আমার আকাশে ফানুস আমিই উড়াই

আকাশ টা আমার আমি উড়ে বেড়াই । দেখা হয় কিছু স্বজাতি পাখিদের সাথে বা কখনো আরও অনেক দের সাথে ।আমি কখনো মাটিতে পা রাখিনি ছুইনি ভেজা ঘাশের আস্তরণ । বাড়ি ঘর নেই থাকি অন্যের বাসায়। মাঝে মাঝে বিরক্ত হই ধুলা বালি আর বিশেষ করে যখন ডাউশ আকারের কালো নীল হরেক রকমের পলিথিন আমার আকাশে উড়ে । শহরের কালো ধুয়া আমি সহ্য করতে পারি না তাই তো অনেক দিন হল শস্য ভরা শবুজ মাঠ পানি পূর্ণ দীঘির ঘাঁট ক্ষণে ক্ষণে লোকের হাঠ এদের মাঝে যে বিশাল তাল গাছ টি শুকিয়ে কাঠ আমি ঠিক সেখানে উরউর পুরপুর করি । দিনের বেলা আমি গান গাইনা ।তখন গান গাইলেই দুষ্টু ছেলের দল খুব বাজে ভাবে নকল করে। আমি তাদের প্রায় শেখাতে চাই কিন্তু কে শুনে কার কথা। তারা আমার সুর বিকৃত করে ।আমি রেগে থেমে যাই । তাই আমি ভোঁর বেলা গান গাই যখন কেউ থাকে না ।
মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগে যখন দেখি আমাদের পাখির মত আকশে উড়ে বেড়াচ্ছে কিছু ফানুস । আবার আমার চোখের লাল অগ্নিশিখার মত তাতেও লাল রং ছেয়ে আছে । বেলুনের মত আকৃতির এ ফানুস রাতে উড়িয়ে আমার গানের ডিস্টার্ব যতসব বাজে কাজ । বলছিল কোন এক রাতের পাখি ।
সাম ওয়ান টেল মি ইউ নেভার ইউস ফানুস ? আই সে নো আই নেভার উইস দেট । আমি কখনো ভালবেসে ছিলাম শুনে সে অবাক হল । আমি মনে মনে ভাবলাম ওদের ভালোবাসা মানে নোংরামি। সেই কেউ এক জন আমাকে বলল তোমাদের প্রণয়ে অনেক বিশ্বাস থাকে একে অপরের প্রতি ।বললাম ঠিক তাই ।
অনেক আগে আমার সমবয়সী কাজিনের ছোট ভাগিনা তার মানিব্যাগ থেকে ফানুস আবিষ্কার করলো আর আকাশে উড়িয়ে খেলা করতে লাগলো তখন মায়ের জিজ্ঞাসায় বলল আবিষ্কারের ঠিকানা । আমার কাজিনের তো তখন যায় যায় অবস্থা । এতে তার দোষ ছিল না এটা একটি মহামূল্যবান গিফটের বস্তু কিন্তু। হয়তো কারো কাছ থেকে গিফট পেয়েছিল । আমার বিদায়ের সময় সেই কাজিনরা লাল মোড়কের প্যাকেট গিফট করলো ।খুলে দেখি ফানুস আবার সযত্নে রেখে দিলাম । পরে না হয় কাউকে দিয়ে উড়ানো যাবে ।আর হয়তো বলবো আমার আকশে আমিই উড়াই ।
ছোট কালে ফানুস উড়ানোর বয়স থেকে প্রনয় শুরু । থামা থামি নেই । থামলাম যখন বুঝলাম এতো লাজের বিষয় অন্য কাজে ইউস হয় । প্রনয়ের ও ইতি । সেই ছোট বয়সের খুকি এখন জাঁদরেল ডাক্তার । ভেবে তেমন মন্ধ লাগে না ভালই লাগে সে সব সময় । একবার আমার ফানুস ইদুরের আক্রমনের শিকার হল । পরে দেখি তাদের উৎপাত দিন দিন কমে যাচ্ছে । ভাবলাম ওষুধ ছাড়া ভালই কাজে দিলো ।সবাই খুশিতে গদগদ করতে থাকলো কিন্তু আসল ব্যাপার টা আমি ছাড়া কেউ বুঝল না ।
অপর এক রমণীর সাথে জোমলো না শুধু ফানুস পছন্দ অপছন্দের কারণে । আগে মত এখন আর ফানুস উড়াই না কাজে ও লাগে না । ইচ্ছে করে ঘুড়ি উড়াই এই বিশাল নীল আকাশে ।
সেই রাতের পাখির আবার দেখা হয়েছিল । নয়ন উদাস কেন জানতে চাওয়ায় রাগের সুরে বলল তুমি থাক ফানুস নিয়ে আমি চললাম ।তাল গাছ আর নেই কে বা রাখবে সেই মরা গাছ টা শুনি। তাই ওদিকে আর খুব একটা যাওয়া হয় না ।ঠিক করেছিলাম বনের দিকে যাবো ।ঠিক সুন্দরবনে । কিন্তু সেখানে তো তোমার ফানুসের আলোর কারখানা হবে । কদিন বেঁচে থাকবো বল । চাইছিলাম মরার আগে একটু শান্তি কিন্তু তোমরা তা হতে দিবে না । এ কথা বলে উড়ে গেল অজানায় ।
ফানুস ফানুসে আড়ি দিলাম ।বললাম মোমবাতি দিয়ে কাটিয়ে দিব সারা রাত ।তবু আমার বিজলি চাইনা ।হয়তো দরকার পড়লে মেঘ থেকে চেয়ে নিবো ।লণ্ঠন নিয়ে পাহারা দিব সারারাত ।তবু তোমাদের হারিয়ে যেতে দিব না ।

পশুপাখি তোমরা থাকো মৃত্তিকায়
আমি না হয় ঘুমাবো না আর অবেলায়

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “আমার আকাশে ফানুস আমিই উড়াই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

52 + = 62