সুন্দরবন তাহলে কি ছবিতেই বেঁচে থাকবে???


রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সাথে প্রথম পরিচয় ঝলমলে কোন একটা রঙিন ছবিতে। এরপর টিভি পর্দায় অনেকবার দেখা। সত্যিকারের বাঘ দেখি ৫ কি ৬ বছর বয়সে রংপুর চিড়িয়াখানায়। বাবার মুখে জানা হয়, এই বাঘ একমাত্র সুন্দরবনে পাওয়া যায়। সুন্দরবন, আমাদের দেশের অনন্য সম্পদ; পৃথিবীর সবচাইতে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। সেই শৈশবেই সাধারন জ্ঞানের বইয়ের ঝলমলে রঙিন পাতায় সুন্দরবন আর বাঘের ছবি দেখতে দেখতে তন্দ্রালু চোখে মাঝেমাঝেই যে ওই বনে হারাইনি তা নয়। কৈশোরে জিম করবেট পড়তে গিয়ে কতবার নিজেকে জিম করবেটের জায়গায় বসিয়ে সুন্দরবনে পয়েন্ট টু বোরের রাইফেল নিয়ে মানুষখেকো শিকারে গিয়েছি সেটা না হয় কিশোরবেলার ফ্যান্টাসী হিসেবে গোপন থাক। কিন্তু, সত্যি সত্যি কখনো সুন্দরবন আমার যাওয়া হয়নি। সাধ-সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় হয়নি বলে। ভেবে রেখেছিলাম, একদিনতো সময়-সাধ্যে কুলিয়ে যাবে। কিন্তু সেদিন আমি কি আদৌ সুন্দরবন দেখতে পারব?
রামপালে নির্মিত হতে যাচ্ছে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র। সুন্দরবনের মাত্র ১৪ কি.মি এর মধ্যে এই বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মিত হলে সুন্দরবনের উপর কি প্রভাব পড়বে সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বছরে সাড়ে ৯ লক্ষ টন ছাই উৎপন্ন হবে, সেই ছাই জমে জমে ছাই পুকুর ভর্তি হবার পর সেই ছাই ভেসে বেড়াবে বাতাসে, দূষিত করবে পরিবেশ। ছাই ধোয়া পানি চুইয়ে ভূ-গর্ভে প্রবেশ করে দূষিত করবে পানি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, যানবাহন, নির্মাণ কাজ, পরিবহন, ড্রেজিং ইত্যাদি কাজে যে ব্যাপক শব্দ দূষণ হবে তা থেকে সুন্দরবন রক্ষা পাবে কি করে?
হ্যাঁ, একদিন ঠিক যাওয়া হবে সুন্দরবন দেখতে। ছবিতে দেখা সুন্দরবন না, একটা ধূসর মৃতপ্রায় জঙ্গল দেখতে। বাচ্চারা বিরক্ত হয়ে বলবে, বলেছিলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট দেখাবে, এত দেখি লোকালয়ের পাশে একচিলতে সুন্দরী গাছের জঙ্গল। এখানে পাখি, কুমির, সাপ, বাঘ কই? মাথা তুলে কিছু বলতে পারব না। তাদের আমি বলতে পারব না টাকা আর স্বার্থের জন্য একদল মানুষ এই বন বিকিয়ে দিয়েছিল। তারা যদি জিজ্ঞাসা করে বসে প্রতিবাদ হয়নি কেন? আমি কিছুই বলতে পারব না।
এই লজ্জা পাবার থেকে বাঁচার জন্য কিছুই কি করা যায়না? যে সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য বানাতে উঠে পড়ে লেগেছিলাম এবার সেই সুন্দরবনকে বাঁচাতে আমাদের কি কিছুই করার নেই?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “সুন্দরবন তাহলে কি ছবিতেই বেঁচে থাকবে???

  1. কিন্তু সরকার এর এই সুন্দরবনে
    কিন্তু সরকার এর এই সুন্দরবনে ইলেক্ট্রিক প্ল্যান্ট প্রজেক্ট একটি প্রথম শ্রেনীর অদুরদর্শিতা।

  2. আমাদের যেন কিছুই করার নেই।
    আমাদের যেন কিছুই করার নেই। সরকার, বিরোধী দল, দেশ বিরোধী রাজাকারের দল, যার যা ইচ্ছা করে যাবে আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখব। দেশটা ওদের কাছে ইজারা দেওয়া। :মাথাঠুকি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

87 + = 92