১৭ মার্চ ১৯৯২ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের এক কালো দিবস

ইসলামী ছাত্র শিবির, একটা প্রতিষ্ঠিত সন্ত্রাসী সংগঠন। তাদের মূল দল জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী প্রধান দল। সেই সময়ে জামাতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠনের নাম ছিল ইসলামী ছাত্র সংস্থা। জেনারেল জিয়ার আমলে ১৯৭৭ সালে পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা ইসলামী ছাত্র শিবির নামে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করে এবং মূল ধারার রাজনীতি করার সুযোগ পায়। পরবর্তীতে স্বৈরশাসক এরশাদের ছত্রছায়ায় লালিত পালিত ইসলামী ছাত্র সংঘের বাংলাদেশী ভার্সন ছাত্র শিবির আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে নামে তাদের শক্তি প্রদর্শনে। ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজের সোহরাওয়ার্দী হলের ১৫ নম্বর কক্ষে শিবিরের কর্মীরা ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ও মেধাবী ছাত্র শাহাদাত হেসেনকে জবাই করে হত্যা করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে হাত পায়ের রগ কেটে হত্যার রাজনীতির সূচনা করে। এর পরে ১৯৮৬ সালে চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের প্রভাবশালী নেতা আব্দুল হামিদ এবং ১৯৮৭ সালে কারমাইকেল কলেজের জাতীয় ছাত্রলীগ (বাকশাল সমর্থিত) নেতা আব্দুস সবুরের হাত কেটে নিয়ে কর্তিত হাত বল্লমের ফলায় গেঁথে উল্লাস প্রকাশ করে এবং নৃশংস রূপে আবির্ভূত হয় শিবির।

(শহীদ ইয়াসীর আরাফাত পিটু)

শিবিরের তেমনি এক নৃশংসতার সাক্ষী হয়ে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণ আদালতে একাত্তরের ঘাতক-দালালদের বিচারের দিন যতই এগিয়ে আসছিল ততটাই মরিয়া হয়ে উঠছিল ৭১ এর পরাজিত শক্তি জামাত-শিবির চক্র। তারই অংশ হিসাবে এই সন্ত্রাসী সংগঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের একটা হামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি ছিল খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। তেমনি এক সময় ১৭ মার্চ ১৯৯২ ইং, ফাকা ক্যাম্পাসে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রগতিশীল ছাত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উপর পুলিশের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের বর্বরোতম হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষের ছাত্র শহীদ ইয়াসীর আরাফাত পিটুকে। আহত করা হয় শতাধিক ছাত্রকে। গান পাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় বিভিন্ন হল।

যাই হোক বলছিলাম রাবির ইতিহাসের এক কালো দিবসের কথা। সেই প্রসঙ্গে ফিরে যাই। ১৯৯২ এর ১৭ মার্চ জাসদ সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (না-শ), ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়নসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না, তৎকালীন জিএস রুহুল কুদ্দুস বাবু, ছাত্র মৈত্রী নেতা সাদাকাত হোসেন বাবুল খান, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ও সিনেট সদস্য আব্রাহাম লিংকনসহ ৬০ জন প্রগতিশীল নেতা কর্মীর নামে শিবির কর্তৃক দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে রাজশাহী শহরের সাহেব বাজার বড় রাস্তায় প্রতীক অনশন কর্মসূচীর ডাক দিয়েছিল। সেই কর্মসূচী সফল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা যখন ক্যাম্পাস থেকে শহরে যায়। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচী পালন শেষে সবাই মিছিল করে যখন ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন তখন শান্তিপূর্ণ সেই মিছিলের সামনে থাকা মেয়েদের সাথে পরিকল্পিতভাবে অসদাচরণ করে পুলিশ। এতে ছাত্রদের সাথে পুলিশের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে পুলিশ সেই মিছিলে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে মিছিল কারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ফিরতে থাকে। কিন্তু শহরের সেই ঘটনার সাথে সাথেই ফাকা মাঠে বিনা বাঁধায় সকল আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের দখল নেয় চট্টগ্রামের কুখ্যাত সিরাজুস সালেহীন বাহিনীসহ কয়েক শত সশস্ত্র বহিরাগত শিবির সন্ত্রাসী । আর এই কাজে তাদের সহযোগিতা করে তখনকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এমএ মতিনের পুলিশ বাহিনী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলাভবন থেকে ক্লাস করে বের হওয়া রাষ্ট্র বিজ্ঞান ১ম বর্ষের ছাত্র বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (না-শ) নেতা ইয়াসীর আরাফাত পিটুকে রোজা রাখা অবস্থায় ভিসির বাস ভবনের সামনে বুকে এবং পায়ে গুলী করে হত্যা করে জামাত শিবির চক্র ও তাদের দোসর পুলিশ বাহিনী। এসময় বুকে গুলিবিদ্ধ হন সেই সময়ের রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা নেতা মনোয়ার রুশো (এম এম রুশো, পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি)সহ আরও দুই ছাত্রনেতা।

শুধু পিটুকে হত্যাই নয় সেদিন শিবির সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন জাসদ ছাত্রলীগের আইভি, নির্মল, লেমন, রুশো, জাফু, ফারুক, আমীর আলী হল ছাত্র সংসদের জি এস প্রিন্স এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রাজেশ সহ প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। এদের অধিকাংশেরই হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া হয় এবং রাজেশের কব্জি কেটে ফেলা হয়। এই হামলার সময় শিবির ক্যাডাররা এস এম হল, আমির আলী হল এবং লতিফ হল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ব্যাপক আকারে গান পাউডারের ব্যবহার করায় হলের জানালার কাঁচগুলো গলে গিয়েছিলে। লতিফ হলের অনেকগুলো কক্ষ দীর্ঘ দিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। পুরো ক্যাম্পাস জুড়েই সেদিন তাণ্ডবলীলা চালায় শিবির সন্ত্রাসীরা। এই হামলার তীব্রতা এতই ছিল যে, বেলা ১১টায় শুরু হওয়া হামলা বিকেলে বিডিআর নামানোর আগ পর্যন্ত বন্ধ হয়নি।

এই ন্যক্কার জনক ঘটনার পরে তৎকালীন পাঁচ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতা হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেননসহ একটা প্রতিনিধি দল রাজশাহী সফর করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরে ঢাকায় এসে সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে পাঁচ দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতার ২১ বছর পরে আবারও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে শিবিরের ধ্বংসযজ্ঞ।

১৭ মার্চ ১৯৯২, রাবির ইতিহাসে রচিত হয় এক কালো অধ্যায়। মূলত সেদিনের তাণ্ডবের পর থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কাম্পাসে তাদের একক আধিপত্য বিস্তারের পথ উন্মোচিত হয়। পরে ১৯৯৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর শিবির সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় ছাত্রদল নেতা বিশ্বজিৎ, সাধারণ ছাত্র নতুন এবং ছাত্র ইউনিয়নের তপন সহ ৫ জন ছাত্র নিহত হয়। একই বছর ১৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শেরেবাংলা হলে বহিরাগত সশস্ত্র শিবির ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে ছাত্র মৈত্রী নেতা বিশ্ববিদ্যালয় টিমের মেধাবী ক্রিকেটার জুবায়ের চৌধুরী রিমুকে হাত-পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এভাবেই ধীরে ধীরে রাবি ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ শিবিরের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সর্বশেষ ২০১০ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতা ফারুককে হত্যার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উৎখাত হয় তারা। সেই সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে এবং তাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার হলে কোন ঠাসা হয়ে পড়ে সন্ত্রাস নির্ভর সংগঠন ছাত্র শিবির। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হওয়ার ধারাবাহিকতায় কয়েকজন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের সাজা হওয়ার প্রেক্ষিতে আবারও মরিয়া হয়ে উঠছে শিবির। গত কয়েক মাসে দেশব্যাপী তাদের তাণ্ডব সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নাই। বিশেষ করে সিটি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাঁরা বোমা ও গুলিবর্ষণ করে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে তারা।

যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, যে স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নে প্রাণ দিয়েছেন শহীদ পিটু, সেই মৌলবাদী ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা কারীদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান। অবশ্যই এই বাংলাদেশে একদিন ঐ সব দালালদের বিচার হবেই। বাংলার মাটিতে রাজাকার, আলবদরদের ঠাই নাই। বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত একাত্তরের ঘাতক দালালদের বিচার কাজ সম্পন্ন করা হোক।

(গুরুতর আহত আমীর আলী হলের জিএস জাসদ ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্স ও লিটন)

পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রত্যাশী সকলকে এই বিচার সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। যে কোন মূল্যে এই বিচার প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত করার বিশেষ মিশনে আজ মাঠে নেমেছে একাধিক মুখোশ ধারী সুবিধাবাদী দালাল। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের রক্ষায় আজ এমনই বেহায়া ও নগ্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছে যে মুখোশের আর দরকার মনে করছেনা এক “বীর মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডারের স্ত্রী”। অবশ্য এই মুখোশ অনেক আগেই উন্মোচিত হয়েছে এদেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাছে। বিভিন্ন ভাবে দেশকে বিশৃঙ্খল করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশের মুক্তিকামী সচেতন ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সকল ভেদাভেদ ভুলে, সকল অহমিকা ত্যাগ করে প্রগতিশীল শক্তির বৃহত্তর ও কার্যকর ঐক্যই পারে বাংলার মাটি থেকে ইয়াহিয়া, আইয়ুব, রাও ফরমান, নিয়াজীদের প্রেতাত্মাদের সমূলে উচ্ছেদ করতে।

বাঙ্গালী বীরের জাতি। যুগে যুগে ক্ষুদিরাম, সূর্য সেন থেকে চট্টগ্রামের শাহাদাত, রাজশাহী মেডিকেলের শহীদ জামিল আক্তার রতন, সিলেটের শহীদ মুনীর, জুয়েল, তপন, নূতন, রাবির শহীদ পিটু, রিমু, ফারুক, রাজশাহীর মুকিমরা নিজেদের জীবন দিয়ে এই সত্য প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন। আজ জাতির প্রয়োজনে আসুন আরও একবার হাতে হাত রাখি, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করি, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ এর চেতনায়। আবারও সংগঠিত হই ইস্পাত দৃঢ় মানসিকতায়, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের শুরু করা কাজ শেষ করার লক্ষে। অবশ্যই এই বাংলায় দালালদের বিচার হবে। “বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাটি, বুঝে নিক দুর্বৃত্ত, বুঝে নিক দালাল আলবদর, রাজাকাররা। বুঝে নিক দালালদের রক্ষায় ব্যস্ত রাজাকার, জামাত, শিবিরের পোষক প্রভুরা। বুঝে নিক ইতিহাসের আস্তাকুড় থেকে তুলে এনে কুখ্যাত রাজাকার শাহ্‌ আজিককে প্রধান মন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত করে যাওয়া সেই সব তথাকথিত ‘পাকিস্তান পন্থী মুক্তিযোদ্ধার’ বংসদবদেরা”।


(পিটু হত্যা প্রসঙ্গে ঘাদানিক এর বক্তব্য)

(রাবির ১৭ মার্চের সেই নারকীয় তাণ্ডবের পরে কেন্দ্রীয় গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্য “জাগো স্বদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়” নাম দিয়ে একটা বিশেষ বুলেটিন প্রকাশ করে। এখানে সেই পত্রিকার কিছু ছবি এ্যাড করে দিলাম। )

শহীদ ইয়াসীর আরাফাত পিটু ছিলেন বহুমুখি প্রতিভার এক উচ্ছল, প্রাণবন্ত, দুর্দান্ত তরুণ। তাঁর সংক্ষিত একটা জীবনী পড়তে পারেন নীচের লিংকে।

Posted by Riyadh Anwar Shubho on Sunday, May 9, 2010

ফটো ক্রেডিটঃ
শাহ্‌ রিয়াদ আনোয়ার
সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও রংপুর জেলা সভাপতি (২০০৩-০৫)
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ)।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪২ thoughts on “১৭ মার্চ ১৯৯২ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের এক কালো দিবস

  1. এ ইতিহাসগুলো মানুষ ভুলে
    এ ইতিহাসগুলো মানুষ ভুলে যাচ্ছে।দেখুন না এরা সামনে এরা আর কী করে।এরা তাদের বদ আলেমদের দ্বারা জুম্মার খুতবায় বিষ ঢালে সাধারণের অন্তরে তৈরি করে হেফাজতের মত সমাবেশ।এরপর গত বছর ঈদের পর এরা মাঠ গরম করেছে ।

    1. দিন সাতেক আগে এক বড় ভাইয়ের
      দিন সাতেক আগে এক বড় ভাইয়ের বাবার মৃত্যুর পরে মিলাদে গিয়েছিলাম। সেই বড় ভাই বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির রংপুরে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন গত টার্মে এবং রংপুর গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম প্রধান সংগঠক। তো এক মসজিদে সেই মিলাদের ইমাম মোনাজাতের সময় কি সুন্দরভাবে অবলীলায় বলে গেলো “হে আল্লাহ তুমি শাহবাগী নাস্তিকদের হেদায়েত কর”!! এই হচ্ছে আমাদের আলেম সমাজ যারা একজন ব্যক্তির পিতা মারা যাওয়ার পরেও তাঁকে নিয়ে মসজিদে বসে খোঁচা দেয়।

  2. স্টিকি করার অনুরোধ ।
    লেখককে

    স্টিকি করার অনুরোধ ।

    লেখককে অজস্র ধন্যবাদ জানাই।ছবি, পেপারকাটিং, ক্যাপসনের সমন্বয়ে চরম সত্য ও আড়ালে থেকে যাওয়া বিষয়গুলিকে খুব সুন্দর ও নিখুতভাবে আলোকপাত করেছেন।

    আসুন এদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই ।

  3. এই পশুগুলো স্বাধীনতার পর থেকে
    এই পশুগুলো স্বাধীনতার পর থেকে সকল সরকারের পৃষ্টপোষকতা নিয়েই সকল অপকর্ম থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। ইতিহাসের নির্মমতাকে তুলে আনার জন্য পোস্টদাতাকে ধন্যবাদ।

    1. ধন্যবাদ চন্দ্রবিন্দু। এদেশে
      ধন্যবাদ চন্দ্রবিন্দু। এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পাওয়ার পর থেকে দুই টার্মে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় বাদে প্রতিটা সরকার এদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছে। লালন পালন করেছে। এছাড়া পাঁচ বছর তো তারা সরাসরি রাষ্ট্র ক্ষমতায়ও ছিল।

  4. এরূপে ইতিহাসের স্মৃতিচারণ হতে
    এরূপে ইতিহাসের স্মৃতিচারণ হতে থাকলে, জাতি একদিন অবশ্যই জাগবে এবং এসব পাকি বংশভুতদের এদেশ থেকে বিতারতি করবেই……….লেখার জন্য ধন্যবাদ…..

  5. সত্যের জয় অনিবার্য…
    এইভাবেই

    সত্যের জয় অনিবার্য…
    এইভাবেই হায়েনাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে!
    উত্তর বাংলা -কে অফুরন্ত ধন্যবাদ এইভাবে সত্য জানানোর জন্য!! :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  6. শিবির মানেই
    শিবির মানেই শামস,বদর,রাজাকার!
    শিবির হায়েনাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। পোস্ট টি এক্ষেত্রে অনেক সহায়ক। লেখককে ধন্যবাদ।

  7. বিশ্বাস রাখি, স্বাধীনতার
    বিশ্বাস রাখি, স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় তরুন সমাজ সোচ্চার থাকলে এই দেশ একদিন কলংক মুক্ত হবেই।জয় বাংলা ।

  8. গতকাল দৌড়ের উপ্রে ছিলাম তাই
    গতকাল দৌড়ের উপ্রে ছিলাম তাই ছোট মন্তব্য দিয়ে ভাগছিলাম। কিন্তু লেখাটা বিস্তারিত আলোচনার দাবী রাখে। লেখাটা আমাকে বিশেষ করে টেনেছে, কারন এইসব ঘটনা যখন ঘটে তখন আমি ছোট হলেও আমার মেজো ভাই তখন রাবির ছাত্র। মেজো ভাই বাসায় এসে এসব গল্প করত। আমি হা করে শুনতাম। শুনে শুনেই শিবির নামক এই বেজন্মা দলের প্রতি শিশুকাল থেকেই ঘৃনা তৈরি হয়েছে। পোস্টের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। এইগুলো হচ্ছে ব্লগের আইকন পোস্ট। এরকম আরও লেখা চাই আপনার কাছে।

    1. ধন্যবাদ ভাই। এই পিটু ছিল আমার
      ধন্যবাদ ভাই। এই পিটু ছিল আমার খুব কাছের বন্ধু, এক সাথেই ভর্তি হয়েছিলাম রাবিতে। খুব সিরিয়াসলি ছাত্র রাজনীতি করতো। পিটু মারা যাবার ছয় মাস আগে ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ রংপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারায় আমাদের আর এক বন্ধু শহীদ হাবিব। তো হাবিব মারা যাওয়ার পরে খোলা শোক বইয়ে পিটুর শোক বানীটা দেখেন — সেকি জানত ছয় মাস পরে তাঁর জন্যও শোক বই খুলতে হবে!!

  9. জামাত শিবির এক বর্বরতম দল।
    জামাত শিবির এক বর্বরতম দল। এরা আবার ক্ষমতায় আসলে দেশে রক্তের হোলি শুরু হবে।
    কিন্তু মূর্খ বাঙালি বুঝে না ।

  10. আপনাকে।
    আমাদের প্রগতিশীলদের

    :salute:
    আপনাকে।
    আমাদের প্রগতিশীলদের প্রতি আকূল আবেদন দয়া করে থিওরি না কপচাইয়া, জোট বাধেন,এক হন,আসেন সবাই মিলে জামাত শিবির সহ মৌলবাদীদের এই দেশ থেকে বিতাড়িত করি। আসেন সবাই আবার এক হই।
    হোক না আর একটা একাত্তর। তাইলে আগামী প্রজন্মের বেচে যাবে। আমরাও মরে যেয়ে বেচে যাব।
    এই ধ্বজভঙ্গ সমাজে আর ভাল্লাগেনা!!!

    1. ভাই, এই মুহূর্তে আমাদের যা
      ভাই, এই মুহূর্তে আমাদের যা করণীয় তা আমরা ঠিকই বুঝি বুঝে না শুধু নীতিনির্ধারকরা। এটাই সমস্যা। এই লেখাতেই আমি লিখেছি —

      সকল ভেদাভেদ ভুলে, সকল অহমিকা ত্যাগ করে প্রগতিশীল শক্তির বৃহত্তর ও কার্যকর ঐক্যই পারে বাংলার মাটি থেকে ইয়াহিয়া, আইয়ুব, রাও ফরমান, নিয়াজীদের প্রেতাত্মাদের সমূলে উচ্ছেদ করতে।

      কিন্তু কেউ যে আমরা স্যাক্রিফাইজ করতে রাজী না। আমাদের কাছে দেশের থেকে দল বড় হয়ে যায় এখন। ধন্যবাদ।

    1. এদের নির্মূল করা কিন্তু খুব
      এদের নির্মূল করা কিন্তু খুব কঠিন না, যদি সত্যিকার অর্থেই এদেরকে নির্মূল করার মানসিকতায় আমরা মাঠে নামি। একটা কথা জানবেন, আমরা যাই দেশের টানে, মুক্তিযুদ্ধের টানে। আর শিবির-জাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা তাঁরা “আমরা সবাই মরতে রাজী, মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী” তাঁরা কিন্তু নামে দলীয় চাকুরীর স্বার্থে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে জানের মায়া তাদেরই বেশী। কিন্তু কেন জানি আমরা আর সেই নব্বইয়ের দশকের মতো গর্জে উঠতে পারছি না। লেজুরবৃত্তির রাজনীতিই সব কিছুর মুলে।

  11. জামাত-বিএনপি’র পুনরায় ক্ষমতায়
    জামাত-বিএনপি’র পুনরায় ক্ষমতায় আসার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে মনে! এক্ষেত্রে হাটে-মাঠে-ঘাটে-কর্মক্ষেত্রে সর্বত্রই আমাদের আরও সোচ্চার হওয়া জরুরী।

    1. ভাই একটা কথা বলি কিছু মনে
      ভাই একটা কথা বলি কিছু মনে করিয়েন না প্লীজ। আমাদেরকে কিন্তু এখন পজেটিভ হতে হবে। অন্তত পক্ষে প্রকাশ্যে বা পাবলিক কোন ফোরামে আমাদেরকে মানসিক দৃঢ়তা দেখাতে হবে। জোর গলায় বলতে হবে এই বাংলার মানুষ আর কোন দিন রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা উঠাতে দেবে না। দেবে না। দেবে না।

      1. জোর গলায় বলতে হবে এই বাংলার

        জোর গলায় বলতে হবে এই বাংলার মানুষ আর কোন দিন রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা উঠাতে দেবে না। দেবে না। দেবে না।

        সহমত। মনে থাকবে কথাটা। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  12. আপনার লেখাটা পড়ার সময় করে
    আপনার লেখাটা পড়ার সময় করে উঠতে পারছিলাম না । আজ পড়ে শিবিরের নারকীয় তাণ্ডবের কথা পুনরায় মনে পড়ে গেল । আপনি স্বল্প পরিসরে মূলত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরেছেন । এরকম সারা দেশে প্রায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে । এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের তাণ্ডব আলোচনায় আনা খুব দরকার ।

    সেই সময়ে জামাতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠনের নাম ছিল ইসলামী ছাত্র সংস্থা।

    —- ছাত্র সঙ্ঘ নাম ছিল মনে হয় । যদি তাই হয়, সম্পাদনা করে দিয়েন ।
    আর আপনাকে ধন্যবাদ এমন একটা বিষয় আমাদের সামনে তুলে ধরার জন্য । এরকম গবেষণা ধর্মী লেখা ব্লগের মান অনেক উপরে তুলে দেয় । আরও এমন লেখা পাব আশা রাখি ।

    1. ডেফিনিটলি ইউ আর রাইট। আমার
      ডেফিনিটলি ইউ আর রাইট। আমার এতো বড় ভুল হওয়ার কথা না, কোন ভাবে অসতর্কতার কারণে হয়ে গেছে, আমি দুঃখিত। অবশ্যই তখন তাদের সংগঠনের নাম ছিল “ইসলামী ছাত্র সংঘ”। ধন্যবাদ এইটা নজেরে আনার জন্য।

      1. আরে ব্যাপার না । এরকম হতেই
        আরে ব্যাপার না । এরকম হতেই পারে ।
        আপনাকে আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন পরিশ্রমী পোস্ট দিয়ে
        আমাদের জানার সীমানাকে বিস্তৃত করার জন্য ।

  13. জোর গলায় বলতে হবে এই বাংলার

    জোর গলায় বলতে হবে এই বাংলার মানুষ আর কোন দিন রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা উঠাতে দেবে না। দেবে না। দেবে না।

    বলতে হবে নয়, আমি নিয়মিতই বলে থাকি আসুন সবাই এ চর্চা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাই…

  14. অনেক অনেক ধন্যবাদ এই পোষ্টের
    অনেক অনেক ধন্যবাদ এই পোষ্টের মাধ্যমে তাদের আসল চেহারা তুলে ধরার জন্য। অনেক কিছু জানা ছিল না।

    1. ধন্যবাদ রইসউদ্দিন রাশু ভাই।
      ধন্যবাদ রইসউদ্দিন রাশু ভাই। এই ব্লগেই আনিস রায়হান এর লেখা পোস্ট আছে “সহি শিবিরনামা”, সেটা পড়তে পারেন। অনেক বিস্তারিত পোস্ট। ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − = 12