ধর্ম বিশ্বাস ও আমাদের তরুন প্রজন্ম!

সন্তানের প্রতি মায়ের ভালবাসা যেমন কোন যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না,ঠিক তেমনি ধর্মও এমন একটি বিষয় যা আপনি সব সময় যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না।
আমি নিজে একজন যুক্তিবাদী ছেলে।কেউ কোন বিষয় বা মতামত উপস্তাপন করলে তা বিভিন্ন প্রশ্ন বা যুক্তিদিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করি।
কিন্তু আমাদের চারপাশে বিষয় রয়েছে যা আপনি সহজেই যুক্তি দিয়ে বা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তাকে অস্বীকার করতে পারবেন না।আমার মতে ‘ধর্ম’ এমন একটি বিষয় যা আমাদের অনেক যুক্তি ও প্রশ্নের উর্ধে উঠে বিশ্বাস করতে হয়।
আমরা আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন,বিধি-নিষেধ তৈরী করে নেয়>>
এখন প্রশ্ন আসতে পারে –
#ধর্মীয় নিয়ম কানুনের কি দরকার?
#কেন আমরা ধর্ম পালন করব?
যেখানে ধর্ম, পালন করতে গিয়েই যত রাজনীতি,হানাহানি,মারামারি,খুনোখুনি দলীয় সার্থেই যত ধর্মের ব্যবহার X(
এক্ষেত্রে একটি প্রচলিত উক্তি মনে পড়ে গেল ;
ধর্ম থেকেই শিক্ষা নাও,ধর্ম পালন কারীদের দেখে নয়
মুলকথা হল,আমরা দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থেই ধর্মকে ব্যবহার দেখছি,ধর্মের নামে বিভিন্ন কুলাঙ্গার আলেম! ধর্মব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থেই ধর্মকে ব্যবহার করছে।আর তাদের দেখেই কিছু শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক/ তরুন সমাজের মধ্যে ধর্ম সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে,তারা প্রতিনিয়ত ধর্মের দোষ ত্রুটি বের করতে লিপ্ত হচ্ছে,অনেক ক্ষেত্রে তা ধর্ম বিদ্বেষ বা গালাগালি পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।
এক্ষেত্রে আপনি শুধু মাত্র তাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে পারবেন না।কারণ তারা যা দেখছে,বুঝচ্ছে ও শুনছে তা থেকেই শিক্ষা নিচ্ছে।
কারণ তারা ধর্ম সম্পর্কে সঠিক ধারনা পাচ্ছে না বা যাদের উচিত ছিল জানানো তারাই নিজ নিজ স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করছে।
সব ধর্মই অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী হতে শেখায়।
আপনার মনে ধর্ম নিয়ে যে প্রশ্নগুলো তৈরী হচ্ছে বা সংশয় হচ্ছে তার উত্তর হয়ত আপনার ধর্মের মধ্যেই দেয়া আছে,আপনি হয়ত খুজে নিতে পারছেন না। :-&
ধর্মের কিছু কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক,এর মানেই তো আপনার মধ্যে বিচারবুদ্ধি রয়েছে ।
পরিশেষে,আগে নিজের ধর্ম সম্পর্কে জানুন।
তারপর নাহয় ধর্মকে অস্বীকার করবেন :ফুল:
দাগ থেকে যদি দারুন কিছু হয়,তাহিলে দাগই ভাল :ভাবতেছি:

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “ধর্ম বিশ্বাস ও আমাদের তরুন প্রজন্ম!

  1. সব প্রশ্নের উত্তর ধর্মের
    সব প্রশ্নের উত্তর ধর্মের ভিতরেই আছে। আমি তা খুজেঁ পাচ্ছি না। এটা আপনি নিশ্চিত হলেন কিভাবে? আমি যদি যুক্তি দিয়ে বিচার করে ধর্মের অসারতা বুঝতে পারি, স্বাভাবিকভাবেই ধর্মের উপর অবিশ্বাস অনিবার্য। ধার্মিক হতে হলেই যে সমস্ত যুক্তির উর্ধ্বে যেতে হবে একথা ভিত্তিহীন।

    1. সব প্রশ্নের উত্তর ধর্মের
      সব প্রশ্নের উত্তর ধর্মের মধ্যে নেই।আপনি তা খুজেও পাবেন না।
      কিন্তু আপনি কি সব বিষয়কেই অসাড় প্রমাণ করতে পারবেন?
      :ফেরেশতা:

      1. সব বিষয়কে অসার প্রমাণ না করতে
        সব বিষয়কে অসার প্রমাণ না করতে পারা এই না যে, তাকে গ্রহণ করতে হবে। যে বিষয় সম্পর্কে আমি সন্দিহান, সে সম্পর্কে আমি জানতে চেষ্টা করব। কিন্তু যুক্তিহীন কিছু কি গ্রহণ করা সঙ্গত ?

        1. ‘যে বিষয় সম্পর্কে আমি
          ‘যে বিষয় সম্পর্কে আমি সন্দিহান, সে সম্পর্কে আমি জানতে চেষ্টা করব’-আমি কিন্তু এই বিষয়টিকেই বুঝাতে চেয়েছি। :-B
          যুক্তিহীন কিছু গ্রহণের কথা বলছেন?তা গ্রহণ করার কোন ভীত্তিই নেই,কিন্তু তাই বলে তার প্রতি কোন বিদ্ধেষ ও নেই।

      2. ধর্ম একটি মৌলিক বিশ্বাস। যখন
        ধর্ম একটি মৌলিক বিশ্বাস। যখন একটি মৌলিক বিশ্বাসের মূল স্রোতধারায় শ্রেনীবিন্যাস ঢুকে পরে, তখন তা আর মৌলিক থাকে না। অর্থাত মৌলিক ধারাটির ধংস্ব সাধন হয় এবং সেই বিচারে ধর্ম অনেক আগেই ধংস্ব হয়ে গিয়েছে।

        আমাকে পৃথিবি তে যতগুলা ধর্ম আছে, এর মধ্য থেকে একটা মৌলিক ধর্ম এনে দেন, ধর্মান্ধ হয়ে নয় ধর্মদর্শী হয়ে ধর্ম পালন করবো।

        বাবা মা এর ধর্ম আমার ধর্ম হবে, এই যুক্তি টায় ভুল আছে। আমরা শুনে ধার্মিক, বুঝে ধার্মিক না।

        ধর্ম নামক যেই জিনিস আমরা পরিষ্কার ভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবো না, সেই বেপারটা আমরা জোর খাটিয়ে প্রতিষ্ঠা ও করতে পারবোনা।

        ধর্ম হোক যথাতথা কর্ম হোক ভালো। কর্মই ধর্ম, মুখের কথায় আর লেখায় ধর্ম নেই, কখনো ছিলো ও না।

        1. ‘ধর্ম হোক যথাতথা কর্ম হোক
          ‘ধর্ম হোক যথাতথা কর্ম হোক ভালো। কর্মই ধর্ম, মুখের কথায় আর লেখায় ধর্ম নেই, কখনো ছিলো ও না’
          একদম আমার মনের কথাই বললেন। :বুখেআয়বাবুল:
          আর শ্রেণি বিন্যাসের কথা বলছেন,তা হয়ত আমাদের অজ্ঞতারই ফল।
          >আপনার কথাগুলো ভাল লাগল,আশাকরি সঙ্গে থাকব। 😀

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 − = 10