ধর্ম এবং রাষ্ট্র, দুইটাই কি ধ্বংশ হবে?

ধর্ম নিয়ে লিখলেই হয়ে যায় ধর্ম অবমাননা ।এই অবমাননা জিনিস টা প্রকৃতপক্ষে কার গায়ে লাগে আমি আজ ও সেটা উপলব্দি করতে পারিনি ।ধর্ম তো একটা আপেক্ষিক বিষয়,সুতরাং যার ‘গা’ ই নেই তার তো গায়ে লাগার প্রশ্নই উঠেনা ।সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হল ইসলাম,কিন্তু আজ পর্যন্ত ধর্ম অবমাননার আঘাত রাষ্ট্রের গায়ে লেগেছে বলে রাষ্ট্র ও অভিযোগ করেনি ।অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ধর্মকে পুজি করে যারা রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক বা সামাজিক ফায়দা লুটতে চায় তারাই কালে কালে ধর্ম অবমাননার আঘাতে আঘাত প্রাপ্ত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে ।
রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের সুবিধার্থে বর্তমানে বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে এক রকম শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ।আজীবন যারা ইচ্ছায় অনিচ্ছায় কিংবা সত্যে উপলব্দিত হয়ে ধর্ম অবমাননা করে আসছেন,তারা আজ রাজনৈতিক সুবিধা ভোগের আশায় ধর্মের রক্ষক বনে গেছেন ।তাদের কথা বার্তায় মনে হয়,বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মকে তারাই এনে প্রতিষ্টিত করেছেন,ইসলামের ভাল মন্দ দেখার অধিকার তাদের ছাড়া আর কারো নেই ।বিশিষ্ট আলেম আল্লামা শফি ও বুদ্ধিজীবি ফরহাদ মজহারই উৎকৃষ্ট উদাহরন ।
পড়ুন মজহারের একটি কবিতা ।[বিবি খদিজা (কাব্যগ্রন্থঃ এবাদত নামা )
ফরহাদ মাজহার

বিবি খদিজার নামে আমি এই পদ্যটি লিখি:

বিসমিল্লাহ কহিব না,শুধু খাদিজার নাম নেবো।
প্রভু, অনুমতি দাও। গোস্বা করিও না, একবার
শুধু তাঁর নামে এ পদ্যখানি লিখিব মাবুদ ।
নবীজীর নাম? উঁহু, তার নামও নেবোনা মালিক
শুধু খদিজার নাম- অপরূপ খদিজার নামে
একবার দুনিয়ায় আমি সব নাম ভুলে যাব
তোমাকেও ভুলে যাব ভুলে যাব নবীকে আমার”।] [আল্লাহ ও মিথ্যা বলতে পারেন কিন্তু তিনি তা করেন না ___শফি]

আল কোরানের ঘোষনা অনুযায়ী ইসলাম ধর্ম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন বিধান ।মহানবী (সঃ) ১৪০০ বছর আগে এই ধর্মের প্রাতিষ্টানিক রুপ দিয়েছিলেন ।সেই থেকে বিশ্বের প্রতিষ্টিত ধর্ম গুলির মধ্যে ইসলাম ধর্ম অন্যতম একটি ধর্ম।ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম ।পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদিনার সনদ’ ও পৃথিবীর শ্রেষ্ট দিকনির্দেশনা মুলক ভাষন ‘বিদায় হজ্বের ভাষন’ এ এই ধর্মের শান্তির বার্তা গুলি প্রতিষ্টা লাভ করেছে ।কিন্তু পবিত্র কোরান, হাদিস, ইজমা, কিয়াসে শান্তি প্রতিষ্টার নির্দেশ থাকলেও মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে প্রকৃত পক্ষে কি শান্তি বিদ্যমান?ইরাক,ইরান,আফগানিস্তান,পাকিস্তান,সিরিয়া,সুদান…..,,, বাংলাদেশ কোথাও কি শান্তির লেশ মাত্র আছে?নাই!অথচ জরিপে দেখা যায় ফিনল্যান্ড,সুইজারল্যান্ড,নিউজিল্যান্ড ….,,, রাষ্ট্র সমুহে তুলনামুলক শান্তি বিদ্যমান ।ঐ সব রাষ্ট্রের রাষ্ট্রধর্ম কি ইসলাম?সেখানে কি মুসলমান সম্প্রদায় নাই?

নিজেকে একজন গর্বিত মুসলিম হিসেবেই মনে করতাম এবং আজ ও করি ।কিন্তু গর্বের বিষয়টি আর কতদিন স্থায়ী হতে পারে তা প্রতীয়মান নয় ।মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে মানুষ হত্যা,সভা সমাবেশে ঢালাও ভাবে নাস্তিক বলা,কোরান হাদিসের অপব্যাখ্যা করা,ধর্মের নামে ব্যবসা করা,কুৎসা রটনা করা,সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রন ঘটিয়ে ইতিহাস বিকৃতি করা,ধর্মের নামে প্রতিহিংসা মূলক রাজনীতি করা,ইসলামী নাম নিয়ে সুদ ব্যবসা করা,ভাংচুর,জালাও পোঁড়াও, হরতালের নামে শান্তি বিনষ্ট করা ইত্যাদি ইসলাম ধর্মে কতটুকু সমর্থন করে জানিনা তবে এটা জানি আল কোরান,আল হাদিস এসব করতে কোথাও বলেনি,মদিনার সনদের ধারাগুলিতে এসব সংযোজন করা হয়নি,বিদায় হজ্বের ভাষনে নবীজি (সঃ)এসব করতে বলেন নি ।ইজমা বা কিয়াস ও এসব সমর্থন করেনি ।

কারো কথায় বা লিখায় ইসলাম বিলীন হয়ে যাবে এটা অবিশ্বাস্য ।বরং হিংসাত্মক কর্মকান্ড,হানাহানি,মারামারি,বিভ্রান্তি ইত্যাদি পবিত্র ইসলাম ধর্মের বিকাশ কে বাধাগ্রস্থ করতে পারে,প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে বিরুধীতা করতে গিয়ে যে কেউ ধর্ম ত্যাগ করতে পারে কিংবা অন্য ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে ।কেউ যদি ধর্মকে আঘাত করে প্রকাশ্য কোন কথা বলে বা লিখে তবে মুসলমান হিসেবে এর প্রতিবাদ করা উচিৎ কিন্তু খেয়াল রাখা দরকার, প্রতিবাদের ভাষা যেন সহিংস না হয়,প্রতিবাদ করতে গিয়ে শান্তি শূঙ্খলা যেন বিনষ্ট না হয় ।সর্বপরি যে পাপের শাস্তি স্বয়ং আল্লাহ দিবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন সে পাপের শাস্তি দিতে আমরা যেন উদ্যত না হই ।আল্লাহর এখতিয়ারে কোনভাবেই আমরা যেন হস্তক্ষেপ না করি ।

পড়ুন আল কোরানের কয়েকটি আয়াত :

“…যারা ধর্ম সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করেছে ও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে তাদের কোন কাজের দায়িত্ব তোমার নেই, তাদের বিষয় আল্লাহর এখতিয়ার ভুক্ত।.. ­.” –আল কোরআন (সুরা আনআমঃ১৫৯)
“…ধর্মে কোন জবরদস্তি নেই। সৎ পথ ভ্রান্তপথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে।…” –আল কোরআন (সুরা বাকারাঃ২৫৬)
“…(ধর্ম সম্পর্কে) বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আমিই (আল্লাহ) আপনার জন্য
যথেষ্ট…” –আল কোরআন (সুরা হিজরঃ৯৫)
“…তোমাদের কাজ তো কেবল প্রচার করা, আর হিসাব-নিকাশ তো আমার কাজ…” –আল কোরআন(সুরা রাদঃ৪০)

পরিশেষে : ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার ।ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ধর্মীয় আইনেই অন্যায় ।এই অন্যায় যারা করে বা যারা এই অন্যায়কে সমর্থন করে তারা উভয়েই রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আইনে অপরাধী ।ধর্মের নামে রাজনৈতিক সুবিধা ভোগীদের শক্তভাবে প্রতিরোধ করতে হবে ।এদের হাতে ধর্ম এবং রাষ্ট্র কোনটাই নিরাপদ নয় ।ধর্ম এবং স্বাধীনতা দুইটাই আজ হুমকির সম্মুখীন । সময় এসেছে প্রকৃত ধার্মিক ও দেশ প্রেমিকের জেগে ওঠার ।
সত্যের জয় হোক ।জয় বাংলা ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “ধর্ম এবং রাষ্ট্র, দুইটাই কি ধ্বংশ হবে?

  1. দারুন লিখেছেন, তবে বলব একটু
    দারুন লিখেছেন, তবে বলব একটু সাজিয়ে লিখলে চমৎকার হতো।
    আর হ্যাঁ নবীজী যেখানে বলেছেন যে তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না এর আগে অনেক জাতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার ফলে, সুতরাং সেই হিসাবে ধ্বংস হতেই পারে।

  2. ধর্ম একটি মৌলিক বিশ্বাস। যখন
    ধর্ম একটি মৌলিক বিশ্বাস। যখন একটি মৌলিক বিশ্বাসের মূল স্রোতধারায় শ্রেনীবিন্যাস ঢুকে পরে, তখন তা আর মৌলিক থাকে না। অর্থাত মৌলিক ধারাটির ধংস্ব সাধন হয় এবং সেই বিচারে ধর্ম অনেক আগেই ধংস্ব হয়ে গিয়েছে।

    আর একটি রাষ্ট্র তখনি ধংস্ব হয় যখন তার স্বার্বভৌমত্ব পুরুপুরি লোপ পায়, সুতরাং সেই বিচারে আমাদের রাষ্ট্র ধংস্ব হয়নি, তথাপি সাময়িক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আপনার সাথে আমি সহমত যে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন ব্যবস্থাপনা ধংস্বের মুখে, সেই সাথে জনগনের জানমালের নিরাপত্তাও।

  3. নবীজী (দঃ) যেখানে বলেছেন যে

    নবীজী (দঃ) যেখানে বলেছেন যে তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না এর আগে অনেক জাতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার ফলে

    মনে হচ্ছে আমাদের দেশ সেদিকেই ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে…..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 − = 12