বাংলাদেশ কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নয়!

স্বাধীন রাষ্ট্র দাবি করা হলেও বাংলাদেশ কার্যত স্বাধীন কোনো রাষ্ট্র নয়। এটি একটি নয়া উপনিবেশিক রাষ্ট্র। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বে এরকম আরও অনেক রাষ্ট্রই রয়েছে। কেন বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র নয়, এ আলাপের মধ্য দিয়ে পুরনো যুগের পরাধীনতার সঙ্গে আজকের তথাকথিত স্বাধীনতার সম্পর্কগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদ তার নিজস্ব উপনিবেশের গোড়াপত্তন করতে সমর্থ হয়। সামন্তযুগীয় সাম্রাজ্যবাদী আমলে চলা উপনিবেশের মতো করে এই নতুন সময়ে এসে পূর্বেকার ধাঁচেই উপনিবেশ স্থাপন করা সম্ভব ছিল না। ফলে নতুন ধারার এই উপনিবেশ চালু হয়। ইরান, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোতে প্রথম পর্যায়ে নয়া উপনিবেশ স্থাপিত হয়। পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশ আজ অবধি নয়া উপনিবেশিক ব্যবস্থার মধ্যেই আছে।

নয়া উপনিবেশের সঙ্গে উপনিবেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজকাঠামোর মৌলিক সাযুজ্য আছে।

উপনিবেশে রাজনীতি হতো নিয়ন্ত্রিত, উপনিবেশ স্থাপনকারীদের আজ্ঞাবহ থাকত রাজনীতিকরা। কংগ্রেস, মুসলিম লীগের ইতিহাস দেখুন। নয়া উপনিবেশেও এই ধারা জারি থাকে। সরকারপ্রধানদের বিদেশিদের কাছে ধর্না ও বিদেশিদের হুমকি ধামকি আমলে নিন।

উপনিবেশের অর্থনীতি হচ্ছে, পুরনো অর্থনীতির মূলোৎপাটন, উপনিবেশ স্থাপনকারীর প্রয়োজনমাফিক উৎপাদন, মুৎসুদ্দিশ্রেণীর কর্তৃত্ব, ব্যাপক লুটপাট, দুর্বল জাতীয় অর্থনীতি, দখলদার শক্তির কাছ থেকে তার উৎপাদিত পণ্য চড়ামূল্যে আমদানি ও শ্রমশক্তি (দাস) পাচার। উপনিবেশ যুগে এগুলো কিভাবে হটেছে, সে উদাহরণের প্রয়োজন নেই। সবাই জানেন। বর্তমান সমাজেও আমরা একই মৌলিক ছাপগুলো দেখতে পাচ্ছি। যেমন এখন আমরা প্রধানত গার্মেন্ট, ওষুধ, চিংড়িসহ যেসব পণ্য উৎপাদন করি, তার লক্ষ্য হচ্ছে উপনিবেশ স্থাপনকারীদের প্রয়োজন মেটানো। মধ্যস্বত্বভোগীরাই এই অর্থনীতির প্রাণভোমরা। এজন্য কৃষক দাম পায় না। ব্যাপক লুটপাট সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে, বিদেশে টাকার পাহাড় জমানো হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতি বলে কিছু নেই, প্রায় পুরোটাই পরনির্ভরশীল। যেসব জিনিস এদেশে হওয়া সম্ভব তাও আমাদের আমদানি করতে হয়। দখলদারদের কাছ থেকে তা শুধু চড়ামূল্যেই কিনতে হয় না, তাদের কনসালটেন্টরা আবার বাড়তি ফিসও নেয়! আর শ্রমশক্তি পাচারের হিসাব তো মালয়েশিয়া দিয়েছেই, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলোর দিকে তাকালেও তা দেখতে পাবেন।

সমাজকাঠামোর দিকে নজর দিলে দেখা যায়, উপনিবেশিক আমলে জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লাগিয়ে রাখা হতো, আইনের শাসন ছিল শাসকদের জন্য কুক্ষিগত, দখলদার ও তার দালালদের জন্য কোনো আইন ছিল না। বিচারব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, গণমাধ্যম ছিল ভয়ঙ্করভাবে নিয়ন্ত্রিত। জনগণের বাক স্বাধীনতা বলে কিছু ছিল না। মানুষের সংগঠিত হওয়ার অধিকারও স্বীকার করা হতো না। পাশাপাশি দখলদারিত্ব দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য পালা হতো পোষ্য বুদ্ধিজীবীশ্রেণী, যাদের কাজ ছিল দখলদারদের জ্ঞানতত্ত্বকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা এবং দখলদারিত্বের নৈতিক বৈধতা আদায় করা। এজন্য তারা দখলদারদের সংস্কৃতিকে অভিজাত ও উচ্চমানের বলে তার প্রসার ঘটানোর জন্য কাজ করত। আজকের বাংলাদেশ, তার তথাকথিত স্বাধীনতা পর্বের সূচনা ও তার আগে থেকেই এর সবগুলোর মধ্য দিয়েই যাচ্ছে।

এরপরে আসে উপনিবেশ ও নয়া উপনিবেশের পার্থক্যের প্রশ্ন। পার্থক্যটা এখানেই যে, আগে উপনিবেশ স্থাপনকারীরা বন্দুক নিয়ে এসে নিজেরা দাঁড়িয়ে থেকে এই কাজগুলো করাতো। আর এখন তারা তাদের দালালদের দিয়ে এই কাজগুলো করায়। দালালরা যদি কখনো নির্দেশনা অনুযায়ী না চলে তাহলে তাদের উৎখাত করা হয়। এজন্য এসব দেশের ক্ষমতাসীনদের রক্ষাকর্তা সেনাবাহিনীকে তারা আগে থেকেই কিনে রাখে। যখনই কোনো শাসক তাদের হিসেবের বাইরে চলে যায়, তখন ক্যুদেতা ঘটিয়ে সেখানে তারা ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন (সিস্টেম রিসেট) করে। যেখানে এটা করতে সমস্যা হয়, সেখানে তারা শেষ পর্যন্ত নিজেরাই অস্ত্র নিয়ে হাজির হয় এবং যুদ্ধের মাধ্যমেই দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করে (ইরাক)।

নয়া উপনিবেশ সম্পর্কে মাও সেতুং ষাট দশকে তার মতামত ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি এই দেশগুলোকে স্বাধীন বলার পক্ষপাতি ছিলেন না। ইরানের শাহকে হঠানো, ইন্দোনেশিয়ায় কমিউনিস্টদের ওপর হামলা, চিলিতে গণতান্ত্রিক শক্তিকে সামরিক বাহিনী দ্বারা বিলুপ্ত করা, এরকম অনেকগুলো ঘটনার মধ্য দিয়ে ওই দশকে এ ধরণের রাষ্ট্রগুলোর ‘স্বাধীনতা’ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। স্পষ্টতই দেখা যায় যে, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো প্রয়োজন মাফিক এসব দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। সুতরাং এসব দেশকে স্বাধীন বলা যে, মিথ্যাচার ও নেপথ্যের দখলদারদের আড়াল করা মাত্র, এটা ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে থাকে। কিন্তু আজো যে এসব রাষ্ট্রের গায়ে ‘স্বাধীন’ তকমা লেগে আছে, তা সম্ভব হয়েছে অকমিউনিস্ট বামপন্থিদের কল্যাণে।

পঞ্চাশের দশক থেকেই কমিউনিস্টরা বিশ্ববিপ্লবের ঝটিকাকেন্দ্র হিসেবে অনুন্নত দেশগুলোকে চিহ্নিত করে। মাও সেতুং এসব দেশের মুক্তির লাইন হিসেবে গণযুদ্ধের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেন। বহিস্থ দখলদার, স্বদেশের সামন্ত, মুৎসুদ্দি ও দালাল বুর্জোয়াদের কাছ থেকে চূড়ান্ত মুক্তি, নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব মারফত সম্পন্ন করার পথ দেখান তিনি। ষাট দশকে সোভিয়েত তথা রুশ দেশে ক্ষমতাসীন শোধনবাদি বামপন্থিরা এর উল্টো লাইন গ্রহণ ও প্রচার করে। তারা বলে, বুর্জোয়া শাসকশ্রেণীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে হবে, শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম তথা পার্লামেন্টারি পথেই ধীরে ধীরে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে। সুতরাং বৈরি সংগ্রাম বন্ধ। এই তত্ত্ব দ্বারা চালিত হয়ে তারা ঘোষণা দেয় যে, অনুন্নত দেশগুলো স্বাধীন। কারণ স্বাধীন বলা না হলে সেখানে বৈরি সংগ্রাম প্রধান হয়ে যায়। কিন্তু স্বাধীন বলা হলেই কেবল শান্তিপূর্ণ সংগ্রামের প্রশ্ন আসে। এভাবে রুশী বামপন্থি সাম্রাজ্যবাদীদের অভিপ্রায়েই এসব দেশকে ‘স্বাধীন’ বলার মিথ্যাচারটা প্রঠিষ্ঠিত হয়েছে।

কার্যত বাংলাদেশ পরাধীন। তথাকথিত স্বাধীনতা ও দরকষাকষাকষির ক্ষমতা খুবই সীমিত, তাও একান্তই শাসকদের জন্য। সেই শাসকরাও আবার নিরাপদ নয়। জনগণের ৯০ ভাগই এখানে নিপীড়িত এবং শ্রমজীবীদের কোনো ধরণেরই কোনো অধিকার নেই। পুরো সমাজব্যবস্থাটাকে দাঁড় করানো হয়েছে লুটপাটের ভিত্তির ওপর। পাশাপাশি বিস্তৃতি ঘটানো হয়েছে দখলদারদের ভোগবাদী মূল্যবোধ। বৈদেশিক নিপীড়ন প্রশ্নে রাষ্ট্র নির্বিকার। এগুলোকে স্বাধীনতা বলা হলে স্বাধীনতার সংজ্ঞা পুনঃনির্মাণ করতে হবে। সঙ্কুচিত-সীমাবদ্ধ আচার অধিকারকে, পূর্ণ পরনির্ভরশীলতা ও বহিস্থ নিয়ন্ত্রণ-নিপীড়নকে স্বাধীনতার বৈশিষ্ট্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। মুক্তিকামীরা কেউ তা করতে আগ্রহী কিনা জানতে চাই!

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা প্রশ্নের সঙ্গে চলে আসে ব্রিটিশের ভারত ত্যাগ এবং পাকিস্তান হঠানো তথা মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্ন। দ্রুতই ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সম্পর্কে আমাদেরমতামত উপস্থাপন করব।

………………
[প্রবন্ধটির একেবারে শুরুতে সাঁটানো ছবিটির আলোকচিত্রী : দেবাশীষ সোম। ছবিসূত্র : গুগল। এই ছবিটির অবশ্য নাম ভিন্ন ছিল- ‘ঢাকা মাই ড্রিমস, মাই রিয়ালিটি।’ কিন্তু আমি ভিন্ন উদ্দেশ্যে এটির ব্যবহার করলাম- স্বাধীনতারূপী পরাধীনতার চিত্র বোঝাতে।]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৪ thoughts on “বাংলাদেশ কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নয়!

  1. “রাষ্ট্র ব্যবস্থা” সেই অর্থে
    “রাষ্ট্র ব্যবস্থা” সেই অর্থে কখনই স্বাধীন নয়। মানে জনগণ স্বাধীন নয়। একসময় হয়ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা উঠে গিয়ে মানুষের সমাজ গড়ে উঠবে (কবে তা আমরা জানি না) ততদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রকে হতে হবে ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিয়তা নিশ্চিত করতে। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রের কোন রকম বাদিত্বে পূর্ণ স্বাধীনতা আসবে বলে মনে করি না- মানুষকে নিজের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে হবে। নারীরা পুরুষের সমান অধিকার পাবে- এই অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হতে কোন বাদিত্বের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। পুজিঁবাদী রাষ্ট্রগুলোর জনগণকে ধোকা দেয়ার যে স্বাধীনতার কথা লিখেছেন সেই বিষয়ে দ্বিমত করার কোন উপায় নেই। কিভাবে এই সমাজ ও রাষ্ট্র চুষে খাচ্ছে তার বুঝার জন্য বেশি বুদ্ধি খরচ করা লাগে না। তবে জনগণকে বোধহয় পাঠলালার মত কোন রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আর রাখা যাবে না। সমাজতন্ত্র ব্যবস্থার অতিতের রাষ্ট্রগুলোর ইতিহাস দেখে আমি জানি না এই তত্ত্বের সংগ্রামীরা চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এনেছেন কিনা। পূর্ব জার্মানি আর পশ্চিম জার্মানিকে একটা গল্প প্রচলিত ছিল- অনেকে সেটা জানে। আবার বলি, কমিউননিস্ট পূর্ব জার্মানি আর বুর্জোয়া পশ্চিম জার্মানির বর্ডারের পাশাপাশি দুটো বাড়ি থেকে দুটো শিশু কথা বলছে। পশ্চিম জার্মানির শিশুটি বড়াই করে পূর্ব জার্মানির শিশুটিকে বলছে- তোমাদের কমলা আছে?

    -নেই

    -তোমাদের কলা আছে?

    -নেই?

    -তোমাদের রুটি আছে?

    -নেই।

    মন খারাপ পূর্ব জার্মানির শিশুটি এবার মোক্ষক একটা জিনিসের নাম বলল পশ্চিম জার্মানির শিশুটিকে জব্দ করার জন্য বলল, তোমাদের কমিউনিজম আছে?

    নাহ্, পশ্চিমে কমিউনিজম নেই!

    …মানুষের সমাজ প্রতিষ্ঠিত হোক সব রাষ্ট্রের মাথার উপর। যে সমাজের মানুষ কারুর নিয়ন্ত্রণে নয়, স্বাধীন ও মুক্ত। এটাই বোধহয় পশ্চিমে কোথাও কোথাও কসমোপলিট্রন আন্দোলন বলে একটা মতবাদ চালু আছে।

  2. মন্তব্যের জন্য
    মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

    স্বাধীন রাষ্ট্র হচ্ছে তারা, যাদের ওপর বৈদেশিক নিপীড়ন নেই। এরকম রাষ্ট্রের অস্তিত্ত্ব আছে। স্বাধীন রাষ্ট্র বলতে বোঝায় যে নিজেই তার সার্বভৌমত্বের অধিকর্তা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়াসহ পৃথিবীতে অসংখ্য স্বাধীন রাষ্ট্র আছে।

    //”রাষ্ট্র ব্যবস্থা” সেই অর্থে কখনই স্বাধীন নয়। মানে জনগণ স্বাধীন নয়।//
    এর সঙ্গে একমত নই। স্বাধীন রাষ্ট্রের অস্তিত্ত্ব আগেই দেখিয়েছি। আর রাষ্ট্র স্বাধীন নয় মানে জনগণ স্বাধীন নয় বললে অর্থ দাঁড়ায় যে, রাষ্ট্র আর জনগণ একই বিষয়। এই ধারণাটা সঠিক নয়। রাষ্ট্র হচ্ছে শ্রেণীর নিজস্ব হাতিয়ার।

    1. একটা বিপ্লবী শক্তি, তা তারা
      একটা বিপ্লবী শক্তি, তা তারা যে মতাদর্শেরই হোক, নয়া রাষ্ট্র গঠনকালে তাদেরকে অবশ্যই রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মাবলী (সংবিধান) ঘোষণা করতে হয়। রষ্ট্রের চরিত্র তাতে মূর্ত হয়। তবে আজকের বিশ্বব্যবস্থায় এই নৈতিকতাটা পুরো কাগুজে নৈতিকতায় পর্যবসিত হয়েছে। এখন সংবিধানে এক রকম লেখা থাকে, আর বাস্তবে সমাজে আরেক রকম ঘটে। এটা প্রমাণ করছে যে, আসলে সংবিধান কোনো নিরাপত্তা দিতে পারছে না। আমার মতে, পুরো জনগোষ্ঠগীর সশস্ত্রতা এবং এলাকাভিত্তিক তাদের নিজস্ব সমিতি গঠনই কেবল গণক্ষমতা চর্চ্চার রাস্তা খুলে দিতে পারে। সংবিধান এক্ষেত্রে খুব একটা সাহায্য করতে পারছে না। বাংলাদেশের সংবিধানে বাক স্বাধীনতা আর আজকের বাক স্বাধীনতার চেহারা বিশ্লেষণ করলে কাগুজে নৈতিকতার চিত্র দেখতে পাবেন।

  3. আমি আপনার সাথে দ্বিমত পোষন
    আমি আপনার সাথে দ্বিমত পোষন করছি। আমি বলি, আমাদের পরনির্ভরশীলতা বেশি। আমরা উন্নত দেশগুলোর উপর বেশি নির্ভরশীল। আমাদের মতো অনুন্নত দেশে..সরকারি হিসেবে “উন্নয়নশীল” দেশগুলো বিদেশি সহায়তায় নির্ভর করতে হয়। তবে আমি মনে করি, আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতি দুর্বল। নিজের স্বার্থ রক্ষা করে সুযোগ সুবিধা আদায় করতে পারি না। এটা আমাদের ব্যর্থতা।

    1. দ্বিমত করতেই পারেন। কিন্তু
      দ্বিমত করতেই পারেন। কিন্তু আপনাকে তাহলে বলতে হবে যে, এটা পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র নয়। ‘পরনির্ভরশীলতা বেশি’ এমন স্বাধীন রাষ্ট্র। দার্শনিক দিক থেকে খেয়াল করুন। যদি আমরা এটাকে স্বাধীন মনে করি, তাহলে আমরা এ ধরনের স্বাধীনতার জন্যই লড়ব। আর যদি আমরা এটাকে স্বাধীনতা না মানি, তাহলে আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতার জন্য লড়ব।

        1. সাধারণ জনগণের শোষণ আর
          সাধারণ জনগণের শোষণ আর রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব তো ভিন্ন বিষয়। আমি বলতে চাচ্ছি, এই রাষ্ট্রটা স্বাধীন না। আপনি যদি স্বাধীন বলতে চান, তাহলে এই পরাধীনতার বৈশিষ্ট্যগুলোকে বাতিল করছেন কিভাবে?

          1. আমি সেটা বলছি না। আমি বলছি
            আমি সেটা বলছি না। আমি বলছি সাধারন মানুষ দেশ স্বাধীন হবার আগে প্রকাশ্যে শোষিত হতো, দেশ স্বাধীন হবার পর ধীরে ধীরে চুপিসারে হয়। স্বাধীনতা আসুক কিংবা যাক আমরা মাঝখানে শোষিত।

  4. বিষয়টি একটু জটিল। কারণ মানুষ
    বিষয়টি একটু জটিল। কারণ মানুষ দেখছে তারা যুদ্ধ করলো, স্বাধীনতা মানচিত্র পেলো তাদের প্রধামন্ত্রীরা জাতীসংঘে যায় ভাষন দেয় তাহলে পরাধীন হোল কি করে? বড়জোর পরনির্ভরশীল হতে পারে।
    বিষয়টি জটিলতা এখানেই। আপনার নিজের কথাই ধরুন না। আপনিতো একজন স্বাধীন মানুষ যা খুশি তাই করতে পারেন কিন্তু আদৌতে কি তাই? যদি খুব গভীরে তলিয়ে দেখেন দেখবেন এক শ একটা কেন কোন কাজই আপনি স্বাধীনভাবে করতে পারবেন না। রাষ্ট্রটিও তাই। বিশেষত কোন নয়া উপনিবেশিত রাষ্ট্র যা নিউ কলোনিয়াল কান্ট্রি তা অন্য কোন বড় কলোনির অধিন।
    এই অধিনতা আপনি চোখ দিয়ে দেখতে পারবেন না। কিন্তু অনুভব করতে পারবেন। দেখবনে সব কিছুর মাতব্বরি উনাদের মানে সাম্রাজ্যবাদের হাতে।
    এখন স্বাধীন রাষ্ট্র আছে। ইউরোপের বহু রাষ্ট্রই স্বাধীন কারণ তারা নিজেরাই সাম্রাজ্যবাদ। তারাইতো চাপা্য় দেয়।

  5. দৃশ্যত স্বাধীন মনে হলেও আদতে
    দৃশ্যত স্বাধীন মনে হলেও আদতে আমরা পরাধীন। তথাকথিত স্বাধীনতার মানে হচ্ছে শাসকের বদল। স্বাধীনতার ব্যাপকতা চিন্তা করলে তার কত অংশ সাধারণ মানুষ ভোগ করছে? বর্তমানের স্বাধীনতা কিছু সীমিত মানুষ ও সীমিত পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকারটুকু যে দেশে নেই সেই দেশকে ও দেশের মানুষকে স্বাধীন কিভাবে বলবেন?

  6. আমিতো এতোদিন ভাবতাম
    আমিতো এতোদিন ভাবতাম একাত্তরে অন্তত্যপক্ষে একটা রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে কিন্তু এখনতো দেখছি এটাও ভ্রান্ত ধারণা ।
    * আনিস ভাই# উপনিবেশিক ও নয়া উপনিবেশিক রাষ্ট্র কী এটা হালকা আলোচনা করলে মনে হয় নতুন পাঠক তথা যারা এসব ভালো জানে না তাঁদের বুঝতে সুবিধা হবে 🙂 যদিও বেশ স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে দুটো বিষয় সমন্ধে, তবুও ছোট্ট করে এক/দুই প্যারায় শুধু “উপনিবেশিক” ও “নয়া উপনিবেশিক” সমন্ধে একটু ধারণা দিয়ে দেন কিংবা মন্তবে্য বলুন 🙂

    1. লেখাটা না পড়েই কমেন্ট করছেন
      লেখাটা না পড়েই কমেন্ট করছেন নাকি? পুরো লেখায় তো এটাই আলাপ হইছে যে, উপনিবেশ ও নয়া উপনিবেশের মধ্যে পার্থক্য কি আর সম্পর্ক কি? তার আলোকে বাংলাদেশের উদাহরণ দেয়া হইছে। আমি তো দেখতাছি পরিষ্কার।

      1. আমিও পরিষ্কার দেখতেছি। আর
        আমিও পরিষ্কার দেখতেছি। আর আপনি আমার মন্তব্য ভালো করে না পড়েই মন্তব্য করেছেন।
        আপনার এরূপর অদ্ভুত আচরণ বেশ অসহ্য লাগে, যা প্রায়ই আপনি করে থাকেন।
        আমি বলেছি –
        “যদিও বেশ স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে দুটো বিষয় সমন্ধে, তবুও ছোট্ট করে এক/দুই প্যারায় শুধু “উপনিবেশিক” ও “নয়া উপনিবেশিক” সমন্ধে একটু ধারণা দিয়ে দেন কিংবা মন্তবে্য বলুন””
        সবাইতো আপনার মতো বিদ্যান নয় যে অল্পতেই বুঝবে।
        আর কয়জন বোঝে এই দুটো বিষয় ? লেখক যদি প্রয়োজন মনে না করে তবে দেবে না, আমার কাছে মনে হয়েছে শুধু এই দুটোর সংজ্ঞা সংযোজন করলে আরও বুঝতে সুবিধা হবে।

        1. মোজাম্মেল রাগ করবেন না।
          মোজাম্মেল রাগ করবেন না। কিন্তু এই আলাপটা আসলেই আলাদা করে দেবার দরকার আছে কি? তবু বলি, উপনিবেশ মানে হচ্ছে বহিস্থ শক্তি কর্তৃক দখল হওয়া কোনো এলাকা। আর নয় উপনিবেশ হচ্ছে নয়া কায়দায় বহিস্থ শক্তির অধীনস্ত থাকা।

    2. ষাট দশকে সোভিয়েত তথা রুশ দেশে

      ষাট দশকে সোভিয়েত তথা রুশ দেশে ক্ষমতাসীন শোধনবাদি বামপন্থিরা এর উল্টো লাইন গ্রহণ ও প্রচার করে। তারা বলে, বুর্জোয়া শাসকশ্রেণীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে হবে, শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম তথা পার্লামেন্টারি পথেই ধীরে ধীরে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে। সুতরাং বৈরি সংগ্রাম বন্ধ। এই তত্ত্ব দ্বারা চালিত হয়ে তারা ঘোষণা দেয় যে, অনুন্নত দেশগুলো স্বাধীন। কারণ স্বাধীন বলা না হলে সেখানে বৈরি সংগ্রাম প্রধান হয়ে যায়। কিন্তু স্বাধীন বলা হলেই কেবল শান্তিপূর্ণ সংগ্রামের প্রশ্ন আসে। এভাবে রুশী বামপন্থি সাম্রাজ্যবাদীদের অভিপ্রায়েই এসব দেশকে ‘স্বাধীন’ বলার মিথ্যাচারটা প্রঠিষ্ঠিত হয়েছে।

      ইতিহাস খনন করে এই আবিষ্কারটা করতে হয়েছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দিক থেকে আগে বিবেচনা করিনি। আর কেউ করেছে বলেও শুনিনি। ধন্যবাদ আপনাকে।

  7. স্বাধীনতা বলতে ক্ষমতার হাত
    স্বাধীনতা বলতে ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবারের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মুক্তিকামী মানুষের স্বাধীনতা এখনো অধরা থেকে গেছে। স্বাধীনতার ফসল ভোগ করছে শেখ ও জিয়া পরিবার। সাধারণ মানুষকে গিনিপিগ বানিয়ে লড়াই চলছে দুই পরিবারের ক্ষমতাকেন্দ্রিক। বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায় দেশ স্বাধীন হয়েছে শেখ পরিবারের জন্য। স্বাধীনতার ফল ভোগ করছে শেখ পরিবার।

  8. স্বাধীনতার মানেটা যে কি তাই
    স্বাধীনতার মানেটা যে কি তাই তো এখন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।
    রাষ্ট্রের স্বাধীনতাই বা কি?

    রাষ্ট্রের স্বাধীনতা মানে কি এই যে রাষ্ট্র ইচ্ছা করলেই অন্য আরেকটি রাষ্ট্রকে চোখ রাঙানোর ক্ষমতা রাখবে?
    না কি জনগণের স্বাধীনতাই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা!!

  9. রাষ্ট্র হচ্ছে তার সংবিধান,
    রাষ্ট্র হচ্ছে তার সংবিধান, আইন ও এর পরিচালনা ব্যবস্থা। এটার দরকার পড়ে কোনো নির্দিষ্ট ভূখন্ডকে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী আয়ত্ত্বে আনার পর। স্বাধীনতার প্রশ্নটা জনগণ আর রাষ্ট্র উভয়েরই। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা তখনই নিশ্চিত হবে, যখন সে দাবি করতে পারবে যে অন্য রাষ্ট্র দ্বারা সে নিয়ন্ত্রিত না। আর জনগণ তখন স্বাধীন হবে, যখন রাষ্ট্র তার প্রয়োজনগুলোকে অগ্রাধিকার দিবে। বিদেশিদের সুবিধা দিতে উল্টো অবৈধ উপায়ে ভোগান্তি চাপিয়ে দিবে না। একটু সরল করেই বললাম।

  10. বাংলাদেশের স্বাধীনতা হচ্ছে
    বাংলাদেশের স্বাধীনতা হচ্ছে কাগুজে স্বাধীনতা। এদেশের মানুষ স্বাধীনতা লাভ করেনি। স্বাধীনতার ফসল উঠেছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির ঘরে। শাসক বদলেছে। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা আমরা পাইনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

36 − 34 =