একাদশ দিনে পা দিলো চট্টগ্রামের গণজাগরন মঞ্চের আন্দোলন।

এই মাসের শুরুতে আরেকটি বিজয়ের রায়ের অপেক্ষায় ছিলো মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী জনতা,কিন্তু ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় এলো ৩৫০ অধিক হত্যাকারী মিরপুরের কসাই কাদেরের যাবজ্জীবন। মুহুর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেলো পুরো জাতি,থমকে গেলো প্রাণের স্পন্দন। এ যেন আশার সাথে অপূর্ণ প্রাপ্তি।সাথে সাথেই জেগে উঠলো অনলাইনের যোদ্ধারা,ফুসে উঠলো ব্লগে মুহুর্তেই কিন্তু তারা বুঝলো এভাবে হবে না,জনগনকে নিয়েই রাস্তায় নামতে হবে। একলা চলো নীতি অনুসরন করে নেমে পড়লো,চিন্তা করেনি লোকজন পাবে কি পাবে না,ভেবে দেখেনি জনসমর্থন হবে কি হবে না। শুধু একটাই চিন্তা এই আন্দোলন অনলাইন ছেড়ে রাজপথে ছড়িয়ে দিতেই হবে,জানাতে হবে এই বাংলার জনগনকে। ঢাকায় নেমে পড়লেন ওরা চারজন ডাঃ ইমরান এইচ সরকার,আনিস রায়হান,বাধন স্বপ্নকথক,ডাঃ সেলিনা মওলা (যতদুর জেনেছি),এদের প্রত্যেকেই অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক।তারা শাহবাগের মোড়েই দাঁড়িয়ে পড়লেন।

এদিকে চট্টগ্রামেও থেমে নেই অনলাইন এক্টিভিস্টরা। চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধাপরাধ এবং সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে সক্রিয় “সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগ চট্টগ্রাম”,এরা রাজপথে কাজ করেন আর চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম অনলাইনে। উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুরু হলো চট্টগ্রামে এই বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন। সেই পাঁচ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হলো যেই আন্দোলন চট্টগ্রামে কালক্রমে সেটি সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগ এবং অনলাইন এক্টিভিস্টদের হাতে আর থাকলো না,সেটি হয়ে গেলো জনতার আন্দোলন নাম নিলো “গণজাগরন। প্রেস ক্লাব চত্বর নাম নিলো স্বাধীনতা চত্বরে।

ক্রমেই বাড়ছে জনতার ঢল। আজ এগারোতম দিন,গতকালরাতে ভেবেছিলাম আজ হয়তো জনসমাবেশ কম হবে। কিন্তু না জনতার এই আন্দোলনে জনগণ কি না এসে পারেন? সময়মতো তারা সকলেই এসে পড়েছেন। জোর গলায় শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করছেন স্বাধীনতা চত্বরের গণজাগরন মঞ্চ

  • জয় বাংলা
  • জামায়াতে ইসলাম-গো ব্যাক ফাকিস্তান
  • ফাকিস্তানের প্রেতাত্মারা-ফাকিস্তানে ফেরত যা
  • জেগেছেরে জেগেছে-বীর চট্টলা জেগেছে
  • বীর চট্টলা জেগেছে-প্রেস ক্লাব এসেছে

এরকম আরো অনেক শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হচ্ছে স্বাধীনতা চত্বর।

আজকের এগারতম দিনে জনতার কিছু ছবি।

স্বাধীনতা চত্বর,চট্টগ্রাম-সুমিত চৌধুরী

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শুরু হয় প্রতিদিনকার অনুষ্ঠান।

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে প্রতিবন্ধী বন্ধুরা-সুমিত চৌধুরী

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে প্রতিবন্ধী বন্ধুরা-সুমিত চৌধুরী

যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবীতে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন প্রতিবন্ধীরাও-সুমিত চৌধুরী

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে প্রতিবন্ধী বন্ধুরা-সুমিত চৌধুরী

যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবীতে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন প্রতিবন্ধী বন্ধুরা

উদীচী-সুমিত চৌধুরী

গত দশদিনের ন্যায় আজকেও যে দলটি অনবরত মুক্তি সংগ্রামের গান গেয়ে এই আন্দোলন জাগিয়ে রেখেছেন সেই উদীচী দলটি।

জয় বাংলা-সুমিত চৌধুরী

জনতার আন্দোলন-সুমিত চৌধুরী

জনতার শ্লোগান-সুমিত চৌধুরী

আমরা বারবার বলে আসছি এটি কোন রাজনৈতিক দলীয় আন্দোলন নয়,এটি জনতার আন্দোলন আর তাই জনতার আন্দোলনে জনতারাই শ্লোগান দিবে।

জনতার অংশগ্রহন-সুমতি চৌধুরী

জনতার অংশগ্রহন-সুমিত চৌধুরী

জনতার অংশগ্রহন-সুমিত চৌধুরী

জনতার অংশগ্রহন-সুমিত চৌধুরী

জনতার অংশগ্রহন

জাহানারা ইমাম

মা’গো ভেবো না তুমি,তোমার রুমী আজ ছড়িয়ে পড়েছে লাখো জনতার মাঝে।

এবার একটু সামান্য প্যাচাল,দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বর্তমান বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব ফখরুল সাহেব যেদিন জেল হতে মুক্তি পেলেন সেদিন তিনি বলেছেন এই আন্দোলনের ফলে তার মুক্তি হয়েছে,জনতা জেগেছে। আবার পরমুহুর্তেই সেই বিএনপি দলীয়ভাবেই ঘোষণা দিয়েছে এই আন্দোলন আওয়ামী চক্রান্ত। এরপর আবার নতুন করে বলেছে এই আন্দোলনে তারা তখনই সমর্থন দিবে যখন এই আন্দোলনে তাদের দেয়া শর্তসমূহ যোগ করা হবে।
কিন্তু আমি ভেবে অবাক হই বিএনপি কি তাহলে তাদের মূর্খতার পরিচয় দিয়ে যাবে আবারো?
ফখরুল সাহেব যখন বুঝতে পারলেন এই আন্দোলন নিয়ে তার বক্তব্য একটি পাগলের প্রলাপ তখন তিনি চুপসে গেলেন।
বিএনপি যখন বুঝতে পারলো এটা কোনভাবেই আওয়ামী চক্রান্ত নয় তখন তারা সে বক্তব্য থেকে সরে এলো।
কিন্তু আবারো কি করে তারা সেই বক্তব্য দিলো যে তারা তখনই এই আন্দোলনে সমর্থন দিবে যখন তাদের দেয়া শর্তাবলী যোগ করা হবে!! তাহলে কি তারা এখনো তাদের স্বৈরাচারী মনোভাব থেকে সরে আসতে পারে নাই? তারা কি তাহলে এই আন্দোলনকে তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়?
এই যদি হয় তাদের উদ্দেশ্য তাহলে আশা করবো জনতা এর সমুচিত জবাব দিবেই।

আবার যদি জামাতী প্রপাগান্ডার দিকে তাকাই তাহলে কি দেখতে পাই? তারা বলছে এই আন্দোলন ইসলাম ধ্বংসের আন্দোলন,এই আন্দোলন ইন্ডিয়া কায়েমের আন্দোলন। তাহলে উপরের ছবিগুলো থেকে আমরা কি দেখতে পাই? সেখানে টুপি মাথায় কিনবা বোরখা পড়ে যারা এসেছেন তারা কি ইসলাম ধর্মালম্বী নয়?
অথবা ইসলামিক ফ্রন্ট,তরিকত ফেডারেশন নামক দলগুলো কি ইসলামিক দল নয়?
মূল কথা এই জামাতীদের জন্যই এই দেশে ইসলামের এতো অবমাননা।

বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।
জয় বাংলা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “একাদশ দিনে পা দিলো চট্টগ্রামের গণজাগরন মঞ্চের আন্দোলন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 + = 27