ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে পক্ষপাতিত্বঃ

মৌলবাদীদের মামা বাড়ির আবদার রক্ষা করতে আওয়ামী সরকার চার জন ব্লগারকে অত্যন্ত বাজে ভাবে গ্রেফতার এবং আটক করে রেখেছে । সন্দেহমূলকভাবে গ্রেফতার এর পর দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়েছে এবং গণমাধ্যমের সামনে চোর-ছ্যাচড়ের মতো উপস্থাপন করেছে; যা অত্যন্ত ঘৃন্যজনক । এ ব্যাপারে প্রশাসনের ভূমিকা দেখে বাঙলাদেশকে আফগানিস্তান থেকে আলাদা চোখে দেখা বা পার্থক্য করা খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে ।

ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে আমরা যখন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করেছি তখন কিছু অনলাইন একটিভিস্ট ও ব্লগার বিভিন্নভাবে একজন ব্লগার ( আসিফ মহিউদ্দিন ) এর মুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে । কারা এবং কেন এমন অবস্থান গ্রহন করছে তা একটু তলিয়ে দেখা যাক ।

## প্রথম পক্ষ ও প্রথম কারনঃ প্রথমত আমি অন্ধভক্ত আওয়ামী গেলমানদের কথা বলতে চাই । আসিফ মূলত বামপন্থী ব্লগার ছিল । আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন কুকর্মের বিরুদ্ধে লিখতেন এবং বিভিন্ন প্রতিবাদে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করতেন এই ব্লগার । জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে ২০১১ সালে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে তিনি লাইম লাইটে আসেন । বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা করতেও পিছপা হননি তিনি । আওয়ামী গেলমানগুলো বঙ্গবন্ধুকে ধর্ম প্রবর্তকের আসনে বসিয়ে রেখেছে । ধর্ম প্রবর্তকের কোনো সমালোচনা যেমন ছাগু বাহিনী সহ্য করতে পারেনা, তেমনি বঙ্গবন্ধুর সমালোচনাও আওয়ামী গেলমানগুলো সহ্য করতে পারেনা । গেলমানগুলো বুঝতে চায়না কেউই সমালোচনার উর্ধ্বে নয় । আজ এরাই আসিফের মুক্তির ব্যাপারে বিরুদ্ধাচারন করছে ।

## দ্বিতীয় পক্ষ ও দ্বিতীয় কারনঃ ব্লগিং এর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আসিফের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে । সেসব অভিযোগের সত্যতাও রয়েছে । আসিফ নিজ মুখে স্বীকারও করেছে অনেক সময় । বিভিন্ন কারনে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে । এসব দ্বন্দের জের ধরে একজন আরেকজনের কুৎসা রটাতে হাড়ির খবর বাজারে প্রকাশ করে ফেলেছে । আসিফের বিরুদ্ধে গুরুতর আরেকটি অভিযোগ, সে বিখ্যাত হতে চায় । অনেকে অবশ্য একে কুখ্যাত বলবেন । কুখ্যাত বা বিখ্যাত হবার কাজ মোটামুটি ১৫ আনা সম্পন্ন হয়েছে । মুক্তি পেলেই ১৬ আনা পূর্ন হবে । এখন আসিফের এই বিখ্যাত বা কুখ্যাত হবার বিষয়টি অনেকেই হজম করতে পারছেনা । এসব ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ভুলে আজ যখন সবার ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা তখন এই ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারনেই অনেকে আসিফের মুক্তির বিরুদ্ধাচারন করছেন ।

## এবার আসি তৃতীয় পক্ষেঃ এ পক্ষে রয়েছে অনলাইন ছাগু বাহিনী । এই ছাগু বাহিনীর ম্যাৎকার এর বিরুদ্ধে আসিফের লেখেগুলো ছিল প্রচন্ড ধারালো । তার লেখাগুলো ছাগু বাহিনীকে রক্তাক্ত করে তুলেছিল । ছাগুদের বিভিন্ন মতবাদ ও মতবাদের প্রবর্তকদের সমালোচনা করে উলঙ্গ করে ছেড়েছে । এরা আসিফের মুক্তির বিরুদ্ধাচারন করবে এটা স্বভাবিক ।

##চতুর্থ পক্ষ ও চতুর্থ কারনঃ এই চতুর্থ পক্ষ ও চতুর্থ কারন আমাকে খুব লজ্জা ও কষ্ট দেয় । শাহবাগে আন্দোলনের কিছু সহযোদ্ধা মনে করেন, রাজীব হায়দার ওরফে থাবা বাবা এবং আসিফের কারনে আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে । আরে ভাই শাহবাগে আমরা কেউই কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে দাড়াইনি । আমরা দাড়িয়েছিলাম রাজাকার ও জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে । এখানে কে আস্তিক, কে নাস্তিক এই প্রশ্ন আসবে কেন ? এখানে আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহনকারী ও বাঙলা মায়ের সন্তান । জামাত-শিবির ও রাজকারেরা আমাদের আন্দোলনকে ধবংস করতে, আমাদের নিজেদের মাঝে ফাটল ধরাতে নাস্তিক ইস্যু তৈরি করেছে । আর আমরা বারবারই তাদের সে সুযোগটা তৈরি করে দিয়েছি । আমরা রাজীবের লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে মঞ্চে লাশ এর জানাজা করেছি , যা রাজীবের ধ্যান ধারনার সম্পূর্ন বিপরীত ( এটা করে রাজীবকে অপমান করা হয়েছে ), আমরা নিজেদের ধার্মিক প্রমান করতে গিয়ে গণজাগরন মঞ্চে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেছি, আমরা জামাত এর অমূলক দাবিকে প্রশ্রয় দিয়েছি । যাই হোক, এতো বড় আন্দোলনের অভিজ্ঞতা নেই বলেই হয়তো আমরা ভুলগুলো করেছি ।

ঠিক তেমনিভাবে আজ যদি ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে আমরা দ্বিধাবিভক্ত হই তবে মৌলবাদীরা আবারও সুযোগ পেয়ে যাবে । তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে । এখনই এই প্রশ্নের সমাধানের সময়–‘ এই দেশ প্রগতিশীলদের হবে নাকি মৌলবাদী রক্ষনশীলদের হবে ।’

হয় এখনই নয়তো কখনোই নয় । আপনার, আমার এবং আমাদের হাতেই এর সমাধান ও উত্তর । জেগে উঠুন ঐক্যবদ্ধভাবে । আসুন সকল ব্লগারদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে পক্ষপাতিত্বঃ

  1. চার ব্লগারের মুক্তির দাবি
    চার ব্লগারের মুক্তির দাবি জানাতেই হবে আমাকে কারণ আমরা ভয়ংকর এক প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর বিপক্ষে লড়ছি। আমাদের আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ফল ঘরে তুলবে তারাই!

    1. একদম ঠিক বলেছেন আতিক ভাই ।
      একদম ঠিক বলেছেন আতিক ভাই । মীরজাফর কে যেমন ঘৃনা নিয়ে মানুষ মনে করে, তেমনি এই সরকার কে ঘৃনা নিয়ে ইতিহাস স্মরন করবে ।

  2. যদিও মানুষ ভুল করতে করতেই
    যদিও মানুষ ভুল করতে করতেই শিখে তারপরও গণজাগরণ মঞ্চ একটা সময় নিজেদের যেভাবে আস্তিক প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে গেল সেটা আসলেই দুঃখ জনক ব্যাপার। এতে করে বাংলাদেশের চিরাচরিত যে চিত্রটা আমরা সচরাচর দেখতে পাই; প্রতিটা রাজনৈতিক দল নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য সবসময়ই এই ধর্মকে ব্যবহার করে আসছে, ঠিক আমরাও আমাদের দাবি আদায়ের জন্য সেই অস্ত্রই শেষে নির্লজ্জ ভাবে ব্যবহার করা শুরু করেছি। এখন আবার এই চার জন ব্লগারের মুক্তির ব্যাপারেও সেই আস্তিক নাস্তিক ও পূর্বের ব্যক্তি রেষারেসি নিয়ে কাঁদা ছোড়াছোড়ি শুরু করে দিয়েছি। আসলে আমরা নতুন প্রজন্ম কি চাই? সেটা কি আমরা সবাই ঐক্যমতে আসতে পেরেছি? আমাদের নৈতিক অবক্ষয় ঘটিয়ে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করেই বা কি হবে আর জামাতকে নিষিদ্ধ করেই বা কি হবে? আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য কেন ধর্মের আঁচলতলে মাথা গুজতে হবে? যদি তাই হয় তাহলে তো বিচারের ভার ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দিলেই হয়! নিজেরা অন্ধকারে ডুবে থেকে অন্যকে কি আলোকিত করা যায়? আসুন আমরা সবাই সমস্বরে বলি উঠি- আমরা যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই, ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আস্তিক-নাস্তিক-ধার্মীক সকলের সমান অধিকার চাই, সব ব্লগারদের মুক্তি চাই।

    1. আসুন আমরা সবাই সমস্বরে বলি
      আসুন আমরা সবাই সমস্বরে বলি উঠি- আমরা যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই, ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আস্তিক-নাস্তিক-ধার্মীক সকলের সমান অধিকার চাই, সব ব্লগারদের মুক্তি চাই। –

  3. আজ যদি ব্লগারদের মুক্তির

    আজ যদি ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে আমরা দ্বিধাবিভক্ত হই তবে মৌলবাদীরা আবারও সুযোগ পেয়ে যাবে । তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে । এখনই এই প্রশ্নের সমাধানের সময়–‘ এই দেশ প্রগতিশীলদের হবে নাকি মৌলবাদী রক্ষনশীলদের হবে

    সহমত….

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

63 − 62 =