“আপনিও হতে পারেন ইথেন অথবা ইথেন আপনার বোন হতে পারে” – তাই সাবধান!!!

আজ ইথেনের ১৯তম জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে ছোট মামা একটা iPhone কিনে দিয়েছেন। এর আগে ইথেনের কোন মোবাইল ফোন ছিলো না। এটা তার জীবনের প্রথম মোবাইল এবং iPhone এর মত দামী মোবাইল! ইথেনের ইচ্ছা করছে লাফ দিয়ে আকাশে উড়তে! মোবাইলের ক্যামেরা ভালো হওয়ায় ইথেন ছবির পর ছবি তুলে যাচ্ছে। নিজের ছবি নিজেই তুলছে। বিভিন্ন ভঙ্গিমায়। একটু উগ্রভাবে। এই বয়সে মেয়েরা নিজেদেরকে একটু অন্য ভাবে দেখতে চায়। নিজের সৌন্দর্য দেখে নিজেই মুগ্ধ হয়। ইথেনও এর ব্যতিক্রম না। সে একা একা নিজের ছবি তুলছে এবং দেখে মুগ্ধ হচ্ছে। এর মধ্যেই তার মাথায় একটু দুষ্ট বুদ্ধি চাপলো। সে বাথরুমে যেয়ে খুবই স্বল্প কাপড়ে নিজের ছবি তুলতে থাকলো। যে ছবি নিজে ছাড়া অন্য কাওকে দেখানো যায় না।

সপ্তাহ খানেক পরের ঘটনা। ইথেন একদিন রিক্সা করে কলেজে যাওয়ার সময় তার ব্যগটা ছিনতাই হয়ে গেল। ব্যাগে তার নতুন মোবাইলটা সহ কিছু দরকারী জিনিষ ছিলো। সে কান্নাকাটি করে বাসায় ফিরলো। বাবা তাকে আরেকটি মোবাইল কিনে দিবেন বলে সান্ত্বনা দিলেন। সে সাময়িক ভাবে মোবাইল হারানোর ব্যাথা ভুলে গেল। কিন্তু রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় হঠাৎ তার জন্মদিনের কথা মনে পড়ে গেল। বিভিন্ন ভঙ্গিমায়, স্বল্প কাপড়ে উগ্রভাবে নিজে নিজের ছবি তোলার কথা মনে পড়তেই তার মেরুদন্ড দিয়ে শিতল স্রোত বয়ে গেল। কারণ তার সেই স্বল্পবাসনা ছবিগুলো তার মোবাইলেই রয়ে গেছে, যেটা আজকে ছিনতাই হয়ে গেছে। দুঃশ্চিন্তায় সে সারা রাত ছটফট করতে লাগলো।
তারপর অনেকদিন কেটে গেল। বাবা একটি নতুন মোবাইল কিনে দেওয়াতে ইথেন তার ছিনতাই হওয়া মোবাইলের কথা প্রায় ভুলে গেছে।

ইথেনের বড় ভাই ইকবাল, ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। ফেসবুকে তার একাধিক একাউন্ট আছে। সে মাঝে মাঝেই তার ফেক একাউন্ট থেকে ফেসবুকের কথিত বিভিন্ন ১৮+ পেইজে যেয়ে মেয়েদের অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ছবি দেখে। এমনি একদিন ইকবাল অভ্যাস বশত তার একটি ফেক একাউন্ট থেকে সেই অশ্লীল পেইজের ছবিগুলো দেখছে। হঠাৎ একটা ছবিতে এসে তার চোখ আটকে যায়। সে একি দেখছে!!! এটা ইথেনের ছবি না!!! কিন্তু ছবিতে যে ইথেনকে দেখছে, তাতে ইথেনের গায়ে কাপড় নেই বললেও চলে!! ইকবাল মাথা ঘুরে পড়ে যায়!! এরপরের ঘটনা না বলেও চলে। কারণ বুঝাই যাচ্ছে এই ঘটনার পর তাদের পরিবারে কতটা অশান্তি নেমে আসে।

উপরের ঘটনাটা আমার পরিচিত বা অপরিচিত কারো না। আমার নিজের বানানো। কিন্তু এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে। হয়ত আমাদের সাথে ঘটছে না, কিন্তু অবশ্যই ঘটছে। এর প্রমাণ মিলবে ফেসবুকের তথাকথিত বিভিন্ন ১৮+ পেইজে গেলেই। আজকাল ফটোশপের যুগে এর থেকেও আরো খারাপ ঘটনা ঘটছে। দেখা যায় একটা মেয়ের খুব ভদ্র ছবি নিয়ে সেটাকে এডিট করে অত্যন্ত কুরিচিপূর্ণ ভাবে ফেসবুকে এবং ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে ভিক্টিম মেয়েটি যেমন মানসিক ভাবে আহত হয়, তেমনি তার পরিবারটিও সমাজে পতিত হয়। নষ্ট হয়ে যায় মেয়েটির স্বাভাবিক জীবন যাত্রা, নষ্ট হয় একটি সুন্দর ভবিষ্যতের। জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। কেউ বা বেছে নেয় আত্মহত্যার মত পথ।

আমরা চাই এরকম কারো জীবনে না ঘটুক। এজন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। আর যারা এসব অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে অশ্লীল ছবি প্রকাশ করে ইন্টারনেটের মত একটা ভালো ব্যবস্থাকে কলুষিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
আর ফেইসবুকে ছবি দেওয়ার ব্যপারে আমাদেরকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে মেয়ের ক্ষেত্রে। সব চেয়ে বড় কথা ছবি তোলার ব্যপারে নিজেদেরকে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিজেকে উগ্রভাবে উপস্থাপন করে ছবি না তোলাই ভালো। এতে করে আপনার বা আপনার পরিবার-আত্মীয়-স্বজনের জীবনে নেমে আসতে পারে ইথেনের জীবনের মত ঘটনা। তবে মানুষের ব্যক্তিগত কিছু ছবি থাকতেই পারে, তবে তা অবশ্যই নিজ দায়িত্বে সংরক্ষণ করবেন।
বর্তমান আধুনিক যুগে ইন্টারনেট ছাড়া চলা প্রায় অসম্ভব। তবে ইন্টারনেটের খারাপ দিকগুলোতে না যেয়ে যদি এই প্রযুক্তি কে সৎ কাজে ব্যবহার করি তবেই আমাদের সাফল্য আসবে। আমরা অবশ্যই এর খারপ দিকগুলোর জন্য ভালো দিক থেকে বঞ্চিত হবো না। কবি বলেছেন-

“দার বন্ধ করে ভ্রমটাকে রুখি,
সত্য বলে আমি কোথা দিয়ে ঢুকি?”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on ““আপনিও হতে পারেন ইথেন অথবা ইথেন আপনার বোন হতে পারে” – তাই সাবধান!!!

  1. সত্যি দুঃখজনক
    আর কিছু লিঙ

    সত্যি দুঃখজনক 🙁

    আর কিছু লিঙ সম্পর্কে সন্দিহান মানুষ রয়েছে যারা ফেসবুকে মেয়েদের ছবি আপলোড করে কুরুচিপূর্ণ লেখা দিয়ে মেয়েটার জীবনকে বিভীষিকাময় করে তোলে, ইদানিং আবার ফটোশপের বদৌলতে মাথা কেটে অন্য নোংরা ছবিতেও বসিয়ে দেয়ার ঘটনা সাধারণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে !

    আর অবশ্যই মেয়েদের উচিত আরো সতর্ক হউয়া তাদের ছবি সম্পর্কে !

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1