের কর্পোরেট অফিস না খুলে কেনও ব্যাঙ্গালোর বা চেন্নাইতে খোলে সেটা আপনাদের মাথায় কোনদিন ও ঢুকবেনা।

      বাই দা ওয়ে, আপনে ধর্মের তালিকা থেকে খ্রিস্টান আর ইয়াহুদী দেরকে বাদ দিয়েছেন, কেনও বলবেন?

      1. বাই দা ওয়ে, আপনে ধর্মের

        বাই দা ওয়ে, আপনে ধর্মের তালিকা থেকে খ্রিস্টান আর ইয়াহুদী দেরকে বাদ দিয়েছেন, কেনও বলবেন

        আমারও একই জিজ্ঞাসা।

  4. যিনি পোস্ট করেছেন তার সাথে
    যিনি পোস্ট করেছেন তার সাথে তর্ক করে নিজের মূল্যবান সময়টা নষ্ট । ভালো লাগত যদি প্রফেসর পারভেজ কে জবাব দিতে পারতাম । তবুও খাটি বাংলায় সহজ করে হাল্কা বলছি । বিজ্ঞান আজ যতদূর এগিয়েছে আর লক্ষ্ বছর পর যতদূর আগাবে তার ফলাফল শুধুমাত্র পার্থিব জীবনের সুবিধাবহ জীবনযাপন বৈ আর কিছুই নয় । মৃত্যু পরবর্তী জীবনে এইসব প্রযুক্তি বিন্দুমাত্র ফল দেবে না । যে কোন বুদ্ধিমান মানুষ এই বিষয়ে নিশ্চয়ই একমত । জেনে রাখবেন বিজ্ঞান যদি মৃত্যু পরবর্তী চিরস্থায়ী জীবনের মুক্তি এনে দিত তবে মুসলমানরা ওটা নিয়েই পড়ে থাকতো । কিন্তু বিচার দিনের মালিক এসব সামান্য বিজ্ঞান চর্চার ধার ধারেন না । নিতি মহা বিজ্ঞানী । এমনকি তিনিই একমাত্র বিজ্ঞানী । আজ অবধী জন্ম নেওয়া পৃথিবীর সকল বিজ্ঞানীগণকে একত্রে বসিয়ে যদি বলা হয় যে অন্য যে কোন পূর্বে প্রস্তুত পদার্থের সাহায্য নেওয়া ব্যাতিত একটা বিন্দু পরিমাণ নতুন জিনিস বানিয়ে দেখাও । হউক না এক বিন্দু সিলিকন বা ধূলিকণা । পারবে ? পারবে না ।পার্থিব বিজ্ঞানের সেই ক্ষমতা নেই । এক বিন্দু ধূলিকণা যে তৈরি করতে পারেনা সে আবার বিজ্ঞানী ? বিজ্ঞান ? সুতরাং বিজ্ঞানী কেবলমাত্র মহান আল্লাহ । যিনি আপনার সূক্ষ্ম গ্রন্থিগুলো পর্যন্ত সৃষ্টি ও বিন্যাস করেছেন । পার্থিব বিজ্ঞান শুধুমাত্র রুপান্তর করতে পারে । প্রত্যেক পদার্থের মধ্যে আল্লাহ যেই গুন দিয়েছেন তা কাজে লাগিয়ে রুপান্তর করতে পারে । তৈরি করতে পারে না । মুসলমানরা এত বোকা নয় যে চিরস্থায়ী জীবনের ব্যাবস্থা বাদ দিয়ে আদা লবণ খেয়ে বিজ্ঞান সাধনায় লেগে যাবে সুধুমাত্র পার্থিব জীবনের সুখের ব্যাবস্থার জন্য । মুসলমানরা অত্যন্ত বিচক্ষন ও দূরদর্শী । কারণ আমরা মুসলমানরা বিজ্ঞানের সৃষ্টিকর্তার শিক্ষা লাভ করেছি । হ্যাঁ একথা ঠিক যে পার্থিব জীবনের সুবিধার জন্য কিংবা মেধা বুদ্ধির উৎকর্ষতার জন্য কিংবা যুগের প্রয়োজনে জ্ঞান বিজ্ঞান অবশ্যই আমরা চর্চা করবো, করতে চাই এবং করছি । কিন্তু তাই বলে ওটাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য নয় । আমাদের দূরদর্শী বিচক্ষণতা আমাদেরকে আখিরাত সম্পর্কে ভাবিয়ে তুলে । তার পাশাপাশি আমরা বিজ্ঞান চর্চা করি । সুতরাং আমি মনে করি সকল অবিশ্বাসীদের চিন্তাশক্তির মুক্তি ঘটুক । তাঁরা কেবল মৃত্যুপূর্ব জীবনের সামান্য সময়ের গণ্ডিতে আটকে আছে । বিচক্ষন তারাই যারা সুদুরপ্রসারী চিন্তা করেন ও সুদুরপ্রসারী মুক্তি চান ।

  5. নবী (স)এর স্ত্রী ও বহুবিবাহ
    নবী (স)এর স্ত্রী ও বহুবিবাহ সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো নাস্তিকদের অন্যতম ইস্যূ ।আসলে তাদের বিকৃত উপস্থাপনের কারনেই এগুলো আসলে নেতিবাচক ভাবে প্রকাশ পায় এ বিষয়ে কয়েকটি কথা

    -একটা মানুষের যৌবন ১৮ থেকে ৫০ এর মধ্যেই মূলত উদ্যমী থাকে কিন্ত রাসূল (স) এই বছরের মধ্যে ২৫ বছরে বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা খাদিজাকে বিবাহ করেন বাকীগুলো সব এই সময়ের পরে
    সুতারং এ থেকেই অনুমেয় যে রাসূল (স) কত নির্মোহ ছিলেন

  6. সারওয়ার সাহেব
    আপনি আমার

    সারওয়ার সাহেব
    আপনি আমার প্রশ্ন ১ এর উত্তর দিলেন, কিন্তু প্রশ্ন ২,৩,৪ এর ঊত্তর এড়িয়ে গেলেন। বোয়াল মাছের মত পিছলা- পিছলি করলে তো হবে না!

    1. ২/ মুসলিমদের মধ্যে তো প্রচুর
      ২/ মুসলিমদের মধ্যে তো প্রচুর ধর্মত্যাগী নাস্তিক আছে। তারা কেন জ্ঞান- বিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না?

      আমি মনে করি, নাস্তিক মানেই মেধাবী মানুষ হবেন, এটা মোটেও ঠিক নয়। নাস্তিকদের মাঝে বহু নিম্ন মেধার মানুষ আছেন। নাস্তিকদের মাঝে বহু সংবেদনহীন মানুষ আছেন। নাস্তিকতা মেধা বা নৈতিকতার গ্যারান্টি দেয়না। কিন্তু ভাই, মূল প্রসঙ্গটিতে একটু চিন্তা করুন, একটা সময়ে জ্ঞান বিজ্ঞানে পৃথিবীতে ইসলাম ও মুসলিম দেশ গুলোর অবদান ছিলো এক সময়, সেই সময়ে মুসলিম বিশ্ব আজকের মতো এতোটা ধনী সম্পদশালী ছিলোনা। প্রশ্ন টা হচ্ছে আজকে এতো অর্থ বিত্ত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ইসলামী বিশ্ব কেনও এতো পিছিয়ে?

      ৩/ আপনার গ্রুপের (ধর্ম ব্যাসার গ্রুপ) লোকজন দুচারটা বংগানুবাদ করা ছাড়া ঠিক কি অবদান রাখতে পেরেছে; জ্ঞান- বিজ্ঞান প্রসারে?

      অন্যদের কথা জানিনা, আমি আমার মেধা অনুযায়ী ভূমিকা রাখার চেষ্টা করি, আমি নিজেকে খুব মেধাবী মানুষ মনে করিনা । তবুও, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ডাটাবেইজ গুলোতে (http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/?term=Sarowar+M) আমার নাম লিখলে কয়েকটা কাজের নমুনা পাওয়া যাবে, আরও কয়েকটা প্রকাশনার অপেক্ষায় আছে। আমার যদি টাকা থাকতো তাহলে হয়তো আমার অবদান আরও দশ গুন বেশী হতে পারতো। সরি, এভাবে ব্যক্তিগত কাজের কথা বলতে আমি অস্বস্তি বোধ করি। কিন্তু আপনার প্রশ্নটা খুব সরাসরি, তাই নিজের কাজের কথা বলতে হলো।

      ৪/ পৃথীবির উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞানী বসবাস করে ইসরাইল নামক ধর্মভিত্তিক দেশটিতে; তারা কি নাস্তিক নাকি কট্টর ইহুদীবাদী?

      তাদের অনেকেই নাস্তিক। এবং তাদের একটা বড় অংশ আস্তিক। কিন্তু এই সাক্ষাৎকারটিতে প্রফেসর হুডভয় কি বলেছেন মুসলমান দের কে নাস্তিক হতে হবে? তিনি বলেছেন মুসলমানদেরকে ধর্ম থেকে বিজ্ঞান কে শিক্ষাকে আলাদা করতে শিখতে হবে। ইসরায়েল এ বিজ্ঞান, শিক্ষা ব্যবস্থা ধর্ম থেকে আলাদা। সেই জন্যেই শুধু ইসরায়েল এ এক বছরে যত বিজ্ঞানের গবেষণা হয়, ইসলামী বিশ্বে গত পাঁচশো বছরে তা হয়নি। আপনার তথ্যের জন্যে বলছি, ইসরায়েল মানুষ ১৫ পারসেন্ট নাস্তিক আর ৩৭ পারসেন্ট অজ্ঞেয়বাদী।

      আশা করি আপনার প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেয়া গেলও।

      মুশকিল হচ্ছে, এই পোস্ট টি আমার ব্যক্তিগত লেখা নয়, এটা একটা অনুবাদ। আপনারা কেউই কি এই পোস্ট এর কন্টেন্ট নিয়ে কোনও প্রশ্ন, কমেন্ট করেছেন? বেয়াদবি নিয়েন না, এটাই হচ্ছে মুসলমান মস্তিষ্কের দৌড়।

      ভালো থাকবেন।

      1. উত্তরগুলো দেবার জন্য ধন্যবাদ
        উত্তরগুলো দেবার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

        ১/

        নাস্তিকদের মাঝে বহু সংবেদনহীন মানুষ আছেন। নাস্তিকতা মেধা বা নৈতিকতার গ্যারান্টি দেয়না।

        হ্যা এটাই হচ্ছে পরম সত্য কথা। আস্তিকতা, নাস্তিকতা, ধর্ম ইত্যাদি কখনই বিজ্ঞান , মেধা বিকাশ, আবিষ্কার ইত্যাদির পক্ষের বা বিপক্ষের কোন নিয়ামক হিসেবে কাজ করে না। আর এই কারনেই আপনি যে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পত্রগুলো প্রকাশ করেছেন, একজন ধার্মিক বা আস্তিক হয়েও আপনার পক্ষে এসব গবেষণা কর্ম করা সম্ভব ছিল এবং এরকম অনেক গবেষণা কর্ম বহু ধর্মনিবেদিত মানুষেরও আছে।
        আপনি পাকিস্তানের পারভেজ আমিরের অনুবাদ করেছেন, সেই পাকিস্তানেই একজন নোবেল বিজয়ী ধর্মপ্রাণ বিজ্ঞানী আছেন যার নাম – আব্দুস সালাম। তিনি বলতেন-“there is not a single verse in the Qur’an where natural phenomena are described and which contradicts what we know for certain from our discoveries in science.”

        কাজেই পারভেজ আমিরের-

        আমি খুব প্রথম সারির কোনও মুসলিম বিজ্ঞানী কে কখনও ইসলামিস্ট হতে দেখিনি

        কথাটি কতটুকূ সত্য সেটা সুযোগ পেলে পারভেজ আমিরের কাছ থেকে যেনে নিবেন।

        ২/

        প্রশ্ন টা হচ্ছে আজকে এতো অর্থ বিত্ত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ইসলামী বিশ্ব কেনও এতো পিছিয়ে?

        হ্যা এই প্রশ্নের অনেকগুলো উত্তর আছে এবং সেগুলো টেক্সাস ইউনিভার্সিটির political science আর প্রফেসর Aaron Segal খুব নিরপেক্ষ ভাবে তার নীচের গবেষণা পত্রে উল্লেখ করেছেন। আমি নীচে লিংক দিচ্ছি। সুযোগ পেলে পড়ে নেবেন-

        Why Does the Muslim World Lag in Science?

        যেখানে মুসলিমদের পেছিয়ে থাকার পেছনে মূলত ১০ টি কারনকে চিগ্নিত করা হয়েছে–
        Demographics.
        Language
        Education.
        Research
        State-owned corporations.
        Industrial import substitution
        Professional societies.
        Resources.
        Authoritarianism
        Regional cooperation
        Government incompetence

        ৩/

        কিন্তু এই সাক্ষাৎকারটিতে প্রফেসর হুডভয় কি বলেছেন মুসলমান দের কে নাস্তিক হতে হবে?

        হ্যা তিনি তাই বোঝাতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন-
        আমাদের ফিজিক্স এর সেরা ছাত্রদের বেশীরভাগই খুবই মুক্তমনা এবং কদাচিত ধার্মিক। এই সকল ছাত্রদের যথেষ্ট মেধা ও ক্ষমতা আছে ভীড়ের থেকে নিজেদের কে আলাদা করে রাখার। আমার কলিগদের মধ্যে পেশাগত ভাবে সবচাইতে ব্যর্থরাই ধর্ম চর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন আর খোলামেলা ভাবে ধার্মিকতা দেখিয়ে বেড়ান।

        — এসব কথা বলাটা আসলে একধরনের নাস্তিক মিলিট্যান্সি।নিরপেক্ষ বিষলেষণ নয়। এসব কথায় সততা নেই। বরং চিন্তার দৈন্যতা।আমরা আপনাদের এই চিন্তা-চেতনার দৈন্যতার বিপক্ষে।

        বেয়াদবি নিয়েন না, এটাই হচ্ছে মুসলমান মস্তিষ্কের দৌড়।

        একই ভাবে আমরাও বলছি– বেয়াদবি নিয়েন না, এটাই মিলিট্যান্ট নাস্তিকদের চিন্তার দৌড়।

        1. আপনার কমেন্ট টা খুব মজার
          আপনার কমেন্ট টা খুব মজার হয়েছে। আপনি যে দশটা কারণ কপি পেস্ট করেছেন আপনি সেই শব্দগুলোর বাংলা অর্থ জানেন? একজন নাস্তিক বাঙ্গালী আর একজন আস্তিক বাঙ্গালীর মধ্যে Demography, language এর কোনও পার্থক্য আছে?

          আপনার দেয়া আর্টিকেল টা পড়লাম এবং আমি নিশ্চিত করছি আপনি আর্টিকেলটা পুরোটা পড়ে দেখেন নি। আপনার দেয়া আর্টিকেল থেকেই এখানে কোট করে দিচ্ছি, আপনি বলবেন আপনার টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ অধ্যাপক এখানে কি লিখেছেন? আপনার যদি বুঝতে অসুবিধা হয়, তাহলে আমাকে বলবেন আমি বাংলায় অনুবাদ করে দিতে পারি।

          Whatever its timing, this decline meant that Muslims failed to learn from Europe. In Bernard Lewis’s phrasing, “The Renaissance, Reformation, even the Scientific Revolution and the Enlightenment, passed unnoticed in the Muslim World.”6 Instead, Muslims relied on religious minorities — Armenians, Greeks, Jews — as intermediaries; they served as court physicians, translators, and in other key posts. With their aid, the Muslim world accomplished what is now known as a limited transfer of science and technology.

          Decline in science resulted from many factors, including the erosion of large-scale agriculture and irrigation systems, the Mongol and other Central Asian invasions, political instability, and the rise of religious intolerance. In particular, the great theologian Abu Hamid Muhammad al-Ghazali (1059-1111) used the tools of the philosophers to undermine philosophical and scientific inquiry.

          Saudi Arabia, Kuwait, and the United Arab Emirates have poured vast amounts of money into science and technology. But the research output has not matched the state-of-the-art facilities. The prevailing mentality continues to be that of buying science and technology rather than producing it.

          Fundamentalist governments in Iran and the Sudan have shown no interest in developing a specifically Islamic science. They appear more concerned about pornography or women’s attire than the teaching of quantum mechanics.

          ভাইয়া, শুধু কাট এন্ড পেস্ট করলে হবে? একটু পড়ে দেখতে হবেনা? ভেতরে কি লেখা আছে? এই লেখাটা তো পারভেজ হুডভয়ের লেখার চাইতেও আক্রমণাত্মক …

          সবচাইতে কৌতুক কর দিক কোনটা জানেন আপনার দেয়া এই আর্টিকেলটাতে ? আপনার এই নিরপেক্ষ প্রফেসর সাহেব ও অধ্যাপক পারভেজ আমির আলী হুডভয় সাহেবের লেখা থেকে পুরো একটা প্যারাগ্রাফ তুলে দিয়েছে। এইখানে দেখুন তো কি লেখা আছে –

          Pervez Hoodbhoy, a Pakistani physicist and science policy writer, identifies three broad Muslim responses to modern science.15 A small number of fundamentalist Muslims reject science for the Muslim world, seeing it as immoral and materialist; for example, a leader of the Muslim Brethren in Egypt declares epidemics to be a form of divine punishment (“God developed the microbe and kept it away from those He wished to spare”) and argues against scientific efforts to eradicate the problem.16 A larger number seek, through suitable interpretations of the Qur’an, a reconciliation between revealed truth and physical reality. A third, and perhaps predominant, faction regards religion and faith and modern science as essentially unrelated. This last viewpoint sustains the vague belief that Islam and science are not in conflict, without ever closely examining the specifics.17

          বিশ্বাসী ও ধার্মিক এর পার্থক্য বোঝেন? পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মুসলমান আছেন যারা বিশ্বাসী কিন্তু ধার্মিক নন। ইংরাজি Spirituality and religiosity শব্দ দুটি একটু অভিধানে দেখে নিয়েন। আর হ্যাঁ, উপরে যে দশ টি ইংরাজি শব্দ লিখেছেন সেই শব্দ গুলোর অর্থ ও একটু দেখে নেবেন। আপনার এই ধরনের হাস্যকর রেসপন্স দেখে সত্যি আমার নিজের সময়ের অপচয় করার কারণে খারাপ লাগছে।

          আমি আসলে আপনার দৌড় টা সত্যিই বুঝতে পারছি, আপনি অনেক অগ্রসর জ্ঞানী মানুষ । আমার ভবিষ্যৎ ব্লগ গুলোতে আপনার কমেন্ট গুলোর বিষয়ে সচেতন থাকবো। ভালো থাকবেন আমার জ্ঞানী মহাশয় মুসলিম ভ্রাতা। আমার অজ্ঞানতা নিয়ে আপনার কাছে মাথা নত করে পরাজয় স্বীকার করছি।

          1. রুশদী ভাই, কি ভেগে

            রুশদী ভাই, কি ভেগে গেলেন?

            ভেগে যাব কেন সরোয়ার সাহেব? গতকাল টি ২০ খেলার উত্তেজনায় অন্য কিছু মাথায় ছিল না। ব্লগে ঢুকে দেখলাম আপনি বিশাল চিতকার-চ্যাচামেচী শুরু করেছেন।

            আমি বলেছিলেম –

            হ্যা এই প্রশ্নের অনেকগুলো উত্তর আছে

            আপনি আমার উত্তর খেয়াল না করেই যেভাবে লাফা-লাফি শুরু করলেন তাতে আপনার ব্যাক্তিত্বের মাত্রা নিয়ে আমি সন্দিহান। আমি কিন্তু আমার মন্তব্যের কোথাও পারভেজ আমিরের সব বক্তব্যের বিরোধিতা করি নাই।আবার Aaron Segal এর সব বক্তব্যকে সমর্থনও করি নাই।বরং বলেছি Aaron Segal এর মূল্যায়ন আমার কাছে নিরপেক্ষ মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন–

            Islam is not, however, the key problem facing scientific achievement in the Muslim world. Rather, the low level of achievement results from the cumulative effect of multiple factors, and not from a single dominant cause.

            পারভেজ আমির যেভাবে আগাগোড়া ধর্মকেই লক্ষ্যবস্তু করে তার সাক্ষাতকার দিয়েছেন , তার তুলনায় Aaron Segal এর মুল্যায়নকে আমার কাছে বেশী নিরপেক্ষ মনে হয়েছে। এই যা।

            রুশদী ভাই, কি ভেগে গেলেন?

            আপনি যেহেতু এদেশের মিলিট্যান্ট মুক্তমনা গ্রুপটির প্রতিনিধিত্ব করেন, তাই আপনার কাছে নিয়ন্ত্রিত আচরনই কাম্য। তা না হলে সাধারন মানুষের কাছে প্রায় শুণ্যের কাছাকাছি থাকা জনপ্রিয়তা মাইনাসের দিকে টার্ন নিবে খুব দ্রুত।

          2. বোঝা যাচ্ছে, আপনি একজন
            বোঝা যাচ্ছে, আপনি একজন দেওবন্দী ঘরানার মোল্লা। আপনে ইংরাজি আর্টিকেল টা তো পড়েনই নাই, এমন কি এই অনুবাদ আর্টিকেলটিও পড়েন নাই।

            আপনি কি দেখাতে পারবেন, এই অনুবাদের কোথায় প্রফেসর পারভেজ ইসলাম ধর্ম কে লক্ষ্য বস্তু করেছেন? যদি ধর্মকেই লক্ষ্য বস্তু করতেন তাহলে কি তিনি ইরানের প্রসংশা করতেন? বাংলাদেশের প্রশংসা করতেন?

            আপনি যেহেতু একজন মোল্লা, তাই মৌলবাদের বিরুদ্ধে কিছু বললে আপনার চামড়ায় তা লাগে। পারভেজ হুডভয় এখানে আগাগোড়া বলেছেন, ইসলামী মৌলবাদ নিয়ে, আপনি কি এই অনুবাদ থেকে কোটেশন দিয়ে দেখাতে পারবেন যেখানে তাঁর লক্ষ্যবস্তু ধর্ম?

            এই অংশও গুলো কি ধর্মের বিরুদ্ধে?

            ইরানে এই ধরনের কিছু ঘটনা ঘটছে। ইরান হচ্ছে এই মুহূর্তে ইসলামিক বিশ্বে বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে সবচাইতে অগ্রসর দেশ। যে শিক্ষা ব্যবস্থাটি তার দেশের জন্যে প্রকৃত অর্থেই কাজ করবে তেমন শিক্ষা ব্যবস্থাই চালু করেছে। পাকিস্থানের নেতারা যেখানে বিজ্ঞান ও ধর্মকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, সেখানে আয়াতোল্লাহ খোমেনি সুস্পষ্ট ভাবে বিজ্ঞান ও ধর্মকে বিচ্ছিন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর। এমন কি আয়াতোল্লাহ খোমেনি এও বলেছিলেন যে “ইসলামিক গণিত” বলে পৃথিবীতে কিছু নেই। এমন কি তিনি ডারউইনিজম এর বিরুদ্ধেও অবস্থান নেননি। বাস্তব সত্যি হচ্ছে ইরান হচ্ছে একটি বিরলতম মুসলিম দেশ যেখানে বিবর্তনবাদ পড়ানো হয়। এটা সম্ভবত এইজন্যে যে শিয়া মুসলিমরা সুন্নীদের চাইতে সামাজিক ভাবে অনেক উদার মনস্ক এবং বিবর্তন বিশয়ক ধারনাটা তারা সুন্নীদের মত করে বোঝেন না। শিয়া মহিলারা একটা লম্বা চাদর কিম্বা হিজাব পরিধান করেন কিন্তু অন্যান্য দেশ গুলোর মত গাঢ় কালো বুরকায় সমস্ত কিছু ঢেকে দেন না। আমি তেহরানের রাস্তায় মহিলা ট্যাক্সি ড্রাইভার দেখেছি যা নিউ ইয়র্কের রাস্তাতেও বিরল। স্টেম সেল রিসার্চের জন্যে ইরান একটি প্রথম দিককার দেশ কিন্তু জর্জ ডাব্লিউ বুশ এই স্টেম সেল রিসার্চ আমেরিকায় নিষিদ্ধ করেছিলেন। –

            মুসলমানেরাই অন্য মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। এই যুদ্ধে যদি চরমপন্থিরা জয়ী হয়, কিম্বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে, তাহলে এই অঞ্চলে আর কখনও মুক্ত চিন্তা, সৃজনশীলতা, আবিস্কার, বিজ্ঞান চর্চা এসবের কিছুই হবেনা। আধুনিক যন্ত্রপাতি কিম্বা দ্রুতগতির ইন্টারনেট আমাদের সমস্যা নয়, আমাদের মুল সমস্যা হচ্ছে চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং আমাদের পরম স্বাধীনতা অর্জন। –

            আপনে যেহেতু একজন দেওবন্দী মোল্লা, তাই মৌলবাদের বিরুদ্ধে যেকোনো কথাই আপনার কাছে ধর্মের বিরুদ্ধে মনে হবে।

            আপনি আসলে টেক্সাস প্রফেসরের আর্টিকেলটা ও পড়ে দেখেন নাই, বোঝা তো দুরের কথা। আগামী সপ্তাহে এই আর্টিকেল টা অনুবাদ করে পোস্ট করবো।

            আপনি পাকিস্তানের অধ্যাপক আব্দুস সালামের উদাহরণ দিয়েছিলেন, আপনি কি তাঁকে মুসলমান মনে করেন? তাহলে আপনার মুসলমান বেরাদর দের হাত থেকে প্রাণ বাঁচানোর জন্যে তিনি কেনও দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলবেন? আমার আবারো হাসি পাচ্ছে, কারণ প্রফেসর আব্দুস সালামের যদি একজন সফল অনুসারীর নাম করতে হয়, সেটা হচ্ছেন প্রফেসর পারভেজ আমির আলী হুডভয় । এমন কি প্রফেসর আব্দুস সালামের নামে যে পুরস্কার দেয়া হয়, অধ্যাপক হুডভয় সেই পুরস্কারের ও একজন বিজয়ী। আপনে কেমন প্যাচ লাগায়ে ফেলতেছেন, দেখেছেন?

            মাথাটা পরিষ্কার কইরা একটু চেক করেন প্রফেসর আব্দুস সালাম এবং প্রফেসর পারভেজের মধ্যে কি সম্পর্কও ছিল।

            আর জনপ্রিয়তা?`যদি জনপ্রিয়তার কাঙ্গাল হইতাম তাহলে তো নাস্তিক না হইয়া, ইসলামী ওয়াজ করতাম। বিজ্ঞান দিয়া ব্যাখ্যা করতাম যে পুরুষের পায়ের গোড়ালিতে টেস্টেস্টেরন হরমোন থাকে, এই জন্যেই নবিজি পায়ের গোড়ালির উপরে প্যানট পরতে বলেছেন … !

            নাস্তিকের লেখা নিয়া হাউকাউ না কইরা, নিজেরা কিছু লেখেন, তাতে কাম হইবো বেশী।

  7. যেই নিষ্ঠা নিয়ে হাবশি গোলাম
    যেই নিষ্ঠা নিয়ে হাবশি গোলাম আর রুশদি সাহেব ইস্টিশন ব্লগে ইছলামকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে তার ইয়ে মারতেসে সেইটা যদি পড়াশোনার কাজে লাগাইতো তাইলেও মুছলিম সমাজকে দুই একটা মৌলিক গবেষণা উপহার দিতে পারতো। আর কিছু না হোক, অন্তত একটা নতুন ইছলামী রাইফেলের ডিজাইনও যদি করতো তালে আর জিহাদি ভাইদের ইহুদি নাছারাদের অস্ত্র দিয়ে ইসলাম স্বাধীন করা লাগতোনা।
    কোনঠাসা মানুষের শেষ আত্মরক্ষা হচ্ছে আক্রমণ। নাস্তিক কুপায়ে গত দুই বছরে ইছলামিস্টরা যত নাস্তিকতার প্রচার করসে, হুমায়ুন আজাদ সারা জীবন বই লিখেও আর ততসলিমা পপ্রায় চচটি ললিখেও তার সিকিভাগ করতে পারেনাই। ভাই চালায়ে যান। flying spaghetti monster (এইটাও একটা ধর্ম) অবশ্যই আপনাদের সহায় হবেন!

  8. আমার মনে হয় শিরোণামে কথাটা
    আমার মনে হয় শিরোণামে কথাটা খাটছে না , “আমাদের মুল সমস্যা হচ্ছে চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং আমাদের পরম স্বাধীনতা অর্জন”
    চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি সমস্যা নয় যাই হোক , লক্ষ্য । সমস্যা হলে বলতে হবে, “আমাদের মূল লক্ষ্য হল চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি, … “

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 7 = 14